০৬:২৩ পি.এম
ভারত ও দক্ষিণ আমেরিকার বাণিজ্য জোট মারকোসুরের মধ্যে বিদ্যমান অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য চুক্তি (পিটিএ) সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ভারত ও ব্রাজিল চুক্তির আওতা বাড়ানোর আলোচনার জন্য প্রয়োজনীয় কার্যপরিধি চূড়ান্ত করেছে। এর ফলে দুই পক্ষের মধ্যে বড় বাণিজ্য চুক্তির পথ তৈরি হতে পারে।
ব্রাজিলের উন্নয়ন, শিল্প, বাণিজ্য ও পরিষেবামন্ত্রী মার্সিও এলিয়াস রোসা মন্তব্য করেন, ‘ভারত ব্রাজিলের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক অংশীদার। তবে বর্তমানে ভারত ও মারকোসুরের মধ্যে যে বাণিজ্য চুক্তি রয়েছে, সেটির আওতা খুবই সীমিত।’
তিনি আরও বলেন, ‘দুই পক্ষের মধ্যে বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে। এ কারণেই বর্তমান চুক্তি সম্প্রসারণের বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করা হচ্ছে।’
আরও পড়ুন: রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে আন্তর্জাতিক সমাজের কার্যকর ভূমিকা চাইলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
মারকোসুরের সদস্য দেশগুলো হলো ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা, উরুগুয়ে, প্যারাগুয়ে ও বলিভিয়া। ভারত ও মারকোসুরের বর্তমান অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য চুক্তি ২০০৯ সাল থেকে কার্যকর রয়েছে। বর্তমান চুক্তিতে দুই পক্ষের কিছু পণ্যে শুল্কছাড়ের সুবিধা রয়েছে। নতুন করে চুক্তির আওতা বাড়ানো হলে পণ্য, সেবা ও বিনিয়োগসহ আরো বেশি ক্ষেত্রে বাণিজ্যের সুযোগ তৈরি হতে পারে।
রোসা এখানে জি-২০ বাণিজ্যমন্ত্রীদের বৈঠকের ফাঁকে এক প্রশ্নের জবাবে আইএএনএসকে বলেন, ‘ভারত ব্রাজিলের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বাণিজ্যিক অংশীদার।’
তিনি বলেন, ‘ভারত বিশ্বের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি অর্থনীতি। দেশটির সঙ্গে আমাদের ভালো সম্পর্ক রয়েছে।’ ভারতের বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী পীযূষ গোয়েলের সঙ্গে বৈঠকের পর আইএএনএসের এক প্রশ্নের জবাবে রোসা এসব কথা বলেন।
রোসা বলেন, ‘আমরা এখন ভারত ও মারকোসুরের মধ্যে একটি বিস্তৃত বাণিজ্য চুক্তির সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেছি।’ মারকোসুর দক্ষিণ আমেরিকার একটি আঞ্চলিক বাণিজ্য জোট। ব্রাজিল এই জোটের অন্যতম সদস্য। রোসা বলেন, ‘ভারত ও মারকোসুরের মধ্যে বর্তমানে যে অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য চুক্তি রয়েছে, তা মাত্র কয়েকটি পণ্যের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। ফলে চুক্তিটির আওতা বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে।’
আরও পড়ুন: ঢাকা-সৌদি রুটে ১২৬ ফ্লাইট বাতিল, ১৯৩৭৭ যাত্রী ভোগান্তিতে
ভারত-মারকোসুর বাণিজ্য চুক্তি সম্প্রসারণের উদ্যোগ
ভারত ও দক্ষিণ আমেরিকার বাণিজ্য জোট মারকোসুরের মধ্যে বিদ্যমান অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য চুক্তি (পিটিএ) আরও বিস্তৃত করার আলোচনা শুরু হয়েছে। গত ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ দুই পক্ষ এ আলোচনা শুরুর ঘোষণা দেয়। এর লক্ষ্য হলো বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক বাড়ানো এবং দুই দেশের ব্যবসার জন্য নতুন সুযোগ তৈরি করা।
মারকোসুরের সদস্য দেশ হলো ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা, উরুগুয়ে, প্যারাগুয়ে ও বলিভিয়া। চুক্তি সম্প্রসারণের আলোচনার পরিধি ও কাঠামো নির্ধারণে ‘টার্মস অব রেফারেন্স’ (টিওআর) চূড়ান্ত করার কাজও এগিয়ে গেছে। ভারত ও ব্রাজিল ১ অক্টোবরের মধ্যে এ বিষয়ে কাজ শেষ করেছে। এর মাধ্যমে ভবিষ্যতে পণ্য, সেবা ও বিনিয়োগসহ আরও খাতকে চুক্তির আওতায় আনার সুযোগ তৈরি হতে পারে।
পিটিএ থেকে এফটিএ
আরও পড়ুন: সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষায় গুজব ও অপপ্রচারের বিরুদ্ধে সতর্ক থাকার আহ্বান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর
দীর্ঘমেয়াদে ২০০৯ সালের জুন থেকে কার্যকর থাকা বর্তমান পিটিএকে একটি পূর্ণাঙ্গ মুক্ত বাণিজ্য চুক্তিতে (এফটিএ) রূপ দেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে। প্রস্তাবিত এফটিএতে পণ্য, সেবা ও বিনিয়োগ অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। এতে দুই পক্ষের বাজারে প্রবেশের সুযোগ বাড়তে এবং বাণিজ্য বাধা কমতে পারে।
বর্তমান পিটিএর আওতায় ভারতের ৪৫০টি এবং মারকোসুরের ৪৫২টি পণ্যশ্রেণিতে শুল্কছাড়ের সুবিধা রয়েছে। এসব পণ্যে ১০ থেকে ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্কছাড় দেওয়া হয়।
এদিকে, গত ১৪ সেপ্টেম্বর ভারত ও মারকোসুর পিটিএর প্রথম অতিরিক্ত প্রোটোকলে সই করেছে। এর মাধ্যমে শুল্কসংক্রান্ত প্রক্রিয়া সহজ করার পাশাপাশি কাগজবিহীন বাণিজ্য ব্যবস্থাকে উৎসাহিত করা হবে। ইলেকট্রনিক ‘সার্টিফিকেট অব অরিজিন’ (সিওও) ব্যবহারের সুযোগ বাড়লে পণ্যের উৎপত্তির সনদ অনলাইনে আদান-প্রদান আরও সহজ হবে।
পিটিএ থেকে এফটিএ
আরও পড়ুন: সব ধর্মের মানুষের সমান অধিকার নিশ্চিত করাই বিএনপির রাজনীতি: পানিসম্পদ মন্ত্রী
বিশ্ব অর্থনীতির অনিশ্চয়তার মধ্যে ভারত ও ব্রাজিল বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও বাড়াতে চাইছে। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভার ভারত সফরের সময় দুই দেশ ২০৩০ সালের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ৩০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করে।
ব্রাজিলের মন্ত্রী মার্সিও এলিয়াস রোসা বলেন, বর্তমান শুল্ক সুবিধার চুক্তির আওতা সীমিত। তাই এটি আরও বিস্তৃত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। তিনি জানান, চুক্তির আলোচনার কাঠামোর খসড়া তৈরির কাজ শেষ হয়েছে এবং আগামী মাসগুলোতে এ নিয়ে আরও আলোচনা হবে।
এ ছাড়া জৈব অর্থনীতি, চক্রাকার অর্থনীতি, ডিজিটাল অর্থনীতি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, দক্ষতা উন্নয়ন ও প্রতিরক্ষা খাতেও দুই দেশের সহযোগিতা বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে বলে জানান রোসা।
ভারত ও ব্রাজিল বর্তমান শুল্ক সুবিধার বাইরে গিয়ে দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও বাড়াতে চায়। এ জন্য নতুন নতুন খাতে সহযোগিতার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা চলছে। ব্রাজিলের মন্ত্রী মার্সিও এলিয়াস রোসা বলেন, জৈব অর্থনীতি, চক্রাকার অর্থনীতি ও ডিজিটাল অর্থনীতির মতো খাতে দুই দেশের সহযোগিতা বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে। এ ছাড়া আলোচনায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), দক্ষতা উন্নয়ন ও প্রতিরক্ষা খাতের বিষয়ও উঠে এসেছে। এসব ক্ষেত্রেও ভবিষ্যতে ভারত ও ব্রাজিলের মধ্যে সহযোগিতা বাড়তে পারে বলে জানান তিনি।
আরও পড়ুন: গাজায় প্রায় প্রতিদিনই ইসরাইলি হামলা, যুদ্ধবিরতির পর নিহত ১৫২২
বাণিজ্য বাড়ানোর লক্ষ্য
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন