০৭:৪৭ পি.এম
রাজশাহীর পদ্মা নদীতে যাত্রীবাহী একটি ইঞ্জিনচালিত নৌকা ডুবে যাওয়ার ঘটনার পর ছয়জনকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হলেও নিখোঁজ রয়েছেন বাবা ও ছেলে।
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) দুপুর ১২টা ৪০ মিনিটে নগরীর পদ্মা নদীর মাঝামাঝি এলাকায় এই দুর্ঘটনাটি ঘটে। নিখোঁজদের উদ্ধারে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের ডুবুরি দল অভিযান চালিয়েছে।
নিখোঁজ ব্যক্তিরা হলেন কাটাখালী থানার শ্যামپور বালুরঘাট এলাকার বাসিন্দা মো. আফছার আলী এবং তাঁর ছেলে মোঃ জিয়ারুল হক।
আরও পড়ুন: ভাণ্ডারিয়ায় যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন, র্যালি ও সমাবেশ
স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, মঙ্গলবার দুপুরে চর মাজারদিয়া এলাকা থেকে ঝাউগাছ বোঝাই করে আটজন যাত্রী নিয়ে একটি ইঞ্জিনচালিত নৌকা লালন শাহ মুক্তমঞ্চ এলাকায় রওনা দেয়। নৌকাটি নদীর মাঝামাঝি পৌঁছালে হঠাৎ বড় ঢেউয়ের কবলে পড়ে ভারসাম্য হারিয়ে ডুবে যায়। মুহূর্তেই নৌকার যাত্রীরা নদীতে ছিটকে পড়ে যান।
দুর্ঘটনার বিষয়টি দেখার পর পদ্মা গার্ডেন সংলগ্ন এলাকায় অবস্থানরত অন্যান্য নৌকার মাঝি ও স্থানীয় লোকজন দ্রুত উদ্ধার কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করেন। তাদের তাৎক্ষণিক উদ্যোগে ছয়জনকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হলেও আফছার আলী ও তাঁর ছেলে জিয়ারুল হক নদীর তীব্র স্রোতে নিখোঁজ হন।
খবর পেয়ে রাজশাহী ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের ডুবুরি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। সর্বশেষ খবর অনুযায়ী, নিখোঁজ বাবা ও ছেলের সন্ধান এখনও মেলেনি। একই সঙ্গে ডুবে যাওয়া নৌকাটির অবস্থানও শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। উদ্ধারকারী দল নদীর সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে তল্লাশি চালিয়ে যাচ্ছে।
রাজশাহী ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপ-পরিচালক মঞ্জিল হক বলেন, "দুর্ঘটনার সংবাদ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আমাদের ডুবুরি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। নিখোঁজ দুই ব্যক্তিকে উদ্ধারে সর্বোচ্চ চেষ্টা চলছে। নদীর স্রোত ও পানির গভীরতার কারণে অভিযান কিছুটা চ্যালেঞ্জিং হলেও আমরা নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করে যাচ্ছি।"
আরও পড়ুন: নাটোরের বড়াইগ্রামে প্রাচীন রামাগাড়ী কাচারীঘরের জমি অবৈধ দখলের অভিযোগ, বিলুপ্তির পথে ঐতিহ্য
এদিকে, নৌকাডুবির খবর পেয়ে রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মাহফুজুর রহমান রিটন ঘটনাস্থলের সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দিয়েছেন। পরে রাজশাহী সিটি করপোরেশনের একটি প্রতিনিধি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে উদ্ধার কার্যক্রমের অগ্রগতি সম্পর্কে খোঁজখবর নেয়।
প্রতিনিধি দলটি ফায়ার সার্ভিস, জেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট উদ্ধারকারী সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দেয়। পরিদর্শনকালে রাজশাহী সিটি করপোরেশনের সচিব সোহেল রানা, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের বিভাগীয় উপ-পরিচালক মঞ্জিল হক, সহকারী জনসংযোগ কর্মকর্তা মোঃ রকিবুল হক তুহিন এবং তথ্য সহকারী ফজলে রাব্বি সহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
স্থানীয়দের দাবী, পদ্মা নদীতে বর্ষা মৌসুমে তীব্র স্রোত ও বড় ঢেউয়ের কারণে নৌযান চলাচলে বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন। তারা এ ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে নৌযানের ধারণক্ষমতা অনুসরণ, প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা সরঞ্জামের নিশ্চয়তা এবং প্রতিকূল আবহাওয়ায় চলাচলে সতর্কতা জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত বিকাল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত উদ্ধার কার্যক্রম অব্যাহত ছিল।
আরও পড়ুন: ত্রিশালে বিশ্ব হাত ধোয়া দিবসে র্যালি ও দোয়া প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন