ঢাকা শুক্রবার, ২৩শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৭ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১২ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শুক্রবার, ২৩শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৭ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

জাতীয় পতাকা, সেনাবাহিনী, সংসদ সবই আছে, শুধু দেশটাই নেই!


জাতীয় পতাকা, সেনাবাহিনী, সংসদ সবই আছে, শুধু দেশটাই নেই!

হলিউডের সিনেমা ‘দ্য টার্মিনাল’-এর একটি দৃশ্য কি মনে পড়ে? বিমানবন্দরে আটকে থাকা প্রধান চরিত্রটি হঠাৎ করে আবিষ্কার করে, তার দেশটি মানচিত্র থেকে মুছে গেছে! এই কাল্পনিক প্রেক্ষাপটের ভিত্তিতে যেন বাস্তব রূপ নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে পূর্ব ইউরোপের একটি অদ্ভুত ভূখণ্ড—ট্রান্সনিস্ট্রিয়া। যদিও এটি কাগজে-কলমে কিংবা আন্তর্জাতিক মানচিত্রে নেই, বর্তমানে এটি বিশ্বজুড়ে ব্যাকপ্যাকার এবং রোমাঞ্চপ্রিয় পর্যটকদের জন্য নতুন আকর্ষণ হয়ে উঠেছে।

ইউক্রেন ও মলদোভার সীমান্তে অবস্থিত আনুষ্ঠানিকভাবে ‘প্রিডনেস্ট্রোভিয়ান মলডেভিয়ান রিপাবলিক’ নামের এই অঞ্চলটি ১৯৯০ সালে স্বাধীনতা লাভ করলেও তিন দশক পেরিয়ে গেলেও জাতিসংঘের কোনো স্বীকৃতি পায়নি। তবে, এই ভূখণ্ডে প্রবেশ করলে যেকোনো ভ্রমণপিপাসুর চোখ কপালে উঠবে! কারণ, এখানে একটি স্বাধীন দেশের সব কিছুই রয়েছে, যেমন নিজস্ব পতাকা, মুদ্রা (রুবল), সেনাবাহিনী, সীমান্ত পুলিশ এবং ডাকটিকিট।

মানচিত্রে ঠিকানা না থাকা এই ভূখণ্ডটিকে পর্যটকেরা ‘ইউরোপের শেষ সোভিয়েত রাষ্ট্র’ বা ‘জীবন্ত টাইম ক্যাপসুল’ হিসেবে উল্লেখ করছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ট্রাভেল ভ্লগারদের আগ্রহের ফলে জায়গাটি এখন বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। এখানে প্রবেশ করলে সরাসরি গত শতাব্দীর নব্বইয়ের দশকে পা রাখা হয়। রাজধানী তিরাসপোলের রাস্তায় লেনিনের বিশাল মূর্তি, রহস্যময় বাংকার এবং সরকারি ভবনের চূড়ায় কাস্তে-হাতুড়ির প্রতীকগুলো পর্যটকদের সোভিয়েত জমানায় ফিরিয়ে নিয়ে যায়।

আরও পড়ুন: কংগ্রেসকে পরজীবী ও রাহুলকে ব্যর্থ পণ্য আখ্যা দিলেন নরেন্দ্র মোদি

এখানে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি না থাকায় কোনো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর নেই। ট্রান্সনিস্ট্রিয়ায় যেতে হলে পর্যটকদের মলডোভার রাজধানী কিশিনাউ থেকে স্থানীয় মিনিবাস (মার্শরুটকা)-এ চড়ে যেতে হয়।

এখানে প্রবেশের জন্য আগে থেকে কোনো ভিসার ঝামেলা পোহাতে হয় না। তবে সীমান্তে পৌঁছানোর পর পাসপোর্ট যাচাই-বাছাই করে স্থানীয় সীমান্ত রক্ষীরা বিদেশি ভ্রমণকারীদের একটি বিশেষ সাময়িক প্রবেশপত্র (ট্যুরিস্ট পারমিট) প্রদান করে। বিশ্বব্যাপী পর্যটকদের এই আগ্রহ দেখে ইতিমধ্যে রুশ ও ইংরেজি ভাষায় অফিসিয়াল ট্রাভেল গাইডও প্রকাশ করেছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।

বহু বছর ধরে অবৈধ অস্ত্র এবং কেজিবির প্রভাবের জন্য কুখ্যাত হলেও বর্তমানে চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। রেডিট এবং ইনস্টাগ্রামের একাধিক জনপ্রিয় ট্রাভেল ভ্লগারের মতে, ট্রান্সনিস্ট্রিয়া এখন ‘বিশ্বের সবচেয়ে নিরাপদ অস্বীকৃত দেশ’। এখানকার স্থানীয়দের অতিথিপরায়ণতা, স্বল্পমূল্যে আন্তর্জাতিক মানের আঙুরের ব্র্যান্ডি বা ওয়াইন এবং ইউরোপের অন্যান্য দেশের তুলনায় অবিশ্বাস্য কম খরচে থাকার ব্যবস্থা পর্যটকদের মুগ্ধ করছে।

অবকাঠামো বা সার্বভৌমত্ব টিকিয়ে রাখার জন্য এই অঞ্চলটি রাশিয়ার আর্থিক সহায়তার ওপর অনেকটাই নির্ভরশীল। তবে রাজনীতি এবং ভূ-রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে সোভিয়েত ইতিহাস, রহস্য এবং কম খরচে রোমাঞ্চের খোঁজে প্রতিবছর হাজার হাজার ভ্রমণপিপাসু এখন ‘মানচিত্রহীন’ এই দেশে ভিড় জমাচ্ছেন!

আরও পড়ুন: পাকিস্তানের গোয়াদরে নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে নিহত ৩ সন্ত্রাসী

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জাতীয় ফুল শাপলা, পাঠ্যবইয়ে আছে, গোদাগাড়ীতে বিলুপ্তির পথে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ২ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১০:৪৭ এম


জাতীয় ফুল শাপলা, পাঠ্যবইয়ে আছে, গোদাগাড়ীতে বিলুপ্তির পথে

রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার পাশাপাশি উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন উপজেলার গ্রামাঞ্চলে খাল, বিল, পুকুর, নালা, ডোবা ও উন্মুক্ত জলাশয়গুলো এখন আর তেমনভাবে দেখা যাচ্ছে না। গ্রামবাংলার ঐতিহ্য ও জাতীয় ফুল শাপলা ও ঢ্যাপের অস্তিত্ব সংকটে রয়েছে। লাল শাপলা তো দূরের কথা।

জাতীয় ফুল শাপলা বাংলাদেশের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের প্রতীক। শাপলা ফুল বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করে। একটি নতুন রাজনৈতিক দল দলীয় প্রতীক হিসেবে শাপলা ফুল পেতে চেয়েও পাননি। সকল বয়সের মানুষের কাছে এই ফুলটি সমাদৃত। যেকোনো পুকুর, বিল, ডোবা নালায় জন্ম নিয়ে সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করে। কিন্তু প্রকৃতির বিরূপ প্রভাব, জলবায়ুর পরিবর্তন এবং মানবসৃষ্ট প্রতিবন্ধকতার কারণে মুক্ত জলাশয় বিলুপ্ত হচ্ছে এবং শাপলা ফুল হারিয়ে যাচ্ছে। শাপলা ফুলের সেই সমারোহ আর চোখে পড়ে না। দিনে দিনে শাপলা-শালুক যেন একেবারেই বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে। অথচ ১৫-২০ বছর আগে বড় বড় পুকুর, ডোবা ও বিলের বুক জুড়ে শাপলা ফুলের দৃষ্টি নন্দন সৌন্দর্য ছিল। শরৎকালে দীঘি ও বিলের বুক জুড়ে প্রকৃতি অন্যরকম সাজে সেজে উঠত। সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখা যেত চারদিকে ফুটন্ত সাদা ও লাল শাপলার সমারোহ। মনে হতো, এ যেন শাপলা ফুলের জগৎ।

এক সময় গ্রাম-গঞ্জে ডোবা-নালায় এবং খালেবিলে আমাদের জাতীয় ফুল শাপলার সমারোহ ছিল দেখার মতো। বর্ষা থেকে শরতের শেষ পর্যন্ত নদী-নালা, খাল-বিল, জলাশয়ের নিচু জমিতে প্রচুর পরিমাণে শাপলা, শালুক ও ঢ্যাপ ফুল জন্মাত। লাল কিংবা সাদা শাপলা দেখে মুগ্ধ হন না, এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কিন্তু কালের বিবর্তনে হারিয়ে যাচ্ছে শাপলা ফুল এবং বিপন্নের পথে জলাভূমির ফল ঢ্যাপ।

শাপলা ফুল শুধু পরিবেশ ও প্রকৃতির সৌন্দর্য বৃদ্ধি করে না, এর রয়েছে অনেক পুষ্টিগুণ। এছাড়া এ ফুলের গাছের শিকড় ও মাথা ফেলে দেওয়ার মতো নয়। শাপলার নরম ডাঁটা, মাথা ও গোড়ায় জন্ম নেওয়া ড্যাপ এবং শালুক সবই মুখরোচক পুষ্টি সমৃদ্ধ খাদ্য উপাদান। শাপলার গাছ বা ডাঁটা পানির গভীরতায় ১৫ থেকে ২০ ফুট পর্যন্ত লম্বা হয়। মাছ-মাংস রান্নায় উৎকৃষ্ট তরকারি হিসেবে এর ডাঁটা জনপ্রিয়। শালুক আগুনে পুড়িয়ে কিংবা সেদ্ধ করে খাওয়া হয়। আগের দিনে শরতের শেষে বন্যার পানি নেমে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বিলজুড়ে শালুক তোলার ধুম পড়ে যেত। শালুক পোড়া গন্ধ এখনো প্রবীণদের শৈশবের কথা মনে করিয়ে দেয়। শাপলা ও পদ্ম সাধারণত দিঘী বা বিলে ফুটে থাকে। তখন গ্রামের ছেলে-মেয়েরা সাঁতার কেটে এই ফুল তুলে আনত। শাপলাকে দুভাবে কেটে মালার মতো করে একজন অপরজনের গলায় পড়িয়ে দিত। রসবোধ ও সৌন্দর্য হারিয়ে যাচ্ছে মহাকালের অতল গহ্বরে। বিশেষজ্ঞদের মতে, জলবায়ুর ব্যাপক পরিবর্তনের কারণে আগের মতো সঠিক সময়ে বন্যা হচ্ছে না। এছাড়া আবাদি জমিতে অপরিমিত কীটনাশক ও রাসায়নিক সার প্রয়োগের ফলে অনেক শাপলা বীজ বা মাটির নিচে লুকিয়ে থাকা মা শালুক বিনষ্ট হয়ে যাচ্ছে। ফলে নতুন করে শাপলার গাছ জন্ম হচ্ছে না। এখন শরৎকাল শেষ হলেও বড় বড় দীঘি ও জলাশয়ে দেশের কোথাও সেই আগের মতো শাপলা-শালুকের দেখা মেলেনা। এ জলজ উদ্ভিদ আজ বিলুপ্তির পথে।

এমন পরিস্থিতি চলতে থাকলে আগামী ২০ বছরে শাপলার অস্তিত্ব কতটুকু টিকে থাকবে, তা দেখার বিষয়। এলাকাবাসী বলছেন, বর্তমানে গ্রাম-বাংলায় বিভিন্ন খালেবিলে অতিরিক্ত পুকুর খনন, কৃষি জমিতে ও রাস্তার ধারের নয়নজুলিত ভরাট করে স্থাপনা নির্মাণ, অতি মাত্রায় নিচু জমিতে কীটনাশক ব্যবহার এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে দিন দিন বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে শাপলা ফুল ও ঢ্যাপ। শাপলার ফলকেই 'ঢ্যাপ' বলা হয়। কিছু আঞ্চলিক নামে 'ভেট' বলা হয়। এক সময় গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর একটি বিরাট অংশ শাপলা ফুলের ডাঁটা তরকারি হিসেবে খেতেন। শুধু তাই নয়, এই ঢ্যাপ আমাশয়, বদ হজম এবং রক্ত আমাশয় নিরাময়ের জন্য কার্যকরী বলেও প্রচলিত রয়েছে গ্রামে।

দেশের বিভিন্ন বিলে অপরিকল্পিতভাবে অতিরিক্ত পুকুর খনন, কৃষি জমিতে স্থাপনা নির্মাণের ফলে শাপলা ফুল আজ বিলুপ্তির পথে। বিভিন্ন বিল ও জলাশয়, যেখানে প্রাকৃতিকভাবে মাছ চাষ হতো, সেগুলো এখন পরিকল্পিতভাবে মাছ চাষের আওতায় নিয়ে আসার কারণে সেখানে আর শাপলা ফুল জন্মাতে পারে না। প্রাচীনকাল থেকেই শাপলার ফল (ঢ্যাপ) দিয়ে চমৎকার সুস্বাদু খৈ তৈরি হয়। অনেকে শাপলা বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। স্থানীয়ভাবে সহজলভ্য হওয়ায় এলাকার লোকজন শাপলা তুলে খাদ্য হিসেবে ব্যবহার করে বিক্রি করতো।

বর্তমান সভ্যতায় বাড়তি জনগণের চাপের কারণে আবাদি জমি ভরাট করে বাড়ি, পুকুর, মাছের ঘের বানানোর ফলে বিলের পরিমাণ কমে গেছে। যার কারণে শাপলা জন্মানোর জায়গাও কমে আসছে। গ্রাম বাংলার আনাচে-কানাচে অহরহ দেখা যেত জলে ভাসা ফুলটি। তবে এখন অযত্ন আর অবহেলায় জাতীয় ফুল শাপলা হারিয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। সকালে অথবা চাঁদনি রাতে বিলে-ঝিলে বা জলাশয়ে ফুলটি যখন অনেক ফুটে থাকে, তখন সেখানে এক অপরূপ সৌন্দর্যের সৃষ্টি হয়। বর্ষা মৌসুমে বিভিন্ন এলাকায় খাল-বিল, জলাশয় ও নিচু জায়গায় পানি জমা থাকলে সেখানেই প্রাকৃতিকভাবে জন্ম নেয় আমাদের জাতীয় ফুল শাপলা। দিন দিন দেশের বিল, ঝিল, খাল, নদী দখল, ভরাট, জমিতে অতি মাত্রায় কীটনাশক ব্যবহার, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে দিন দিন বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে শাপলাফুল।

কিন্তু শাপলা ফল' বা 'ঢ্যাপ প্রকৃতি থেকে হারিয়ে যেতে বসেছে। এক সময় গোদাগাড়ীর বিল পাতিকলা, দুর্গাদহ, সিধনা বিল, ঝিকড়া বিলসহ পুকুর, ডোবা, মুক্ত জলাশয়ে এবং তানোর উপজেলার কুমারী বিল ও পুকুর, খাল ও জলাশয়ে শাপলা ফুল ফুটত। এসব খাল জলাশয়, পুকুর ও বিল থেকে শাপলা ফুল ও ঢ্যাপ তুলে উপজেলার হাট বাজারে বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করতেন অনেকেই। কিন্তু আস্তে আস্তে ভরাট হয়ে যাচ্ছে জলাশয়, খাল, বিল। অপর দিকে দুই উপজেলা সরকারি খাস পুকুরগুলো সরকারিভাবে লিজ দেয়ার কারণে বানিজ্যিকভাবে মাছ চাষ করা হচ্ছে, গোবর, মরা মুরগি, হাঁসমুরগির নাড়িভুঁড়ি পানিকে আরও বিষাক্ত করে পচা দুগন্ধে পরিণত করছে। আবার অনেক পুকুর ভরাট করা হচ্ছে। ফলে দিনে দিনে হারিয়ে যাচ্ছে শাপলা ফুল ও ঢ্যাপ। শাপলার ফল বা ঢ্যাপ দিয়ে চমৎকার সুস্বাদু খই ভাজা হয়। যেটি গ্রাম-গঞ্জের মানুষের কাছে 'ঢ্যাপের খই' নামে পরিচিত।

এ ঢ্যাপের মধ্যে অসংখ্য বীজদানা থাকে। এসব বীজদানা রোদে শুকিয়ে চাল তৈরি করা হয়। ঢ্যাপের পুষ্টিকর চাল থেকে তৈরি করা হয় খই ও নাড়ু। খালবিল ও জমিতে অতিমাত্রায় কীটনাশক ব্যবহার, জলবায়ু পরিবর্তন, প্রাকৃতিক জলাভূমিগুলো ধ্বংসের কারণে সুস্বাদু ঢ্যাপ বিলুপ্ত হচ্ছে বলে অনেকেই মনে করেন। গোদাগাড়ী পৌরসভার সাবেক কমিশনার মুকুল বলেন, আগে বাড়ির আশেপাশের পুকুর, ধানী জমির জলাশয়ে ফুটে থাকা শাপলার (লাইল) কাঁচা ও রান্না করে খাওয়ার পাশাপাশি ভ্যাট নামে পরিচিত ফল দিয়ে খই বানিয়ে খেতাম। কিন্তু এখন তো এগুলো দেখাই যায় না। যুবকেরা শাপলার ফল, ফুল সংগ্রহ করতে পানিতে নামতো ঝোঁক কামড় দিয়ে রক্তবের করে দিত। ঝোঁক মারতে সবাই লবন (নুন) ব্যবহার করতো।

দিগরাম উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক মোঃ ইফতিখার হোসেন বলেন, দেশে বাড়তি জনগণের চাপের কারণে পুকুর, জলাশয় ও আবাদী জমি ভরাট করে বাড়িসহ নানা স্থাপনা নির্মাণ, পুকুরে বানিজ্যিকভাবে মাছ করার ফলে এখন পুকুর, জলাশয়ও নাই, তাই শাপলা ফুল আর দেখা যাচ্ছে না বলে জানান তিনি।

মুন্ডুমালা পৌর এলাকার সহকারী শিক্ষিকা আসিফা খাতুন বলেন, এক সময় তানোর বিল কুমারী বিলে প্রচুর পরিমাণে শাপলা ফুল ফুটত। কিন্তু এখন আর দেখা যাচ্ছে না। তারা বলেন, তানোর বিল কুমারী বিল থেকে হারিয়ে গেছে, জাতীয় ফুল শাপলা, শালুক, লিঘাড়, সিঙ্গার, পদ্ম ফুলসহ বিভিন্ন প্রজাতির জলজ ফুল ও ফল।

গোদাগাড়ী উপজেলার সাবেক নির্বাহী অফিসার ফয়সাল আহমেদ বলেন, বাসার সামনে একটি বড় পুকুর আছে সেখানে শাপলা আছে বেশকিছু ফুলও ফুটে থাকে, দেখতে সুন্দর লাগে। কেউ না উঠালে, এগুলি এমনি বৃদ্ধি পেতে থাকে। জনপ্রতিনিধি, সাধারণ মানুষ, শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন কাজে এসে এ শাপলা ফুলের ছবি তুলে ফেসবুকে আপলোড করে আনন্দ উপভোগ করতো। উপজেলার বিভিন্ন বিল, পুকুরে প্রচুর শাপলা ফুটতো, এখন আর এগুলি দেখা যায় না। খই, নাড়ুসহ বিভিন্ন সুস্বাদু খাবার তৈরী হত। তিনি আরও জানান, শাপলা আমাদের জাতীয় ফুল। এই জাতীয় ফুলকে রক্ষা করা আমাদের সকলের দায়িত্ব। এলাকার মানুষ ইচ্ছা করলে বাসাবাড়ীর পাশের পুকুর সুন্দর দৃশ্যের জন্য করতে পারেন।

শীব নদীর উপশাখা বিল কুমারী বিল ও ট্যাংরা বিলে আমাদের বাপ-দাদা এক সময় মাছ ধরার পাশাপাশি শাপলা ফুল ও বিভিন্ন জলীয় ফল তুলে বাজারে বিক্রি করতো। কিন্তু এখন আর ফুটে না, তাই দেখা যায় না জাতীয় ফুল শাপলা, পদ্ম ফুল ও শালুকসহ জলীয় ফুল ও ফল। তিনি বলেন, এক সময় বিভিন্ন পুকুর ও জলাশয়েও জাতীয় ফুল শাপলা হরহামেশা দেখা যেত। কিন্তু এখন আর পুকুর, খাল, জলাশয়েও দেখা যায় না জাতীয় ফুল শাপলা।

উপজেলা কৃষি কর্মকতা মরিয়ম আহমেদ এ প্রতিবেদককে জানান, জলবায়ু ব্যাপক পরিবর্তনের ফলে সঠিক সময়ে বৃষ্টিপাত হচ্ছে না। বর্ষা শেষ না হতেই খাল-বিল ও জলাশয়গুলো শুকিয়ে যাচ্ছে এবং লবণাক্ততা বেশি হওয়ার ফলে এলাকায় শাপলা জন্মানোর ক্ষেত্র বিনষ্ট হচ্ছে। এছাড়া আবাদি জমিতে অনিয়ন্ত্রিত কীটনাশক ও রাসায়নিক সার প্রয়োগের ফলে অনেক শাপলা বীজ বা মাটির নিচে লুকিয়ে থাকা মা-শালুক বিনষ্ট হয়ে যাচ্ছে। যার ফলে নতুন করে শাপলার গাছ জন্মাচ্ছে না। ফলে দিনে দিনে আমাদের জাতীয় ফুল শাপলার বিলুপ্তি ঘটছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সালমান মুক্তাদিরের শ্বশুরের চারটি মদের গুদাম সিলগালা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ২ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১০:৪৭ এম


সালমান মুক্তাদিরের শ্বশুরের চারটি মদের গুদাম সিলগালা

কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের শ্বশুর শেখ নুর ইসলামের চারটি ওয়্যারহাউজ সিলগালা করা হয়েছে, যেগুলোতে ‘অননুমোদিত’ভাবে শুল্কমুক্ত মদ রাখার অভিযোগ রয়েছে।

গতকাল বৃহস্পতিবার গভীররাতে গুলশানের ‘টস বন্ড প্রাইভেট লিমিটেড’-এ এক যৌথ অভিযানের মাধ্যমে সেসব ওয়্যারহাউজ সিলগালা করা হয়। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

এনবিআর জানায়, কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর (সিআইআইডি), মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর এবং স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) এ অভিযানটি পরিচালনা করেছে।

এনবিআর-এর বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়, প্রাথমিকভাবে ‘গুরুতর অসঙ্গতি’ পাওয়ার কারণে ‘অধিকতর যাচাইয়ের জন্য’ ওয়্যারহাউজগুলো সিলগালা করা হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বার কাউন্সিল আইনজীবীদের নিয়ন্ত্রক সংস্থা হিসেবে ‘রোল মডেল’

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ২ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১১:১০ এম


বার কাউন্সিল আইনজীবীদের নিয়ন্ত্রক সংস্থা হিসেবে ‘রোল মডেল’

॥ এস এম আশিকুজ্জামান ॥

ঢাকা, ২ অক্টোবর, ২০২৬ : মানসম্মত পরীক্ষার মাধ্যমে আইনজীবী তালিকাভুক্তি, পেশাগত অসদাচরণের জন্য নিজেদের ট্রাইব্যুনালে বিচার এবং মৃত্যু পরবর্তী আর্থিক অনুদানের নিশ্চয়তার কারণে বাংলাদেশ বার কাউন্সিল বর্তমানে পেশাজীবীদের নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর মধ্যে ‘রোল মডেল’ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

‘বাংলাদেশ লিগ্যাল প্র্যাকটিশনারস অ্যান্ড বার কাউন্সিল অর্ডার-১৯৭২’ অনুযায়ী প্রতিষ্ঠিত আইনজীবীদের নিয়ন্ত্রক সংস্থাটির মূল দায়িত্ব দেশের নতুন আইনজীবীদের মানসম্পন্ন পরীক্ষার মাধ্যমে তালিকাভুক্ত করা।

আইনজীবী তালিকাভুক্তির প্রক্রিয়া

আইন বিষয়ে স্নাতক বা এলএলবি ডিগ্রিধারী আইন পেশায় যুক্ত হতে ইচ্ছুক হলে প্রথমে ১০ বছরের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন একজন আইনজীবীর অধীনে ছয় মাসের শিক্ষানবিশকাল সম্পন্ন করতে হয়। শিক্ষানবিশকাল শেষে বার কাউন্সিলের আইনজীবী তালিকাভুক্তির পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করা সম্ভব। পরীক্ষার প্রথম ধাপে নৈর্ব্যক্তিক (এমসিকিউ) পরীক্ষা, পরবর্তীতে লিখিত এবং সর্বশেষ মৌখিক (ভাইভা) পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলে আইনজীবী সনদ অর্জনকারীরা জেলা আদালতে আইন পেশা পরিচালনার সুযোগ পান।

অন্যদিকে, হাইকোর্টের আইনজীবী হতে হলে জেলা আদালতে দুই বছর আইন পেশা পরিচালনাকারী আইনজীবীকে বার কাউন্সিলের হাইকোর্ট পারমিশন পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে হয়। তবে এলএলএম ডিগ্রিধারী আইনজীবীরা জেলা আদালতে এক বছর আইন পেশা পরিচালনার পর হাইকোর্ট পারমিশন পরীক্ষা দিতে পারেন। হাইকোর্ট পারমিশনের লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় সফল হলে আইনজীবীরা হাইকোর্টে আইন পেশা পরিচালনার জন্য বার কাউন্সিল থেকে সনদ লাভ করেন।

আইনজীবী তালিকাভুক্তির বিষয়ে বার কাউন্সিলের চেয়ারম্যান অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা-বাসস’কে জানিয়েছেন, আইনজীবী তালিকাভুক্তিকরণ বার কাউন্সিলের অন্যতম প্রধান কাজ। দীর্ঘ সময় ধরে এই প্রক্রিয়াটি নিয়মিত ছিল না। তবে তিনি দায়িত্ব গ্রহণের পর যতদূর সম্ভব এটি নিয়মিত করা হয়েছে এবং ইতোমধ্যে আইনজীবী তালিকাভুক্তির দুটি পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে।

ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল বলেন, ‘যার নাই কোনো গতি, সে করে ওকালতি’- এমন কথিত ধারণাকে দূরে ঠেলে আইন পেশার মান মর্যাদা বৃদ্ধি ও মেধার চর্চা এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। আইনজীবী তালিকাভুক্তির সিলেবাসকে যুগোপযোগী করে সংশোধন করা এবং বছরে দুটি পরীক্ষা নেওয়ার পাশাপাশি প্রশ্নের মান উন্নত করার লক্ষ্যে কাজ করা হচ্ছে। প্রকৃত মেধাবীদের আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্ত করার লক্ষ্য রয়েছে।

আইনজীবীদের প্রশিক্ষণ বিষয়ে বার কাউন্সিলের চেয়ারম্যান জানিয়েছেন, সারা দেশে আইনজীবীদের প্রশিক্ষণের জন্য একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। আইন মন্ত্রণালয় থেকে আইনজীবীদের ট্রেনিংয়ের জন্য বার কাউন্সিলকে ৫০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। আশা করা হচ্ছে, আইনজীবীরা আগামীতে বার কাউন্সিলের ট্রেনিং থেকে উপকৃত হবেন।

বার কাউন্সিল গঠন

বার কাউন্সিল ১৫ জন সদস্যের সমন্বয়ে গঠিত। বাংলাদেশের অ্যাটর্নি জেনারেল পদাধিকারবলে বার কাউন্সিলের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। বাকি ১৪ জন সদস্যের মধ্যে সাধারণ আসনে (৭টি) সারা দেশের আইনজীবীদের সরাসরি ভোটে ৭ জন সদস্য নির্বাচিত হন। এছাড়া সারা দেশের স্থানীয় বার অ্যাসোসিয়েশনগুলোকে (আইনজীবী সমিতি) ৭টি গ্রুপে (গ্রুপ-এ থেকে গ্রুপ-জি) ভাগ করা হয়। প্রতিটি গ্রুপ থেকে আইনজীবীদের ভোটে একজন করে মোট সাতজন সদস্য নির্বাচিত হন। সরাসরি ভোটে নির্বাচিত ১৪ জন সদস্য তাদের প্রথম সভায় নিজেদের মধ্য থেকে একজনকে ‘ভাইস-চেয়ারম্যান’ হিসেবে নির্বাচন করেন।

বাংলাদেশ লিগ্যাল প্র্যাকটিশনার্স অ্যান্ড বার কাউন্সিল অর্ডার, ১৯৭২ এর ক্ষমতাবলে গত ৩০ জুন ১৫ সদস্যের একটি অ্যাড-হক বার কাউন্সিল গঠন করা হয়েছে। এই অ্যাডহক বার কাউন্সিল ১ জুলাই থেকে ৩০ জুন ২০২৭ পর্যন্ত এক বছর মেয়াদে কার্যকর থাকবে বলে আইন মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।

বার কাউন্সিলে ১০ কমিটি

বার কাউন্সিলের কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য ১০টি কমিটি রয়েছে। এই কমিটিগুলো হলো- এক্সিকিউটিভ কমিটি, এনরোলমেন্ট কমিটি, ফিন্যান্স কমিটি, লিগ্যাল এডুকেশন কমিটি, ল রিফর্ম কমিটি, হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড লিগ্যাল এইড কমিটি, হাউস কমিটি, রিলিফ কমিটি, রোল অ্যান্ড পাবলিকেশন কমিটি এবং কমপ্লেইন্ট অ্যান্ড ভিজিল্যান্স কমিটি।

আইনজীবী তালিকাভুক্তি ও পরীক্ষা সংক্রান্ত বিষয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত গুরুত্বপূর্ণ এনরোলমেন্ট কমিটির চেয়ারম্যান প্রধান বিচারপতি মনোনীত সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের একজন বিচারপতি। এছাড়া প্রধান বিচারপতি মনোনীত হাইকোর্টের অপর দুজন বিচারপতি এই কমিটির সদস্য হিসেবে থাকেন। অ্যাটর্নি জেনারেল (পদাধিকারবলে) এবং বার কাউন্সিলের সদস্যদের মধ্যে নির্বাচিত একজন আইনজীবীও এনরোলমেন্ট কমিটির সদস্য হন।

আইনজীবীর অসদাচরণ বিচারে ট্রাইব্যুনাল

আইনজীবীদের পেশাগত অসদাচরণের বিচার করার জন্য বার কাউন্সিলের অধীনে একটি ট্রাইব্যুনাল রয়েছে। এই ট্রাইব্যুনাল আইনজীবীদের বিরুদ্ধে পেশাগত অসদাচরণের অভিযোগের তদন্ত ও বিচার কার্য পরিচালনা করে।

সাক্ষ্য গ্রহণ, সমন জারি এবং অন্যান্য কার্যধারার ক্ষেত্রে দেওয়ানি কার্যবিধির ক্ষমতা রয়েছে বার কাউন্সিল ট্রাইব্যুনালের। পেশাগত অসদাচরণের জন্য দোষী প্রমাণিত হলে আইনজীবীর বিরুদ্ধে মূলত তিন ধরনের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। এগুলো হলো- তিরস্কার বা ভর্ৎসনা, আইনজীবী সনদ সাময়িক বাতিল বা স্থগিতকরণ অথবা পেশা থেকে স্থায়ী বহিষ্কার। তবে বার কাউন্সিল ট্রাইব্যুনালের কোনো সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি আদেশ পাওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে হাইকোর্টে আপিল করার সুযোগ রয়েছে।

আইনজীবীদের অসদাচরণের বিচারের বিষয়ে বার কাউন্সিলের চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল বাসস’কে জানিয়েছেন, কোনো আইনজীবীর বিরুদ্ধে পেশাগত অসদাচরণের অভিযোগ আসলে অত্যন্ত স্বচ্ছতার সঙ্গে অভিযুক্ত আইনজীবীকে তার বক্তব্য উপস্থাপনের সুযোগ দেওয়া হয়। একই সঙ্গে অভিযোগকারী ব্যক্তিকে তার অভিযোগ উপস্থাপনের সুযোগ দেওয়া হয়। বর্তমানে বার কাউন্সিলে পাঁচটি ট্রাইব্যুনাল পূর্ণাঙ্গভাবে কাজ করছে এবং অনেক অভিযোগ নিষ্পত্তি হচ্ছে। দেশের পেশাজীবীদের নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর মধ্যে আইনজীবীদের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ বার কাউন্সিল একটি ‘রোল মডেল’ হিসেবে পরিগণিত হচ্ছে বলে উল্লেখ করেন অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল।

আর্থিক অনুদানে বেনাভোলেন্ট ফান্ড

কোনো আইনজীবী মৃত্যুবরণ করলে তার নমিনি বা পরিবার বার কাউন্সিলের (বেনাভোলেন্ট ফান্ড) তহবিল থেকে আর্থিক অনুদান পেয়ে থাকেন। কত বছর চাঁদা দেওয়া হয়েছে সে অনুযায়ী চাঁদা দানকারী আইনজীবীর মৃত্যুদাবির টাকা নির্ধারিত হয়। যেখানে ৪০ বছর বা তার চেয়ে বেশি সময় চাঁদা দানকারীর মৃত্যুদাবি ১০ লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

বেনাভোলেন্ট ফান্ড বিষয়ে বার কাউন্সিলের সচিব (জেলা ও দায়রা জজ) মোহাম্মদ কামাল হোসেন সিকদার বাসস’কে জানিয়েছেন, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে সর্বোচ্চ ৭ কর্মদিবসের মধ্যে আইনজীবীর মৃত্যুদাবির টাকার চেক স্ব-স্ব আইনজীবী সমিতির মাধ্যমে পৌঁছে দেওয়া হয়।

সুপ্রিম কোর্ট সংলগ্ন দৃষ্টিনন্দন ১৫ তলা বিশিষ্ট বাংলাদেশ বার কাউন্সিল ভবনে আইনজীবীদের জন্য উন্নত মানের রেস্ট হাউজ সুবিধা রয়েছে। আইনজীবীরা নির্ধারিত ভাড়া দিয়ে এই রেস্ট হাউজে থাকতে পারেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

যোগদানকৃত প্রাথমিকের সহকারী শিক্ষকদের পদায়নের সময় বৃদ্ধি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ২ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১১:১০ এম


যোগদানকৃত প্রাথমিকের সহকারী শিক্ষকদের পদায়নের সময় বৃদ্ধি

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে নিয়োগপ্রাপ্ত প্রার্থীদের জন্য যোগদান আজ বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) থেকে শুরু হয়েছে। প্রার্থীরা নিয়োগপত্রের শর্ত পূরণ করে যোগদান করছেন। তবে, পদায়নের জন্য অপেক্ষা বেড়ে গেছে। যোগদানকৃত প্রাথমিকের সহকারী শিক্ষকদের জন্য পদায়নের সময় বৃদ্ধি করা হয়েছে। আজ রাতে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের একটি আদেশে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে, নবনিযুক্ত শিক্ষকগণের পদায়ন আদেশের তারিখ ৪ অক্টোবরের পরিবর্তে ১১ অক্টোবর নির্ধারণ করা হয়েছে। সেই অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অনুরোধ করা হয়েছে। একই সঙ্গে, ১ অক্টোবর যোগদানকৃত শিক্ষকগণের জন্য ৪ অক্টোবর থেকে ৮ অক্টোবর পর্যন্ত ওরিয়েন্টেশন প্রশিক্ষণের আয়োজন করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

আদেশের কপি ৩ পার্বত্য জেলা ব্যতীত অন্যান্য সব জেলা সংশ্লিষ্টদের কাছে পাঠানো হয়েছে।

তথ্য অনুযায়ী, সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা ২০২৫-এর ফলাফলের ভিত্তিতে ৬১ জেলায় ১৪ হাজার ৩৮৪ জনকে চূড়ান্তভাবে নিয়োগের জন্য সুপারিশ করা হয়েছিল। গত ৮ ফেব্রুয়ারি প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের ওয়েবসাইটে এই ফল প্রকাশ করা হয়। যাচাই-বাছাইয়ের পর ২৪ সেপ্টেম্বর নিয়োগপ্রাপ্তদের তালিকা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসগুলো প্রকাশ করে। তাদের ১ অক্টোবরের মধ্যে যোগদানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। তবে, সুপারিশ পাওয়ার পরও অনেকের নাম চূড়ান্ত নিয়োগের তালিকায় না থাকায় অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে কেউ কেউ পরে নিয়োগপত্র পেয়েছেন, আবার অনেকেই গতকাল পর্যন্ত নিয়োগপত্র পাননি।

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চূড়ান্তভাবে সুপারিশ পাওয়া ১৪ হাজার ৩৮৪ জনের মধ্যে ৫৩০ জন নিজের ইচ্ছায় আবেদন করেননি অথবা প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেননি। ফলে চূড়ান্ত আবেদনের সংখ্যা ১৩ হাজার ৮৫৪ জনে দাঁড়িয়েছে। এই শিক্ষকদের মধ্যে এখনো প্রায় শতাধিকের বেশি প্রার্থীকে চূড়ান্ত নিয়োগপত্র দেওয়া হয়নি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১২ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৩
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৪৯
মাগরিব ০৫:২৬
ইশা ০৬:৩৭
সূর্যোদয় : ০৫:৫৯ সূর্যাস্ত : ০৫:২৬
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%