ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

করতোয়া নদীর ঘাটে সেতু না থাকায় তিন উপজেলার লাখো মানুষের দুর্ভোগ


করতোয়া নদীর ঘাটে সেতু না থাকায় তিন উপজেলার লাখো মানুষের দুর্ভোগ

রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার করতোয়া নদীর গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি ঘাটে সেতু না থাকার কারণে তিন উপজেলার লাখো মানুষ বছরের পর বছর ধরে দুর্ভোগে রয়েছে। স্কুল কলেজের শিক্ষার্থী, পথচারী, কৃষক, শ্রমজীবী মানুষ ও বরযাত্রীদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এসব ঘাটে নৌকায় নদী পারাপার করতে হচ্ছে। সেতু না থাকা এই এলাকার মানুষের কাছে দুর্ভোগের আরেক নাম হয়ে দাঁড়িয়েছে।

করতোয়া নদী পীরগঞ্জ, নবাবগঞ্জ ও ঘোড়াঘাট উপজেলার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। নদীর ১১ ঘাটের মধ্যে বাংলাদেশ সরকারের উদ্যোগে তিনটি স্থানে বড় সেতু নির্মাণ করা হয়েছে। কিন্তু বাকি গুরুত্বপূর্ণ ঘাটগুলোতে সেতু না থাকায় স্থানীয় বাসিন্দারা প্রতিদিনই ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। কোথাও নৌকায়, আবার কোথাও বাঁশের সাঁকো কিংবা অস্থায়ী ব্যবস্থায় নদী পারাপার হতে হচ্ছে তাঁদের।

সাতপাড়া ঘাট, কুমারপুর ঘাট, কুয়েতপুর হামিপুর ঘাট, কুলানন্দপুর ঘাট, বড় আলমপুর ইউনিয়নের হোসেনপুরের ঘাট, রামনাথপুর শালকেদহ ঘাট, শালপাড়া ঘাট এবং টুকুরিয়া ইউনিয়নের যাতের ঘাট গুরুত্বপূর্ণ পারাপারের স্থান হিসেবে পরিচিত। এসব ঘাট দিয়ে প্রতিদিন তিন উপজেলার মানুষ যাতায়াত করেন। নৌকায় গরু-ছাগল, নছিমন, ভ্যান, রিকশা ও মোটরসাইকেল পারাপারের ঘটনাও ঘটে। ফলে নানা ঝুঁকি নিয়ে নদী পার হতে হয় অনেককে।

আরও পড়ুন: ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচন: সকাল হলে ভাগ্য নির্ধানের পালা

বুধবার দুপুরে একটি ঘাটের মাঝির সঙ্গে কথা হলে তিনি জানান, "নৌকার মাধ্যমে নিয়মিত মানুষকে নদী পারাপার করা হয়। তবে পারাপারের সময় ছোটখাটো দুর্ঘটনা ঘটে থাকে। বড় ধরনের দুর্ঘটনা তুলনামূলক কম ঘটলেও ঝুঁকি থেকেই যায় যখন নদীতে পানি বেশি হয়।"

স্থানীয়রা জানান, করতোয়া নদীর একটি বড় অংশ পীরগঞ্জ উপজেলার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। নদীর দুই পাড়ে তিন উপজেলার মানুষের কৃষিজমি থাকায় চাষাবাদের প্রয়োজনে কৃষকদের নিয়মিত নদী পার হতে হয়। ব্যবসা-বাণিজ্য, শিক্ষা, চিকিৎসাসহ নানা কাজে মানুষ এসব ঘাট ব্যবহার করেন। জনসংখ্যা ও যাতায়াতের চাপ দিন দিন বাড়লেও স্থায়ী সেতু নির্মাণের অভাবে দুর্ভোগ কমছে না।

স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, গুরুত্বপূর্ণ ঘাটগুলোতে সেতু নির্মাণ করা হলে তিন উপজেলার মানুষের যাতায়াতব্যবস্থা সহজ হবে। কৃষকেরা দ্রুত উৎপাদিত ফসল বাজারজাত করতে পারবেন। এতে কৃষিপণ্য পরিবহন, আমদানি রপ্তানি ও ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার ঘটবে। পাশাপাশি তিন উপজেলার মানুষের মধ্যে সামাজিক যোগাযোগ ও আত্মীয়তার সম্পর্ক আরও বাড়বে।

পথচারী মোনারুল ইসলাম, আশরাফুল ইসলাম ও মাজেদুল ইসলাম বলেন, "এসব ঘাটে সেতু বা (পুল) নির্মাণ করা হলে মানুষের দুর্ভোগ অনেকটাই কমে আসবে। বর্তমানে নদী পারাপারে সময় ও অর্থ দুটোই ব্যয় হচ্ছে। বিশেষ করে কৃষকদের উৎপাদিত ফসল পরিবহনে নানা সমস্যার মুখে পড়তে হয়। স্থায়ী সেতু বা (পুল) নির্মাণ করা হলে এলাকার মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নত হবে।"

আরও পড়ুন: বালিয়াডাঙ্গীতে পতিলাভাষা যুব সমাজের উদ্যোগে তাফসিরুল কুরআন মাহফিল অনুষ্ঠিত

নৌকার মাঝিরা জানান, প্রতিবছর সরকারি নিয়মে ঘাটগুলো ইজারা দেওয়া হয়। নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে সর্বোচ্চ দরদাতাকে এক বছরের জন্য ঘাটের দায়িত্ব দেওয়া হয়। ফলে এসব ঘাট দিয়ে নৌকায় পারাপারের জন্য যাত্রীদের নির্ধারিত অর্থ দিতে হয়।

চতরা ইউনিয়নের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও সমাজ সেবক হাবিবুর রহমান হাবিব বলেন, "তাঁর গ্রামের বাড়ি করতোয়া নদীর তীরে। ফলে নদী পারাপারের কষ্ট তিনি ভালোভাবেই জানেন। একজন রোগীকে দ্রুত স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া প্রয়োজন হলেও অনেক সময় ঘাটে নৌকা থাকলেও মাঝি পাওয়া যায় না। আবার মাঝি ও নৌকা দুটোই থাকলেও অপেক্ষা করতে গিয়ে মূল্যবান সময় নষ্ট হয়। ব্যবসায়ীরা সময়মতো মালামাল মোকামে নিতে পারেন না। এসব সমস্যা সমাধানে গুরুত্বপূর্ণ ঘাটগুলোতে সেতু নির্মাণ করা প্রয়োজন। এতে কৃষক, ব্যবসায়ী, রোগীসহ সব শ্রেণি পেশার মানুষ উপকৃত হবেন।"

সচেতন মহল ও শিক্ষকদের ভাষ্য, টাকা দিয়ে নদী পারাপার হতে হলেও অনেক সময় দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়। নৌকায় পর্যাপ্ত যাত্রী না উঠলে মাঝিরা অনেক ক্ষেত্রে নৌকা ছাড়তে চান না। এতে শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী, কৃষক ও সাধারণ যাত্রীদের মূল্যবান সময় নষ্ট হয়। জরুরি প্রয়োজনে নদী পারাপারেও ভোগান্তি পোহাতে হয়।

তাঁদের মতে, করতোয়া নদীর গুরুত্বপূর্ণ ঘাটগুলোতে সেতু নির্মাণ এখন সময়ের দাবি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় সমীক্ষা করে এসব স্থানে সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নিলে তিন উপজেলার মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ লাঘব হবে। একই সঙ্গে কৃষি, ব্যবসা-বাণিজ্য ও যোগাযোগব্যবস্থায় নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে।

আরও পড়ুন: কাউনিয়া থানা পুলিশের সাঁড়াশি অভিযান, টার্গেটে মাদক ব্যবসায়ী ও কিশোর গ্যাং

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বিকিনি পরতে অস্বস্তি বোধ করেন রাশমিকা, জানান চরিত্রের প্রয়োজনে পরেন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বিনোদন ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ২২শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৩:৫১ পি.এম


বিকিনি পরতে অস্বস্তি বোধ করেন রাশমিকা, জানান চরিত্রের প্রয়োজনে পরেন

অভিনেত্রী রাশমিকা মান্দানা বিকিনি বা শরীরের অধিকাংশ অংশ প্রকাশ করে এমন পোশাক পরতে অস্বস্তি অনুভব করেন। তিনি জানান, যদি কোনো চরিত্রের জন্য এমন পোশাক পরতে হয়, তাহলে নিজের অস্বস্তির কথা জানাতে চান। তবে সিনেমায় কাজ করার পর পোশাক বা দৃশ্য নিয়ে আপত্তি জানানো সহজ নয়। সম্প্রতি, তিনি স্বামী ও অভিনেতা বিজয় দেবেরাকোন্ডার সঙ্গে এক অনুষ্ঠানে এই বিষয়ে আলোচনা করেন।

বিজয় ও রাশমিকা ‘কফি উইথ করণ’-এর নবম মৌসুমে করণ জোহরের সঞ্চালনায় উপস্থিত ছিলেন। সেখানে তারা অভিনয়শিল্পীদের ব্যক্তিগত সীমারেখা, খোলামেলা পোশাক এবং দৃশ্য নিয়ে অস্বস্তি প্রকাশের স্বাধীনতা নিয়ে আলোচনা করেন।

রাশমিকা বলেন, বাণিজ্যিক সিনেমায় অনেক সময় এমন পোশাক পরতে হয়, যা তার ব্যক্তিগত পছন্দের সঙ্গে মেলে না। তবে চরিত্রের প্রয়োজনে সবকিছু মেনে নেওয়া উচিত বলে তিনি মনে করেন না।

এ প্রসঙ্গে রাশমিকা মন্তব্য করেন, "কিছু বিষয় আছে, যেগুলোতে আমি স্বচ্ছন্দ নই। আমি জানি, কিছু চরিত্রের প্রয়োজনে বিকিনি বা এ ধরনের পোশাক দরকার হতে পারে। কিন্তু এমন ক্ষেত্রেও আমি বলব, শরীরের বেশি অংশ প্রকাশ পায়—এমন পোশাকে আমি অস্বস্তি বোধ করি। আমি সে ধরনের মানুষ নই।"

তিনি তার পছন্দ ও অপছন্দের বিষয়ে স্পষ্ট অবস্থান রাখেন। তার ভাষ্য, বাণিজ্যিক সিনেমায় কিছু পোশাক থাকতে পারে, যেগুলো পরতে তিনি পুরোপুরি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন না। তবে তিনি নিজের জন্য কিছু সীমারেখা ঠিক করে রেখেছেন। সাধারণত তিনি সেই পরিচালকদের সঙ্গেই কাজ করতে পছন্দ করেন, যারা তার সিদ্ধান্তকে সম্মান করেন।

বিজয় রাশমিকার সঙ্গে একমত পোষণ করে বলেন, কোনো দৃশ্য বা পোশাক নিয়ে আপত্তি জানানোর মতো পরিবেশ তৈরি করা জরুরি। কারণ, সিনেমায় কাজ করতে রাজি হওয়ার পর অনেক অভিনয়শিল্পী নিজেদের অস্বস্তির কথা জানাতে গিয়ে পেশাদারিত্ব নিয়ে প্রশ্নের মুখে পড়ার আশঙ্কা করেন।

বিজয়ের মতে, সিনেমায় চুক্তিবদ্ধ হওয়ার পর অভিনয়শিল্পীরা ভাবতে পারেন, নির্দিষ্ট দৃশ্য বা পোশাকে আপত্তি জানালে অন্যরা তাদের দায়িত্ব পালনে অনীহা আছে বলে মনে করবেন। এই চাপের কারণে অনেক সময় তারা নিজেদের অস্বস্তি উপেক্ষা করে রাজি হয়ে যান।

বিজয় বলেন, "নিজের অবস্থানে অনড় থাকা যে ঠিক, সে কথা বলার জন্য অভিনয়শিল্পীদের পাশে কাউকে থাকা দরকার। তাদের এমনভাবে বলা হতে পারে, ‘তুমি তো অভিনেত্রী, এই সিনেমায় কাজ করতে রাজি হয়েছ। এটা কি তোমার কাজ নয়?’ তখন তারা ভাবতে শুরু করেন, তারা কি পেশাদার নন? একপর্যায়ে বিষয়টি বড় করে দেখতে চান না এবং আশা করেন, সব ঠিক থাকবে। কিন্তু পরে বিষয়টি প্রকাশ্যে এলে তাদের মনে হয়, তখনই আপত্তি জানানো উচিত ছিল।"

রাশমিকা স্বীকার করেন, কোনো দৃশ্যে অভিনয় করতে না চাইলে পরিচালককে সরাসরি ‘না’ বলা তার জন্যও কঠিন। অনেক সময় তিনি নিজের অস্বস্তির কথা জানাতে দ্বিধায় পড়েন। এই ক্ষেত্রে বিজয়ের সঙ্গে কথা বলে সাহস পান।

রাশমিকার কথায়, "অভিনয়শিল্পীদের এমন পরিবেশ দিতে হবে, যেখানে তারা সহজেই প্রশ্ন করতে পারবেন। আমারও কখনো কখনো বলতে কষ্ট হয়, আমি এটা করতে চাই না। তখন বিজয়ের সঙ্গে অনেকবার কথা বলতে হয়। আমি তাকে বলি, বিষয়টি জানাতে চাই। সে বলে, “তুমি বলতে পারো। অবশ্যই বলা উচিত।”"

অভিনয়শিল্পীদের কাজের ক্ষেত্রে পেশাদারির পাশাপাশি ব্যক্তিগত স্বাচ্ছন্দ্য ও সম্মতিকেও গুরুত্ব দেওয়ার বিষয়টি আলোচনায় তুলে ধরেছেন বিজয় ও রাশমিকা। তাদের মতে, কোনো পোশাক বা দৃশ্য নিয়ে অস্বস্তি থাকলে তা প্রকাশের সুযোগ থাকা জরুরি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সরকারের ৫৯২ কোটি টাকায় তিতাসে দুই কূপ খনন, যুক্ত হবে বিপুল গ্যাস

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ২২শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৩:৫২ পি.এম


সরকারের ৫৯২ কোটি টাকায় তিতাসে দুই কূপ খনন, যুক্ত হবে বিপুল গ্যাস

সরকার দেশের অভ্যন্তরীণ বৃহত্তম গ্যাস উৎপাদন ক্ষেত্র তিতাসে দুটি উন্নয়ন ও অনুসন্ধানমূলক কূপ খননের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। এই প্রকল্পের জন্য ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে ৫৯২ কোটি টাকা।

কূপ দুটি চালু হলে জাতীয় গ্রিডে দৈনিক প্রায় ৩০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস যুক্ত হবে।

‘তিতাস গ্যাসক্ষেত্রে দুটি অনুসন্ধানমূলক ও উন্নয়ন কূপ (তিতাস-৩২ ও তিতাস-৩৩) খনন’— শীর্ষক প্রকল্পটির সঙ্গে যুক্ত এক কর্মকর্তা বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) জানান, প্রকল্পটি অনুমোদনের জন্য আগামী ২৫ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় উপস্থাপন করা হবে।

বাংলাদেশ সচিবালয়ে আগামী ২৫ অক্টোবর অনুষ্ঠিতব্য সভায় সভাপতিত্ব করবেন একনেকের চেয়ারপারসন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের অধীনে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে পেট্রোবাংলার কোম্পানি বাংলাদেশ গ্যাস ফিল্ডস কোম্পানি লিমিটেড (বিজিএফসিএল)।

পেট্রোবাংলার এক কর্মকর্তা জানান, প্রকল্পটির বাস্তবায়নকাল ২০২৬ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৯ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে।

তিনি বলেন, প্রকল্পের মোট ব্যয়ের মধ্যে সরকারি অর্থায়ন থেকে ৪১৪ কোটি ৪০ লাখ টাকা এবং কোম্পানির নিজস্ব তহবিল থেকে ১৭৭ কোটি ৬০ লাখ টাকা জোগান দেওয়া হবে।

পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান আব্দুল মান্নান জানান, নতুন দুটি কূপ থেকে দৈনিক প্রায় ৩০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উৎপাদনের আশা করা হচ্ছে। কূপ দুটি থেকে কনডেনসেটও পাওয়া যাবে।

তিনি বলেন, নতুন কূপ দুটির গ্যাস জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ বাড়াতে সহায়তা করবে। পাশাপাশি ১৮ ব্যারেল কনডেনসেট পাওয়া যাবে। সরকার নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী আরও গ্যাসকূপ খননের উদ্যোগ নিয়েছে। এর ফলে আমদানি করা তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) ওপর নির্ভরতা কমবে।

আব্দুল মান্নান উল্লেখ করেন, দেশে গ্যাসের উৎপাদন বাড়াতে ২০৩১ সালের মধ্যে ১৫০টি কূপ খননের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সরকার। এরপর ২০৩১ সাল থেকে ২০৩৫ সালের মধ্যে আরও ১৫০টি কূপ খনন করা হবে। এর মাধ্যমে দেশের নিজস্ব গ্যাস উৎপাদনকে আরও শক্তিশালী করা হবে।

প্রকল্প প্রস্তাব অনুযায়ী, কূপ দুটি থেকে ১০ বছরে প্রায় ১০০ দশমিক ৭৪ বিলিয়ন ঘনফুট (বিসিএফ) গ্যাস ও ৬০ হাজার ৪৪৪ ব্যারেল কনডেনসেট উৎপাদন করা সম্ভব হতে পারে।

কোম্পানির বর্তমান উৎপাদনস্থলের মূল্য (ওয়েলহেড প্রাইস) অনুযায়ী, উৎপাদিত গ্যাস ও কনডেনসেটের আনুমানিক মূল্য দাঁড়াবে ৩৩৯ কোটি ৭ লাখ টাকা। এর মধ্যে গ্যাসের মূল্য ২৮৫ কোটি ২৬ লাখ টাকা এবং কনডেনসেটের মূল্য ৫৩ কোটি ৮১ লাখ টাকা।

অন্যদিকে, ভোক্তা পর্যায়ের গ্যাসের দাম বিবেচনায় নিলে একই সময়ে উৎপাদিত গ্যাসের আনুমানিক মূল্য দাঁড়াবে ৬ হাজার ৫২৩ কোটি ৯৭ লাখ টাকা।

বিজিএফসিএল বর্তমানে তাদের ছয়টি উৎপাদনশীল গ্যাসক্ষেত্রের মধ্যে পাঁচটি থেকে জাতীয় গ্রিডে দৈনিক প্রায় ৪৮০ থেকে ৪৮৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করছে।

কোম্পানিটির সবচেয়ে বড় তিতাস গ্যাসক্ষেত্রের খনন করা ২৮টি কূপের মধ্যে ২৩টি থেকে দৈনিক প্রায় ৩৩০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উৎপাদিত হচ্ছে।

২০১০ থেকে ২০১২ সালের মধ্যে তিতাস ও বাখরাবাদ গ্যাসক্ষেত্রে সংগৃহীত ত্রিমাত্রিক ভূকম্পন জরিপের তথ্য পর্যালোচনার ভিত্তিতে প্রকল্পটি নেওয়া হয়েছে। এসব তথ্য পর্যালোচনার জন্য বিজিএফসিএল চায়না ন্যাশনাল পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (সিএনপিসি) প্রতিষ্ঠান বিজিপি ইনকরপোরেটেডকে নিয়োগ দিয়েছিল। পরামর্শক প্রতিষ্ঠানটি ওই দুই গ্যাসক্ষেত্রে ১৬টি নতুন কূপ ও সাতটি গভীর কূপ খননের সুপারিশ করে।

দেশীয় গ্যাস উৎপাদন বাড়াতে স্থলভাগে ১৫০টি গ্যাসকূপ খননের সরকারি পরিকল্পনার আওতায় তিতাস-৩২ ও তিতাস-৩৩ কূপ দুটিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।

প্রকল্পের আওতায় বিদেশি ঠিকাদারের মাধ্যমে কূপ দুটি খনন, দেশি ও বিদেশি পরামর্শক নিয়োগ, গ্যাস সংগ্রহের পাইপলাইন স্থাপন এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য কাজ করা হবে।

ইনফ্রাস্ট্রাকচার ইনভেস্টমেন্ট ফ্যাসিলিটেশন কোম্পানি (আইআইএফসি) ২০২৬ সালে প্রকল্পটির সম্ভাব্যতা সমীক্ষা পরিচালনা করে।

পরিকল্পনা কমিশন বলেছে, প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে এলএনজি আমদানি কমিয়ে বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়ের পাশাপাশি দেশীয় গ্যাস উৎপাদন ও শিল্পোন্নয়নে সহায়তা করবে।

২০২৬ সালের ১৮ জুন অনুষ্ঠিত প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) সভায় প্রকল্পের ব্যয় যৌক্তিক পর্যায়ে নামিয়ে আনার সুপারিশ করা হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে প্রকল্পের প্রাক্কলিত ব্যয় প্রাথমিক প্রস্তাবের ৬৩২ কোটি টাকা থেকে ৪০ কোটি টাকা কমিয়ে ৫৯২ কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। সূত্র: বাসস

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কক্সবাজারে নানা আয়োজনে জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস পালিত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ২২শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৩:৫৩ পি.এম


কক্সবাজারে নানা আয়োজনে জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস পালিত

কক্সবাজারে বিভিন্ন আয়োজনের মাধ্যমে জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস পালন করা হয়েছে। এই দিবস উপলক্ষে একটি বর্ণাঢ্য র‌্যালি এবং সড়ক নিরাপত্তা বিষয়ক সচেতনতামূলক প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সকালে জেলা প্রশাসন এবং নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা) কক্সবাজার জেলা শাখার যৌথ উদ্যোগে এসব কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

কর্মসূচির উদ্বোধনের পর কক্সবাজার বাস টার্মিনাল থেকে একটি র‌্যালি বের করা হয়। র‌্যালিটি টার্মিনালের বিভিন্ন এলাকা প্রদক্ষিণ করে। পরে বাস টার্মিনালে সড়ক নিরাপত্তা বিষয়ক সচেতনতামূলক প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শিত হয়। এতে সড়কে চলাচলের নিয়মকানুন, দুর্ঘটনা প্রতিরোধ এবং নিরাপদ যাতায়াতের বিষয়ে সচেতনতা সৃষ্টির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জেলা তথ্য অফিসার মোহাম্মদ আবদু ছাত্তার, কক্সবাজার বিআরটিএর সহকারী পরিচালক (ইঞ্জিনিয়ার) মোহাম্মদ কামরুজ্জামান, ট্রাফিক পুলিশের কর্মকর্তা জানে আলম ভূঁইয়া, নিসচা কক্সবাজার জেলা শাখার সভাপতি জসিম উদ্দিন কিশোর, সাধারণ সম্পাদক হাকিম আলী, উপদেষ্টা নুরুল ইসলাম হেলালী ও মোয়াজ্জেম হোসাইন সাকিল, সহসভাপতি নুরুল আমিন ও আমিরুল ইসলাম দুলু, সাংবাদিক শামসুল হক শারেক, সাংবাদিক মোর্শেদুর রহমান খোকনসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধের জন্য চালক, যাত্রী ও পথচারীদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সড়কে আইন মেনে চলার গুরুত্ব তুলে ধরতেই এই দিবসের কর্মসূচিগুলি আয়োজন করা হয়েছে। নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সবার দায়িত্বশীল আচরণ ও সম্মিলিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আলোচিত ৭ খুনের মামলার আপিল শুনানি ১৭ নভেম্বর, ফাঁসির অপেক্ষায় নরঘাতক নুর হোসেন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ২২শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৩:৫৪ পি.এম


আলোচিত ৭ খুনের মামলার আপিল শুনানি ১৭ নভেম্বর, ফাঁসির অপেক্ষায় নরঘাতক নুর হোসেন

নারায়ণগঞ্জের সাত খুন হত্যা মামলার প্রধান আসামী নূর হোসেনের মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখার প্রত্যাশা নিহত পরিবারগুলোর। তারা আশা করছেন, ১২ বছর আগে ঘটে যাওয়া এই আলোচিত হত্যা মামলার আপিল বিভাগের শুনানি ১৭ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হবে। আপিল বিভাগ যেন মৃত্যুদণ্ডের রায় বহাল রাখে।

নারায়ণগঞ্জের সাত খুন মামলার আপিল শুনানির জন্য ১৭ নভেম্বর তারিখ নির্ধারণ করেছে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত। মামলাটি দীর্ঘদিন ধরে সর্বোচ্চ আদালতে বিচারাধীন রয়েছে এবং এর আপিল দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

গত ১৮ অক্টোবর, সুপ্রিম কোর্টের চেম্বার বিচারপতি মো. রেজাউল হক মামলাটির শুনানির জন্য আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে এ দিন নির্ধারণ করেন। একই দিনে সুপ্রিম কোর্টে সাংবাদিকদের সাথে কথা বলেন অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল। তিনি জানান, নারায়ণগঞ্জের সাত খুনসহ দেশের অন্যান্য আলোচিত হত্যা মামলার আপিল দ্রুত শুনানির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, আলোচিত এসব হত্যা মামলায় হাইকোর্টের রায়ের পর আপিল বিভাগে শুনানির অপেক্ষায় রয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের চলমান অবকাশকালীন ছুটি শেষে নিয়মিত আদালতের কার্যক্রম শুরু হলে মামলাগুলোর দ্রুত শুনানির ব্যবস্থা করা হবে।

২০১৪ সালের ২৭ এপ্রিল, ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডের ফতুল্লার লামাপাড়া এলাকা থেকে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলামসহ ৭ জনকে অপহরণের তিনদিন পর তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

এই ঘটনায় নিহত হন নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ২নং ওয়ার্ডের তৎকালীন কাউন্সিলর ও প্যানেল মেয়র-২ নজরুল ইসলাম, তার বন্ধু মনিরুজ্জামান স্বপন, তাজুল ইসলাম, লিটন, নজরুলের গাড়িচালক জাহাঙ্গীর আলম, আইনজীবী চন্দন কুমার সরকার এবং তার গাড়িচালক ইব্রাহিম।

সাত খুনের ঘটনায় প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলাম ও তার ৪ সহকর্মীর হত্যার ঘটনায় তার স্ত্রী সেলিনা ইসলাম বিউটি ফতুল্লা থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। পাশাপাশি আইনজীবী চন্দন সরকার ও তার গাড়ির চালক ইব্রাহিম হত্যার ঘটনায় জামাতা বিজয় কুমার পাল একই থানায় আরেকটি মামলা করেন।

দুটি মামলার বিচারিক কার্যক্রম একসঙ্গে শেষ করে ২০১৭ সালের ১৬ জানুয়ারি, নুর হোসেন ও তৎকালীন র‌্যাবের বরখাস্তকৃত তিন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ ২৬ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেন নারায়ণগঞ্জের জেলা ও দায়রা জজ সৈয়দ এনায়েত হোসেনের আদালত। ৩৫ জন আসামির মধ্যে বাকি ৯ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়। আসামিরা পরে আপিল করেন এবং ডেথ রেফারেন্স (মৃত্যুদণ্ডাদেশ অনুমোদনের জন্য নথি) হাইকোর্টে পাঠানো হয়।

এরপর, হাইকোর্টের ডেথ রেফারেন্স শাখা থেকে মামলার সব নথি বিজি প্রেসে পাঠানো হয়। বিজি প্রেস পেপারবুক প্রস্তুত করে একই বছরের ০৭ মে হাইকোর্টে পাঠায়। একই বছরের ২২ মে থেকে আপিল ও ডেথ রেফারেন্সের শুনানি শুরু হয়। উভয়পক্ষের শুনানি ৩৩ কার্যদিবসে অনুষ্ঠিত হয়।

২০১৭ সালের ২২ আগস্ট, হাইকোর্ট রায় দেন। রায়ে বিচারিক আদালতের মৃত্যুদণ্ডাদেশপ্রাপ্ত ২৬ আসামির মধ্যে ১৫ জনের মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখা হয় এবং বাকি ১১ জনের সাজা কমিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। এ মামলার মোট ৩৫ আসামির মধ্যে বাকি ৯ জনের বিভিন্ন মেয়াদের কারাদণ্ডও বহাল রাখেন হাইকোর্ট।

মৃত্যুদণ্ড বহাল থাকা আসামিদের মধ্যে রয়েছেন নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের (নাসিক) সাবেক কাউন্সিলর নূর হোসেন এবং র‌্যাব-১১ (বর্তমানে এরআরবি) এর চাকরিচ্যুত তিন কর্মকর্তা, সাবেক অধিনায়ক লে. কর্নেল (অব.) তারেক সাঈদ মুহাম্মদ, মেজর (অব.) আরিফ হোসেন এবং লে. কমান্ডার (অব.) মাসুদ রানা।

অন্যদিকে, ১১ জনের ফাঁসির আদেশ বহাল রয়েছে, তারা হলেন র‌্যাবের চাকরিচ্যুত সাবেক হাবিলদার মো. এমদাদুল হক, ল্যান্সনায়েক হীরা মিয়া, আরওজি-১ এ বি মো. আরিফ হোসেন, ল্যান্সনায়েক বেলাল হোসেন, সিপাহী আবু তৈয়্যব আলী, কনস্টেবল শিহাব উদ্দিন, এসআই পুর্ণন্দু বালা, সৈনিক আবদুল আলীম, সৈনিক মহিউদ্দিন মুন্সী, সৈনিক আলামিন শরীফ এবং সৈনিক তাজুল ইসলাম।

বিচারিক আদালতে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড পাওয়া ৯ জনও র‌্যাবের বরখাস্তকৃত কর্মকর্তা ও সদস্য। তাদের মধ্যে কনস্টেবল হাবিবুর রহমানের ১৭ বছর, এএসআই আবুল কালাম আজাদ, এএসআই কামাল হোসেন, কনস্টেবল বাবুল হাসান, কর্পোরাল মোখলেসুর রহমান, ল্যান্স কর্পোরাল রুহুল আমিন এবং সিপাহী নুরুজ্জামানের ১০ বছর করে এবং এএসআই বজলুর রহমান ও হাবিলদার নাসির উদ্দিন ৭ বছর করে কারাদণ্ডাদেশ বহাল রাখেন উচ্চ আদালত। পরে আসামিরা আপিল করেন উচ্চ আদালতে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৫
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%