মঙ্গলবার, ১ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৭:১২ এম
বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান মাসুদ খান পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীদের আস্থার সংকটের বিষয়টি স্বীকার করে বলেছেন, "কথায় নয়, কাজের মাধ্যমে এ আস্থা ফিরিয়ে আনা হবে।"
নিয়ন্ত্রক সংস্থার চেয়ারম্যান মন্তব্য করেন যে, বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার মূল দায়িত্ব হলো একটি ন্যায্য, স্বচ্ছ ও সুশৃঙ্খল বাজার ব্যবস্থা তৈরি করা।
সোমবার রাজধানীর নিকুঞ্জ-২ এলাকায় ডিএসই টাওয়ারে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ডিবিএ) আয়োজিত ‘বাংলাদেশের পুঁজিবাজারের বর্তমান অবস্থা ও ভবিষ্যৎ করণীয়’ শীর্ষক উন্মুক্ত আলোচনায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে ডিবিএ সভাপতি সাইফুল ইসলামের সভাপতিত্বে বিএসইসির কমিশনার তানভীর হাবিব রহমান, নাহিদ মাহতাব, মো. নাফিজ আল তারিক, হোসাইন সাদাত এবং ডিএসইর চেয়ারম্যান মমিনুল ইসলাম ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক নুজহাত আনোয়ার উপস্থিত ছিলেন।
মাসুদ খান ফ্লোর প্রাইসের কারণে মরগ্যান স্ট্যানলি ক্যাপিটাল ইন্টারন্যাশনাল (এমএসসিআই) বাংলাদেশের সূচক স্থগিত করার বিষয়টি উল্লেখ করে বলেন, "আমি দায়িত্ব নেওয়ার দ্বিতীয় দিনেই ফ্লোর প্রাইস তুলে নিয়েছি।"
তিনি জানান, এর ফলে মরগ্যান স্ট্যানলি আগামী নভেম্বর থেকে আবার এটিকে চালু করবে। বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের ক্ষেত্রে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
বিএসইসি চেয়ারম্যান আরও জানান, বিএসইসি ও ডিএসইর সার্ভিল্যান্স ব্যবস্থা এআইভিত্তিক করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
মাসুদ খান বলেন, "প্রত্যেকটা বন্ড শেয়ারবাজারের মূল বোর্ডে তালিকাভুক্ত হতেই হবে এবং আগামী এক বছরে মেইন বোর্ডে অনেক বন্ড তালিকাভুক্ত হবে।"
তিনি ডাইরেক্ট লিস্টিং রেগুলেশন নিয়ে কাজ প্রায় শেষ হয়েছে জানিয়ে বলেন, "কমিশনের বৈঠকে অনুমোদনের পর এটি জনমত গ্রহণের জন্য পাঠানো হবে।"
মাসুদ খান আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, ডাইরেক্ট লিস্টিংয়ের মাধ্যমে আগামী ছয় মাস থেকে এক বছরের মধ্যে কয়েকটি ভালো কোম্পানি পুঁজিবাজারে আসবে।
তিনি আরো বলেন, "একটি কোম্পানি চাইলে তার নির্দিষ্ট অংশ আইপিওর মাধ্যমে এবং আরেকটি অংশ ডাইরেক্ট লিস্টিংয়ের মাধ্যমে বাজারে ছাড়তে পারবে।"
এ বিষয়ে এক সপ্তাহের মধ্যে বোর্ডের সিদ্ধান্ত আসবে বলে জানান তিনি।
সিকিউরিটিজ অ্যাক্টের ২০এ ধারার উল্লেখ করে মাসুদ খান বলেন, "জনস্বার্থে কোনো কোম্পানিকে পুঁজিবাজারে আসার নির্দেশ দেওয়ার ক্ষমতা কমিশনের রয়েছে।"
তিনি জানান, এ ক্ষমতা প্রয়োগের জন্য ‘পাবলিক ইন্টারেস্ট কোম্পানি’ কী তা নির্ধারণ করে একটি বিধি প্রণয়ন করা হবে।
স্ক্রিপ্ট নেটিং ও টি+১ চালুর কাজও এগিয়ে চলছে বলে জানান বিএসইসি চেয়ারম্যান।
তিনি বলেন, "ডিএসই, সিএসই, সিডিবিএল এবং বিদেশি কাস্টডিয়ান ব্যাংকগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে একটি রোডম্যাপ তৈরি করা হয়েছে।"
মাসুদ খান বলেন, "বাই দ্য অ্যান্ড অফ দ্য ইয়ার আমাদের টি+১ এ যাওয়ার একটা চেষ্টা আমাদের থাকবে।"
চট্টগ্রাম কমোডিটি এক্সচেঞ্জ চালুর বিষয়েও অগ্রগতি হয়েছে বলে জানান বিএসইসি চেয়ারম্যান।
ডিএসইর চেয়ারম্যান মমিনুল ইসলাম বলেন, শেয়াবাজারে নতুন কোম্পানি ও বন্ড তালিকাভুক্তির ক্ষেত্রে প্রধান বাধা ছিল উচ্চ লিস্টিং ফি।
তিনি জানান, নতুন ইস্যুয়ার কোম্পানিগুলোকে উৎসাহিত করতে ডিএসই বোর্ড সম্প্রতি এই ফি সর্বোচ্চ ৮০ শতাংশ পর্যন্ত কমিয়ে সর্বোচ্চ ১৫ লাখ টাকায় বেঁধে দিয়েছে।
এছাড়া ২০২৭ সালের ৩১ মার্চের মধ্যে যারা আইপিও বা ডিরেক্ট লিস্টিংয়ের জন্য আবেদন করবে, তারা এই নির্ধারিত ফি-র ওপর আরো অতিরিক্ত ৫০ শতাংশ ছাড় পাবে।
ডিএসইর ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) নুজহাত আনোয়ার বলেন, ডিএসই ও বিএসইসি অত্যন্ত সমন্বিতভাবে বাজারের উন্নয়ন ও গভর্নেন্স জোরদারে কাজ করছে।
তিনি জানান, বাজারে ভালো আইপিও আনা, ফ্রি মার্জিন, সিসি অ্যাকাউন্ট পরিচালনা এবং আগামী ৫ বছরের স্ট্র্যাটেজিক প্ল্যান বাস্তবায়নে নিয়ন্ত্রক সংস্থার সুনির্দিষ্ট নির্দেশনায় কাজ চলছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম একদিনে দুই দফা বৃদ্ধি পেয়েছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার বাংলাদেশ সময় সকাল ১০টা ৩৬ মিনিটে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ২.২১ ডলার বা ২.৫১ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৯০.৩১ ডলারে পৌঁছেছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট ক্রুডের দাম ১.৮৩ ডলার বা ২.১৯ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৮৫.২৩ ডলারে লেনদেন হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজে উত্তেজনা বৃদ্ধি পাওয়ায় সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে এবং এর ফলে তেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী হয়ে উঠেছে। ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন হামলার কারণে আন্তর্জাতিক তেলের বাজারে এর প্রভাব পড়েছে। হরমুজ প্রণালির লারাক দ্বীপে হামলার পর তেহরানের পালটা হামলায় মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে।
তেলের দাম বৃদ্ধির পরও বাজারে প্রশ্ন উঠছে, এই পরিস্থিতি কতদিন স্থায়ী হবে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যদি সংঘাত দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আসে, তাহলে দাম আবার কমতে পারে। অন্যদিকে, হরমুজ প্রণালিতে সরবরাহ ব্যবস্থা দীর্ঘ সময় ব্যাহত হলে ব্যারেলপ্রতি ৯০ ডলারের উপরে দাম আরো শক্ত অবস্থান নিতে পারে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মালয়েশিয়ায় যেতে ব্যর্থ হওয়া ক্ষতিগ্রস্ত কর্মীদের মধ্যে ১০ হাজার কর্মীকে বিনা খরচে দেশটিতে পাঠানোর উদ্যোগ গ্রহণ করেছে সরকার। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ হাইকোর্টে একটি প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, মালয়েশিয়াগামী ৩৩ হাজার কর্মীর মধ্যে ১৭ হাজার ৭৭৭ জন কর্মী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। আদালত নতুন উদ্যোগের আওতায় তাদের অগ্রাধিকার দেওয়ার নির্দেশ প্রদান করেছে।
সোমবার সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় আদালতে একটি প্রতিবেদন উপস্থাপন করে। প্রতিবেদনে মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর জন্য সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপের আলোচনা করা হয়। এ সংক্রান্ত দায়ের করা রিটের শুনানি শেষে আদালত গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা প্রদান করে।
সরকারের ঘোষিত জিরো কস্ট স্কিমের আওতায় মালয়েশিয়ায় পাঠানোর জন্য নির্ধারিত ১০ হাজার কর্মীর মধ্যে তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে চিহ্নিত ১৭ হাজার ৭৭৭ জন ক্ষতিগ্রস্ত কর্মীকে অগ্রাধিকার দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া, যেসব জনশক্তি রপ্তানিকারক এজেন্সি কর্মী পাঠাতে ব্যর্থ হয়েছে এবং অনিয়মের সঙ্গে জড়িত বলে চিহ্নিত হয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে নেওয়া প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা সম্পর্কে আদালতকে অবহিত করা হয়।
শুনানির এক পর্যায়ে সরকারের নিযুক্ত আইনজীবী আদালতকে জানান, সরকার নতুন একটি উদ্যোগের মাধ্যমে কোনো খরচ ছাড়াই ১০ হাজার কর্মীকে মালয়েশিয়ায় পাঠানোর ব্যবস্থা করছে।
পূর্ণাঙ্গ শুনানি শেষে আদালত মন্তব্য করে, তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে চিহ্নিত ১৭ হাজার ৭৭৭ জন কর্মী মালয়েশিয়ায় যেতে না পারায় আর্থিক ও মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।
এ প্রেক্ষাপটে জিরো কস্ট স্কিমের আওতায় মালয়েশিয়ায় পাঠানোর জন্য নির্ধারিত ১০ হাজার কর্মীর ক্ষেত্রে এসব ক্ষতিগ্রস্ত কর্মীকে অগ্রাধিকার দেওয়ার নির্দেশ দেয় আদালত।
এছাড়া, মামলাটি চার মাসের জন্য মুলতবি রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এবং এ বিষয়ে সরকারের পরবর্তী পদক্ষেপ সম্পর্কে একটি রিপোর্ট দাখিলের নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নেপাল-চীন সীমান্তে হিমবাহ ধসের কারণে আকস্মিক বন্যায় হাজার হাজার মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। গত বুধবারের এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে প্রাণ হারানোর সংখ্যা ৯০০-এর বেশি। অপরদিকে, নিখোঁজ রয়েছেন প্রায় পাঁচ হাজার ব্যক্তি। সময়ের সাথে সাথে এই সংখ্যা লাফিয়ে বাড়ছে।
এদিকে, বন্যায় দুর্গতদের উদ্ধার কার্যক্রম ষষ্ঠ দিনে প্রবাহিত হচ্ছে। নিখোঁজদের সন্ধানে নেপালের বন্যাদুর্গত এলাকায় ২০ হাজারের বেশি সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে, যাদের মধ্যে সামরিক ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা অন্তর্ভুক্ত। অপরদিকে, চীনের অধীন তিব্বত অঞ্চলে সেনাবাহিনী ও পুলিশসহ বিভিন্ন সংস্থার দুই হাজারের বেশি উদ্ধারকর্মী কাজ করছেন।
গতকাল সোমবার নেপালের জাতীয় দুর্যোগ ঝুঁকি প্রশমন ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের বিবৃতিতে জানানো হয়, বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৯০৩ জনে দাঁড়িয়েছে। নিখোঁজের সংখ্যা বেড়ে ৪২৪৭ জন হয়েছে, যার মধ্যে ৫৯২ জন বিদেশি নাগরিক। এছাড়া, বন্যায় দুর্গত ১০ হাজার ৪৫১ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে।
অন্যদিকে, গত রোববার চীনের পক্ষ থেকে প্রকাশিত সর্বশেষ তথ্যে জানানো হয়, বন্যায় দেশটিতে ১৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। নিখোঁজ হয়েছেন ৫৪৬ জন, যাদের মধ্যে ২৬১ জন বিদেশি নাগরিক।
নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন শাহ রোববার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে এক পোস্টে এই আকস্মিক দুর্যোগকে ‘অকল্পনীয় ও হৃদয়বিদারক’ হিসেবে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, ‘রাসুয়ায় ভোটকোশি নদীতে ব্যাপক আকারের বন্যা মোট ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ জানতে এখনো বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে রয়েছে। তবে বিরূপ আবহাওয়া, দুর্গম ভৌগোলিক অবস্থা ও ক্রমাগত ঝুঁকির প্রতিকূল পরিবেশ অতিক্রম করে নাগরিকদের জীবন রক্ষায় আমরা প্রতিজ্ঞাবদ্ধ।’
পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন, নেপালের সামরিক ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীসহ বিভিন্ন সংস্থার ২১ হাজারের বেশি কর্মী উদ্ধার অভিযানে যুক্ত রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী জানান, বন্যায় আহত ২৬৭ ব্যক্তিকে উদ্ধার করে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ১৫৬ জন ইতোমধ্যে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন। এছাড়া, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের আর্থিক সহযোগিতাও প্রধানমন্ত্রীর দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা তহবিল থেকে দেওয়া হচ্ছে।
বালেন শাহ বলেন, বন্যায় দুর্গতদের আশ্রয়ের জন্য রাসুয়া ও নুয়াকোটের বিভিন্ন স্থানে ২৬টি আশ্রয়শিবির স্থাপিত হয়েছে। রবিবার পর্যন্ত সেখানে তিন হাজার ৪৫৪ জন আশ্রয় নিয়েছেন।
বন্যায় মৃতের সংখ্যা বাড়তে থাকায় নেপালের মর্গগুলোতে লাশ ধারণক্ষমতা পূর্ণ হয়ে গেছে। এই কারণে কর্তৃপক্ষ ডিএনএ নমুনা রেখে কিছু লাশ দাফন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
সোমবার কিরগিজস্তান সফররত চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং সাংবাদিকদের জানান, বন্যায় নিখোঁজ চীনা ও বিদেশি নাগরিকদের সন্ধানে বেইজিং জোর প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এছাড়া, বন্যায় দুর্গতদের পুনর্বাসন ও আহতদের চিকিৎসার জন্য সরকার কাজ করছে।
এদিকে, নেপালের ত্রিশূলী নদীতে হাইড্রোপাওয়ার প্রকল্পের টানেলে আটকেপড়া ৯০০-এর বেশি কর্মীকে উদ্ধারের জন্য উদ্ধারকর্মীরা জোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এর মধ্যে তিনশর বেশি কর্মীকে উদ্ধার করা হয়েছে। টানেলে আটকেপড়া কর্মীদের সহায়তায় ড্রিল মেশিন দিয়ে গর্ত খুঁড়ে ওই পথ দিয়ে বাতাস ও খাবার সরবরাহ করা হচ্ছে।
তবে বিরূপ আবহাওয়ার কারণে শুক্রবার থেকে নেপালে কয়েক দফায় উদ্ধার অভিযান বন্ধ রাখতে হয়েছে। গত রোববার রাতভর বৃষ্টি ও নদীর পানি বেড়ে যাওয়ার কারণে উদ্ধার অভিযান স্থগিত করা হয়েছিল। পরে পানির মাত্রা কমে গেলে উদ্ধার অভিযান আবার শুরু হয়, জানায় সেনাবাহিনী।
এছাড়া, নেপালে উদ্ধার অভিযানে সহায়তার জন্য বিশেষ দল পাঠিয়েছে চীন ও ভারত। জাতিসংঘ, রেডক্রস, অস্ট্রেলিয়া, দক্ষিণ কোরিয়া ও আমেরিকা থেকেও ত্রাণ সহায়তা পাঠানো হয়েছে দেশটিতে।
এর আগে বুধবার নেপাল ও চীনের তিব্বত সীমান্ত সংলগ্ন অঞ্চলে হিমবাহ ধসের ঘটনা ঘটে। বিজ্ঞানীদের ধারণা, দুই দেশের সীমান্তে হিমালয় পর্বতের দুর্গম ল্যাঙ্গট্যাঙ্গ লিরেঙ্গ শৃঙ্গের হিমবাহ ধস হয়েছিল। বিশাল আকৃতির এই হিমবাহ সীমান্তের লেন্দে নদীতে পড়ে পানি প্রবাহ বন্ধ করে দেয়। কিছু সময় পর জমে যাওয়া পানি প্রচণ্ড শক্তি নিয়ে তা অতিক্রম করলে পুরো অঞ্চলে আকস্মিক বন্যার সৃষ্টি হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
লোকসানে জর্জরিত রাষ্ট্রায়ত্ত চিনিকলগুলোর আর্থিক সংকটের বোঝা এবার সোনালী ব্যাংকের ওপর চাপ পড়েছে। ব্যাংকটি সরকারি এসব প্রতিষ্ঠানে দেওয়া ঋণের বড় অংশ দীর্ঘদিন ধরে আদায় করতে পারছে না। এসব ঋণের বিপরীতে সরকারের দেওয়া গ্যারান্টির মেয়াদও শেষ হয়ে গেছে। এর ফলে সোনালী ব্যাংক প্রায় ৭,০০০ কোটি টাকার ঋণ খেলাপি হয়ে যাওয়ার শঙ্কায় রয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে ঋণ পরিশোধে সরকারের হস্তক্ষেপের জন্য আবেদন করেছে ব্যাংকটি। পাশাপাশি, ব্যাংকের ব্যালান্সশিটের ওপর চাপ কমানোর জন্য বকেয়া ঋণের বিপরীতে সরকারি বন্ড ইস্যু অথবা নতুন করে রাষ্ট্রীয় গ্যারান্টি দেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
গত ১৯ আগস্ট অর্থ বিভাগের সচিবকে লেখা একটি চিঠিতে সোনালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শওকত আলী খান উল্লেখ করেন, "অনাদায়ী ঋণের বিপরীতে উচ্চ হারে নিরাপত্তা সঞ্চিতি বা প্রভিশন সংরক্ষণ করতে হবে।" তিনি সতর্ক করেন যে, এতে ব্যাংকের প্রভিশন ঘাটতি বিপুল পরিমাণে বাড়বে এবং ব্যাংকের মুনাফার ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।
জানা গেছে, বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্যশিল্প করপোরেশন (বিএসএফআইসি) এবং এর অধীন ৯টি চিনিকলকে বিভিন্ন সময়ে সোনালী ব্যাংক মোট ৩,১০৫ কোটি টাকা ঋণ দিয়েছে। বিএসএফআইসির অনুকূলে বিতরণ করা ঋণের বিপরীতে ব্যাংকটির পাওনা রয়েছে ২,৭৬২ কোটি টাকা।
দীর্ঘদিন ঋণ পরিশোধ না হওয়ায় এর সঙ্গে সুদ ও অন্যান্য চার্জ যুক্ত হয়ে মোট পাওনা দাঁড়িয়েছে ৭,১৯২ কোটি টাকা। এর মধ্যে ২৫৩ কোটি টাকা পরিশোধের পর নিট বকেয়া রয়েছে ৬,৯৩৮ কোটি টাকা।
ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, বিএসএফআইসির জন্য বিতরণ করা ঋণের বিপরীতে ১,০০০ কোটি টাকার সরকারি গ্যারান্টি ছিল। কিন্তু ওই গ্যারান্টির মেয়াদ গত বছরের ডিসেম্বরে শেষ হয়ে গেছে। এর আগে বিএসএফআইসি ও চিনিশিল্পের ঋণের বিপরীতে সোনালী ব্যাংকের অনুকূলে ইস্যু করা মোট ৬টি সরকারি গ্যারান্টির মেয়াদ বাড়ানো হয়েছিল। তবে বর্তমানে এসব গ্যারান্টির মেয়াদও শেষ হয়ে যাওয়ায় ঋণগুলো নিয়ে নতুন জটিলতা তৈরি হয়েছে।
চিনিকলগুলোর ঋণের একটি অংশ বিএসএফআইসি, সংশ্লিষ্ট চিনিকল এবং সোনালী ব্যাংকের মধ্যে সম্পাদিত ত্রিপক্ষীয় চুক্তির ভিত্তিতে মঞ্জুর ও বিতরণ করা হয়। সরকারি গ্যারান্টি ও ত্রিপক্ষীয় চুক্তি থাকায় এতদিন হিসাবগুলো মেয়াদোত্তীর্ণ হলেও অশ্রেণিকৃত রাখা হয়েছিল। তবে সেপ্টেম্বর ২০২৬ প্রান্তিকে এসব ঋণ আবার শ্রেণিকৃত বা খেলাপি হয়ে পড়ার আশঙ্কা করছে সোনালী ব্যাংক।
বর্তমান পরিস্থিতিতে ঋণখেলাপি হওয়া ঠেকাতে এবং ব্যাংকের পাওনা সমন্বয়ের জন্য সোনালী ব্যাংক দীর্ঘদিন ধরে সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে চিঠি দিয়ে আসছে। ২০২৫ সালের মার্চে ব্যাংকটি বিএসএফআইসি ও এর আওতাধীন চিনিকলগুলোর ঋণের বিপরীতে সুদ মওকুফ করে অবশিষ্ট আদায়যোগ্য অর্থের বিপরীতে সরকারি বন্ড ইস্যুর উদ্যোগ নিতে অর্থ বিভাগকে অনুরোধ জানিয়েছে।
একই বছরের ১৩ এপ্রিল অর্থ বিভাগের অতিরিক্ত সচিবের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় শিল্প মন্ত্রণালয়, বিএসএফআইসি ও সোনালী ব্যাংকের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। তবে ওই সভায় কী সিদ্ধান্ত বা সুপারিশ হয়েছিল সে বিষয়ে পরে সোনালী ব্যাংককে কিছু জানানো হয়নি।
চলতি বছরের শুরুতে সোনালী ব্যাংক আবারও অর্থ মন্ত্রণালয়ের কাছে আবেদন জানায়। বকেয়া অর্থ পরিশোধ অথবা সমপরিমাণ সরকারি গ্যারান্টি দেওয়ার জন্য গত ৬ জানুয়ারি অর্থ বিভাগে চিঠি দেওয়া হয়। এরপর ২৬ এপ্রিল আবারও চিঠি দিয়ে সরকারি গ্যারান্টি দেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়। সবশেষে গত ১৯ আগস্ট একই দাবি জানিয়ে অর্থ বিভাগে চিঠি পাঠানো হয়।
সোনালী ব্যাংক বলেছে, চিনিকলগুলোর ঋণ হিসাব শ্রেণিকৃত হওয়া ঠেকাতে এবং বকেয়া অর্থ সমন্বয়ের জন্য জরুরি ভিত্তিতে সরকারি গ্যারান্টি, সরকারি বন্ড ইস্যু অথবা বকেয়া অর্থ পরিশোধের ব্যবস্থা করা প্রয়োজন।
এদিকে সোনালী ব্যাংকের নিজস্ব দায়-সম্পদ ব্যবস্থাপনা কমিটির (অ্যালকো) সভাতেও বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। সভায় চিনিশিল্প খাতের অসমন্বিত ঋণ হিসাব সমন্বয়ের জন্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে যে ব্যাংক গ্যারান্টি দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে, তা দ্রুত বাস্তবায়নে উদ্যোগ নেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
ব্যাংক কর্মকর্তারা জানান, সরকারি গ্যারান্টির মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়ম অনুযায়ী এসব ঋণের বিপরীতে বিপুল পরিমাণ প্রভিশন রাখতে হবে। এতে সোনালী ব্যাংকের প্রভিশন ঘাটতি বেড়ে যেতে পারে এবং মুনাফার ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
এ ছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিদর্শন প্রতিবেদনে সোনালী ব্যাংককে একক ঋণগ্রহীতার ক্ষেত্রে নির্ধারিত ঋণসীমা বা সিঙ্গেল বরোয়ার এক্সপোজার লিমিট অতিক্রমকারী ঋণগুলো নির্ধারিত সীমার মধ্যে নামিয়ে আনার অগ্রগতি জানাতে বলা হয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে সোনালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালককে একাধিকবার ফোন ও বার্তা দেওয়া হলেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এদিকে বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্যশিল্প করপোরেশনের আওতায় রয়েছে ১৫টি চিনিকল। ২০২০ সালে সরকার ৬টি চিনিকল বন্ধ করে দেয়। বর্তমানে চালু থাকা ৯টি চিনিকলের মধ্যে অধিকাংশই লোকসানে রয়েছে।
বিএসএফআইসির কর্মকর্তারা বলছেন, চিনিকলগুলোর উৎপাদন মূল্য ও সরকার নির্ধারিত মূল্যের পার্থক্যের কারণে ট্রেড গ্যাপ তৈরি হচ্ছে। ট্রেড গ্যাপের কারণে চিনিকলগুলো লোকসান দিচ্ছে, এমনটি মনে হতে পারে। ট্রেড গ্যাপ ও ভর্তুকি বাবদ ২০২৫-২৬ অর্থবছর শেষে সরকারের কাছে বিএসএফআইসির পাওনা ৮,০৪১ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে। এটি পাওয়া গেলে এ ধরনের সমস্যার মুখে পড়তে হতো না বলে তারা জানান।
এ বিষয়ে জানতে বিএসএফআইসির চেয়ারম্যান শামছুজ্জামান সুরুজের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি অফিসে গিয়ে কথা বলতে বলেন। পরে তার অফিসে গিয়েও বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ