১১:১৮ পি.এম
প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন দাবি করেছেন, সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া পদত্যাগের আগের রাতে বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদের বাসায় গিয়েছিলেন। তিনি বিএনপির মনোনয়ন নিয়ে ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন।
রাশেদ খাঁন আরও জানান, বিএনপিতে সুযোগ না পাওয়ার পর আসিফ মাহমুদ জাতীয় নাগরিক পার্টিতে (এনসিপি) যোগ দেন। তিনি রোববার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি পোস্টে এসব তথ্য তুলে ধরেন। পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন, সাবেক উপদেষ্টা মাহফুজ আলমও বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচনে আগ্রহী ছিলেন। এই উদ্দেশ্যে আসিফ মাহমুদ এবং মাহফুজ আলম একসঙ্গে বিএনপির তৎকালীন মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদের বাসায় পর্যায়ক্রমে গিয়েছিলেন।
রাশেদ খাঁনের দাবি অনুযায়ী, বিএনপির প্রতীকে নির্বাচনে অংশগ্রহণের জন্য অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কোনো উপদেষ্টা দলটির কাছে আগ্রহী ছিল না। বিএনপির কাছ থেকে আগ্রহ না পাওয়ার কারণে আসিফ মাহমুদ বাধ্য হয়ে এনসিপিতে যোগ দেন। তবে তিনি মন্তব্য করেন যে, মাহফুজ আলম নৈতিকতা ধরে রেখেছেন, যদিও তিনি বিএনপিতে সুযোগ পাননি।
আরও পড়ুন: ভারতীয় গোয়েন্দার সঙ্গে গোলাম পরওয়ারের গোপন বৈঠক, রাশেদের দাবি
রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে সমালোচনা করেন রাশেদ খাঁন। তার মতে, গণঅভ্যুত্থানে সাহসী ভূমিকা পালন করার কারণে নাহিদ ইসলামের পর আসিফ মাহমুদের এনসিপিতে অবস্থান থাকা উচিত ছিল। কিন্তু অতীতের বিতর্ক এবং দলটিতে যোগ দেওয়ার বিষয়ে দোদুল্যমান অবস্থানের কারণে তিনি বর্তমানে দলের শীর্ষ ছয় নেতার মধ্যে সর্বশেষ অবস্থানে রয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি।
এনসিপির সঙ্গে বিএনপির আসন সমঝোতা নিয়েও পোস্টে আলোচনা করেন রাশেদ খাঁন। তিনি জানান, বেশি আসনে সমঝোতার জন্য এনসিপির শীর্ষ পর্যায়ের নেতারা সালাহউদ্দিন আহমেদের বাসায় গিয়েছিলেন। তবে বিএনপি এনসিপিকে চারটির বেশি আসন ছাড়তে রাজি হয়নি। পরবর্তীতে বেশি আসন ও নির্বাচনি খরচের প্রত্যাশায় এনসিপি জামায়াতের জোটে চলে গেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
রাশেদ খাঁন এনসিপির বর্তমান রাজনীতিকে ‘সুবিধাবাদী’ হিসেবে আখ্যা দেন। তার মতে, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে এনসিপির কর্মসূচি বিএনপিকে চাপে রাখার কৌশল হতে পারে। তবে তিনি মন্তব্য করেন যে, এ কর্মসূচি সফল হবে না।
পোস্টে সালাহউদ্দিন আহমেদের রাজনৈতিক অবস্থানের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরে রাশেদ খাঁন বলেন, দীর্ঘ সংগ্রাম, মেধা ও যোগ্যতার কারণে তিনি বর্তমান অবস্থানে এসেছেন। বিএনপি ‘বিরিয়ানি ভাগবাটোয়ারার রাজনীতি’ করে না, বরং রাষ্ট্র পুনর্গঠনের রাজনীতি করে বলেও মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী।
আরও পড়ুন: প্রধানমন্ত্রী টোকিওতে বাংলাদেশ-জাপান টেক পার্ক প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব দিয়েছেন
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন