মোঃ সোহেল রানা, রাঙ্গামাটি প্রতিনিধি
০৫:৩২ পি.এম
রাঙ্গামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (রাবিপ্রবি) এবং জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সি (জাইকা)-এর প্রতিনিধিদলের মধ্যে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রোববার (৮ নভেম্বর) চট্টগ্রামের আগ্রাবাদে বেস্ট ওয়েস্টার্ন হোটেলে অনুষ্ঠিত বৈঠকে রাবিপ্রবি’র ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. জয়নুল আবেদীন সিদ্দিকীর নেতৃত্বে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধিদল অংশ নেয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধিদলে ছিলেন রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) ও ম্যানেজমেন্ট বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মোহাম্মদ জুনাইদ কবির, সায়েন্স, ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি অনুষদের ডিন ড. তৌহিদুল আলম, কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. তানজিম মাহমুদ এবং রিসার্চ অ্যান্ড ইনোভেশন সেলের পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) ড. আবদুল্লাহ আল মামুন।
জাইকার পক্ষে উপস্থিত ছিলেন এক্সপার্ট (প্রধান উপদেষ্টা) শোজি আকিহিরো, জাইকা এক্সপার্ট (প্রকল্প সমন্বয়কারী) কাতসুকি নাহো এবং অ্যাডমিন অফিসার ফারজানা শারলিন।
বৈঠকে জাইকার ‘আইসিটি ইঞ্জিনিয়ার্স ডেভেলপমেন্ট ফর দ্য প্রমোশন অব দ্য আইসিটি ইন্ডাস্ট্রি অ্যান্ড নিউ ইনোভেশনস (JICA-BCC-BASIS-TCP)’ প্রকল্পের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়।
বৈঠকে জানানো হয়, জাইকার সহযোগিতায় বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল (BCC) ও বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেস (BASIS)-এর মাধ্যমে চট্টগ্রামে ‘Sustainable Training Model for B-TopSE and B-TopCS’ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে।
প্রকল্পের আওতায় B-TopSE (Be a Top Software Engineer) প্রশিক্ষণ কর্মসূচির মাধ্যমে মধ্যম ও উচ্চপর্যায়ের আইসিটি প্রকৌশলীদের ব্যবহারিক জ্ঞান ও দক্ষতা উন্নয়নে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। জাপানের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ইনফরমেটিক্সের উন্নত প্রশিক্ষণ কাঠামোর আওতায় এ কর্মসূচিতে ছয়টি কোর্স পরিচালিত হবে।
কোর্সগুলো হলো—Architecture 1 (Object-Oriented Analysis and Design), Architecture 2 (Architecture Design and Evaluation), Cloud (Fundamentals of Distributed Systems and Cloud Applications), Agile 1 (Introduction of Agile), Agile 2 (Agile Product Development) এবং Agile 3 (Agile Technical Practices)।
অন্যদিকে B-TopCS (Be a Top Cybersecurity Specialist) প্রশিক্ষণ কর্মসূচির মাধ্যমে সাইবার নিরাপত্তা বিষয়ে স্থানীয় প্রশিক্ষকদের জ্ঞান ও দক্ষতা বৃদ্ধির উদ্যোগ নেওয়া হবে। এ কর্মসূচিতে চারটি কোর্স পরিচালিত হবে। এগুলো হলো—How to Make Top Management Aware of Cybersecurity (TMA), How to Make General Employee Aware of Cybersecurity (GEA), Supply Chain Risk (SCR) এবং Digital Forensics (DF)।
বৈঠকে রাবিপ্রবিতে সফটওয়্যার উন্নয়ন ও সাইবার নিরাপত্তা বিষয়ে প্রশিক্ষণ এবং দক্ষতা উন্নয়নে জাইকার সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা করা হয়। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের চলমান একাডেমিক, গবেষণা ও উন্নয়নমূলক কার্যক্রম এবং ভবিষ্যতে জাইকার সহযোগিতার সম্ভাব্য ক্ষেত্র নিয়েও মতবিনিময় করেন উভয় পক্ষ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান ও টঙ্গিবাড়ী উপজেলার সংযোগস্থলে কুন্ডেরবাজার সেতুর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।
রোববার (৮ নভেম্বর) বিকেলে সেতুর সিরাজদিখান ও টঙ্গিবাড়ী উপজেলা প্রান্তে পৃথকভাবে ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়। এ উপলক্ষে দেশব্যাপী পরিকল্পিত সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী সমাবেশও অনুষ্ঠিত হয়।
সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন মুন্সীগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম আজাদ, মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. কামরুজ্জামান রতন, মুন্সীগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য শেখ মো. আব্দুল্লাহ এবং সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য মমতাজ আলো।
টঙ্গিবাড়ী উপজেলা বিএনপির সভাপতি আলী আসগর রিপন মল্লিকের সভাপতিত্বে সমাবেশের আয়োজন করে টঙ্গিবাড়ী উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীরা।
কুন্ডেরবাজার সেতু বাস্তবায়িত হলে সিরাজদিখান ও টঙ্গিবাড়ী উপজেলার মানুষের দীর্ঘদিনের যোগাযোগের দুর্ভোগ কমবে এবং দুই উপজেলার মধ্যে সড়ক যোগাযোগ আরও সহজ হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ডেঙ্গু প্রতিরোধের লক্ষ্যে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) জরিপের মাধ্যমে চিহ্নিত ২৯টি অধিক ঝুঁকিপূর্ণ ওয়ার্ডে একযোগে বিশেষ চিরুনি অভিযান শুরু হয়েছে।
রোববার দুপুর ১২টা ৩০ মিনিটে আজিমপুর সরকারি কোয়ার্টারের (বি-টাইপ) প্রাঙ্গণে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। অভিযানের আওতায় বিশেষ পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম এবং মশক নিধন কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রশাসক জানান, গত ২৭ সেপ্টেম্বর থেকে ৮ অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত ডেঙ্গুর ঝুঁকি নিরূপণ এবং এডিস মশার প্রজননস্থল শনাক্ত করতে ডিএসসিসির ৭৫টি ওয়ার্ডে ১২ দিনব্যাপী ‘বর্ষাকালীন এডিস লার্ভা জরিপ ২০২৬’ পরিচালনা করা হয়। এই জরিপের আওতায় বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে মোট ২ হাজার ২৫০টি বাড়ি পরিদর্শন করা হয়। জরিপের তথ্য সংগ্রহের জন্য ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ (সিডিসি) শাখার ৩৬ জন মাঠকর্মী আধুনিক ‘কোবো টুলবক্স’ (Kobo Toolbox) ব্যবহার করেন।
জরিপের ফলাফলে প্রাপ্ত তথ্য এবং এডিস মশার ঘনত্ব নিরূপণের বিভিন্ন সূচক—ব্রেটো ইনডেক্স (BI), হাউস ইনডেক্স (HI), কনটেইনার ইনডেক্স (CI) ও পিউপা ইনডেক্স (PI)—বিশ্লেষণ করে ডিএসসিসির ৭৫টি ওয়ার্ডের মধ্যে ২৯টি অধিক ঝুঁকিপূর্ণ, ২৮টি মাঝারি ঝুঁকিপূর্ণ এবং ১৮টি সাধারণ ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। জরিপে পরিদর্শন করা বাড়িগুলোর মধ্যে ৩২২টিতে এডিস মশার লার্ভার উপস্থিতি পাওয়া যায়। শনাক্ত হওয়া লার্ভা তাৎক্ষণিকভাবে ধ্বংসের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় লার্ভিসাইডিং কার্যক্রমও পরিচালনা করা হয়।
জরিপে দেখা গেছে, বহুতল ও সেমি-পাকা ভবন, স্বতন্ত্র বাড়ি, নির্মাণাধীন ভবন এবং খালি প্লটে জমে থাকা পানি এডিস মশার প্রজননের অন্যতম উৎস।
জরিপের ফলাফলের ভিত্তিতে ৮ নভেম্বর থেকে অধিক ঝুঁকিপূর্ণ ২৯টি ওয়ার্ডে একযোগে বিশেষ চিরুনি অভিযান শুরু করা হয়েছে। এই কর্মসূচির আওতায় নিবিড়ভাবে লার্ভিসাইডিং ও অ্যাডাল্টিসাইডিং কার্যক্রম পরিচালনা, মশার প্রজননস্থল ধ্বংস, ড্রেন-খাল ও নালা-নর্দমা পরিষ্কার এবং বর্জ্য অপসারণ করা হচ্ছে। পাশাপাশি মাইকিং, লিফলেট বিতরণ ও মসজিদের মাধ্যমে জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ধর্মীয় উপাসনালয়গুলোতেও বিশেষ পরিচ্ছন্নতা ও মশক নিধন অভিযান চালানো হবে।
এ ছাড়া স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সম্পৃক্ত করে মতবিনিময় ও যৌথ অভিযান পরিচালনা করা হবে। এরপরও কোথাও এডিস মশার লার্ভা পাওয়া গেলে প্রয়োজন অনুযায়ী ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
অনুষ্ঠানে প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ আবদুস সালাম বলেন, ‘ডেঙ্গু প্রতিরোধে শুধু সিটি কর্পোরেশনের একক উদ্যোগ যথেষ্ট নয়। এ ক্ষেত্রে সরকারি সংস্থার পাশাপাশি প্রত্যেক নাগরিকের দায়িত্বশীল ও সক্রিয় অংশগ্রহণ অত্যন্ত জরুরি। নিজ নিজ বাসাবাড়ি, ছাদ, বারান্দা, আঙিনা ও কর্মস্থল পরিষ্কার রাখতে হবে। কোথাও পানি জমতে দেওয়া যাবে না। অন্তত সপ্তাহে এক দিন জমে থাকা পানি অপসারণ এবং সম্ভাব্য প্রজননস্থল ধ্বংস করার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘জরিপে দেখা গেছে, প্লাস্টিক বালতিতে ১৪.২১ শতাংশ, প্লাস্টিক ড্রামে ১১.২২ শতাংশ, বেইজমেন্টের জমে থাকা পানিতে ০৯.৯৮ শতাংশ, প্লাস্টিক মগে ০৯.২৩ শতাংশ এবং ফুলের টবে ০৫.৯৯ শতাংশ লার্ভা পাওয়া গেছে। অর্থাৎ, নাগরিকরা নিজ আঙিনা ও পাত্রের বিষয়ে সচেতন হলেই প্রাথমিক অবস্থাতেই অর্ধেক (৫০.৯ শতাংশ) এডিস মশার বিস্তার ও ডেঙ্গু প্রতিরোধ করা সম্ভব।’
সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টা, সচেতনতা ও দায়িত্বশীল অংশগ্রহণের মাধ্যমে ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়ার ঝুঁকি কমিয়ে নগরবাসীর জন্য সুস্থ, নিরাপদ ও পরিচ্ছন্ন নগর পরিবেশ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তাসহ অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
উখিয়ায় পাহাড় কেটে মাটি পাচারের অভিযোগে অভিযান পরিচালনা করে বন বিভাগ একজনকে আটক করেছে। অভিযানের সময় সংশ্লিষ্ট এলাকায় সকাল থেকে রোহিঙ্গা শ্রমিকদের মাধ্যমে প্রায় চার ডাম্পার মাটি কেটে পাচার করা হয়েছে বলে বন বিভাগের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
রোববার (৮ নভেম্বর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে গোপন তথ্যের ভিত্তিতে উখিয়া রেঞ্জের থাইংখালী বিটের ঘোনারপাড়া এলাকায় এই অভিযান অনুষ্ঠিত হয়।
উখিয়া রেঞ্জ কর্মকর্তা আবদুল মান্নানের নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে থাইংখালী বিট কর্মকর্তা আরাফাত মাহমুদসহ বন বিভাগের অন্যান্য কর্মীরা অংশগ্রহণ করেন। অভিযানের ফলস্বরূপ, পাহাড় কাটার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে একজনকে আটক করা হয়।
উখিয়া রেঞ্জ কর্মকর্তা আবদুল মান্নান জানিয়েছেন, সকাল থেকে রোহিঙ্গা শ্রমিকদের মাধ্যমে পাহাড় কেটে প্রায় চার ডাম্পার মাটি পাচার করার তথ্য বন বিভাগ পেয়েছে। অভিযানের সময় একজনকে আটক করা হয়েছে এবং এ ঘটনায় বন আইনে মামলা দায়ের করে আটক ব্যক্তিকে আদালতে সোপর্দ করার প্রক্রিয়া চলমান।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
স্বজনদের দাবি, পরিকল্পিত হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন তিনি; জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি।
বরিশালের বাকেরগঞ্জে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে হামলার শিকার হওয়ার নয় দিন পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় মো. আনোয়ার হোসেন হাওলাদার (৫২) নামে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে।
শনিবার (৭ নভেম্বর) ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। রবিবার সকালে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়।
নিহত আনোয়ার হোসেন উপজেলার পাদ্রীশিবপুর ইউনিয়নের ভবানীপুর গ্রামের বাসিন্দা।
নিহতের পরিবারের অভিযোগ, জমিজমা নিয়ে আনোয়ার হোসেনের বড় ভাই দেলোয়ার হোসেন ও ছোট ভাই মঞ্জু হাওলাদারের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। সম্প্রতি আনোয়ার হোসেন নিজের জমিতে ভবন নির্মাণের কাজ শুরু করলে মঞ্জু হাওলাদারের ছেলে নাসিম হাওলাদার ও দেলোয়ার হাওলাদারের ছেলে সোহেল হাওলাদার এতে বাঁধা দেন। এ বিরোধের জের ধরেই তাঁর ওপর হামলার ঘটনা ঘটে বলে দাবি পরিবারের।
নিহতের ছেলে আসিফ হাওলাদার ও মেয়ে নুপুর আক্তার জানান, গত ২৯ অক্টোবর রাতে এশার নামাজ শেষে মসজিদ থেকে বাড়ি ফিরছিলেন তাঁদের বাবা। এ সময় চাচাতো ভাই নাসিম হাওলাদারের নেতৃত্বে সোহেল হাওলাদার, সমীর হাওলাদার ও নয়ন খানসহ কয়েকজন তাঁর ওপর হামলা চালান। একপর্যায়ে তাঁকে মাথায় কুপিয়ে গুরুতর আহত করা হয়।
চিৎকার শুনে পরিবারের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে তাঁকে উদ্ধার করে প্রথমে বাকেরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকদের পরামর্শে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়া হয়। সেখানে নয় দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর শনিবার তাঁর মৃত্যু হয়।
নিহতের ভাগ্নে মো. জহিরুল ইসলাম অভিযোগ করেন, তাঁর মামা আনোয়ার হোসেনকে পরিকল্পিতভাবে হামলা করে হত্যা করা হয়েছে। হামলায় মাথার খুলি গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় চিকিৎসার প্রয়োজনে তা খুলে সংরক্ষণ করা হয়েছিল। জটিল অস্ত্রোপচারের পরও শেষ পর্যন্ত তাঁকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।
জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে এমন মৃত্যুর ঘটনায় এলাকায় শোক ও উত্তেজনা বিরাজ করছে। জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী ও নিহতের স্বজনরা।
জেলা পুলিশ সুপার এজেড এম মোস্তাফিজুর রহমান জানান, আনোয়ার হোসেন নামে একজনের মৃত্যুর খবর শুনেছি। পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ দিলে মামলা নেওয়া হবে। ৯ দিন আগে হামলার ঘটনায় লিখিত অভিযোগ দিলেও পুলিশ কেন ব্যবস্থা নেয়নি এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন পুলিশের কোন গাফিলতি থাকলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ