বৃহস্পতিবার, ৩০শে জুলাই, ২০২৬ ইং
০৭:৩৯ পি.এম
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) প্রক্টরের পদত্যাগের এক দিনের মাথায় চারজন সহকারী প্রক্টর একযোগে পদত্যাগ করেন। একই দিনে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা ৭৮ দিন পর প্রক্টর কার্যালয়ের তালা খুলে দেন।
বৃহস্পতিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ কার্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ড. মোহাম্মদ মহিউদ্দিন স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে চার সহকারী প্রক্টরের পদত্যাগের বিষয়টি জানানো হয়।
পদত্যাগকারী শিক্ষকরা হলেন—প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আব্দুর রাজ্জাক, উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক শামীমা নাসরীন জলি, পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আলমগীর কবির এবং পাবলিক হেলথ অ্যান্ড ইনফরমেটিকস বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মোছা. জান্নাতুল ফেরদৌস।
এছাড়া পৃথক এক অফিস আদেশের মাধ্যমে দর্শন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. আবদুছ ছাত্তারকে আগামী দুই বছরের জন্য সহকারী প্রক্টর হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বলেও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানিয়েছে।
এর আগে মঙ্গলবার বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. একেএম রাশিদুল আলম পদত্যাগ করেন। গত ১২ মে গভীর রাতে ক্যাম্পাসে এক ছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টা ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে অভিযুক্ত ব্যক্তির গ্রেপ্তার এবং বিচারের দাবিতে শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে নামেন। আন্দোলনের অংশ হিসেবে তাঁরা প্রক্টর কার্যালয়ে তালা ঝুলিয়ে প্রক্টরকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করে। এর ফলে টানা ৭৮ দিন প্রক্টর ও প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যরা নিজ কার্যালয়ে প্রবেশ করতে পারেননি।
এদিকে বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে নবনিযুক্ত প্রক্টর অধ্যাপক মো. জাকির হোসেনের উপস্থিতিতে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা প্রক্টর কার্যালয়ের তালা খুলে দেন।
আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা জানান, তাদের অন্যতম দাবি ছিল প্রক্টর এবং প্রক্টরিয়াল বডির পদত্যাগ, যা তারা পূরণ করতে পেরেছেন। তবে তারা আরও ঘোষণা করেন, আগামী সাত দিনের মধ্যে ধর্ষণচেষ্টার ঘটনায় অভিযুক্ত ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা না হলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে স্মারকলিপি দেওয়া হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কক্সবাজারের ঈদগাঁওতে জমি বিরোধের কারণে মা ও মেয়েকে খুনের মামলায় আবুল কালাম নামের প্রধান আসামির বিরুদ্ধে আদালত মৃতুদণ্ডাদেশ দিয়েছেন। একই সঙ্গে অভিযোগপত্রে, যা চার্জশিট হিসেবে পরিচিত, অভিযুক্ত অপর ২ নারীকে খালাস দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার দুপুরে কক্সবাজারের অতিরিক্ত দায়রা জজ আদালতের বিচারক মোহাম্মদ আবুল মনসুর সিদ্দিকী এ আদেশ প্রদান করেছেন বলে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী কুতুব উদ্দিন জানিয়েছেন।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি আবুল কালাম ঈদগাঁও উপজেলার ইসলামাবাদ ইউনিয়নের চরপাড়া এলাকার মৃত জাফর আলমের ছেলে। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী কুতুব উদ্দিন জানান, ২০২১ সালের ১৯ জানুয়ারি সন্ধ্যায় ওই এলাকার আজিজুল হকের স্ত্রী রাশেদা বেগম এবং ৭ম শ্রেণীতে পড়া কন্যা জন্নাতুল ফেরদৌস প্রতিপক্ষের হামলায় নিহত হন। এই ঘটনার পর আজিজুল হক বাদি হয়ে ২২ জানুয়ারি আবুল কালামকে প্রধান আসামি করে ৪ জনের নাম উল্লেখ করে ঈদগাঁও থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলার অপর অভিযুক্তরা ছিলেন প্রধান আসামির ভাই আবুল তাহের, প্রধান আসামির স্ত্রী হামিদা বেগম এবং আবু তাহেরের স্ত্রী মনোয়ারা বেগম।
এ মামলাটির অনুসন্ধান শেষে পুলিশ ২০২১ সালের ১৪ জুলাই আবু তাহেরকে অব্যাহতি প্রদান করে এবং অপর ৩ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে। এরপর আদালত অভিযোগপত্র আমলে নিয়ে বিচারকার্য শুরু করে এবং বৃহস্পতিবার এই আদেশ প্রদান করে। আদেশ প্রদানকালে আসামিদের ৩ জনই আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সুনামগঞ্জে এক আইনজীবীকে মারধরের ঘটনায় দ্রুত বিচার মামলায় আসামিদের জামিন দেওয়ার ফলে বিচারকের সঙ্গে আইনজীবীদের মধ্যে হট্টগোলের ঘটনা ঘটে।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) দুপুরে সুনামগঞ্জ চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের ৫ম তলায় দ্রুত বিচার আদালতের বিচারক মো. নুরুল হকের আদালতে মামলার জামিন শুনানির সময় এই আরেকটি ঘটনা ঘটে। তবে পরে পরিস্থিতি শান্ত হয়ে যায় এবং আদালতের কার্যক্রম স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শাহ আলম তুলিপ নামে এক আইনজীবীর করা দ্রুত বিচার মামলার আসামির জামিন শুনানির সময় আদালতের বিচারক মো. নুরুল হক আসামির জামিন মঞ্জুর করেন। এই সময়ে আইনজীবীরা জামিনের বিরুদ্ধে বক্তব্য দেন। এক পর্যায়ে আদালতের ভেতরেই বিচারকের সামনেই হট্টগোল শুরু হয়ে যায় এবং আইনজীবীরা আদালত থেকে বেরিয়ে যান।
এছাড়া জানা গেছে, সুনামগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্য শাহ আলম তুলিপের বাড়ি সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলার ট্যাংরাটিলা এলাকায়। মাসখানেক আগে জমিসংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে এলাকার প্রতিপক্ষের হামলার শিকার হন তিনি। এই ঘটনায় তিনি দ্রুত বিচার আদালতে হামলাকারী আতাবুর রহমান ফারাজি, সাজিদুর রহমান ফারাজি ও সাব্বির আহমেদকে আসামি করে মামলা করেন। পরে পুলিশ তিন আসামির বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করে।
বৃহস্পতিবার আসামির জামিন শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। শুনানি শেষে আদালত আসামিদের জামিন মঞ্জুর করেন। এই সময়ে অনেক আইনজীবী আসামিদের জামিনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানান এবং আদালতের ভেতর হট্টগোল শুরু হয়। হট্টগোলের এক পর্যায়ে বিচারক আদালত থেকে খাসকামরায় চলে যান। পরে দুপুর ২টার দিকে আদালতের বিচারিক কার্যক্রম আবার স্বাভাবিক হয়ে যায়।
মামলার বাদী আইনজীবী শাহ আলম তুলিপ বলেন, দ্রুত বিচার আইনের মামলায় এর আগে এই আদালতে কোনো আসামির জামিন হয়নি। একজন আইনজীবীকে মারধরের ঘটনায় করা মামলা এবং জামিন অযোগ্য ধারায় জামিন দেওয়ার কারণে আমাদের সহকর্মী সবাই কথা বলেছেন। শতাধিক আইনজীবী একসাথে প্রতিবাদ জানিয়েছেন, তাই ঘটনা হট্টগোলের মতো শোনায়। এর বেশি কিছু নয়, আমরা কোর্ট বর্জন করিনি। অন্যান্য দিনের মতো স্বাভাবিকভাবে আদালত ত্যাগ করেছি।
এ বিষয়ে জেলা ও দায়রা জজ আদালতের এডিশনাল পিপি অ্যাড. শেরেনুর আলী বলেন, আমাদের এক আইনজীবীর করা মামলায় আসামিকে জামিন দেওয়া হয়েছে, আমরা জামিনের বিরুদ্ধে কথা বলেছি। এরপর আদালত নেমে যায়। এই বিষয়ে আগামী রবিবার একটি জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।
জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি অ্যাড. আব্দুল হক জানান, বিচারকের সঙ্গে মারমুখী আচরণের কিছু ছিল না। আসামির জামিন দেওয়ার ফলে সামান্য মনোমালিন্য হয়েছিল। পরে সবকিছু আবার স্বাভাবিক হয়ে যায়।
জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. হুমায়ুন কবির বলেন, আমাদের একজন সহকর্মীকে মারধরের ঘটনায় দ্রুত বিচার মামলায় আসামির জামিন দেওয়ার সময় আইনজীবীরা জামিনের বিরোধিতা করেছেন। এর চেয়ে বেশি কিছু ঘটেনি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সংযুক্ত আরব আমিরাতে ইরানের হামলার পর বাংলাদেশের সমর্থন ও সংহতির জন্য আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন প্রেসিডেন্ট শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) প্রধানমন্ত্রীকে পাঠানো একটি চিঠিতে এই কঠিন সময়ে বাংলাদেশের পাশে থাকার জন্য তিনি ভূয়সী প্রশংসা করেন।
চিঠিতে ইউএইতে হামলায় নিহত দুই বাংলাদেশি নাগরিকের মৃত্যুতে তিনি গভীর শোক প্রকাশ করেন। নিহতদের পরিবার এবং বাংলাদেশের জনগণের প্রতি প্রেসিডেন্ট শেখ মোহাম্মদ আন্তরিক সমবেদনা জানান।
তিনি বাংলাদেশ-ইউএইর দীর্ঘদিনের অংশীদারত্বকে আরও শক্তিশালী করার প্রত্যয় পুনর্ব্যক্ত করেছেন এবং অর্থনৈতিক, উন্নয়ন ও মানবিক খাতে সহযোগিতা সম্প্রসারণের উপর গুরুত্বারোপ করেন।
এছাড়াও, প্রধানমন্ত্রীর আমন্ত্রণের জন্য কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি যত দ্রুত সম্ভব বাংলাদেশ সফরের আগ্রহ প্রকাশ করেন। তিনি আশা করেন যে, এই সফরের মাধ্যমে দুই বন্ধুত্বপূর্ণ দেশের বিদ্যমান সম্পর্ক আরও গভীর হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ফরিদপুরের সামেলা (সাহেলা) আক্তার (৬০) নামের এক নারীকে হত্যা করার অভিযোগ ওঠেছে তার ছেলে আব্দুর রাহিম শেখের (৩৫) বিরুদ্ধে। এই ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত ব্যক্তি পলাতক রয়েছেন। এর আগে সৎমাকে হত্যার অভিযোগে তিনি প্রায় ছয় বছরের অধিক সময় জেলে ছিলেন। বৃহস্পতিবার দুপুরে ফরিদপুর শহরের বায়তুল আমান এলাকায় এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। ঘটনাস্থলে পুলিশ বিকেল ৫টার দিকে মরদেহ উদ্ধার করে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা বাইরে থাকাকালীন আব্দুর রাহিম শেখ ধারালো অস্ত্র ও ভোঁতা বস্তু দিয়ে মায়ের মাথায় আঘাত করেন। এতে ঘটনাস্থলেই সামেলা আক্তারের মৃত্যু ঘটে। পরে প্রতিবেশীরা রক্তাক্ত মরদেহ দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেন। নিহতের মেয়ে কাকলী আক্তার বলেছেন, ‘তার ভাই দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত এবং মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন। তিনি প্রায়ই মায়ের কাছে টাকা চাইতেন। টাকা না দিলে মারধর করতেন। ঘটনার দিন সকালে রাহিম একটি আলাদা ঘরে ছিলেন যখন কাকলী কাজে যাচ্ছিলেন। দুপুরের দিকে খবর পান যে তার ভাই মাকে হত্যা করে পালিয়ে গেছে।’ স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, ২০১৬ সালে রাহিম শেখ তার সৎমাকেও একইভাবে হত্যা করেছিলেন। ওই ঘটনার পরে তিনি ছয় বছরের কারাবাস শেষে জামিনে মুক্তি পেয়ে বাড়িতে ফিরে আসেন। তার পরও তার আচরণ স্বাভাবিক হয়নি। পরিবারের সদস্যদের প্রতি মারধর, টাকা চাওয়া এবং নেশাগ্রস্ত অবস্থায় অস্বাভাবিক আচরণ ছিল রাহিমের নিয়মিত অভ্যাস। কোতোয়ালি থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) সুকান্ত দত্ত জানিয়েছেন, ‘প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, রাহিম তার মাকে মাথায় আঘাত করে হত্যা করে পালিয়ে গেছে। প্রতিবেশীরা তাকে মাদকাসক্ত বলে চেনেন। ছেলের কক্ষ থেকে ফয়েল পেপার, মোমবাতি, সিগারেটের প্যাকেট সহ মাদক সেবনের আলামত জব্দ করা হয়েছে।’ মরদেহটি ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে এবং পুলিশ অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান অব্যাহত রেখেছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ