ঢাকা সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

ডব্লিউএইচওর পদ পেতে সায়মা ওয়াজেদ পুতুলের বিরুদ্ধে জালিয়াতির চার্জশিট অনুমোদন


ডব্লিউএইচওর পদ পেতে সায়মা ওয়াজেদ পুতুলের বিরুদ্ধে জালিয়াতির চার্জশিট অনুমোদন

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার আঞ্চলিক পরিচালক পদে নিয়োগ পেতে জীবনবৃত্তান্তে (সিভি) মিথ্যা তথ্য দেওয়ার অভিযোগে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুলের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিলের অনুমোদন দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

রোববার এক ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের বিষয়টি জানিয়েছেন দুদকের সচিব মো. সাইদুর রহমান খান।

২০২৫ সালের ২০ মার্চ মিথ্যা তথ্য দিয়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থায় চাকরি ও সূচনা ফাউন্ডেশনের নামে ২০টি ব্যাংক থেকে ৩৩ কোটি টাকা আদায়ের অভিযোগে সায়মা ওয়াজেদ পুতুলের নামে পৃথক দুটি মামলা করে দুদক।

আরও পড়ুন: ‘সংখ্যালঘু বলতে কোনো শব্দ নেই, সবাই নাগরিক’ : আহমেদ সোহেল

দুদকের অভিযোগে বলা হয়েছে, ডব্লিউএইচওর দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার আঞ্চলিক পরিচালক পদে নিয়োগ পেতে জমা দেওয়া সিভিতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) হাসপাতালে (বর্তমান নাম বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়) ‘অনারারি স্পেশালিস্ট/এক্সপার্ট’ হিসেবে কাজ করার মিথ্যা ও বানোয়াট তথ্য দেন সায়মা ওয়াজেদ। ওই তথ্য ব্যবহার করে তিনি সংস্থাটির আঞ্চলিক পরিচালক পদে নিয়োগ লাভ করেন।

দুদকের তদন্তে বলা হয়েছে, পুতুল ন্যাশনাল অ্যাডভাইজরি কমিটি অন অটিজম অ্যান্ড নিউরো ডেভেলপমেন্টাল ডিজঅর্ডার এবং সূচনা ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে এ কার্যক্রম চালান। সিভিতে মিথ্যা তথ্য দিয়ে এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে তিনি রাষ্ট্রের সুনাম ক্ষুণ্ণ করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

দুদকের তদন্তে আরও বলা হয়েছে, সিভিতে দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নিয়োগপ্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় নথি খোলা ও তথ্য যাচাই-বাছাইয়ের সুযোগ না দিয়েই চাপ প্রয়োগ করা হয়। পরে বাংলাদেশের স্থায়ী মিশন, জাতিসংঘের কার্যালয় ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থার মাধ্যমে সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় ডব্লিউএইচওর সদর দপ্তরে এসব তথ্য পাঠানো হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে পুতুল আঞ্চলিক পরিচালক পদে নিয়োগ পান।

দুদকের এজাহারে বলা হয়, আসামি সায়মা ওয়াজেদ হোসেন ওরফে সায়মা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বর্তমানে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়) শিক্ষকতা বা শিক্ষা ম্যানুয়েল তৈরি বা রিভিউ-সম্পর্কিত কার্যক্রমে অংশ না নিয়েও নিজেকে এই কাজের সঙ্গে সম্পর্কিত দাবি করে ২০২৩ সালে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থায় আবেদন করেন। পরবর্তী সময়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার আঞ্চলিক পরিচালক পদে নিয়োগ পেয়ে দণ্ডবিধির ৪২০/৪৬৮/৪৭১ ধারা এবং ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেন।

আরও পড়ুন: দুদকের মামলায় সাবেক ফার্মাস ব্যাংক পরিচালক সিদ্দিকী নাজমুল আলম

এজাহারে আরও বলা হয়, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের মাধ্যমে ২০১৭ সালে অটিজম ও স্নায়ুবিকাশজনিত সমস্যাবিষয়ক জাতীয় উপদেষ্টা কমিটির চেয়ারপারসন নিযুক্ত হন সায়মা ওয়াজেদ। ওই পদে কর্মরত অবস্থায় ২০২৩ সালে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থায় দাখিল করা সিভিতে নিজের অভিজ্ঞতা সম্পর্কে পুতুল লেখেন—বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা/শিক্ষা ম্যানুয়েল রিভিউ-সম্পর্কিত কার্যক্রমে অংশগ্রহণ এবং অটিজম ও মানসিক সমস্যা-সংক্রান্ত কারিগরি বিশেষজ্ঞ হিসেবে কাজ করেছেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পাট খাতের উন্নয়নে অর্থের চেয়ে চীনের প্রযুক্তি বেশি প্রয়োজন: পাটমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৬:০৭ পি.এম


পাট খাতের উন্নয়নে অর্থের চেয়ে চীনের প্রযুক্তি বেশি প্রয়োজন: পাটমন্ত্রী

ঢাকা, ১৮ অক্টোবর, ২০২৬ : দেশের পাট খাতের উন্নয়নের জন্য উন্নত প্রযুক্তি ও গবেষণা সহযোগিতা আর্থিক বিনিয়োগের তুলনায় বেশি প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছেন বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।

আজ সচিবালয়ের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে জুট ডাইভারসিফিকেশন প্রমোশন সেন্টার (জেডিপিসি) এবং চীনের জিয়াংনান ইউনিভার্সিটির মধ্যে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম উপস্থিত ছিলেন।

সমঝোতা স্মারকে বাংলাদেশের পক্ষে স্বাক্ষর করেন বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব মো. জাহিদ হোসেন এবং চীনের পক্ষে স্বাক্ষর করেন জিয়াংনান বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিন অধ্যাপক মা পিবো।

খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের নিজস্ব বিনিয়োগ সক্ষমতা রয়েছে। তবে পাটের বীজ উৎপাদন, আঁশের ফলন বৃদ্ধি এবং উচ্চমূল্যের বহুমুখী পণ্য তৈরিতে চীনের আধুনিক প্রযুক্তি ও গবেষণা সহায়তা প্রয়োজন।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ কেবল কাঁচা পাট কিংবা সুতা রপ্তানির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকতে চায় না। পাটের প্রক্রিয়াজাতকরণ ও মূল্য সংযোজনের প্রতিটি ধাপে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতামূলক উচ্চমূল্যের পণ্য রপ্তানির লক্ষ্য সরকারের।

তিনি বলেন, পাটের সম্ভাবনাকে পুরোপুরি কাজে লাগাতে হলে বীজ উৎপাদন থেকে শুরু করে উন্নত আঁশ, আধুনিক কাপড় ও বহুমুখী পণ্য উদ্ভাবনে প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বাড়াতে হবে। এই ক্ষেত্রে চীনের গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারত্ব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

সমঝোতা স্মারকের আওতায় পাটের বহুমুখী ব্যবহার সম্প্রসারণ, উন্নত বীজ উৎপাদন, উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি এবং বস্ত্র খাতে গবেষণালব্ধ প্রযুক্তির প্রয়োগে যৌথভাবে কাজ করবে জেডিপিসি ও জিয়াংনান ইউনিভার্সিটি।

অনুষ্ঠানে জিয়াংনান ইউনিভার্সিটির টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং স্কুলের ডিন বাংলাদেশের পাট ও বস্ত্র খাতের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেন।

তিনি জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধিরা বাংলাদেশ সফর করে মাঠপর্যায়ের চাহিদা ও শিল্প খাতের বাস্তব পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেছেন।

গবেষণার ফল শিল্প খাতে কার্যকরভাবে প্রয়োগের লক্ষ্যে যৌথ গবেষণাগার (জয়েন্ট ল্যাব) প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

এছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়সহ (বুটেক্স) দেশের শীর্ষস্থানীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে সমন্বিত গবেষণা প্ল্যাটফর্ম গড়ে তোলার আগ্রহ প্রকাশ করে চীনা প্রতিনিধিদল।

এর মাধ্যমে পাট ও তৈরি পোশাক খাতে নতুন ধরনের পণ্য উদ্ভাবন এবং আধুনিক উৎপাদন প্রযুক্তির প্রসার ঘটানো সম্ভব হবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন।

বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী জানান, বাংলাদেশ পাট গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিজেআরআই) ও জেডিপিসিকে জিয়াংনান ইউনিভার্সিটির গবেষণাগারের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। এতে দুই দেশের গবেষক ও প্রযুক্তিবিদদের মধ্যে জ্ঞান ও প্রযুক্তি বিনিময়ের সুযোগ তৈরি হবে।

মো. শরীফুল আলম বলেন, পাটের বহুমুখীকরণে গবেষণালব্ধ প্রযুক্তি উদ্যোক্তাদের কাছে পৌঁছে দেওয়া জরুরি। বিশেষ করে ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের আধুনিক উৎপাদন পদ্ধতি, পণ্যের নকশা ও মান নিয়ন্ত্রণে প্রশিক্ষণ এবং কারিগরি সহায়তা দেওয়া গেলে আন্তর্জাতিক বাজারের চাহিদা অনুযায়ী পণ্য তৈরির সক্ষমতা বাড়বে। এই ক্ষেত্রে জিয়াংনান বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে সহযোগিতা দেশের পাটপণ্য উৎপাদক ও কারিগরদের দক্ষতা উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, পাটভিত্তিক বিকল্প ফাইবার, উন্নতমানের কাপড় ও বহুমুখী টেক্সটাইল পণ্য উদ্ভাবনের নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে। একই সঙ্গে কাঁচামালনির্ভর রপ্তানি থেকে উচ্চমূল্য সংযোজিত পণ্য উৎপাদনের দিকে অগ্রসর হওয়ার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের পাট খাতের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়বে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পারকি সৈকতে পর্যটক হারাচ্ছে, নেই সড়কবাতি ও পর্যটন পুলিশ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৬:১৩ পি.এম


পারকি সৈকতে পর্যটক হারাচ্ছে, নেই সড়কবাতি ও পর্যটন পুলিশ

চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার পারকি সমুদ্রসৈকত ‘মিনি কক্সবাজার’ নামে পরিচিত। একসময় প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও সাগরের ঢেউয়ের আকর্ষণে দূরদূরান্তের পর্যটকরা এখানে ভিড় করতেন। সরকারি ছুটির দিনগুলোতে সৈকতটি ছিল উপচেপড়া ভিড়ে ভরা। তবে বর্তমানে যোগাযোগব্যবস্থার অবনতি, দীর্ঘ যানজট, সড়কবাতির অভাব এবং নিরাপত্তার সংকটের কারণে এই সম্ভাবনাময় পর্যটনকেন্দ্র দিন দিন পর্যটক হারাচ্ছে। শারদীয় দুর্গাপূজা ও প্রতিমা বিসর্জনের সময় বাড়তি জনসমাগমের সম্ভাবনা থাকলেও পর্যটকদের নিরাপত্তা ও স্বস্তি নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।

পারকি সৈকত, যা স্থানীয়দের কাছে ‘পারকির চর’ নামেও পরিচিত, কর্ণফুলী নদীর মোহনায় অবস্থিত। প্রায় ১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এই সৈকতের সৌন্দর্য পর্যটকদের আকর্ষণ করলেও অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা এর পর্যটন সম্ভাবনাকে ব্যাহত করছে।

স্থানীয় ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, পারকি সৈকতে যাতায়াতের প্রধান বাধা সংকীর্ণ সড়ক ও একটি গুরুত্বপূর্ণ সেতু। সৈকতে প্রবেশের সেতুটি প্রশস্ত না হওয়ায় এক পাশ দিয়ে গাড়ি চলাচলের সময় বিপরীত পাশের যানবাহন চলাচল ব্যাহত হয়। সড়ক সরু হওয়ায় বিশেষ করে ছুটির দিনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানজট লেগে থাকে, যা পর্যটকদের জন্য ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে।

ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করেছেন যে যানজট ও যোগাযোগব্যবস্থার দুর্ভোগের কারণে অনেক পর্যটক এখন পারকি সৈকতে আসতে অনীহা প্রকাশ করছেন। কিছু পর্যটক বিকল্প হিসেবে ফুলতলী সমুদ্রসৈকতের দিকে ঝুঁকছেন।

সন্ধ্যা নামলেই বাড়ে নিরাপত্তা উদ্বেগ:

সৈকতে সড়কবাতি ও বিদ্যুৎ-সংযোগের অভাবে সন্ধ্যার পর অনেক এলাকা অন্ধকারে ডুবে যায়। ফলে পর্যটকদের চলাচল ও নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হচ্ছে। ব্যবসায়ীদের দাবি, প্রায় দেড় মাস ধরে সৈকতে পর্যটন পুলিশের উপস্থিতি নেই। ফলে চুরি ও পর্যটকদের হয়রানির ঘটনা বেড়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

সৈকত এলাকায় গড়ে ওঠা প্রায় ১১০টি দোকানের মধ্যে বিভিন্ন সময়ে অভিযান চালিয়ে অনেক দোকান উচ্ছেদ করা হয়েছে। বর্তমানে ৫২টি দোকানের মধ্যে মাত্র চার-পাঁচটিতে বিদ্যুৎ-সংযোগ রয়েছে বলে ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে।

পর্যটন সম্ভাবনা কাজে লাগানোর দাবি:

চট্টগ্রাম শহর থেকে আসা সোলাইমান এবং হাটহাজারী থেকে পরিবার নিয়ে আসা রহমতুল্লাহ জানান, প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে সমৃদ্ধ পারকি সমুদ্রসৈকতকে ঘিরে পর্যটনশিল্প বিকাশের যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে। তবে সেই সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে হলে যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন, সেতুর সক্ষমতা বৃদ্ধি, যানজট নিরসন, নির্দিষ্ট পার্কিং ব্যবস্থা, পর্যাপ্ত সড়কবাতি এবং সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি বলে মনে করছেন স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্টরা।

পর্যটকদের নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় পরিবেশ দিতে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হলে পারকি সৈকত আবারও পর্যটকদের আকর্ষণের কেন্দ্র হয়ে উঠতে পারে। এমন প্রত্যাশা স্থানীয়দের।

পারকি সৈকত ব্যবসায়ী সমিতির দাবি:

পারকি সমুদ্রসৈকত ব্যবসায়ী সমিতির মো. কাশেম বলেন, পারকি সৈকতের পর্যটনশিল্প ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পেছনে প্রধান সমস্যা যোগাযোগব্যবস্থা ও নিরাপত্তার ঘাটতি। সৈকতে সড়কবাতি নেই। চলাচলের জন্য কয়েকটি সড়ক থাকলেও কার্যকর যোগাযোগের ক্ষেত্রে একটি সড়কের ওপর নির্ভর করতে হয়, ফলে যানজটের সৃষ্টি হয়।

তিনি বলেন, টাকা দিয়ে পার্কিংয়ের টিকিট কেটে আসলেও নির্দিষ্ট ও সুশৃঙ্খল গাড়ি পার্কিংয়ের ব্যবস্থা নেই। এতে গাড়ি সৈকত ও সড়কের ওপর দাঁড়িয়ে রাখতে হয়, যা যানজট সৃষ্টি করে। এসব সমস্যার কারণে পর্যটকেরা পারকি থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন।

কাশেম আরও বলেন, স্থানীয় সংসদ সদস্য সরওয়ার জামাল নিজাম ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার উদ্যোগে সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে দ্রুত সমাধান করা প্রয়োজন। তা না হলে পারকির পর্যটনশিল্প ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজার প্রতিমা বিসর্জন উপলক্ষে যানজট কমাতে তিনি সৈকতে প্রবেশের পাঁচটি সড়কের মধ্যে ৩ ও ৫ নম্বর সড়ক ব্যবহার করে যানবাহন চলাচলের ব্যবস্থা করার প্রস্তাব দেন। পরিকল্পিতভাবে বিকল্প সড়ক ব্যবহার করা গেলে বিসর্জনে আসা মানুষের যাতায়াত সহজ হবে।

দুর্গাপূজায় নিরাপত্তায় পুলিশের প্রস্তুতি:

আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা ও প্রতিমা বিসর্জনকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা প্রস্তুতির কথা জানিয়েছে পুলিশ।

কর্ণফুলী থানার বন্দর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ নূরে আলম সিদ্দিকী বলেন, বন্দর এলাকায় তিনটি স্থানে প্রতিমা বিসর্জনের আয়োজন করা হবে। পূজা উদ্‌যাপন কমিটির সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। উৎসব নির্বিঘ্ন রাখতে পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সতর্ক থাকবে। প্রয়োজন হলে পারকি সমুদ্রসৈকতে পুলিশের দল নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করবে। পূজামণ্ডপ থেকে প্রতিমা বিসর্জনের স্থান পর্যন্তও নিরাপত্তা দেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

তিনি আরও জানান, পারকি সৈকতে পর্যটকদের নিরাপত্তার স্বার্থে অনেক সময় পুলিশ সদস্যদের নিজস্ব খরচে সেখানে যেতে হয়। আনোয়ারা উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পার্কিংয়ের জন্য টাকা নেওয়া হয়। তবে নির্দিষ্ট জায়গার ব্যবস্থা না থাকায় কিছু মোটরসাইকেলচালক ভাড়ার টাকা নেওয়ার মাধ্যমে পর্যটকদের হয়রানি করেন। এ ধরনের অভিযোগ আমাদের কাছে এসেছে। একটি চক্র ছিনতাই করে মোটরসাইকেলে পালিয়ে যাচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে তিনি আনোয়ারা উপজেলার মাসিক আইনশৃঙ্খলা সমন্বয় সভায় জানাচ্ছেন বলে জানান।

আনোয়ারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জুনায়েত চৌধুরী বলেন, আনোয়ারা থানার আওতায় ৩০১টি স্থানে শারদীয় দুর্গাপূজা উদ্‌যাপনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ১১২টি স্থায়ী মন্দির এবং ১৮৮টি ঘটপূজার স্থান। পূজার নিরাপত্তায় ছয়টি টহল দল মোতায়েন থাকবে। পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ ও অধিক পূজামণ্ডপ থাকা এলাকায় অতিরিক্ত টহল এবং সাদাপোশাকে পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হবে।

চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি ও পুলিশ সুপারের নির্দেশনা অনুযায়ী, শান্তিপূর্ণভাবে দুর্গাপূজা উদ্‌যাপন নিশ্চিত করতে পুলিশ সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে থাকবে বলেও জানান তিনি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানায় দুর্গাপূজায় যাত্রীসেবা দিতে প্রস্তুত ৩৬টি রেলকোচ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৬:১৪ পি.এম


সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানায় দুর্গাপূজায় যাত্রীসেবা দিতে প্রস্তুত ৩৬টি রেলকোচ

দেশের বৃহত্তম নীলফামারীর সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানায় শারদীয় দুর্গোৎসবে যাত্রীসেবা প্রদানের জন্য ৩৬টি রেলকোচ প্রস্তুত করা হয়েছে। মাত্র ১৩ কর্মদিবসের মধ্যে কারখানায় কোচগুলোর ভারী মেরামত (ওভারহোলিং) সম্পন্ন করা হয়।

কারখানা সূত্রে জানা যায়, ঈদের মতো পূজার ছুটির সময়েও যাত্রীসেবা দিতে পরিবহন খাতে চরম চাপের সম্মুখীন হতে হয়। এবারের পূজার ছুটিও অনেক বেশি। ফলে, পরিবারগুলোর সঙ্গে ছুটির দিনগুলোতে আনন্দ ভাগাভাগি করতে রাজধানী ছাড়বেন অনেক যাত্রী। যাত্রীচাপ মোকাবেলার বিষয়টি মাথায় রেখে রেলের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ সৈয়দপুর কারখানায় ব্রডগেজ (বড়) লাইনের ৩১টি কোচ মেরামতের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে।

মেরামতকৃত কোচগুলোর মধ্যে ১৪টি শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত চেয়ার কোচ (স্নিগ্ধা), দুটি শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কেবিন কোচ এবং ১৫টি শোভন চেয়ার কোচ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এ ছাড়া অতিরিক্ত ছয়টি মিটারগেজ কোচও কারখানায় মেরামত করা হয়েছে। রাজস্ব খাত থেকে পূজার কোচ মেরামতের জন্য অর্থের সংস্থান করা হয় বলে জানায় সূত্রটি।

সূত্রটি আরও জানায়, কারখানাটিতে তীব্র জনবলসংকট বিদ্যমান। এখানে ২৯টি উপকারখানায় (শপ) ২ হাজার ৮৫৯ জন জনবলের বিপরীতে বর্তমানে কর্মরত আছেন মাত্র ৭৬৩ জন শ্রমিক-কর্মচারী। এর বাইরে ৪৯২ জন অস্থায়ী শ্রমিকও কারখানাটিতে কাজ করছেন। বাজেটস্বল্পতা ও লোকবলসংকটের কারণে উৎপাদন কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ছুটির দিনেও শ্রমিকরা কোচ মেরামতের কাজে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। কারখানার ক্যারেজ শপে চলছিল কোচ মেরামতের কার্যক্রম।

শপের ইনচার্জ, ঊর্ধ্বতন উপসহকারী প্রকৌশলী (এসএসএই) মোমিনুল ইসলাম জানান, পূজায় যাত্রীসেবা নিশ্চিত করতে তারা ৪ অক্টোবর থেকে উৎপাদন শুরু করেছেন। আগামী ১৮ অক্টোবর তাদের কাজ শেষ হবে। এর মধ্যে অধিকাংশ কোচ পশ্চিমাঞ্চল রেলের ট্রাফিক বিভাগের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

তিনি বলেন, এসব কোচের মাধ্যমে ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা ট্রেনে অতিরিক্ত কোচ সংযোজন করা হবে। ফলে প্রতিদিন স্বাভাবিকের চেয়ে অতিরিক্ত ২৫ হাজার যাত্রী রেলসেবা গ্রহণ করতে পারবেন।

রোববার (১৮ অক্টোবর) সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানার বিভাগীয় তত্ত্বাবধায়ক (ডিএস) শাহ সুফী নুর মোহাম্মদ জানান, শারদীয় দুর্গাপূজা বাঙালির একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎসব। পূজার ছুটিতে যাত্রীরা নির্বিঘ্নে রেলসেবা পাবেন, এটি তাদের কাছে আনন্দের বিষয়। কাজেই যাত্রীসেবার কথা মাথায় রেখে শ্রমিক-কর্মচারীরা অক্লান্ত পরিশ্রম করে চলেছেন। কর্তৃপক্ষের চাহিদা অনুযায়ী যথাসময়ে কোচ হস্তান্তর করতে পারা, এটিই তাদের বড় অর্জন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ধামরাইয়ে পরিত্যক্ত গোডাউনে অগ্নিকাণ্ড, ৫ লাখ টাকার সম্পদ উদ্ধার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৬:১৪ পি.এম


ধামরাইয়ে পরিত্যক্ত গোডাউনে অগ্নিকাণ্ড, ৫ লাখ টাকার সম্পদ উদ্ধার

ঢাকার ধামরাইয়ে অবস্থিত বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন (বিসিক) শিল্পনগরীর ‘মুকুল পিভিসি ইন্ডাস্ট্রিজ’-এর একটি পরিত্যক্ত গোডাউনে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিটের প্রায় এক ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন সম্পূর্ণভাবে নির্বাপণ করা সম্ভব হয়েছে। এই ঘটনায় হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি এবং ফায়ার সার্ভিসের তৎপরতায় আনুমানিক ৫ লাখ টাকার সম্পদ উদ্ধার করা হয়েছে।

ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, রোববার (১৮ অক্টোবর) সকাল ৯টা ১৭ মিনিটে বিসিক শিল্পনগরীর ওই গোডাউনটিতে আগুন লাগার খবর পায় ফায়ার সার্ভিস। তথ্য পাওয়ার মাত্র আট মিনিটের মধ্যে, সকাল ৯টা ২৫ মিনিটে ধামরাই ফায়ার স্টেশনের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। ধামরাই ফায়ার স্টেশনের কর্মকর্তা আল আমিন খানের নেতৃত্বে দুটি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর সকাল ৯টা ৫০ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে এবং সকাল ১০টা ২০ মিনিটে আগুন সম্পূর্ণরূপে নির্বাপণ করা হয়।

ধামরাই ফায়ার স্টেশন জানায়, ক্ষতিগ্রস্ত গোডাউনটি আনুমানিক ১০০ ফুট × ৩০ ফুট আয়তনের একটি স্টিল স্ট্রাকচারের স্থাপনা ছিল। প্রাথমিক ধারণা অনুযায়ী, গ্যাস লিকেজ থেকে এই অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়েছে।

এই অগ্নিকাণ্ডে আনুমানিক ১ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানানো হয়েছে। তবে ফায়ার সার্ভিসের দ্রুত ও কার্যকরী পদক্ষেপের কারণে গোডাউন এবং এর আশেপাশের আনুমানিক ৫ লাখ টাকার সম্পদ আগুনে পুড়ে যাওয়া থেকে রক্ষা পেয়েছে।

ধামরাই ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন কর্মকর্তা আল আমিন খান বলেন, "খবর পাওয়ার সাথে সাথেই আমাদের টিম দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। দুটি ইউনিটের কর্মীরা অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে কাজ করায় আগুন দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে এবং বড় ধরনের কোনো ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। প্রাথমিক আলামত দেখে মনে হচ্ছে গ্যাস লিকেজ থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়েছে।"

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%