ঢাকা মঙ্গলবার, ২৭শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১১ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৬ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২৭শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১১ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

ভারপ্রাপ্ত ও অতিরিক্ত দায়িত্বের কবল থেকে মুক্তি চায় উপজেলাবাসী


ভারপ্রাপ্ত ও অতিরিক্ত দায়িত্বের কবল থেকে মুক্তি চায় উপজেলাবাসী

প্রতিষ্ঠার চার বছর পেরিয়ে গেলেও সুনামগঞ্জের মধ্যনগর উপজেলাবাসী অধিকাংশ সময়েই পাচ্ছেন ভারপ্রাপ্ত ও অতিরিক্ত দায়িত্বের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)। ২০২২ সালে আনুষ্ঠানিক প্রশাসনিক কার্যক্রম শুরু হওয়ার পর থেকেই উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ এই প্রশাসনিক পদটি ভারপ্রাপ্ত কিংবা অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার মাধ্যমে পরিচালিত হয়ে আসছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।

হাওর বেষ্টিত ৪ টি ইউনিয়নে প্রায় ১লক্ষ জনগোষ্ঠী নিয়ে নতুন উপজেলা হিসেবে মধ্যনগরে প্রশাসনিক কার্যক্রমের গুরুত্বপূর্ণ ইউএনও পদে নিয়মিত কর্মকর্তা না থাকায় বিভিন্ন সরকারি কার্যক্রমের সমন্বয়, নাগরিক সেবা, উন্নয়ন প্রকল্পের তদারকি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে নানা ধরনের জটিলতা তৈরি হচ্ছে যার ফলে দূর্নীতি ও লুটপাটের পরিসীমা বৃদ্ধি পাচ্ছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বর্তমানে অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত ধর্মপাশার ইউএনও ওপর একাধিক দায়িত্ব থাকায় মধ্যনগরের প্রশাসনিক কাজে তিনি সাপ্তাহে একদিন ( মঙ্গলবার) প্রত্যাশিত সময় ও মনোযোগ দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। ফলে সাধারণ মানুষকে বিভিন্ন সেবা নিতে ভোগান্তিতে পড়তে হয়।
তারা বলেন, মধ্যনগরকে একটি কার্যকর ও পূর্ণাঙ্গ উপজেলা হিসেবে গড়ে তুলতে হলে প্রথমেই প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতে নিয়মিত কর্মকর্তা নিয়োগ দিতে হবে। বিশেষ করে ইউএনও পদে দ্রুত একজন স্থায়ী কর্মকর্তা নিয়োগের দাবি দীর্ঘদিনের।
এ বিষয়ে স্থানীয় সচেতন মহল ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দ্রুত মধ্যনগর উপজেলায় একজন নিয়মিত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ গুরুত্বপূর্ণ পদসমূহে পদায়নের দাবি জানিয়েছেন।
তাদের প্রত্যাশা, ভারপ্রাপ্ত ও অতিরিক্ত দায়িত্বের দীর্ঘস্থায়ী ব্যবস্থা থেকে মধ্যনগরকে মুক্ত করে একজন পূর্ণকালীন ইউএনও নিয়োগের মাধ্যমে প্রশাসনিক কার্যক্রমে আরও গতিশীলতা ও সেবার ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করা হবে।
মধ্যনগর উপজেলা বি এন পির আহবায়ক আবে হায়াত জানান - আমরা আমাদের মাননীয় এম পি সাব ও সংশ্লিষ্ট উর্ধতন কতৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলব - দ্রুত মধ্যনগর উপজেলায় একজন স্হায়ী ইউএনও সহ সরকারি সকল দপ্তরে কর্মকর্তা নিয়োগ ও পদায়ন করে জনগণের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি দূর জোর দাবী জানাচ্ছি।

আরও পড়ুন: মুন্সীগঞ্জে পিস্তল-গুলি ও চাইনিজ কুড়ালসহ সাদ্দাম মাঝি গ্রেপ্তার

মধ্যনগর মাধ্যমিক, উচ্চ মাধ্যমিক ও মাদ্রাসা শিক্ষক সমিতির সভাপতি গোলাম জিলানী ও সেক্রেটারি আব্দুল কাদির মাস্টার বলেন -জন দুর্ভোগ লাঘবের জন্য দীর্ঘদিন আনন্দোলন সংগ্রাম করে আমরা ধর্মপাশা থেকে আলাদা হয়ে মধ্যনগর উপজেলা পেয়েছি, এখনোও যদি সেই দুর্ভোগেই লেগে তাকে এটা অত্যান্ত দুঃখের বিষয়। সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষের কাছে জোর দাবী দ্রুত স্হায়ী ইউএনও সহ সকল দপ্তর চালু করা হউক।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

গোমস্তাপুরে রাতে গোয়াল থেকে গরু চুরি, আড্ডাবাজারে হাতেনাতে আটক চোর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মোঃ শাহিন,চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি

মঙ্গলবার, ২৭শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০১:১৮ পি.এম


গোমস্তাপুরে রাতে গোয়াল থেকে গরু চুরি, আড্ডাবাজারে হাতেনাতে আটক চোর

চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর উপজেলার রাধানগর ইউনিয়নের চারালডাঙা গ্রামে রাতের আঁধারে গোয়ালঘর থেকে একটি গরু চুরির ঘটনা ঘটেছে। পরবর্তীতে স্থানীয় লোকজনের সাহসিকতা এবং পুলিশের দ্রুত পদক্ষেপে চোরাই গরুসহ মাসুদ (৩০) নামের এক চোরকে আটক করা হয়েছে।

ঘটনা সূত্রে জানা যায়, গত রাত ১টা ৩০ মিনিটের দিকে চারালডাঙা গ্রামের কাজলের বাড়িতে হানা দেয় চোরেরা। ঘরের গোয়াল থেকে একটি গরু চুরি করে নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার সময় বিষয়টি টের পান বাড়ির লোকজন।

পরবর্তীতে চারদিকে খোঁজাখুঁজি শুরু হলে একপর্যায়ে আড্ডাবাজার এলাকায় চোরাই গরুসহ অভিযুক্ত চোর মাসুদকে হাতেনাতে আটক করেন স্থানীয়রা। খবর পেয়ে গোমস্তাপুর থানার এসআই মামুন সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। পরে পুলিশ ও স্থানীয় লোকজনের সহযোগিতায় চোরকে আটক করে থানায় নেওয়া হয় এবং উদ্ধার করা হয় চুরি যাওয়া গরুটিকে।

আটককৃত মাসুদ উপজেলার যাতাহারা বেলডাঙ্গা গ্রামের বাসিন্দা বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ইসরাইলের নির্বাচন ঘিরে আলোচনায় আসা গাদি আইজেনকোট

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২৭শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০১:৪১ পি.এম


ইসরাইলের নির্বাচন ঘিরে আলোচনায় আসা গাদি আইজেনকোট

ইসরাইলের আসন্ন নির্বাচন সংক্রান্ত আলোচনা কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন সাবেক সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকোট। ৬৬ বছর বয়সী এই সাবেক জেনারেল বর্তমানে ‘ইয়াশার’ নামক একটি রাজনৈতিক দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার পর গঠিত ইসরাইলের যুদ্ধকালীন মন্ত্রিসভায় তিনি ছিলেন। তবে গাজায় যুদ্ধ পরিচালনা এবং যুদ্ধ শেষ করার কৌশল নিয়ে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে মতবিরোধের কারণে পরে মন্ত্রিসভা ত্যাগ করেন আইজেনকোট। বর্তমানে তিনি পেশাদার সরকার গঠন, সামরিক সেবা বাধ্যতামূলক করা এবং ৭ অক্টোবরের নিরাপত্তা ব্যর্থতা তদন্তে কমিশন গঠনের পক্ষে কথা বলছেন।

সেনাবাহিনী থেকে রাজনীতিতে

গাদি আইজেনকোট ২০১৫ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত ইসরাইলের সেনাপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এর আগে ২০০৮ সালে লেবাননের হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে ইসরাইলের সামরিক কৌশল নিয়ে তার বক্তব্য আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে আসে। তিনি ‘দাহিয়েহ ডকট্রিন’ নামে পরিচিত একটি সামরিক নীতির কথা প্রকাশ্যে তুলে ধরেন। এই নীতিতে হিজবুল্লাহ ও হামাসের বিরুদ্ধে ‘অনুপাতহীন শক্তি’ প্রয়োগ এবং বেসামরিক অবকাঠামো ব্যাপকভাবে ধ্বংস করার ধারণা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

২০২২ সালে বেনি গান্টজের নেতৃত্বাধীন ন্যাশনাল ইউনিটি জোটের মাধ্যমে রাজনীতিতে প্রবেশ করেন আইজেনকোট। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার পর নেতানিয়াহুর যুদ্ধকালীন মন্ত্রিসভায় যোগ দেন তিনি। কিন্তু যুদ্ধের লক্ষ্য ও তা শেষ করার পরিকল্পনা নিয়ে নেতানিয়াহুর সঙ্গে তার মতবিরোধ দেখা দেয়।

২০২৪ সালের জুনে বেনি গান্টজের সঙ্গে তিনিও যুদ্ধকালীন মন্ত্রিসভা ছাড়েন। আইজেনকোটের অভিযোগ ছিল যে, যুদ্ধ শেষ করার বিষয়ে নেতানিয়াহু সরকারের কোনো সুস্পষ্ট কৌশল নেই।

ব্যক্তিগত ক্ষতি ও জনসমর্থনের প্রশ্ন

গাজায় যুদ্ধ চলাকালীন আইজেনকোটের পরিবারেও বড় ধরনের ক্ষতি হয়েছে। ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে গাজায় যুদ্ধে তার ২৫ বছর বয়সী ছেলে গাল নিহত হন। একই মাসে তার এক ভাতিজাও নিহত হন। ২০২৪ সালের নভেম্বরে গাজায় অংশ নেওয়ার সময় আরেক ভাতিজার মৃত্যু ঘটে। যুদ্ধের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সঙ্গে তার এই ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা তাকে ভোটারদের একাংশের কাছে আরো পরিচিত করে তুলেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

নতুন দলের লক্ষ্য

যুদ্ধকালীন মন্ত্রিসভা ছাড়ার প্রায় এক বছর পর আইজেনকোট ‘ইয়াশার’ নামে নতুন রাজনৈতিক দল গঠন করেন। তার ঘোষিত লক্ষ্যগুলোর মধ্যে রয়েছে পেশাদার সরকার প্রতিষ্ঠা, অতি-ধর্মীয় ইহুদিদেরসহ সবার জন্য সামরিক সেবা বাধ্যতামূলক করা এবং ৭ অক্টোবরের হামলার আগে নিরাপত্তাব্যবস্থার ব্যর্থতা তদন্তে রাষ্ট্রীয় কমিশন গঠন।

পররাষ্ট্রনীতির অনেক বিষয়ে তার অবস্থান এখনো স্পষ্ট নয়। তবে যুদ্ধের লক্ষ্য অর্জনে ইসরাইল সরকারের যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরতার সমালোচনা করেছেন তিনি। একই সঙ্গে, যুদ্ধের লক্ষ্য নিয়ে প্রশ্ন না তুলে যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তার ওপর নির্ভর করার বিষয়টিও তার সমালোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে।

নির্বাচনের পর সরকার গঠনের ক্ষেত্রে আরব নেতৃত্বাধীন দলগুলোকে জোটে নেওয়ার সম্ভাবনাও নাকচ করেছেন আইজেনকোট। ফলে তার রাজনৈতিক অবস্থান ও ভবিষ্যৎ জোটের প্রশ্ন ইসরাইলের নির্বাচনি আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

এএম

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

চকরিয়ায় আন্তঃনগর ট্রেনের যাত্রাবিরতির দাবিতে মানববন্ধন, উত্তাল রেলস্টেশন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২৭শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০১:৪২ পি.এম


চকরিয়ায় আন্তঃনগর ট্রেনের যাত্রাবিরতির দাবিতে মানববন্ধন, উত্তাল রেলস্টেশন

কক্সবাজার-ঢাকা রেলপথ চালুর পর থেকে রেলে ভ্রমণের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন পূরণ হলেও, কাঙ্ক্ষিত সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন কক্সবাজারের চকরিয়া ও আশপাশের অন্তত ৭টি উপজেলার কয়েক লাখ মানুষ। চকরিয়া রেলস্টেশনে আন্তঃনগর ট্রেনের যাত্রাবিরতি এবং স্থানীয় যাত্রীদের জন্য নির্দিষ্ট আসন বরাদ্দের দাবিতে ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন সর্বস্তরের জনসাধারণ। মঙ্গলবার সকালে চকরিয়া রেলস্টেশন চত্বরে আয়োজিত এক বিশাল মানববন্ধনে উপস্থিত হাজারো মানুষ 'মহানগর এক্সপ্রেস' সহ সকল আন্তঃনগর ট্রেনের অবিলম্বে যাত্রাবিরতির জোর দাবি জানান।

মানববন্ধনে বক্তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, চকরিয়া, পেকুয়া, কুতুবদিয়া, মাতামুহুরী, মহেশখালী, পার্বত্য অঞ্চলের লামা ও আলীকদম উপজেলাসহ আশপাশের ৭টি উপজেলার বিপুলসংখ্যক মানুষ প্রতিদিন শিক্ষা, জরুরি চিকিৎসা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও প্রশাসনিক কাজের জন্য ঢাকা, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে যাতায়াত করেন। অথচ চকরিয়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ স্টেশনে আন্তঃনগর ট্রেন না থামায় চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। রেলে চড়তে মানুষকে এখন বাধ্য হয়ে ৬০ কিলোমিটার ঘুরে বিকল্প পথে কয়েক গুণ বেশি ভাড়া ও সময় ব্যয় করে দূরবর্তী কক্সবাজার রেলস্টেশনে যেতে হচ্ছে, যা রেলসেবার মূল উদ্দেশ্যকেই ব্যাহত করছে।

আন্দোলনকারীদের স্পষ্ট দাবি—অবিলম্বে চকরিয়া রেলস্টেশনে আন্তঃনগর ট্রেনের যাত্রাবিরতি নিশ্চিত করতে হবে এবং সাত উপজেলার বিপুল জনসংখ্যার কথা বিবেচনায় রেখে প্রয়োজনীয় আসন বরাদ্দ রাখতে হবে। এতে করে এই বিশাল জনগোষ্ঠীর যাতায়াত সাশ্রয়ী, সহজ ও নিরাপদ হবে।

মানববন্ধনের সাথে একাত্মতা প্রকাশ করে কক্সবাজার জেলা বিএনপির দপ্তর সম্পাদক ও মাতামুহুরী উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি ইউসুফ বদরী বলেন, "চকরিয়ায় 'মহানগর এক্সপ্রেস'-এর মতো গুরুত্বপূর্ণ ট্রেন না থামা মানেই পুরো অঞ্চলের লাখ লাখ মানুষকে আধুনিক রেলসেবা থেকে বঞ্চিত রাখা। আমরা জনস্বার্থে অনতিবিলম্বে এখানে যাত্রাবিরতি বাস্তবায়নে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সরাসরি হস্তক্ষেপ কামনা করছি। দাবি মেনে নেওয়া না হলে আগামীতে আরও কঠোর ও বৃহত্তর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।"

মানববন্ধনের অন্যতম উদ্যোক্তা মাতামুহুরী উপজেলা যুবদল নেতা মামুনুর রশীদ বলেন, "এটি কোনো রাজনৈতিক দাবি নয়, এটি পুরো চকরিয়াবাসীর অস্তিত্ব ও অধিকারের দাবি। চকরিয়ায় ট্রেন থামলে এ অঞ্চলের মানুষের যাতায়াতে এক যুগান্তকারী পরিবর্তন আসবে। তাই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আমরা দ্রুত ইতিবাচক পদক্ষেপের আহ্বান জানাচ্ছি।"

এদিকে, মানববন্ধনের খবর পেয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে মঙ্গলবার সকাল থেকেই চকরিয়া রেলস্টেশনে কঠোর নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। কক্সবাজার রেলওয়ে পুলিশের জিআরপি ক্যাম্পের ইনচার্জ মোস্তাফিজুর রহমানের নেতৃত্বে পুলিশ, চকরিয়া থানা পুলিশ, গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা সতর্ক অবস্থানে ছিলেন।

রেলওয়ে পুলিশ কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান জানান, "সাধারণ মানুষের শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের প্রতি আমাদের পূর্ণ সম্মান রয়েছে। তবে রেলওয়ের কোনো সম্পদ যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হয় এবং কোনো বিশৃঙ্খলা না ঘটে, সে বিষয়ে পুলিশ কঠোর নজরদারিতে রয়েছে।"

রেলস্টেশনের সার্বিক অবস্থা নিয়ে চকরিয়া রেলস্টেশনের স্টেশনমাস্টার মোহাম্মদ আবদুল মন্নান বলেন, "আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়েই বেলা সাড়ে ১১টার দিকে কক্সবাজার থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী 'মহানগর এক্সপ্রেস' ট্রেনটি চকরিয়া স্টেশন অতিক্রম করে। কোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ছাড়াই কর্মসূচি শেষ হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রাঙ্গামাটি সড়কে খেজুরগাছের নতুন রূপ, পানি দিলে বাঁচবে চারাগুলো

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২৭শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০১:৪২ পি.এম


রাঙ্গামাটি সড়কে খেজুরগাছের নতুন রূপ, পানি দিলে বাঁচবে চারাগুলো

চট্টগ্রাম-রাঙ্গামাটি সড়কের রাউজান অংশে সড়ক-দ্বীপে রোপিত খেজুরগাছগুলো ডালপালা মেলে অপূর্ব সৌন্দর্য ছড়িয়ে দিচ্ছে। স্থানীয়দের মতে, নিয়মিত পানি ছিটালে এসব চারাগাছের প্রাণ রক্ষা সম্ভব হবে। 'মানুষ যে' নামের একটি সংগঠনের তরুণরা নিজেদের উদ্যোগে বারবার পরিষ্কার করে চারাগুলোর পরিচর্যা করে আসছেন। গত ১৯ সেপ্টেম্বর জলিল নগর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় চারা পরিষ্কার করতে দেখা যায় ওই স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের একদল তরুণকে।

চট্টগ্রাম-রাঙ্গামাটি সড়কের মুন্সিরঘাটা থেকে রাউজান মডেল মসজিদ পর্যন্ত চারাগাছগুলো নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করার কারণে সড়কের রূপ অনেকটাই বদলে গেছে। সংগঠনটির উদ্যোগে যুবকরা কিছুদিন পর পর যত্ন নেওয়ায় প্রায় মৃত অবস্থা থেকে চারাগুলো নতুন প্রাণ ফিরে পেয়েছে।

গর্জনিয়া রহমানিয়া ফাজিল মাদ্রাসার শিক্ষক ও প্রতিষ্ঠানটির প্রাক্তন ছাত্র পরিষদের নবনির্বাচিত সচিব তরুণ আলেম শায়ের মাছুমুর রশিদ কাদেরী জানান, খেজুরগাছ অত্যন্ত উপকারী। এর পাতা দিয়ে টেকসই পাটি, হাতপাখা, ঝুড়ি, চালনি ও বিভিন্ন শৌখিন হস্তশিল্প তৈরি করা যায়। গ্রামীণ এলাকায় গরিব ও প্রান্তিক মানুষ ঘরের চাল বা ছাদ ঢাকতে এবং বেড়া তৈরিতে শুকানো খেজুর পাতা ও ডাল ব্যবহার করে থাকেন। তিনি আরও বলেন, ইসলামের ইতিহাসে প্রথম পবিত্র কোরআন শরিফের কিছু অংশ খেজুরগাছের পাতায় লেখা হয়েছিল। তা ছাড়া মানুষ মারা গেলে কবরের ওপর একটি ডাল দেওয়া রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সুন্নাত। তাই অতি জরুরি এসব খেজুর চারা যারা রক্ষণাবেক্ষণ করবেন, তাঁরা সওয়াবের অংশীদার হবেন।

জানা গেছে, ২০২২ সালের এপ্রিলে চট্টগ্রাম-রাঙ্গামাটি নতুন চার লেন সড়কের রাউজান অংশে সড়ক-দ্বীপে রোপণ করা হয় বিদেশি জাতের ৬০০টি খেজুরগাছ। প্রথম পর্যায়ে পৌর এলাকার মুন্সিরঘাটা থেকে চারাবটতল এলাকা পর্যন্ত প্রায় দুই কিলোমিটার অংশে এসব চারা রোপণ করা হয়। পরবর্তীতে ২০২৪ সালে সড়কের পশ্চিম গহিরা এলাকায় আরও শতাধিক খেজুরগাছ রোপণ করা হয়। প্রথমে রাউজান পৌরসভা এসব গাছের পরিচর্যা, সার ও পানি দেওয়ার মাধ্যমে রক্ষণাবেক্ষণ করত। তবে ৫ আগস্টের পর থেকে পৌর কর্তৃপক্ষের এই কার্যক্রম একদম বন্ধ হয়ে যায়। ২০২৪ সালের অক্টোবর-নভেম্বরে পানির অভাবে অনেক গাছ শুকিয়ে মরেও গিয়েছিল।

বর্তমানে সড়ক-দ্বীপে মাত্র ২০ ইঞ্চি মাটির গভীরতা এবং নিচে ঢালাই থাকায় গাছের শিকড় পানিযুক্ত মাটিতে ঢুকতে পারছে না। চলতি মৌসুমে বৃষ্টি না থাকায় গাছগুলো চরম ঝুঁকিতে পড়েছে। তবে বিকল্প উপায়ে পানি দিলে গাছগুলোতে নতুন করে প্রাণ সঞ্চার হবে।

স্থানীয়রা জানান, আরবের দেশগুলোর মতো সড়ক-দ্বীপে খেজুরগাছ রোপণ করার বিষয়টি নিয়ে এলাকার মানুষ বেশ উচ্ছ্বসিত ছিলেন। ইতিমধ্যে কিছু গাছে অল্প অল্প ফলও এসেছে। তাই দেশের সম্পদ হিসেবে গাছগুলো বাঁচিয়ে রাখা দরকার।

'মানুষ যে' সংগঠনের সভাপতি নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেন, আমাদের সংগঠনের তরুণরা নিজ উদ্যোগে অনেকবার খেজুরগাছগুলো পরিষ্কার করেছেন। গত দুই বছর ধরে পরম যত্নে আমরা গাছগুলো বাঁচানোর চেষ্টা করছি। গাছগুলো সড়কের শোভা বাড়ানোর পাশাপাশি পরিবেশ রক্ষায় ভূমিকা রাখছে। ইনশাআল্লাহ ভবিষ্যতেও আমাদের সংগঠন এসব খেজুরগাছ রক্ষণাবেক্ষণ করবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৬ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৫
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২৩
ইশা ০৬:৩৫
সূর্যোদয় : ০৬:০১ সূর্যাস্ত : ০৫:২৩
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%