০৬:২৬ পি.এম
খুলনার উপকূলীয় উপজেলা কয়রায় প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে দীর্ঘকাল ধরে জনবল সংকট বিদ্যমান। সাতটি গুরুত্বপূর্ণ পদ শূন্য থাকার কারণে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা দাপ্তরিক কার্যক্রম পরিচালনায় হিমশিম খাচ্ছেন। এর ফলে উপজেলার ১৪২টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রম, বিদ্যালয় পরিদর্শন ও শিক্ষার মান তদারকিতে বাড়তি চাপ সৃষ্টি হয়েছে। জরুরি ভিত্তিতে শূন্য পদগুলো পূরণের দাবি জানিয়েছেন শিক্ষক ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
উপজেলা শিক্ষা অফিসের সূত্রে জানা গেছে, অফিসটিতে সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার পাঁচটি পদের বিপরীতে বর্তমানে তিনজন কর্মরত আছেন। এছাড়া উচ্চমান সহকারীর একটি, হিসাব সহকারীর একটি, অফিস সহকারীর দুটি এবং এমএলএসএসের একটি পদ শূন্য রয়েছে। ফলে প্রয়োজনীয় জনবল ছাড়া অফিসের নিয়মিত কার্যক্রম চলছে। জরুরি কিছু কাজ সম্পন্ন করতে বহিরাগত লোকের সহায়তা নিতে হচ্ছে বলেও জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
শিক্ষা অফিসের গুরুত্বপূর্ণ পদগুলো শূন্য থাকায় কর্মরত কর্মকর্তাদের অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে। বিদ্যালয় পরিদর্শন ও শিক্ষার মান তদারকির পাশাপাশি দাপ্তরিক নথিপত্র সংরক্ষণ, হিসাব-নিকাশ ও প্রশাসনিক কাজ সামলাতে গিয়ে কাজের চাপ বৃদ্ধি পাচ্ছে। এতে স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি বিদ্যালয়গুলোর প্রয়োজনীয় সেবা নিশ্চিত করতেও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
আরও পড়ুন: বাগেরহাটে পাসপোর্ট অফিসের সার্ভার কক্ষে আগুন, ২৫ অক্টোবর থেকে সেবা শুরু
উপজেলা শিক্ষা অফিসের তথ্য অনুযায়ী, কয়রায় ১৪২টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৮৭৪ জন শিক্ষক কর্মরত আছেন। এসব বিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত রয়েছে হাজার হাজার শিক্ষার্থী। শিক্ষার পরিবেশ উন্নয়ন, শিক্ষকদের বিভিন্ন সমস্যা সমাধান, বিদ্যালয় পরিদর্শন এবং সরকারি নির্দেশনা বাস্তবায়নে উপজেলা শিক্ষা অফিসের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু প্রয়োজনীয় কর্মকর্তা-কর্মচারী না থাকায় এসব দায়িত্ব যথাযথভাবে পালনে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হচ্ছে।
বেদকাশি বতুল বাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোস্তফা জামাল উদ্দিন বলেন, "শিক্ষা অফিসে জনবল সংকটের কারণে অনেক সময় নানা সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়। সব পদে একসঙ্গে লোকবল নিয়োগ দেওয়া সম্ভব না হলেও জরুরি ভিত্তিতে অফিস সহকারী ও কম্পিউটার অপারেটর নিয়োগ দেওয়া প্রয়োজন। এতে শিক্ষকদের ভোগান্তি কিছুটা কমবে।"
মদিনাবাদ মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোস্তফা শহীদ সরোয়ার বলেন, "শিক্ষা অফিসের অনেক পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য রয়েছে। প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়ন ও প্রশাসনিক কার্যক্রম গতিশীল রাখতে এসব পদ দ্রুত পূরণ করা প্রয়োজন। প্রয়োজনীয় জনবল নিশ্চিত করা গেলে বিদ্যালয় পরিদর্শন, শিক্ষকদের দাপ্তরিক কাজ এবং শিক্ষাসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন কার্যক্রম আরও কার্যকরভাবে পরিচালনা করা সম্ভব হবে।"
কয়রা উপজেলা শিক্ষা অফিসার তপন কুমার কর্মকার বলেন, "জনবল সংকটের কারণে অনেক কাজ করতে বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছে। বর্তমানে বহিরাগত লোকদের মাধ্যমে অফিসের জরুরি কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। দ্রুত এ সমস্যার সমাধান প্রয়োজন।"
আরও পড়ুন: শেরপুরে ‘প্রেসক্লাব নকলা’র কমিটি গঠন: সভাপতি রানা, সম্পাদক রিজন
দীর্ঘদিনের এ সংকট নিরসনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর উদ্যোগ চান শিক্ষক ও স্থানীয় শিক্ষাসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। তাঁদের মতে, শূন্য পদগুলো পূরণ করা গেলে উপজেলা শিক্ষা অফিসের প্রশাসনিক সক্ষমতা বাড়বে, বিদ্যালয়গুলোর তদারকি জোরদার হবে এবং প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন