শুক্রবার, ২৫শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৮:৩০ পি.এম
গত জুলাই মাসে নয়াদিল্লির যন্তর-মন্তরে ককরোচ জনতা পার্টি-সিজেপির আন্দোলনের সময় এক নারীর ছবি বিকৃত করা হয়, যেখানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং মুখবদল প্রযুক্তির ব্যবহার করা হয়েছিল। ওই নারীর ছবির সঙ্গে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ছবি উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে যুক্ত করা হয়। আন্দোলনের সময় বিকৃত ছবিটি বড় বড় ব্যানার এবং পোস্টারে ব্যবহার করা হয়। এছাড়া, ওই ছবিসংবলিত একটি ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে এবং আন্দোলনের মাঠে অশালীন স্লোগানও তোলা হয়।
ডিপফেক ছবিগুলো ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়ার ফলে ভুক্তভোগী নারী প্রাণনাশের হুমকি পাচ্ছিলেন এবং তাঁর ব্যক্তিগত নিরাপত্তা বিঘ্নিত হচ্ছিল। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে ভুক্তভোগী নারী গত বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) নিউ দিল্লি সাইবার পুলিশ স্টেশনে মামলা দায়ের করেন।
পুলিশ ‘অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের’ বিরুদ্ধে এফআইআর নিলেও মূল পরিকল্পনাকারী সিজেপি নেতাদের নাম সেখানে অন্তর্ভুক্ত করেনি। তাছাড়া, ইন্টারনেট বা সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলো থেকে আপত্তিকর লিংক বা বিকৃত ছবিগুলো অবিলম্বে সরানোর জন্য কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। এই কারণে, দ্রুত বিচারিক হস্তক্ষেপ, নিজের আইনি সুরক্ষা এবং সোশ্যাল মিডিয়া থেকে ছবিগুলো অপসারণ নিশ্চিত করতে ভুক্তভোগী নারী শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) সরাসরি হাইকোর্টের শরণাপন্ন হন। এ ঘটনায় দিল্লি হাইকোর্ট ককরোচ জনতা পার্টির নেতা অভিজিৎ দিপ, সৌরভ দাস, আশুতোষ রাঙ্কা এবং রত্না সিংকে নোটিশ জারি করেছে।
হাইকোর্ট একই সঙ্গে সোশ্যাল মিডিয়া জায়ান্ট মেটা-কে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তাদের প্ল্যাটফর্মগুলো থেকে ওই নারী সংক্রান্ত সব আপত্তিকর ছবি ও লিংক সরিয়ে ফেলার নির্দেশ দিয়েছে। আদালত ওই নারীর জন্য পুলিশি সুরক্ষা দেওয়ার নির্দেশও দিয়েছে। নারীর আবেদনের ভিত্তিতে দিল্লি পুলিশকেও নোটিশ জারি করা হয়েছে। দিল্লি পুলিশকে দুই সপ্তাহের মধ্যে এ বিষয়ে একটি অগ্রগতি প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।
দিল্লি হাইকোর্টের বিচারপতি গিরিশ কাঠপালিয়া মন্তব্য করেন, ‘এটি একটি ব্যতিক্রমী পরিস্থিতি যেখানে বিষয়টি কেবল একজন নারীর নয়, এটি দেশের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গেও জড়িত। তাঁরা যদি সংবেদনশীল না হন, তবে আমি নিশ্চিত করব যেন তাঁরা সংবেদনশীল হন।’
প্রসঙ্গত, শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে গত ২০ জুন যন্তর মন্তরে আন্দোলন শুরু করে সিজেপি। শেষ পর্যন্ত শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের পর গত ২৫ জুলাই এই আন্দোলন প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাজধানীর ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরাতে (আইসিসিবি) চতুর্থবারের মতো অনুষ্ঠিত হচ্ছে ‘সুপার সেল কার বাজার’। প্রতি শুক্রবার সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত এই বাজারে গাড়ির বেচাকেনা চলে। বসুন্ধরা গ্রুপের সহযোগিতায় শুরু হওয়া এই বাজারে আজও গাড়ির বিক্রি হয়েছে জমজমাটভাবে।
আজকের মেলায় প্রায় ৩০০টিরও বেশি গাড়ি প্রদর্শিত হয়েছে। এখানে সুপার লাক্সারি গাড়ির পাশাপাশি রিকন্ডিশন গাড়ি, পুরাতন গাড়ি এবং ব্র্যান্ড নিউ গাড়িও রয়েছে।
৯০ হাজার স্কয়ার ফিট জায়গাজুড়ে বিস্তৃত শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত এই সুপার সেল কার বাজার থেকে ক্রেতারা স্বাচ্ছন্দ্যে তাদের পছন্দের বাইক ও গাড়ি কিনতে সক্ষম হয়েছেন। সকালে বাজার খোলার পর থেকেই দলে দলে বাইক ও গাড়িপ্রেমীরা সুপার সেল কার বাজারে আসতে শুরু করেন।
বাজারে ঘুরতে আসা কেউ কেউ নিজেদের ব্যবহৃত গাড়ি বিক্রির জন্য সিরিয়ালে সাজিয়ে রেখেছেন। এদিন পুরনো গাড়ির পাশাপাশি বাজারে এসেছে নতুন ইলেকট্রিক গাড়িও।
দিন যত গড়াচ্ছে, গাড়ির সংখ্যা বাড়ছে। একইসঙ্গে ক্রেতা ও বিক্রেতাদের সংখ্যাও বৃদ্ধি পাচ্ছে। মধ্যবৃত্ত বা নিম্ন মধ্যবিত্তদের জন্য ২০-৩০ লাখের মধ্যে বিভিন্ন গাড়ি পাওয়া যাচ্ছে এই বাজারে। এখানে ক্রেতারা ব্যাংক লোনের সুবিধাও গ্রহণ করতে পারছেন।
সুপার সেল কার বাজারে ক্রেতা গাড়ি কেনার আগে তার আসল অবস্থা, পূর্বের ইতিহাস এবং পার্টসের কোনো ত্রুটি আছে কি না, তা জানার ব্যবস্থা রয়েছে। এছাড়া ক্রেতাদের কেবল কাগজ-কলমে বা কথার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নিতে হচ্ছে না। এখানে টেস্ট ড্রাইভ করে গাড়ি পরীক্ষা করার সুযোগও রয়েছে।
কার বাজারের ক্রেতাদের গাড়ি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার জন্য মোবাইল সার্ভিস ভ্যান প্রস্তুত করে অপেক্ষা করছিলেন হুন্দাইয়ের তেজগাঁও শাখার সার্ভিস ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ সিয়াম। তিনি বলেন, "সুপার সেল কার বাজারে অনেক গাড়ি বিক্রি হয়। এখানে পুরনো, রিকন্ডিশন ও ব্র্যান্ড নিউ গাড়ি রয়েছে।"
তিনি আরও বলেন, "আমরা ক্রেতাদের সহায়তা করার জন্য মোবাইল সার্ভিস ভ্যান নিয়ে কার বাজারে আছি। ক্রেতা গাড়ি কিনে আমাদের কাছে নিয়ে এলে আমরা তার পুরো গাড়ির হেলথ চেকআপ ফ্রিতে করে দেব। গাড়ির ইঞ্জিন, গিয়ার বক্সসহ বিভিন্ন ইলেকট্রনিক আইটেমগুলো কী কী কন্ডিশনে আছে, তা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে সম্পূর্ণ একটি রিপোর্ট আমরা কাস্টমারকে দিই। যাতে ক্রেতা রিপোর্ট দেখে বুঝতে পারেন গাড়িটি কেনার উপযোগী কি না।"
সুপার সেল কার বাজারে মধ্যস্বত্বভোগী বা দালালের ঝামেলা ছাড়াই বিক্রেতার সঙ্গে সরাসরি কথা বলে সঠিক দামে গাড়ি কেনার ব্যবস্থা রয়েছে।
ক্রেতার পাশাপাশি এই বাজারে দর্শনার্থীদের উপস্থিতিও ছিল উল্লেখযোগ্য। তারা বাইক ও গাড়ি ঘুরে ঘুরে দেখেছেন। কেউ কেউ কার বাজারের ইনফরমেশন ডেস্ক থেকে গাড়ির মডেল ও মার্কেট প্রাইস সম্পর্কে ধারণা নিয়েছেন।
দিন দিন সুপার সেল কার বাজারের জনপ্রিয়তা আরও বাড়ছে। কর্তৃপক্ষ মনে করছেন, এটি আরও বৃদ্ধি পাবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ফেনী শহরের পূর্ব উকিলপাড়ায় মিছিলের প্রস্তুতি ও গোপন বৈঠকের অভিযোগে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) বঙ্গবন্ধু সৈনিক লীগের এক নেতাসহ ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে। শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) ভোরে অভিযান পরিচালনা করে তাঁদের আটক করা হয়। পরে সংশ্লিষ্ট মামলায় তাঁদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে রয়েছেন আবুল কালাম মিনার (৪৩), মো. ফাহিম (১৯), মো. রাসেল (২১), আব্দুর রহমান (১৯), শরিফুল ইসলাম আশিক (২০) ও নিজাম উদ্দিন মাহমুদ (২৬)। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গ্রেপ্তারকৃত ছয়জনই আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পদে রয়েছেন।
ডিবি সূত্রে জানা যায়, ফেনী জেলা যুবলীগের সহসভাপতি জিয়াউল আলম মিস্টারের ভাই এবং বঙ্গবন্ধু সৈনিক লীগের সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম মিনারের বাসায় কয়েকজন যুবক বৈঠকে মিলিত হন। পুলিশের দাবি, ওই বৈঠকে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি ও মিছিল বের করার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছিল।
গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শুক্রবার ভোর ৪টার দিকে ডিবি পুলিশের একটি দল ওই বাসায় অভিযান চালায়। এ সময় সেখান থেকে ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
তবে গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিরা দাবি করেছেন, তাঁরা কয়েকজন বন্ধুবান্ধব মিলে মিনারের বাসায় আড্ডা দিচ্ছিলেন। হঠাৎ পুলিশ সেখানে ঢুকে তাঁদের আটক করে থানায় নিয়ে যায়।
এ বিষয়ে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাবেদ মাহমুদ বলেন, "দেশব্যাপী নৈরাজ্য সৃষ্টির অংশ হিসেবে ফেনীতে মিছিল বের করার লক্ষ্যে তাঁরা প্রস্তুতিমূলক বৈঠক করছিলেন। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সেখানে অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়।" পরে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট আইনে মামলা করা হয়েছে। শুক্রবার বিকেলে গ্রেপ্তার ছয়জনকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাজশাহীতে দুই দিনব্যাপী ‘শাপলা সৃজনমঞ্চ নজরুল উৎসব-১৪৩৩ শুরু হয়েছে।
শুক্রবার সকালে নগরীর বনলতা আবাসিক এলাকার শাপলা কালচারাল স্কুলে উৎসবের উদ্বোধন করেন রাজশাহী সিটি করপোরেশনের (রাসিক) প্রশাসক মোঃ মাহফুজুর রহমান রিটন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মাহফুজুর রহমান রিটন বলেন, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম শুধু বিদ্রোহের কবি নন, তিনি প্রেম, মানবতা, সাম্য ও সম্প্রীতির কবি। তাঁর সাহিত্য ও সংগীত অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানো এবং বৈষম্য দূর করার প্রেরণা দেয়।
তিনি বলেন, পড়াশোনার পাশাপাশি সাংস্কৃতিক চর্চা শিক্ষার্থীদের সৃজনশীল ও মানবিক মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। নজরুল উৎসবের মতো আয়োজন নতুন প্রজন্মকে কবির জীবন, দর্শন ও সৃষ্টিশীলতার সঙ্গে পরিচিত করার পাশাপাশি তাদের প্রতিভা বিকাশে সহায়তা করবে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন শাপলা গ্রাম উন্নয়ন সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক মোঃ মোহসিন আলী। উপস্থিত ছিলেন শাহ মখদুম থানা বিএনপির সদস্য সচিব মোঃ নাসিম খান, রাজশাহী স্বার্থ সংরক্ষণ কমিটির সদস্য সচিব মাহফুজুল হাসনাইন হিকোল, আয়েশা হাজরা মডেল স্কুলের অধ্যক্ষ সানজিদা রহমানসহ শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও সংস্কৃতিকর্মীরা।
উৎসবে সংগীত, নৃত্য, আবৃত্তি ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতায় মহানগরীর বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা অংশ নিচ্ছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ