সোমবার, ২৮শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৪:৫৭ পি.এম
হামের উপসর্গে সারাদেশে (রোববার সকাল ৮টা থেকে সোমবার সকাল ৮টা পর্যন্ত) গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে সন্দেহ ও নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়েছেন ১ হাজার ৩১০ জন।
স্বাস্থ্য অধিদফতরের হাম বিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদনে সোমবার বিকেলে এ তথ্য জানানো হয়।
প্রতিবেদন অনুযায়ী—চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত মোট সন্দেহজনক হাম রোগে মৃত্যুর সংখ্যা ৯৯৮ জন এবং নিশ্চিত হাম রোগে মৃত্যুর সংখ্যা ১০১ জন।
১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত দেশের হাসপাতালগুলোয় মোট ১ লাখ ৬৭ হাজার ৪৬৯ জন হামের উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হয়েছেন। তাদের মধ্যে এখন পর্যন্ত মোট ১ লাখ ৬০ হাজার ৭০৫ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না দেশের বিভিন্ন স্থানে খুন, ধর্ষণ, হামলা, গ্রেপ্তার ও মানুষের নিরাপত্তাহীনতার ঘটনা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তার মতে, গণঅভ্যুত্থানের পর যে পরিবর্তনের প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল, বর্তমান পরিস্থিতি তার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
সোমবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে নাগরিক ঐক্য আয়োজিত ‘রাষ্ট্র সংস্কার এবং সংবিধান বিতর্ক’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এসব মন্তব্য করেন।
মান্না জানান, রাষ্ট্র সংস্কারের কথা বলা হলেও বাস্তবে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যাচ্ছে না। তার ভাষায়, দেশের বিভিন্ন জায়গায় এখন ‘অত্যাচারের উৎসব’ চলছে। শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে সাধারণ নাগরিক—কেউই নিরাপত্তার বাইরে নয়।
সালমান মুক্তাদিরের একটি ভিডিওর প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সম্প্রতি তার স্টুডিও ভাঙচুরের ঘটনায় একটি পরিবারের পাশাপাশি সেখানে কর্মরত ব্যক্তিদের ভবিষ্যৎ নিয়েও প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। মান্নার ভাষ্য, স্টুডিওটি পুনর্নির্মাণের সামর্থ্য মালিকের থাকলেও সেখানে কর্মরত ব্যক্তিদের জীবিকা কী হবে, সেটিও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।
একইভাবে একটি বাড়ি ভেঙে দেওয়ার ঘটনার কথা উল্লেখ করে মান্না বলেন, সেখানে এক মা ভয়ে ঘর থেকে বের হতে পারছেন না বলে জানিয়েছেন। গণঅভ্যুত্থানের পর এমন পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার কথা ছিল কি না—এ প্রশ্ন তোলেন তিনি।
নিজ দলের এক নেতার গ্রেপ্তারের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন নাগরিক ঐক্যের সভাপতি। তিনি জানান, শিবগঞ্জ উপজেলা নাগরিক ঐক্যের সেক্রেটারিকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। বিষয়টি জানতে পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তাকে জানানো হয়, পুলিশের কাছে কোনো মামলা নেই; আদালতে মামলা হয়েছে। পরে ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে জামিন না হওয়ার পাশাপাশি জজকোর্টও কয়েক দিন বসেনি বলে অভিযোগ করেন তিনি।
এ পরিস্থিতিকে বিচারিক প্রক্রিয়া নিয়ে উদ্বেগজনক বলে উল্লেখ করে মান্না প্রশ্ন তোলেন, একজন রাজনৈতিক নেতাকে গ্রেপ্তার করার পর মামলার কপি না দেওয়া এবং আদালতের কার্যক্রম না চলার বিষয়টি কীভাবে গ্রহণযোগ্য হতে পারে।
দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির পাশাপাশি দ্রব্যমূল্য নিয়েও সরকারের সমালোচনা করেন তিনি। তার অভিযোগ, বিভিন্ন পণ্যের দাম বাড়লেও সাধারণ মানুষের আয় ও জীবনযাত্রার চাপ কমছে না। জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর বিষয়েও তিনি প্রশ্ন তোলেন।
মান্না বলেন, এসব বিষয়ে কথা বললে কেউ কেউ তাকে বিএনপির বিরোধিতাকারী হিসেবে দেখাতে পারেন। তবে তার দাবি, তিনি কোনো দলের বিরুদ্ধে অবস্থান নিচ্ছেন না; বরং দেশের পরিস্থিতি নিয়ে সত্য কথাই বলছেন। বিএনপি ব্যর্থ হলে দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে উল্লেখ করে তিনি দলটির সফলতাও কামনা করেন।
রাষ্ট্র সংস্কারের বিষয়ে মান্না বলেন, এমন একটি রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রয়োজন যেখানে গণতন্ত্র ও সংবিধানের কার্যকর বাস্তবায়ন নিশ্চিত হবে। ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ না হলে ভবিষ্যতে আবারও স্বৈরতান্ত্রিক প্রবণতা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
গণভোট ও সংবিধান সংস্কারের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, গণভোটের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সংবিধান পরিষদ গঠনের কথা ছিল। সংবিধানের তত্ত্বাবধায়ক হিসেবে সুপ্রিম কোর্টের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিনের পক্ষ থেকে আরেকটি গণভোটের প্রয়োজন হতে পারে—এমন বক্তব্য এসেছে বলেও উল্লেখ করেন মান্না।
বিএনপির প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, রাজনৈতিকভাবে ‘গায়ের জোরে’ কোনো সিদ্ধান্ত না নিয়ে সব পক্ষকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করা প্রয়োজন। পত্রিকার সম্পাদকদের সঙ্গে কাজ করার যে কথা বলা হয়েছিল, সেটিও বাস্তবায়নের আহ্বান জানান তিনি।
আলোচনা সভায় নাগরিক ঐক্যের সেক্রেটারি শহিদুল্লাহ কায়সার, প্রেসিডিয়াম সদস্য জিল্লুর চৌধুরী দীপু ও দেলোয়ার হোসেন রাজাসহ দলের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগের অনুসন্ধান শুরুর প্রেক্ষাপটে প্রেস ব্রিফিংয়ের মাধ্যমে ‘প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে’ বলে যে বক্তব্য প্রদান করা হয়েছে এবং গণমাধ্যমে তা প্রচারের বৈধতা নিয়ে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেছেন আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। তিনি ২৪-এর গণ অভ্যুত্থানের অন্যতম সমন্বয়ক, সাবেক অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) হাইকোর্ট বিভাগের সংশ্লিষ্ট শাখায় (রিট পিটিশন নং ১৩৮৮৫/২০২৬) আসিফ মাহমুদের পক্ষে আইনজীবী অ্যাডভোকেট জহিরুল ইসলাম মূসা এই রিট দায়ের করেন। রিটে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান, কমিশনের উপ-পরিচালক (জনসংযোগ কর্মকর্তা) এবং সহকারী পরিচালককে (জনসংযোগ কর্মকর্তা) বিবাদী করা হয়েছে।
আইনজীবী জানান, গত ২ সেপ্টেম্বর এবং ১৩ সেপ্টেম্বর দুদক কর্তৃক অনুষ্ঠিত প্রেস ব্রিফিংয়ের আইনি কর্তৃত্বকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে এই রিট দায়ের করা হয়েছে। রিটে তিনটি প্রধান বিষয়ে আদালতের নির্দেশনা ও প্রতিকার চাওয়া হয়েছে। প্রথমত, অনুসন্ধান বা তদন্ত শুরু হওয়ার সিদ্ধান্ত জানিয়ে সংবাদ সম্মেলনে আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও মানি লন্ডারিংয়ের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার যে বক্তব্য দেওয়া হয়েছে, তার আইনগত কর্তৃত্বকে চ্যালেঞ্জ করে কেন তা বেআইনি ও আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না, সেই মর্মে রুল জারির আবেদন জানানো হয়েছে।
দ্বিতীয়ত, রুল বিচারাধীন থাকা অবস্থায় আসিফ মাহমুদ বা অন্য কোনো নাগরিকের বিরুদ্ধে তদন্ত বা অনুসন্ধান চলাকালীন প্রেস ব্রিফিং করে সম্মানহানি, প্রোপাগান্ডা কিংবা ‘মিডিয়া ট্রায়াল’ পরিচালনা থেকে বিরত রাখতে দুদক ও সংশ্লিষ্টদের ওপর নির্দেশনার আবেদন করা হয়েছে।
তৃতীয়ত, আইনজীবী উল্লেখ করেন যে, সংবাদ সম্মেলনে জনসমক্ষে আসিফ মাহমুদের মর্যাদা ও সুনামের অপূরণীয় ক্ষতি করা হয়েছে, সেই কারণে একই গুরুত্ব ও প্রচার দিয়ে দুদককে পুনরায় প্রেস ব্রিফিং করে ভুল স্বীকার করার নির্দেশ চাওয়া হয়েছে। এতে তদন্ত শেষ হওয়ার আগে কাউকে অভিযুক্ত করার বা প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার দাবি করার মতো যে আইনি কর্তৃত্ব দুদকের নেই—তা স্পষ্ট করে জনসমক্ষে ক্ষমা চাওয়ার আবেদন জানানো হয়।
রিট আবেদনে উল্লেখ করা হয়, দুর্নীতি দমন কমিশন আইন অনুযায়ী কোনো অভিযোগের ‘প্রাথমিক সত্যতা’ কেবল অনুসন্ধান শেষে উঠে আসতে পারে। কিন্তু অনুসন্ধানের শুরুতেই দুদকের উপ-পরিচালক ও সহকারী পরিচালক আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে বদলি, নিয়োগ, পদোন্নতি বাণিজ্য, ডিএনসিসির প্রশাসক নিয়োগ, ডিসি পদায়ন ও বিদেশে অর্থপাচারসহ বহুবিধ অভিযোগ তুলে ব্রিফিং করেন। এর আগে গত ৯ সেপ্টেম্বর দুদকের পক্ষ থেকে উক্ত বক্তব্যকে 'স্লিপ অব দ্য টাং' বা অনাকাঙ্ক্ষিত ভুল বলা হলেও গণমাধ্যমে তার কোনো আনুষ্ঠানিক ও স্পষ্ট প্রত্যাহার বা বিজ্ঞপ্তি প্রচার করা হয়নি।
আইনজীবী আরও জানান, এই ধরনের প্রোপাগান্ডা সংবিধানের ৩১ অনুচ্ছেদে নিশ্চিত করা নাগরিকের জীবন, মান-মর্যাদা ও সুনামের সুরক্ষার যে মৌলিক অধিকার রয়েছে, তার সরাসরি লঙ্ঘন। একই সঙ্গে এটি দুদকের ‘তথ্য অবমুক্তকরণ নীতিমালা, ২০১১’-এর নীতিমালারও স্পষ্ট ব্যত্যয়।
আসিফ মাহমুদ দাবি করেন, উত্থাপিত অভিযোগগুলো অবাস্তব। যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে ১৫০ জন সহকারী যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার পদোন্নতির যে বিষয়টি আনা হয়েছে, তা তার পদত্যাগের (১১ ডিসেম্বর ২০২৫) প্রায় পাঁচ মাস পর (১১ মে ২০২৬) কার্যকর হয়, ফলে সেখানে তার সম্পৃক্ততা আইনগতভাবে অসম্ভব। রিটে অভিযোগ করা হয়, আসন্ন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) মেয়র পদে তার প্রার্থিতা ঘোষণার পর রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে এই 'মিডিয়া ট্রায়াল' শুরু করা হয়েছে।
হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী এবং বিচারপতি শেখ তাহসিন আলীর সমন্বয়ে গঠিত দ্বৈত বেঞ্চে রিট আবেদনটি জমা দেওয়া হয়েছে। আইনজীবীদের প্রত্যাশা, শিগগিরই এই রিটের ওপর শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
পটুয়াখালীতে চাঞ্চল্যকর অটোচালক মোঃ জাকারিয়া শরীফ (২৮) হত্যা মামলার প্রধান পরিকল্পনাকারীসহ তিনজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। একই সাথে উদ্ধার করা হয়েছে ভিকটিমের ব্যাটারীচালিত অটোরিকশা ও চোরাইকৃত তিনটি ব্যাটারী।
গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে রয়েছেন—হত্যার মূল পরিকল্পনাকারী মোঃ সাইফুল ইসলাম (২৯), তার সহযোগী মোঃ মামুন হাওলাদার (২৯) এবং চোরাই ব্যাটারী ক্রয়কারী মোঃ শুক্কুর আকন (৪৫)।
আজ দুপুরে পুলিশ সুপার কার্যালয়ের কনফারেন্স রুমে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে পটুয়াখালী জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মোহাম্মদ সাজেদুল ইসলাম সজল বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) জানান, গত ৭ সেপ্টেম্বর বিকেলে জাকারিয়া শরীফ অটোরিকশা নিয়ে বের হয়ে আর বাড়ি ফেরেননি। পরদিন (৮ সেপ্টেম্বর) সকালে জৈনকাঠী ইউনিয়নের লোহালিয়া নদী থেকে তার ভাসমান লাশ উদ্ধার করা হয়। পরে ভিকটিমের পিতা মোঃ রুহুল আমিন শরীফের অভিযোগের প্রেক্ষিতে পটুয়াখালী সদর থানায় পেনাল কোডের ৩০২/৩৭৯/২০১/৩৪ ধারায় একটি মামলা (মামলা নং-২৯) দায়ের করা হয়।
মামলা দায়েরের পর জেলা পুলিশের একাধিক দল, ডিবি, সিআইডি ও পিবিআই যৌথভাবে তদন্ত শুরু করে। ঘটনাস্থল ও আশপাশের এলাকার শতাধিক সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ এবং গোপন তথ্যের ভিত্তিতে আসামীদের শনাক্ত করা হয়। পরবর্তীতে গাজীপুর থেকে প্রধান আসামী সাইফুল ইসলাম, পটুয়াখালী থেকে মামুন হাওলাদার এবং মহিপুর থানা এলাকা থেকে চোরাই ব্যাটারীর ক্রেতা শুক্কুর আকনকে গ্রেফতার করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ ও আদালতে দেয়া আসামীদের ১৬৪ ধারার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি থেকে জানা যায়, ভিকটিম জাকারিয়া ও আসামী সাইফুল পূর্বে মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত ছিলেন। ইয়াবা সরবরাহের কথা বলে সাইফুলের কাছ থেকে ৩ লাখ ৭০ হাজার টাকা নেন জাকারিয়া। কিন্তু পরবর্তীতে ইয়াবা দিতে না পারায় তাদের মধ্যে বিরোধের সৃষ্টি হয়।
তিনি আরও বলেন, এরই জেরে সাইফুল তার সহযোগী মামুনকে সাথে নিয়ে জাকারিয়াকে হত্যার পরিকল্পনা করেন। গত ৭ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় ইয়াবার চালান আনার কথা বলে জাকারিয়াকে লোহালিয়া নদীর তীরে জৈনকাঠী খেয়াঘাটে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে মাদক সেবনের এক পর্যায়ে টাকার লেনদেন নিয়ে বাকবিতণ্ডা শুরু হলে আসামী সাইফুল সিএনজির তার/ক্যাবল দিয়ে জাকারিয়ার গলায় ফাঁস দেন এবং আসামী মামুন পা চেপে ধরে শ্বাসরোধ করে তার মৃত্যু নিশ্চিত করেন। এরপর লাশ নদীতে ফেলে দেওয়া হয়।
হত্যার পর আসামীরা জাকারিয়ার অটোরিকশাটি বিসিক শিল্প এলাকার পাশে নদীর পাড়ে নিয়ে যায় এবং সেখানকার ৩টি ব্যাটারী খুলে নিয়ে অটোরিকশাটি নদীতে ফেলে দেয়। পরবর্তীতে চোরাই ব্যাটারীগুলো মহিপুরের শুক্কুর আকনের কাছে ২০,০০০ টাকায় বিক্রি করে টাকা ভাগাভাগি করে নেয় আসামীরা।
তদন্তের অংশ হিসেবে পুলিশ নদী থেকে ভিকটিমের ফেলে দেওয়া অটোরিকশা ও শুক্কুর আকনের নিকট থেকে বিক্রি হওয়া তিনটি ব্যাটারী উদ্ধার করেছে। বর্তমানে মামলাটির তদন্ত কাজ চলমান রয়েছে এবং এর সাথে অন্য কেউ জড়িত আছে কিনা তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
একটি সংসার ছিল। দুই কন্যাসন্তান ছিল। কিন্তু সেই সংসারের ভেতরেই দীর্ঘদিন ধরে নির্যাতনের অভিযোগ ছিল। স্বামীর অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে ঝর্ণা আক্তার দুই সন্তানকে নিয়ে মায়ের আশ্রয়ে ফিরে গিয়েছিলেন। তবে সেখানে গিয়েও শেষ রক্ষা হয়নি। মায়ের বাড়িতে গিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করা হয় তাঁকে। প্রায় এক দশক পর সেই হত্যার মামলায় আদালতের রায়ে স্বামী ইসমাইল সাগর মিয়ার মৃত্যুদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে জনাকীর্ণ আদালতে আসামির অনুপস্থিতিতে এ রায় ঘোষণা করেন কিশোরগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ ১ম আদালতের বিচারক সুপ্রিয়া রহমান। মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি আসামিকে এক লাখ টাকা অর্থদণ্ডও দেওয়া হয়েছে।
দণ্ডপ্রাপ্ত ইসমাইল সাগর মিয়া (৩২) কিশোরগঞ্জের বাজিতপুর উপজেলার উত্তর সরারচর এলাকার মৃত আয়েত আলীর ছেলে।
মামলার এজাহার ও আদালত সূত্রে জানা যায়, ঘটনার প্রায় ১০ বছর আগে ঝর্ণা আক্তারের সঙ্গে ইসমাইল সাগর মিয়ার বিয়ে হয়। তাঁদের সংসারে দুই কন্যাসন্তান রয়েছে। তবে বিয়ের পর থেকেই পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে স্বামীর হাতে ঝর্ণা আক্তার নির্যাতনের শিকার হচ্ছিলেন বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
স্বামীর নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে ২০১৬ সালের ১১ এপ্রিল রাত আনুমানিক ১১টার দিকে ঝর্ণা দুই মেয়েকে সঙ্গে নিয়ে গাজীপুরের ভাড়া বাসা থেকে বাজিতপুর উপজেলার নিলক্ষী নয়াহাটে মায়ের বাড়িতে চলে আসেন। সেখানে তিনি মায়ের কাছে স্বামীর নির্যাতনের কথা জানান।
পরদিন ১২ এপ্রিল রাত আনুমানিক ৭টা ৫০ মিনিটের দিকে ইসমাইল সাগর মিয়া অজ্ঞাতনামা আরও দুজনকে সঙ্গে নিয়ে শ্বশুরবাড়িতে যান। ওই সময় বাড়ির পূর্ব পাশে মাটির চুলায় রান্না করছিলেন ঝর্ণা আক্তার। মামলার এজাহার অনুযায়ী, সেখানে ইসমাইল সাগর কোমর থেকে ধারালো ছুরি বের করে ঝর্ণার ওপর হামলা চালান। রক্তাক্ত অবস্থায় ঝর্ণা মাটিতে লুটিয়ে পড়লেও হামলা থামেনি। তাঁকে মারধর ও ছুরিকাঘাত করা হয় বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ রয়েছে।
ঝর্ণার চিৎকার শুনে তাঁর বোন স্বপ্না আক্তার, রাজিব মিয়া, সবুজ মিয়াসহ কয়েকজন এগিয়ে এসে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় আসামি আরও ক্ষিপ্ত হয়ে সবুজ মিয়ার হাতে ছুরি দিয়ে আঘাত করেন এবং ভয়ভীতি দেখিয়ে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান বলে মামলার নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
গুরুতর আহত অবস্থায় ঝর্ণা আক্তারকে উদ্ধার করে বাজিতপুরের ভাগলপুর জহুরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হয়। কিন্তু চিকিৎসকের কাছে পৌঁছানোর পর আর কোনো চিকিৎসাই তাঁর জীবন ফিরিয়ে দিতে পারেনি। কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। একটি পরিবারের কাছে সেদিনের রাতটি হয়ে উঠেছিল শোকের রাত। দুই কন্যাসন্তান হারায় মাকে, আর একটি পরিবার হারায় তাদের প্রিয়জনকে।
ঘটনার পর নিহত ঝর্ণা আক্তারের মা মোছাম্মাৎ জাহেরা বেগম বাদী হয়ে ইসমাইল সাগর মিয়া ও অজ্ঞাতনামা আরও দুজনের বিরুদ্ধে বাজিতপুর থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলাটি দণ্ডবিধির ৩০২/৩৪ ধারায় রুজু করা হয়।
পুলিশ নিহতের মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে ময়নাতদন্তের জন্য কিশোরগঞ্জ মর্গে পাঠায়। পরে তদন্ত শেষে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা।
দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ায় সাক্ষ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা শেষে সোমবার আদালত ইসমাইল সাগর মিয়াকে মৃত্যুদণ্ড এবং এক লাখ টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত করেন। রায় ঘোষণার সময় আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন না। প্রায় এক দশক আগের সেই রাতের রক্তাক্ত স্মৃতি, মায়ের বুক থেকে দুই সন্তানের ছিটকে পড়া, আর একটি সংসারের ভেঙে যাওয়ার বেদনার মধ্য দিয়ে অবশেষে আদালতের রায়ে হত্যার দায়ে শাস্তি পেলেন ঝর্ণার স্বামী।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ