শুক্রবার, ২৩শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০৭:৫১ পি.এম
জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের যুগ্ম-মহাসচিব মুফতি মনির হোসাইন কাসেমী মন্তব্য করেছেন যে, কওমিভিত্তিক সাতটি রাজনৈতিক দলের ঐক্যের প্রচেষ্টা হেফাজতে ইসলামের তত্ত্বাবধানে কোনোভাবেই সম্ভব নয়। তিনি এই উদ্যোগকে ‘ভুল পদক্ষেপ’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন, কারণ এটি সংগঠনটির মূল আদর্শের পরিপন্থি।
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘কোনোভাবেই এই ঐক্য সম্ভব বলে আমি মনে করি না। বাকি যদি কোনো মিরাকল বা অলৌকিক কিছু ঘটে যায়, তবে সেটার জন্য সাধুবাদ জানাব।’ তিনি উল্লেখ করেন যে, হেফাজতে ইসলামের দায়িত্বে থাকা কিছু ব্যক্তি—যাঁরা সরাসরি রাজনীতি করেন না—হয়তো সরলতা, উদারতা বা অনভিজ্ঞতার কারণে দলগুলোকে এক করার চেষ্টা করছেন। তবে, এই উদ্যোগ বর্তমান সময়ের বাস্তব চাহিদা নয় এবং হেফাজতে ইসলামের চরিত্রের সাথে এটি সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
হেফাজতের স্বাতন্ত্র্য তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশসহ সারাবিশ্বে একটি অরাজনৈতিক ও শক্তিশালী প্ল্যাটফর্ম হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। এই সংগঠনের ব্যানারে কোনো রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালিত হতে পারে না এবং এটাই বাস্তব সত্য। যারা এই উদ্যোগ নিয়েছেন বা নিচ্ছেন, তা অতীতেও ভুল ছিল, এখনও ভুল এবং ভবিষ্যতেও ভুল হিসেবেই গণ্য হবে। এই ভুল পদক্ষেপের খেসারত একসময় আমাদের দিতে হতে পারে।’
তিনি আরো জানান যে, রাজনৈতিক দলগুলোর রাজনীতি করার বা ঐক্য গড়ার পূর্ণ অধিকার রয়েছে। ব্যক্তিগত বা দলীয়ভাবে যে কেউ আলোচনা চালিয়ে যেতে পারেন। তবে, সেই প্রক্রিয়ার সঙ্গে হেফাজতে ইসলামের নাম বা তত্ত্বাবধান যুক্ত করা সমর্থনযোগ্য নয়। তিনি সতর্ক করেন যে, দেশজুড়ে হেফাজতে ইসলামের সাধারণ নেতাকর্মী ও শুভানুধ্যায়ীরা সংগঠনটিকে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে ফেলাকে কখনোই ভালো চোখে দেখবে না।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
যশোর, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬ : ২৫০ শয্যার যশোর জেনারেল হাসপাতালে বর্তমানে রোগীর সংখ্যা ধারণক্ষমতার দ্বিগুণেরও বেশি থাকায় চিকিৎসা সামগ্রীর সংকট সমাধানের জন্য ৪০ লাখ টাকার চিকিৎসা উপকরণ বিতরণ করা হয়েছে।
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত আজ যশোর সার্কিট হাউসে সিভিল সার্জন এবং হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়কের কাছে এসব চিকিৎসা সামগ্রী হস্তান্তর করেন।
হিউম্যান অ্যাপিল ইউএসএ’র সহযোগিতায় সরবরাহিত এসব সামগ্রীর মধ্যে রয়েছে ব্যথানাশক ইনজেকশন, বয়স্ক রোগীদের জন্য প্যাম্পার্স, গ্লাভস, ক্যানোলা, চিকিৎসকদের পোশাক এবং অপারেশন থিয়েটারে (ওটি) ব্যবহৃত বিভিন্ন উপকরণ।
এ সময় প্রতিমন্ত্রী হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেন যে, বিতরণ করা চিকিৎসা সামগ্রী যেন হাসপাতালে ভর্তি রোগীরা যথাযথভাবে বিনামূল্যে গ্রহণ করতে পারেন। তিনি চিকিৎসা উপকরণের সুষ্ঠু ব্যবহার এবং রোগীদের কাছে সেবা পৌঁছানোর বিষয়েও গুরুত্ব আরোপ করেন।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, ২৫০ শয্যার এ হাসপাতালে নিয়মিতভাবে রোগীর সংখ্যা ধারণক্ষমতার দ্বিগুণেরও বেশি হয়ে থাকে। অতিরিক্ত রোগীর চাপের কারণে ওষুধ ও চিকিৎসা সামগ্রীর সংকট দেখা দেয়। এ অবস্থায় সরবরাহ করা এসব উপকরণ রোগীদের চিকিৎসাসেবা প্রদানে সহায়ক হবে।
চিকিৎসা সামগ্রী হস্তান্তর অনুষ্ঠানে যশোরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশেক হাসান, পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলাম, জেলা পরিষদের প্রশাসক দেলোয়ার হোসেন খোকন, যশোর জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. হুসাইন শাফায়াত এবং সিভিল সার্জন মাসুদ রানা প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬ : সৌদি আরবের রিয়াদে কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে গত ১০ অক্টোবরের হামলায় নিহত বাংলাদেশি শ্রমিক মো. শাহেদ আহমেদের মরদেহ গ্রহণ করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম।
মরদেহ বহনকারী ফ্লাইটটি আজ সকাল ৮টা ৩৫ মিনিটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে।
মরদেহ গ্রহণের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় শামা ওবায়েদ বলেন, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়সহ কয়েকটি মন্ত্রণালয়ের সমন্বিত প্রচেষ্টায় দ্রুত মরদেহটি দেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘তিনি (শাহেদ) বগুড়ার শাহজাহানপুরের বাসিন্দা ছিলেন। তাঁর দুই সন্তান রয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত শুরুর পর এ পর্যন্ত আমরা ১০ জন প্রবাসীর মরদেহ দেশে ফিরিয়ে এনেছি। তিনি ১১তম।’
শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় থেকে ৫০ হাজার টাকা অনুদান দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি মরদেহটি তার গ্রামের বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার জন্য বিনামূল্যে অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
তিনি বলেন, সৌদি আরবে চার কোটিরও বেশি বাংলাদেশি বসবাস করেন। ‘সে কারণেই সেখানে কোনো ঘটনা ঘটলে আমরা গভীরভাবে উদ্বিগ্ন থাকি,’ বলেন তিনি।
সৌদি আরবে সম্প্রতি দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার বিষয়ে জানতে চাইলে শামা বলেন, ওই দুই ব্যক্তির বিষয়ে সৌদি কর্তৃপক্ষের কাছে সরকার আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠিয়েছে।
তিনি বলেন, ‘প্রতিটি দেশের নিজস্ব বিচারব্যবস্থা রয়েছে। আটক ব্যক্তিদের দেশে ফিরিয়ে আনতে অনেক প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হয়। তাঁদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ঘটনাটি ২০২৩ সালে ঘটেছিল।’
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী জানান, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে প্রায় ৭ হাজার ৫০০ বাংলাদেশি কারাগারে রয়েছেন।
তিনি বলেন, ‘আমাদের কোনো নাগরিকের সাজা হওয়ার খবর মন্ত্রণালয় জানতে পারলেই তাঁদের রক্ষার উপায় খুঁজতে আমরা দ্রুত চেষ্টা শুরু করি।’
বিদেশে কর্মসংস্থানের জন্য যেতে ইচ্ছুক বাংলাদেশিদের গন্তব্য দেশের আইন ও বিধিবিধান সম্পর্কে আগে থেকেই জানার আহ্বান জানান শামা।
তিনি বলেন, ‘আমরা এসব সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করছি এবং আমাদের মিশনগুলো সক্রিয়ভাবে কাজ করছে।’
বিদেশে কর্মী নিয়োগের ব্যয় প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, দালালদের কারণে অভিবাসী কর্মীদের খরচ বেড়ে যাচ্ছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখতে প্রধানমন্ত্রী তাকে নির্দেশ দিয়েছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জর্ডানের মধ্যাঞ্চলে অবস্থিত একটি গির্জায় আয়োজিত শেষকৃত্য অনুষ্ঠানে বন্দুকধারীদের গুলিতে অন্তত সাতজন নিহত হয়েছেন। এই হামলায় আরও অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন।
আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, জর্ডানের রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিভিশন চ্যানেল 'আল-মামলাকা' এই ঘটনার খবর প্রকাশ করেছে।
শুক্রবার, কারাক গভর্নরেটের হামুদ গির্জায় একটি শেষকৃত্যের মিছিল চলাকালীন এই হামলার ঘটনা ঘটে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, একটি গাড়ি থেকে দুই বন্দুকধারী নেমে হামুদ গির্জায় এলোপাতাড়ি গুলি চালাতে শুরু করে।
হামলার সময় সেখানে উপস্থিত থাকা খালেদ বুরকান নামের একজন প্রত্যক্ষদর্শী আল-মামলাকাকে জানান, সেখানে বহু মানুষের সমাগম ছিল। হঠাৎ রাইফেল ও পিস্তল হাতে দুই ব্যক্তি এসে তাদের ওপর কয়েক মিনিট ধরে টানা গুলি বর্ষণ করে।
ঘটনার পরপরই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা গির্জায় উপস্থিত হয়ে এলাকাটি ঘিরে ফেলেন এবং হামলাকারীদের ধরতে অভিযান শুরু করেন।
এ হামলার দায় এখনো কোনো গোষ্ঠী স্বীকার করেনি। জর্ডান কর্তৃপক্ষও আনুষ্ঠানিকভাবে হামলাকারীদের পরিচয় বা দায়ীদের বিষয়ে কিছু জানায়নি।
সাধারণত, জর্ডানে এ ধরনের সহিংসতার ঘটনা অত্যন্ত বিরল। তবে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে হামলা চালানোর পর থেকে তুলনামূলক স্থিতিশীল এই দেশটি ক্রমাগত ইরানি হামলার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হচ্ছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নেত্রকোনার কলমাকান্দায় স্কুল ব্যাগে করে ভারতীয় মদ বহনের সময় দুই যুবককে আটক করেছে পুলিশ। এ সময় তাঁদের কাছ থেকে এবং পরে আরেকটি অভিযানে পরিত্যক্ত অবস্থায় মোট ৩২ বোতল ভারতীয় মদ উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার করা মদের আনুমানিক বাজারমূল্য ৭২ হাজার টাকা।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) কলমাকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সোহেল রানা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। আটক দুজনের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা দায়ের করে আদালতে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। এ ঘটনায় সারোয়ার হোসেন (৩১) নামে আরও একজন পলাতক রয়েছেন।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) রাত পৌনে ১০টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ জানতে পারে, উপজেলার রংছাতি ইউনিয়ন থেকে ‘মায়ের আঁচল’ নামের একটি বাসে করে ভারতীয় মদের চালান কলমাকান্দা বাজারে আনা হচ্ছে। পরে এসআই মো. আব্দুল মান্নানের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল রাত ৯টা ৫৫ মিনিটে কলমাকান্দা বাজারের রেন্ট্রিতলা এলাকার বাস কাউন্টারের সামনে অবস্থান নেয়।
সেখানে তল্লাশি চালিয়ে মো. জাকির হোসেন (২২) নামে এক যুবককে আটক করা হয়। তাঁর কাঁধে থাকা কালো রঙের স্কুল ব্যাগ থেকে ৭৫০ মিলিলিটারের আট বোতল ‘এসি ব্ল্যাক পিওর গ্রেইন ডিলাক্স হুইস্কি’ উদ্ধার করা হয়। এসব মদের আনুমানিক মূল্য ২৪ হাজার টাকা।
পুলিশ জানায়, জিজ্ঞাসাবাদে জাকিরের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একই এলাকার সারোয়ার হোসেনের বাড়িতে অভিযান চালানো হয়। তবে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে সারোয়ার পালিয়ে যান। পরে রাত ১১টা ৫০ মিনিটের দিকে তাঁর বসতঘরের পেছনের ধানক্ষেত থেকে একটি প্লাস্টিকের বস্তা উদ্ধার করা হয়। বস্তাটিতে ৩৭৫ মিলিলিটারের আরও ২৪ বোতল একই ব্র্যান্ডের মদ পাওয়া যায়, যার আনুমানিক মূল্য ৪৮ হাজার টাকা।
এ ঘটনায় চোরাচালানে জড়িত থাকার অভিযোগে মো. সুমন মিয়া (২৬) নামে আরও একজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পুলিশের দাবি, আটক ব্যক্তিরা পরস্পরের সহযোগিতায় শুল্ক ফাঁকি দিয়ে ভারত থেকে অবৈধভাবে মদ এনে দেশে বিক্রি করতেন। তবে এসব অভিযোগের চূড়ান্ত সত্যতা আদালতে প্রমাণিত হতে হবে।
কলমাকান্দা থানার ওসি মো. সোহেল রানা বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশ জিরো টলারেন্স নীতিতে কাজ করছে। পলাতক সারোয়ার হোসেনকে গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ