ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২২শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৬ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১১ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বৃহস্পতিবার, ২২শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৬ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

কেপ ভার্দের সেই গোলরক্ষকের মায়ের পাশে মার্কিন প্রশাসন


কেপ ভার্দের সেই গোলরক্ষকের মায়ের পাশে মার্কিন প্রশাসন

এবারের বিশ্বকাপে নিজেরা উদ্বোধনী ম্যাচে স্পেনের বিপক্ষে কেপ ভার্ডের ১-১ গোলের ড্র-টি ছিল টুর্নামেন্টের অন্যতম বড় চমক। সেই ম্যাচে অসাধারণ পারফর্ম করেন কেপ ভার্ডের গোলরক্ষক ভোজিনহা।

কিন্তু মাঠের বীরত্বের বাইরে বর্তমানে আলোচনায় তার মায়ের যুক্তরাষ্ট্রে যেতে সক্ষম না হওয়ার আক্ষেপ। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পরে মার্কিন সরকার গোলরক্ষকের পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছে।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের এক কর্মকর্তা মঙ্গলবার জানিয়েছেন, কেপ ভার্ডের গোলরক্ষক ভোজিনহার মাকে তার ছেলের বিশ্বকাপ খেলা দেখতে যুক্তরাষ্ট্রে আনার জন্য সহায়তা করার চেষ্টা করছে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর।

আরও পড়ুন: ভারতের পথে যুব মহিলা লীগ নেত্রী সুলতানা বেগম আটক

সোমবার স্পেনের বিপক্ষে কেপ ভার্ডের চমকপ্রদ ড্রয়ের পর ভোজিনহা জানান, তার মা ম্যাচটি দেখতে আসতে পারেননি, কারণ তিনি ভিসার জন্য প্রয়োজনীয় বন্ডের অর্থ পরিশোধ করতে সক্ষম হননি।

ম্যাচ শেষে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, 'ভিসার কারণে তিনি এখানে আসতে পারেননি... ভিসার জন্য যে অর্থ আমাদের দিতে হয়, সেটির কারণেই। আমরা সময়মতো সেটি করতে পারিনি এবং আমি চাই তিনি এখানে থাকুন।'

কেপ ভার্ডে সেই ৫০টি দেশের শামিল, যেসব দেশের নাগরিকদের ট্রাম্প প্রশাসনের নীতিমালা অনুযায়ী সর্বোচ্চ ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত বন্ড জমা দিতে হয়। এর পেছনে কারণ হিসেবে তাদের বিরুদ্ধে ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পর দেশে অবস্থান করার উচ্চতার অভিযোগ আনা হয়েছে।

ভোজিনহার মন্তব্য সম্পর্কে জানতে চাইলে সেই কর্মকর্তা বলেন, খেলোয়াড়টির মায়ের কোনো ভিসা আবেদনের নথি তাদের কাছে নেই। তিনি আরও বলেন, 'সব খেলোয়াড়ের স্বজনদের জন্য' এই বন্ডের শর্ত মওকুফ করা হয়।

আরও পড়ুন: সৌদি আরবে তেলক্ষেত্রে ড্রোন হামলা প্রতিহত, দুই বিদেশির মৃত্যু

তিনি যোগ করেন, 'মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের কাছে এই ব্যক্তির ভিসা আবেদনের কোনো রেকর্ড নেই। খেলোয়াড়দের সব স্বজন ভিসা বন্ড মওকুফের সুবিধা পাওয়ার যোগ্য এবং ভিসাসংক্রান্ত সহায়তা দিতে দপ্তরটি সক্রিয়ভাবে এই খেলোয়াড়ের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করছে।'

৪০ বছর বয়সী কেপ ভার্ডিয়ান এই গোলরক্ষক, যিনি স্পেনকে গোলশূন্য ড্রয়ে আটকে রেখেছেন, তিনি এখন বিশ্বজুড়ে ফুটবল সমর্থকদের হৃদয় জয় করছেন। সিএনএনের আমান্ডা ডেভিস ব্যাখ্যা করেছেন, এই বিস্ময়কর ফলাফল ও হঠাৎ পাওয়া ব্যাপক মনোযোগের বিষয়ে ভোজিনহার প্রতিক্রিয়া কেমন।

এই বিষয়ে অবগত একটি সূত্র জানিয়েছে, তাদের জানা অনুযায়ী ভোজিনহার মায়ের বর্তমানে কোনো বৈধ পাসপোর্ট নেই এবং তিনি একটি পাসপোর্ট সংগ্রহের প্রক্রিয়ায় রয়েছেন।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর তাদের ওয়েবসাইটে উল্লেখ করেছে, 'বিশ্বকাপ ২০২৬-এ অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর নাগরিক এবং ভিসার সব শর্ত পূরণ করতে সক্ষম ক্রীড়াবিদ ও দলের সদস্যদের—যার মধ্যে কোচ, প্রয়োজনীয় সহায়ক দায়িত্বে থাকা ব্যক্তি এবং নিকটাত্মীয়রা অন্তর্ভুক্ত—জন্য বন্ডের শর্ত মওকুফ করা হবে।'

আরও পড়ুন: আট নম্বরে নেমে ২৫৭ রান ও ১২ ছক্কা! ইতিহাস লিখলেন ওয়াসিম আকরাম

এটি ভোজিনহার জন্য এক ঝড়ো উত্থানের গল্প। ৪০ বছর বয়সী এই ফুটবলার পর্তুগালের দ্বিতীয় বিভাগের একটি দলে খেলেন। তিনি স্পেনের বিপক্ষে সাতটি গোল আটকান এবং টুর্নামেন্টের অন্যতম শিরোপাপ্রত্যাশী দলকে তার দেশের প্রথম বিশ্বকাপ ম্যাচে গোল করতে দিতে দেননি।

অনেকেই প্রত্যাশা করেছিলেন, ইউরোপীয় চ্যাম্পিয়ন স্পেনের কাছে কেপ ভার্ডে বিধ্বস্ত হবে, যেমনটি রবিবার বিশ্বকাপে অভিষেক হওয়া কুরাসাওকে ৭-১ গোলে হারিয়েছিল জার্মানি। কিন্তু ভোজিনহা ও তার রক্ষণভাগের খেলোয়াড়রা ৯০ মিনিট ধরে স্পেনের তারকাবহুল আক্রমণভাগকে হতাশ করে রাখেন এবং শেষ পর্যন্ত নিজেদের দেশের ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ফলাফলগুলোর একটি অর্জন করেন।

প্রায় পাঁচ লাখ ৩০ হাজার জনসংখ্যার দেশটি এই সাফল্য উদযাপন করে এবং বিশ্বের বহু মানুষও তাদের আনন্দে শামিল হয়। এর ফলে আগে খুব বেশি পরিচিত না থাকা এই গোলরক্ষকের জনপ্রিয়তা দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে।

ব্রাজিলের একটি সম্প্রচারমাধ্যমের উৎসাহব্যঞ্জক প্রচারের পর ভোজিনহার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অনুসারীর সংখ্যা প্রায় ৫০ হাজার থেকে বেড়ে মঙ্গলবার বিকেল পর্যন্ত ৯৭ লাখেরও বেশি হয়েছে।

আরও পড়ুন: প্রধানমন্ত্রী আজ খুলনা ও বাগেরহাট সফরে, অংশ নেবেন সরকারি কর্মসূচিতে

কেপ ভার্ডে তাদের পরবর্তী ম্যাচ খেলবে আগামী রোববার সন্ধ্যা ৬টায়। সেদিন মিয়ামিতে তারা উরুগুয়ের মুখোমুখি হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

২০০ বছরের শ্মশান রক্ষায় আদালতের দ্বারস্থ নাসিক প্রশাসক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ১৭ই জুন, ২০২৬ ইং

০৪:৫১ পি.এম


২০০ বছরের শ্মশান রক্ষায় আদালতের দ্বারস্থ নাসিক প্রশাসক

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান নারায়ণগঞ্জ সিদ্ধিরগঞ্জে প্রায় ২০০ বছরের পুরনো একটি শ্মশান ঘাটের উন্নয়নকাজ রক্ষায় আদালতে উপস্থিত হয়েছেন। দীর্ঘ সাত মাস ধরে বন্ধ থাকা শ্মশান উন্নয়ন প্রকল্প পুনরায় চালুর উদ্দেশ্যে তিনি আদালতে উপস্থিত হয়ে শ্মশানের পক্ষে যুক্তি এবং প্রয়োজনীয় নথিপত্র উপস্থাপন করেন।

বুধবার (১৭ জুন) সকাল সাড়ে ১১টায় নারায়ণগঞ্জের প্রথম যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ তাহমিনা আক্তার পিংকির আদালতে এ বিষয়ে শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন আম্বার পেপার মিলসের দায়ের করা মামলায় জারি হওয়া ইনজাংশন এবং স্থিতাবস্থা আদেশ বাতিলের জন্য আবেদন করেছে।

আদালত সূত্র অনুযায়ী, ১৭৯৩ সালে সিদ্ধিরগঞ্জের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের আজিবপুর এলাকায় ঐতিহ্যবাহী শ্মশান ঘাট ও মন্দিরটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। এই শ্মশানটি প্রায় ৩১ শতাংশ জমির ওপর গঠিত এবং এটি সিদ্ধিরগঞ্জের একমাত্র শ্মশান হিসেবে পরিচিত।

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ১ থেকে ১০ নম্বর ওয়ার্ডের পাশাপাশি, সোনারগাঁ উপজেলার কাঁচপুর ও মদনগঞ্জ এলাকার হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ এখানে শেষকৃত্য সম্পন্ন করে থাকে।

সূত্র জানায়, দীর্ঘদিনের অবকাঠামোগত সংকট দূর করতে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন প্রায় দুই কোটি টাকা ব্যয়ে আধুনিক দাহ চুল্লি, গোসল ঘর এবং দ্বিতল অফিস ভবন নির্মাণ প্রকল্প গ্রহণ করেছিল। ২০২৫ সালের ১৯ জুন কাজ শুরু হওয়ার পর ৪৮টি পাইলিং পিলার নির্মাণও সম্পন্ন হয়। কিন্তু পরে পারটেক্স গ্রুপের সহযোগী প্রতিষ্ঠান আম্বার পেপার মিলস হাইকোর্টে মামলা দায়ের করলে আদালতের স্থিতাবস্থা আদেশের মাধ্যমে উন্নয়নকাজ বন্ধ হয়ে যায়।

সেই শুনানির পরে প্রশাসক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান মন্তব্য করেন, দেশের হাট-ঘাট, মাঠ ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান লিজ দেওয়ার কোনো বৈধতা নেই। বিগত আমলে ফ্যাসিস্ট সরকার অবৈধভাবে এই জায়গা লিজ দিয়েছে। প্রায় দুইশ বছরের পুরনো একটি শ্মশানের সব বৈধ কাগজপত্র এবং আদালতের পূর্ববর্তী রায় থাকা সত্ত্বেও একটি শিল্পগোষ্ঠী হাইকোর্টে রিট করে জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট উন্নয়ন কাজ বন্ধ করে দিয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, আদালতে প্রয়োজনীয় সব নথিপত্র উপস্থাপন করেছেন এবং ন্যায়বিচার পাবেন।

সাখাওয়াত হোসেন খান আরও বলেন, ১৭৯৩ সালে প্রতিষ্ঠিত এই শ্মশান ঘাট ও মন্দিরের অস্তিত্ব বিভিন্ন সরকারি তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে। সরকারি আইন অনুযায়ী মন্দির, মসজিদ, শ্মশান, রাস্তা-ঘাট বা জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট স্থাপনা লিজ দেওয়া যায় না। একটি মিথ্যা দাবির ভিত্তিতে উন্নয়নকাজ আটকে রাখা হয়েছে এবং আদালতের রায় সত্য ও সাধারণ মানুষের পক্ষে আসবে বলে তিনি আশা করেছেন।

অন্যদিকে, বিবাদীপক্ষ আম্বার পেপার মিলসের আইনজীবী সময়ের আবেদন করলে আদালত পরবর্তী শুনানির জন্য বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) দিন নির্ধারণ করেন।

শ্মশান কমিটির সভাপতি সুভাষ চন্দ্র তরফদার জানিয়েছেন, ১৯৮৯ সালে পারটেক্স গ্রুপ জেলা প্রশাসনের কাছ থেকে ৬ দশমিক ৭৯ একর জমি বন্দোবস্ত নিলেও আবেদনে শ্মশানের ৩১ শতাংশ জমির বিষয়টি উল্লেখ করা হয়নি। এই নিয়ে বিরোধ সৃষ্টি হলে আদালত শ্মশানের পক্ষে রায় দেয়। অতীতে কয়েকবার জমি দখলের চেষ্টা হলেও স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায় ও এলাকাবাসীর প্রতিরোধে তা ব্যর্থ হয়।

শ্মশান কমিটির সদস্য শিশির ঘোষ (অমর) বলেছেন, এটি শুধু একটি ধর্মীয় স্থাপনা নয়, হাজারো মানুষের শেষ বিদায়ের স্থান। মানবিক কারণে দ্রুত উন্নয়নকাজ সম্পন্ন হওয়া জরুরি।

আম্বার পেপার মিলসের ইনচার্জ নজরুল ইসলাম বলেন, শ্মশানে দাহ কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবে চলছে এবং আদালতের নির্দেশনা মূলত ভবন নির্মাণ সংক্রান্ত বিষয়ে প্রযোজ্য। স্থানীয়দের অভিযোগ, জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট একটি গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন প্রকল্প দীর্ঘদিন ধরে আইনি জটিলতায় আটকে রয়েছে। নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ না হলে বরাদ্দকৃত অর্থ ফেরত যাওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে। সুতরাং দ্রুত বিরোধ নিষ্পত্তি করে উন্নয়নকাজ পুনরায় শুরু করার দাবি স্থানীয়দের।

স্থানীয় সব ধর্মের মানুষের প্রত্যাশা, আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের মাধ্যমে দীর্ঘদিনের এ বিরোধের অবসান ঘটবে এবং সিদ্ধিরগঞ্জের প্রায় দুই শতাব্দী পুরোনো শ্মশান ঘাট আধুনিক সুবিধাসম্পন্ন অবকাঠামো পাবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রেলপথে যাতায়াত নিরাপদ করতে চালু হবে বৈদ্যুতিক ট্রেন: প্রধানমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বুধবার, ১৭ই জুন, ২০২৬ ইং

০৪:৫২ পি.এম


রেলপথে যাতায়াত নিরাপদ করতে চালু হবে বৈদ্যুতিক ট্রেন: প্রধানমন্ত্রী

রেলপথে যাতায়াতের নিরাপত্তা এবং পরিবেশবান্ধব যোগাযোগ ব্যবস্থা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে প্রধান প্রধান রুটে বৈদ্যুতিক ট্রেন চালু করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে, এ তথ্য জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

বুধবার বিকেলে বঙ্গবন্ধু ভবনে জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনের প্রশ্নোত্তর পর্বে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে এই তথ্য প্রকাশ করা হয়।

স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীরবিক্রমের সভাপতিত্বে প্রশ্নোত্তর পর্বটি জাতীয় সংসদে উত্থাপন করা হয়েছিল।

কুমিল্লা-১০ আসনের সংসদ সদস্য মো. মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়ার প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সড়ক ও রেল যোগাযোগ উন্নয়নের লক্ষ্যে সরকার বিভিন্ন পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। মহাসড়কগুলোতে ক্রমে এক্সপ্রেসওয়ে গ্রিড ও মাল্টিমোডাল পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে। এর সাথে সাথে, সড়কে স্মার্ট মনিটরিং ও এক্সেল লোড নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা কার্যকরের ব্যবস্থা করা হবে, যা ওভারলোড নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হবে।

তিনি আরও জানান, ঢাকার ওপর চাপ কমাতে রিং রোড ও রেডিয়াল রোড নেটওয়ার্ক নির্মাণের কাজ চলছে। যানজট সমস্যার সমাধানে বিভিন্ন ইন্টারসেকশনে ওভারপাস ও আন্ডারপাস নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন, বেশ কিছু মেগা প্রকল্প রয়েছে, যেগুলোর মধ্যে আছে যমুনা নদীর ওপর দ্বিতীয় যমুনা সেতু এবং পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া এলাকায় দ্বিতীয় পদ্মা সেতু নির্মাণের প্রক্রিয়া।

এছাড়া চলমান এবং বিভিন্ন পর্যায়ে প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে:

# ঢাকা-আশুলিয়া ও ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের সংযোগ প্রকল্প

# পঞ্চবটি থেকে মুক্তারপুর সেতু পর্যন্ত দোতলা সড়ক নির্মাণ

# বরিশাল-ভোলা সড়কে কালাবদর ও তেঁতুলিয়া নদীর ওপর সেতু নির্মাণ

# শরীয়তপুর-চাঁদপুর ও ভুলতা-আড়াইহাজার সড়কে মেঘনা নদীর ওপর সেতু নির্মাণ

# ঢাকা-চট্টগ্রাম এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে।

বাংলাদেশ রেলওয়েকে জাতীয় পরিবহন ব্যবস্থার মূল মেরুদণ্ড হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে, বললেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, রেলসেবা দেশের প্রতিটি জেলা ও প্রধান শহরে পৌঁছে দিতে ২০৪৫ সাল পর্যন্ত মোট ২৪টি প্রকল্প নির্ধারণ করা হয়েছে।

তিনি বলেন, দেশে রেল নেটওয়ার্ককে ধাপে ধাপে ডুয়েলগেজে রূপান্তর করা হবে, যার ফলে দেশের যেকোনো প্রান্ত থেকে যাত্রীবাহী ও মালবাহী ট্রেন চলাচল করা সহজ হবে।

রেলের সক্ষমতা বৃদ্ধির চিত্র তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী আরও জানান, ক্রমান্বয়ে আন্তঃনগর এবং কমিউটার ট্রেনের সংখ্যা বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। স্বল্প মেয়াদে (২০২৬-২৭) আন্তঃনগর ৩টি এবং কমিউটার ১০টি, মধ্য মেয়াদে (২০২৭-৩০) আন্তঃনগর ১৫টি এবং কমিউটার ১৬টি, আর দীর্ঘ মেয়াদে (২০৩১-৪৫) আন্তঃনগর ১০৩টি ও কমিউটার ৮৫টি ট্রেন বৃদ্ধির জন্য প্রকল্প গ্রহণ করা হবে।

এই উদ্যোগের ফলে সাধারণ মানুষের জন্য রেল ভ্রমণ আরো সহজ, নিরাপদ এবং আরামদায়ক হবে, এ বিষয়ে আশা প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বার্সাকে হতাশ করে দুই বছরের চুক্তিতে রিয়াল মাদ্রিদে যোগ দিলেন বার্নার্দো সিলভা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

বুধবার, ১৭ই জুন, ২০২৬ ইং

০৪:৫৩ পি.এম


বার্সাকে হতাশ করে দুই বছরের চুক্তিতে রিয়াল মাদ্রিদে যোগ দিলেন বার্নার্দো সিলভা

রিয়াল মাদ্রিদ, যারা টানা দুই মৌসুম শিরোপাহীন কাটিয়েছে, এই গ্রীষ্মের দলবদলে কোমর বেঁধে নেমেছে। তারা পরপর দুই তারকা ফুটবলারকে দলে যুক্ত করেছে। কয়েক দিন আগে চেলসি থেকে মার্ক কুকুরেয়াকে কেনার পর, রিয়াল মাদ্রিদ এবার প্রিমিয়ার লিগের আরেকটি বড় তারকাকে দলে ফিরিয়েছে।

বার্নার্দো সিলভা, পর্তুগালের মিডফিল্ডার, দুই বছরের চুক্তিতে রিয়াল মাদ্রিদে যোগ দিয়েছেন। তিনি স্বদেশী কোচ জোসে মরিনিয়োর অধীনে স্প্যানিশ জায়ান্টদের হয়ে খেলার সুযোগ পাবেন।

এবং সিলভা, যিনি ৩১ বছর বয়সী, গত মৌসুম শেষে ম্যানচেস্টার সিটি থেকে বিদায় নেন। দীর্ঘ আট বছরের অসাধারণ পথচলার পর, ওই প্রিমিয়ার লিগ ক্লাবে একাধিক শিরোপা জেতার পর, তিনি ফ্রি ট্রান্সফারে মাদ্রিদের দলটিতে এলেন।

স্পেনে সিলভা যাওয়ার গুঞ্জন দীর্ঘদিন থেকেই ছিল। বার্সেলোনা এবং মাদ্রিদের অন্য ক্লাব অ্যাতলেটিকো মাদ্রিদও তার প্রতি আগ্রহ প্রকাশ করেছিল।

এটি এই গ্রীষ্মে রিয়াল মাদ্রিদের দ্বিতীয় সাইনিং। এর আগে, তারা ডিফেন্ডার মার্ক কুকুরেয়াকে ৫২ মিলিয়ন পাউন্ডের ট্রান্সফার ফিতে চেলসি থেকে দলে অন্তর্ভুক্ত করেছে।

গত মৌসুমে, রিয়াল মাদ্রিদ কোনো শিরোপা জিততে পারেনি। তারা লা লিগায় চ্যাম্পিয়ন বার্সেলোনার চেয়ে ৮ পয়েন্ট পিছিয়ে থেকে মৌসুম শেষ করেছে। এছাড়া, চ্যাম্পিয়ন্স লিগেও তারা কোয়ার্টার-ফাইনালের পর্যায়ে তাদের যাত্রা শেষ করেছে।

বর্তমানে সিলভা পর্তুগালের হয়ে বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ করছেন এবং আশা করা হচ্ছে যে, তিনি দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবেন।

এদিকে, রিয়াল মাদ্রিদ ডেনজেল ডামফ্রিসকে দলে ভেড়ানোয়ের চেষ্টা করছে, জানা গেছে। আগ্রহের এই ডাচ তারকা ইন্টার মিলান ছাড়ার পথে রয়েছেন। এছাড়া, ফ্রান্সের ডিফেন্ডার ইবরাহিমা কোনাটেও লিভারপুল ছাড়িয়ে রিয়ালে যোগ দেয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

অন্যদিকে, ডিফেন্ডার আন্টনিও রুডিগার এই সপ্তাহে রিয়াল মাদ্রিদের সঙ্গে ২০২৭ সাল পর্যন্ত নতুন চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রুপির বিপরীতে ১০ বছরের সর্বোচ্চ অবস্থানে বাংলাদেশি টাকা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বুধবার, ১৭ই জুন, ২০২৬ ইং

০৪:৫৫ পি.এম


রুপির বিপরীতে ১০ বছরের সর্বোচ্চ অবস্থানে বাংলাদেশি টাকা

ভারতীয় রুপির বিপরীতে বাংলাদেশি টাকার মান উল্লেখযোগ্যভাবে শক্তিশালী হয়েছে। দীর্ঘ প্রায় এক দশক পর বর্তমানে বাংলাদেশি ১০০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে ৭৯ ভারতীয় রুপি, যা আগে ছিল মাত্র ৭৩ রুপি।

ঠিক একইভাবে আগে ১০০ রুপি কিনতে যেখানে প্রায় ১৪০ টাকা খরচ করতে হতো, এখন কেবল ১২৩ টাকা লাগছে।

মুদ্রা বিনিময় হারের এই পরিবর্তনের ফলস্বরূপ সীমান্ত বাণিজ্য, আমদানি কার্যক্রম এবং ভারতগামী পাসপোর্টধারী যাত্রীদের মধ্যে স্বস্তির অনুভূতি ফিরেছে, এমনটাই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ভারত ভ্রমণের ক্ষেত্রে এক বাংলাদেশি পাসপোর্টধারীর জন্য যাত্রার পূর্বেই বিভিন্ন খাতে উল্লেখযোগ্য অর্থ ব্যয় করতে হয়। ভারতের দূতাবাসের ভিসা ফি ১ হাজার ৫৫০ টাকা, বন্দর চার্জ ৪০০ রুপি, বাংলাদেশ সরকারের ভ্রমণ কর ১ হাজার টাকা এবং বন্দর ফি ৬৫ টাকা পরিশোধ করতে হয়। এ ছাড়া ভিসার সিরিয়াল সংগ্রহ ও যাতায়াত খরচও রয়েছে। রূপির উচ্চমূল্যের জন্য ভারত ভ্রমণ অতীতে অনেকের জন্য ব্যয়বহুল হয়ে উঠেছিল। এছাড়া, রুপির দাম বাড়ানোর কারণে ভারত থেকে পণ্য আমদানিতে অতিরিক্ত খরচ বহন করতে হচ্ছিল ব্যবসায়ীদের। ফলে অনেক আমদানিকারক ক্ষতির আশঙ্কায় ব্যবসার সীমাবদ্ধতা সৃষ্টি করেছিলেন।

তবে সম্প্রতি ভারতের নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে হঠাৎ করেই বাংলাদেশি টাকার মান বৃদ্ধি পেতে শুরু করে। গত তিন দিনের ব্যবধানে রুপির বিপরীতে টাকার মান আরও শক্তিশালী হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ভ্রমণকারী ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে।

বেনাপোল স্থলবন্দর ব্যবহারকারী পাসপোর্টধারী রাশেদুজ্জামান বলেন, টাকার মান বৃদ্ধির ফলে ভারত ভ্রমণের খরচ কিছুটা কমবে, যা সাধারণ মানুষের জন্য একটি স্বস্তির বিষয়।

বেনাপোল আমদানিকারক রফতানিকারক সমিতির সহসভাপতি আমিনুল হক জানান, বাংলাদেশি টাকার মান শক্তিশালী হওয়ায় ভারত থেকে পণ্য আমদানিতে ব্যয় কমতে যাচ্ছে এবং ব্যবসায়িক কার্যক্রমে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

বেনাপোল বন্দরের পরিচালক শামিম হোসেন বলেন, দীর্ঘ ১০ বছরের মধ্যে বাংলাদেশি টাকার মান সবচেয়ে বেশি বেড়েছে। নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও যাত্রী চলাচল আরও বৃদ্ধি পাবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।

সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার (১৬ জুন) বন্দর দিয়ে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে ১ হাজার ৮৩৬ জন দেশি-বিদেশি পাসপোর্টধারী যাতায়াত করেছেন। একই দিনে ৩৪৫টি ট্রাকে আমদানি-রফতানি পণ্য পরিবহণ করা হয়েছে।

বেনাপোল সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের দপ্তর সম্পাদক মোস্তাফিজ্জোহা সেলিম জানান, ব্যবসায়ী ও ভ্রমণকারীদের প্রত্যাশা, বাংলাদেশি টাকার এই ইতিবাচক ধারা অব্যাহত থাকলে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও গতিশীল হবে এবং সীমান্ত অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১১ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৩
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫০
মাগরিব ০৫:২৭
ইশা ০৬:৩৮
সূর্যোদয় : ০৫:৫৯ সূর্যাস্ত : ০৫:২৭
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%