ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২২শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৬ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১১ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বৃহস্পতিবার, ২২শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৬ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

বিজয়া দশমীতে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রতি শুভেচ্ছা রাষ্ট্রপতির


বিজয়া দশমীতে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রতি শুভেচ্ছা রাষ্ট্রপতির

শারদীয় দুর্গোৎসব ও বিজয়া দশমী উপলক্ষে দেশের সকল সনাতন ধর্মাবলম্বী এবং সব নাগরিককে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার। নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচার পাওয়ার অধিকারও সবার।’

বুধবার (২১ অক্টোবর) শারদীয় দুর্গোৎসব ও বিজয়া দশমী উপলক্ষে দেয়া শুভেচ্ছা বার্তায় রাষ্ট্রপতি এ কথা বলেন।

আরও পড়ুন: দুর্গাপূজায় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছে সরকার: প্রতিমন্ত্রী টুকু

তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ একটি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ। এ দেশের মানুষের আত্মা অসাম্প্রদায়িক। হাজার বছর ধরে এ ভূখণ্ডে সব ধর্মের মানুষ পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে বসবাস করে আসছে। বিশ্বের নানা প্রান্তে যখন যুদ্ধ, সহিংসতা ও সাম্প্রদায়িক হানাহানি চলছে, তখন এখানে সব ধর্মের মানুষ শান্তিপূর্ণভাবে নিজ নিজ উৎসব পালন করছে- এটাই আমাদের সবচেয়ে বড় অর্জন। এ সম্প্রীতি আমাদের শক্তি, আমাদের অস্তিত্ব। যেকোনো মূল্যে তা অক্ষুণ্ন রাখতে হবে। তিনি বলেন, ১৯৭১ সালে আমরা মুক্তিযুদ্ধ করেছিলাম একটি সাম্য, ন্যায়, গণতান্ত্রিক ও মানবিক মর্যাদা-ভিত্তিক অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশের জন্য। মহান মুক্তিযুদ্ধসহ সব গণতান্ত্রিক সংগ্রাম ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে সব ধর্মের মানুষের অংশগ্রহণই আমাদের জাতীয় ঐক্যের ভিত্তি। মানচিত্র দেখুন,

রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি- ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার। নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচার পাওয়ার অধিকারও সবার। হিন্দু, মুসলমান, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান- আমরা সবাই এ দেশের নাগরিক। সংবিধান প্রত্যেককে সমান অধিকার, মর্যাদা ও ধর্মীয় স্বাধীনতা দিয়েছে।‌ এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ।’

তিনি আরও জানান, ধর্ম, বর্ণ বা গোষ্ঠী পরিচয়ের কারণে কোনো নাগরিক বৈষম্য বা নিপীড়নের শিকার হবেন- তা গ্রহণযোগ্য নয়। আর এসব বিষয় নিশ্চিত করতে ও সমন্বয়ের সুবিধার্থে একটি জাতীয় কমিটি গঠন করা হলে কাজটি করা সহজ হতো বলে তিনি মনে করেন।

সব ধর্মের মানুষ যেন নিরাপদ ও আনন্দময় পরিবেশে ধর্ম পালন করতে পারেন, তা নিশ্চিত করতে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী ও প্রশাসনকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার নির্দেশ দেয়া হয়েছে বলেও জানান রাষ্ট্রপতি।

আরও পড়ুন: থাইল্যান্ডে আশ্রয় নেওয়া তিন বাংলাদেশি আজ দেশে ফিরবেন

তিনি বলেন, দুর্ভাগ্যজনকভাবে, কখনো কখনো গুজব, অপপ্রচার ও ধর্মীয় উগ্রতার মাধ্যমে বিভেদ সৃষ্টির অপচেষ্টা হয়। এসব অপচেষ্টার বিরুদ্ধে আমাদের দৃঢ় ও আপোশহীন থাকতে হবে। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মকে সত্য, ন্যায় ও মানবিকতার পক্ষে সোচ্চার থাকতে হবে।

রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘মনে রাখবেন, এই দেশ আমাদের সবার। সবাই মিলে দেশকে গড়তে হবে। কোনো অপশক্তিকে বিভেদ সৃষ্টি করে জাতীয় ঐক্য ও অগ্রগতি বিনষ্ট করতে দেয়া যাবে না। আসুন, পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সাম্য ও সামাজিক ন্যায়বিচারের ভিত্তিতে একটি নিরাপদ, গণতান্ত্রিক, মানবিক ও কল্যাণমুখী বাংলাদেশ গড়ে তুলি।’

বিজয়া দশমীর এই মাহেন্দ্রক্ষণে হিন্দু সম্প্রদায়সহ সবার সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করেন রাষ্ট্রপতি।

তিনি বলেন, শারদীয় উৎসবের আনন্দ ও শুভবোধ সবার জীবনে মঙ্গল বয়ে আনুক।

আরও পড়ুন: পূজামণ্ডপে মুসলমানদের উপস্থিতি সম্প্রীতির উজ্জ্বল উদাহরণ: খাদ্যমন্ত্রী

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পুতিনের সঙ্গে বৈঠকের আগে রাশিয়ায় পৌঁছালেন মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বুধবার, ২১শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৩:৪২ পি.এম


পুতিনের সঙ্গে বৈঠকের আগে রাশিয়ায় পৌঁছালেন মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ

যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে বৈঠক করার জন্য রাশিয়ায় পৌঁছেছেন। তিনি ইউক্রেন যুদ্ধের সমাধান নিয়ে পুতিনের সঙ্গে আলোচনা করবেন। এর আগের দিন নরওয়ের রাজধানী অসলোতে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এবং ইউরোপীয় নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন উইটকফ।

বিবিসির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, অসলোতে বৈঠকের পর জেলেনস্কি জানান, রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র হামলা সম্পর্কে আগাম সতর্কতা দিতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় কার্যকরভাবে চলছে। কিয়েভের পক্ষ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা তথ্য সরবরাহে বিধিনিষেধ নিয়ে অভিযোগ করা হয়েছিল, তবে ওয়াশিংটন সেই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে।

জেলেনস্কি বলেন, "ক্ষেপণাস্ত্র হামলার আগাম সতর্কতা ইউক্রেনের সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে শিশু ও বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।" তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

অসলো বৈঠক শেষে জেলেনস্কি এবং তাঁর ইউরোপীয় মিত্ররা জানান, যুদ্ধ বন্ধের প্রস্তাবের বিষয়ে এখন রাশিয়ার জবাব দেওয়ার পালা। বৈঠকে অংশগ্রহণকারী ফিনল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট আলেকজান্ডার স্টাব শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রস্তাবে "প্রকৃত অগ্রগতি" হয়েছে বলে মন্তব্য করেন, তবে বিস্তারিত কিছু জানাননি। তিনি ধৈর্য ধরে এগোনোর ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন।

মার্কিন কর্মকর্তারা অসলো বৈঠককে "ফলপ্রসূ ও গঠনমূলক" হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তাঁদের মতে, পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র, ইউক্রেন এবং ইউরোপের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সমন্বয় হয়েছে। বৈঠকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনারও ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে অংশ নেন।

রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ জানিয়েছেন, উইটকফ কী প্রস্তাব নিয়ে আসেন, তা মস্কো শুনবে। তবে তিনি রাজনৈতিক ছাড় দেওয়ার সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছেন। পুতিন সর্বশেষ আলোচনার বিষয়ে এখনও প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করেননি।

সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ইউক্রেন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সম্পর্কের টানাপোড়েন বৃদ্ধি পেয়েছে। ট্রাম্প ইউক্রেনকে নতুন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের কথা বলেছেন এবং যুদ্ধ বন্ধে ইউক্রেনের হয়ে অন্য কাউকে আলোচনায় বসার পরামর্শ দিয়েছেন। অসলো বৈঠকের পর ট্রাম্প কিয়েভকে সমঝোতায় পৌঁছানোর আহ্বান জানান। তাঁর দাবি, রাশিয়াও যুদ্ধের অবসান চায় এবং এ সংঘাত শেষ করার এখনই সময়।

এদিকে, ইউক্রেনে রাশিয়ার ড্রোন হামলা অব্যাহত রয়েছে। ইউক্রেনীয় কর্মকর্তাদের দাবি, মঙ্গলবারের হামলায় রাজধানী কিয়েভ ও আশপাশের এলাকায় চারজন, পূর্বাঞ্চলীয় দোনেৎস্ক অঞ্চলে চারজন এবং মধ্যাঞ্চলীয় দিনিপ্রো শহরে দুজন নিহত হন। বুধবার রাতে খারকিভের কাছে আরেকটি হামলায় আরও দুজন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

অসলো বৈঠকে ইউক্রেনের নিরাপত্তা নিশ্চয়তা, জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলা বন্ধের প্রস্তাব এবং মার্কিন স্যাটেলাইট ইন্টারনেট সেবা স্টারলিংক ব্যবহারের বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। ইউক্রেনের সামরিক বাহিনী সম্প্রতি স্টারলিংক সেবায় গতিসীমা আরোপের অভিযোগ করেছে। কিয়েভ রাশিয়ার বিরুদ্ধে ড্রোন হামলা পরিচালনায় এ সেবা ব্যবহার করে।

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানিয়েছেন, ইউক্রেনকে ইচ্ছাকৃতভাবে কোনো সহায়তা থেকে বঞ্চিত করা হয়নি। তবে রাশিয়ার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করতে ব্যবহৃত প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্রের নতুন চালান ইউক্রেনে পৌঁছানো নিয়ে অনিশ্চয়তার খবর প্রকাশিত হয়েছে।

ইউরোপীয় নেতারাও যুদ্ধ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক বক্তব্যে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। জার্মানির চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্ৎস বলেছেন, যুদ্ধ নিয়ে ওয়াশিংটনের বক্তব্যে পরস্পরবিরোধী বার্তা পাওয়া যাচ্ছে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বলেছেন, ইউক্রেনের সঙ্গে বিভিন্ন বিষয়ে সহযোগিতা থাকলেও দুই দেশের স্বার্থ সব সময় এক নয়। বিশেষ করে রাশিয়ার জ্বালানি স্থাপনায় ইউক্রেনের হামলা বন্ধ হওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।

২০২২ সালে ইউক্রেনে পূর্ণমাত্রার সামরিক অভিযান শুরু করে রাশিয়া। বর্তমানে দেশটির প্রায় ২০ শতাংশ ভূখণ্ড মস্কোর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তথ্যসূত্র: বিবিসি

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ইরানে অক্টোবরেই হামলার পরিকল্পনা নেতানিয়াহুর, সায় নেই ট্রাম্পের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বুধবার, ২১শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৩:৪৩ পি.এম


ইরানে অক্টোবরেই হামলার পরিকল্পনা নেতানিয়াহুর, সায় নেই ট্রাম্পের

চলতি মাসের শুরুতে ইরানে সামরিক হামলার পরিকল্পনা করেছিলেন ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে নতুন করে এই সংঘাত শুরু করতে সম্মতি দেননি।

বিষয়টির সঙ্গে পরিচিত তিনটি সূত্রের উদ্ধৃতি দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ১০ অক্টোবরের সপ্তাহান্তে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনা, শাসকগোষ্ঠীর গুরুত্বপূর্ণ দপ্তর এবং জ্বালানি কেন্দ্রসহ সাধারণ অবকাঠামোগুলোকে লক্ষ্যবস্তু বানিয়ে হামলা চালানোর জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত ছিল ইসরাইলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ)।

তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই সূত্রগুলো জানিয়েছে, আগামী ৩ নভেম্বর মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে যুদ্ধ বা সংঘাত শুরু না করার সিদ্ধান্ত নেন ট্রাম্প। পরিকল্পিত এসব হামলা যদি বাস্তবায়িত হতো, তাহলে তা গত ফেব্রুয়ারিতে মার্কিন ও ইসরাইলি বাহিনীর পরিচালিত যৌথ হামলার চেয়েও অনেক বেশি শক্তিশালী ও তীব্র হতো।

ইসরাইলের এই সম্ভাব্য হামলায় যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি যোগ দিত কি না, তা স্পষ্ট নয়। তবে এক সূত্র পত্রিকাটিকে জানিয়েছে, আগামী সপ্তাহগুলোতে পুনরায় এই হামলা শুরু হওয়ার বিষয়টি একেবারেই ‘অযৌক্তিক কোনো দৃশ্যপট বা অনুমান নয়’। অতীতে যেসব বেসামরিক অবকাঠামো স্পর্শ করা হয়নি, সেগুলোও অন্তর্ভুক্ত করে ইসরাইল এবার তাদের হামলার লক্ষ্যের নতুন তালিকা প্রস্তুত করেছে।

চলতি মাসের শুরুতে আইডিএফের পরিকল্পিত হামলার এই উদ্যোগ আলোচনার একটি কৌশল বা কৌশলগত চালও হতে পারে। তবে যুদ্ধ বা লড়াই পুনরায় শুরু করার যেকোনো সিদ্ধান্ত মূলত ট্রাম্পের ওপরই নির্ভর করছে। বিষয়টি নিয়ে পেন্টাগনের পক্ষ থেকে কোনো মন্তব্য করা হয়নি।

মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ সম্প্রতি গোপনে ইসরাইল সফর করেন এবং ‘অঞ্চলের হুমকি’ নিয়ে নেতানিয়াহুর সঙ্গে বৈঠক করেন। তার ওই গোপন সফরের ঠিক দুই দিনের মাথায় এই চাঞ্চল্যকর রিপোর্ট প্রকাশ পেল। তবে সাম্প্রতিক সময়ে নেতানিয়াহুর হামলা চালানোর জন্য চাপ দেওয়ার খবর প্রকাশ্যে আসার ঘটনা এটিই প্রথম নয়।

এর আগে গত ৯ অক্টোবর ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ওয়াশিংটন ইরানে কোনো হামলা চালাবে না। ট্রাম্পের এই বক্তব্যের কয়েক দিন আগেই খবর বেরিয়েছিল, আইডিএফ প্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল ইয়াল জামির তার মার্কিন সমকক্ষদের জানিয়েছেন, এ ধরনের হামলার কারণে আগামী সপ্তাহে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ইসরাইলের জাতীয় নির্বাচন পিছিয়ে যেতে পারে। জেরুজালেমের অনুমান, মার্কিন হামলা হলে ইরান ইসরাইলে ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র বর্ষণের মাধ্যমে এর জবাব দিতে পারে।

ইসরাইলের চ্যানেল ১২ গত সপ্তাহে জানিয়েছিল, নেতানিয়াহু প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে আহ্বান জানিয়েছিলেন, যাতে আগামী ২৭ অক্টোবর ইসরাইলের নির্বাচন এবং ৩ নভেম্বর মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগেই ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ জোরদার করা হয়।

সূত্র: টাইমস অব ইসরাইল ও ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

গাজীপুর-উত্তরার বাসিন্দাদের ১৪ বছর ধরে দুর্ভোগ, সরকার সুবিচার করেনি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ২১শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৩:৪৩ পি.এম


গাজীপুর-উত্তরার বাসিন্দাদের ১৪ বছর ধরে দুর্ভোগ, সরকার সুবিচার করেনি

বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্স (বিআইপি) জানিয়েছে, গাজীপুর-বিমানবন্দর বাস র‌্যাপিড ট্রানজিট (বিআরটি) প্রকল্প বাতিল করা এবং এর অবকাঠামো সাধারণ মহাসড়কে রূপান্তরের সিদ্ধান্তটি সঠিক নয়। সংগঠনটি বলছে, সরকার এই বিষয়ে সবচেয়ে খারাপ বিকল্পটি বেছে নিয়েছে। এর ফলে ১৪ বছর ধরে নির্মাণ কাজের দুর্ভোগ ভোগ করা গাজীপুর ও উত্তরার বাসিন্দাদের প্রতি সুবিচার করা হয়নি।

মঙ্গলবার বিআইপির সাধারণ সম্পাদক পরিকল্পনাবিদ অধ্যাপক মু. মোসলেহ উদ্দীন হাসানের পাঠানো বিবৃতিতে এই বিষয়গুলো তুলে ধরা হয়। সংগঠনটি এই সিদ্ধান্তকে টেকসই, জ্বালানি সাশ্রয়ী এবং সবার জন্য ব্যবহার উপযোগী গণপরিবহণের ইতিহাসে একটি ‘কালো দিন’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছে।

গত ১৮ অক্টোবর মন্ত্রিসভা বৈঠকে বিআরটির ভবিষ্যৎ নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, করিডরের স্টেশন ও লেন বিভাজক সরিয়ে সড়কটি দুদিকে তিনটি করে মোট ছয় লেনের সাধারণ মহাসড়কে রূপান্তর করা হবে। প্রকল্পের দুটি দুই লেনের ওভারপাস চার লেনে উন্নীত করার কথাও বলা হয়েছে। এছাড়া ঢাকা বাস র‌্যাপিড ট্রানজিট পিএলসি বন্ধ করে এর কার্যক্রম সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের আওতায় নেওয়া হবে।

বিআইপি সরকারি সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে বলেছে, এটি পরিকল্পিত গণপরিবহন ব্যবস্থার পরিপন্থি। দীর্ঘ ১৪ বছর নির্মাণ কাজের দুর্ভোগ ভোগ করা গাজীপুর ও উত্তরার বাসিন্দাদের প্রত্যাশা এবং যাতায়াতের চাহিদার প্রতিও এ সিদ্ধান্ত সুবিচার করেনি।

সংগঠনটি জানিয়েছে, সংবাদপত্রের প্রতিবেদনের মাধ্যমে তারা এ সিদ্ধান্তের কথা জানতে পেরেছে। তাদের মতে, সরকার বিআরটি নিয়ে সবচেয়ে খারাপ বিকল্পটি বেছে নিয়েছে। মন্ত্রিসভা বৈঠকের পর নিয়মিত সংবাদ ব্রিফিংয়ে বিষয়টি না জানানোর অভিযোগ তুলে বিআইপি বলেছে, এতে সিদ্ধান্ত গ্রহণের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন ও জল্পনার সুযোগ তৈরি হয়েছে। এ প্রক্রিয়ায় স্বার্থের সংঘাত রয়েছে বলেও অভিযোগ করেছে সংগঠনটি।

বিবৃতিতে অভিযোগ করা হয়েছে, এই সিদ্ধান্তটি ব্যক্তিগত গাড়ি ব্যবহারকারী এবং দেশীয় ও আন্তর্জাতিক নির্মাণ লবির স্বার্থের পক্ষে গেছে। এটি গাজীপুর ট্রান্সপোর্ট মাস্টার প্ল্যান এবং ঢাকার সংশোধিত কৌশলগত পরিবহণ পরিকল্পনার প্রস্তাবনার পরিপন্থি।

বিআরটি বাতিলের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারসহ ছয় দফা দাবি জানিয়েছে বিআইপি। এর মধ্যে রয়েছে বিআরটি ও মেট্রোরেলের পরিচালনা এবং সংশ্লিষ্ট কার্যক্রমের জন্য একটি সমন্বিত সংস্থা গঠন। একই সঙ্গে পুরো ঢাকা ও দেশের অন্যান্য মহানগরের জন্য বৃহত্তর বিআরটি পরিকল্পনা প্রণয়নের দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।

বিআইপি বলেছে, পরিবহণ অবকাঠামো নিয়ে বিচ্ছিন্ন প্রকল্পভিত্তিক সিদ্ধান্তের পরিবর্তে সামগ্রিক পরিকল্পনা অনুসরণ করতে হবে। বাস্তবায়নে সময় ও ব্যয় সাশ্রয় করে বেশি মানুষকে সেবা দিতে পারে এমন প্রকল্পকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। বিশেষ করে নারী, স্বল্প দূরত্বের যাত্রী, শারীরিক প্রতিবন্ধী ব্যক্তি ও সীমিত সামর্থ্যের মানুষের যাতায়াতের প্রয়োজন বিবেচনায় নেওয়ার দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।

বৃহত্তর ঢাকার পরিবহন পরিকল্পনাসংক্রান্ত সিদ্ধান্তে ঢাকা পরিবহণ সমন্বয় কর্তৃপক্ষকে (ডিটিসিএ) নেতৃত্বদানকারী সংস্থা হিসেবে প্রতিষ্ঠার দাবিও জানানো হয়েছে। এজন্য সংস্থাটিকে সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে বিআইপি।

অন্যদিকে, বিআরটি বাতিলের সিদ্ধান্তের আগে প্রকল্পটির কারিগরি দিক পর্যালোচনা করেছিল বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) একটি বিশেষজ্ঞ দল। অধ্যাপক সামছুল হকের নেতৃত্বাধীন দলটি অন্তর্বর্তী সরকারের সময় গঠিত দুটি কমিটির প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে বিআরটি বাতিল এবং বিদ্যমান অবকাঠামো উন্নত মহাসড়ক হিসেবে ব্যবহারের সুপারিশ করেছিল।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রূপপুর পারমাণু বিদ্যুৎ কেন্দ্রে পৌঁছেছে ইউরেনিয়ামের তৃতীয় চালান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ২১শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৩:৪৪ পি.এম


রূপপুর পারমাণু বিদ্যুৎ কেন্দ্রে পৌঁছেছে ইউরেনিয়ামের তৃতীয় চালান

পাবনা, ২১ অক্টোবর, ২০২৬ : পাবনার ঈশ্বরদীতে রূপপুর পারমাণু বিদ্যুৎ কেন্দ্রে পৌঁছেছে প্রথম ইউনিটের ইউরেনিয়ামের তৃতীয় চালান, যা সড়ক পথে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্যে দিয়ে এসেছে।

আজ বুধবার সকালে ইউরেনিয়াম বহনকারী গাড়িবহরটি রূপপুর পরমাণু বিদ্যুৎ কেন্দ্রে প্রবেশ করেছে, এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন সাইট ইনচার্জ রুহুল কুদ্দুস টুটুল।

এর আগে, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর নিরাপত্তায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ভোর ৪টা ৫৬ মিনিটে সড়কপথে রূপপুর পরমাণু বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জ্বালানিবাহী গাড়ির বহর রওনা হয়।

সেনাবাহিনী ছাড়াও নিরাপত্তায় এসআরবি, পুলিশ এবং গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। পুরো সড়কপথ জুড়েই কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল। পুলিশ, এসআরবি এবং সেনাবাহিনীসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে অবস্থান নিয়েছিলেন।

মঙ্গলবার রাতে, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছেছে রূপপুর পরমাণু বিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রথম ইউনিটের তৃতীয় চালান জ্বালানিবাহী বিমান। বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তারা ইউরেনিয়ামের চালানটি গ্রহণ করেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১১ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৩
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫০
মাগরিব ০৫:২৭
ইশা ০৬:৩৮
সূর্যোদয় : ০৫:৫৯ সূর্যাস্ত : ০৫:২৭
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%