ঢাকা সোমবার, ২৬শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১০ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৫ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
সোমবার, ২৬শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১০ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

মেহজাবীন চৌধুরী পঞ্চাশের দশকের ফ্যাশনে ভক্তদের নজর কাড়লেন


মেহজাবীন চৌধুরী পঞ্চাশের দশকের ফ্যাশনে ভক্তদের নজর কাড়লেন

মেহজাবীন চৌধুরী, অভিনেত্রী, জমকালো সাজের পরিবর্তে পঞ্চাশের দশকের ফ্যাশনে কালো রংয়ের পোশাক এবং আত্মবিশ্বাসী উপস্থিতির মাধ্যমে ভক্তদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। তার নতুন লুকের ছবি প্রকাশিত হওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আলোচনা শুরু হয়েছে।

মেহজাবীনের সাজে পঞ্চাশের দশকের ফ্যাশন থেকে অনুপ্রাণিত বোল্ড লুক এবং কালো হল্টার-নেক সুইংয়ের পোশাক ছিল। এতে রেট্রো ফ্যাশনের ছোঁয়া স্পষ্ট ছিল।

ফিটেড কোমর, ঘেরযুক্ত স্কার্ট, গ্লিটারযুক্ত অ্যাঙ্কেল-স্ট্র্যাপ হিল এবং উজ্জ্বল লাল লিপস্টিকের সংমিশ্রণে অভিনেত্রী তার ক্লাসিক লুককে আধুনিক গ্ল্যামারের ছোঁয়া দিয়েছেন। পরিমিত মেকআপ এবং সাবলীল উপস্থিতির মাধ্যমে তার পুরো সাজ নজর কেড়েছে।

আরও পড়ুন: বিচ্ছেদের পর জাস্টিন ট্রুডোর প্রেমে কেটি পেরি

ছবি প্রকাশের পরপরই ভক্তরা প্রশংসা করতে শুরু করেন। প্রতিক্রিয়ার বন্যা এবং মন্তব্যের ঘরে ভক্তদের উচ্ছ্বাস দেখা যায়। ভালোবাসার ইমোজি দিয়ে অনুরাগীদের মন্তব্যের জবাবও দিয়েছেন তিনি।

মেহজাবীনের এই লুক প্রমাণ করে যে ফ্যাশনে নজর কাড়তে অতিরিক্ত জাঁকজমকের প্রয়োজন নেই। ভিন্টেজ ফ্যাশন, ক্লাসিক রঙ এবং আত্মবিশ্বাসী উপস্থিতির মাধ্যমে তিনি আবারও তার স্টাইল স্টেটমেন্ট তুলে ধরেছেন, যা বর্তমানে নেটিজেনদের আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কানাডার আন্তর্জাতিক উন্নয়ন প্রতিমন্ত্রী রণদীপ সারাই বাংলাদেশে আসছেন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

রবিবার, ১১ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১২:২৬ পি.এম


কানাডার আন্তর্জাতিক উন্নয়ন প্রতিমন্ত্রী রণদীপ সারাই বাংলাদেশে আসছেন

কানাডার আন্তর্জাতিক উন্নয়ন প্রতিমন্ত্রী রণদীপ সারাই বাংলাদেশ সফরে আসছেন। তিনি ১১ থেকে ১৪ অক্টোবর পর্যন্ত বাংলাদেশে অবস্থান করবেন। এ সফরের উদ্দেশ্য হলো কানাডা ও বাংলাদেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে শক্তিশালী অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও কৌশলগত অংশীদারির মাধ্যমে আরো সুদৃঢ় করা।

প্রতিমন্ত্রী রণদীপ সারাই ঢাকা ও কক্সবাজারে কানাডার সহায়তায় বাস্তবায়িত বিভিন্ন উদ্যোগ পরিদর্শন করবেন। সফরের সময় কানাডার আন্তর্জাতিক সহায়তা কিভাবে এই দেশে প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি, দক্ষতা উন্নয়ন এবং নারী ও যুবসমাজের জন্য সুযোগ সম্প্রসারণে সহায়তা করছে, তা তুলে ধরা হবে।

এসব উদ্যোগ টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনে এবং ভবিষ্যৎ বাণিজ্য ও বিনিয়োগের অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টিতে সহায়ক ভূমিকা পালন করছে। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর থেকে কানাডা বাংলাদেশকে ৬.৩ বিলিয়ন কানাডিয়ান ডলারেরও বেশি উন্নয়ন সহায়তা প্রদান করেছে। এর মধ্যে ব্র্যাক ও আইসিডিডিআর,বি’র মতো বাংলাদেশভিত্তিক এনজিও/সংস্থার কার্যক্রমে কানাডার দীর্ঘদিনের সমর্থন উল্লেখযোগ্য। পরবর্তীতে এসব প্রতিষ্ঠান বিশ্বজুড়ে স্বীকৃত ও সম্মানিত সংস্থা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

দীর্ঘদিনের এই উন্নয়ন অংশীদারত্বের ভিত্তিতে কানাডা বর্তমানে বাংলাদেশে বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা আরো বৃদ্ধির সম্ভাবনা দেখছে। ২০২৫ সালে কানাডা ও বাংলাদেশের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিমাণ ৪ বিলিয়ন কানাডিয়ান ডলার ছাড়িয়ে যাবে। সুশাসন, নিয়ন্ত্রণমূলক ব্যবস্থা এবং অর্থনৈতিক কাঠামোর উন্নয়ন ও সংস্কার অব্যাহত থাকলে স্বচ্ছতা ও স্থিতিশীলতা বাড়বে, বিনিয়োগকারীদের আস্থা তৈরি হবে এবং উভয় দেশের জন্য পারস্পরিক সমৃদ্ধি ও অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধির নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে।

বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উত্তরণের এই সময়ে কানাডার অংশীদারত্ব স্বাস্থ্য, শিক্ষা, জেন্ডার সমতা এবং জলবায়ু সহনশীলতা বৃদ্ধিতেও সহায়তা করে যাচ্ছে। কক্সবাজার সফরকালে প্রতিমন্ত্রী সরাই রোহিঙ্গা শরণার্থী এবং স্থানীয় আশ্রয়দাতা জনগোষ্ঠীর সঙ্গে মতবিনিময় করবেন এবং চলমান সংকট মোকাবিলায় নিয়োজিত অংশীজনদের কাছ থেকে পরিস্থিতি সম্পর্কে অবহিত হবেন।

২০১৭ সাল থেকে রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় কানাডা অন্যতম প্রধান দাতা হিসেবে ৬০০ মিলিয়ন কানাডিয়ান ডলারেরও বেশি সহায়তা প্রদান করেছে। এর মধ্যে রোহিঙ্গা শরণার্থী এবং বাংলাদেশের আশ্রয়দাতা জনগোষ্ঠীর জন্য উল্লেখযোগ্য সহায়তা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। কানাডা মানবিক সহায়তার ক্ষেত্রে তার অঙ্গীকার অব্যাহত রাখবে এবং অভিন্ন সমৃদ্ধি, অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধি ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার লক্ষ্যে বাংলাদেশের সঙ্গে কাজ করে যাবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

যুক্তরাষ্ট্রে ফুটবল ও ক্যাম্পাস উৎসবে গুলির আতংক বাড়ছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

রবিবার, ১১ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১২:২৭ পি.এম


যুক্তরাষ্ট্রে ফুটবল ও ক্যাম্পাস উৎসবে গুলির আতংক বাড়ছে

যুক্তরাষ্ট্রে স্কুল-কলেজের ফুটবল খেলা এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বার্ষিক উৎসবের সময় বন্দুক হামলার ঘটনা বাড়ছে। যেখানে আনন্দ-উল্লাস হওয়ার কথা, সেখানে গুলির শব্দে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ছে। গত ১৮ বছরে ফুটবল খেলা ও বার্ষিক উৎসবের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্তত ৮৬টি গুলির ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় অন্তত ৩০ জন নিহত এবং ১৪৯ জন আহত হয়েছেন।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের বিশ্লেষণে এসব তথ্য উঠে এসেছে। ২০০৮ সাল থেকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে গুলির ঘটনা নিয়ে সংরক্ষিত তথ্য বিশ্লেষণ করে সংবাদমাধ্যমটি জানিয়েছে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এ ধরনের ঘটনা আরও বেড়েছে। ৮৬টি ঘটনার মধ্যে ৬৩টি ঘটেছে ২০২১ সাল থেকে।

২০২৪ সালের নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের আলাবামা অঙ্গরাজ্যের টাস্কেগি বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি ঘটনার মধ্যে ১৮ বছর বয়সী এক তরুণ প্রাণ হারান। বিশ্ববিদ্যালয়টির শতবর্ষ উদযাপন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে গুলিতে অন্তত ১৬ জন আহত হন। আহতদের একজন ছিলেন শিক্ষার্থী আমায়া ওয়েমোন।

ঘটনার সময় তিনি বন্ধুর সঙ্গে ক্যাম্পাসের একটি আবাসিক ভবনের বাইরে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ছিলেন। ভিড়ের মধ্যে অস্বস্তি বোধ করায় তারা এক বন্ধুর বাসার বারান্দায় যাওয়ার কথা ভাবছিলেন। কিন্তু তার আগেই গুলির শব্দ শোনা যায়। প্রাণ বাঁচাতে গাড়ির নিচে আশ্রয় নিতে গিয়ে পায়ে আঘাত পান আমায়া।

তিনি বলেন, "বিশ্ববিদ্যালয়ের শতবর্ষ উদ্‌যাপন আনন্দ, গর্ব ও প্রাণচাঞ্চল্যে ভরা থাকার কথা ছিল। অথচ অচেনা একজন ক্যাম্পাসে এসে এমন ভয়াবহ ঘটনা ঘটিয়েছেন।"

সিএনএনের তথ্য অনুযায়ী, চলতি ২০২৬ সালেও ফুটবল খেলা ও বার্ষিক উৎসব ঘিরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ক্যাম্পাসে অন্তত তিনটি গুলির ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। তবে গত সপ্তাহে জর্জিয়ার একটি উচ্চবিদ্যালয়ের বার্ষিক উৎসব উপলক্ষে আয়োজিত উন্মুক্ত অনুষ্ঠানে যে ব্যাপক গুলির ঘটনা ঘটে, সেটি এই হিসাবের অন্তর্ভুক্ত নয়। কারণ, ঘটনাটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ক্যাম্পাসে ঘটেনি।

শিক্ষার্থী ও গবেষকেরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন যে, নিরাপদে আনন্দ করার সুযোগ ক্রমেই সংকুচিত হচ্ছে। তাদের মতে, ফুটবল খেলা বা উৎসব নিজে বন্দুক হামলার কারণ নয়। বরং এসব আয়োজনে বিপুলসংখ্যক মানুষের সমাগম হয়। আগে থেকে থাকা ব্যক্তিগত বিরোধ বা স্থানীয় সংঘাত সেখানে ছড়িয়ে পড়লে পরিস্থিতি প্রাণঘাতী হয়ে উঠতে পারে।

কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বন্দুক সহিংসতাবিষয়ক অধ্যাপক সোনালি রাজন বলেন, "ফুটবল খেলা নিজেই বিপজ্জনক—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর মতো তথ্য নেই। বরং রাতে আয়োজিত অনুষ্ঠান, মানুষের ভিড় এবং কখনো কখনো মদ্যপানের কারণে বিরোধের সূত্রপাত হতে পারে। সাধারণ কোনো বিবাদে আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহৃত হলে তার পরিণতি ভয়াবহ হয়ে ওঠে।"

গবেষকদের মতে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে গুলির অধিকাংশ ঘটনাই আগে থেকে পরিকল্পিত হামলা নয়। ব্যক্তিগত বিরোধ, পারিবারিক সহিংসতা, অপরাধী চক্রের সংঘাত কিংবা ছোটখাটো অপরাধ থেকে এসব ঘটনা ঘটতে পারে। দারিদ্র্য, সাশ্রয়ী আবাসনের অভাব এবং বিভিন্ন সামাজিক ও অর্থনৈতিক সমস্যাও সামগ্রিক সহিংসতার সঙ্গে সম্পর্কিত।

নিউইয়র্কের ঐতিহাসিক কৃষ্ণাঙ্গ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে বার্ষিক উৎসব ঘিরে গুলির ঘটনা বিশেষভাবে উদ্বেগজনক। বন্দুক সহিংসতা প্রতিরোধ নিয়ে কাজ করা সংস্থা এভরিটাউনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কলেজ পর্যায়ে বার্ষিক উৎসবের সপ্তাহে সংঘটিত গুলির ৮০ শতাংশের বেশি ঘটনা ঘটেছে ঐতিহাসিক কৃষ্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোতে।

সিএনএনের তথ্য বিশ্লেষণেও একই প্রবণতা দেখা গেছে। ২০০৮ সাল থেকে বার্ষিক উৎসবের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট, তবে ফুটবল খেলার বাইরে সংঘটিত ১৪টি গুলির ঘটনার মধ্যে মাত্র একটি ছাড়া বাকি সবই ঘটেছে ঐতিহাসিক কৃষ্ণাঙ্গ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে।

টাস্কেগি বিশ্ববিদ্যালয়ের ঘটনার এক সপ্তাহ আগে উত্তর ক্যারোলাইনার শ ইউনিভার্সিটিতে গুলিতে একজন আহত হন। ২০২৪ সালের অক্টোবরের আগের মাসে নর্থ ক্যারোলাইনা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি, আরকানসাস বিশ্ববিদ্যালয়ের পাইন ব্লাফ শাখা এবং জর্জিয়ার আলবানি স্টেট ইউনিভার্সিটিতে বার্ষিক উৎসব ঘিরে গুলির ঘটনায় একজন নিহত ও ১০ জন আহত হন।

২০২৩ সালের অক্টোবরে এক সপ্তাহের মধ্যে মেরিল্যান্ডের মরগান স্টেট ইউনিভার্সিটি ও বোয়ি স্টেট ইউনিভার্সিটির বার্ষিক উৎসবেও গুলির ঘটনা ঘটে। এর মধ্যে মরগান স্টেট ইউনিভার্সিটিতে ২০২২ সালেও উৎসব ঘিরে গুলিতে একজন আহত হয়েছিলেন।

এভরিটাউনের গবেষণা উপপরিচালক মেগান ও’টুল বলেন, "শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সীমানা ও আশপাশের এলাকার মধ্যে সহিংসতার যোগসূত্র রয়েছে। তাই ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হলে আশপাশের এলাকার সহিংসতা মোকাবিলার দিকেও নজর দিতে হবে।"

বিশ্ববিদ্যালয়ের তুলনায় স্কুল পর্যায়ের ফুটবল খেলায় গুলির ঘটনা বেশি। সিএনএনের তথ্য অনুযায়ী, ২০০৮ সাল থেকে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে ফুটবল খেলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট মাত্র চারটি গুলির ঘটনা শনাক্ত করা হয়েছে। বিপরীতে প্রাথমিক থেকে উচ্চবিদ্যালয় পর্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ফুটবল খেলা ঘিরে এমন ঘটনার সংখ্যা প্রায় ৭০।

এসব ঘটনায় কখনো খেলোয়াড় ও দর্শকদের প্রাণ বাঁচাতে দৌড়াতে দেখা গেছে, কখনো শিক্ষার্থীরা গ্যালারির আসনের নিচে আশ্রয় নিয়েছেন। মাঠে থাকা খেলোয়াড়েরাও গুলি থেকে বাঁচতে নিচু হয়ে পড়েছেন।

গবেষক ডেভিড রিডম্যানের মতে, বড় বিশ্ববিদ্যালয়ের ফুটবল প্রতিযোগিতায় সাধারণত নিরাপত্তার জন্য পর্যাপ্ত ব্যবস্থা থাকে। কিন্তু অনেক উচ্চবিদ্যালয়ের খেলায় গুলির ঘটনা ঘটে গাড়ি রাখার জায়গায়। ফলে মাঠের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হলেও আশপাশের এলাকায় হামলার ঝুঁকি থেকে যায়।

শুধু ফুটবল নয়, শীতকালে বাস্কেটবল খেলাকে কেন্দ্র করেও গুলির ঘটনা ঘটেছে। ২০০৮ সাল থেকে স্কুল ও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে বাস্কেটবল খেলা সংশ্লিষ্ট অন্তত ৩৪টি গুলির ঘটনা শনাক্ত করেছে সিএনএন। এসব ঘটনায় অন্তত নয়জন নিহত এবং ৪৫ জন আহত হয়েছেন।

এছাড়া ২০২৪ সালের অক্টোবরের এক শনিবার যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন স্থানে তরুণদের ফুটবল খেলা ঘিরে তিনটি পৃথক গুলির ঘটনায় দুজন নিহত ও দুজন আহত হন। ২০০৮ সাল থেকে তরুণদের ফুটবল আয়োজন ঘিরে অন্তত ১০টি গুলির ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের সহিংসতা প্রতিরোধ করা সম্ভব। স্থানীয় পুলিশ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ক্রীড়া আয়োজকদের জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় আরও কার্যকর প্রশিক্ষণ ও নিরাপত্তা পরিকল্পনা প্রয়োজন। পাশাপাশি সহিংসতার মূল কারণগুলো মোকাবিলা এবং বিপজ্জনক ব্যক্তিদের হাতে আগ্নেয়াস্ত্র পৌঁছানো ঠেকাতে কার্যকর নীতিমালা দরকার।

ডেভিড রিডম্যান মনে করেন, বড় পেশাদার ফুটবল সংস্থাগুলো চাইলে স্থানীয় পুলিশ, স্কুল ও তরুণদের ক্রীড়া আয়োজকদের সহায়তায় নিরাপত্তাবিষয়ক নির্দেশিকা তৈরি করতে পারে।

টাস্কেগি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আমায়া ওয়েমোনের মতে, সহিংসতা ঘটার পরই কেবল বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়; অথচ স্বাভাবিক সময়ে, কোনো ঘটনা ঘটার আগেই প্রতিরোধের উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।

বর্তমানে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিষয়ে পড়াশোনা করছেন আমায়া। ভবিষ্যতে আইনজীবী হওয়ার ইচ্ছা তার। ২০২৫ সালের বার্ষিক উৎসবে তিনি অংশ নেননি; হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি জননীতি সম্মেলনে যোগ দিয়েছিলেন। তবে এ বছরের উৎসবে অংশ নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে তার।

সূত্র: সিএনএন

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জি-২০ জোটের সম্মেলন ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

রবিবার, ১১ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১২:২৭ পি.এম


জি-২০ জোটের সম্মেলন ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার

যুক্তরাষ্ট্রের সভাপতিত্বে ২০২৬ সালের জি-২০ সম্মেলনকে কেন্দ্র করে কূটনৈতিক তৎপরতা বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে সদস্য দেশগুলোর মধ্যে ভূরাজনৈতিক বিভাজন, জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে মতপার্থক্য এবং আন্তর্জাতিক ফোরামে অংশগ্রহণের প্রশ্নে বিরোধ বৃদ্ধি পাওয়ায় বৈশ্বিক সংকট মোকাবিলায় জি-২০-এর কার্যকারিতা নিয়ে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।

সম্প্রতি লন্ডন স্কুল অব ইকোনমিকসের গবেষণা প্রতিষ্ঠান এলএসই আইডিয়াসের সহযোগী অ্যান্ড্রু হ্যামন্ড এক মতামত নিবন্ধে এই উদ্বেগ তুলে ধরেছেন। তিনি মন্তব্য করেছেন, "আন্তর্জাতিক সহযোগিতা দুর্বল হয়ে পড়লে অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সংকট মোকাবিলায় বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ বহুপক্ষীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতাও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।"

আন্তর্জাতিক সংকট মোকাবিলায় জি-২০ এর ভূমিকা

১৯৯৮ সালের এশীয় অর্থনৈতিক সংকটের পর ১৯৯৯ সালে জি-২০ গঠনে যুক্তরাষ্ট্র গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বৈশ্বিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতা, আর্থিক সংকট মোকাবিলা এবং প্রধান অর্থনীতিগুলোর মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর লক্ষ্যে এই ফোরাম প্রতিষ্ঠিত হয়।

২০০৭-২০০৯ সালের বৈশ্বিক আর্থিক সংকটের সময় জি-২০ একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল। ২০০৯ সালের এপ্রিলে লন্ডন সম্মেলনে বিশ্বনেতারা ১ দশমিক ১ ট্রিলিয়ন ডলারের সমন্বিত সহায়তা প্যাকেজে সম্মত হন, যা চাহিদা ও কর্মসংস্থান বাড়ানোর লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছিল। তৎকালীন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী গর্ডন ব্রাউনের কূটনৈতিক উদ্যোগ ওই সমঝোতা অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল।

এই অভিজ্ঞতা দেখিয়েছে যে বড় অর্থনীতিগুলো সমন্বিতভাবে কাজ করলে বৈশ্বিক সংকটের অভিঘাত কমানো সম্ভব। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক রাজনীতির বিভাজন সেই সহযোগিতাকে কঠিন করে তুলছে।

দক্ষিণ আফ্রিকাকে ঘিরে নতুন বিরোধ

যুক্তরাষ্ট্রের এবারের জি-২০ আয়োজন নিয়ে বিতর্কের একটি প্রধান বিষয় হলো দক্ষিণ আফ্রিকার অংশগ্রহণ। গত বছর দক্ষিণ আফ্রিকায় অনুষ্ঠিত জি-২০ কার্যক্রম বর্জন করেছিল ট্রাম্প প্রশাসন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দেশটির শ্বেতাঙ্গ সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীকে হত্যা ও জমি কেড়ে নেওয়ার শিকার হিসেবে তুলে ধরে যে অভিযোগ করেছিলেন, তা এই বিরোধের পটভূমির অংশ। ওই অভিযোগ ব্যাপকভাবে প্রশ্নবিদ্ধ।

এবার যুক্তরাষ্ট্রের আয়োজনে জি-২০ সংশ্লিষ্ট কর্মসূচিতে দক্ষিণ আফ্রিকাকে আমন্ত্রণ না জানিয়ে পোল্যান্ডকে অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়ার বিষয়টি ইউরোপের কয়েকটি দেশের আপত্তির কারণ হয়েছে। ফ্রান্সসহ ইউরোপীয় দেশগুলোর উদ্বেগের বিষয় হলো, দক্ষিণ আফ্রিকা জি-২০ এর পূর্ণ সদস্য হওয়া সত্ত্বেও তাকে আয়োজনের বাইরে রাখা বহুপক্ষীয় ফোরামের অন্তর্ভুক্তিমূলক চরিত্র নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করে।

এই বিরোধ কেবল দুটি দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। বরং আন্তর্জাতিক ফোরামে সদস্যদের সমান অংশগ্রহণ, আয়োজক দেশের দায়িত্ব এবং বৈশ্বিক আলোচনার গ্রহণযোগ্যতা নিয়েও বিতর্ক সৃষ্টি করছে।

‘নতুন জি-২০’ এজেন্ডা নিয়ে মতপার্থক্য

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর বর্ণিত ‘নতুন জি-২০’ এজেন্ডা নিয়েও বিভিন্ন দেশের উদ্বেগ রয়েছে। এই এজেন্ডায় জ্বালানি নিরাপত্তা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, প্রযুক্তি, অভিবাসন, নিয়ন্ত্রণমূলক বিধিবিধান কমানো এবং বিদেশি বিনিয়োগের মতো বিষয়কে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। অন্যদিকে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা ও জ্বালানি রূপান্তরের মতো বিষয়গুলোকে সম্মেলনের আলোচনায় তুলনামূলক কম গুরুত্ব দেওয়ার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রের এই অগ্রাধিকার ডিসেম্বরের যৌথ ঘোষণার খসড়াতেও প্রভাব ফেলছে। এতে জলবায়ু পরিবর্তন, পরিবেশগত টেকসই উন্নয়ন এবং জ্বালানি রূপান্তর নিয়ে সদস্য দেশগুলোর অভিন্ন অবস্থান তৈরি করা কঠিন হতে পারে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের অগ্রাধিকার এবং অন্য সদস্য দেশগুলোর অবস্থানের মধ্যে পার্থক্য থাকলেও আলোচনার মাধ্যমে সমঝোতায় পৌঁছানোর সুযোগ পুরোপুরি শেষ হয়ে যায়নি। বরং কোন বিষয়গুলো যৌথ ঘোষণায় স্থান পাবে, তা নিয়ে দর-কষাকষি এবারের সম্মেলনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠতে পারে।

রাশিয়ার অভিযোগ ও অংশগ্রহণের প্রশ্ন

জি-২০ এর আয়োজক হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা নিয়ে রাশিয়াও প্রকাশ্যে অসন্তোষ জানিয়েছে। জি-২০ ও এশিয়া-প্যাসিফিক অর্থনৈতিক সহযোগিতা বিষয়ে রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত-অ্যাট-লার্জ মারাত বেরদিয়েভের অভিযোগ, ভিসা প্রত্যাখ্যান ও স্বীকৃতি না দেওয়ার কারণে রাশিয়ার প্রতিনিধিরা মার্কিন আয়োজিত আর্থিক বৈঠকগুলোতে পূর্ণাঙ্গভাবে অংশ নিতে পারেননি।

এসব বিরোধের মধ্যে এপ্রিলে অনুষ্ঠিত যুক্তরাষ্ট্রের আয়োজিত জি-২০ অর্থমন্ত্রীদের বৈঠক কোনো যৌথ বিবৃতি ছাড়াই শেষ হয়। প্রচলিত রীতি অনুযায়ী সংবাদ সম্মেলনও অনুষ্ঠিত হয়নি।

রাশিয়ার অভিযোগগুলো মস্কোর নিজস্ব বক্তব্য হিসেবে বিবেচনা করা জরুরি। তবে অভিযোগের সত্যতা ও পরিসর নিয়ে বিতর্ক থাকলেও বৈঠকে অংশগ্রহণের সুযোগ, প্রতিনিধিদের স্বীকৃতি এবং যৌথ সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

জি-২০ এর মতো ফোরামের কার্যকারিতা কেবল বৈঠক আয়োজনের ওপর নির্ভর করে না; সদস্যদের মধ্যে আলোচনা, মতবিনিময় এবং গ্রহণযোগ্য সমঝোতায় পৌঁছানোর সক্ষমতাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

ভূরাজনৈতিক বিভাজনে দুর্বল হচ্ছে বহুপক্ষীয় সহযোগিতা

কোভিড-১৯ মহামারি এবং ইউক্রেন যুদ্ধের পর আন্তর্জাতিক সম্পর্কের বিভাজন আরো স্পষ্ট হয়েছে। চীন ও পশ্চিমা দেশগুলোর মধ্যে উত্তেজনা, রাশিয়াকে ঘিরে বিরোধ এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক বৈঠকে কূটনৈতিক সংঘাত জি-২০ এর কার্যক্রমকে জটিল করে তুলছে।

এ অবস্থায় এবারের সম্মেলনের গুরুত্ব কেবল যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক নেতৃত্বের প্রশ্নে সীমাবদ্ধ নয়। জি-২০ এবং জি-৭ এর মতো বহুপক্ষীয় ফোরাম ভবিষ্যতে কতটা কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবে, সেটিও আলোচনার কেন্দ্রে চলে এসেছে।

যুক্তরাষ্ট্র আগামী বছর জি-৭ এরও আয়োজন করবে। ফলে চলতি বছরের জি-২০তে সদস্য দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক, আলোচনার পদ্ধতি এবং যৌথ অবস্থান তৈরির অভিজ্ঞতা পরবর্তী আন্তর্জাতিক সম্মেলনগুলোর জন্যও তাৎপর্যপূর্ণ হতে পারে।

বৈশ্বিক সংকটে সমন্বিত উদ্যোগের প্রয়োজন

বর্তমান বিভাজনের মধ্যেও বিশ্বনেতাদের বহুপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদারে উদ্যোগী হওয়া প্রয়োজন। মহামারি, আর্থিক বিপর্যয়, জলবায়ু পরিবর্তন, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং আন্তর্জাতিক সংঘাতের মতো সমস্যাগুলো কোনো একক দেশের পক্ষে সম্পূর্ণভাবে মোকাবিলা করা সম্ভব নয়।

এ ধরনের সংকটে তথ্য বিনিময়, অর্থনৈতিক নীতি সমন্বয়, যৌথ সিদ্ধান্ত এবং পারস্পরিক আস্থা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। জি-২০ এর মতো ফোরাম এসব ক্ষেত্রে আলোচনার সুযোগ তৈরি করতে পারে, যদিও সদস্যদের মতপার্থক্যের কারণে সব সময় অভিন্ন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব হয় না।

আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে প্রতিযোগিতা ও বিরোধ থাকা সত্ত্বেও সহযোগিতার কাঠামো দুর্বল হয়ে পড়তে দেওয়া উচিত নয়। কারণ বৈশ্বিক সংকট যখন একাধিক দেশকে একই সঙ্গে প্রভাবিত করে, তখন সমন্বিত উদ্যোগ সংকটের অভিঘাত কমাতে সহায়ক হতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের এবারের জি-২০ সভাপতিত্ব তাই একদিকে ওয়াশিংটনের আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক অগ্রাধিকার বাস্তবায়নের সুযোগ, অন্যদিকে বহুপক্ষীয় কূটনীতির কার্যকারিতা ধরে রাখার একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা। সদস্য দেশগুলোর অংশগ্রহণ, মতপার্থক্যের গ্রহণযোগ্য ব্যবস্থাপনা এবং যৌথ সিদ্ধান্ত গ্রহণের সক্ষমতা শেষ পর্যন্ত নির্ধারণ করবে এই ফোরাম বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কতটা কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কেন্দুয়ায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে দুই শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু, ভাইকে বাঁচাতে গিয়ে প্রাণ গেল ভাইয়েরও

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ১১ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১২:২৮ পি.এম


কেন্দুয়ায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে দুই শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু, ভাইকে বাঁচাতে গিয়ে প্রাণ গেল ভাইয়েরও

নেত্রকোণার কেন্দুয়ায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মুয়াজ (৭) ও আরাফাত (৬) নামে দুই সহোদর শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু ঘটে। এক ভাই বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়ার পর তাকে বাঁচাতে গিয়ে অপর ভাইও বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে যায়। এ ঘটনায় তাদের মা কিছুটা আহত হন, সন্তানদের বাঁচানোর চেষ্টা করতে গিয়ে।

রোববার (১১ অক্টোবর) সকাল ৭টার দিকে উপজেলার পাইকুড়া ইউনিয়নের কাওয়ালীকান্দা গ্রামে এই হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটে। নিহত দুই শিশু ওই গ্রামের মো. আব্দুস সাত্তারের সন্তান।

স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সকালে বাড়ির পাশে খেলাধুলা করার সময় অসাবধানতাবশত বিদ্যুতের তারের সংস্পর্শে এসে এক শিশু বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়। বিপদে পড়া ভাইকে বাঁচাতে গিয়ে অপর শিশুটিও বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়। দুই শিশুর চিৎকার শুনে তাদের মা দ্রুত ছুটে এসে সন্তানদের উদ্ধারের চেষ্টা করেন। এতে তিনিও কিছুটা আহত হন।

ঘটনার সময় শিশুদের বাবা-মা বাড়ির পাশের গোয়ালঘরে গাভির দুধ সংগ্রহ করছিলেন। চিৎকার শুনে দ্রুত ছুটে এসে সন্তানদের উদ্ধার করে কেন্দুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান তাঁরা। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক দুই শিশুকেই মৃত ঘোষণা করেন।

একসঙ্গে দুই সন্তানকে হারিয়ে শোকে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন তাদের বাবা-মা। স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে বাড়ির পরিবেশ। দুই অবুঝ শিশুর এমন মর্মান্তিক মৃত্যুতে পরিবার, স্বজন ও এলাকাবাসীর মধ্যে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

নেত্রকোণা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কেন্দুয়া জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) প্রকৌশলী মো. ওমর ফারুক জানান, মিটারের সঙ্গে ফ্রিজের সংযুক্ত তারে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে। তিনি বলেন, "এটি পল্লী বিদ্যুতের তারের কারণে ঘটে নি।"

এ বিষয়ে কেন্দুয়া থানাধীন পেমই তদন্ত কেন্দ্রের পুলিশ পরিদর্শক (আইসি) মো. আসাদুজ্জামান মুঠোফোনে জানান, পুলিশ ইতোমধ্যে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। বিধি মোতাবেক মরদেহ দুটি পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৫ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৫
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৭
মাগরিব ০৫:২৪
ইশা ০৬:৩৫
সূর্যোদয় : ০৬:০১ সূর্যাস্ত : ০৫:২৪
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%