মঙ্গলবার, ২৭শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০১:০৯ পি.এম
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ তুলেছেন সাবেক মডেল ও মিস সুইজারল্যান্ড বিয়াত্রিস কিউল। তিনি অভিযোগ করেছেন যে, ১৯৯৩ সালে নিউইয়র্কের প্লাজা হোটেলে ট্রাম্প তাকে ধর্ষণ করেছিলেন।
সোমবার প্রকাশিত যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদের ডেমোক্র্যাট সদস্যদের একটি প্রতিবেদনে এই অভিযোগগুলো উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে ট্রাম্পের সঙ্গে যৌন অপরাধে অভিযুক্ত জেফরি এপস্টেইনের কথিত সম্পর্ক এবং এপস্টেইনের অপরাধের সঙ্গে ট্রাম্পের সংশ্লিষ্টতা নিয়ে তদন্তের বিবরণ তুলে ধরা হয়েছে। সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফের খবর অনুযায়ী,
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৪ সালের নির্বাচনের আগে কিউল অভিযোগ করেছিলেন যে, ১৯৯৩ সালের নভেম্বরে ট্রাম্প তাকে যৌন হয়রানি করেছিলেন। এবার তিনি দাবি করেছেন যে, ওই ঘটনার সময় ট্রাম্প তাকে ধর্ষণও করেছিলেন।
হোয়াইট হাউস এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে। ট্রাম্পের একজন মুখপাত্র অভিযোগগুলোকে ‘উন্মত্ত ডেমোক্র্যাটদের মরিয়া চেষ্টা’ বলে বর্ণনা করেছেন। তার দাবি, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ঐতিহাসিক সাফল্যের কারণে রিপাবলিকানদের যে সমর্থন বাড়ছে, তা থেকে মার্কিন নাগরিকদের মনোযোগ সরাতেই এমন চেষ্টা করা হচ্ছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কয়েক সপ্তাহ ধরে ডেমোক্র্যাট কমিটির কর্মীদের সঙ্গে সাক্ষাৎকারে কিউল জানান, তার বয়স যখন ২৪ বছর, তখন নিউইয়র্কের প্লাজা হোটেলে একটি সুন্দরী প্রতিযোগিতার সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্পের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। সে সময় হোটেলটির মালিক ছিলেন ট্রাম্প।
কিউলের দাবি, ট্রাম্প তাকে ভিসার ব্যবস্থা করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। নিউইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয়ে (এনওয়াইইউ) ভর্তির ব্যবস্থা করে দিতে পারবেন বলেও জানিয়েছিলেন। প্রতিবেদনে তার বক্তব্য উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, ট্রাম্প তাকে বলেছিলেন, ‘আমি তোমার দেখভাল করব।’
কিউলের সঙ্গে কথা বলা শেষ করে ট্রাম্প সরে যাওয়ার পরপরই এপস্টেইন তার কাছে আসেন বলে দাবি করেন কিউল। এপস্টেইন নিজেকে ট্রাম্পের ‘সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ বন্ধু’ হিসেবে পরিচয় দেন এবং তাকে মার-আ-লাগোতে একটি পার্টিতে আমন্ত্রণ জানান। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এপস্টেইন তাকে বলেছিলেন, ‘আমরা ডনের সঙ্গে অনেক পার্টির আয়োজন করি।’
ট্রাম্পের দাবি, অপরাধের বিষয়ে সন্দেহ তৈরি হওয়ার অনেক আগেই এপস্টেইনের সঙ্গে তার বন্ধুত্বের অবসান হয়েছিল। এপস্টেইনকে তিনি বারবার ‘বিকৃত রুচির লোক’ বলে বর্ণনা করেছেন এবং দাবি করেছেন, তাকে মার-আ-লাগো ক্লাব থেকে তিনি বের করে দিয়েছিলেন।
ডেমোক্র্যাটদের প্রতিবেদনের দাবি অনুযায়ী, পরে ট্রাম্পের এক প্রতিনিধি কিউলকে প্লাজা হোটেলের ওপরের তলায় গিয়ে ভবিষ্যতে প্রেসিডেন্ট হওয়ার সম্ভাবনা থাকা ট্রাম্পের সঙ্গে দেখা করার আমন্ত্রণ জানান।
প্রতিবেদনে অভিযোগ করা হয়েছে, ‘সেখানে ঢোকার পর ট্রাম্প পেছন থেকে কিউলকে ধরে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন। এ সময় তার পোশাক ছিঁড়ে যায় এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে রক্তপাত ও কালশিটে দাগ দেখা দেয়।’
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, কিউল ধর্ষণের ঘটনাটিকে ‘নৃশংস’ বলে বর্ণনা করেছেন। তার অভিযোগ, ঘটনার পর ট্রাম্প তাকে বিছানার কিনারায় বসান এবং ভিসা ও নিউইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির ব্যবস্থা করে দেয়ার প্রতিশ্রুতি আবারও দেন। পাশাপাশি তাকে ঘটনা গোপন রাখার প্রতিশ্রুতি দিতে বলেন। প্রতিবেদনে ট্রাম্পের বক্তব্য হিসেবে উদ্ধৃত করা হয়েছে, ‘যা-ই ঘটুক, সবকিছু আগের মতো চলতে হবে।’
২০২৪ সালের অক্টোবরে প্রথম অভিযোগ করার সময় কিউল বলেছিলেন, ১৯৯৩ সালে প্লাজা হোটেলে ট্রাম্প তাকে যৌন হয়রানি করেছিলেন। তখন তিনি ডেইলি মেইলকে বলেছিলেন, ‘তিনি আমার ঠোঁটে ও ঘাড়ে চুমু দিয়েছিলেন। আমার পোশাক ওপরে তোলার চেষ্টা করেছিলেন। শরীরের যেখানেই পেরেছেন, আমাকে ধরেছেন ও স্পর্শ করেছেন।’
তবে কিউলের দাবি ছিল, ঘটনা এর চেয়ে বেশি দূর গড়ায়নি। তিনি বলেছিলেন, ‘আমি যথাসাধ্য চেষ্টা করেছিলাম। শেষ পর্যন্ত আমি বলেছিলাম, ‘আগে কথা বলি’ বা এ রকম কিছু। এরপর তিনি ধীর-স্থির হয়ে যান।’
ছয় ফুট এক ইঞ্চি উচ্চতার সাবেক এই মডেলের ধারণা, তার শারীরিক গড়নই তাকে রক্ষা করেছিল এবং কথিত হামলাটি আরও গুরুতর পর্যায়ে যেতে দেয়নি।
ডেইলি মেইল সেসময় আরও জানিয়েছিল, কিউলের দীর্ঘদিনের এক বন্ধু বলেছেন, ট্রাম্পের অনাকাঙ্ক্ষিত যৌন আচরণের কথা কিউল তাকে প্রথম জানিয়েছিলেন ২০ বছর আগে। বন্ধুটির দাবি, এত বছর পরও ঘটনাটি নিয়ে কিউলের বর্ণনায় কোনো পরিবর্তন আসেনি।
এদিকে ২০২৪ সালে কিউলের অভিযোগের পর ট্রাম্পের তৎকালীন প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট সেগুলোকে ‘মিথ্যা’ বলে বর্ণনা করেছিলেন। হোয়াইট হাউসের এক মুখপাত্র বলেছেন, এপস্টেইন-সংক্রান্ত যেকোনো বিষয়ে ট্রাম্পকে ‘সম্পূর্ণভাবে দায়মুক্ত করা হয়েছে’।
মুখপাত্র বলেন, ‘এই ‘প্রতিবেদন’ উন্মত্ত ডেমোক্র্যাটদের মরিয়া চেষ্টা ছাড়া আর কিছুই নয়। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ঐতিহাসিক সাফল্যের কারণে রিপাবলিকানদের যে সমর্থন বাড়ছে, তা থেকে মার্কিন নাগরিকদের মনোযোগ সরাতেই এই চেষ্টা।’
সম্প্রতি প্রকাশিত প্রতিবেদনে আরও চার নারীর বক্তব্যের সারসংক্ষেপ তুলে ধরা হয়েছে। ওই নারীরাও ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ধর্ষণ বা যৌন নিপীড়নের অভিযোগ করেছেন। প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়েছে, ট্রাম্প, এপস্টেইন ও অন্যরা প্লাজা হোটেলে আয়োজিত সুন্দরী প্রতিযোগিতাকে ‘শিকার খোঁজার ক্ষেত্র’ হিসেবে ব্যবহার করতেন, যাতে অসহায় তরুণী ও কিশোরীদের টার্গেট করা যায়।
প্রতিবেদন প্রকাশের সঙ্গে দেয়া এক বিবৃতিতে কমিটির জ্যেষ্ঠ সদস্য জেমি রাসকিন বলেন, ‘পাঁচ নারী সরাসরি অভিযোগ করেছেন, এপস্টেইনের সঙ্গে থাকা বা তার উপস্থিতিতে ট্রাম্প তাদের ধর্ষণ করেছেন কিংবা যৌন নিপীড়ন চালিয়েছেন। অন্য নারীরা জানিয়েছেন, এপস্টেইন বা ম্যাক্সওয়েল তাদের ট্রাম্পের কাছে পাচার করার চেষ্টা করেছিলেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘প্রেসিডেন্টকে রক্ষা করতে ট্রাম্পের বিচার বিভাগ এসব অপরাধ ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করছে বলে মনে হচ্ছে।’
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের মাত্র এক সপ্তাহ আগে প্রতিবেদনটি প্রকাশিত হলো। এপস্টেইন-সংক্রান্ত নথি নিয়ে ট্রাম্পের ভূমিকা, পাশাপাশি ইরানের সঙ্গে তার যুদ্ধের কারণে মূল্যস্ফীতি ও জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ার বিষয়গুলো রিপাবলিকান প্রার্থীদের জন্য রাজনৈতিক চাপ তৈরি করেছে। যদিও মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নিজে প্রার্থী নন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল গোপন বৈঠক করেছেন ভারতীয় গোয়েন্দা কর্মকর্তার সঙ্গে, এমন দাবি করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খান। এই দাবি তিনি সোমবার (২৬ অক্টোবর) ফেসবুক পোস্টের মাধ্যমে প্রকাশ করেছেন।
রাশেদ খানের বক্তব্য অনুযায়ী, ১৬ অক্টোবর রাজধানীর বারিধারায় ভারতীয় গোয়েন্দা কর্মকর্তার সঙ্গে জামায়াত নেতাদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে মিয়া গোলাম পরওয়ার এবং জামায়াত নেতা এ টি এম মাছুমও উপস্থিত ছিলেন।
ফেসবুক পোস্টে প্রধানমন্ত্রীর এই রাজনৈতিক সহকারী উল্লেখ করেন, ‘যারা সারা দিন ভারতের বিরুদ্ধে বক্তব্য রাখে, তারা কী কারণে, কোন স্বার্থে ভারতীয় এই গোয়েন্দা কর্মকর্তার সাথে গোপন বৈঠকে অংশগ্রহণ করেছে? কোনো ভারতীয় কূটনীতিকের সাথে বৈঠক করা, আর ভারতীয় উচ্চপর্যায়ের গোয়েন্দা কর্মকর্তার সাথে বৈঠক হওয়া এক জিনিস নয়।’
রাশেদ খান আরও বলেন, ‘মিয়া গোলাম পরওয়ার যদি নৈতিক রাজনীতি করে থাকে, আশা করি তিনি গোপন এই বৈঠকের বিষয়টি খোলাসা করবেন। অন্যথায় ধরেই নেওয়া হবে, রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে গভীর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে জামায়াত। এই ষড়যন্ত্রের প্রথম ফাঁদ হলো, আওয়ামী লীগকে সাথে নিয়ে জামায়াতের আন্দোলনের ছক!’
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
প্রতিষ্ঠার চার বছর পেরিয়ে গেলেও সুনামগঞ্জের মধ্যনগর উপজেলাবাসী অধিকাংশ সময়েই পাচ্ছেন ভারপ্রাপ্ত ও অতিরিক্ত দায়িত্বের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)। ২০২২ সালে আনুষ্ঠানিক প্রশাসনিক কার্যক্রম শুরু হওয়ার পর থেকেই উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ এই প্রশাসনিক পদটি ভারপ্রাপ্ত কিংবা অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার মাধ্যমে পরিচালিত হয়ে আসছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।
হাওর বেষ্টিত ৪ টি ইউনিয়নে প্রায় ১লক্ষ জনগোষ্ঠী নিয়ে নতুন উপজেলা হিসেবে মধ্যনগরে প্রশাসনিক কার্যক্রমের গুরুত্বপূর্ণ ইউএনও পদে নিয়মিত কর্মকর্তা না থাকায় বিভিন্ন সরকারি কার্যক্রমের সমন্বয়, নাগরিক সেবা, উন্নয়ন প্রকল্পের তদারকি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে নানা ধরনের জটিলতা তৈরি হচ্ছে যার ফলে দূর্নীতি ও লুটপাটের পরিসীমা বৃদ্ধি পাচ্ছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বর্তমানে অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত ধর্মপাশার ইউএনও ওপর একাধিক দায়িত্ব থাকায় মধ্যনগরের প্রশাসনিক কাজে তিনি সাপ্তাহে একদিন ( মঙ্গলবার) প্রত্যাশিত সময় ও মনোযোগ দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। ফলে সাধারণ মানুষকে বিভিন্ন সেবা নিতে ভোগান্তিতে পড়তে হয়।
তারা বলেন, মধ্যনগরকে একটি কার্যকর ও পূর্ণাঙ্গ উপজেলা হিসেবে গড়ে তুলতে হলে প্রথমেই প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতে নিয়মিত কর্মকর্তা নিয়োগ দিতে হবে। বিশেষ করে ইউএনও পদে দ্রুত একজন স্থায়ী কর্মকর্তা নিয়োগের দাবি দীর্ঘদিনের।
এ বিষয়ে স্থানীয় সচেতন মহল ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দ্রুত মধ্যনগর উপজেলায় একজন নিয়মিত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ গুরুত্বপূর্ণ পদসমূহে পদায়নের দাবি জানিয়েছেন।
তাদের প্রত্যাশা, ভারপ্রাপ্ত ও অতিরিক্ত দায়িত্বের দীর্ঘস্থায়ী ব্যবস্থা থেকে মধ্যনগরকে মুক্ত করে একজন পূর্ণকালীন ইউএনও নিয়োগের মাধ্যমে প্রশাসনিক কার্যক্রমে আরও গতিশীলতা ও সেবার ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করা হবে।
মধ্যনগর উপজেলা বি এন পির আহবায়ক আবে হায়াত জানান - আমরা আমাদের মাননীয় এম পি সাব ও সংশ্লিষ্ট উর্ধতন কতৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলব - দ্রুত মধ্যনগর উপজেলায় একজন স্হায়ী ইউএনও সহ সরকারি সকল দপ্তরে কর্মকর্তা নিয়োগ ও পদায়ন করে জনগণের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি দূর জোর দাবী জানাচ্ছি।
মধ্যনগর মাধ্যমিক, উচ্চ মাধ্যমিক ও মাদ্রাসা শিক্ষক সমিতির সভাপতি গোলাম জিলানী ও সেক্রেটারি আব্দুল কাদির মাস্টার বলেন -জন দুর্ভোগ লাঘবের জন্য দীর্ঘদিন আনন্দোলন সংগ্রাম করে আমরা ধর্মপাশা থেকে আলাদা হয়ে মধ্যনগর উপজেলা পেয়েছি, এখনোও যদি সেই দুর্ভোগেই লেগে তাকে এটা অত্যান্ত দুঃখের বিষয়। সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষের কাছে জোর দাবী দ্রুত স্হায়ী ইউএনও সহ সকল দপ্তর চালু করা হউক।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর উপজেলার রাধানগর ইউনিয়নের চারালডাঙা গ্রামে রাতের আঁধারে গোয়ালঘর থেকে একটি গরু চুরির ঘটনা ঘটেছে। পরবর্তীতে স্থানীয় লোকজনের সাহসিকতা এবং পুলিশের দ্রুত পদক্ষেপে চোরাই গরুসহ মাসুদ (৩০) নামের এক চোরকে আটক করা হয়েছে।
ঘটনা সূত্রে জানা যায়, গত রাত ১টা ৩০ মিনিটের দিকে চারালডাঙা গ্রামের কাজলের বাড়িতে হানা দেয় চোরেরা। ঘরের গোয়াল থেকে একটি গরু চুরি করে নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার সময় বিষয়টি টের পান বাড়ির লোকজন।
পরবর্তীতে চারদিকে খোঁজাখুঁজি শুরু হলে একপর্যায়ে আড্ডাবাজার এলাকায় চোরাই গরুসহ অভিযুক্ত চোর মাসুদকে হাতেনাতে আটক করেন স্থানীয়রা। খবর পেয়ে গোমস্তাপুর থানার এসআই মামুন সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। পরে পুলিশ ও স্থানীয় লোকজনের সহযোগিতায় চোরকে আটক করে থানায় নেওয়া হয় এবং উদ্ধার করা হয় চুরি যাওয়া গরুটিকে।
আটককৃত মাসুদ উপজেলার যাতাহারা বেলডাঙ্গা গ্রামের বাসিন্দা বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ইসরাইলের আসন্ন নির্বাচন সংক্রান্ত আলোচনা কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন সাবেক সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকোট। ৬৬ বছর বয়সী এই সাবেক জেনারেল বর্তমানে ‘ইয়াশার’ নামক একটি রাজনৈতিক দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার পর গঠিত ইসরাইলের যুদ্ধকালীন মন্ত্রিসভায় তিনি ছিলেন। তবে গাজায় যুদ্ধ পরিচালনা এবং যুদ্ধ শেষ করার কৌশল নিয়ে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে মতবিরোধের কারণে পরে মন্ত্রিসভা ত্যাগ করেন আইজেনকোট। বর্তমানে তিনি পেশাদার সরকার গঠন, সামরিক সেবা বাধ্যতামূলক করা এবং ৭ অক্টোবরের নিরাপত্তা ব্যর্থতা তদন্তে কমিশন গঠনের পক্ষে কথা বলছেন।
সেনাবাহিনী থেকে রাজনীতিতে
গাদি আইজেনকোট ২০১৫ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত ইসরাইলের সেনাপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এর আগে ২০০৮ সালে লেবাননের হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে ইসরাইলের সামরিক কৌশল নিয়ে তার বক্তব্য আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে আসে। তিনি ‘দাহিয়েহ ডকট্রিন’ নামে পরিচিত একটি সামরিক নীতির কথা প্রকাশ্যে তুলে ধরেন। এই নীতিতে হিজবুল্লাহ ও হামাসের বিরুদ্ধে ‘অনুপাতহীন শক্তি’ প্রয়োগ এবং বেসামরিক অবকাঠামো ব্যাপকভাবে ধ্বংস করার ধারণা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
২০২২ সালে বেনি গান্টজের নেতৃত্বাধীন ন্যাশনাল ইউনিটি জোটের মাধ্যমে রাজনীতিতে প্রবেশ করেন আইজেনকোট। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার পর নেতানিয়াহুর যুদ্ধকালীন মন্ত্রিসভায় যোগ দেন তিনি। কিন্তু যুদ্ধের লক্ষ্য ও তা শেষ করার পরিকল্পনা নিয়ে নেতানিয়াহুর সঙ্গে তার মতবিরোধ দেখা দেয়।
২০২৪ সালের জুনে বেনি গান্টজের সঙ্গে তিনিও যুদ্ধকালীন মন্ত্রিসভা ছাড়েন। আইজেনকোটের অভিযোগ ছিল যে, যুদ্ধ শেষ করার বিষয়ে নেতানিয়াহু সরকারের কোনো সুস্পষ্ট কৌশল নেই।
ব্যক্তিগত ক্ষতি ও জনসমর্থনের প্রশ্ন
গাজায় যুদ্ধ চলাকালীন আইজেনকোটের পরিবারেও বড় ধরনের ক্ষতি হয়েছে। ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে গাজায় যুদ্ধে তার ২৫ বছর বয়সী ছেলে গাল নিহত হন। একই মাসে তার এক ভাতিজাও নিহত হন। ২০২৪ সালের নভেম্বরে গাজায় অংশ নেওয়ার সময় আরেক ভাতিজার মৃত্যু ঘটে। যুদ্ধের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সঙ্গে তার এই ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা তাকে ভোটারদের একাংশের কাছে আরো পরিচিত করে তুলেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
নতুন দলের লক্ষ্য
যুদ্ধকালীন মন্ত্রিসভা ছাড়ার প্রায় এক বছর পর আইজেনকোট ‘ইয়াশার’ নামে নতুন রাজনৈতিক দল গঠন করেন। তার ঘোষিত লক্ষ্যগুলোর মধ্যে রয়েছে পেশাদার সরকার প্রতিষ্ঠা, অতি-ধর্মীয় ইহুদিদেরসহ সবার জন্য সামরিক সেবা বাধ্যতামূলক করা এবং ৭ অক্টোবরের হামলার আগে নিরাপত্তাব্যবস্থার ব্যর্থতা তদন্তে রাষ্ট্রীয় কমিশন গঠন।
পররাষ্ট্রনীতির অনেক বিষয়ে তার অবস্থান এখনো স্পষ্ট নয়। তবে যুদ্ধের লক্ষ্য অর্জনে ইসরাইল সরকারের যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরতার সমালোচনা করেছেন তিনি। একই সঙ্গে, যুদ্ধের লক্ষ্য নিয়ে প্রশ্ন না তুলে যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তার ওপর নির্ভর করার বিষয়টিও তার সমালোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে।
নির্বাচনের পর সরকার গঠনের ক্ষেত্রে আরব নেতৃত্বাধীন দলগুলোকে জোটে নেওয়ার সম্ভাবনাও নাকচ করেছেন আইজেনকোট। ফলে তার রাজনৈতিক অবস্থান ও ভবিষ্যৎ জোটের প্রশ্ন ইসরাইলের নির্বাচনি আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
এএম
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ