০৮:৫২ এম
২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ইরানে হামলা চালানোর সময় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু ছিল ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং আঞ্চলিক মিত্রদের ভূমিকা। তবে প্রায় আট মাস পরে যুদ্ধের পরিস্থিতি সম্পূর্ণরূপে পরিবর্তিত হয়েছে। নতুন নতুন যুদ্ধক্ষেত্র সৃষ্টি হয়েছে, অর্থনৈতিক ক্ষতি বেড়েছে এবং দুই পক্ষের ওপর রাজনৈতিক চাপ তীব্র হয়েছে।
হরমুজ প্রণালী এখন যুদ্ধের অন্যতম প্রধান সংঘাতকেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। যুদ্ধের পূর্বে আন্তর্জাতিক নৌচলাচলের জন্য উন্মুক্ত এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথে বর্তমানে জাহাজ চলাচল ও জ্বালানি সরবরাহে বাধা সৃষ্টি হচ্ছে। ইরানের হামলার পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধের ফলে বিভিন্ন জাহাজ ও জ্বালানি অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যা বিশ্ববাজারে তেল ও গ্যাস সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটাচ্ছে।
সংঘাতের প্রভাব পুরো অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে। ইয়েমেনের সরকারি বাহিনী ও হুথিদের মধ্যে নতুন সংঘর্ষ শুরু হওয়ায় সৌদি আরবের বিমানবন্দর ও তেল স্থাপনাগুলো হামলার ঝুঁকিতে রয়েছে। এর ফলে লোহিত সাগর দিয়ে আন্তর্জাতিক নৌবাণিজ্যের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।
আরও পড়ুন: ইউক্রেনের হামলায় অধিকৃত ক্রিমিয়ায় পানি ও বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত: রাশিয়া
যুদ্ধের অর্থনৈতিক চাপও ক্রমাগত বাড়ছে। নিষেধাজ্ঞা ও সামরিক কার্যক্রমের কারণে ইরানের অর্থনীতি সংকুচিত হয়ে পড়েছে। অন্যদিকে, সংঘাত অব্যাহত রাখতে যুক্তরাষ্ট্রের খরচ হয়েছে কয়েক হাজার কোটি ডলার। জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের ওপর রাজনৈতিক চাপ বৃদ্ধি করেছে।
সামরিক ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ভূখণ্ডের গভীরে হামলা চালানোর সক্ষমতা প্রদর্শন করেছে। তবে তেহরানও ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা এবং বিভিন্ন জাহাজকে লক্ষ্যবস্তু করার মাধ্যমে পাল্টা আঘাত হানার ক্ষমতা বজায় রেখেছে। ফলে যুদ্ধটি আর কেবল পারমাণবিক কর্মসূচি বা আঞ্চলিক প্রভাব বিস্তারের বিরোধে সীমাবদ্ধ নেই; বরং এর প্রভাব আঞ্চলিক নিরাপত্তা, আন্তর্জাতিক নৌবাণিজ্য এবং বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে ছড়িয়ে পড়েছে।
সূত্র: আলজাজিরা
আরও পড়ুন: ইউক্রেনের বিরুদ্ধে স্টারলিংক শর্ত লঙ্ঘনের অভিযোগ ইলন মাস্কের
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন