০৩:৪২ পি.এম
যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে বৈঠক করার জন্য রাশিয়ায় পৌঁছেছেন। তিনি ইউক্রেন যুদ্ধের সমাধান নিয়ে পুতিনের সঙ্গে আলোচনা করবেন। এর আগের দিন নরওয়ের রাজধানী অসলোতে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এবং ইউরোপীয় নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন উইটকফ।
বিবিসির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, অসলোতে বৈঠকের পর জেলেনস্কি জানান, রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র হামলা সম্পর্কে আগাম সতর্কতা দিতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় কার্যকরভাবে চলছে। কিয়েভের পক্ষ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা তথ্য সরবরাহে বিধিনিষেধ নিয়ে অভিযোগ করা হয়েছিল, তবে ওয়াশিংটন সেই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে।
জেলেনস্কি বলেন, "ক্ষেপণাস্ত্র হামলার আগাম সতর্কতা ইউক্রেনের সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে শিশু ও বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।" তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
আরও পড়ুন: মোজতবা খামেনি বাবার পথ বেছে নিয়েছেন, সরকার উৎখাতই একমাত্র উপায়: নেতানিয়াহু
অসলো বৈঠক শেষে জেলেনস্কি এবং তাঁর ইউরোপীয় মিত্ররা জানান, যুদ্ধ বন্ধের প্রস্তাবের বিষয়ে এখন রাশিয়ার জবাব দেওয়ার পালা। বৈঠকে অংশগ্রহণকারী ফিনল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট আলেকজান্ডার স্টাব শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রস্তাবে "প্রকৃত অগ্রগতি" হয়েছে বলে মন্তব্য করেন, তবে বিস্তারিত কিছু জানাননি। তিনি ধৈর্য ধরে এগোনোর ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন।
মার্কিন কর্মকর্তারা অসলো বৈঠককে "ফলপ্রসূ ও গঠনমূলক" হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তাঁদের মতে, পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র, ইউক্রেন এবং ইউরোপের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সমন্বয় হয়েছে। বৈঠকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনারও ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে অংশ নেন।
রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ জানিয়েছেন, উইটকফ কী প্রস্তাব নিয়ে আসেন, তা মস্কো শুনবে। তবে তিনি রাজনৈতিক ছাড় দেওয়ার সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছেন। পুতিন সর্বশেষ আলোচনার বিষয়ে এখনও প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করেননি।
সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ইউক্রেন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সম্পর্কের টানাপোড়েন বৃদ্ধি পেয়েছে। ট্রাম্প ইউক্রেনকে নতুন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের কথা বলেছেন এবং যুদ্ধ বন্ধে ইউক্রেনের হয়ে অন্য কাউকে আলোচনায় বসার পরামর্শ দিয়েছেন। অসলো বৈঠকের পর ট্রাম্প কিয়েভকে সমঝোতায় পৌঁছানোর আহ্বান জানান। তাঁর দাবি, রাশিয়াও যুদ্ধের অবসান চায় এবং এ সংঘাত শেষ করার এখনই সময়।
আরও পড়ুন: নজিরবিহীন নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে বদর প্রতিরক্ষা চুক্তি
এদিকে, ইউক্রেনে রাশিয়ার ড্রোন হামলা অব্যাহত রয়েছে। ইউক্রেনীয় কর্মকর্তাদের দাবি, মঙ্গলবারের হামলায় রাজধানী কিয়েভ ও আশপাশের এলাকায় চারজন, পূর্বাঞ্চলীয় দোনেৎস্ক অঞ্চলে চারজন এবং মধ্যাঞ্চলীয় দিনিপ্রো শহরে দুজন নিহত হন। বুধবার রাতে খারকিভের কাছে আরেকটি হামলায় আরও দুজন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
অসলো বৈঠকে ইউক্রেনের নিরাপত্তা নিশ্চয়তা, জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলা বন্ধের প্রস্তাব এবং মার্কিন স্যাটেলাইট ইন্টারনেট সেবা স্টারলিংক ব্যবহারের বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। ইউক্রেনের সামরিক বাহিনী সম্প্রতি স্টারলিংক সেবায় গতিসীমা আরোপের অভিযোগ করেছে। কিয়েভ রাশিয়ার বিরুদ্ধে ড্রোন হামলা পরিচালনায় এ সেবা ব্যবহার করে।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানিয়েছেন, ইউক্রেনকে ইচ্ছাকৃতভাবে কোনো সহায়তা থেকে বঞ্চিত করা হয়নি। তবে রাশিয়ার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করতে ব্যবহৃত প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্রের নতুন চালান ইউক্রেনে পৌঁছানো নিয়ে অনিশ্চয়তার খবর প্রকাশিত হয়েছে।
ইউরোপীয় নেতারাও যুদ্ধ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক বক্তব্যে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। জার্মানির চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্ৎস বলেছেন, যুদ্ধ নিয়ে ওয়াশিংটনের বক্তব্যে পরস্পরবিরোধী বার্তা পাওয়া যাচ্ছে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বলেছেন, ইউক্রেনের সঙ্গে বিভিন্ন বিষয়ে সহযোগিতা থাকলেও দুই দেশের স্বার্থ সব সময় এক নয়। বিশেষ করে রাশিয়ার জ্বালানি স্থাপনায় ইউক্রেনের হামলা বন্ধ হওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।
আরও পড়ুন: সিজেপির দুই মুখপাত্র এক সপ্তাহ পর মুক্তি
২০২২ সালে ইউক্রেনে পূর্ণমাত্রার সামরিক অভিযান শুরু করে রাশিয়া। বর্তমানে দেশটির প্রায় ২০ শতাংশ ভূখণ্ড মস্কোর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তথ্যসূত্র: বিবিসি
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন