ঢাকা রবিবার, ২৫শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৯ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৪ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
রবিবার, ২৫শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৯ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

জামায়াত নেতা মেজর আখতারুজ্জামান গ্রেপ্তার


জামায়াত নেতা মেজর আখতারুজ্জামান গ্রেপ্তার

ডিবি পুলিশ বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতা মেজর আখতারুজ্জামানকে (অব.) গ্রেপ্তার করেছে। এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন সংস্থাটির প্রধান শফিকুল ইসলাম কালের কণ্ঠকে।

আজ শুক্রবার সন্ধ্যায় ঢাকার ক্যান্টনমেন্ট এলাকার বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

আজ দুপুরে বিমানবন্দর থানায় আখতারুজ্জামানের বিরুদ্ধে সরকারি কাজে বাধা, বিমানবন্দরে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করার অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলাটি করেন বিমানবন্দরের নিরাপত্তা কর্মকর্তা মো. শাহরিয়ার আলম সজিব। দণ্ডবিধির ১৮৬, ১৮৯, ২৯৪, ৩২৩, ৩৫২, ৩৫৩, ৫০৪ ও ৫০৬ ধারায় মামলা দায়ের করা হয়।

আরও পড়ুন: ফ্যামিলি কার্ড বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে সরকারের দৃঢ়প্রতিজ্ঞ : এরশাদ উল্লাহ

এদিকে, আদালত আখতারুজ্জামানের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন ১০ নভেম্বরের মধ্যে দাখিল করার নির্দেশ দিয়েছেন। আজ শুক্রবার মামলার এজাহার আদালতে উপস্থাপনের পর ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আলবিরুনী মীর এই আদেশ দেন।

বিমানবন্দর থানার এসআই মাজেদুল ইসলাম মামলাটির তদন্ত করছেন।

মামলার এজাহার থেকে জানা যায়, গত ১ অক্টোবর সকাল সাড়ে ১০টার দিকে মদিনা থেকে আসা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের বিজি-৩৩৮ ফ্লাইটের যাত্রীদের চাপের কারণে বিমানবন্দরের ৮ নম্বর লাগেজ বেল্ট এলাকায় ট্রলির সংকট দেখা দেয়। এতে লাগেজ পেতে দেরি হওয়ায় যাত্রীদের মধ্যে ক্ষোভ ও উত্তেজনা তৈরি হয়।

সাধারণ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ঢাকা-৫ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ কামাল হোসেনের আহ্বানে ঘটনাস্থলে যান বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এস এম রাগীব সামাদ। এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, তিনি পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করছিলেন। এ সময় আখতারুজ্জামান তার দিকে এগিয়ে গিয়ে গালাগাল করেন এবং মারধর ও বিমানবন্দর থেকে বের করে দেওয়ার হুমকি দেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: ঢাকায় আসছেন বিলাল আব্বাস, দেখা করবেন যেভাবে

এজাহারে আরো বলা হয়, একপর্যায়ে আখতারুজ্জামানের সঙ্গে থাকা প্রটোকল সহকারীরা বিমানবন্দরের সংরক্ষিত (কেপিআই) এলাকায় মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণ করতে থাকেন।

সেখানে দায়িত্বে থাকা নিরাপত্তা সুপারভাইজার ওয়ারেন্ট অফিসার মোহাম্মদ কামাল উদ্দিন তাদের ভিডিও ধারণে নিষেধ করেন। এ সময় আখতারুজ্জামান তার সঙ্গে অশোভন আচরণ ও গালাগাল করেন এবং একপর্যায়ে তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে।

এজাহার অনুযায়ী, ওই সময় অন্য যাত্রীদের সংগ্রহ করা জমজমের পানির বোতলও ট্রলি থেকে ছুড়ে ফেলে দেওয়া হয়। এতে বোতলগুলোর ক্ষতি হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের এক প্রতিনিধির সঙ্গেও আখতারুজ্জামান মারমুখী আচরণ করেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

২০২৫ সালের ১৩ ডিসেম্বর তিনি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীতে যোগদান করেন।

আরও পড়ুন: ইলিশ ধরায় নিষেধাজ্ঞা: জালে, নাকি জেলের জীবনেও?

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

দেশ বদলাতে প্রত্যেককে নিজের অবদান নিয়ে ভাবতে হবে: জেলা প্রশাসক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ২ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৬:৪২ পি.এম


দেশ বদলাতে প্রত্যেককে নিজের অবদান নিয়ে ভাবতে হবে: জেলা প্রশাসক

চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা মন্তব্য করেছেন, দেশ ও সমাজের পরিবর্তন ঘটাতে হলে প্রত্যেককে নিজেদের ভূমিকা ও অবদান নিয়ে চিন্তা করতে হবে। তিনি উল্লেখ করেন, উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির জন্য গবেষণা ও উদ্ভাবনের পাশাপাশি ভোক্তার পরিবর্তিত চাহিদা বুঝে ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুতি নিতে হবে।

শুক্রবার (২ অক্টোবর) জাতীয় উৎপাদনশীলতা দিবস-২০২৬ উপলক্ষে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসের সম্মেলনকক্ষে জেলা প্রশাসন কর্তৃক আয়োজিত আলোচনাসভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ডিসি জাহিদ বলেন, ‘আমরা সবাই চাই দেশটা সুন্দর ও উন্নত হোক। কিন্তু আমি নিজেকে প্রশ্ন করি—দেশকে উন্নত করার জন্য আমি কী করছি? আমার অবদান কী? দেশ ও সমাজের পরিবর্তনে আপনার অবদান কী—এই প্রশ্নটি আপনাদের কাছে রেখে যেতে চাই।’

বিশ্বের বড় প্রতিষ্ঠানগুলোর উদাহরণ তুলে ধরে তিনি বলেন, সফল প্রতিষ্ঠানগুলো ভবিষ্যতের ভোক্তার রুচি ও চাহিদা নিয়ে আগাম গবেষণা করে। তরুণ প্রজন্মের পছন্দ কিভাবে বদলাচ্ছে এবং ভবিষ্যতে তারা কী চাইবে—এসব বিবেচনায় নিয়ে পণ্য ও বাজার পরিকল্পনা করতে হবে। তিনি উল্লেখ করেন, দেশ ও বাজারগুলো বর্তমানে পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত, তাই চিন্তাভাবনাকেও সেই পর্যায়ে নিয়ে যেতে হবে।

চট্টগ্রামের ব্যবসা-বাণিজ্যের দীর্ঘ ইতিহাসের প্রসঙ্গ তুলে জেলা প্রশাসক বলেন, দেশের অর্থনীতিতে চট্টগ্রামের গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান রয়েছে। ঐতিহাসিকভাবে এই অঞ্চলে ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার ঘটেছে, ফলে চট্টগ্রামের ব্যবসায়ীদের কাছেও মানুষের প্রত্যাশা বেশি।

তিনি বলেন, ‘মানুষ চট্টগ্রামের ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে অনেক বেশি প্রত্যাশা করে। তাঁরা নতুন ধারণা নিয়ে আসবেন, নতুন কিছু সৃষ্টি করবেন। সৃষ্টিশীলতা আসতে হবে।’

পরিবর্তিত বিশ্ববাজারে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে ব্যবসায়ীদের ক্রেতার চাহিদা, তরুণ প্রজন্মের রুচি ও ভবিষ্যৎ বাজার নিয়ে গবেষণার পরামর্শ দেন তিনি।

জাহিদুল ইসলাম বলেন, সমাজের প্রতি নিজের অবদান কী, সেদিকে আমরা তাকাই না। শুধু বলি—ডিসি সাহেব এটা করেননি, এসপি এটা করেননি। এভাবে সমাজ পরিবর্তন হবে না।

কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের একার পক্ষে সম্ভব নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, সরকারি কর্মকর্তা, ব্যবসায়ী ও সাধারণ নাগরিক—সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্ব নিতে হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

তাহিরপুরের হাওরাঞ্চলের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক সংকট, শূন্য পদে ব্যাহত পাঠদান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তাহিরপুর (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি

শুক্রবার, ২ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৬:৪২ পি.এম


তাহিরপুরের হাওরাঞ্চলের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক সংকট, শূন্য পদে ব্যাহত পাঠদান

সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার দুর্গম হাওরাঞ্চলের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষক সংকট ও বিভিন্ন পদ শূন্য থাকায় ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক পাঠদান কার্যক্রম। দুর্গম যোগাযোগব্যবস্থা ও হাওরকেন্দ্রিক ভৌগোলিক বাস্তবতার কারণে এসব বিদ্যালয়ে শিক্ষক সংকট আরও প্রকট হয়ে উঠেছে।
উপজেলার কয়েকটি বিদ্যালয়ে প্রয়োজনের তুলনায় শিক্ষক সংখ্যা কম থাকায় একজন শিক্ষককে একাধিক শ্রেণির শিক্ষার্থীদের পাঠদান করতে হচ্ছে। কোথাও আবার শিক্ষক বদলি বা অবসরের পর পদ শূন্য থাকলেও দীর্ঘদিনেও তা পূরণ হয়নি। ফলে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা নিয়মিত ও মানসম্মত পাঠদান থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
দুর্গম হাওরাঞ্চলের শরীফপুর রাধাচরণ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক না থাকায় পাশের বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সমন্বয় করে বিদ্যালয়ের কার্যক্রম চালানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে মন্দিয়াতা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য রয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
এ ছাড়া দুর্লভপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দীর্ঘ সময় ধরে মাত্র একজন শিক্ষ

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পাকিস্তানের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ ড. নিয়াজ মুর্তাজারের: ঋণনির্ভরতা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শুক্রবার, ২ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৬:৪৩ পি.এম


পাকিস্তানের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ ড. নিয়াজ মুর্তাজারের: ঋণনির্ভরতা

পাকিস্তানের বৈদেশিক তারল্য বর্তমানে মূলত দুটি ভঙ্গুর ভিত্তির ওপর নির্ভর করছে—বারবার নেওয়া আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ঋণ এবং মিত্র রাষ্ট্রগুলোর আমানত পুনঃতফসিল বা মেয়াদ বাড়ানো। দেশের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক উভয় দিক থেকেই এসব ব্যবস্থার জন্য পাকিস্তানকে বড় মূল্য দিতে হচ্ছে।

রাজনৈতিক অর্থনীতিবিদ এবং গবেষক ড. নিয়াজ মুর্তাজারের মতে, পাকিস্তানের শাসকরা অর্থনৈতিক সক্ষমতার পরিবর্তে ভূরাজনৈতিক গুরুত্বকে কাজে লাগিয়ে মিত্র রাষ্ট্রগুলোকে প্রায় দেউলিয়া রাষ্ট্রটির অর্থায়নে আগ্রহী করে তুলছেন। যদিও এসব সহায়তাকে টেকসই অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে রূপান্তরিত করতে ব্যর্থ হয়েছেন, তবে ব্যক্তিগত স্বার্থে তা ব্যবহারে তারা সফলতা অর্জন করেছেন। এর ফলে দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি আমদানিনির্ভর হয়ে পড়েছে, যা ডলার আয় করার চেয়ে দ্রুত ব্যয় করার ফলে বারবার বৈদেশিক মুদ্রার সংকট সৃষ্টি করছে।

চলতি শতকে পাকিস্তানের সবচেয়ে বড় সুযোগ নষ্ট করেছিলেন সাবেক রাষ্ট্রপতি ও সেনাপ্রধান পারভেজ মোশাররফ—এমন দাবি করেছেন মুর্তাজা। তিনি উল্লেখ করেন, ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের হামলার পর মোশাররফের শাসনামলে যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা, ঋণ পুনর্গঠন, বিদেশি বিনিয়োগ ও পোর্টফোলিও বিনিয়োগ মিলিয়ে ৪৫ বিলিয়ন ডলারের বেশি প্রবাহিত হয়েছিল। কিন্তু শক্তিশালী রপ্তানি ভিত্তি গড়ে ওঠেনি। বরং এসব অর্থ ভোগ, আমদানি ও আবাসন খাতে ব্যয় হয়ে সম্পদের মূল্যবৃদ্ধি ঘটিয়েছে। ২০০৮ সালে জিডিপির ৮ দশমিক ২ শতাংশে পৌঁছে যায় চলতি হিসাবে ঘাটতি, যা বড় ধরনের সংকট তৈরি করে।

পরবর্তীতে চীন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডর (সিপিইসি) জ্বালানি ও সড়ক খাতে ২০ বিলিয়ন ডলারের বেশি অর্থায়ন করেছে। এতে জ্বালানি সংকট কিছুটা কমলেও টেকসই রপ্তানি ভিত্তি গড়ে ওঠেনি। ২০১৮ সালে আমদানি বৃদ্ধির ফলে চলতি হিসাবের ঘাটতি জিডিপির প্রায় ৬ শতাংশে পৌঁছে যায়। মূলত এরপর পাকিস্তান আইএমএফ ঋণ ও বিভিন্ন রাষ্ট্রের আমানতের ওপর আরও বেশি নির্ভরশীল হয়ে পড়ে।

মুর্তাজারের মতে, ২০১৬ সালে স্টেট ব্যাংক অব পাকিস্তানের রিজার্ভের ৩৬ শতাংশের সমপরিমাণ বিদেশি রাষ্ট্রের আমানত ছিল, যা ২০২৩ সালের শুরুতে প্রায় ৬০০ শতাংশে পৌঁছে যায়। বর্তমানে প্রায় ১১ বিলিয়ন ডলার আইএমএফ ঋণ, সৌদি আরবের ৮ বিলিয়ন ডলার এবং চীনের ৪ বিলিয়ন ডলারের আমানত রয়েছে বলে তার লেখায় উল্লেখ করা হয়েছে।

তিনি দাবি করেন, এসব আমানত বা ঋণ সরাসরি উৎপাদন, কর্মসংস্থান কিংবা রাজস্ব আয়ের প্রকল্পে ব্যবহৃত হয় না। বরং বৈদেশিক মুদ্রার সংকট মোকাবিলার জন্য এগুলো নেওয়া হয়। ফলে রিজার্ভ বাড়লেও অর্থনীতির কাঠামোগত দুর্বলতা দূর হচ্ছে না।

তবে পাকিস্তানের তুলনায় বাংলাদেশ বৈদেশিক মুদ্রার ক্ষেত্রে তুলনামূলকভাবে ভিন্ন অবস্থানে রয়েছে বলেও মনে করেন পাকিস্তানি এই গবেষক। তার মতে, বাংলাদেশের বিদেশি রাষ্ট্রের এমন আমানত নেই এবং আইএমএফের ঋণ রিজার্ভের তুলনায় অনেক কম। একই সময়ে বাংলাদেশের রপ্তানি প্রায় ৪৮ বিলিয়ন ডলার, যেখানে পাকিস্তানের রপ্তানি প্রায় ৩০ বিলিয়ন ডলার বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

সংবাদ মাধ্যম ডনের এক প্রতিবেদনে তিনি দাবি করেন, গত চার বছরে পাকিস্তানের বর্তমান ব্যবস্থার প্রধান অর্জন স্থিতিশীলতা ধরে রাখা। কিন্তু শক্তিশালী রপ্তানি ভিত্তি ও টেকসই প্রবৃদ্ধি না থাকায় সেই স্থিতিশীলতাই শেষ পর্যন্ত স্থবিরতায় পরিণত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।

আইএমএফের শর্ত এবং বিদেশি রাষ্ট্রের আমানতের ওপর নির্ভরতা পাকিস্তানের অর্থনীতিকে দীর্ঘমেয়াদে আরও ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলছে বলেও তিনি মনে করেন।

সব মিলিয়ে পাকিস্তানের সামনে দুটি কঠিন পথ রয়েছে—ধীর প্রবৃদ্ধি নিয়ে এগিয়ে গিয়ে সামাজিক অস্থিরতার ঝুঁকি নেওয়া, অথবা আমদানিনির্ভর প্রবৃদ্ধি বাড়িয়ে আবারও বৈদেশিক মুদ্রার সংকটে পড়া। এই দুই ভঙ্গুর অবলম্বনের ওপর দাঁড়িয়ে পাকিস্তানের ‘বেইলআউট রাষ্ট্র’ আর কতদিন টিকে থাকতে পারবে, সেটাও প্রশ্ন রেখে দিয়েছেন তিনি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নির্যাতন ও নিপীড়ন করে কি সাংবাদিকদের দমানো যায়? এম. মুক্তাদির হোসেন - প্রধান উপদেষ্টা, টিম জার্নালিস্ট'স

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আহমেদ আক্তার রানা কুলাউড়া প্রতিনিধি

শুক্রবার, ২ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৬:৪৪ পি.এম


নির্যাতন ও নিপীড়ন করে কি সাংবাদিকদের দমানো যায়? এম. মুক্তাদির হোসেন - প্রধান উপদেষ্টা, টিম জার্নালিস্ট

সাংবাদিকতার মূল শক্তি কোনো ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান কিংবা ক্ষমতাবান মহলের অনুগ্রহ নয়—সত্য তুলে ধরার সাহস, তথ্য যাচাইয়ের দায়িত্ববোধ এবং মানুষের কাছে জবাবদিহির অঙ্গীকার। তাই প্রশ্ন উঠতেই পারে—নির্যাতন, হুমকি, মামলা, হয়রানি কিংবা নানা ধরনের চাপ প্রয়োগ করে কি সাংবাদিকদের সত্য প্রকাশ থেকে বিরত রাখা যায়?

অভিজ্ঞতা বলে, সাময়িকভাবে একজন সাংবাদিককে ভয় দেখানো বা কোনো প্রতিবেদন প্রকাশে বাধা দেওয়া সম্ভব হলেও সাংবাদিকতার কণ্ঠকে দীর্ঘমেয়াদে স্তব্ধ করা সহজ নয়। কারণ একজন সাংবাদিকের কলম থামিয়ে দেওয়া গেলেও মানুষের জানার অধিকার, সমাজের অসঙ্গতি নিয়ে প্রশ্ন এবং সত্য অনুসন্ধানের প্রয়োজন থেমে থাকে না।

সাংবাদিক যখন কোনো অনিয়ম, দুর্নীতি, অব্যবস্থাপনা কিংবা ক্ষমতার অপব্যবহার নিয়ে প্রশ্ন তোলেন, তখন সংশ্লিষ্টদের দায়িত্ব হওয়া উচিত তথ্য ও যুক্তি দিয়ে সেই প্রশ্নের জবাব দেওয়া। কিন্তু প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে যদি সাংবাদিককে হুমকি দেওয়া হয়, শারীরিকভাবে হয়রানি করা হয়, মামলা দিয়ে চাপ সৃষ্টি করা হয় কিংবা সামাজিকভাবে হেয় করার চেষ্টা করা হয়, তাহলে সেটি শুধু একজন সাংবাদিকের ওপর চাপ নয়—এটি মতপ্রকাশ ও তথ্য জানার অধিকারকেও সংকুচিত করার চেষ্টা।

তবে সাংবাদিকতার স্বাধীনতার সঙ্গে সাংবাদিকের দায়িত্বও সমান গুরুত্বপূর্ণ। সত্যের পক্ষে অবস্থান নেওয়া মানে যাচাই-বাছাই ছাড়া কোনো অভিযোগ প্রকাশ করা নয়। কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে তার বক্তব্য নেওয়া, তথ্যের একাধিক উৎস যাচাই করা এবং প্রমাণের ভিত্তিতে প্রতিবেদন প্রকাশ করা সাংবাদিকতার মৌলিক দায়িত্ব। একই সঙ্গে ভুল হলে তা সংশোধনের মানসিকতাও থাকতে হবে। কারণ স্বাধীন সাংবাদিকতা কখনো দায়িত্বহীন সাংবাদিকতার নাম নয়।

অন্যদিকে, কোনো প্রতিবেদনে আপত্তি থাকলে তার প্রতিকারও আইনসম্মত ও গণতান্ত্রিক পথেই হওয়া উচিত। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান প্রতিবাদ জানাতে পারেন, তথ্য-প্রমাণ দিয়ে ভুল সংশোধনের দাবি করতে পারেন কিংবা প্রচলিত আইনি প্রক্রিয়ার আশ্রয় নিতে পারেন। কিন্তু সাংবাদিককে ভয় দেখানো, কর্মস্থলে চাপ সৃষ্টি, হামলা বা নিপীড়নের মাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ বন্ধ করার চেষ্টা কোনো সুস্থ গণতান্ত্রিক পরিবেশের লক্ষণ হতে পারে না।

একজন সাংবাদিকের ওপর হামলা বা নিপীড়নের প্রভাব শুধু সেই ব্যক্তির মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না। এর প্রভাব পড়ে পুরো সংবাদমাধ্যমে। একজন সাংবাদিক যখন হুমকির মুখে পড়েন, তখন অন্য সাংবাদিকদের মধ্যেও ভয় তৈরি হতে পারে। ফলে অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে প্রশ্ন তোলা বন্ধ হয়ে যেতে পারে। আর সেখানেই ক্ষতিগ্রস্ত হয় সাধারণ মানুষের জানার অধিকার।

ইতিহাসও দেখিয়েছে, চাপের মুখে সত্য অনুসন্ধানের প্রয়োজন আরও প্রবল হয়ে ওঠে। একজন সাংবাদিককে চুপ করিয়ে দেওয়া সম্ভব হতে পারে, কিন্তু একই প্রশ্ন যখন সমাজের বহু মানুষের প্রশ্নে পরিণত হয়, তখন সেটিকে সহজে থামানো যায় না। সংবাদমাধ্যমের প্রকৃত শক্তি এখানেই—এটি কেবল একজনের কণ্ঠ নয়; এটি মানুষের তথ্য জানার এবং প্রশ্ন করার অধিকারকে প্রতিনিধিত্ব করে।

তাই সাংবাদিকদের দমনের পরিবর্তে তাদের প্রশ্নের উত্তর দেওয়া প্রয়োজন। অভিযোগ থাকলে তথ্য দিয়ে খণ্ডন করা প্রয়োজন। প্রতিবেদন ভুল হলে প্রমাণসহ সংশোধনের দাবি জানানো প্রয়োজন। আর সাংবাদিক যদি আইন ভঙ্গ করেন, তাহলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ তো রয়েছেই।

একইভাবে সাংবাদিকদেরও মনে রাখতে হবে—প্রেসের স্বাধীনতা কোনো ব্যক্তিগত দায়মুক্তির লাইসেন্স নয়। সাংবাদিকতার মর্যাদা রক্ষা করতে হলে সত্যতা, নিরপেক্ষতা, তথ্যের যথার্থতা এবং পেশাগত নৈতিকতার প্রতি অটল থাকতে হবে।

নির্যাতন দিয়ে হয়তো একটি কণ্ঠকে কিছু সময়ের জন্য থামানো যায়, কিন্তু সত্য জানার মানুষের আকাঙ্ক্ষাকে থামানো যায় না। সাংবাদিককে ভয় দেখিয়ে নয়, যুক্তি ও তথ্য দিয়ে মোকাবিলা করাই সভ্য সমাজের পথ। কারণ মুক্ত সাংবাদিকতা শুধু সাংবাদিকদের অধিকার নয়—এটি সাধারণ মানুষেরও জানার অধিকার।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৪ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৪
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৪৮
মাগরিব ০৫:২৪
ইশা ০৬:৩৬
সূর্যোদয় : ০৬:০০ সূর্যাস্ত : ০৫:২৪
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%