মঙ্গলবার, ২৭শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০৯:৩৭ পি.এম
সাইবার সুরক্ষা আইন নাগরিকদের ডিজিটাল নিরাপত্তা নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে প্রণীত হলেও, এটি মতপ্রকাশ ও সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা সংকুচিত করতে পারে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন দেশের বিশিষ্টজনেরা। তাঁদের অভিযোগ, বর্তমান সরকারও আওয়ামী লীগ সরকারের মতো জনগণের কণ্ঠ রুদ্ধ করার পথে অগ্রসর হচ্ছে। নতুন আইনের আওতায় গ্রেপ্তারের সুযোগ তৈরির লক্ষ্যে সরকার সংশোধনী আনার পরিকল্পনা করছে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন তাঁরা।
বক্তারা উল্লেখ করেন, সাইবার অপরাধ দমনের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। তবে সেই প্রয়োজনকে সংবিধান-স্বীকৃত মতপ্রকাশের স্বাধীনতার সঙ্গে সাংঘর্ষিক করা উচিত নয়। আইনটির অপব্যবহার রোধে স্পষ্ট সংজ্ঞা, জবাবদিহি এবং সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে পরামর্শ নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি।
মঙ্গলবার রাজধানীর কারওয়ান বাজারের বিডিবিএল ভবনে সাইবার সুরক্ষা আইনের সংশোধনী সম্পর্কে আয়োজিত নাগরিক সংলাপে এসব বক্তব্য উঠে আসে। ‘সাইবার সুরক্ষা, না কণ্ঠরোধ? কার স্বার্থে মতপ্রকাশের নতুন সীমা নির্ধারণ ও আইন সংশোধন’ শীর্ষক এই সংলাপের আয়োজন করে মানবাধিকার নিয়ে কাজ করা সাতটি সংগঠন—ভয়েস ফর রিফর্ম, দৃক, নাগরিক কোয়ালিশন, এইচআরএসএস, জেআরএ, ডিএসএ ভিকটিম অ্যালায়েন্স ও বাংলাদেশ আমেরিকা অ্যালায়েন্স।
সংলাপে সভাপতির বক্তব্যে আলোকচিত্রী ও মানবাধিকারকর্মী শহিদুল আলম বলেন, ক্ষমতায় আসার আগে রাজনৈতিক দলগুলোর পক্ষ থেকে নানা প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও পরবর্তীতে তার বাস্তবায়ন দেখা যায় না। তিনি বলেন, "দেশের প্রকৃত মালিক জনগণ, তাই সরকারকে অবশ্যই নাগরিকদের দাবি শুনতে হবে।"
প্রধান উপদেষ্টার সাবেক প্রেস সচিব ও ‘ওয়াদা’র সম্পাদক শফিকুল আলম বলেন, তিনি সাংবাদিকদের বা কোনো নাগরিকের জেল হওয়ার পক্ষে নন সাইবার বা মানহানির আইনের কারণে। তবে তিনি একটি নিয়মতান্ত্রিক দেওয়ানি বা সিভিল পেনাল্টি (আর্থিক জরিমানা) থাকা উচিত বলে মনে করেন। এ সময় তিনি একটি শক্তিশালী আইনি সুরক্ষার কাঠামো তৈরির ওপর জোর দেন।
সাইবার সুরক্ষা আইনসহ বিভিন্ন বিতর্কিত আইন প্রণয়নের সমালোচনা করে সংসদ সদস্য আখতার হোসেন অভিযোগ করেন, সরকার নিজের অপকর্ম আড়াল করা ও ক্ষমতার একচ্ছত্র আধিপত্য বজায় রাখার উদ্দেশ্যে এসব আইন তৈরি করছে। তিনি মন্তব্য করেন, সংস্কারের নামে সরকারের ক্ষমতা নিয়ন্ত্রণে রাখতে যেসব আইনি ও সাংবিধানিক ব্যবস্থা ছিল, ক্ষমতায় আসার পর সেগুলো একে একে দুর্বল করা হয়েছে।
মানবাধিকারকর্মী ও গুম কমিশনের সাবেক সদস্য ড. নাবিলা ইদ্রিস সাধারণ নাগরিকদের গ্রেপ্তারের বেশ কয়েকটি ঘটনা তুলে ধরে বলেন, সাইবার আইনের অধীনে কীভাবে সাধারণ মানুষ হয়রানি ও গ্রেপ্তারের শিকার হচ্ছেন, তা অত্যন্ত উদ্বেগের। তিনি মনে করেন, বিদ্যমান আইনে এ ধরনের গ্রেপ্তারের কোনো যৌক্তিকতা নেই এবং সরকার নতুন আইনের আওতায় গ্রেপ্তারের সুযোগ অক্ষুণ্ণ রাখতে সংশোধনী আনার পরিকল্পনা করছে।
প্রধান উপদেষ্টার সাবেক বিশেষ সহকারী মনির হায়দার বলেন, কোনো সরকার ফ্যাসিবাদী হয়ে উঠতে চাইলে শুধু আইন দিয়ে তাকে ঠেকানো যায় না। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন, বর্তমান সরকার জনগণের কণ্ঠ রুদ্ধ করার পথে দ্রুত এগোচ্ছে।
ভয়েস ফর রিফর্মের সহ-সমন্বয়ক ফাহিম মাশরুরের সঞ্চালনায় সংলাপে আরও বক্তব্য দেন গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনের সাবেক প্রধান কামাল আহমেদ, অল্টারনেটিভের সংগঠক ডা. তাজনুভা জাবীন, সাংবাদিক রাজীব আহমেদ, রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের দিদার ভূঁইয়া, সারোয়ার তুষার, নাগরিক কোয়ালিশনের হাসিব উদ্দিন হোসেন এবং এইচআরএসএসের নির্বাহী পরিচালক ইজাজ ইসলাম।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) চীন থেকে আমদানি করা বিভিন্ন পণ্যের ওপর নতুন বিধিনিষেধ আরোপের পরিকল্পনা করছে। এই প্রস্তাবিত ব্যবস্থায় আসবাব, রাসায়নিক পণ্য ও যন্ত্রপাতির মতো কিছু খাত অন্তর্ভুক্ত হতে পারে।
ব্লুমবার্গের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৭ সালের শুরু থেকে এসব বিধিনিষেধ কার্যকর করার পরিকল্পনা রয়েছে।
প্রস্তাবিত ব্যবস্থার মধ্যে আমদানির পরিমাণ নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে রাখার জন্য কোটা আরোপের বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে। তবে কোন কোন পণ্যের ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করা হবে এবং তা কীভাবে কার্যকর হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য এখনও নিশ্চিত হয়নি।
চীনা পণ্যের সঙ্গে প্রতিযোগিতা এবং বাণিজ্যিক টানাপড়েন নিয়ে ইউরোপে উদ্বেগ বাড়ছে। নতুন বিধিনিষেধ কার্যকর হলে ইউরোপের বাজারে চীনা পণ্যের প্রবেশ সীমিত হতে পারে।
বিশেষ করে আসবাব শিল্পে কাঁচামাল ও পণ্য সংগ্রহের উৎস, সরবরাহব্যবস্থা এবং উৎপাদন ব্যয়ের ওপর এর প্রভাব পড়তে পারে। তবে প্রস্তাবগুলো বাস্তবায়িত হলে ইউরোপীয় বাজারে বাণিজ্যের ধরন কতটা বদলাবে, তা চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
দেলোয়ার হোসাইন সাঈদীর মামলার বাদী মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর (৮৭) মৃত্যুর পর তার দাফনে জামায়াতের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে বাধা দেওয়ার অভিযোগের তদন্তের জন্য একটি কমিটি গঠন করেছে দলটি।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সন্ধ্যায় জামায়াত ইসলামীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের বিশেষ বৈঠকে এই কমিটি গঠন করা হয়।
বৈঠকের সভাপতিত্ব করেন জামায়াতের আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) সকালে মানিক পশারীর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর তার নিজ এলাকা চিথলিয়ায় জানাজা ও দাফনে রাষ্ট্রীয় মর্যাদা প্রদানে বাধা দেওয়া হয়। এ ঘটনায় পিরোজপুরে ব্যাপক উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। তিনি পিরোজপুর সদর উপজেলার শংকরপাশা ইউনিয়নের চিথলিয়া গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন।
অভিযোগ উঠেছে যে, জামায়াত ইসলামীর নেতাকর্মীরা মানিক পশারীর দাফনে বাধা প্রদান করেছেন। এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে জামায়াত একটি দুই সদস্যের কমিটি গঠন করেছে। কমিটিকে আগামী ৩ দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বৈঠকে পিরোজপুরে সংঘটিত সাম্প্রতিক ঘটনার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে ঘটনার তদন্ত করে এর সঙ্গে সংগঠনের কেউ জড়িত রয়েছে কিনা, তা কমিটি তদন্ত করে দেখবে। এ ব্যাপারে তদন্ত কমিটিকে সার্বিক সহযোগিতা করার জন্য স্থানীয় সংগঠনকে নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে।
ঘটনার তদন্তের জন্য দুই সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির সদস্যরা হলেন- সাইফুল আলম খান মিলন এমপি ও নূরুল ইসলাম বুলবুল এমপি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নবীগঞ্জে ঘটনার চাঞ্চল্যকর তারেক হত্যা মামলার প্রধান পলাতক আসামি সাহেল মিয়াকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। আইফোনের লোভে বন্ধুকে হত্যা করার পর লাশ গুম করার এই মামলার প্রধান আসামিকে মঙ্গলবার চৌশতপুর এলাকার একটি চায়ের দোকান থেকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আটক করা হয়।
নবীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ আবুল হোসেনের দিকনির্দেশনায় অভিযানের নেতৃত্ব দেন এসআই জয়ন্ত কুমার রায় তালুকদারসহ পুলিশের একটি দল। গ্রেপ্তার হওয়া সাহেল মিয়া চৌশতপুর গ্রামের নুরুজ্জামান মিয়ার পুত্র এবং নিহত তারেক একই গ্রামের মারফত উল্লাহর পুত্র। জানা গেছে, তারা দুজনই বন্ধু ছিলেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কিছুদিন আগে সাহেল ও তারেক বন্ধুত্বের সুবাদে লাখাই উপজেলায় গিয়েছিল। এ সময় তারেকের কাছে একটি দামি আইফোন ছিল। মূলত ওই আইফোনের লোভেই সাহেল মিয়া ঠান্ডা মাথায় তার বন্ধুকে হত্যা করে এবং মরদেহ লাখাই এলাকার একটি খালে ফেলে দেয়।
এদিকে, গত কিছুদিন ধরে তারেক নিখোঁজ থাকায় তার পরিবার কোনো সন্ধান না পেয়ে প্রথমে নবীগঞ্জ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করে। পরবর্তীতে পুলিশি তদন্ত ও অভিযানের মাধ্যমে এই হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন এবং প্রধান আসামিকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়।
গ্রেপ্তারের পর আসামি সাহেলের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নবীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মো. আবুল হোসেন ও এসআই জয়ন্ত কুমার রায় তালুকদারসহ পুলিশের একটি দল নিহতের মরদেহ উদ্ধারের জন্য লাখাই থানায় যান। নবীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মো. আবুল হোসেন গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
পিরোজপুরের কাউখালীতে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ বিক্রির উদ্দেশ্যে সংরক্ষণ করার অপরাধে একটি ফার্মেসিকে অর্থদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। এ সময় জব্দকৃত মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ জনসম্মুখে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) বিকেল ৫টার দিকে উপজেলার দক্ষিণ বাজার এলাকায় এই অভিযান পরিচালনা করা হয়। ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন, কাউখালী উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট রেহেনা আক্তার। অভিযানে সংশ্লিষ্ট ফার্মেসিকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
অভিযানকালে স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে এবং জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় প্রশাসনের এমন তৎপরতা অব্যাহত থাকবে বলে জানানো হয়। এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডাঃ নাহিদ হাসান। অভিযানে পুলিশের একটি টিম সহযোগিতা করে।
অভিযান শেষে ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক ও কাউখালী উপজেলা নির্বাহী অফিসার রেহেনা আক্তার বলেন,
"সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্য নিয়ে কোনো ধরনের অবহেলা সহ্য করা হবে না। দক্ষিণ বাজারের উপশম ফার্মেসীতে অভিযানে গিয়ে বিপুল পরিমাণ মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ পাওয়া গেছে, যা মানুষের জীবন ও স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ