ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২২শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৬ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১১ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বৃহস্পতিবার, ২২শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৬ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

পারমাণবিক বোমা পরীক্ষা স্থগিত রাখার আহ্বান জাতিসংঘ মহাসচিবের


পারমাণবিক বোমা পরীক্ষা স্থগিত রাখার আহ্বান জাতিসংঘ মহাসচিবের

পারমাণবিক অস্ত্রের পরীক্ষা বিশ্বে বিশ্বাসের সংকট সৃষ্টি করে, এজন্য জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বিশ্বের সকল পারমাণবিক শক্তিধর দেশকে পরীক্ষা স্থগিত রাখার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন। শনিবার (২৯ আগস্ট) আনাদোলু এজেন্সির একটি প্রতিবেদনে এই তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।

গুতেরেস এক বার্তায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ উল্লেখ করেন, অতীতের পারমাণবিক পরীক্ষার ফলে বেঁচে থাকা জনগণের মধ্যে প্রতারণার অনুভূতি তৈরি হয়। তিনি বিশ্বনেতাদের প্রতি আহ্বান জানান যেন সার্বিক পারমাণবিক পরীক্ষা নিষেধাজ্ঞা চুক্তি (সিটিবিটি) অবিলম্বে কার্যকর করা হয়।

জাতিসংঘ মহাসচিবের এই আহ্বানটি রাশিয়া একটি আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের সফল পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণ করার পর এসেছে। রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, আরখাংগেলস্ক অঞ্চলের প্লেসেটস্ক কসমোড্রোম থেকে উৎক্ষিপ্ত কঠিন জ্বালানি চালিত ক্ষেপণাস্ত্রটি দূর প্রাচ্যের কামচাতকার কুরা প্রশিক্ষণ এলাকায় তার নির্ধারিত লক্ষ্যে পৌঁছায়। মস্কো নিশ্চিত করেছে যে, এই পরীক্ষাটি ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থার কারিগরি ও উড্ডয়ন সক্ষমতা যাচাইয়ের জন্য পরিচালিত হয়েছিল।

আরও পড়ুন: ভোটার তালিকায় মৃত ঘোষণা, তবু প্রতিবছর ভোট দিচ্ছেন কামতা প্রসাদ

১৯৯৬ সালে পারমাণবিক পরীক্ষা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করার লক্ষ্যে সিটিবিটি গ্রহণ করা হলেও, সব দেশের স্বাক্ষরের অভাবে এটি এখনও পূর্ণ আইনি রূপ পায়নি। চুক্তির ‘অ্যানেক্স ২’ তালিকাভুক্ত গুরুত্বপূর্ণ নয়টি দেশ—যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, চীন, ইরান, ইসরায়েল, মিসর, ভারত, পাকিস্তান ও উত্তর কোরিয়ার অনুমোদন না পাওয়ায় এটি ঝুলে রয়েছে। ২০২৬ সাল পর্যন্ত বিশ্বের ১৮৮টি দেশ এই চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছে এবং ১৭৯টি দেশ তা অনুমোদন করেছে।

সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ভারতে খাদ্য নিরাপত্তা কর্মকর্তাকেই খাওয়ানো হলো মেয়াদউত্তীর্ণ বিস্কুট

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শনিবার, ২৯শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০২:৩১ পি.এম


ভারতে খাদ্য নিরাপত্তা কর্মকর্তাকেই খাওয়ানো হলো মেয়াদউত্তীর্ণ বিস্কুট

ভারতের ছত্রপতি শম্ভাজিনগরে মেয়াদউত্তীর্ণ খাবার বিক্রির অভিযোগে ক্ষুব্ধ স্থানীয় বাসিন্দারা এক খাদ্য নিরাপত্তা কর্মকর্তাকে মেয়াদউত্তীর্ণ বিস্কুট খাওয়ানোর চেষ্টা করেছেন। দোকানদারের কাছ থেকে ঘুষ নিয়ে তাকে রেহাই দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে—এমন অভিযোগ তুলে কর্মকর্তার ওপর ক্ষোভ প্রকাশ করেন স্থানীয়রা।

শনিবার (২৯ আগস্ট) এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

ঘটনার সূত্রপাত স্থানীয় একটি পান দোকান থেকে কেনা মেয়াদউত্তীর্ণ চানাচুর খেয়ে দুই বছরের এক শিশু অসুস্থ হয়ে পড়ার ঘটনায়। চানাচুর খাওয়ার পর শিশুটির মাথা ঘোরে এবং শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

এরপর শিশুটির স্বজন ও স্থানীয় বাসিন্দারা ছত্রপতি শম্ভাজিনগরের খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসন কার্যালয়ে লিখিত অভিযোগ করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে এক কর্মকর্তা ঘটনাস্থলে পরিদর্শনে গেলে স্থানীয়রা দাবি করেন, তিনি সেখানে যাওয়ার আগেই চানাচুরের মূল প্যাকেটটি দোকান থেকে সরিয়ে ফেলা হয়েছে।

পরিদর্শনের সময় দোকানে বেশ কয়েকটি মেয়াদউত্তীর্ণ বিস্কুটের প্যাকেট পাওয়া যায়। তবে ওই কর্মকর্তা দোকানদারের বিরুদ্ধে কোনো কঠোর ব্যবস্থা নেননি বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

এতে ক্ষুব্ধ হয়ে স্থানীয়রা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ঘুষ নিয়ে বিষয়টি মিটিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করার অভিযোগ তোলেন। একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। স্থানীয়রা বিস্কুটগুলো খাওয়ার উপযোগী কি না, তা প্রমাণ করতে কর্মকর্তাকে নিজেই খেয়ে দেখার দাবি জানান।

পরে কয়েকজন উত্তেজিত ব্যক্তি জোর করে মেয়াদউত্তীর্ণ বিস্কুট কর্মকর্তার মুখে গুঁজে দেওয়ার চেষ্টা করেন।

রাজ্যজুড়ে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসন অভিযান জোরদার করার সময়ই এমন ঘটনা ঘটল। ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

চীনে দেখানো হচ্ছে না তিব্বত বিপর্যয়ের দৃশ্য, নিহতের তথ্য নিয়েও ধোঁয়াশা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শনিবার, ২৯শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০২:৩৩ পি.এম


চীনে দেখানো হচ্ছে না তিব্বত বিপর্যয়ের দৃশ্য, নিহতের তথ্য নিয়েও ধোঁয়াশা

হিমালয়ের কোলঘেঁষা তিব্বতে ভয়াবহ বন্যা ও কাদাধসে ব্যাপক প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে, তবে চীনের সাধারণ মানুষের কাছে দুর্যোগের প্রকৃত চিত্র কতটা পৌঁছাচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সীমান্তবর্তী গিরং বন্দরে বন্যার ভয়াবহ স্রোতের ভিডিও আন্তর্জাতিক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লেও, চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত এর খুব সামান্য অংশই প্রকাশিত হয়েছে।

গিরং বন্দর, যা নেপাল ও তিব্বতের মধ্যে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সীমান্তপথ, বুধবার সেখানে হঠাৎ প্রবল পানির স্রোত আছড়ে পড়ে। সিসিটিভি ক্যামেরায় ধারণ করা ভিডিওতে দেখা যায়, বন্যার পানি মুহূর্তের মধ্যে বন্দরের ভেতর দিয়ে প্রবল বেগে ছুটে যাচ্ছে এবং প্রাণ বাঁচাতে শত শত মানুষ দৌড়ে নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার চেষ্টা করছেন।

ভিডিওটি দ্রুত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সংবাদমাধ্যমে সম্প্রচারিত হয়। কিন্তু চীনের ভেতরে পরিস্থিতি ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, চীনের রাষ্ট্রীয় প্রধান সংবাদ বুলেটিনে রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ওই ঘটনার ভিডিওর পরিবর্তে মাত্র একটি স্থিরচিত্র দেখানো হয়েছে। চীনের কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত ইন্টারনেটেও বন্যার ওই ভিডিও খুঁজে পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।

এছাড়া, তিব্বতে বন্যা ও কাদাধসে শত শত মানুষের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লেও, চীনের অভ্যন্তরীণ অনলাইন প্ল্যাটফর্মগুলোতে এ বিষয়ে বিস্তারিত ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা বা প্রত্যক্ষদর্শীর বর্ণনাও খুব কম পাওয়া যাচ্ছে। নিখোঁজদের সংখ্যা নিয়েও বাইরে থেকে স্বাধীনভাবে তথ্য যাচাই করা কঠিন হয়ে পড়েছে।

উদ্ধার তৎপরতা জোরদার, তবে তথ্য সীমিত

চীনা কর্তৃপক্ষ ব্যাপক উদ্ধার অভিযান চালাচ্ছে। শত শত জরুরি সেবাকর্মী ও উদ্ধারকর্মী দুর্গত এলাকায় কাজ করছেন। প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংও উদ্ধার ও ত্রাণ তৎপরতা সমন্বয়ের জন্য জরুরি বৈঠকে সভাপতিত্ব করেছেন।

শনিবার চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত নতুন ভিডিওতে উদ্ধারকারী দলকে কাদা ও পাথরে পরিণত হওয়া বিস্তীর্ণ এলাকায় তল্লাশি চালাতে দেখা গেছে। উদ্ধারকারীরা ধ্বংসস্তূপের মধ্যে কাউকে আটকে থাকতে পারেন—এমন আশায় বারবার ডাক দিচ্ছেন।

রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে পাহাড় ও খাড়া পাথুরে ঢালে বিশেষ প্রশিক্ষিত উদ্ধারকারী দলের অভিযান এবং উত্তাল নদী পেরিয়ে দুর্গত এলাকায় পৌঁছানোর চেষ্টার দৃশ্যও দেখানো হয়েছে।

তবে এসব অভিযানের পর কতজনকে উদ্ধার করা হয়েছে, কতজন এখনও নিখোঁজ কিংবা কতজন মারা গেছেন—সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য সীমিত।

দুর্গত এলাকার কোনও জীবিত ব্যক্তির প্রত্যক্ষ বর্ণনাও খুব একটা সামনে আসেনি। নিখোঁজ ব্যক্তিদের স্বজনদের বক্তব্যও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়েছে।

তিব্বত নিয়ে চীনের সংবেদনশীলতা

তিব্বতের রাজনৈতিক ইতিহাসের কারণে দুর্যোগের এই ঘটনা নিয়ে তথ্যপ্রবাহ আরও সংবেদনশীল হয়ে উঠেছে বলে মনে করছেন বিভিন্ন পর্যবেক্ষক।

১৯৫০-এর দশকে চীনা নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার পর থেকে তিব্বতে বেইজিংয়ের শাসন নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধিতা রয়েছে। বিভিন্ন সময়ে সেখানে বিক্ষোভ হয়েছে এবং চীনা কর্তৃপক্ষ তা কঠোরভাবে দমন করেছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলো তিব্বতীয়দের বিরুদ্ধে গুরুতর অধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগও করে আসছে।

তিব্বতের নির্বাসিত আধ্যাত্মিক নেতা দালাই লামাকে চীন বিচ্ছিন্নতাবাদী হিসেবে বিবেচনা করে। ফলে ‘তিব্বত’ শব্দটিই চীনা সেন্সরশিপ ব্যবস্থায় অত্যন্ত সংবেদনশীল একটি বিষয়।

এ কারণে বন্যার মতো একটি প্রাকৃতিক দুর্যোগের ক্ষেত্রেও তথ্য কীভাবে প্রকাশিত হবে, তা নিয়ে বেইজিংয়ের বাড়তি সতর্কতা রয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।

রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমেই নির্ভর করতে হচ্ছে

চীনে সাধারণ মানুষের কাছে দুর্যোগের তথ্যের প্রধান উৎস হয়ে উঠেছে রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম। সেখানে প্রতিদিন নিখোঁজ ও নিহতদের বিষয়ে কিছু আপডেট দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি উদ্ধার অভিযান এবং একটি সম্ভাব্য বিপজ্জনক হ্রদের পানি উপচে পড়ার ঝুঁকি নিয়েও সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

কিন্তু আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যে বিপুল পরিমাণ ভিডিও ও প্রত্যক্ষদর্শীর ছবি ছড়িয়ে পড়েছে, তার তুলনায় চীনের ভেতরে পাওয়া তথ্য অত্যন্ত সীমিত।

এমনকি বৃহস্পতিবার রাতে বিশ্বের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম যখন হিমালয়ের একটি উপত্যকায় ভয়াবহ ধ্বংসযজ্ঞকে প্রধান শিরোনাম করছিল, তখন চীনের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম তাদের প্রধান সংবাদ বুলেটিন শুরু করে প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের নতুন বই প্রকাশের খবর দিয়ে। বইটিতে তার ‘সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও মৌলিক’ কিছু লেখা সংকলিত হয়েছে বলে জানানো হয়।

বিদেশি সাংবাদিকদের প্রবেশেও সীমাবদ্ধতা

তিব্বতে বিদেশি সাংবাদিকদের স্বাধীনভাবে ভ্রমণ করার সুযোগ নেই। সেখানে যেতে হলে চীনা সরকারের অনুমতি প্রয়োজন। ফলে দুর্গত এলাকায় স্বাধীনভাবে গিয়ে পরিস্থিতি যাচাই করা আন্তর্জাতিক সাংবাদিকদের জন্য অত্যন্ত কঠিন।

এই পরিস্থিতিতে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা, নিখোঁজদের পরিবারের উদ্বেগ এবং উদ্ধার অভিযানের প্রকৃত ফলাফল সম্পর্কে স্বাধীন তথ্য সংগ্রহ সীমিত হয়ে পড়েছে।

তিব্বত নিয়ে কাজ করা বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠনের অভিযোগ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত বন্যার ভিডিও ও প্রত্যক্ষ তথ্য সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে।

ইন্টারন্যাশনাল ক্যাম্পেইন ফর তিব্বত উদ্ধারকর্মীদের কাজের প্রশংসা করলেও চীনা কর্তৃপক্ষের কাছে দুর্যোগে ক্ষয়ক্ষতি ও প্রাণহানির বিষয়ে ‘সম্পূর্ণ ও যাচাইযোগ্য তথ্য’ প্রকাশের আহ্বান জানিয়েছে।

কেন এত সতর্ক বেইজিং?

চীনা সরকারের এই তুলনামূলকভাবে নিয়ন্ত্রিত তথ্যপ্রবাহের পেছনে মূল লক্ষ্য হিসেবে ‘স্থিতিশীলতা’ বজায় রাখার বিষয়টিকেই দেখছেন পর্যবেক্ষকেরা।

চীনা কমিউনিস্ট পার্টির নেতৃত্ব আশঙ্কা করতে পারে, ভয়াবহ কোনও দুর্যোগ সরকারের উদ্ধার তৎপরতা নিয়ে অসন্তোষ সৃষ্টি করতে পারে। একই সঙ্গে দুর্যোগ মোকাবিলায় আগাম প্রস্তুতির ঘাটতি ছিল কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠতে পারে।

বিশেষ করে তিব্বতের মতো রাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল একটি অঞ্চলে কোনও বড় ধরনের দুর্যোগ স্থানীয় অসন্তোষের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হতে পারে—এমন আশঙ্কাও বেইজিংয়ের থাকতে পারে।

দুর্যোগের মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই স্থানীয় কমিউনিস্ট পার্টি সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে সদস্যদের উদ্ধার ও ত্রাণকাজে সক্রিয় হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের মানসিক সহায়তা দেওয়ার পাশাপাশি সামাজিক শৃঙ্খলা বজায় রাখার ওপরও জোর দেওয়া হয়।

স্থানীয় পার্টি কার্যালয়ের নির্দেশনায় দুর্যোগকবলিত এলাকায় ‘সামাজিক শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং জনগণের আস্থা ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে সর্বাত্মক চেষ্টা করার’ ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। ভালো কাজ করা সদস্যদের পুরস্কৃত এবং দায়িত্ব পালনে ব্যর্থদের জবাবদিহির আওতায় আনার কথাও বলা হয়।

নিখোঁজ স্বজনদের খোঁজে অনিশ্চয়তা

এই পরিস্থিতির সবচেয়ে বড় মানবিক সংকট দেখা দিয়েছে নিখোঁজদের পরিবারগুলোর ক্ষেত্রে।

দুর্গত এলাকায় যোগাযোগ ব্যবস্থা সীমিত হওয়ায় তিব্বতের বাইরে থাকা পরিবারগুলো তাদের স্বজনদের ভাগ্যে কী ঘটেছে, তা জানতে পারছেন না। অধিকারকর্মীদের দাবি, তিব্বতের স্থানীয় বাসিন্দারা সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বললে কিংবা সরকারের বর্ণনার সঙ্গে সাংঘর্ষিক কোনও তথ্য অনলাইনে প্রকাশ করলে তাদের আটক বা গ্রেফতারের ঝুঁকি থাকে।

ফলে দুর্গত এলাকার প্রকৃত পরিস্থিতি জানতে তিব্বতের বাইরে থাকা স্বজনদের জন্যও পরিস্থিতি অত্যন্ত কঠিন হয়ে উঠেছে।

তিব্বতে নজরদারি নিয়ে পুরোনো অভিযোগ

তিব্বতে চীনা সরকারের কঠোর নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ নতুন নয়। বিবিসি গত বছর হিমালয় মালভূমির প্রান্তবর্তী একটি এলাকায় গিয়ে স্থানীয় বৌদ্ধ ভিক্ষুদের সঙ্গে কথা বলেছিল। সেখানে আবা বা তিব্বতি ভাষায় নগাবা নামে পরিচিত এলাকায় কির্তি মঠের ভিক্ষুরা চীনা সরকারের কঠোর নজরদারি ও তিব্বতিদের অধিকার হরণের অভিযোগ করেছিলেন।

একজন ভিক্ষু বলেছিলেন, তিব্বতিরা মৌলিক মানবাধিকার থেকে বঞ্চিত।

তবে সাংবাদিকদের সঙ্গে দীর্ঘ সময় কথা বলাও তাদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ ছিল বলে ওই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

চীন অবশ্য তিব্বতিদের অধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ অস্বীকার করে। বেইজিংয়ের দাবি, তিব্বতে বিপুল বিনিয়োগ করা হয়েছে এবং পর্যটন ও অবকাঠামো উন্নয়নের মাধ্যমে অঞ্চলটির অর্থনৈতিক অগ্রগতি নিশ্চিত করা হচ্ছে।

তবে বর্তমান বন্যা ও কাদাধসের ঘটনায় তিব্বতের ভেতরে তথ্যপ্রবাহের ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ নতুন করে সামনে এসেছে।

উদ্ধার অভিযান চলছে, কিন্তু প্রশ্ন রয়ে যাচ্ছে

চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াং দ্রুত দুর্গত এলাকা পরিদর্শনে গিয়েছেন। তাকে ধ্বংসস্তূপ সরানোর কাজ পরিদর্শন করতে দেখা গেছে। বড় কোনও দুর্যোগের এত অল্প সময়ের মধ্যে দেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রাজনৈতিক নেতার এমন সফরকে পরিস্থিতির গুরুত্বের ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে।

অর্থাৎ, বেইজিং যে দুর্যোগটিকে গুরুত্ব দিচ্ছে না—বিষয়টি তা নয়। বরং উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে ব্যাপক তৎপরতা দেখা যাচ্ছে।

তবে একই সঙ্গে দুর্ঘটনার প্রকৃত মাত্রা, নিহত ও নিখোঁজের সংখ্যা এবং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের অভিজ্ঞতা সম্পর্কে তথ্যের ঘাটতি রয়ে গেছে।

তিব্বতের বন্যা তাই শুধু একটি ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগের গল্প নয়; এটি চীনে তথ্য নিয়ন্ত্রণ, তিব্বতের রাজনৈতিক সংবেদনশীলতা এবং দুর্যোগের সময় রাষ্ট্রীয় স্বচ্ছতার প্রশ্নও সামনে এনেছে।

বিশ্ব যখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বন্যার ভয়াবহ ভিডিও ও ধ্বংসযজ্ঞের ছবি দেখছে, তখন চীনের ভেতরে থাকা কোটি কোটি মানুষ সেই ঘটনার কতটা জানতে পারছেন—সেটিই এখন বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। সূত্র:

বিবিসি

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ৬ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ: প্রতিমন্ত্রী শাহে আলম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ২৯শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০২:৩৪ পি.এম


স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ৬ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ: প্রতিমন্ত্রী শাহে আলম

চলতি অর্থবছরের মধ্যে স্থানীয় সরকারের সব নির্বাচন সম্পন্ন করার জন্য প্রায় ৬ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখার কথা জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। তিনি জানান, সিটি করপোরেশন, পৌরসভা, উপজেলা পরিষদ, জেলা পরিষদ ও ইউনিয়ন পরিষদ—এই পাঁচ ধরনের স্থানীয় সরকার নির্বাচন এই অর্থের আওতায় অনুষ্ঠিত হবে।

 

শনিবার (২৯ আগস্ট) দুপুরে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মাজারে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের কাছে তিনি এসব তথ্য তুলে ধরেন। এর আগে, তিনি দলের নেতাকর্মীদের নিয়ে তাদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে দোয়া করেন।

শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বগুড়া-২ আসনের শিবগঞ্জ উপজেলাকে বিভক্ত করে মোকামতলা উপজেলা হিসেবে গঠন করা হয়েছে। সাংগঠনিক কার্যক্রম শুরু করার প্রত্যাশা থেকেই তারা এ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেছেন।

স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রসঙ্গে মীর শাহে আলম বলেন, নির্বাচন কমিশন পুরো নির্বাচনী প্রক্রিয়াটি পরিচালনা করবে। তিনি জানান, "আমরা ইতিমধ্যে নির্বাচন কমিশনকে প্রস্তুতি গ্রহণের জন্য অনুরোধ করেছি।" তফসিল ঘোষণা, ভোটকেন্দ্র নির্ধারণ, প্রিসাইডিং অফিসার নিয়োগ, পোলিং এজেন্ট নিয়োগসহ নির্বাচনের সব কার্যক্রম নির্বাচন কমিশনই সম্পন্ন করবে।

নির্বাচন কমিশনের প্রস্তুতি সম্পন্ন হলে স্থানীয় সরকার বিভাগ ও অর্থ বিভাগ আলোচনা করে কোন নির্বাচন আগে এবং কোনটি পরে অনুষ্ঠিত হবে, তা নির্ধারণ করবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

সরকারের ‘গ্রিন সিগন্যাল’ প্রয়োজন কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, "সরকারের কোনো ‘গ্রিন সিগন্যালের’ প্রয়োজন নেই।" নির্বাচন কমিশন যদি প্রস্তুত হয়ে তফসিল ঘোষণা করতে চায়, তারা তা করতে সক্ষম হবে। কমিশন আনুষ্ঠানিকভাবে জানালে সরকার প্রয়োজনীয় অর্থ ও প্রশাসনিক সহযোগিতা প্রদান করবে।

স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের জারি করা পাঁচটি স্থানীয় সরকারসংক্রান্ত অধ্যাদেশ নতুন সরকার আইন হিসেবে জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে। সিটি করপোরেশন, পৌরসভা, উপজেলা পরিষদ, জেলা পরিষদ ও ইউনিয়ন পরিষদ—এই পাঁচ আইনে দলীয় মনোনয়ন ও জাতীয় প্রতীকে নির্বাচনের বিধান বিলুপ্ত করা হয়েছে।

ফলে এসব নির্বাচন সাধারণ প্রতীকে ও নির্দলীয়ভাবে অনুষ্ঠিত হবে। তবে রাজনৈতিক দলগুলো নিজেদের রাজনৈতিক অবস্থান ধরে রাখতে প্রার্থীদের সমর্থন দিতে পারবে বলে জানান তিনি।

মীর শাহে আলম বলেন, বিএনপির জেলা পর্যায়ের নেতাদের পর্যায়ক্রমে প্রতি শুক্র ও শনিবার গুলশান কার্যালয়ে ডেকে বৈঠক করছেন দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। স্থানীয় সরকার নির্বাচনসহ বিভিন্ন বিষয়ে সেখানে দিকনির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে।

দলীয় সমর্থনের ক্ষেত্রে দীর্ঘদিনের আন্দোলন-সংগ্রামে ভূমিকা, নির্যাতন-হয়রানির শিকার হওয়া, সাধারণ মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্যতা এবং নির্বাচনে জয়ী হওয়ার সক্ষমতাকে গুরুত্ব দেওয়া হবে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ১৭ বছর লড়াই-সংগ্রামে যারা নির্যাতিত-নিপীড়িত এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে যাদের সততা ও গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে, ভোটের মাঠে জিতে আসার সম্ভাবনা রয়েছে—এ ধরনের প্রার্থীদের দলীয়ভাবে সমর্থন দেওয়ার ব্যাপারে নির্দেশনা আছে।

তবে যাদের নির্বাচনী অভিজ্ঞতা রয়েছে, কিন্তু দীর্ঘ ১৭ বছর আন্দোলন-সংগ্রামে মাঠে পাওয়া যায়নি, তাদের সমর্থন না দেওয়ার নির্দেশনা রয়েছে বলেও জানান তিনি। আবার দীর্ঘ আন্দোলনের অভিজ্ঞতা থাকলেও নির্বাচনের মাঠে অভিজ্ঞতা কম—এমন নেতাদের অন্যভাবে ‘অ্যাকোমোডেট’ করা হতে পারে বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী।

প্রভাবমুক্ত নির্বাচনের আশ্বাস

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে সরকারের ভূমিকা প্রসঙ্গে মীর শাহে আলম বলেন, প্রধানমন্ত্রী সরাসরি স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়কে কোনো ধরনের প্রভাব বিস্তার না করার নির্দেশনা দিয়েছেন।

তিনি বলেন, একদম অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ নির্বাচন বলতে যা বোঝায়, এই নির্বাচন করতে সরকার, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নির্বাচন কমিশনকে শতভাগ সহযোগিতা করবে।

বিরোধী দলের সাম্প্রতিক আন্দোলন ও লং মার্চ কর্মসূচি প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, গণতান্ত্রিক পন্থায় শান্তিপূর্ণ আন্দোলন হলে সরকার তাতে সহযোগিতা করবে। তবে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট নিয়ে বিরোধী দলের আন্দোলনের সমালোচনা করেন তিনি।

তিনি বলেন, মঞ্চের পেছনে বিদ্যুতের ফ্যান চালিয়ে আপনি যদি বলেন যে বিদ্যুৎ নেই, দিতে হবে—এই বিষয়টি সাধারণ মানুষকে বিবেচনা করতে হবে।

প্রতিমন্ত্রীর দাবি, ৫ তারিখের পর বিরোধী দলের লং মার্চে ব্যবহৃত পরিবহনে প্রায় এক লাখ লিটার জ্বালানি প্রয়োজন হবে। জ্বালানি সংকট নিয়ে আন্দোলনকারীদের এমন কর্মসূচি নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।

তবে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহে সাময়িক অসুবিধার জন্য সরকারের পক্ষ থেকে জনগণের কাছে দুঃখ প্রকাশ করা হয়েছে বলে জানান মীর শাহে আলম। তিনি বলেন, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে সরকারের স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা রয়েছে। চলমান সংসদে প্রধানমন্ত্রী এসব পরিকল্পনা জাতির সামনে তুলে ধরবেন।

ই-রিকশার বিধিমালা ৮ থেকে ১০ দিনের মধ্যে

অটোরিকশা ও ই-রিকশার নীতিমালা প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী জানান, আগামী ৮ থেকে ১০ দিনের মধ্যে এ বিষয়ে বিধিমালা প্রণয়নের কাজ শেষ করার লক্ষ্য রয়েছে।

তিনি বলেন, সংসদে আইন পাস হয়েছে। ৩০ কিলোমিটার গতিসীমার ব্যাটারিচালিত অটো-ইজিবাইককে ‘ই-রিকশা’ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। এসব ই-রিকশার নিবন্ধন দেবে সিটি করপোরেশন ও পৌরসভা।

বিধিমালায় নিবন্ধন ফি, নবায়ন ফি এবং ই-রিকশার কারিগরি প্রত্যয়নের বিষয় নির্ধারণ করা হবে। খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (কুয়েট), সরকারি প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় এবং জেলা পর্যায়ের সরকারি পলিটেকনিক্যাল ইনস্টিটিউটের অটোমোবাইল শাখা ই-রিকশার কারিগরি প্রত্যয়ন দেবে। এতে ট্রাফিক বিভাগ প্রতিস্বাক্ষর করবে।

নিবন্ধনের পর কোন সড়কে ই-রিকশা চলবে এবং কোন সড়কে চলবে না, তা জেলা পর্যায়ে জেলা প্রশাসন ও ট্রাফিক বিভাগ এবং সিটি করপোরেশন এলাকায় সিটি করপোরেশন নির্ধারণ করবে।

প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদন পাওয়ার পর আগামী ৮ থেকে ১০ দিনের মধ্যেই সাংবাদিকদের ডেকে বিধিমালার কপি দেওয়া হবে বলে জানান স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী।

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয় সমর্থনের বাইরে কেউ প্রার্থী হলে তার বিষয়ে কেন্দ্র থেকে মনোনয়ন বা বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে না বলেও জানান তিনি। এ ক্ষেত্রে স্থানীয় বিএনপি সিদ্ধান্ত নেবে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী।

এ সময় নতুন উপজেলা মোকামতলা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ট্রাম্পের নীতির ধাক্কা মার্কিন শিক্ষাখাতে, কানাডায় যাচ্ছেন নামী অধ্যাপকেরা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শনিবার, ২৯শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০২:৩৬ পি.এম


ট্রাম্পের নীতির ধাক্কা মার্কিন শিক্ষাখাতে, কানাডায় যাচ্ছেন নামী অধ্যাপকেরা

যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষস্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলোতে সরকারের চাপ ও তদারকি বাড়ানোর প্রেক্ষাপটে, দেশটির বহু খ্যাতনামা অধ্যাপক ও গবেষক কানাডার বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে স্থানান্তরিত হচ্ছেন। বৃহস্পতিবার কানাডার শিল্পমন্ত্রী মেলানি জোলি ৬৪ জন বিশ্বমানের শিক্ষাবিদ ও গবেষককে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়োগ দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছেন।

কানাডা সরকার আগামী আট বছরে এসব গবেষকদের জন্য ৫০ কোটি কানাডিয়ান ডলারের বেশি অর্থ সহায়তা প্রদান করবে। এই গবেষকদের মধ্যে ৪৮ জন যুক্তরাষ্ট্রের হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়, কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয় ও ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি থেকে আসছেন।

নতুন গবেষকরা চিকিৎসাবিজ্ঞান, প্রকৌশল, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও জলবায়ু বিজ্ঞানের মতো গুরুত্বপূর্ণ ও উদীয়মান ক্ষেত্রগুলোতে গবেষণা পরিচালনা করবেন।

ট্রাম্প প্রশাসনের সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ওপর সরকারি নজরদারি ও রাজনৈতিক চাপ বাড়ানোর অভিযোগ উঠেছে। সরকারের নীতির সাথে প্রতিষ্ঠানগুলোর অবস্থান না মিললে কেন্দ্রীয় অর্থায়ন ও গবেষণা অনুদান বন্ধের হুমকি ও পদক্ষেপের ঘটনাও ঘটেছে। এর ফলে মার্কিন একাডেমিক অঙ্গনে গবেষণার স্বাধীনতা ও ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।

কানাডার ভ্যাঙ্কুভারে ইউনিভার্সিটি অব ব্রিটিশ কলাম্বিয়া আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে মেলানি জোলি বলেন, "কিছু দেশ যখন গবেষণার বাজেট কমাচ্ছে এবং একাডেমিক স্বাধীনতা থেকে সরে যাচ্ছে, তখন কানাডা বিজ্ঞানে আরও বেশি বিনিয়োগ করছে।"

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যিক বা রাজনৈতিক টানাপোড়েনের বিষয়টি সামনে রেখে কানাডার এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে জোলি বলেন, "যুক্তরাষ্ট্র তাদের সিদ্ধান্ত নিচ্ছে এবং কানাডা নিজেদের সিদ্ধান্ত নিচ্ছে।" কানাডায় এসব অধ্যাপক ও গবেষক যোগ দিচ্ছেন বলে তিনি সন্তোষ প্রকাশ করেন।

গবেষকদের আকৃষ্ট করতে কানাডা ‘গ্লোবাল ইমপ্যাক্ট+ রিসার্চ ট্যালেন্ট ইনিশিয়েটিভ’ নামে একটি কর্মসূচি চালু করেছে। এই কর্মসূচির আওতায় দেশটি বিশ্বমানের গবেষকদের জন্য মোট ১৭০ কোটি কানাডিয়ান ডলারের বিশেষ তহবিল গঠন করেছে।

কানাডার বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ইতোমধ্যে নতুন গবেষকদের স্বাগত জানিয়েছে। ইউনিভার্সিটি অব ব্রিটিশ কলাম্বিয়া ৯ জন এবং টরন্টো বিশ্ববিদ্যালয় ৬ জন মার্কিন গবেষককে তাদের অনুষদে যুক্ত করেছে।

ইউবিসির প্রেসিডেন্ট ও ভাইস চ্যান্সেলর ড. বেনোয়া-আঁতোয়ান বেকন বলেন, "এসব গবেষকের গবেষণা মানবকল্যাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।" টরন্টো বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রেসিডেন্ট মেলানি উডিনও কানাডার এই সরকারি সহায়তাকে কৌশলগত ও গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

যুক্তরাষ্ট্র ছেড়ে আসা গবেষকদের কয়েকজন নিজেদের সিদ্ধান্তের পেছনে দেশটির বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও একাডেমিক স্বাধীনতা নিয়ে উদ্বেগের কথা বলেছেন।

ম্যাসাচুসেটস বিশ্ববিদ্যালয়ের আরএনএ বায়োলজি গবেষক ফিলিপ জামোর বলেন, "যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান পরিবেশে আমি নিজের সেরা গবেষণা চালিয়ে যেতে পারছি না।" বিশ্বসেরা তরুণ গবেষকদের দলে নেওয়া এবং তাদের নিরাপদ পরিবেশে কাজের নিশ্চয়তা দেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে বলেও তিনি জানান।

ম্যাসাচুসেটস বিশ্ববিদ্যালয় আমহার্স্ট থেকে কানাডার ম্যাকগিল বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগ দেওয়া ডিজিটাল মিডিয়া বিশেষজ্ঞ ইথান জাকারম্যানও গবেষণা ও মুক্ত চিন্তার পরিবেশের গুরুত্ব তুলে ধরেছেন। তাঁর মতে, "গণতন্ত্র ও মুক্ত চিন্তার ওপর চাপ বাড়ার সময়ে এমন গবেষণাকে সমর্থন করা গুরুত্বপূর্ণ।"

বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের একাডেমিক অঙ্গনে নীতিগত কড়াকড়ি ও অনিশ্চয়তার কারণে যে মেধাপাচারের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে, কানাডা সেটিকে নিজেদের গবেষণা খাত শক্তিশালী করার সুযোগ হিসেবে কাজে লাগাচ্ছে। এর ফলে উচ্চশিক্ষা, গবেষণা ও উদ্ভাবনের ক্ষেত্রে কানাডার অবস্থান আরও শক্তিশালী হতে পারে।

সূত্র: বিবিসি,

সিএনএন

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১১ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৩
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫০
মাগরিব ০৫:২৭
ইশা ০৬:৩৮
সূর্যোদয় : ০৫:৫৯ সূর্যাস্ত : ০৫:২৭
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%