০৮:৫২ এম
ঢাকায় যানজট কমানোর, বাসের প্রতিযোগিতা বন্ধ করার এবং গণপরিবহনব্যবস্থার উন্নয়ন সাধনের উদ্দেশ্যে সরকার ১ নভেম্বর থেকে ছয়টি রুটে কোম্পানিভিত্তিক বাসসেবা চালুর উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। ‘এক কোম্পানি, এক রুট’ নীতির অধীনে নির্দিষ্ট রুটে নির্দিষ্ট কোম্পানির বাস চলাচল করবে। এই উদ্যোগের আওতায় বিচ্ছিন্নভাবে পরিচালিত বাসসেবাকে নির্দিষ্ট কোম্পানির অধীনে আনার পরিকল্পনা রয়েছে, পাশাপাশি নির্ধারিত বাসস্টপ, কাউন্টার ও ইলেকট্রনিক টিকিট ব্যবস্থা চালু করা হবে। বাসের অবস্থান জিপিএসের মাধ্যমে পর্যবেক্ষণ করা হবে এবং অনুমোদনহীন বাস চলাচলের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও রয়েছে।
গত ৮ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক সভায় এ কার্যক্রম বাস্তবায়নের সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়। সাত কর্মদিবসের মধ্যে দুটি রুটে বাসসেবা চালু করা হবে, দুই মাসের মধ্যে ৩২টি রুটে ফ্র্যাঞ্চাইজি ব্যবস্থা চূড়ান্ত করা হবে এবং ছয় মাসের মধ্যে পুরো কার্যক্রম সম্পন্ন করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষের (ডিটিসিএ) তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ঢাকায় ৬৬টি কোম্পানির প্রায় ৭ হাজার ৫০০ বাস চলাচল করছে। অনুমোদিত ৪১৮টি রুটের মধ্যে বাস চলছে মাত্র ৯৮টি রুটে। একাধিক কোম্পানির বাস একই রুটে চলাচল করার কারণে প্রতিযোগিতা, যানজট, অনিরাপদভাবে বাস চালানো এবং যাত্রী ওঠানো-নামানোর ক্ষেত্রে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হচ্ছে। এই পরিস্থিতি মোকাবেলার জন্য বিদ্যমান ৯৮টি রুটকে ৩২টি রুটে পুনর্বিন্যাসের পরিকল্পনা করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: কুমিল্লায় রাজস্ব কর্মকর্তা বুলেট বৈরাগী হত্যা মামলায় পাঁচজনের বিরুদ্ধে চার্জশিট
ডিটিসিএর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, যাত্রীদের যাত্রা শুরুর স্থান ও গন্তব্য সম্পর্কে ধারণা পেতে ১০ হাজারের বেশি বাসযাত্রীর ওপর জরিপ এবং ৩৫ হাজারের বেশি যাত্রার তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়েছে। প্রস্তাবিত রুটের প্রায় ৭০ শতাংশ বর্তমান রুটের মতোই থাকবে। তবে কিছু যাত্রীকে গন্তব্যে পৌঁছাতে বাস পরিবর্তন করতে হতে পারে। প্রাথমিক পর্যায়ে ছয়টি রুটে ৮১৬টি বাস চালানোর পরিকল্পনা রয়েছে। এর মধ্যে পাঁচটি রুটে শীতাতপনিয়ন্ত্রণবিহীন এবং একটি রুটে শীতাতপনিয়ন্ত্রিত বাস চলবে। ফিটনেসবিহীন বাস বাদ দেওয়া হলে চলাচলের উপযোগী বাসের সংখ্যা কমে যেতে পারে। জরাজীর্ণ বাস মেরামত ও রং করার জন্য মালিকদের দুই মাস সময় দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সাত কর্মদিবসের মধ্যে প্রয়োজনীয় অবকাঠামোগত উন্নয়নকাজের তালিকা সিটি করপোরেশনগুলোর কাছে জমা দিতে হবে ডিটিসিএ ও ঢাকা মহানগর পুলিশকে (ডিএমপি)। তিন মাসের মধ্যে এসব নির্মাণ ও মেরামতকাজ শেষ করার লক্ষ্য রয়েছে।
প্রাথমিক পর্যায়ে নির্বাচিত ছয়টি রুট ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ এলাকা ও আশপাশের জেলাগুলোকে যুক্ত করবে। এসব রুটে একাধিক পরিবহন প্রতিষ্ঠানের বাস একটি কোম্পানির অধীনে পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে।
ডিটিসিএর নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ মশিউর রহমান জানিয়েছেন, শুরুতে ছয়টি রুটে কোম্পানিভিত্তিক বাস চলবে। প্রথম দিকে দুটি-তিনটি কোম্পানির বাস চললেও পরে সেগুলোকে এক কোম্পানির অধীনে আনা হবে। নতুন কোম্পানির বাসগুলো একই ধরনের হবে এবং বাসের রং করার কাজ শুরু হয়েছে।
ডিটিসিএর উপপরিবহন পরিকল্পনাবিদ ধ্রুব আলম বলেছেন, আগের উদ্যোগগুলো ব্যর্থ হওয়ার অন্যতম কারণ ছিল সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে বাসমালিক সমিতিগুলোকে যথাযথভাবে সম্পৃক্ত না করা। যখনই কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, সরকার মালিক সমিতিগুলোর সঙ্গে সমন্বয় না করেই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তারা নিজেদের সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দিয়েছে। সরকার যতটা সম্ভব বিদ্যমান বাসগুলো মেরামত করে চালানোর চেষ্টা করছে। তবে নতুন ব্যবস্থা চালু হলেও জরাজীর্ণ বাসে প্রতিবন্ধী ব্যক্তি ও অসুস্থ যাত্রীদের ওঠানামার দুর্ভোগ থেকে যেতে পারে। বাসে আসন না পেলে যাত্রীদের দাঁড়িয়ে কিংবা ভিড়ের মধ্যে বাসের গায়ে ঝুলে যাতায়াত করার পরিস্থিতি বদলাবে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। বাসের কাঠামো ও মান আগের মতো থাকলে সেবার গুণগত উন্নতি কতটা হবে, সেটিও বড় প্রশ্ন।
আরও পড়ুন: সেনাপ্রধানের সঙ্গে মার্কিন প্রতিনিধি দলের সাক্ষাৎ, এলএফটি-২০২৬ সফলভাবে সম্পন্ন
ঢাকা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. সাইফুল আলম বলেছেন, মহানগরীতে বাস চলাচলে অনিয়ম ও বিশৃঙ্খলার অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী গত ১১ অক্টোবর থেকে ঢাকা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতি ও বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশন যৌথভাবে অভিযান শুরু করেছে। ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) সহায়তায় ১৭টি স্থানে অবৈধ ও বিশৃঙ্খলভাবে চলাচলকারী বাসের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। এতে ট্রাফিক পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। তবে আইন অমান্যকারী বাসচালক ও পরিচালনাকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে এসব স্থানে সপ্তাহে সাত দিন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের মাধ্যমে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা প্রয়োজন। ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এখনো সব বাসস্টপেজ নির্ধারণ ও নির্মাণ সম্পন্ন করেনি। তবে যেসব স্থানে বাসস্টপেজ রয়েছে, সেখানেও বাস না থামিয়ে যত্রতত্র যাত্রী ওঠানামা করানো হচ্ছে। স্টপেজ ছাড়া অন্য কোথাও বাস থামানো ও যাত্রী ওঠানামা বন্ধের বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন