ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্যের বার্তা বহন করে সালাম


সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্যের বার্তা বহন করে সালাম

সালাম হলো ইসলামের একটি গভীর তাৎপর্যপূর্ণ ইবাদত। এটি সামাজিক সৌন্দর্যের অন্যতম উদাহরণ। সালাম আদানপ্রদানের মাধ্যমে অন্তর থেকে হিংসাবিদ্বেষ দূর হয়ে যায়। এর ফলে সামাজিক সম্প্রীতি ও পারস্পরিক ভালোবাসা বৃদ্ধি পায়। রসুল (সা.) বলেছেন, 'তোমরা প্রকৃত ইমানদার না হওয়া পর্যন্ত জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না। আর তোমাদের মধ্যে পারস্পরিক ভালোবাসা গড়ে না ওঠা পর্যন্ত তোমরা প্রকৃত ইমানদার হতে পারবে না। আমি কি তোমাদের এমন একটি কাজের কথা বলব না, যা করলে তোমরা একে অপরকে ভালোবাসতে লাগবে? তোমরা পরস্পরের মধ্যে সালাম প্রচার কর (তিরমিজি)।'

অনেকের মনে হতে পারে, সালাম তো স্রেফ এক সম্ভাষণ, যা অন্যান্য ধর্মেও আছে। তাহলে এর স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য আসলে কোথায়? হ্যাঁ, সাধারণত পৃথিবীর সব ধর্ম, জাতি, গোষ্ঠী ও সংস্কৃতিতেই বিভিন্ন ধরনের সম্ভাষণ প্রচলিত আছে। কিন্তু কোনোটায় কেবল সময়ের বন্দনা করা হয়, আবার কোথাও নিছক কুশলবিনিময় হয়। কিন্তু সালাম সম্পূর্ণ স্বতন্ত্র। এটি একটি গভীর অর্থবহ দোয়া। সালামের স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য ও তাৎপর্য বুঝতে হলে প্রথমে আমাদের এর অর্থ ও তাৎপর্যের দিকে দৃষ্টিপাত করতে হবে।

আপনি যখন কাউকে সালাম দিচ্ছেন, তখন আপনি তাকে বার্তা দিচ্ছেন যে আমার পক্ষ থেকে আপনি নিরাপদ, আল্লাহ আপনাকে শান্তিতে রাখুন এবং আপনার ওপর রহমত বর্ষিত হোক। এই বার্তার মাধ্যমে অপরিচিত দুই ব্যক্তির মাঝে যেমন মুহূর্তেই বিশ্বাস ও ভালোবাসা নির্মিত হয়, পরিচিতদের মধ্যে আরও ভালোবাসা বৃদ্ধি পায়।

আরও পড়ুন: ইসরাইল নির্বাচনে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই, সরকার গঠনে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অধরাই

একটি পরিস্থিতির কথা কল্পনা করুন। বিশেষ প্রয়োজনে আপনি সম্পূর্ণ অপরিচিত কোনো জায়গায় গেছেন। সেখানকার মানুষ কিংবা পথঘাট কিছুই আপনার চেনা নয়। নিজের নিরাপত্তা নিয়ে আপনি প্রতি মুহূর্তে এক অজানা শঙ্কায় ভুগছেন। হঠাৎ খেয়াল করলেন, যারাই আপনার সামনে আসছেন, স্মিত হাসিমুখে সালাম দিচ্ছেন। অর্থাৎ আপনার শান্তি ও নিরাপত্তা কামনা করে আল্লাহর কাছে দোয়া করছেন। এমতাবস্থায় আপনার মনে কি আর কোনো ভয় থাকবে? থাকবে না। বরং সেই মানুষগুলোকে আপনার অতি আপন মনে হবে।

এটাই সালামের আসল শক্তি। সালামের মাধ্যমে মুসলমানরা পরস্পরের বিশ্বস্ত ভাই হয়ে ওঠে। এ কারণেই রসুল (সা.) চেনা-অচেনা সব মানুষের মাঝে সালামের ব্যাপক প্রচার-প্রসারের কথা বলেছেন।

সালাম প্রধানভাবে সম্প্রীতির বাহন। সালামের কত গুরুত্ব আমরা আরেকটি হাদিস থেকে বুঝতে পারি। একবার এক ব্যক্তি নবীজি (সা.)-কে জিজ্ঞাসা করলেন, 'ইসলামের কোন কাজটি সবচেয়ে উত্তম?' তিনি বললেন, 'অসহায়কে অন্নদান করা এবং পরিচিত-অপরিচিত নির্বিশেষে সবাইকে সালাম দেওয়া (বুখারি)।'

বর্তমান করপোরেট ও আধুনিক জীবনব্যবস্থায় অনেকে সালাম বিনিময়কে কিছুটা আনস্মার্টনেস মনে করেন। তারা পশ্চিমা কায়দায় হাই-হ্যালো বলতে বেশি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন। কিন্তু সত্য হলো যে সালামের চেয়ে রুচিশীল, গভীর ও আভিজাত্যপূর্ণ সম্ভাষণ আর দ্বিতীয়টি নেই। সালামের ভিতরে যে আন্তরিকতা আর আধ্যাত্মিক সংযোগ থাকে, তা আর কোনো শব্দে খুঁজে পাওয়া অসম্ভব।

আরও পড়ুন: ইসরায়েলে পার্লামেন্ট নির্বাচনের ভোট গণনা চলছে, লিকুদ পার্টি এগিয়ে

সালাম মানুষকে বিনয়ী ও প্রশস্ত হৃদয়ের অধিকারী করে তোলে। সাময়িক ঝগড়াবিবাদ কিংবা রাগের বশবর্তী হয়ে যে ব্যক্তি নিজেকে গুটিয়ে রাখে, তার চেয়ে সেই ব্যক্তি অনেক উত্তম, যে অহম ভেঙে সবার আগে সালাম দেয়। রসুল (সা.) বিবদমান দুজনের মাঝে আগে সালাম প্রদানকারীর শ্রেষ্ঠত্বের ঘোষণা দিয়েছেন। আবু আইয়ুব আনসারি (রা.) থেকে বর্ণিত, রসুল (সা.) বলেছেন, 'কোনো মুসলিমের জন্য তার ভাইয়ের সঙ্গে তিন দিনের বেশি সম্পর্ক ছিন্ন রাখা বৈধ নয়। তাদের দেখা হলে একজন একদিকে মুখ ঘুরিয়ে নেয়, অন্যজন অন্যদিকে। তবে তাদের মধ্যে ওই ব্যক্তিই উত্তম, যে আগে সালাম দেয় (বুখারি)।'

আমাদের পারিবারিক ও সামাজিক জীবনে সালামের ব্যাপক চর্চা প্রয়োজন। আমরা যদি শৈশব থেকেই সন্তানদের সালামের শিক্ষা দিই, তবে তাদের হৃদয়ে বিনয়, সৌজন্য ও পরমতসহিষ্ণুতার বীজ রোপিত হবে। ঘরে প্রবেশের সময় পরিবারের সদস্যদের সালাম দেওয়া, ছোটদের স্নেহভরে সালাম দেওয়া কিংবা একে অপরকে সালাম দেওয়ার অভ্যাস গড়ে তোলা- এসব ছোট ছোট আমল একটি পরিবার ও সমাজকে শান্তি, ভালোবাসা ও সম্প্রীতির জান্নাতি পরিমণ্ডলে পরিণত করতে পারে।

সালাম হলো সেই চাবি, যা দিয়ে রুদ্ধ হৃদয়ের দুয়ার খোলা যায়। এটি আমাদের দুনিয়ার জীবনে যেমন নিরাপত্তা, ভালোবাসা ও সৌহার্দের বন্ধনকে সুদৃঢ় করে, তেমনি আখেরাতে বয়ে আনে মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি ও অফুরন্ত সওয়াব। তাই আসুন, আমরা ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজজীবনে সালামের ব্যাপক চর্চা ও প্রচার-প্রসারে সচেষ্ট হই। চেনা-অচেনা সবাইকে সালামের মাধ্যমে দোয়া ও কল্যাণের বার্তা পৌঁছে দিই। মহান আল্লাহ আমাদের তাওফিক দান করুন।

গ্রন্থনা : নুরুল ইসলাম তানঈম

আরও পড়ুন: ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’ স্থলভাগে প্রবেশ, উপকূলে তাণ্ডবের আশঙ্কা

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

তারকাদের ঝলমলে চুলের রহস্য, শ্যাম্পুর বাইরেও রয়েছে যত্ন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শুক্রবার, ১২ই জুন, ২০২৬ ইং

০২:৩৩ এম


তারকাদের ঝলমলে চুলের রহস্য, শ্যাম্পুর বাইরেও রয়েছে যত্ন

নিয়মিত বিভিন্ন ধরনের স্টাইল করতে হয় বিনোদন জগতের তারকাদের। বেশিরভাগ অভিনেত্রী ঘরোয়া পদ্ধতির মাধ্যমে চুলের যত্ন নেন। তাঁরা বাড়ি তৈরি তেল ও হেয়ার মাস্কের ওপরই নির্ভরশীল। এটি ছাড়াও বিভিন্ন ধরনের কেমিক্যাল ব্যবহার হয়। নিয়মিত হিট প্রয়োগ করা হয়। এর ফলে অভিনেত্রীদের চুল ঘন ও উজ্জ্বল থাকে। কোনও রকম ফ্রিজিনেস থাকে না।

বহু মানুষের ধারণা, অভিনেত্রীরা নানা ধরনের ট্রিটমেন্ট করান চুলে, কিন্তু আজও অনেক অভিনেত্রী ঘরোয়া উপায়ে চুলের যত্ন নিতে পছন্দ করেন। আপনিও তাঁদের টোটকা অনুসরণ করতে পারেন।

বলিউড অভিনেত্রী দীপিকা পাড়ুকোন অ্যালোভেরা মাস্ক ব্যবহার করেন। দীপিকার মতো মসৃণ চুল পেতে, আপনি অ্যালোভেরা মাস্ক ব্যবহার করতে পারেন। ৩ চামচ অ্যালোভেরা জেলের সঙ্গে ৩ চামচ অলিভ অয়েল এবং ২ চামচ হোয়ে ওয়াটার মিশিয়ে নিয়ে, এই মিশ্রণটি ভেজা চুলে লাগিয়ে ৩০ মিনিট অপেক্ষা করতে হয়। তারপর সামান্য গরম পানিতে ধুয়ে ফেলতে হবে।

অভিনেত্রী আলিয়া ভাট ডিটক্স হেয়ার মাস্ক ব্যবহার করেন। আলিয়া নিম ও তুলসিপাতা দিয়ে তৈরি মাস্ক ব্যবহার করে। এটি চুলকে ঘন ও মজবুত করে তোলে। ১ কাপ নিমপাতার সঙ্গে ১ কাপ তুলসিপাতা, ২টি লবঙ্গ এবং পর্যাপ্ত গোলাপজল মিশিয়ে নিন। এরপর এই মিশ্রণটিকে মিক্সারে বেটে মসৃণ পেস্ট বানাতে হবে। এটি স্ক্যাল্প এবং চুলে লাগিয়ে ২০-৩০ মিনিট অপেক্ষা করতে হবে এবং পরে চুল ধুয়ে ফেলতে হবে।

আপনি ক্যাটরিনা কাইফের মতো ভেষজ হেয়ার অয়েল ব্যবহার করতে পারেন। তাঁর ঘন ও লম্বা চুলের রহস্য হচ্ছে তেল। ১ কাপ নারিকেল তেলের সঙ্গে ১ কাপ পেঁয়াজ, কারিপাতা, ২ চামচ কাঁচা আমলকী, ২ চামচ মেথি একসঙ্গে ফুটিয়ে নিতে হবে। পরে মিশ্রণটি ঠান্ডা হলে ছেঁকে নিতে হবে। এই তেল স্ক্যাল্প ও চুলে ভালো করে মালিশ করতে হবে এবং কয়েক ঘণ্টা রেখে শ্যাম্পু করে ধুয়ে ফেলতে হবে। আগের দিন রাতে যার তেল মেখে ঘুমাতে পারেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বিশ্বকাপ শুরুর প্রাক্কালে স্কোয়াডে রদবদল আর্জেন্টিনার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

শুক্রবার, ১২ই জুন, ২০২৬ ইং

০২:৩৯ এম


বিশ্বকাপ শুরুর প্রাক্কালে স্কোয়াডে রদবদল আর্জেন্টিনার

বিশ্বকাপ শুরুর সময়ে আর্জেন্টিনা বড় ধরনের ধাক্কা খেল। ডান পায়ের কাফ ইনজুরির কারণে অলিম্পিক মার্সেইয়ের তারকা ডিফেন্ডার লিওনার্দো বালের্দি দলের বাইরে চলে গেছেন। ফলে, তিনি প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে সুযোগ পেয়ে খেলতে পারছেন না।

বালের্দির পরিবর্তে ২৯ বছর বয়সী মার্কোস সেনেসিকে দলে অন্তর্ভুক্ত করেছে আর্জেন্টিনা। আজ (১১ জুন) আনুষ্ঠানিকভাবে এই খবর জানিয়েছে আর্জেন্টিনা। টটেনহাম ডিফেন্ডার সেনেসি আগামী কয়েক ঘণ্টার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের কানসাসে আর্জেন্টিনার কন্ডিশনিং ক্যাম্পে যোগ দিতে চলেছেন।

আর্জেন্টিনা আগামী ১৫ জুন আলজেরিয়ার বিরুদ্ধে ম্যাচ দিয়ে বিশ্বকাপে তাদের যাত্রা শুরু করতে চলেছে। সেই ম্যাচের আগে দলে নিজেকে সম্পূর্ণভাবে মানিয়ে নেওয়াই হবে সেনেসির জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ।

বোর্নমাউথের হয়ে গত চার মৌসুম দারুণ কাটিয়েছেন সেনেসি। সদ্য শেষ হওয়া মৌসুমে তার দলের ইউরোপা লিগে উঠতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। তবে ক্লাব পর্যায়ে দুর্দান্ত পারফর্ম করার পরও ২৬ সদস্যের দলে প্রথমে জায়গা পাননি এই ফুটবলার। কিন্তু ভাগ্য সহায় হওয়ায় শেষ পর্যন্ত বিশ্বকাপের মঞ্চে ডাক পেলেন তিনি।

আর্জেন্টিনার সিনিয়র জাতীয় দলের হয়ে ৩টি ম্যাচ খেলা সেনেসির আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের শুরুটা কিছুমাত্র নাটকীয়। ২০২২ সালের ফিনালিসিমার আগে তিনি যখন প্রথমবার জাতীয় দলে ডাক পান, ঠিক সেই সময় ইতালি ফুটবল দলও তাকে ডাক দিয়েছিল। কিন্তু সেনেসি তার মাতৃভূমি আর্জেন্টিনাকেই বেছে নেন। এস্তোনিয়ার বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচে অভিষেকের পর ১০ অক্টোবর ভেনেজুয়েলার বিপক্ষে ১-০ ব্যবধানে জয়ের ম্যাচে পুরো ৯০ মিনিট মাঠে ছিলেন তিনি। সবশেষ ২৭ মার্চ লা বোম্বোনেরায় মৌরিতানিয়ার বিপক্ষে আর্জেন্টিনার হয়ে খেলেছেন তিনি।

সেনেসির অন্তর্ভুক্তির মাধ্যমে আর্জেন্টিনার রক্ষণভাগে নিকোলাস ওটামেন্ডি ও লিসান্দ্রো মার্টিনেজের পাশাপাশি আরও একজন ব্যাক যুক্ত হলো। ফিফার বিধি অনুযায়ী, ইনজুরিতে পড়া বালের্দির জন্য নির্ধারিত ২ নম্বর জার্সি পরে বিশ্বকাপে খেলতে হবে সেনেসিকে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

দ্বিতীয় গোল করে ব্যবধান বাড়াল মেক্সিকো

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

শুক্রবার, ১২ই জুন, ২০২৬ ইং

০২:৪৭ এম


দ্বিতীয় গোল করে ব্যবধান বাড়াল মেক্সিকো

মেক্সিকোকে ২–০ গোলে এগিয়ে দিতে রাউল হিমিনেজ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করলেন। তিনি এই গোলটি করেন ৬৭ মিনিটে। গোল করার এক মিনিট আগে মাঠে নামেন গিলবার্তো মোরা, যিনি বিশ্বকাপ ইতিহাসে মেক্সিকোর সর্বকনিষ্ঠ খেলোয়াড়।

বিস্তারিত আসছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

উচ্চ ব্যয় প্রস্তাব, বাস্তবায়নে সীমাবদ্ধতার শঙ্কা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শুক্রবার, ১২ই জুন, ২০২৬ ইং

০৩:০৮ এম


উচ্চ ব্যয় প্রস্তাব, বাস্তবায়নে সীমাবদ্ধতার শঙ্কা

 

২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটটি কিছু উচ্চাভিলাষী লক্ষ্যকে সামনে রেখে প্রণয়ন করা হয়েছে। দ্রত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, উন্নত স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষাব্যবস্থা এবং বিস্তৃত সামাজিক সুরক্ষা এসব লক্ষ্যের মধ্যে রয়েছে।

যখন ব্যয়ের কাঠামো বিশ্লেষণ করা হয়, তখন বোঝা যায়, সরকার এসব লক্ষ্য অর্জনের জন্য অগ্রাধিকার নির্ধারণের চেষ্টা করেছে। তবে এর ভেতরে কিছু কঠিন আপসও স্পষ্ট হয়ে পড়ে।

মোট সরকারি ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে গেলেও, এর বড় একটি অংশ সুদ পরিশোধ, ভর্তুকি, প্রশাসনিক ব্যয় এবং অন্যান্য নিয়মিত খাতে চলে যায়। এর মানে হল, উন্নয়ন প্রকল্প অথবা নতুন সেবায় ব্যয়ের জন্য সরকারের প্রকৃত অর্থনৈতিক পরিসর তুলনামূলকভাবে সীমিত রয়ে যাচ্ছে।

অর্থাৎ, বাড়তি ব্যয়ের পুরোটা সরাসরি উন্নয়নমূলক কাজে ব্যবহার করা সম্ভব হচ্ছে না। তবে, ব্যয়ের অগ্রাধিকারে কিছু ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা যায়। স্বাস্থ্য, শিক্ষা, সামাজিক কল্যাণ, প্রাথমিক ও কারিগরি শিক্ষায় বরাদ্দ বৃদ্ধি পেয়েছে, যা মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং সামাজিক সুরক্ষাকে গুরুত্ব দেওয়ার ইঙ্গিত দেয়। দীর্ঘ মেয়াদে এটি জীবনমান এবং উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধিতে সহায়ক হতে পারে।

তবুও প্রশ্ন থেকে যায়, এই বাড়তি বরাদ্দ কতটা বাস্তব ফল বয়ে আনবে। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে চ্যালেঞ্জ শুধু অর্থের পরিমাণ নয়, বরং সেই অর্থ কতটা দক্ষভাবে ব্যবহার হচ্ছে। স্বাস্থ্য খাতে ব্যয় তখনই কার্যকর হবে, যখন তা সেবার মানোন্নয়নে প্রতিফলিত হবে। যেমন পর্যাপ্ত চিকিৎসক, ওষুধ সরবরাহ এবং উন্নত সেবা নিশ্চিত করতে হবে। একইভাবে, শিক্ষা খাতে ব্যয় তখনই ফলপ্রসূ হবে, যখন তা শিক্ষার মান এবং কর্মসংস্থানের উপযোগিতা বাড়াবে।

সামাজিক সুরক্ষা কার্যক্রমও কার্যকর হবে, যখন সহায়তা সঠিক সময়ে সঠিক মানুষের কাছে পৌঁছে যাবে। প্রবৃদ্ধি অর্জন নিয়েও একটি বড় চ্যালেঞ্জ রয়েছে। সরকার একদিকে প্রবৃদ্ধি বাড়াতে চায়, অন্যদিকে মূল্যস্ফীতি কমাতেও চায়। কিন্তু বর্তমান অর্থনৈতিক দুর্বলতার বড় একটি অংশ সরবরাহজনিত, যেমন—জ্বালানি সংকট, ঋণ প্রাপ্তির জটিলতা, আমদানি সীমাবদ্ধতা এবং কাঠামোগত দুর্বলতা। এই পরিস্থিতিতে, কেবল সরকারি ব্যয় বৃদ্ধি কাঙ্ক্ষিত প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে যথেষ্ট নাও হতে পারে, যদি না উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য এসব বাধা দূর করা যায়।

পরিশেষে, নাগরিকরা বাজেটকে ব্যয়ের অঙ্ক দিয়ে নয়, বরং এর ফলাফলের ভিত্তিতে মূল্যায়ন করবে। হাসপাতালের সেবা, শিক্ষার মান, সামাজিক সহায়তার কার্যকারিতা এবং অর্থনৈতিক সুযোগ বৃদ্ধি—এসব ক্ষেত্রে বাজেটের প্রকৃত সাফল্য নির্ধারিত হবে। ব্যয়ের পরিকল্পনা সরকারের অগ্রাধিকার তুলে ধরে, কিন্তু চূড়ান্ত পরীক্ষা হলো—এই বরাদ্দ বাস্তবে মানুষের জীবনে কতটা পরিবর্তন আনতে পারে।

লেখক : বিশ্বব্যাংকের ঢাকা কার্যালয়ের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%