অ আ আবীর আকাশ, লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি
০৫:২৮ পি.এম
রোববার (৮ নভেম্বর) পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে মহাসড়ক আইন, ২০২১-এর আওতায় এ অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়। সরকারি আইন অমান্য করে ভেজা বালু পরিবহনের মাধ্যমে সড়কে বালু ফেলে জনসাধারণের চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি করায় ট্রাক দুটির বিরুদ্ধে এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়। পরে জরিমানার ৩৫ হাজার টাকা তাৎক্ষণিকভাবে আদায় করা হয়।
অভিযান পরিচালনা করেন লক্ষ্মীপুরের বিজ্ঞ এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট সোহানা খন্দকার। এ সময় সার্বিক সহযোগিতা করেন সড়ক পরিবহন অধিদপ্তরের প্রতিনিধি এবং লক্ষ্মীপুর জেলা ট্রাফিক পুলিশ।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানানো হয়, সড়কে নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করা এবং জনদুর্ভোগ কমাতে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
সড়কে শৃঙ্খলা বজায় রাখা ও জনস্বার্থ রক্ষায় প্রশাসনের এমন উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাঙ্গামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (রাবিপ্রবি) এবং জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সি (জাইকা)-এর প্রতিনিধিদলের মধ্যে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রোববার (৮ নভেম্বর) চট্টগ্রামের আগ্রাবাদে বেস্ট ওয়েস্টার্ন হোটেলে অনুষ্ঠিত বৈঠকে রাবিপ্রবি’র ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. জয়নুল আবেদীন সিদ্দিকীর নেতৃত্বে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধিদল অংশ নেয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধিদলে ছিলেন রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) ও ম্যানেজমেন্ট বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মোহাম্মদ জুনাইদ কবির, সায়েন্স, ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি অনুষদের ডিন ড. তৌহিদুল আলম, কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. তানজিম মাহমুদ এবং রিসার্চ অ্যান্ড ইনোভেশন সেলের পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) ড. আবদুল্লাহ আল মামুন।
জাইকার পক্ষে উপস্থিত ছিলেন এক্সপার্ট (প্রধান উপদেষ্টা) শোজি আকিহিরো, জাইকা এক্সপার্ট (প্রকল্প সমন্বয়কারী) কাতসুকি নাহো এবং অ্যাডমিন অফিসার ফারজানা শারলিন।
বৈঠকে জাইকার ‘আইসিটি ইঞ্জিনিয়ার্স ডেভেলপমেন্ট ফর দ্য প্রমোশন অব দ্য আইসিটি ইন্ডাস্ট্রি অ্যান্ড নিউ ইনোভেশনস (JICA-BCC-BASIS-TCP)’ প্রকল্পের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়।
বৈঠকে জানানো হয়, জাইকার সহযোগিতায় বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল (BCC) ও বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেস (BASIS)-এর মাধ্যমে চট্টগ্রামে ‘Sustainable Training Model for B-TopSE and B-TopCS’ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে।
প্রকল্পের আওতায় B-TopSE (Be a Top Software Engineer) প্রশিক্ষণ কর্মসূচির মাধ্যমে মধ্যম ও উচ্চপর্যায়ের আইসিটি প্রকৌশলীদের ব্যবহারিক জ্ঞান ও দক্ষতা উন্নয়নে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। জাপানের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ইনফরমেটিক্সের উন্নত প্রশিক্ষণ কাঠামোর আওতায় এ কর্মসূচিতে ছয়টি কোর্স পরিচালিত হবে।
কোর্সগুলো হলো—Architecture 1 (Object-Oriented Analysis and Design), Architecture 2 (Architecture Design and Evaluation), Cloud (Fundamentals of Distributed Systems and Cloud Applications), Agile 1 (Introduction of Agile), Agile 2 (Agile Product Development) এবং Agile 3 (Agile Technical Practices)।
অন্যদিকে B-TopCS (Be a Top Cybersecurity Specialist) প্রশিক্ষণ কর্মসূচির মাধ্যমে সাইবার নিরাপত্তা বিষয়ে স্থানীয় প্রশিক্ষকদের জ্ঞান ও দক্ষতা বৃদ্ধির উদ্যোগ নেওয়া হবে। এ কর্মসূচিতে চারটি কোর্স পরিচালিত হবে। এগুলো হলো—How to Make Top Management Aware of Cybersecurity (TMA), How to Make General Employee Aware of Cybersecurity (GEA), Supply Chain Risk (SCR) এবং Digital Forensics (DF)।
বৈঠকে রাবিপ্রবিতে সফটওয়্যার উন্নয়ন ও সাইবার নিরাপত্তা বিষয়ে প্রশিক্ষণ এবং দক্ষতা উন্নয়নে জাইকার সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা করা হয়। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের চলমান একাডেমিক, গবেষণা ও উন্নয়নমূলক কার্যক্রম এবং ভবিষ্যতে জাইকার সহযোগিতার সম্ভাব্য ক্ষেত্র নিয়েও মতবিনিময় করেন উভয় পক্ষ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান ও টঙ্গিবাড়ী উপজেলার সংযোগস্থলে কুন্ডেরবাজার সেতুর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।
রোববার (৮ নভেম্বর) বিকেলে সেতুর সিরাজদিখান ও টঙ্গিবাড়ী উপজেলা প্রান্তে পৃথকভাবে ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়। এ উপলক্ষে দেশব্যাপী পরিকল্পিত সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী সমাবেশও অনুষ্ঠিত হয়।
সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন মুন্সীগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম আজাদ, মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. কামরুজ্জামান রতন, মুন্সীগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য শেখ মো. আব্দুল্লাহ এবং সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য মমতাজ আলো।
টঙ্গিবাড়ী উপজেলা বিএনপির সভাপতি আলী আসগর রিপন মল্লিকের সভাপতিত্বে সমাবেশের আয়োজন করে টঙ্গিবাড়ী উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীরা।
কুন্ডেরবাজার সেতু বাস্তবায়িত হলে সিরাজদিখান ও টঙ্গিবাড়ী উপজেলার মানুষের দীর্ঘদিনের যোগাযোগের দুর্ভোগ কমবে এবং দুই উপজেলার মধ্যে সড়ক যোগাযোগ আরও সহজ হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ডেঙ্গু প্রতিরোধের লক্ষ্যে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) জরিপের মাধ্যমে চিহ্নিত ২৯টি অধিক ঝুঁকিপূর্ণ ওয়ার্ডে একযোগে বিশেষ চিরুনি অভিযান শুরু হয়েছে।
রোববার দুপুর ১২টা ৩০ মিনিটে আজিমপুর সরকারি কোয়ার্টারের (বি-টাইপ) প্রাঙ্গণে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। অভিযানের আওতায় বিশেষ পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম এবং মশক নিধন কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রশাসক জানান, গত ২৭ সেপ্টেম্বর থেকে ৮ অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত ডেঙ্গুর ঝুঁকি নিরূপণ এবং এডিস মশার প্রজননস্থল শনাক্ত করতে ডিএসসিসির ৭৫টি ওয়ার্ডে ১২ দিনব্যাপী ‘বর্ষাকালীন এডিস লার্ভা জরিপ ২০২৬’ পরিচালনা করা হয়। এই জরিপের আওতায় বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে মোট ২ হাজার ২৫০টি বাড়ি পরিদর্শন করা হয়। জরিপের তথ্য সংগ্রহের জন্য ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ (সিডিসি) শাখার ৩৬ জন মাঠকর্মী আধুনিক ‘কোবো টুলবক্স’ (Kobo Toolbox) ব্যবহার করেন।
জরিপের ফলাফলে প্রাপ্ত তথ্য এবং এডিস মশার ঘনত্ব নিরূপণের বিভিন্ন সূচক—ব্রেটো ইনডেক্স (BI), হাউস ইনডেক্স (HI), কনটেইনার ইনডেক্স (CI) ও পিউপা ইনডেক্স (PI)—বিশ্লেষণ করে ডিএসসিসির ৭৫টি ওয়ার্ডের মধ্যে ২৯টি অধিক ঝুঁকিপূর্ণ, ২৮টি মাঝারি ঝুঁকিপূর্ণ এবং ১৮টি সাধারণ ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। জরিপে পরিদর্শন করা বাড়িগুলোর মধ্যে ৩২২টিতে এডিস মশার লার্ভার উপস্থিতি পাওয়া যায়। শনাক্ত হওয়া লার্ভা তাৎক্ষণিকভাবে ধ্বংসের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় লার্ভিসাইডিং কার্যক্রমও পরিচালনা করা হয়।
জরিপে দেখা গেছে, বহুতল ও সেমি-পাকা ভবন, স্বতন্ত্র বাড়ি, নির্মাণাধীন ভবন এবং খালি প্লটে জমে থাকা পানি এডিস মশার প্রজননের অন্যতম উৎস।
জরিপের ফলাফলের ভিত্তিতে ৮ নভেম্বর থেকে অধিক ঝুঁকিপূর্ণ ২৯টি ওয়ার্ডে একযোগে বিশেষ চিরুনি অভিযান শুরু করা হয়েছে। এই কর্মসূচির আওতায় নিবিড়ভাবে লার্ভিসাইডিং ও অ্যাডাল্টিসাইডিং কার্যক্রম পরিচালনা, মশার প্রজননস্থল ধ্বংস, ড্রেন-খাল ও নালা-নর্দমা পরিষ্কার এবং বর্জ্য অপসারণ করা হচ্ছে। পাশাপাশি মাইকিং, লিফলেট বিতরণ ও মসজিদের মাধ্যমে জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ধর্মীয় উপাসনালয়গুলোতেও বিশেষ পরিচ্ছন্নতা ও মশক নিধন অভিযান চালানো হবে।
এ ছাড়া স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সম্পৃক্ত করে মতবিনিময় ও যৌথ অভিযান পরিচালনা করা হবে। এরপরও কোথাও এডিস মশার লার্ভা পাওয়া গেলে প্রয়োজন অনুযায়ী ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
অনুষ্ঠানে প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ আবদুস সালাম বলেন, ‘ডেঙ্গু প্রতিরোধে শুধু সিটি কর্পোরেশনের একক উদ্যোগ যথেষ্ট নয়। এ ক্ষেত্রে সরকারি সংস্থার পাশাপাশি প্রত্যেক নাগরিকের দায়িত্বশীল ও সক্রিয় অংশগ্রহণ অত্যন্ত জরুরি। নিজ নিজ বাসাবাড়ি, ছাদ, বারান্দা, আঙিনা ও কর্মস্থল পরিষ্কার রাখতে হবে। কোথাও পানি জমতে দেওয়া যাবে না। অন্তত সপ্তাহে এক দিন জমে থাকা পানি অপসারণ এবং সম্ভাব্য প্রজননস্থল ধ্বংস করার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘জরিপে দেখা গেছে, প্লাস্টিক বালতিতে ১৪.২১ শতাংশ, প্লাস্টিক ড্রামে ১১.২২ শতাংশ, বেইজমেন্টের জমে থাকা পানিতে ০৯.৯৮ শতাংশ, প্লাস্টিক মগে ০৯.২৩ শতাংশ এবং ফুলের টবে ০৫.৯৯ শতাংশ লার্ভা পাওয়া গেছে। অর্থাৎ, নাগরিকরা নিজ আঙিনা ও পাত্রের বিষয়ে সচেতন হলেই প্রাথমিক অবস্থাতেই অর্ধেক (৫০.৯ শতাংশ) এডিস মশার বিস্তার ও ডেঙ্গু প্রতিরোধ করা সম্ভব।’
সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টা, সচেতনতা ও দায়িত্বশীল অংশগ্রহণের মাধ্যমে ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়ার ঝুঁকি কমিয়ে নগরবাসীর জন্য সুস্থ, নিরাপদ ও পরিচ্ছন্ন নগর পরিবেশ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তাসহ অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ