ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

জি-২০ জোটের সম্মেলন ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার


জি-২০ জোটের সম্মেলন ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার

যুক্তরাষ্ট্রের সভাপতিত্বে ২০২৬ সালের জি-২০ সম্মেলনকে কেন্দ্র করে কূটনৈতিক তৎপরতা বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে সদস্য দেশগুলোর মধ্যে ভূরাজনৈতিক বিভাজন, জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে মতপার্থক্য এবং আন্তর্জাতিক ফোরামে অংশগ্রহণের প্রশ্নে বিরোধ বৃদ্ধি পাওয়ায় বৈশ্বিক সংকট মোকাবিলায় জি-২০-এর কার্যকারিতা নিয়ে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।

সম্প্রতি লন্ডন স্কুল অব ইকোনমিকসের গবেষণা প্রতিষ্ঠান এলএসই আইডিয়াসের সহযোগী অ্যান্ড্রু হ্যামন্ড এক মতামত নিবন্ধে এই উদ্বেগ তুলে ধরেছেন। তিনি মন্তব্য করেছেন, "আন্তর্জাতিক সহযোগিতা দুর্বল হয়ে পড়লে অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সংকট মোকাবিলায় বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ বহুপক্ষীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতাও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।"

আন্তর্জাতিক সংকট মোকাবিলায় জি-২০ এর ভূমিকা

আরও পড়ুন: কোনো দল সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পেলে পেলে কতদিন ক্ষমতায় থাকবেন নেতানিয়াহু?

১৯৯৮ সালের এশীয় অর্থনৈতিক সংকটের পর ১৯৯৯ সালে জি-২০ গঠনে যুক্তরাষ্ট্র গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বৈশ্বিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতা, আর্থিক সংকট মোকাবিলা এবং প্রধান অর্থনীতিগুলোর মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর লক্ষ্যে এই ফোরাম প্রতিষ্ঠিত হয়।

২০০৭-২০০৯ সালের বৈশ্বিক আর্থিক সংকটের সময় জি-২০ একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল। ২০০৯ সালের এপ্রিলে লন্ডন সম্মেলনে বিশ্বনেতারা ১ দশমিক ১ ট্রিলিয়ন ডলারের সমন্বিত সহায়তা প্যাকেজে সম্মত হন, যা চাহিদা ও কর্মসংস্থান বাড়ানোর লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছিল। তৎকালীন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী গর্ডন ব্রাউনের কূটনৈতিক উদ্যোগ ওই সমঝোতা অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল।

এই অভিজ্ঞতা দেখিয়েছে যে বড় অর্থনীতিগুলো সমন্বিতভাবে কাজ করলে বৈশ্বিক সংকটের অভিঘাত কমানো সম্ভব। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক রাজনীতির বিভাজন সেই সহযোগিতাকে কঠিন করে তুলছে।

দক্ষিণ আফ্রিকাকে ঘিরে নতুন বিরোধ

আরও পড়ুন: ‘নেতানিয়াহু সরকারের প্রতি আস্থার অভাব’, বুথফেরত জরিপে মন্তব্য আইজেনকোটের

যুক্তরাষ্ট্রের এবারের জি-২০ আয়োজন নিয়ে বিতর্কের একটি প্রধান বিষয় হলো দক্ষিণ আফ্রিকার অংশগ্রহণ। গত বছর দক্ষিণ আফ্রিকায় অনুষ্ঠিত জি-২০ কার্যক্রম বর্জন করেছিল ট্রাম্প প্রশাসন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দেশটির শ্বেতাঙ্গ সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীকে হত্যা ও জমি কেড়ে নেওয়ার শিকার হিসেবে তুলে ধরে যে অভিযোগ করেছিলেন, তা এই বিরোধের পটভূমির অংশ। ওই অভিযোগ ব্যাপকভাবে প্রশ্নবিদ্ধ।

এবার যুক্তরাষ্ট্রের আয়োজনে জি-২০ সংশ্লিষ্ট কর্মসূচিতে দক্ষিণ আফ্রিকাকে আমন্ত্রণ না জানিয়ে পোল্যান্ডকে অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়ার বিষয়টি ইউরোপের কয়েকটি দেশের আপত্তির কারণ হয়েছে। ফ্রান্সসহ ইউরোপীয় দেশগুলোর উদ্বেগের বিষয় হলো, দক্ষিণ আফ্রিকা জি-২০ এর পূর্ণ সদস্য হওয়া সত্ত্বেও তাকে আয়োজনের বাইরে রাখা বহুপক্ষীয় ফোরামের অন্তর্ভুক্তিমূলক চরিত্র নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করে।

এই বিরোধ কেবল দুটি দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। বরং আন্তর্জাতিক ফোরামে সদস্যদের সমান অংশগ্রহণ, আয়োজক দেশের দায়িত্ব এবং বৈশ্বিক আলোচনার গ্রহণযোগ্যতা নিয়েও বিতর্ক সৃষ্টি করছে।

‘নতুন জি-২০’ এজেন্ডা নিয়ে মতপার্থক্য

আরও পড়ুন: বোম্বে হাইকোর্ট ইমরান খানের ভারত ছাড়ার নোটিশ স্থগিত করেছে

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর বর্ণিত ‘নতুন জি-২০’ এজেন্ডা নিয়েও বিভিন্ন দেশের উদ্বেগ রয়েছে। এই এজেন্ডায় জ্বালানি নিরাপত্তা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, প্রযুক্তি, অভিবাসন, নিয়ন্ত্রণমূলক বিধিবিধান কমানো এবং বিদেশি বিনিয়োগের মতো বিষয়কে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। অন্যদিকে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা ও জ্বালানি রূপান্তরের মতো বিষয়গুলোকে সম্মেলনের আলোচনায় তুলনামূলক কম গুরুত্ব দেওয়ার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রের এই অগ্রাধিকার ডিসেম্বরের যৌথ ঘোষণার খসড়াতেও প্রভাব ফেলছে। এতে জলবায়ু পরিবর্তন, পরিবেশগত টেকসই উন্নয়ন এবং জ্বালানি রূপান্তর নিয়ে সদস্য দেশগুলোর অভিন্ন অবস্থান তৈরি করা কঠিন হতে পারে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের অগ্রাধিকার এবং অন্য সদস্য দেশগুলোর অবস্থানের মধ্যে পার্থক্য থাকলেও আলোচনার মাধ্যমে সমঝোতায় পৌঁছানোর সুযোগ পুরোপুরি শেষ হয়ে যায়নি। বরং কোন বিষয়গুলো যৌথ ঘোষণায় স্থান পাবে, তা নিয়ে দর-কষাকষি এবারের সম্মেলনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠতে পারে।

রাশিয়ার অভিযোগ ও অংশগ্রহণের প্রশ্ন

জি-২০ এর আয়োজক হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা নিয়ে রাশিয়াও প্রকাশ্যে অসন্তোষ জানিয়েছে। জি-২০ ও এশিয়া-প্যাসিফিক অর্থনৈতিক সহযোগিতা বিষয়ে রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত-অ্যাট-লার্জ মারাত বেরদিয়েভের অভিযোগ, ভিসা প্রত্যাখ্যান ও স্বীকৃতি না দেওয়ার কারণে রাশিয়ার প্রতিনিধিরা মার্কিন আয়োজিত আর্থিক বৈঠকগুলোতে পূর্ণাঙ্গভাবে অংশ নিতে পারেননি।

আরও পড়ুন: সুদানে স্বর্ণের খোঁজে শ্রমিকেরা জীবন ঝুঁকিতে, খনিতে প্রাণ হারাচ্ছেন

এসব বিরোধের মধ্যে এপ্রিলে অনুষ্ঠিত যুক্তরাষ্ট্রের আয়োজিত জি-২০ অর্থমন্ত্রীদের বৈঠক কোনো যৌথ বিবৃতি ছাড়াই শেষ হয়। প্রচলিত রীতি অনুযায়ী সংবাদ সম্মেলনও অনুষ্ঠিত হয়নি।

রাশিয়ার অভিযোগগুলো মস্কোর নিজস্ব বক্তব্য হিসেবে বিবেচনা করা জরুরি। তবে অভিযোগের সত্যতা ও পরিসর নিয়ে বিতর্ক থাকলেও বৈঠকে অংশগ্রহণের সুযোগ, প্রতিনিধিদের স্বীকৃতি এবং যৌথ সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

জি-২০ এর মতো ফোরামের কার্যকারিতা কেবল বৈঠক আয়োজনের ওপর নির্ভর করে না; সদস্যদের মধ্যে আলোচনা, মতবিনিময় এবং গ্রহণযোগ্য সমঝোতায় পৌঁছানোর সক্ষমতাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

ভূরাজনৈতিক বিভাজনে দুর্বল হচ্ছে বহুপক্ষীয় সহযোগিতা

আরও পড়ুন: জার্মান ভাইস মিনিস্টার ড. বারবেল কোফলারের আবুল খায়ের স্টীল মেল্টিং লিমিটেড পরিদর্শন

কোভিড-১৯ মহামারি এবং ইউক্রেন যুদ্ধের পর আন্তর্জাতিক সম্পর্কের বিভাজন আরো স্পষ্ট হয়েছে। চীন ও পশ্চিমা দেশগুলোর মধ্যে উত্তেজনা, রাশিয়াকে ঘিরে বিরোধ এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক বৈঠকে কূটনৈতিক সংঘাত জি-২০ এর কার্যক্রমকে জটিল করে তুলছে।

এ অবস্থায় এবারের সম্মেলনের গুরুত্ব কেবল যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক নেতৃত্বের প্রশ্নে সীমাবদ্ধ নয়। জি-২০ এবং জি-৭ এর মতো বহুপক্ষীয় ফোরাম ভবিষ্যতে কতটা কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবে, সেটিও আলোচনার কেন্দ্রে চলে এসেছে।

যুক্তরাষ্ট্র আগামী বছর জি-৭ এরও আয়োজন করবে। ফলে চলতি বছরের জি-২০তে সদস্য দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক, আলোচনার পদ্ধতি এবং যৌথ অবস্থান তৈরির অভিজ্ঞতা পরবর্তী আন্তর্জাতিক সম্মেলনগুলোর জন্যও তাৎপর্যপূর্ণ হতে পারে।

বৈশ্বিক সংকটে সমন্বিত উদ্যোগের প্রয়োজন

আরও পড়ুন: হলুদ বিন্দু দেখে খননে ২ কোটি টাকার স্বর্ণের খণ্ড উদ্ধার

বর্তমান বিভাজনের মধ্যেও বিশ্বনেতাদের বহুপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদারে উদ্যোগী হওয়া প্রয়োজন। মহামারি, আর্থিক বিপর্যয়, জলবায়ু পরিবর্তন, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং আন্তর্জাতিক সংঘাতের মতো সমস্যাগুলো কোনো একক দেশের পক্ষে সম্পূর্ণভাবে মোকাবিলা করা সম্ভব নয়।

এ ধরনের সংকটে তথ্য বিনিময়, অর্থনৈতিক নীতি সমন্বয়, যৌথ সিদ্ধান্ত এবং পারস্পরিক আস্থা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। জি-২০ এর মতো ফোরাম এসব ক্ষেত্রে আলোচনার সুযোগ তৈরি করতে পারে, যদিও সদস্যদের মতপার্থক্যের কারণে সব সময় অভিন্ন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব হয় না।

আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে প্রতিযোগিতা ও বিরোধ থাকা সত্ত্বেও সহযোগিতার কাঠামো দুর্বল হয়ে পড়তে দেওয়া উচিত নয়। কারণ বৈশ্বিক সংকট যখন একাধিক দেশকে একই সঙ্গে প্রভাবিত করে, তখন সমন্বিত উদ্যোগ সংকটের অভিঘাত কমাতে সহায়ক হতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের এবারের জি-২০ সভাপতিত্ব তাই একদিকে ওয়াশিংটনের আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক অগ্রাধিকার বাস্তবায়নের সুযোগ, অন্যদিকে বহুপক্ষীয় কূটনীতির কার্যকারিতা ধরে রাখার একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা। সদস্য দেশগুলোর অংশগ্রহণ, মতপার্থক্যের গ্রহণযোগ্য ব্যবস্থাপনা এবং যৌথ সিদ্ধান্ত গ্রহণের সক্ষমতা শেষ পর্যন্ত নির্ধারণ করবে এই ফোরাম বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কতটা কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কেন্দুয়ায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে দুই শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু, ভাইকে বাঁচাতে গিয়ে প্রাণ গেল ভাইয়েরও

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ১১ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১২:২৮ পি.এম


কেন্দুয়ায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে দুই শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু, ভাইকে বাঁচাতে গিয়ে প্রাণ গেল ভাইয়েরও

নেত্রকোণার কেন্দুয়ায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মুয়াজ (৭) ও আরাফাত (৬) নামে দুই সহোদর শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু ঘটে। এক ভাই বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়ার পর তাকে বাঁচাতে গিয়ে অপর ভাইও বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে যায়। এ ঘটনায় তাদের মা কিছুটা আহত হন, সন্তানদের বাঁচানোর চেষ্টা করতে গিয়ে।

রোববার (১১ অক্টোবর) সকাল ৭টার দিকে উপজেলার পাইকুড়া ইউনিয়নের কাওয়ালীকান্দা গ্রামে এই হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটে। নিহত দুই শিশু ওই গ্রামের মো. আব্দুস সাত্তারের সন্তান।

স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সকালে বাড়ির পাশে খেলাধুলা করার সময় অসাবধানতাবশত বিদ্যুতের তারের সংস্পর্শে এসে এক শিশু বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়। বিপদে পড়া ভাইকে বাঁচাতে গিয়ে অপর শিশুটিও বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়। দুই শিশুর চিৎকার শুনে তাদের মা দ্রুত ছুটে এসে সন্তানদের উদ্ধারের চেষ্টা করেন। এতে তিনিও কিছুটা আহত হন।

ঘটনার সময় শিশুদের বাবা-মা বাড়ির পাশের গোয়ালঘরে গাভির দুধ সংগ্রহ করছিলেন। চিৎকার শুনে দ্রুত ছুটে এসে সন্তানদের উদ্ধার করে কেন্দুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান তাঁরা। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক দুই শিশুকেই মৃত ঘোষণা করেন।

একসঙ্গে দুই সন্তানকে হারিয়ে শোকে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন তাদের বাবা-মা। স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে বাড়ির পরিবেশ। দুই অবুঝ শিশুর এমন মর্মান্তিক মৃত্যুতে পরিবার, স্বজন ও এলাকাবাসীর মধ্যে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

নেত্রকোণা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কেন্দুয়া জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) প্রকৌশলী মো. ওমর ফারুক জানান, মিটারের সঙ্গে ফ্রিজের সংযুক্ত তারে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে। তিনি বলেন, "এটি পল্লী বিদ্যুতের তারের কারণে ঘটে নি।"

এ বিষয়ে কেন্দুয়া থানাধীন পেমই তদন্ত কেন্দ্রের পুলিশ পরিদর্শক (আইসি) মো. আসাদুজ্জামান মুঠোফোনে জানান, পুলিশ ইতোমধ্যে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। বিধি মোতাবেক মরদেহ দুটি পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ঢাকায় সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে ৩২ রুটে ফ্র্যাঞ্চাইজি বাস চলবে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ১১ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১২:২৮ পি.এম


ঢাকায় সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে ৩২ রুটে ফ্র্যাঞ্চাইজি বাস চলবে

রাজধানী ঢাকার গণপরিবহণে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে সরকার ৩২টি রুটে ফ্র্যাঞ্চাইজি ব্যবস্থা চালু করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। প্রাথমিকভাবে আগামী সাত কার্যদিবসের মধ্যে দুটি রুটে এই ব্যবস্থা কার্যকর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পরবর্তী দুই মাসের মধ্যে ৩২টি রুটের ফ্র্যাঞ্চাইজির নির্ধারণ এবং ছয় মাসের মধ্যে পুরো কার্যক্রম বাস্তবায়নের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক সভায় এসব সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

সভায় আলোচনা হয় বাস রুট পুনর্বিন্যাস, কোম্পানিভিত্তিক পরিবহণ পরিচালনা, নির্দিষ্ট বাস স্টপেজ নির্মাণ, ই-টিকিটিং চালু এবং পুরোনো বাসের মান উন্নয়নসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে।

উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, ঢাকায় অনুমোদিত ৪১৮টি বাস রুটের মধ্যে বর্তমানে ৯৮টি সচল রয়েছে। এসব রুটে বিভিন্ন কোম্পানির পাশাপাশি ব্যক্তিমালিকানাধীন বাসও চলাচল করছে। ছোট ছোট রুট এবং একাধিক রুটের মধ্যে পুনরাবৃত্তির কারণে যাত্রী ওঠানো নিয়ে বাসগুলোর মধ্যে প্রতিযোগিতা সৃষ্টি হয়। এতে যানজট ও দুর্ঘটনার ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়।

এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিদ্যমান রুটগুলো সমন্বয় করে ৩২টি রুটে রূপান্তরের প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রস্তাবিত রুটের প্রায় ৭০ শতাংশ বর্তমান রুটের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

নতুন ব্যবস্থায় প্রতিটি রুটে নির্দিষ্ট একটি কোম্পানির বাস চলবে। বাসের ফিটনেস, চালকদের আচরণ, সড়কে শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং পরিবহণ আইন মেনে চলার দায়িত্ব থাকবে সংশ্লিষ্ট কোম্পানির ওপর। এর মাধ্যমে বাস পরিচালনায় জবাবদিহি বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

যত্রতত্র বাস থামিয়ে যাত্রী ওঠানামা বন্ধ করতে নির্দিষ্ট স্টপেজ নির্মাণ ও সংস্কারের সিদ্ধান্তও গৃহীত হয়েছে। আগামী সাত কার্যদিবসের মধ্যে প্রয়োজনীয় উন্নয়নকাজের বিবরণসহ স্টপেজের তালিকা ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে পাঠানো হবে।

তিন মাসের মধ্যে এসব স্টপেজের নির্মাণ ও সংস্কারকাজ শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। যাত্রীদের সুবিধার্থে সেখানে ছাউনি ও নিরাপত্তাব্যবস্থা রাখা হবে।

এছাড়া বাসে কাউন্টারভিত্তিক টিকিটের পাশাপাশি ই-টিকিটিং ব্যবস্থা চালু এবং প্রতিটি বাসে জিপিএস ট্র্যাকার স্থাপন বাধ্যতামূলক করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এতে বাসের চলাচল পর্যবেক্ষণ ও যাত্রীসেবার মান উন্নয়নের আশা করা হচ্ছে।

সভায় রাজধানীর ফিটনেসবিহীন, মেয়াদোত্তীর্ণ ও জরাজীর্ণ বাসের বিষয়েও আলোচনা হয়। এসব বাসের যান্ত্রিক মেরামত ও ডেন্টিং-পেইন্টিংয়ের জন্য মালিকদের দুই মাস সময় দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মেরামত না করলে সংশ্লিষ্ট বাস চলাচল করতে পারবে না এবং আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে, বিভিন্ন মামলায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জব্দ করা প্রায় ৩৬ হাজার যানবাহন ডাম্পিং স্টেশনে পড়ে রয়েছে। এসব যানবাহন দ্রুত নিলাম বা অন্য আইনি প্রক্রিয়ায় নিষ্পত্তির জন্য সংশ্লিষ্ট আইন সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন রুটে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহণ করপোরেশনের (বিআরটিসি) বৈদ্যুতিক বাস চালুর বিষয়টিও সভায় গুরুত্ব পেয়েছে। প্রাথমিকভাবে রাজধানীর আটটি রুটে এসব বাস চালানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। ঢাকা পরিবহণ সমন্বয় কর্তৃপক্ষ (ডিটিসিএ), বিআরটিসি ও বাস মালিক সমিতির সঙ্গে আলোচনা করে রুট চূড়ান্ত করা হবে।

সিদ্ধান্তগুলো বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও সংস্থাগুলোকে পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে ছয় মাসের সময়াবদ্ধ কর্মপরিকল্পনা সড়ক পরিবহণ ও মহাসড়ক বিভাগে জমা দিতে বলা হয়েছে। ২০২৭ সালের ১৫ এপ্রিলের মধ্যে এসব উদ্যোগের দৃশ্যমান ও কার্যকর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করার তাগিদ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

এক হত্যাকাণ্ডে দুই মামলা; দ্বৈত বিচার নিয়ে বিতর্ক তুঙ্গে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ১১ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১২:২৯ পি.এম


এক হত্যাকাণ্ডে দুই মামলা; দ্বৈত বিচার নিয়ে বিতর্ক তুঙ্গে

যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্যবিমা প্রতিষ্ঠান ইউনাইটেড হেলথকেয়ারের প্রধান নির্বাহী ব্রায়ান থম্পসনকে হত্যার মামলায় লুইজি মাঞ্জিওনির বিচার নিউইয়র্কের অঙ্গরাজ্য আদালতে পরিচালনার পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করেছেন সরকারি আইনজীবীরা। তাদের বক্তব্য হলো, হত্যাকাণ্ড এবং এর পরবর্তী সময়ে ঘটে যাওয়া হয়রানির অপরাধ দুটি ভিন্ন। সুতরাং, একই অপরাধে দুবার বিচারের নিষেধাজ্ঞা এই মামলায় প্রযোজ্য নয়।

শুক্রবার (৯ অক্টোবর) আদালতে দাখিল করা নথিতে ম্যানহাটনের সরকারি আইনজীবীরা উল্লেখ করেন, মাঞ্জিওনি গত আগস্টে কেন্দ্রীয় সরকারের করা অনুসরণ করে হয়রানির দুটি অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন। তবে, তারা বলেন, ওই অভিযোগের সঙ্গে হত্যাকাণ্ডের আইনি সংজ্ঞা ও উদ্দেশ্যের মধ্যে পার্থক্য বিদ্যমান। তাই অঙ্গরাজ্যের হত্যা ও অস্ত্রসংক্রান্ত অভিযোগে তার বিচার অব্যাহত থাকতে পারে।

মাঞ্জিওনির আইনজীবীরা অঙ্গরাজ্যের হত্যা ও অস্ত্রসংক্রান্ত অভিযোগ বাতিলের জন্য আবেদন করেছেন। তাদের যুক্তি হলো, একই ঘটনার জন্য দুবার বিচার করা আইনসম্মত নয়। গত আগস্টে মাঞ্জিওনি স্বীকার করেন যে, তিনি ব্রায়ান থম্পসনকে গুলি করার উদ্দেশ্যে নিউইয়র্কে গিয়েছিলেন।

২০২৪ সালের ডিসেম্বরে পেনসিলভানিয়ার আলটুনা শহরের একটি ম্যাকডোনাল্ডসের রেস্তোরাঁ থেকে মাঞ্জিওনিকে গ্রেপ্তার করা হয়। কর্তৃপক্ষের দাবি, তার ব্যাগে পাওয়া ত্রিমাত্রিক মুদ্রণপ্রযুক্তিতে তৈরি একটি আগ্নেয়াস্ত্র এবং একটি নোটবুকের লেখা হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে তার যোগসূত্রের ইঙ্গিত দেয়।

এই ঘটনাটি যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি করেছে। স্বাস্থ্যসেবা খাত নিয়ে অসন্তোষের কারণে মাঞ্জিওনির প্রতি কিছু মানুষের সমর্থনও দেখা গেছে।

আগস্টে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রীয় মামলায় অনুসরণ করে হয়রানির দুটি অভিযোগে দোষ স্বীকার করার পর, তার আইনজীবীরা অঙ্গরাজ্যের মামলার বড় অংশ বাতিলের জন্য আবেদন করেন। এই আইনি লড়াইয়ের কারণে অঙ্গরাজ্যের বিচার কার্যত পিছিয়ে যায়। পরিকল্পনা অনুযায়ী, অঙ্গরাজ্যের বিচার সেপ্টেম্বরে এবং কেন্দ্রীয় বিচার ২০২৭ সালের জানুয়ারিতে শুরু হওয়ার কথা ছিল।

সরকারি আইনজীবীরা আরও জানিয়েছেন, অঙ্গরাজ্যের কোনো অভিযোগ বাতিল করা হলেও তা যেন স্থায়ীভাবে বাতিল না হয়। তারা ভবিষ্যতে কেন্দ্রীয় মামলায় তার দোষ স্বীকারের সিদ্ধান্ত আপিলে বাতিল হলে নতুন করে অভিযোগ আনার সুযোগ রাখতে চান।

সূত্র: সিএনএন

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ভারত-পাকিস্তানে গণতন্ত্রের লড়াইয়ে দুই ইমরান খান কারাগারে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বিনোদন ডেস্ক

রবিবার, ১১ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১২:২৯ পি.এম


ভারত-পাকিস্তানে গণতন্ত্রের লড়াইয়ে দুই ইমরান খান কারাগারে

একজন বলিউড অভিনেতা এবং অন্যজন পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী। নামের মিল থাকা সত্ত্বেও তাদের মধ্যে কোনো সম্পর্ক নেই। তবে একটি প্রতিবাদ কর্মসূচিতে বলিউড অভিনেতা ইমরান খানের আটক হওয়ার খবর এবং পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের কারাবাস- এই দুটি ঘটনা বর্তমানে আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে।

বলিউডের জনপ্রিয় তারকা আমির খানের ভাগ্নে হলেন অভিনেতা ইমরান খান। তিনি ‘জানে তু... ইয়া জানে না’, ‘আই হেট লাভ স্টোরিজ’ ও ‘দিল্লি বেলি’ সিনেমায় অভিনয় করে পরিচিতি অর্জন করেছেন। অন্যদিকে, পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান বিশ্বজুড়ে পরিচিতি পেয়েছেন ক্রিকেটার হিসেবে এবং পরে রাজনীতিতে যুক্ত হন। ২০১৮ সালে তিনি পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন।

সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার (১০ অক্টোবর) মুম্বাইয়ের আগস্ট ক্রান্তি ময়দানে ‘ককরোচ পার্টি’ আয়োজিত একটি প্রতিবাদ কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার পরিকল্পনা ছিল ইমরান খানের। এ কর্মসূচিটি ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে আয়োজন করা হয়েছিল বলে দাবি করা হয়েছে।

অভিনেতা ওই কর্মসূচিতে অংশ নিতে গিয়ে পুলিশের হাতে আটক হয়েছেন- সম্প্রতি এমন খবরও প্রকাশিত হয়েছে। এমনকি পুলিশের গাড়িতে থাকা অবস্থায় তাঁর একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, কর্মসূচির স্থান নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। পুলিশের বক্তব্য অনুযায়ী, আগস্ট ক্রান্তি ময়দানে কর্মসূচি আয়োজনের জন্য কোনো অনুমতি ছিল না। বোম্বে হাইকোর্টের অনুমতি অনুযায়ী, প্রতিবাদের জন্য নির্ধারিত স্থান ছিল আজাদ ময়দান।

অন্যদিকে, আয়োজকদের দাবি, তাঁরা কর্মসূচির বিষয়ে পুলিশকে ই-মেইল করেছিলেন, কিন্তু কোনো জবাব পাননি। তবে আদালতের নির্দেশনা, অনুমতির শর্ত এবং পুলিশের পদক্ষেপ সম্পর্কে আনুষ্ঠানিক তথ্য পাওয়া না গেলে এ বিরোধের প্রকৃত চিত্র স্পষ্ট হওয়া কঠিন।

দিল্লির যন্তর মন্তরে প্রতিবাদ কর্মসূচি আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়ার কথাও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া ‘ককরোচ পার্টি’র প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে এবং সংগঠনটির কয়েকজন সদস্যকে দিল্লি বিমানবন্দরে এদিন আটক করা হয়েছে।

বলিউডে পরিচিত মুখ ইমরান খান

২০০৮ সালে ‘জানে তু... ইয়া জানে না’ সিনেমার মাধ্যমে বলিউডে পরিচিতি পান ইমরান খান। তরুণ দর্শকদের কাছে জনপ্রিয়তা পাওয়া সিনেমাটিতে অভিনয় করে তিনি রোমান্টিক নায়ক হিসেবে নিজের অবস্থান তৈরি করেন।

পরবর্তী সময়ে ‘আই হেট লাভ স্টোরিজ’, ‘দিল্লি বেলি’, ‘মেরে ব্রাদার কি দুলহান’ ও ‘এক ম্যায় অউর এক্কু তু’ সিনেমায় অভিনয় করেন। বিশেষ করে ‘দিল্লি বেলি’তে তাঁর অভিনয় প্রচলিত রোমান্টিক নায়কের পরিচিতির বাইরে ভিন্নধর্মী উপস্থিতি তৈরি করেছিল।

একসময় বড় পর্দায় নিয়মিত দেখা গেলেও পরে তিনি অভিনয়ে বিরতি নেন। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তাঁর সম্ভাব্য প্রত্যাবর্তন নিয়ে দর্শকদের মধ্যে আগ্রহ সৃষ্টি হয়েছে।

পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের ঘটনা ভিন্ন। রাজনীতিতে আসার আগে তিনি ছিলেন জাতীয় ক্রিকেট দলের অধিনায়ক। তাঁর নেতৃত্বে ১৯৯২ সালে পাকিস্তান ক্রিকেট বিশ্বকাপ জিতে। সেই সাফল্য তাঁকে দেশটিতে ব্যাপক জনপ্রিয়তা এনে দেয়।

১৯৯৬ সালে পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে তিনি রাজনীতিতে যাত্রা শুরু করেন। দুর্নীতিবিরোধী অবস্থান ও সুশাসনের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ধীরে ধীরে সমর্থন বাড়ান তিনি। ২০১৮ সালে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন।

তবে ক্ষমতায় থাকার সময়েই তাঁর সরকারের সঙ্গে বিরোধী দল ও বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের টানাপোড়েন বৃদ্ধি পায়। ২০২২ সালের এপ্রিলে পার্লামেন্টে অনাস্থা ভোটে প্রধানমন্ত্রীর পদ হারান তিনি।

এরপর তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক মামলা শুরু হয়। ২০২৩ সালের ৫ আগস্ট তোশাখানা মামলায় দণ্ডিত হওয়ার পর তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরবর্তী সময়ে আরও কয়েকটি মামলার বিচারপ্রক্রিয়া, সাজা ও জামিন নিয়ে পাকিস্তানের রাজনীতিতে বিতর্ক সৃষ্টি হয়।

যদিও ইমরান খান ও তাঁর দল এসব মামলাকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করে আসছেন। অন্যদিকে, মামলাগুলোর বিচারিক প্রক্রিয়া ও আদালতের সিদ্ধান্ত রয়েছে আইনি কাঠামোর মধ্যে। অভিযোগ, রাজনৈতিক বক্তব্য এবং আদালতের রায়-এগুলোকে আলাদাভাবে বিবেচনা করা জরুরি।

তাঁর কারাবাসকে কেন্দ্র করে পিটিআইয়ের সমর্থকেরা বিভিন্ন সময়ে প্রতিবাদ করেছেন। ইমরান খানের মুক্তির দাবি পাকিস্তানের রাজনৈতিক বিতর্কের অন্যতম বিষয় হয়ে উঠেছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%