বৃহস্পতিবার, ১৫ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০৪:০৯ পি.এম
প্রকাশিত: ১৫ অক্টোবর, ২০২৪ (বা প্রয়োজনাভিমুখী তারিখ)
সংসদ সদস্য মানেই জনগণের সেবক এবং তৃণমূলের শেষ আশ্রয়স্থল। কিন্তু বরিশাল-৫ (সদর) আসনের দীর্ঘদিনের রাজনীতিতে ঘটে চলেছে ঠিক তার উল্টো ঘটনা। দীর্ঘ সময় ধরে অপেক্ষা করেও সংসদ সদস্য ও বর্ষীয়ান বিএনপি নেতা মজিবর রহমান সরোয়ারের সাক্ষাৎ পাচ্ছেন না সাধারণ মানুষ ও দলের তৃণমূল নেতাকর্মীরা। শুধু তা-ই নয়, এমপির বাসায় গিয়ে অপমান ও লাঞ্ছনার শিকার হয়ে ফিরতে হচ্ছে নেতাকর্মী থেকে শুরু করে সরকারি কর্মকর্তাদেরও। এতে স্থানীয় রাজনীতিতে তৈরি হয়েছে তীব্র অসন্তোষ ও ক্ষোভ।
সর্বশেষ গত বুধবার সন্ধ্যায় বরিশাল সদর উপজেলার প্রায় ৪ থেকে ৫ শতাধিক নেতাকর্মী তাদের নানাবিধ দাবি ও দলীয় বিষয় নিয়ে কথা বলতে সাধুর বটতলায় অবস্থিত এমপি সরোয়ারের বাসভবনে যান। প্রতিনিধিদলে ছিলেন সদর উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সালাম রাঢ়ী, সাবেক সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক জিয়াউল ইসলাম সাবু, ইউনিয়ন বিএনপির সম্পাদক আজাদী হাসানাত ফিরোজসহ বেশ কয়েকজন শীর্ষ স্থানীয় নেতা।
উপস্থিত নেতাকর্মীরা জানান, বিভিন্ন মাধ্যমে এমপিকে খবর পাঠানো হলেও ঘণ্টার পর ঘণ্টা তাদের বাসার সামনে বসিয়ে রাখা হয়। গভীর রাত পর্যন্ত অপেক্ষা করার পর, রাত সোয়া ১০টার দিকে কোনো সাক্ষাৎ না দিয়েই তাদের ফিরিয়ে দেওয়া হয়। নবনির্বাচিত এমপির এমন বিমুখ আচরণে ক্ষোভের আগুনে ফুঁসছেন তৃণমূলের সমর্থকেরা।
দলীয় সূত্রগুলো জানাচ্ছে, বেশ কিছুদিন ধরে বরিশাল সদর উপজেলা বিএনপির কমিটি নিয়ে চরম দ্বন্দ্ব চলছে। অভিযোগ উঠেছে, গত জুলাই মাসে সাবেক জামায়াত নেতা নুরুল আমিনকে আহ্বায়ক এবং সাইফুল ইসলাম আব্বাসকে সদস্যসচিব করে ১৬১ সদস্যের যে কমিটি গঠন করা হয়, তার পেছনে এমপি সরোয়ারের প্রত্যক্ষ প্রভাব ছিল। পদবঞ্চিত নেতাকর্মীরা এই 'বিতর্কিত' কমিটি বাতিলের দাবিতে কর্মসূচি পালন করলেও সরোয়ারের হস্তক্ষেপে হাইকমান্ড কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।
রায়পাশা-কড়াপুর ইউনিয়ন বিএনপির সম্পাদক আজাদী হাসানাত ফিরোজ অভিযোগ করে বলেন, "ত্রয়োদশ নির্বাচনে ধানের শীষকে জয়ী করতে দিনরাত পরিশ্রম করেছি। অথচ এমপি হওয়ার পর তিনি স্বৈরাচারী আওয়ামী লীগ ও জামায়াতঘেঁষা বিতর্কিতদের পদে বসাচ্ছেন। আর ত্যাগী নেতাকর্মীদের মূল্যায়ন না করে অপমান করছেন।"
এমপির বাসভবন ঘিরে একটি বিশেষ বলয় বা 'সিন্ডিকেট' গড়ে উঠেছে বলে অভিযোগ করেছেন নেতাকর্মীরা। তাদের দাবি, "ডিম রিয়াজ" ও সাব্বির নামে কতিপয় ব্যক্তির দাপটে সাধারণ নেতাকর্মী বা সাধারণ মানুষ এমপির সাথে সহজে কথা বলতে পারেন না।
কেবল দলীয় নেতাকর্মীই নন, এমপির বাসভবনে গিয়ে সরকারি কর্মকর্তাদের অপদস্থ হওয়ারও ঘটনা ঘটেছে। মাস দুয়েক আগে বরিশাল জেলার এক শীর্ষ কর্মকর্তা কথা বলতে গেলে এমপির উপস্থিতিতেই 'ডিম রিয়াজ' তাকে গালাগাল ও হেনস্থা করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। পরবর্তীতে বিষয়টি নিয়ে তোলপাড় সৃষ্টি হলে বিএনপির শীর্ষ নেতারা এক সাংবাদিকের কাছে ক্ষমা চেয়ে পরিস্থিতি সামাল দেন।
স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, একজন নির্বাচিত প্রতিনিধির এমন আচরণ কেবল রাজনৈতিক সংস্কৃতিকেই প্রশ্নবিদ্ধ করছে না, বরং আগামীতে তার নিজস্ব ভোটব্যাংকেও চরম নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। বরিশাল বিএনপির একাধিক শীর্ষ নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্বীকার করেছেন, এমপির বাসভবনে গিয়ে লাঞ্ছিত হওয়ার বিষয়টি ইতোমধ্যে কেন্দ্রীয় হাইকমান্ডের নজরে আনা হয়েছে।
উদ্বেগজনক এই পরিস্থতি ও তৃণমূলের অসন্তোষের বিষয়ে জানতে এমপি মজিবুর রহমান সরোয়ারকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। তবে তার ঘনিষ্ঠদের দাবি, বুধবার যারা এমপির বাসভবনে এসেছিলেন, তারা সিটি প্রশাসক বিলকিস আক্তার জাহান শিরিনের অনুসারী হিসেবে পরিচিত। তারা পূর্বে বর্তমান কমিটির বিরুদ্ধে প্রতিবাদী কর্মসূচি পালন করায় এমপি হয়তো ক্ষুব্ধ হয়ে সাক্ষাৎ দেননি।
সংসদীয় আসনে দলের মূল চালিকাশক্তি তৃণমূল নেতাকর্মীদের এভাবে অবমূল্যায়ন করা অব্যাহত থাকলে বরিশাল বিএনপির অভ্যন্তরীণ ফাটল আরও চওড়া হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বরিশালবাসী।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
টাঙ্গাইলের মধুপুরে নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস ২০২৬-২৭ আয়োজন সফল করতে ইউনিয়ন ও পৌরসভা পর্যায়ে দল গঠন এবং তৃণমূল পর্যায়ে ক্রীড়া কার্যক্রম গতিশীল করার লক্ষ্যে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) দুপুরে মধুপুর উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে উপজেলা পরিষদের হলরুমে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন মধুপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. সাইফুল ইসলাম।
সভায় বক্তব্য দেন মধুপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি জাকির হোসেন সরকার, পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক খন্দকার মোতালিব হোসেন এবং উপজেলা বিএনপির জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি এম. রতন হায়দার প্রমুখ।
এ সময় উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান, সুধীজন ও সাংবাদিকেরা উপস্থিত ছিলেন।
সভাপতির বক্তব্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের মাধ্যমে তৃণমূল পর্যায় থেকে প্রতিভাবান খেলোয়াড় খুঁজে বের করতে হবে। শিশু-কিশোরদের খেলাধুলায় আগ্রহী করে তোলা এবং তাদের সুপ্ত প্রতিভা বিকাশের সুযোগ সৃষ্টি করা জরুরি। এ লক্ষ্যে ইউনিয়ন ও পৌরসভা পর্যায়ে সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে দল গঠন করে ক্রীড়া কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, নিয়মিত খেলাধুলার চর্চা শিশু-কিশোরদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। পাশাপাশি তাদের মধ্যে শৃঙ্খলা, নেতৃত্বের গুণাবলি ও দলগত মনোভাব গড়ে তুলতে সহায়তা করে।
মতবিনিময় সভায় নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস ২০২৬-২৭ আয়োজনকে সফল করতে সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা এবং সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর রাজস্ব খাতভুক্ত ১৩ থেকে ২০ গ্রেডের জন্য নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়েছে। মোট ২২৮টি পদে নিয়োগ দেওয়া হবে। আবেদন করার শেষ তারিখ ২৯ অক্টোবর ২০২৬। আবেদনকারীরা অনলাইনের মাধ্যমে আবেদন করতে পারবেন। এসএসসি পাস করা চাকরি প্রার্থীরাও আবেদন করার সুযোগ পাবেন।
চাকরির বিবরণ-
১. পদের নাম: সাঁটমুদ্রাক্ষরিক কাম-কম্পিউটার অপারেটর
পদসংখ্যা: ১
বেতন স্কেল ও গ্রেড: (গ্রেড-১৩) ২৪,০০০-৫৮,০০০ টাকা।
২. পদের নাম: স্টাফ ফটোগ্রাফার
পদসংখ্যা: ১
বেতন স্কেল ও গ্রেড: (গ্রেড-১৪) ২৩,৫০০-৫৬,৮০০ টাকা।
৩. পদের নাম: ড্রাফটসম্যান
পদসংখ্যা: ১
বেতন স্কেল ও গ্রেড: (গ্রেড-১৪) ২৩,৫০০-৫৬,৮০০ টাকা।
৪. পদের নাম: থানা/উপজেলা প্রশিক্ষক
পদসংখ্যা: ৭৬
বেতন স্কেল ও গ্রেড: (গ্রেড-১৫) ২২,৮০০-৫৫,২০০ টাকা।
৫. পদের নাম: উপজেলা/থানা মহিলা প্রশিক্ষিকা
পদসংখ্যা: ৯৩
বেতন স্কেল ও গ্রেড: (গ্রেড-১৫) ২২,৮০০-৫৫,২০০ টাকা।
৬. পদের নাম: গাড়িচালক (ভারী)
পদসংখ্যা: ১০
বেতন স্কেল ও গ্রেড: (গ্রেড-১৫) ২২,৮০০-৫৫,২০০ টাকা।
৭. পদের নাম: প্রুফ রিডার
পদসংখ্যা: ১
বেতন স্কেল ও গ্রেড: (গ্রেড-১৬) ২১,৯০০-৫২,৯০০ টাকা।
৮. পদের নাম: অফিস সহকারী
পদসংখ্যা: ২
বেতন স্কেল ও গ্রেড: (গ্রেড-১৬) ২১,৯০০-৫২,৯০০ টাকা।
৯. পদের নাম: ইলেকট্রিশিয়ান
পদসংখ্যা: ১
বেতন স্কেল ও গ্রেড: (গ্রেড-১৬) ২১,৯০০-৫২,৯০০ টাকা।
১০. পদের নাম: বুট মেকার
পদসংখ্যা: ১
বেতন স্কেল ও গ্রেড: (গ্রেড-১৭) ২১,৪০০-৫১,৯০০ টাকা।
১১. পদের নাম: প্লাম্বার
পদসংখ্যা: ২
বেতন স্কেল ও গ্রেড: (গ্রেড-১৮) ২১,০০০-৫০,৯০০ টাকা।
১২. পদের নাম: ব্যান্ডস্ ম্যান
পদসংখ্যা: ২২
বেতন স্কেল ও গ্রেড: (গ্রেড-১৯) ২০,৫০০-৪৯,৬০০ টাকা।
১৩. পদের নাম: মহিলা ব্যান্ড
পদসংখ্যা: ৪
বেতন স্কেল ও গ্রেড: (গ্রেড-১৯) ২০,৫০০-৪৯,৬০০ টাকা।
১৪. পদের নাম: মালী
পদসংখ্যা: ১
বেতন স্কেল ও গ্রেড: (গ্রেড-২০) ২০,০০০-৪৮,৪০০ টাকা।
১৫. পদের নাম: বাবুর্চি
পদসংখ্যা: ২
বেতন স্কেল ও গ্রেড: (গ্রেড-২০) ২০,০০০-৪৮,৪০০ টাকা।
১৬. পদের নাম: অফিস সহায়ক
পদসংখ্যা: ১০
বেতন স্কেল ও গ্রেড: (গ্রেড-২০) ২০,০০০-৪৮,৪০০ টাকা।
আবেদনের নিয়ম
ওয়েবসাইটের মাধ্যমে অনলাইনে আবেদন করতে হবে।
আবেদন ফি
১ থেকে ৯ নম্বর পদে আবেদন করতে ১০০ টাকা ফি দিতে হবে; ১০ থেকে ১৬ নম্বর পদে আবেদন করতে ৫০ টাকা ফি দিতে হবে।
আবেদনের সময়সীমা
আবেদন শুরু: ৯ অক্টোবর ২০২৬
বিস্তারিত দেখুন এই ঠিকানা য়।
আবেদন শেষ: ২৯ অক্টোবর ২০২৬
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
দেশে ক্রমবর্ধমান জ্বালানি নিসরনে কক্সবাজারের মহেশখালীর কুতুবজোমে তৃতীয় ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল (এফএসআরইউ) স্থাপনের জন্য চীনের প্রস্তাবটি বর্তমানে রিভিউয়ের প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে। ইতোমধ্যে চীনা রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে প্রদত্ত প্রস্তাবটিতে নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। তবে চূড়ান্ত অনুমোদনের আগে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সভা থেকে বুধবার জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ ওই প্রস্তাবটি প্রত্যাহার করে নেয়।
সেদিন সরকারি ক্রয় সভার বৈঠকে এ প্রস্তাবটি আলোচনা করা হয়। সেখানে দেখা যায়, মহেশখালীতে জিটুজি পদ্ধতিতে কুতুবজোম এফএসআরইউ স্থাপনের লক্ষ্যে চায়না ন্যাশনাল এনার্জি ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড কনস্ট্রাকশন কোং লিমিটেড (সিএনইই) যে দর দিয়েছে, তা অনুমোদনের প্রস্তাব কমিটির সামনে উপস্থাপন করা হয়েছিল।
জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের নথি অনুযায়ী, সুপারিশকৃত দরদাতা সিএনইই। তাদের প্রস্তাবিত ব্যয় ছিল ১৫ বছর মেয়াদে প্রায় ১২ হাজার ৩২৪ কোটি টাকা, অথবা ২০ বছর মেয়াদে প্রায় ১৩ হাজার ১৬১ কোটি টাকা। দেশের জ্বালানি সরবরাহের সংকটের প্রেক্ষিতে বিএনপি সরকার আরও একাধিক এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের কাজ শুরু করেছে। এর মধ্যে গত ১৯ জুন সিএনইই কুতুবজোমে একটি অফশোর এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণের প্রস্তাব দেয়। এতে দৈনিক রিগ্যাসিফিকেশন সক্ষমতা ৬০০ মিলিয়ন ঘনফুট, সর্বোচ্চ সক্ষমতা ৭৫০ মিলিয়ন ঘনফুট নির্ধারণ করা হয়েছে।
প্রস্তাবের তথ্য অনুযায়ী, এফএসআরইউ স্থাপনে ১৫ বছরের চুক্তিতে প্রতিষ্ঠানটি দৈনিক ৩ লাখ ৪২ হাজার ডলার নেবে। বর্তমানে এক্সিলারেট এনার্জির টার্মিনালের জন্য সরকারের দৈনিক খরচ ২ লাখ ৫৪ হাজার ডলার। সামিট এলএনজি টার্মিনালের জন্য খরচ ২ লাখ ৪৯ হাজার ১১৫ ডলার। এর মানে হলো, কুতুবজোমে এফএসআরইউ নির্মাণের ক্ষেত্রে সিএনইই-কে বর্তমান ব্যয়ের চেয়ে ৩৫ থেকে ৩৭ শতাংশ বেশি দিতে হবে এই চুক্তির আওতায়। তবে পেট্রোবাংলার কর্মকর্তারা জানাচ্ছেন, বর্তমানে যে দুটি টার্মিনাল রয়েছে সেগুলো বিগত ২০১৮ সালে চালু হয়েছে। কিন্তু প্রকল্পগুলোর প্রস্তাব অনেক আগে এসেছে। বৈশ্বিক সংকটের কারণে সবকিছুর দাম বেড়ে গেছে। ফলে, আগের দুটি টার্মিনালের সাথে বর্তমানে নির্মিত হতে যাওয়া টার্মিনালের দৈনিক ফি এক হতে পারে না। এটি অবশ্যই বেশি হবে।
এছাড়া, এই ধরনের প্রকল্পে শুধুমাত্র দৈনিক ফি হিসাব করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ নেই। প্রকল্পের সক্ষমতা, অর্থায়ন ব্যয়, নির্মাণ ব্যয়, পরিচালন ব্যয়, চুক্তির মেয়াদ, ঝুঁকি বণ্টন ও হস্তান্তর শর্তসহ বিভিন্ন বিষয় বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নিতে হয়। সরকার তৃতীয় এলএনজি টার্মিনালের বিষয়ে ভেবেচিন্তে অগ্রসর হচ্ছে।
তবে বিওও এবং বিওওটি মডেল নিয়ে সরকার চিন্তাভাবনা করছে। জ্বালানি খাতের একজন কর্মকর্তা জানান, চীনা প্রস্তাবটি যখন আসে, তখন বিকল্প কোনো প্রস্তাব সরকারের কাছে ছিল না। এর মধ্যে মার্কিন কোম্পানির একটি নতুন প্রস্তাব এসেছে। সেটি বিবেচনায় নিয়ে চীনা প্রতিষ্ঠান যেভাবে প্রকল্প রিভিউ করতে পারবে, তেমনি সরকারের জন্যও সিদ্ধান্ত গ্রহণ সহজ হবে।
দেশে জ্বালানির সঙ্কট চলছে। এই সংকট কাটাতে সরকার ২০২৯ সালের মধ্যে আরও তিনটি ভাসমান টার্মিনাল স্থাপনের পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে। এর জন্য পায়রা, মোংলা ও হিরনপয়েন্টে সম্ভাব্যতা যাচাই চলছে এবং বিনিয়োগকারী খোঁজা হচ্ছে। তবে এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনে 'স্বচ্ছ' প্রতিযোগিতার কথা বলে আসছে যুক্তরাষ্ট্র।
গত ৭ সেপ্টেম্বর এফবিসিসিআই কার্যালয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের সঙ্গে বৈঠকে ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি ক্রিস্টেনসেন এফএসআরইউ স্থাপনে ‘স্বচ্ছ ও প্রতিযোগিতামূলক’ প্রক্রিয়ার ওপর জোর দেন। তিনি বলেন, মার্কিন কোম্পানিগুলো বাংলাদেশে কাজ করতে অত্যন্ত আগ্রহী।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ক্রিকেট খেলা আবিষ্কারের সমস্ত কৃতিত্ব ইংল্যান্ডের ঝুলিতে থাকলেও, ক্রিকেটের অতি পরিচিত এবং জনপ্রিয় ঐতিহ্য ‘টি-ব্রেক’ বা ‘চা-বিরতি’ চালুর কৃতিত্ব কিন্তু ইংলিশদের নয়! প্রাথমিক যুগের টেস্ট ম্যাচগুলোতে কোনো চা-বিরতির আনুষ্ঠানিক নিয়মই ছিল না। তথ্য বলছে, ১৮৮১-৮২ সালের ঐতিহাসিক অ্যাশেজ সিরিজে অস্ট্রেলিয়াই প্রথম এই চা-বিরতির প্রচলন করেছিল।
পরবর্তীতে ১৮৯৯ সালে অস্ট্রেলিয়া দল যখন ইংল্যান্ড সফরে যায়, তখন অজি অধিনায়ক জো ডার্লিং আনুষ্ঠানিকভাবে চা-বিরতির প্রস্তাব দেন। ইংরেজরা তার সেই ইচ্ছাকে সম্মান জানালেও শুরুতে কিছুটা ভিন্ন পদ্ধতি অবলম্বন করেছিল। বিরতি দেওয়া হলেও খেলোয়াড়রা মাঠ ছেড়ে প্যাভিলিয়নে যেতেন না; বরং মাঠেই তাদের জন্য চা ও হালকা নাশতা নিয়ে আসা হতো। ১৯০২ সালের অ্যাশেজেও এই নিয়ম বহাল ছিল। তবে ১৯০৫ সালে প্রথমবারের মতো ক্রিকেটাররা আনুষ্ঠানিকভাবে চা পানের উদ্দেশ্যে মাঠ ছেড়ে প্যাভিলিয়নে যাওয়ার সুযোগ পান। যদিও এর পরও বেশ কিছু বছর মাঠে বসে চা খাওয়ার ছবি ও ঐতিহ্য দেখা গেছে।
তবে চা-বিরতির সূচনা নিয়ে ক্রিকেট ইতিহাসে আরেকটি আকর্ষণীয় তথ্যও প্রচলিত আছে। টেস্ট খেলুড়ে দেশ না হলেও স্কটল্যান্ডের ক্রিকেট ইতিহাস বেশ সমৃদ্ধ। ধারণা করা হয়, উনিশ শতকের শেষ দিকে স্কটিশ ম্যাচগুলোতে চা পানের চল শুরু হয়। ১৮৯২ সালের মে মাসে গ্লাসগোর টিটউডে নর্থাম্বারল্যান্ড ও গ্লাসগো অ্যান্ড ডিস্ট্রিক্টের মধ্যকার ম্যাচে মধ্যাহ্নভোজের পর প্রথম চা-বিরতির লিখিত প্রমাণ মেলে।
সময়ের বিবর্তনে টেস্টের পাশাপাশি ওয়ানডে ক্রিকেটেও ঢুকে পড়েছিল এই ঐতিহ্য। ইংল্যান্ডে অনুষ্ঠিত ৬০ ওভারের প্রথম তিনটি বিশ্বকাপসহ তৎকালীন ওয়ানডে ম্যাচগুলোতে দুইবার বিরতি দেওয়া হতো—প্রথম ইনিংসে মধ্যাহ্নভোজের বিরতি এবং দ্বিতীয় ইনিংসে চা-বিরতি। অবশ্য আধুনিক ওয়ানডেতে দুই ইনিংসের মাঝে দীর্ঘ বিরতি রাখায় এই নিয়ম আর উঠে গেছে। বর্তমানে চা-বিরতি মূলত পাঁচ দিনের টেস্ট ক্রিকেটেরই অবিচ্ছেদ্য অংশ।
কালের পরিক্রমায় চায়ের মেন্যুতে এসেছে বৈচিত্র্য। এখন আর শুধু এক কাপ চায়ে সীমাবদ্ধ থাকে না এই বিরতি। বিভিন্ন পুষ্টিকর খাবার, স্যান্ডউইচ ও হরেক পদের নাশতার ব্যবস্থা করা হয় এবং অনেক সময় বিশ্বখ্যাত শেফদের দায়িত্ব দেওয়া হয় ক্রিকেটারদের খাবার তৈরির।
খেলোয়াড়দের এই বিরতির খাদ্যাভ্যাস নিয়ে ভক্তদের কৌতূহলের শেষ নেই। ইংল্যান্ডের তারকা ব্যাটার অলি পোপ একবার এক সাক্ষাৎকারে নিজের পছন্দের কথা জানিয়ে বলেছিলেন, ‘অনেকে হয়তো চা পছন্দ করেন, তবে আমি সাধারণত স্যান্ডউইচের সঙ্গে কফি খেতেই বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি।’
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ