১১:০৪ এম
সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নতুন পে স্কেল বাস্তবায়ন করতে সরকার দুই ধাপে ব্যবস্থা নিতে পারে। আসন্ন জুলাই থেকেই নতুন পে স্কেলে সম্পূর্ণ মূল বেতন কার্যকর হওয়ার সম্ভাবনার কথা জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট উৎস।
চলতি সপ্তাহের মধ্যে পে কমিশনের সুপারিশ মূল্যায়ন ও বাস্তবায়নের রোডম্যাপ অর্থ মন্ত্রণালয়ে জমা দেওয়ার কথা রয়েছে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির নেতৃত্বাধীন কমিটির। সরকারি বেসামরিক প্রশাসন, বিচার বিভাগ ও সশস্ত্র বাহিনীর তিনটি পৃথক পে কমিশনের প্রতিবেদনের পর পর্যালোচনা করে কমিটি তাদের সুপারিশ চূড়ান্ত করেছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্র এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। খবরের মাধ্যমে জানা গেছে সোমবার (২৯ জুন) দ্য ডেইলি স্টারের এক প্রতিবেদনে।
প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদনের পর, জুলাইয়ের মাঝামাঝি সময়ে এ সংক্রান্ত গেজেট অর্থ মন্ত্রণালয় প্রকাশ করতে পারে। প্রথম অবস্থায় নবম পে স্কেল বাস্তবায়ন নিয়ে সরকার তিন বছর ও দুই বছর মেয়াদি—দুটি বিকল্পের কথা চিন্তা করেছিল।
আরও পড়ুন: এনসিপির কমিটিতে ৩০ বছরের নিচে কাউকে রাখা হবে না
তিন বছরের পরিকল্পনার অনুযায়ী, আগামী দুই অর্থবছরে ধাপে ধাপে মূল বেতনের ৫০ শতাংশ কার্যকর করার ব্যবস্থা হতে পারে এবং তৃতীয় বছরে ভাতা কার্যকর হবে। কিন্তু অর্থ বিভাগ জানিয়েছে, দুই ধাপে মূল বেতন বাস্তবায়ন হলে সরকারের ইন্টিগ্রেটেড বাজেট অ্যান্ড অ্যাকাউন্টিং সিস্টেমে (আইবিএএসপ্লাসপ্লাস) কিছু কারিগরি জটিলতা দেখা দিতে পারে।
এ জন্য তারা একবারেই মূল বেতন পুরোটা কার্যকর করার সুপারিশ করেছে। তবে সামগ্রিকভাবে কমিটি দুই ধাপে পে স্কেল বাস্তবায়নের পরিকল্পনায় এগোচ্ছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে অর্থ মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা বলেছেন, 'চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদনের ওপর নির্ভর করছে। আমরা আশা করছি, জুলাইয়ের মাঝামাঝি বা তার পরের সপ্তাহে গেজেট প্রকাশ করা হবে।'
বর্তমান ২০টি গ্রেডের মধ্যে, ১ থেকে ১০ নম্বর গ্রেডে ১০০ শতাংশ বা তার কিছুটা কম এবং ১১ থেকে ২০ নম্বর গ্রেডে গড়ে ১৩০ শতাংশ বেতন বৃদ্ধির সুপারিশ করে কমিটি।
আরও পড়ুন: নাহিদ ইসলাম: দেশ মাফিয়া রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে
২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে সরকারি কর্মচারীদের নতুন বেতন কাঠামোর আংশিক বাস্তবায়নের জন্য ৪৪ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বাজেট বক্তৃতায় ১ জুলাই থেকে নতুন পে স্কেল কার্যকর হওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন, তবে এটি কীভাবে বাস্তবায়ন হবে সে বিষয়ে বিস্তারিত জানাননি।
অর্থমন্ত্রী বলেন, 'আমরা ১ জুলাই ২০২৬ থেকে ধাপে ধাপে সরকারি কর্মচারীদের জন্য নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের ঘোষণা করছি। গত ১১ বছর ধরে সরকারি কর্মচারীরা একই কাঠামোর আওতায় বেতন-ভাতা পাচ্ছেন, অথচ মূল্যস্ফীতির কারণে জীবনযাত্রার ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।'
পে স্কেল সংশোধনের আগের উদাহরণগুলোর মতো এবার বাজেট নথিতে বেতন-ভাতা খাতে আলাদা করে কোনো বৃদ্ধি উল্লেখ করা হয়নি।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বরাদ্দটি নেট পাবলিক সার্ভিস খাতে রাখা হয়েছে। চলতি অর্থবছরের সংশোধিত বরাদ্দের তুলনায় এ খাতে ব্যয় ৫৪ হাজার ৫৭২ কোটি টাকা বেড়ে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৪১ হাজার ৪৪৪ কোটি টাকা।
আরও পড়ুন: ‘জুলাইয়ের আন্দোলনে শেখ হাসিনা ও জাতীয় মসজিদের খতিব পালিয়ে গেছেন’
কর্মকর্তাদের মতে, বাস্তবায়নের অগ্রগতির ওপর নির্ভর করে ৪৪ হাজার কোটি টাকার এ বরাদ্দ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী, পেনশনভোগী এবং এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন সমন্বয়ে ব্যয় করা হবে। এবার মূল বেতনে ১০০ থেকে ১৪২ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধির পাশাপাশি অন্যান্য সুযোগ-সুবিধাও উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানোর সুপারিশ করেছে নবম পে কমিশন।
২০১৫ সালে দুই ধাপে অষ্টম জাতীয় পে স্কেল বাস্তবায়ন করা হয়েছিল। ওই বছর সংশোধিত মূল বেতন এবং পরের বছর সংশোধিত ভাতা কার্যকর হয়েছিল। বর্তমান সরকার তার ১৪ লাখ কর্মকর্তা-কর্মচারী ও ৯ লক্ষ পেনশনভোগীর জন্য বছরে প্রায় ১ লাখ ৩১ হাজার কোটি টাকা ব্যয় করে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন