ঢাকা রবিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
রবিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

বৈশ্বিক সংস্থাগুলো ভারতের স্বাস্থ্যসেবায় বিপুল বিনিয়োগ করছে


বৈশ্বিক সংস্থাগুলো ভারতের স্বাস্থ্যসেবায় বিপুল বিনিয়োগ করছে

ভারতের বড় বড় মেট্রো শহরের সীমানা অতিক্রম করে এবার জেলা ও মফস্বল শহরগুলোতে ব্যাপকভাবে প্রসারিত হচ্ছে বেসরকারি চিকিৎসাব্যবস্থা। বৈশ্বিক বিনিয়োগকারী সংস্থাগুলোর বিপুল পুঁজির মাধ্যমে ভারতের ছোট ও মাঝারি শহরগুলোর স্বাস্থ্যসেবা খাতে একটি বিশাল পরিবর্তন ঘটছে। ব্ল্যাকস্টোন, কেকেআর, টিপিজি এবং জেনারেল আটলান্টিকের মতো বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানগুলো গত ৫ বছরে ভারতের স্বাস্থ্যসেবা খাতে প্রায় ১০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার (প্রায় ৮৪,০০০ কোটি রুপি) বিনিয়োগ করেছে। এই বিপুল অর্থের মাধ্যমে বেসরকারি হাসপাতালগুলো এখন ছোট শহরগুলোতে তাদের নেটওয়ার্ক ও বেড সংখ্যা দ্রুত বৃদ্ধি করছে।

ব্ল্যাকস্টোনের অর্থায়নে পরিচালিত ‘অ্যাস্টার ডিএম কোয়ালিটি কেয়ারে'র চিফ এক্সিকিউটিভ বরুণ খান্না মন্তব্য করেছেন, ‘মানুষের মধ্যে একটা ভুল ধারণা ছিল, ছোট শহরগুলোতে হাসপাতাল চালানো লাভজনক বা টেকসই নয়।’ বর্তমানে তার কোম্পানির অধীনে ভারতজুড়ে ৩৯টি হাসপাতাল এবং ১০ হাজারের বেশি বেড রয়েছে।

চারটি হাসপাতাল ব্র্যান্ডের একীভূতকরণের (মার্জার) মাধ্যমে এই চেইনটি গঠিত হয়েছিল, যার মধ্যে কিছু ব্র্যান্ড ব্ল্যাকস্টোন ২০২৩ সালে অধিগ্রহণ করেছে। প্রতিষ্ঠানটি আগামী ৩ থেকে ৪ বছরের মধ্যে তাদের বেডের সংখ্যা আরো ৫ হাজার বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে, যার মূল ফোকাস থাকবে চিকিৎসা ক্ষেত্রে পিছিয়ে থাকা বা অনুন্নত অঞ্চলগুলোর ওপর।

আরও পড়ুন: লিবিয়ায় অভিবাসীবিরোধী বিক্ষোভ, আতঙ্কে প্রবাসীরা

ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসকে খান্না জানান, ‘ভারতের শহরগুলো পশ্চিমা দেশগুলোর শহরের মতো নয়। ভারতের একটি ছোট শহরের জনসংখ্যা প্রায় ১০ লাখের কাছাকাছি। আপনি যদি অস্ট্রেলিয়ার একটি বড় শহর এবং আমার দেশের একটি তৃতীয় স্তরের শহরের দিকে তাকান, দেখবেন আমাদের জনসংখ্যা এবং স্বাস্থ্যসেবার চাহিদা একই।’

ভারত সরকার জিডিপির মাত্র ১.৫ শতাংশেরও কম স্বাস্থ্য খাতে ব্যয় করে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তাঁর প্রথম মেয়াদে ২০২৫ সালের মধ্যে এই খরচ বাড়িয়ে ২.৫ শতাংশ করার যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, তার পর থেকে এই স্তরের তেমন কোনো পরিবর্তন হয়নি। গত আগস্ট মাসে একটি সংসদীয় কমিটির রিপোর্টে এই সরকারি বরাদ্দকে ‘অপর্যাপ্ত’ বলে উল্লেখ করা হয়েছিল।

ভারতের সরকারি হাসপাতাল নেটওয়ার্ক মূলত বিনামূল্যে এবং ব্যাপক ভর্তুকিতে চলে, তবে এর মান সব জায়গায় এক রকম নয়। অনেক হাসপাতালই জরাজীর্ণ, জনাকীর্ণ এবং চিকিৎসা কর্মী ও সরঞ্জামের তীব্র ঘাটতি রয়েছে—বিশেষ করে গ্রামীণ প্রত্যন্ত অঞ্চলে, যেখানে প্রায় ৭০ শতাংশ ভারতীয় বাস করেন।

অ্যাসোসিয়েশন অফ হেলথকেয়ার প্রোভাইডার্স ইন্ডিয়া'র তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল দেশটিতে বর্তমানে আনুমানিক ২৪ লাখ হাসপাতাল শয্যার ঘাটতি রয়েছে।

আরও পড়ুন: ভিয়েতনামের সঙ্গে ইউরোপের চার দেশের মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি সই

সরকারি ব্যবস্থার এই বিশাল ঘাটতির কারণেই মানুষ বেসরকারি খাতের ওপর নির্ভর করছে। কারণ, সাধারণ মানুষের ধারণা বেসরকারি হাসপাতালগুলো উন্নত ও আধুনিক চিকিৎসা দেয় এবং সেখানে অপেক্ষার সময়ও কম। ফলে ভারতের মোট হাসপাতালে ভর্তির প্রায় ৬০ শতাংশ এবং আউটডোর (বহির্বিভাগ) সেবার ৭০ শতাংশই সামলায় বেসরকারি খাত।

পাবলিক হেলথ ফাউন্ডেশন অফ ইন্ডিয়ার ভাইস-প্রেসিডেন্ট প্রীতি কুমার বলেন, ‘এখন এক অপ্রতিরোধ্য শক্তিতে পরিণত হয়েছে। মানুষ এখন ইক্যুইটি, ক্যাপিটাল গেইন, লাভ-ক্ষতি এবং মার্কেট শেয়ারের মতো পরিভাষায় কথা বলতে শুরু করেছে, যা ২০ বছর আগেও আমাদের শব্দভাণ্ডার থেকে একেবারেই অনুপস্থিত ছিল।’

পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ইওয়াই-এর তথ্য অনুযায়ী, প্রাইভেট ইকুইটি এবং ভেঞ্চার ক্যাপিটাল এই খাতের চুক্তি বা ডিলগুলোর মূল চালিকাশক্তি হয়ে উঠেছে। ২০২০ থেকে ২০২৫ সালের মার্চের মধ্যে এই খাতে ১৪.৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি বিনিয়োগ হয়েছে।

পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ইওয়াই-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২০ সাল থেকে ২০২৫ সালের মার্চের মধ্যে ভারতের স্বাস্থ্য খাতে বিনিয়োগের এক বিশাল জোয়ার এসেছে; যেখানে ব্যবসা-বাণিজ্যের মূল চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করা প্রাইভেট ইক্যুইটি ও ভেঞ্চার ক্যাপিটাল ১৪.৫ বিলিয়ন ডলারের বেশি বিনিয়োগ করেছে।

আরও পড়ুন: পাকিস্তানের বেলুচিস্তানে ভারত সমর্থিত আট সন্ত্রাসী নিহত

ব্ল্যাকস্টোন, কেকেআর এবং কার্লাইলের মতো বৈশ্বিক বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানগুলো ভারতের হাসপাতাল, নার্সিং হোম এবং ডায়াগনস্টিক মোটা অংকের বিনিয়োগ করছে। দশকের পর দশক ধরে অন্যান্য দেশে তারা যে বিনিয়োগ কৌশল খাটিয়ে এসেছে, এখন সেটিই তারা ভারতে প্রয়োগ করছে।

কেকেআরের এখন পর্যন্ত হওয়া সবচেয়ে বড় ক্রয়ের একটি হল—গত আগস্ট মাসে ১.৪ বিলিয়ন ডলারের ‘মেডিকভার ইন্ডিয়া’র প্রায় ৫ হাজার বেডের হাসপাতালটি কিনে নেয়।

২৬টি হাসপাতাল পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান ‘কৃষ্ণা ইনস্টিটিউট অফ মেডিকেল সায়েন্সেস’-এর প্রতিষ্ঠাতা বল্লিনেনী ভাস্কর রাও এই খাতের বৃদ্ধির পেছনে ভারতের প্রবীণ বা বয়স্ক জনসংখ্যা বৃদ্ধি, দীর্ঘস্থায়ী বা ক্রনিক রোগের প্রকোপ এবং মানুষের ভালো চিকিৎসার খরচ বহন করার ক্ষমতা বেড়ে যাওয়াকে মূল কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

রাও বলেন, ‘রোগের ধরণ বা প্রকোপ বেড়েছে, মানুষের খরচ করার ক্ষমতাও বেড়েছে। ফলে এই খাতে প্রচুর টাকা আসছে।’

আরও পড়ুন: মধ্যপ্রদেশে মন্দিরের কাছে ট্রাকচাপায় ১৫ পুণ্যার্থী নিহত

চলতি বছর বিএসই হসপিটাল ইনডেক্স মাত্র ১.৬ শতাংশ কমেছে, যেখানে মূল শেয়ার বাজার সূচক ‘বিএসই সেনসেক্স’ একই সময়ে ১৫ শতাংশ পড়ে গিয়েছে। অন্যদিকে, ভারতের অন্যতম বৃহত্তম হাসপাতাল গ্রুপ ‘মণিপাল হেলথ এন্টারপ্রাইজেস’ গত আগস্টে আইপিও-র মাধ্যমে প্রায় ১ বিলিয়ন ডলার তোলার পর থেকে তাদের শেয়ারের দাম ৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

মুম্বাই-ভিত্তিক ল ফার্ম জেএসএ-র পার্টনার মিনহাজ লোকহ্যান্ডওয়ালা, যিনি এই চিকিৎসা খাতের বেশ কিছু বড় ডিল নিয়ে কাজ করেছেন, তিনি জানান, ‘আমরা দেখতে পাচ্ছি যে স্বাস্থ্যসেবা খাতটি বিনিয়োগকারীদের জন্য অন্য সব খাতের চেয়ে ভালো রেভিনিউ করছে এবং এটি ভবিষ্যতেও বজায় থাকবে। আমি এটি থামার কোনো লক্ষণ দেখছি না, কারণ এই বাজারে এখনো বিস্তারের বিশাল সুযোগ বাকি রয়েছে।’

ভারতের রেটিং এজেন্সি ইকরা অনুমান করেছে, ১৮টি প্রধান হাসপাতাল চেইন আগামী চার বছরে প্রায় ৪০০ বিলিয়ন রুপি (৪.৬ বিলিয়ন ডলার) খরচ করবে এবং ৩৪ হাজারের বেশি নতুন বেড যুক্ত করবে। এই নতুন ক্ষমতার প্রায় ৪০ শতাংশই তৈরি করা হবে দেশের ছোট শহরগুলোতে।

বিএনপি পারিবাস ভারতের স্বাস্থ্যসেবা খাতের প্রধান অ্যানালিস্ট তৌসিফ শেখ বলেন, ‘এই কাহিনীর পরবর্তী ধাপটি গড়ে উঠবে দেশের ছোট শহরগুলোতে।’

আরও পড়ুন: হা-ম-লা-র শ-ঙ্কা-য় সৌদি কিং-ডম সেন্টারের অফিস বন্ধ

এই বিস্তারের একটি আদর্শ উদাহরণ হলো ভারতের মূল ভূখণ্ডের একদম দক্ষিণ প্রান্তের কাছাকাছি নাগেরকয়েল নামক একটি ছোট শহরের উপকণ্ঠে অবস্থিত ‘অ্যাস্টার’-এর হাসপাতালটি। হ্রদ এবং সবুজ পাহাড়ে ঘেরা ২১০ বেডের এই আধুনিক হাসপাতালটি দুই বছর আগে চালু করা হয়েছিল, যা সেখানকার কয়েক লাখ মানুষের চিকিৎসা সেবা দিচ্ছে।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রোগীরা ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসকে জানিয়েছেন, উন্নত চিকিৎসার জন্য তাদের আর প্রায় ৫০ মাইল দূরে উত্তরের বড় শহর তিরুবনন্তপুরমে যেতে হচ্ছে না, যা তারা খুবই ইতিবাচকভাবে দেখছেন। কারণ সড়কপথে ওই পথটুকু যেতে আগে দুই ঘণ্টারও বেশি সময় লাগতো।

বরুণ খান্না বলেন, ‘এই দূরপাল্লার যাতায়াত এড়াতে পারায় রোগীদের অর্থনৈতিক হিসাবটাই বদলে গিয়েছে। কারণ আগে স্থানীয় সুবিধা না থাকায় চিকিৎসার চেয়ে তাদের যাতায়াত এবং হোটেলের পেছনেই বেশি টাকা খরচ হয়ে যেত।’

তবে সতর্ক করে দিয়ে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বেসরকারি খাতের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতা ধনী-দরিদ্রের মধ্যকার বৈষম্যকে আরো বাড়িয়ে দিতে পারে। ভারতের সাধারণ পরিবারগুলোকে তাদের চিকিৎসা খরচের প্রায় ৪০ শতাংশ নিজেদের পকেট থেকে দিতে হয় এবং এশিয়ার মধ্যে ভারতেই চিকিৎসা ক্ষেত্রে মূল্যস্ফীতি (খরচ বৃদ্ধি) সবচেয়ে বেশি, যা বছরে প্রায় ১২ থেকে ১৪ শতাংশ।

আরও পড়ুন: ইরানের সংসদ নতুন প্রতিরক্ষা মন্ত্রী হিসেবে মেহেরদাদ আখলাকি কেতাবচিকে অনুমোদন দিল

এই বিষয়টি এখন নতুন দিল্লির (কেন্দ্রীয় সরকারের) কড়া নজরদারিতে এসেছে। গত আগস্টে প্রকাশিত সংসদীয় কমিটির রিপোর্ট অনুসারে, বেসরকারি হাসপাতালে রোগীদের থাকার গড় খরচ যেখানে ৫৩০ ডলার, সেখানে সরকারি প্রতিষ্ঠানে তা মাত্র ৭০ ডলার।

কমিটি বেসরকারি খাতের ওপর এই অতিরিক্ত নির্ভরতার তীব্র সমালোচনা করেছে। তারা বলেছে, ডায়াগনস্টিকস, চিকিৎসা সামগ্রী, ওষুধ এবং আইসিইউ -র জন্য বেসরকারি হাসপাতালের ‘অনিয়ন্ত্রিত খরচ’ সাধারণ ও অসহায় পরিবারগুলোকে ঋণের জালে জর্জরিত করে ফেলছে।

কমিটি বিদেশি বিনিয়োগ এবং হেলথকেয়ার চেইনগুলোর ওপর নতুন বিধিনিষেধ আরোপের সুপারিশ করেছে। তাদের মতে, এর ফলে চিকিৎসার খরচ আকাশচুম্বী হচ্ছে এবং পুরো স্বাস্থ্য ব্যবস্থার ওপরই দাম বাড়ানোর একটি নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

তবে চিকিৎসা খাতের নির্বাহীদের যুক্তি হলো, ভারতের সরকারি অর্থায়নের যে বিশাল ঘাটতি রয়েছে, তাতে বেসরকারি খাতের ওপর নির্ভর না করাটা অবাস্তব।

ভারতের একটি বৈশ্বিক প্রাইভেট ইকুইটি ফান্ডের প্রধান (যিনি এই খাতে বিনিয়োগ করেছেন এবং নাম প্রকাশ না করার শর্তে) বলেন, ‘ভারতে স্বাস্থ্যসেবা একটি বিশাল এবং অপূরণীয় মানবীয় চাহিদা। কেবল সরকারি খরচ দিয়ে এই বিশাল শূন্যতা পূরণ করা অসম্ভব। তাই এই ঘাটতি মেটাতে ও পরিকাঠামো তৈরি করতে বেসরকারি পুঁজি এগিয়ে আসা অত্যন্ত জরুরি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আলফাডাঙ্গায় নদীভাঙনে বনজঙ্গল উজাড়, খাদ্যের খোঁজে লোকালয়ে প্রবেশ বন্যপ্রাণীদের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ১১ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১১:৫১ পি.এম


আলফাডাঙ্গায় নদীভাঙনে বনজঙ্গল উজাড়, খাদ্যের খোঁজে লোকালয়ে প্রবেশ বন্যপ্রাণীদের

আলফাডাঙ্গায় অব্যাহত নদীভাঙ্গনের কারণে উজাড় হয়ে যাওয়া বনজঙ্গলে পালিয়ে থাকা বিভিন্ন বন্য প্রাণী বর্তমানে খাদ্যের সন্ধানে লোকালয়ে প্রবেশ করেছে। প্রতিদিনই হনুমান খাবারের খোঁজে লোকালয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে। নদের পাড়ে বিশাল বনজঙ্গল থেকে দলছুট হয়ে একটি কালামুখো হনুমান আলফাডাঙ্গার লোকালয়ে দেখা যাচ্ছে।

খাবারের সন্ধানে এসে গত কয়েক দিন ধরে ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা পৌরসভার কুসুমদী গ্রামসহ আশপাশের এলাকায় বিচরণ করছে প্রাণীটি। যে কেউ খাবার হাতে করে ডাক দিলে সে ছুটে যায় তার দিকে। ডর-ভয় সব ভুলে, এখন জীবন বাঁচাতে মানুষের একদম কাছে চলে এসেছে।

কখনও গাছের ডালে, কখনও ঘরের চালে, আবার কখনও বাড়ির সীমানা প্রাচীরে বসে থাকছে মুখপোড়া এ বন্য প্রাণী। তাকে একনজর দেখতে এবং খাবার খাওয়াতে ভিড় জমাচ্ছেন বিভিন্ন বয়সী কৌতূহলী মানুষ।

রবিবার (১১ অক্টোবর) বিকেল পৌরসভার কালিবাবু রোড এলাকায় সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, হনুমানটিকে ঘিরে উৎসুক জনতার দারুণ কৌতূহল। বিশেষ করে শিশুরা প্রাণীটির চলাফেরা বেশ উপভোগ করছে। অনেকে দূর থেকে দেখছেন, আবার কেউ কেউ হাতে কলা ও অন্যান্য খাবার নিয়ে কাছে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। এভাবে ধীরে ধীরে স্থানীয়দের সঙ্গে প্রাণীটির এক ধরনের সখ্য গড়ে উঠেছে।

আলফাডাঙ্গা মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিশু শ্রেণির শিক্ষার্থী মিহির হোসেন বলেন, “বিকেলে হনুমানটিকে দেখতে এসেছি এবং তাকে নিজ হাতে কলা খেতে দিয়েছি।”

রাজ কুমার নামে স্থানীয় এক বাসিন্দা জানান, “আমাদের আলফাডাঙ্গায় সচরাচর হনুমান দেখা যায় না। মূলত খাবারের খোঁজেই প্রাণীটি লোকালয়ে চলে এসেছে। দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ আসছে একে একনজর দেখতে।”

তবে পরিবেশপ্রেমী ও বন বিভাগের কর্মকর্তারা বন্য প্রাণীটিকে বিরক্ত না করার আহ্বান জানিয়েছেন। তাদের মতে, কৌতূহলের বশে প্রাণীটিকে ধাওয়া করা, ঢিল মারা বা খুব কাছে গিয়ে আতঙ্কিত করা উচিত নয়। এতে প্রাণীটি আক্রমণাত্মক হয়ে উঠতে পারে।

এ বিষয়ে উপজেলা বন কর্মকর্তা শেখ লিটন জানান, “দলছুট হয়ে হনুমানটি লোকালয়ে চলে এসেছে। তাকে কেউ উত্ত্যক্ত বা আঘাত না করলে খাবার খেয়ে সে নিজে থেকেই নিরাপদ সময়ে তার প্রাকৃতিক আবাসে ফিরে যাবে।”

স্থানীয় সচেতন মহলের প্রত্যাশা, বন্য প্রাণীটির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সবাই যেন দায়িত্বশীল আচরণ করেন এবং নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখেই তাকে বিচরণ করতে দেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

যুদ্ধ চললে সৌদি আরব সবকিছু হারাবে: ইরানের বিশ্লেষক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

রবিবার, ১১ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১১:৫১ পি.এম


যুদ্ধ চললে সৌদি আরব সবকিছু হারাবে: ইরানের বিশ্লেষক

যুদ্ধ চলতে থাকলে সৌদি আরবের অর্থনীতির জন্য গুরুতর সংকট সৃষ্টি হতে পারে এবং দেশটির তেল রপ্তানি সম্পূর্ণরূপে বন্ধ হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, এমন সতর্কতা দিয়েছেন ইরানের বিশ্লেষক ও তেহরান বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সাইয়্যেদ মোহাম্মদ আলী মারান্দি। তিনি উল্লেখ করেছেন যে, সৌদি আরবের অর্থনীতি মূলত তেলের ওপর নির্ভরশীল। ইয়েমেনের সঙ্গে সংঘাত বৃদ্ধি পেলে দেশটি বড় ধরনের অর্থনৈতিক এবং অভ্যন্তরীণ সংকটের সম্মুখীন হতে পারে।

সম্প্রতি আল মায়াদিনের ‘দ্য গ্র্যান্ড স্ট্যান্ডঅফ : ইরান অ্যান্ড দ্য ওয়ার্ল্ড’ অনুষ্ঠানে তিনি এসব মন্তব্য করেছেন। মারান্দি বলেন, সৌদি আরব ইতোমধ্যে অনেক কিছু হারিয়েছে এবং যদি যুদ্ধ অব্যাহত থাকে, তাহলে দেশটি সবকিছু হারানোর ঝুঁকিতে রয়েছে। তিনি আরও বলেন, সৌদি আরবের অর্থনীতি বহুমুখী নয়, বরং এটি প্রায় সম্পূর্ণরূপে তেলের ওপর নির্ভরশীল। ইয়েমেনের আনসারুল্লাহর সামনে হামলার জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য রয়েছে।

তিনি সতর্ক করে বলেন, ইয়েমেন সৌদি আরবে হামলার তীব্রতা বাড়াতে পারে। তাঁর মতে, ইয়েমেন হামলা চালানোর সময় হিসাব-নিকাশ করে কাজ করছে। এ বিষয়ে অবগত ব্যক্তিরা তাঁকে জানিয়েছেন যে, দেশটি আরও শক্তিশালী হামলা চালানোর সক্ষমতা রাখে।

তবে মারান্দির দাবি, ইয়েমেন সৌদি আরবকে ধ্বংস করতে চায় না। বরং তাদের লক্ষ্য হলো সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানকে বোঝানো, যাতে তিনি যুদ্ধ বন্ধের জন্য উদ্যোগী হন। কিন্তু যদি সৌদি আরব হামলার মাত্রা বাড়ায়, তাহলে ইয়েমেনও পাল্টা হামলা জোরদার করবে। এতে সৌদি আরবের তেল রপ্তানি সম্পূর্ণরূপে বন্ধ হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, এমন সতর্কতা দেন তিনি।

মারান্দি আরও বলেন, এমন পরিস্থিতিতে সৌদি শাসকগোষ্ঠী দেশের অভ্যন্তরে বিভিন্ন সমস্যার মুখোমুখি হবে। তিনি যুক্তরাষ্ট্রে সৌদি আরবের সম্পদ, বন্ড ও শেয়ারবাজারে বিনিয়োগের অর্থ নিয়ে অনিশ্চয়তা সৃষ্টি হতে পারে বলেও মন্তব্য করেন।

তার দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের বন্ডবাজার নিয়ে সৌদি আরবের নিজেদেরও গুরুতর অর্থনৈতিক সমস্যা রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সৌদি আরব ও কাতারের শাসকদের যুক্তরাষ্ট্রে থাকা অর্থ তুলে নেওয়ার সুযোগ দেবেন কিনা, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন মারান্দি। তাঁর মতে, যুক্তরাষ্ট্র সহজে তাঁদের অর্থ তুলে নিতে দেবে না।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জয়পুরহাটে ট্রাক-মোটরসাইকেল সংঘর্ষে ২০ বছরের যুবক নিহত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ১১ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১১:৫২ পি.এম


জয়পুরহাটে ট্রাক-মোটরসাইকেল সংঘর্ষে ২০ বছরের যুবক নিহত

জয়পুরহাট সদর উপজেলার একটি ট্রাকের সঙ্গে মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে ২০ বছর বয়সী মাহির ওয়াসিফ মিতুল নিহত হয়েছেন। রবিবার (১১ অক্টোবর) রাত সাড়ে ৯টার দিকে জয়পুরহাট আঞ্চলিক মহাসড়কের ডালিম ফিলিং স্টেশন এলাকায় এই দুর্ঘটনাটি ঘটে।

নিহত মিতুল, জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল উপজেলার আলমপুর ইউনিয়নের শাহলাপাড়া গ্রামের আনোয়ারের পুত্র।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, মিতুল মোটরসাইকেল নিয়ে ক্ষেতলাল থেকে জয়পুরহাটের দিকে যাচ্ছিলেন। এ সময় তিনি ডালিম ফিলিং স্টেশন থেকে জ্বালানি নিয়ে বগুড়ার দিকে যাওয়ার পথে একটি ট্রাকের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষে পড়েন। এই ঘটনায় ঘটনাস্থলেই মিতুলের মৃত্যু ঘটে।

জয়পুরহাট সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নুর আলম এই বিষয়ে মন্তব্য করে বলেন, ‘দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। নিহতের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য জয়পুরহাট ৪০০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ দায়ের করা হলে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

শান্তিগঞ্জে ডোবার পানিতে ডুবে তিন বছরের শিশুর মৃত্যু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

হামিদুল ইসলাম বিশেষ প্রতিনিধি

সোমবার, ১২ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১২:২৬ এম


শান্তিগঞ্জে ডোবার পানিতে ডুবে তিন বছরের শিশুর মৃত্যু

সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জে বাড়ির সামনের ডোবার পানিতে ডুবে আয়মান আহমেদ আদি (৩) নামে এক শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে।

শনিবার (১০ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৬টার দিকে উপজেলার পশ্চিম পাগলা ইউনিয়নের শত্রুমর্দন গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত আয়মান আহমেদ আদি ওই গ্রামের শহিদ আহমদ রিয়াদের ছেলে।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শনিবার বিকেল ৫টা থেকে সন্ধ্যা ৬টার মধ্যবর্তী কোনো একসময় খেলাধুলার পর শিশুটিকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। পরে পরিবারের সদস্য ও আত্মীয়স্বজনেরা বিভিন্ন স্থানে তাকে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একপর্যায়ে বাড়ির পূর্ব পাশে অবস্থিত একটি ডোবার পানিতে শিশুটিকে পাওয়া যায়।

পরে তাকে উদ্ধার করে শান্তিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে মৃত ঘোষণা করেন।

শান্তিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অলি উল্লাহ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

 

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪১
জোহর ১১:৪৫
আসর ০৩:৫৩
মাগরিব ০৫:৩০
ইশা ০৬:৪১
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:৩০
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%