০৬:২৮ পি.এম
আইজিপি মো. আলী হোসেন ফকির জানিয়েছেন, হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় অনুষ্ঠান দুর্গাপূজা নির্বিঘ্নে, শান্তিপূর্ণ এবং উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপনের জন্য পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গৃহীত হয়েছে।
রোববার (১১ অক্টোবর) দুপুরে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের হল অব প্রাইডে শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন।
আইজিপি উল্লেখ করেন, দুর্গাপূজা উপলক্ষে পুলিশ প্রাক-পূজা, পূজাচলাকালীন এবং প্রতিমা বিসর্জন ও পূজা পরবর্তী তিন স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। ইতোমধ্যে পুলিশের পূজাকেন্দ্রিক নিরাপত্তা কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
আরও পড়ুন: গাইবান্ধায় রাস্তা বিরোধে পিটিয়ে হত্যা, চিকিৎসাধীন অবস্থায় ব্যক্তির মৃত্যু
পূজাকে কেন্দ্র করে কোনো মহল বা গোষ্ঠী যাতে সামাজিক সম্প্রীতি বিনষ্ট করতে না পারে, সেই লক্ষ্যে সকলকে সজাগ ও সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়। এ ক্ষেত্রে কমিউনিটি ও বিট পুলিশিংয়ের মাধ্যমে জনসম্পৃক্ততা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
দুর্গাপূজার আনন্দঘন পরিবেশ নিশ্চিত করার জন্য সকলকে সজাগ ও সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে আইজিপি আশা প্রকাশ করেন যে, সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় প্রতি বছরের ন্যায় এবারও দুর্গাপূজা নিরাপদে আনন্দঘন পরিবেশে উদযাপিত হবে।
সভায় অতিরিক্ত আইজি (প্রশাসন) এ কে এম আওলাদ হোসেন, এসআরইউ'র অতিরিক্ত আইজি মো. রেজাউল করিম, ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদ, নৌ পুলিশের অতিরিক্ত আইজি মো. রেজাউল করিম, এসআরবি মহাপরিচালক (অতিরিক্ত আইজি) মো. আহসান হাবীব পলাশ, ট্যুরিস্ট পুলিশের অতিরিক্ত আইজি জি এম আজিজুর রহমান, অতিরিক্ত আইজি (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. সায়েদুর রহমান, রেলওয়ে পুলিশের অতিরিক্ত আইজি (ভারপ্রাপ্ত) ব্যারিস্টার মো. জিল্লুর রহমান, হাইওয়ে রেঞ্জের অতিরিক্ত আইজি ফারুক আহমেদ, এসবি প্রধান (অতিরিক্ত আইজি) মো. কামরুল আহসান, হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের ভাইস চেয়ারম্যান তপন মজুমদার, বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি নির্মল রোজারিও ও ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মনীন্দ্র কুমার নাথ, বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি বাসুদেব ধর ও সাধারণ সম্পাদক সন্তোষ শর্মা, বিএনপি কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য রমেশ দত্ত, ট্রাস্টি ও ভাইস চেয়ারম্যান কল্যাণ ফ্রন্ট জয়দেব রায়সহ আরও অনেকে উপস্থিত ছিলেন।
সভায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিভ্রান্তিমূলক পোস্ট, অপপ্রচার, গুজব বা ছবি আপলোড করে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টের অপচেষ্টাকারীদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য মাঠপর্যায়ের পুলিশ কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষায় বিভিন্ন ধর্মের গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও স্থানীয় জনসাধারণের সাথে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রক্ষা এবং নিয়মিত পূজামন্ডপ পরিদর্শনের জন্যও পুলিশ কর্মকর্তাদের নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: মেসার্স উইলিয়ামস সোয়েটার্সের বিরুদ্ধে ১৩ কোটি টাকার শুল্ক ফাঁকি
সভায় জানানো হয়, দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে কেউ যেন কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটাতে না পারে, সে জন্য পুলিশ সচেষ্ট রয়েছে। যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ অথবা নিকটস্থ থানায় যোগাযোগ করার জন্য পূজা উদযাপন পরিষদের নেতৃবৃন্দের প্রতি অনুরোধ জানানো হয়।
পূজা চলাকালে সিসিটিভি সক্রিয় রাখা, পূজামন্ডপ ও বিসর্জনস্থলে পর্যাপ্ত আলো, স্ট্যান্ড বাই জেনারেটরের ব্যবস্থা রাখা, প্রতিটি মন্ডপে স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগ করে সার্বক্ষণিক নিরাপত্তার ব্যবস্থা করার জন্য পূজা উদযাপন পরিষদ নেতৃবৃন্দের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।
দুর্গাপূজা চলাকালে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবেলায় পোশাকে ও সাদা পোশাকে পুলিশের পাশাপাশি সোয়াট, ক্রাইম রেসপন্স টিম (সিআরটি), কুইক রেসপন্স টিম (কিউআরটি), ক্রাইম সিন ভ্যান এবং বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট সার্বক্ষণিক প্রস্তুত থাকবে। দুর্গাপূজা উপলক্ষে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স এবং অন্যান্য পুলিশ ইউনিটে সার্বক্ষণিক মনিটরিং সেল চালু থাকবে। উল্লেখ্য, এ বছর প্রায় ৩৩ হাজার পূজামন্ডপে দুর্গাপূজা উদযাপিত হচ্ছে।
আরও পড়ুন: ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ পররাষ্ট্রনীতিতে জাতীয় স্বার্থ ও সার্বভৌমত্বকে অগ্রাধিকার
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন