ঢাকা শনিবার, ২৪শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৮ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৩ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শনিবার, ২৪শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৮ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

২৫০ শতাংশ শুল্কের হুমকিতে ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধ থামানোর দাবি ট্রাম্পের


২৫০ শতাংশ শুল্কের হুমকিতে ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধ থামানোর দাবি ট্রাম্পের

পারমাণবিক শক্তিধর প্রতিবেশী দেশ ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সম্ভাব্য সামরিক সংঘাত থামানোর কৃতিত্ব আবারও দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি নির্বাচনী প্রচারণার সময় এক ভাষণে উল্লেখ করেছেন যে, ২৫০ শতাংশ বাণিজ্য শুল্ক আরোপের চূড়ান্ত হুমকি দিয়েই তিনি এই দুই দেশের রক্তক্ষয়ী লড়াই বন্ধ করেছেন।

আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে নিজের সাফল্য তুলে ধরে ট্রাম্প বলেন, ‘দুটি পারমাণবিক অস্ত্রধারী দেশ ভারত ও পাকিস্তানকে আমি থামিয়েছি। আমি বলেছিলাম, বন্ধুরা, তোমরা যদি এ যুদ্ধ চালিয়ে যাও, তবে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আর কোনো বাণিজ্য করতে পারবে না। তোমাদের উভয়ের ওপর ২৫০ শতাংশ শুল্ক বসিয়ে দেব, যেন কোনো ব্যবসা না করতে পারো।’

এই হুমকির প্রভাবেই দুই দেশ পিছু হটতে বাধ্য হয়েছে বলে দাবি করেন সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তিনি বলেন, ‘তারা খুব বিরক্ত ও ক্ষুব্ধ হয়েছিল, কিন্তু তাদের গোলাগুলি বন্ধ হলো এবং যুদ্ধ থেমে গেল। সেই লড়াইয়ে ১১টি বিমান ভূপাতিত হয়েছিল। আমি এসব যুদ্ধ বন্ধ করেছি এবং এটা করা সত্যিই এক পরম সম্মানের।’

আরও পড়ুন: আইআইটি থেকে ডিজিটাল স্বাস্থ্যসেবায় ভারত-ইউএনডিপির সাত দশক

আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে এমন মধ্যস্থতার পরেও কোনো সম্মাননা না পাওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করে ট্রাম্প যোগ করেন, ‘আমি আটটি যুদ্ধ থামিয়েছি। কিন্তু কোনো নোবেল পুরস্কার পেয়েছি কি? না, পাইনি।’

তবে ট্রাম্পের এই দাবি ভারত বরাবরই প্রত্যাখ্যান করে আসছে। সংঘাতের সময় ১১টি বিমান ভূপাতিত হওয়ার তথ্যকে ভুল আখ্যা দেওয়ার পাশাপাশি তৃতীয় কোনো দেশের মধ্যস্থতার সুযোগ শুরু থেকেই নাকচ করে এসেছে দিল্লি।

ভারতীয় কর্তৃপক্ষের মতে, ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর সময় যুদ্ধবিরতি চুক্তি মার্কিন হুমকির মুখে নয়, বরং পাকিস্তানি ডিরেক্টর জেনারেল অব মিলিটারি অপারেশন্সের (ডিজিএমও) আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে হয়েছিল।

আরও পড়ুন: ‘প্রতিবাদ দমনের পরিণতি কী, শ্রীলঙ্কা-বাংলাদেশের দিকে তাকান’

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে বাস খাদে, নিহত ৩ ও আহত ১৬

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ২৪শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৮:৩৬ এম


ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে বাস খাদে, নিহত ৩ ও আহত ১৬

ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ের মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগরে একটি বাস খাদে পড়ে তিনজনের মৃত্যু ঘটেছে। এ ঘটনায় আরো ১৬ জন আহত হয়েছেন।

শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) দিবাগত রাত ৩টার পরে এক্সপ্রেসওয়ের ঢাকামুখী লেনে উপজেলার হাসাড়া এলাকায় এই দুর্ঘটনাটি ঘটে।

নিহতদের মধ্যে একজনের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে। তিনি হলেন চুয়াডাঙ্গার রুকুনুজ্জামান রঞ্জু (৫৫)। অন্য দুজনের পরিচয় এখনও জানা যায়নি। মরদেহগুলো উদ্ধার করে হাইওয়ে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

আহত ১৬ জনের মধ্যে রয়েছেন হৃদয় (৩০), শাহিন আক্তার (৩২), নূর ইসলাম (৫৫), ইমরান (২৭), গিলবাড সরকার (৫৫), তরিকুল ইসলাম (৩৬), সাইফুল ইসলাম (৪০), মিরাজুল ইসলাম (২৮), রফিকুল ইসলাম (৩৫), অনিফিন (১৭), সন্দীপন বসু (৪০), ইকরাম (৪০), রায়হান (২১), হাসিব (২২), তিশা (২৪) এবং বোরহান উদ্দিন (৫৫)। তারা চুয়াডাঙ্গা, মেহেরপুর, ঝিনাইদহ, ঢাকা ও মাগুরার বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দা।

মুন্সীগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপসহকারী পরিচালক মুহাম্মদ সফিকুল ইসলাম জানান, চুয়াডাঙ্গা থেকে ঢাকাগামী দর্শনা পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস কাভার্ড ভ্যানকে ওভারটেক করার সময় বেপরোয়া গতির কারণে নিয়ন্ত্রণ হারায়। এরপর বাসটি সড়কের রেলিং ভেঙে সার্ভিস লেন অতিক্রম করে পাশের পানিভর্তি খাদে পড়ে যায়। খবর পেয়ে শ্রীনগর ফায়ার স্টেশনের দুটি উদ্ধারকারী ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজ শুরু করে। উদ্ধারকারীরা ১১ জনকে উদ্ধার করে ফায়ার সার্ভিসের অ্যাম্বুলেন্সে শ্রীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠান। এ ছাড়া ঘটনাস্থলেই ৫ জনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ঢাকায় কোম্পানিভিত্তিক বাস চলাচলের উদ্যোগ, ১ নভেম্বর থেকে শুরু হবে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ২৪শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৮:৫২ এম


ঢাকায় কোম্পানিভিত্তিক বাস চলাচলের উদ্যোগ, ১ নভেম্বর থেকে শুরু হবে

ঢাকায় যানজট কমানোর, বাসের প্রতিযোগিতা বন্ধ করার এবং গণপরিবহনব্যবস্থার উন্নয়ন সাধনের উদ্দেশ্যে সরকার ১ নভেম্বর থেকে ছয়টি রুটে কোম্পানিভিত্তিক বাসসেবা চালুর উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। ‘এক কোম্পানি, এক রুট’ নীতির অধীনে নির্দিষ্ট রুটে নির্দিষ্ট কোম্পানির বাস চলাচল করবে। এই উদ্যোগের আওতায় বিচ্ছিন্নভাবে পরিচালিত বাসসেবাকে নির্দিষ্ট কোম্পানির অধীনে আনার পরিকল্পনা রয়েছে, পাশাপাশি নির্ধারিত বাসস্টপ, কাউন্টার ও ইলেকট্রনিক টিকিট ব্যবস্থা চালু করা হবে। বাসের অবস্থান জিপিএসের মাধ্যমে পর্যবেক্ষণ করা হবে এবং অনুমোদনহীন বাস চলাচলের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও রয়েছে।

গত ৮ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক সভায় এ কার্যক্রম বাস্তবায়নের সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়। সাত কর্মদিবসের মধ্যে দুটি রুটে বাসসেবা চালু করা হবে, দুই মাসের মধ্যে ৩২টি রুটে ফ্র্যাঞ্চাইজি ব্যবস্থা চূড়ান্ত করা হবে এবং ছয় মাসের মধ্যে পুরো কার্যক্রম সম্পন্ন করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষের (ডিটিসিএ) তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ঢাকায় ৬৬টি কোম্পানির প্রায় ৭ হাজার ৫০০ বাস চলাচল করছে। অনুমোদিত ৪১৮টি রুটের মধ্যে বাস চলছে মাত্র ৯৮টি রুটে। একাধিক কোম্পানির বাস একই রুটে চলাচল করার কারণে প্রতিযোগিতা, যানজট, অনিরাপদভাবে বাস চালানো এবং যাত্রী ওঠানো-নামানোর ক্ষেত্রে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হচ্ছে। এই পরিস্থিতি মোকাবেলার জন্য বিদ্যমান ৯৮টি রুটকে ৩২টি রুটে পুনর্বিন্যাসের পরিকল্পনা করা হয়েছে।

ডিটিসিএর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, যাত্রীদের যাত্রা শুরুর স্থান ও গন্তব্য সম্পর্কে ধারণা পেতে ১০ হাজারের বেশি বাসযাত্রীর ওপর জরিপ এবং ৩৫ হাজারের বেশি যাত্রার তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়েছে। প্রস্তাবিত রুটের প্রায় ৭০ শতাংশ বর্তমান রুটের মতোই থাকবে। তবে কিছু যাত্রীকে গন্তব্যে পৌঁছাতে বাস পরিবর্তন করতে হতে পারে। প্রাথমিক পর্যায়ে ছয়টি রুটে ৮১৬টি বাস চালানোর পরিকল্পনা রয়েছে। এর মধ্যে পাঁচটি রুটে শীতাতপনিয়ন্ত্রণবিহীন এবং একটি রুটে শীতাতপনিয়ন্ত্রিত বাস চলবে। ফিটনেসবিহীন বাস বাদ দেওয়া হলে চলাচলের উপযোগী বাসের সংখ্যা কমে যেতে পারে। জরাজীর্ণ বাস মেরামত ও রং করার জন্য মালিকদের দুই মাস সময় দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সাত কর্মদিবসের মধ্যে প্রয়োজনীয় অবকাঠামোগত উন্নয়নকাজের তালিকা সিটি করপোরেশনগুলোর কাছে জমা দিতে হবে ডিটিসিএ ও ঢাকা মহানগর পুলিশকে (ডিএমপি)। তিন মাসের মধ্যে এসব নির্মাণ ও মেরামতকাজ শেষ করার লক্ষ্য রয়েছে।

প্রাথমিক পর্যায়ে নির্বাচিত ছয়টি রুট ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ এলাকা ও আশপাশের জেলাগুলোকে যুক্ত করবে। এসব রুটে একাধিক পরিবহন প্রতিষ্ঠানের বাস একটি কোম্পানির অধীনে পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে।

ডিটিসিএর নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ মশিউর রহমান জানিয়েছেন, শুরুতে ছয়টি রুটে কোম্পানিভিত্তিক বাস চলবে। প্রথম দিকে দুটি-তিনটি কোম্পানির বাস চললেও পরে সেগুলোকে এক কোম্পানির অধীনে আনা হবে। নতুন কোম্পানির বাসগুলো একই ধরনের হবে এবং বাসের রং করার কাজ শুরু হয়েছে।

ডিটিসিএর উপপরিবহন পরিকল্পনাবিদ ধ্রুব আলম বলেছেন, আগের উদ্যোগগুলো ব্যর্থ হওয়ার অন্যতম কারণ ছিল সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে বাসমালিক সমিতিগুলোকে যথাযথভাবে সম্পৃক্ত না করা। যখনই কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, সরকার মালিক সমিতিগুলোর সঙ্গে সমন্বয় না করেই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তারা নিজেদের সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দিয়েছে। সরকার যতটা সম্ভব বিদ্যমান বাসগুলো মেরামত করে চালানোর চেষ্টা করছে। তবে নতুন ব্যবস্থা চালু হলেও জরাজীর্ণ বাসে প্রতিবন্ধী ব্যক্তি ও অসুস্থ যাত্রীদের ওঠানামার দুর্ভোগ থেকে যেতে পারে। বাসে আসন না পেলে যাত্রীদের দাঁড়িয়ে কিংবা ভিড়ের মধ্যে বাসের গায়ে ঝুলে যাতায়াত করার পরিস্থিতি বদলাবে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। বাসের কাঠামো ও মান আগের মতো থাকলে সেবার গুণগত উন্নতি কতটা হবে, সেটিও বড় প্রশ্ন।

ঢাকা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. সাইফুল আলম বলেছেন, মহানগরীতে বাস চলাচলে অনিয়ম ও বিশৃঙ্খলার অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী গত ১১ অক্টোবর থেকে ঢাকা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতি ও বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশন যৌথভাবে অভিযান শুরু করেছে। ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) সহায়তায় ১৭টি স্থানে অবৈধ ও বিশৃঙ্খলভাবে চলাচলকারী বাসের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। এতে ট্রাফিক পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। তবে আইন অমান্যকারী বাসচালক ও পরিচালনাকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে এসব স্থানে সপ্তাহে সাত দিন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের মাধ্যমে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা প্রয়োজন। ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এখনো সব বাসস্টপেজ নির্ধারণ ও নির্মাণ সম্পন্ন করেনি। তবে যেসব স্থানে বাসস্টপেজ রয়েছে, সেখানেও বাস না থামিয়ে যত্রতত্র যাত্রী ওঠানামা করানো হচ্ছে। স্টপেজ ছাড়া অন্য কোথাও বাস থামানো ও যাত্রী ওঠানামা বন্ধের বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ফেব্রুয়ারির পর যেভাবে বদলে গেছে ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ পরিস্থিতি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শনিবার, ২৪শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৮:৫২ এম


ফেব্রুয়ারির পর যেভাবে বদলে গেছে ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ পরিস্থিতি

২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ইরানে হামলা চালানোর সময় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু ছিল ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং আঞ্চলিক মিত্রদের ভূমিকা। তবে প্রায় আট মাস পরে যুদ্ধের পরিস্থিতি সম্পূর্ণরূপে পরিবর্তিত হয়েছে। নতুন নতুন যুদ্ধক্ষেত্র সৃষ্টি হয়েছে, অর্থনৈতিক ক্ষতি বেড়েছে এবং দুই পক্ষের ওপর রাজনৈতিক চাপ তীব্র হয়েছে।

হরমুজ প্রণালী এখন যুদ্ধের অন্যতম প্রধান সংঘাতকেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। যুদ্ধের পূর্বে আন্তর্জাতিক নৌচলাচলের জন্য উন্মুক্ত এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথে বর্তমানে জাহাজ চলাচল ও জ্বালানি সরবরাহে বাধা সৃষ্টি হচ্ছে। ইরানের হামলার পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধের ফলে বিভিন্ন জাহাজ ও জ্বালানি অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যা বিশ্ববাজারে তেল ও গ্যাস সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটাচ্ছে।

সংঘাতের প্রভাব পুরো অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে। ইয়েমেনের সরকারি বাহিনী ও হুথিদের মধ্যে নতুন সংঘর্ষ শুরু হওয়ায় সৌদি আরবের বিমানবন্দর ও তেল স্থাপনাগুলো হামলার ঝুঁকিতে রয়েছে। এর ফলে লোহিত সাগর দিয়ে আন্তর্জাতিক নৌবাণিজ্যের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।

যুদ্ধের অর্থনৈতিক চাপও ক্রমাগত বাড়ছে। নিষেধাজ্ঞা ও সামরিক কার্যক্রমের কারণে ইরানের অর্থনীতি সংকুচিত হয়ে পড়েছে। অন্যদিকে, সংঘাত অব্যাহত রাখতে যুক্তরাষ্ট্রের খরচ হয়েছে কয়েক হাজার কোটি ডলার। জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের ওপর রাজনৈতিক চাপ বৃদ্ধি করেছে।

সামরিক ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ভূখণ্ডের গভীরে হামলা চালানোর সক্ষমতা প্রদর্শন করেছে। তবে তেহরানও ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা এবং বিভিন্ন জাহাজকে লক্ষ্যবস্তু করার মাধ্যমে পাল্টা আঘাত হানার ক্ষমতা বজায় রেখেছে। ফলে যুদ্ধটি আর কেবল পারমাণবিক কর্মসূচি বা আঞ্চলিক প্রভাব বিস্তারের বিরোধে সীমাবদ্ধ নেই; বরং এর প্রভাব আঞ্চলিক নিরাপত্তা, আন্তর্জাতিক নৌবাণিজ্য এবং বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে ছড়িয়ে পড়েছে।

সূত্র: আলজাজিরা

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম কমে দেশে ভরির মূল্য কত?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ২৪শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৮:৫৩ এম


বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম কমে দেশে ভরির মূল্য কত?

জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি এবং মুদ্রাস্ফীতি নিয়ে উদ্বেগের ফলে বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম হ্রাস পেয়েছে। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) স্বর্ণের দাম তিন মাসের সর্বনিম্ন স্তরে নেমে এসেছে। এর ফলে জুনের পর সবচেয়ে বড় সাপ্তাহিক দরপতনের পথে রয়েছে এই মূল্যবান ধাতু। মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভের মুদ্রানীতি নির্ধারণী বৈঠকের আগে সুদের হার বৃদ্ধির সম্ভাবনা জোরালো হওয়ায় স্বর্ণের বাজারে চাপ সৃষ্টি হয়েছে।

বার্তাসংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, শুক্রবার স্পট মার্কেটে স্বর্ণের দাম শূন্য দশমিক ৬ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৩ হাজার ৯৯৮ দশমিক ৩৫ ডলারে নেমেছে। মধ্য জুলাইয়ের পর প্রথমবারের মতো স্বর্ণের দাম ৪ হাজার ডলারের নিচে নেমে এসেছে। লেনদেনের এক পর্যায়ে দাম কমে ৩ হাজার ৯৭৫ দশমিক ২৩ ডলারে পৌঁছায়।

চলতি সপ্তাহে স্বর্ণের দাম ৪ শতাংশ কমেছে, যা জুনের পর সবচেয়ে খারাপ সপ্তাহ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। ডিসেম্বরে সরবরাহের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের স্বর্ণের ফিউচার মূল্য ১ দশমিক ৩ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৭০ দশমিক ৯০ ডলারে স্থির হয়েছে।

সৌদি আরবে হুথি গোষ্ঠীর হামলার পর জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এর ফলে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম পাঁচ মাসেরও বেশি সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি মুদ্রাস্ফীতি বাড়াতে পারে বলে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ফলে সুদের হার কমানোর পরিবর্তে তা বাড়ানোর সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা জোরালো হয়েছে।

আমেরিকান গোল্ড এক্সচেঞ্জের বাজার বিশ্লেষক জিম উইকফ মন্তব্য করেছেন, “মুদ্রাস্ফীতি নিয়ে ক্রমবর্ধমান উদ্বেগের অর্থ হলো, বিশ্বের প্রধান কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো নিজেদের ইচ্ছা অনুযায়ী দ্রুত মুদ্রানীতি শিথিল করতে পারবে না। বর্তমানে এসব বিষয় স্বর্ণ ও রুপার বাজারের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতার বিপরীতে কাজ করছে।” প্রযুক্তি খাতের শেয়ারে বিক্রির চাপের কারণে শেয়ারবাজারের ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীদের মার্জিন কলের মুখে পড়তে হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে প্রয়োজনীয় অর্থের জোগান দিতে তাদের স্বর্ণ ও রুপার মতো সম্পদ বিক্রি করতে হচ্ছে।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) সংশ্লিষ্ট শেয়ারে ব্যাপক বিক্রির পর বিনিয়োগকারীরা সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন। এর প্রভাবে শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের এসঅ্যান্ডপি ৫০০ ও নাসডাক সূচক গত পাঁচ সপ্তাহের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে।

এদিকে, আগামী ২৭ ও ২৮ অক্টোবরের বৈঠকে ফেড সুদের হার অপরিবর্তিত রাখবে বলে অধিকাংশ ব্যবসায়ী আশা করছেন। তবে গত সপ্তাহে প্রকাশিত যুক্তরাষ্ট্রের ভোক্তা ও উৎপাদক পর্যায়ের মুদ্রাস্ফীতির তথ্য প্রত্যাশার চেয়ে শক্তিশালী হওয়ায় বছরের শেষ দিকে আরও কঠোর মুদ্রানীতি গ্রহণের পক্ষে যুক্তি জোরালো হয়েছে।

সিএমইর ফেডওয়াচ টুলের তথ্য অনুযায়ী, আগামী সপ্তাহে ফেডের সুদের হার অপরিবর্তিত রাখার সম্ভাবনা ৯২ শতাংশ বলে মনে করছেন ব্যবসায়ীরা। অন্যদিকে, ডিসেম্বরে সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনা দেখছেন ৭৮ শতাংশ ব্যবসায়ী।

আগামী ২৯ অক্টোবর প্রকাশিতব্য যুক্তরাষ্ট্রের ব্যক্তিগত ভোগব্যয় (পিসিই) প্রতিবেদন থেকেও মুদ্রাস্ফীতির গতিপ্রকৃতি সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যেতে পারে। ফেডের পছন্দের মুদ্রাস্ফীতি পরিমাপক হিসেবে বিবেচিত এই সূচকের দিকে নজর রাখছেন বিনিয়োগকারীরা।

অন্যদিকে, স্বর্ণের দাম কমানোর ফলে চলতি সপ্তাহে ভারতে কেনাকাটা বেড়েছে। দেশটির প্রধান ধর্মীয় উৎসব দশেরাকে কেন্দ্র করে স্বর্ণের চাহিদা বৃদ্ধি পেয়েছে এবং প্রিমিয়ামও বেড়েছে। তবে বিশ্বের শীর্ষ স্বর্ণ ভোক্তা চীনে ভৌত স্বর্ণের চাহিদা স্থিতিশীল রয়েছে। সতর্ক অবস্থানে থাকা ক্রেতারা সেখানে গয়না কেনার ব্যয় কমিয়ে চলেছেন।

অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর মধ্যে স্পট মার্কেটে রুপার দাম ১ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৫৩ দশমিক ৯৭ ডলারে নেমেছে। এটি ২০২৫ সালের নভেম্বরের পর সর্বনিম্ন। প্যালাডিয়ামের দাম শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ১ হাজার ৪৮ দশমিক ৩১ ডলারে দাঁড়িয়েছে, যা ২০২৫ সালের জুনের পর সর্বনিম্ন।

এ ছাড়া প্লাটিনামের দাম শূন্য দশমিক ৯ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ১ হাজার ৫৫৫ দশমিক ৮৪ ডলারে নেমেছে। জুলাইয়ের পর এটিই ধাতুটির সর্বনিম্ন দাম। স্বর্ণ, রুপা, প্লাটিনাম ও প্যালাডিয়াম- চারটি ধাতুই চলতি সপ্তাহে দরপতনের পথে রয়েছে।

এদিকে, গত ২৩ অক্টোবর দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। সেদিন ২ হাজার ১৫৮ টাকা কমিয়ে ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ২ লাখ ২৪ হাজার ১৮২ টাকা নির্ধারণ করেছে সংগঠনটি। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১৪ হাজার ৯৩ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৮৩ হাজার ৮৮৩ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৫০ হাজার ২৩২ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। সেই দাম অনুযায়ীই দেশে স্বর্ণ বিক্রি হচ্ছে।

স্বর্ণের দাম কমানোর সঙ্গে গত ২৩ অক্টোবর দেশের বাজারে কমানো হয়েছে রুপার দামও। ভরিতে ১৭৫ টাকা কমিয়ে ভ্যাটসহ প্রতি ভরি ২২ ক্যারেটের রুপার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৩ হাজার ৮৪৯ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৩ হাজার ৬৭৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৩ হাজার ১৪৯ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপার দাম ২ হাজার ৩৯১ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। সেই দাম অনুযায়ীই দেশে রুপা বিক্রি হচ্ছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৩ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৪
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৪৮
মাগরিব ০৫:২৫
ইশা ০৬:৩৭
সূর্যোদয় : ০৬:০০ সূর্যাস্ত : ০৫:২৫
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%