মঙ্গলবার, ১ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৭:০১ এম
টানা দুই সপ্তাহ ধরে বৃষ্টিপাতের ফলে কাপ্তাই হ্রদের পানির স্তর দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ায়, বাঁধের ১৬টি জলকপাট দুই ফুট করে খুলে দেওয়া হয়েছে। কাপ্তাই পানি বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মাহমুদ হাসান জানান, এর ফলে স্পিলওয়ের ১৬টি গেটের মাধ্যমে প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ৩৯ হাজার কিউসেক পানি কর্ণফুলী নদীতে নিষ্কাশিত হচ্ছে। গতকাল রোববার সকালে এই গেটগুলো দুই ফুট করে খুলে দেওয়া হয়। এর পূর্বে, শনিবার রাতে প্রতিটি গেট ছয় ইঞ্চি করে খোলা হয়েছিল। পরে রাত ১০টা ৩৫ মিনিটে গেটের ওপেনিং আরো ছয় ইঞ্চি বাড়িয়ে এক ফুট করা হলে, পানি নিষ্কাশনের পরিমাণ বেড়ে প্রায় ১৮ হাজার কিউসেকে দাঁড়ায়। সর্বশেষ গতকাল রোববার সকালে গেটের ওপেনিং দুই ফুট করা হলে, স্পিলওয়ের মাধ্যমে প্রায় ৩৯ হাজার কিউসেক পানি প্রতি সেকেন্ডে কর্ণফুলী নদীতে প্রবাহিত হচ্ছে।
কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, গতকাল রোববার সকাল ৮টায় কাপ্তাই হ্রদের পানির উচ্চতা ছিল ১০৬ দশমিক দুই ফুট এমএসএল। কাপ্তাই হ্রদের সর্বোচ্চ ধারণক্ষমতা ১০৮ ফুট এমএসএল। গত প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে কাপ্তাই ও পার্বত্য চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় টানা বৃষ্টিপাত হচ্ছে। উজান থেকে বৃষ্টির পানি হ্রদে প্রবেশ করায়, গত কয়েকদিন ধরে কাপ্তাই হ্রদের পানির স্তর দ্রুত বাড়ছে। পানির স্তরের এই বৃদ্ধি হ্রদের পানি ধারণক্ষমতার কাছাকাছি চলে আসায়, বাঁধের ওপর চাপ কমানোর জন্য এবং অতিরিক্ত পানি নিরাপদে নিষ্কাশনের উদ্দেশ্যে স্পিলওয়ের গেট খুলে দেওয়া হয়েছে।
এর আগে, গত শনিবার দুপুরে কাপ্তাই হ্রদের পানির উচ্চতা ছিল ১০৫ দশমিক ৬৪ ফুট এমএসএল। কাপ্তাই হ্রদের পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের পাঁচটি ইউনিট চালু হয়ে সর্বোচ্চ বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে।
পানি ছাড়ার কারণে চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদীর তীরবর্তী নিম্নাঞ্চলে পানির উচ্চতা বাড়তে পারে। এই অবস্থায় নদীর তীরবর্তী এলাকার বাসিন্দা ও চলাচলকারীদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে নদীর পানি পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের (শেবাচিম) নিউরোমেডিসিন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডাঃ অমিতাভ সরকারের বিরুদ্ধে সরকারি দায়িত্ব পালনে অনিয়ম, অপ্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে কমিশন গ্রহণ এবং রোগীদের নির্দিষ্ট বেসরকারি হাসপাতালে পাঠানোর মতো গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে স্বাস্থ্য সচিব এবং বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিলের (বিএমডিসি) কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
অভিযোগকারীরা দাবি করেছেন, নিউরোমেডিসিন বিশেষজ্ঞ হিসেবে বরিশালে ব্যাপক পরিচিতি ও বিপুল রোগীর চাপকে কেন্দ্র করে কয়েকটি বেসরকারি হাসপাতালের সঙ্গে তার প্রভাবশালী অবস্থান তৈরি হয়েছে। যদিও চিকিৎসাসেবায় দক্ষতা রয়েছে, তবুও বিভিন্ন আর্থিক সুবিধা গ্রহণের অভিযোগে সাধারণ রোগীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, প্রয়োজন না থাকা সত্ত্বেও অনেক রোগীকে সিটি স্ক্যান, এমআরআইসহ বিভিন্ন ব্যয়বহুল পরীক্ষা করানোর পরামর্শ দেওয়া হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, প্রতিটি সিটি স্ক্যান ও এমআরআই পরীক্ষা থেকে ১ হাজার টাকা এবং অন্যান্য পরীক্ষা থেকে ২৫ শতাংশ পর্যন্ত কমিশন নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
এছাড়া বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতালে তার রেফারেন্সে ভর্তি হওয়া রোগীদের বেড ভাড়া থেকে ৭ থেকে ১২ শতাংশ পর্যন্ত কমিশন নেওয়া হয় বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের প্রতিবার রাউন্ড দেওয়ার জন্য ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা পর্যন্ত ফি নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, রোগীদের নির্দিষ্ট ফিজিওথেরাপি সেন্টারে পাঠিয়ে সেখান থেকেও আর্থিক সুবিধা গ্রহণ করা হয়। এমনকি প্রয়োজন না থাকা সত্ত্বেও কিছু রোগীকে ফিজিওথেরাপির পরামর্শ দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন ওষুধ কোম্পানির কাছ থেকে অনৈতিক সুবিধা গ্রহণ এবং তাদের সৌজন্যে বিদেশ ভ্রমণের অভিযোগও উল্লেখ করা হয়েছে।
সরকারি দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রেও ডাঃ অমিতাভ সরকারের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, সকালে শেবাচিম হাসপাতালে উপস্থিত হয়ে ফিঙ্গারপ্রিন্ট হাজিরা দেওয়ার পর তিনি হাসপাতাল ত্যাগ করেন। পরে সীমিত সময় সরকারি দায়িত্ব পালন করে বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতাল ও ব্যক্তিগত চেম্বারে রোগী দেখতে যান বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, বরিশাল নগরীর রাহাত আনোয়ার হাসপাতাল, কেএমসি হাসপাতাল এবং বেলভিউ হাসপাতালে তিনি নিয়মিত রোগী দেখেন। প্রতিদিন গড়ে ৩৫০ থেকে ৪০০ রোগীকে চিকিৎসাসেবা প্রদান করেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এদিকে শেবাচিম হাসপাতালের রোগীদের বিভিন্ন মাধ্যমে নির্দিষ্ট বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকে পাঠানোর অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। অভিযোগকারীদের দাবি, সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা নিউরোমেডিসিন বিভাগের রোগীদের একটি অংশকে নির্দিষ্ট বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার জন্য পরামর্শ দেওয়া হয়।
লিখিত অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, রাজনৈতিক ও পেশাগত প্রভাব ব্যবহার করে দীর্ঘদিন ধরে শেবাচিম হাসপাতালে পূর্ণাঙ্গ নিউরোমেডিসিন বিভাগ গঠনে বাধা সৃষ্টি করা হয়েছে। একই সঙ্গে রোগীর সংখ্যা ও ব্যক্তিগত প্রভাবকে কাজে লাগিয়ে নগরীর কয়েকটি বেসরকারি চিকিৎসাপ্রতিষ্ঠানের ওপর প্রভাব বিস্তারের অভিযোগও উঠেছে।
সম্প্রতি বেলভিউ হাসপাতালের পরিচালনা পর্ষদের বিভিন্ন বিষয়ে হস্তক্ষেপ এবং কম মূল্যে হাসপাতালের শেয়ার কেনার অভিযোগও সামনে এসেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, রোগীর চাপকে কেন্দ্র করে সংশ্লিষ্ট কয়েকটি বেসরকারি হাসপাতাল তার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে।
এছাড়া ডাঃ অমিতাভ সরকারের বিরুদ্ধে বিপুল পরিমাণ আয় গোপন করে রাজস্ব ফাঁকির অভিযোগও করা হয়েছে। লিখিত অভিযোগে বলা হয়েছে, তার আয়কর নথি অডিটে অনিয়ম ধরা পড়ার পর মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমে বিষয়টি নিষ্পত্তির চেষ্টা করা হয়েছে। অভিযোগকারীরা তার আয়কর নথি পুনরায় তদন্ত ও নিরীক্ষার দাবি জানিয়েছেন।
মোঃ মাসুম নামে এক ব্যক্তি সম্প্রতি স্বাস্থ্য সচিব ও বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিলের (বিএমডিসি) সভাপতির কাছে ডাঃ অমিতাভ সরকারের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগপত্রে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়েছে।
অভিযোগকারী দ্রুত তাকে শেবাচিম থেকে বদলি করা এবং উত্থাপিত অভিযোগগুলোর বিষয়ে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ও দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
তবে ডাঃ অমিতাভ সরকারের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর জন্য তার মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হয়েছে। তিনি ফোন রিসিভ করেননি। পরবর্তীতে তার বক্তব্য পাওয়া গেলে দ্বিতীয় সাংবাদে তুলে ধরা হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মাদারীপুরের কালকিনিতে বাসার জানালা ও বারান্দার গ্রিল কেটে স্বর্ণালংকার চুরির ঘটনায় পুলিশ আন্তঃজেলা চোরচক্রের দুই সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে। এ সময় উদ্ধার করা হয়েছে চোরাই স্বর্ণ বিক্রির ২ লাখ ৪০ হাজার টাকা, গলিত স্বর্ণ, বিভিন্ন স্বর্ণালংকার এবং চুরির কাজে ব্যবহৃত সরঞ্জাম।
স্থানীয় সূত্র ও পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গত সপ্তাহে কালকিনি পৌরসভার ঝাউতলা এলাকার বাসিন্দা জান্নাতুল হুসনার দ্বিতীয় তলার বাসার জানালা ও বারান্দার গ্রিল কেটে প্রায় ৮ ভরি স্বর্ণালংকার এবং রুপার সামগ্রী চুরি করে দুর্বৃত্তরা। ঘটনার পর থানায় অভিযোগ দায়ের করা হলে পুলিশ তদন্ত শুরু করে।
সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা এবং তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় চুরির সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে মো. সুজন সরদার (৩৪)কে আটক করা হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে উদ্ধার করা হয় চোরাই স্বর্ণ বিক্রির ২ লাখ ৪০ হাজার টাকা ও চুরির কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন সরঞ্জাম।
পরে সুজন সরদারের তথ্য ও স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে কালকিনি বাজারের ‘বিসমিল্লাহ জুয়েলার্স’-এর মালিক এনামুল হক (৪৫)কে গ্রেপ্তার করা হয়। তার দোকানে অভিযান চালিয়ে পুলিশ গলিত স্বর্ণ ও বিভিন্ন ধরনের স্বর্ণালংকার উদ্ধার করে।
পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তার হওয়া দুজনকে সোমবার আদালতে পাঠানো হয়েছে। কালকিনি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জহিরুল আলম বলেন, চুরির ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে চোরাই স্বর্ণ বিক্রির টাকা, গলিত স্বর্ণ ও চুরির সরঞ্জাম। এ ঘটনায় জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান মাসুদ খান পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীদের আস্থার সংকটের বিষয়টি স্বীকার করে বলেছেন, "কথায় নয়, কাজের মাধ্যমে এ আস্থা ফিরিয়ে আনা হবে।"
নিয়ন্ত্রক সংস্থার চেয়ারম্যান মন্তব্য করেন যে, বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার মূল দায়িত্ব হলো একটি ন্যায্য, স্বচ্ছ ও সুশৃঙ্খল বাজার ব্যবস্থা তৈরি করা।
সোমবার রাজধানীর নিকুঞ্জ-২ এলাকায় ডিএসই টাওয়ারে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ডিবিএ) আয়োজিত ‘বাংলাদেশের পুঁজিবাজারের বর্তমান অবস্থা ও ভবিষ্যৎ করণীয়’ শীর্ষক উন্মুক্ত আলোচনায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে ডিবিএ সভাপতি সাইফুল ইসলামের সভাপতিত্বে বিএসইসির কমিশনার তানভীর হাবিব রহমান, নাহিদ মাহতাব, মো. নাফিজ আল তারিক, হোসাইন সাদাত এবং ডিএসইর চেয়ারম্যান মমিনুল ইসলাম ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক নুজহাত আনোয়ার উপস্থিত ছিলেন।
মাসুদ খান ফ্লোর প্রাইসের কারণে মরগ্যান স্ট্যানলি ক্যাপিটাল ইন্টারন্যাশনাল (এমএসসিআই) বাংলাদেশের সূচক স্থগিত করার বিষয়টি উল্লেখ করে বলেন, "আমি দায়িত্ব নেওয়ার দ্বিতীয় দিনেই ফ্লোর প্রাইস তুলে নিয়েছি।"
তিনি জানান, এর ফলে মরগ্যান স্ট্যানলি আগামী নভেম্বর থেকে আবার এটিকে চালু করবে। বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের ক্ষেত্রে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
বিএসইসি চেয়ারম্যান আরও জানান, বিএসইসি ও ডিএসইর সার্ভিল্যান্স ব্যবস্থা এআইভিত্তিক করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
মাসুদ খান বলেন, "প্রত্যেকটা বন্ড শেয়ারবাজারের মূল বোর্ডে তালিকাভুক্ত হতেই হবে এবং আগামী এক বছরে মেইন বোর্ডে অনেক বন্ড তালিকাভুক্ত হবে।"
তিনি ডাইরেক্ট লিস্টিং রেগুলেশন নিয়ে কাজ প্রায় শেষ হয়েছে জানিয়ে বলেন, "কমিশনের বৈঠকে অনুমোদনের পর এটি জনমত গ্রহণের জন্য পাঠানো হবে।"
মাসুদ খান আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, ডাইরেক্ট লিস্টিংয়ের মাধ্যমে আগামী ছয় মাস থেকে এক বছরের মধ্যে কয়েকটি ভালো কোম্পানি পুঁজিবাজারে আসবে।
তিনি আরো বলেন, "একটি কোম্পানি চাইলে তার নির্দিষ্ট অংশ আইপিওর মাধ্যমে এবং আরেকটি অংশ ডাইরেক্ট লিস্টিংয়ের মাধ্যমে বাজারে ছাড়তে পারবে।"
এ বিষয়ে এক সপ্তাহের মধ্যে বোর্ডের সিদ্ধান্ত আসবে বলে জানান তিনি।
সিকিউরিটিজ অ্যাক্টের ২০এ ধারার উল্লেখ করে মাসুদ খান বলেন, "জনস্বার্থে কোনো কোম্পানিকে পুঁজিবাজারে আসার নির্দেশ দেওয়ার ক্ষমতা কমিশনের রয়েছে।"
তিনি জানান, এ ক্ষমতা প্রয়োগের জন্য ‘পাবলিক ইন্টারেস্ট কোম্পানি’ কী তা নির্ধারণ করে একটি বিধি প্রণয়ন করা হবে।
স্ক্রিপ্ট নেটিং ও টি+১ চালুর কাজও এগিয়ে চলছে বলে জানান বিএসইসি চেয়ারম্যান।
তিনি বলেন, "ডিএসই, সিএসই, সিডিবিএল এবং বিদেশি কাস্টডিয়ান ব্যাংকগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে একটি রোডম্যাপ তৈরি করা হয়েছে।"
মাসুদ খান বলেন, "বাই দ্য অ্যান্ড অফ দ্য ইয়ার আমাদের টি+১ এ যাওয়ার একটা চেষ্টা আমাদের থাকবে।"
চট্টগ্রাম কমোডিটি এক্সচেঞ্জ চালুর বিষয়েও অগ্রগতি হয়েছে বলে জানান বিএসইসি চেয়ারম্যান।
ডিএসইর চেয়ারম্যান মমিনুল ইসলাম বলেন, শেয়াবাজারে নতুন কোম্পানি ও বন্ড তালিকাভুক্তির ক্ষেত্রে প্রধান বাধা ছিল উচ্চ লিস্টিং ফি।
তিনি জানান, নতুন ইস্যুয়ার কোম্পানিগুলোকে উৎসাহিত করতে ডিএসই বোর্ড সম্প্রতি এই ফি সর্বোচ্চ ৮০ শতাংশ পর্যন্ত কমিয়ে সর্বোচ্চ ১৫ লাখ টাকায় বেঁধে দিয়েছে।
এছাড়া ২০২৭ সালের ৩১ মার্চের মধ্যে যারা আইপিও বা ডিরেক্ট লিস্টিংয়ের জন্য আবেদন করবে, তারা এই নির্ধারিত ফি-র ওপর আরো অতিরিক্ত ৫০ শতাংশ ছাড় পাবে।
ডিএসইর ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) নুজহাত আনোয়ার বলেন, ডিএসই ও বিএসইসি অত্যন্ত সমন্বিতভাবে বাজারের উন্নয়ন ও গভর্নেন্স জোরদারে কাজ করছে।
তিনি জানান, বাজারে ভালো আইপিও আনা, ফ্রি মার্জিন, সিসি অ্যাকাউন্ট পরিচালনা এবং আগামী ৫ বছরের স্ট্র্যাটেজিক প্ল্যান বাস্তবায়নে নিয়ন্ত্রক সংস্থার সুনির্দিষ্ট নির্দেশনায় কাজ চলছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম একদিনে দুই দফা বৃদ্ধি পেয়েছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার বাংলাদেশ সময় সকাল ১০টা ৩৬ মিনিটে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ২.২১ ডলার বা ২.৫১ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৯০.৩১ ডলারে পৌঁছেছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট ক্রুডের দাম ১.৮৩ ডলার বা ২.১৯ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৮৫.২৩ ডলারে লেনদেন হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজে উত্তেজনা বৃদ্ধি পাওয়ায় সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে এবং এর ফলে তেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী হয়ে উঠেছে। ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন হামলার কারণে আন্তর্জাতিক তেলের বাজারে এর প্রভাব পড়েছে। হরমুজ প্রণালির লারাক দ্বীপে হামলার পর তেহরানের পালটা হামলায় মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে।
তেলের দাম বৃদ্ধির পরও বাজারে প্রশ্ন উঠছে, এই পরিস্থিতি কতদিন স্থায়ী হবে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যদি সংঘাত দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আসে, তাহলে দাম আবার কমতে পারে। অন্যদিকে, হরমুজ প্রণালিতে সরবরাহ ব্যবস্থা দীর্ঘ সময় ব্যাহত হলে ব্যারেলপ্রতি ৯০ ডলারের উপরে দাম আরো শক্ত অবস্থান নিতে পারে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ