ঢাকা শনিবার, ০৭ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ২২শে কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২৬শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শনিবার, ০৭ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ২২শে কার্তিক, ১৪৩২বাং

ঝালকাঠিতে ‘সুস্থ শিশু, সুন্দর আগামী’ স্লোগানে ২০০ শিশুকে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা


ঝালকাঠিতে ‘সুস্থ শিশু, সুন্দর আগামী’ স্লোগানে ২০০ শিশুকে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা

ঝালকাঠি, ৬ নভেম্বর, ২০২৬ : ‘সুস্থ শিশু, সুন্দর আগামী’ এই স্লোগানকে সামনে রেখে জেলায় দুই শতাধিক শিশুকে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা ও ওষুধ বিতরণ করা হয়েছে।

আজ শুক্রবার সকাল ১০টা থেকে দুপুর পর্যন্ত ঝালকাঠি উদ্বোধন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে দিনব্যাপী এই স্বাস্থ্যসেবা ক্যাম্পের আয়োজন করা হয়।

সামাজিক ও মানবিক সংগঠন ‘উই ক্যান চেঞ্জ’ (ডব্লিউসিসি)-এর উদ্যোগে পরিচালিত ক্যাম্পে শিশু বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের একটি দল চিকিৎসাসেবা প্রদান করে।

আরও পড়ুন: বুকব্যথা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি শ্রমমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী

সংগঠনটির চেয়ারম্যান, ঢাকা শিশু হাসপাতালের অধ্যাপক এবং বিশিষ্ট শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. এস এম খালিদ মাহমুদ শাকিলের নেতৃত্বে অভিজ্ঞ চিকিৎসকেরা শিশুদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও চিকিৎসা পরামর্শ দেন।

ক্যাম্পে শিশুদের বিভিন্ন সাধারণ ও জটিল রোগের চিকিৎসা, প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য পরীক্ষা, প্রাথমিক চিকিৎসা এবং সুস্থ জীবনযাপনের বিষয়ে পরামর্শ প্রদান করা হয়। পাশাপাশি বিনামূল্যে ওষুধ বিতরণও করা হয়।

অধ্যাপক ডা. এস এম খালিদ মাহমুদ শাকিল বলেন, "শিশুরা দেশের ভবিষ্যৎ। তাদের সুস্থভাবে বেড়ে ওঠা নিশ্চিত করতে শৈশব থেকেই নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও সঠিক চিকিৎসা প্রয়োজন। অনেক পরিবার আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে শিশুদের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যেতে পারে না।"

তিনি আরও বলেন, এসব শিশুর কাছে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দেওয়াই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। রোগের চিকিৎসার পাশাপাশি শিশুদের পুষ্টি, পরিচর্যা ও সুস্থ জীবনযাপন সম্পর্কে অভিভাবকদের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

আরও পড়ুন: কুলাউড়ায় পুলিশের অভিযানে চোরাই মোটরসাইকেল উদ্ধার, ৪ গ্রেফতার

আয়োজকরা জানান, সমাজের সাধারণ ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের কাছে বিনামূল্যে মানসম্মত চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতেও জনকল্যাণমূলক এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত রাখার পরিকল্পনা রয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সাজেকে অবরোধের কারণে বাতিল কঠিন চীবর দানোৎসব

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ৬ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৩:৫৫ পি.এম


সাজেকে অবরোধের কারণে বাতিল কঠিন চীবর দানোৎসব

রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেক পর্যটনকেন্দ্রে চলমান অবরোধের কারণে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব কঠিন চীবর দানোৎসব বাতিল করা হচ্ছে। প্রতিবছর, ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসবমুখর পরিবেশে সাজেকের বিভিন্ন বৌদ্ধবিহারে এই আয়োজন হয়ে থাকে, কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতির কারণে তা নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। অবরোধের ফলে যাতায়াতব্যবস্থা ব্যাহত হওয়ায় ভিক্ষু-শ্রমণ, দায়ক-দায়িকা এবং দূরদূরান্ত থেকে আসা ধর্মপ্রাণ মানুষের জন্য এতে অংশগ্রহণ করা সম্ভব হচ্ছে না।

সাজেক বনানী বনবিহার কঠিন চীবর দান উদ্‌যাপন কমিটি একটি বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, সাজেকের বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় অনিবার্য কারণে ৬ ও ৭ নভেম্বরের কঠিন চীবর দান উৎসবের অনুষ্ঠান বাতিল করা হয়েছে।

গত ২২ অক্টোবর থেকে সাজেক সড়কে তৃতীয় দফায় অনির্দিষ্টকালের অবরোধ কর্মসূচি শুরু করে সাজেক গণ অধিকার রক্ষা কমিটি ও সাজেক কার্বারি অ্যাসোসিয়েশন। ১ নভেম্বর এক দিনের জন্য অবরোধ শিথিল করার পর ২ নভেম্বর থেকে চতুর্থ দফায় আবারও অবরোধ শুরু হয়। শুক্রবার পঞ্চম দিনের মতো অবরোধ কর্মসূচি চলছে। অবরোধের কারণে সাজেক সড়কে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। তবে, গত বুধবার থেকে কৃষিপণ্য পরিবহন ও শিক্ষার্থীদের বহনকারী যানবাহন অবরোধের আওতামুক্ত ঘোষণা করা হয়েছে।

সাজেক থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তোফাজ্জল হোসেন বলেন, ‘অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সতর্ক রয়েছে।’

এদিকে, সাজেকে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের বিষয়ে কী কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, তা মন্ত্রণালয়কে জানানোর সুপারিশ করেছে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি। বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত কমিটির বৈঠকে এ সুপারিশ করা হয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রীসংস্থার নিন্দা, গভীর রাতে ছাত্রীর ওপর পুলিশি হামলা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ৬ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৩:৫৬ পি.এম


বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রীসংস্থার নিন্দা, গভীর রাতে ছাত্রীর ওপর পুলিশি হামলা

গভর্নমেন্ট কলেজ অব অ্যাপ্লাইড হিউম্যান সাইন্সের সাধারণ ছাত্রীদের ন্যায্য অধিকারের আন্দোলনে গভীর রাতে পুলিশ ডেকে এনে ছাত্রীবাসে প্রবেশ করে ছাত্রীদের ওপর নির্মম ও বর্বরোচিত লাঠিচার্জ এবং শারীরিক নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় তীব্র নিন্দা, ক্ষোভ ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রীসংস্থার কেন্দ্রীয় সভানেত্রী মুনজিয়া এবং সেক্রেটারি জেনারেল ডা. নাহিয়ান ফাইরুজ নাজিফা।

আজ শুক্রবার এক যৌথ বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ মন্তব্য করেন, ‘সাধারণ ছাত্রীরা হলের সিট পুনর্বহাল, আবাসন সংকট দূরীকরণ এবং প্রাতিষ্ঠানিক হয়রানি বন্ধের দাবিতে সম্পূর্ণ গণতান্ত্রিক ও শান্তিপূর্ণ উপায়ে আন্দোলন করছিল। কিন্তু কলেজ প্রশাসন তাদের যৌক্তিক দাবিগুলো আলোচনার মাধ্যমে সমাধান না করে, গভীর রাতে ক্যাম্পাসে পুলিশ ডেকে এনে ছাত্রীদের ওপর বর্বরোচিত হামলা চালিয়েছে। পবিত্র শিক্ষাঙ্গনে এবং ছাত্রীদের নিরাপদ আশ্রয়স্থল ছাত্রীবাসে পুরুষ পুলিশ প্রবেশ করে ছাত্রীদের ওপর নির্মম শারীরিক নির্যাতন ও বেধড়ক লাঠিচার্জ করার ঘটনা নজিরবিহীন, লজ্জাজনক এবং আইনের শাসন ও মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন।’

নেতৃবৃন্দ আরও উল্লেখ করেন, ‘শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অভিভাবক হিসেবে যেখানে অধ্যক্ষের দায়িত্ব ছিল ছাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং স্নেহের সঙ্গে সমস্যার সমাধান করা, সেখানে তিনি ছাত্রীদের ওপর পুলিশ লেলিয়ে দিয়ে পদে থাকার নৈতিক যোগ্যতা হারিয়েছেন। এই হামলায় বেশ কয়েকজন সাধারণ ছাত্রী গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন, যা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।’

বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ অবিলম্বে এই পুলিশি হামলার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি, ঘটনার দায় নিয়ে অধ্যক্ষের জবাবদিহিতা ও পদত্যাগ এবং আহত ছাত্রীদের চিকিৎসার ব্যয়ভার বহনসহ শিক্ষার্থীদের ন্যায্য দাবি অনতিবিলম্বে মেনে নেওয়ার জোর দাবি জানান। পাশাপাশি তারা এই স্বৈরাচারী ও দমনমূলক আচরণ বন্ধ করে ক্যাম্পাসে ছাত্রীদের নিরাপদ আবাসন ও শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ ফিরিয়ে আনার আহ্বান জানান।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ইউরোপজুড়ে একের পর এক বিমানে বোমার হুমকি, ৩০ ফ্লাইট বাধাগ্রস্ত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শুক্রবার, ৬ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৩:৫৭ পি.এম


ইউরোপজুড়ে একের পর এক বিমানে বোমার হুমকি, ৩০ ফ্লাইট বাধাগ্রস্ত

ইউরোপের বিভিন্ন দেশে একের পর এক বিমানে বোমা হামলার ভুয়া হুমকির ফলে ব্যাপক আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) একদিনের মধ্যে প্রায় ৩০টি যাত্রীবাহী বিমান এই ভুয়া হুমকির মুখোমুখি হয়। কিছু বিমান জরুরি অবতরণ করে, আবার কিছু যাত্রী নামিয়ে তল্লাশি করা হয়। কয়েকটি বিমানের নিরাপত্তার জন্য আকাশে যুদ্ধবিমানও পাঠানো হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) ইউরোপের বিভিন্ন দেশের বিমানবন্দরে এসব ঘটনা ঘটেছে। অ্যার লিঙ্গাস, উইজ এয়ার, লট, ফিনএয়ার, ইজিজেট, আইবেরিয়া, কেএলএমসহ বেশ কয়েকটি বিমান সংস্থা এই হুমকির শিকার হয়। এর আগে মঙ্গলবার (৪ নভেম্বর) অন্তত সাতটি যাত্রীবাহী বিমান ও একটি প্রমোদতরিতে বোমা হামলার ভুয়া হুমকি দেওয়া হয়েছিল।

ইতালি, ফ্রান্স, পোল্যান্ড, বুলগেরিয়া, রোমানিয়া, ডেনমার্ক ও স্পেনসহ বিভিন্ন দেশে এসব ঘটনা ঘটে। হুমকির কারণে প্যারিস, রোম, মিলান, প্রাগ, ব্রাসেলস, সোফিয়া ও ভিয়েনাগামী একাধিক বিমানের স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হয়।

ফ্রান্সের প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়েন লেকর্নুর দপ্তর জানায়, ডাবলিন থেকে রোমগামী অ্যার লিঙ্গাসের একটি বিমানকে বোমা হামলার হুমকির পর যুদ্ধবিমান দিয়ে পাহারা দিয়ে একটি বিমানঘাঁটিতে নেওয়া হয়। পাইলট কর্তৃপক্ষের প্রত্যাশা অনুযায়ী সহযোগিতা না করায় এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল বলে জানানো হয়।

বুলগেরিয়ার বিমানবাহিনী জানিয়েছে, তিনটি যাত্রীবাহী বিমানকে নিরাপদে অবতরণে সহায়তা করেছে তাদের যুদ্ধবিমান। এর মধ্যে লন্ডন থেকে সোফিয়াগামী রায়ানএয়ারের একটি বিমানকে গতিপথ পরিবর্তন করে প্লোভদিভে অবতরণ করানো হয়।

স্পেনের মাদ্রিদে দুটি এয়ার ইউরোপার বিমান এবং রোম ও মিলান থেকে আসা আইবেরিয়ার চারটি বিমানকে লক্ষ্য করে ২০ মিনিটের মধ্যে তিনটি হুমকিবিষয়ক ই-মেইল পাঠানো হয়। এ ঘটনায় কয়েকটি বিমানের যাত্রা স্থগিত করা হয় এবং যাত্রীদের নামিয়ে তল্লাশি চালানো হয়। পোল্যান্ডের ওয়ারশতে প্যারিসগামী একটি বিমান উড্ডয়নের আগে থামিয়ে দেওয়া হয়। ডেনমার্কের কোপেনহেগেন বিমানবন্দরেও দুটি বিমান তল্লাশি করা হয়।

ইতালির রোম ও মিলানের বিমানবন্দরের বিভিন্ন সংস্থার কাছে ‘হুমকির প্রতিবেদন’ শিরোনামে একটি ই-মেইল পাঠানো হয়েছিল। এতে হেলসিঙ্কি ও ডাবলিন থেকে আসা বিমানে বিস্ফোরক রাখার দাবি করা হয়। তবে কারা এসব হুমকি দিয়েছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের ধারণা, এসব ঘটনা বিচ্ছিন্ন ব্যক্তির কাজ হতে পারে। আবার এর পেছনে সমন্বিত নাশকতার চেষ্টাও থাকতে পারে। ইউরোপের কয়েকটি দেশ এর আগে বিভিন্ন ধরনের নাশকতা ও গোপন হামলার জন্য রাশিয়াকে দায়ী করেছে। তবে মস্কো এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। এবারের বোমা হামলার হুমকির সঙ্গে রাশিয়া বা অন্য কোনো দেশের সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

এদিকে, বিমানে বোমা হামলার ভুয়া হুমকির পাশাপাশি ইউরোপের বিভিন্ন দেশে সাইবার হামলার ঘটনাও ঘটছে। সম্প্রতি কয়েকটি দেশের সুপারশপের খাবার সংরক্ষণের হিমাগার এবং ফ্রান্সের কয়েকটি রক্ত সংরক্ষণকেন্দ্র সাইবার হামলার শিকার হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের হামলার উদ্দেশ্য হতে পারে জরুরি সেবা ব্যাহত করা, অর্থনৈতিক ক্ষতি সৃষ্টি এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা তৈরি করা।

সূত্র: রয়টার্স

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

শেরপুর সীমান্তে মাদকের চোরাচালান বৃদ্ধি, উদ্বিগ্ন সমাজকর্মীরা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ৬ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৩:৫৮ পি.এম


শেরপুর সীমান্তে মাদকের চোরাচালান বৃদ্ধি, উদ্বিগ্ন সমাজকর্মীরা

শেরপুরের ভারতঘেঁষা সীমান্ত বর্তমানে মাদক ও চোরাচালানের অঘোষিত বাজারে পরিণত হয়েছে। জেলার শ্রীবরদী, ঝিনাইগাতী ও নালিতাবাড়ী উপজেলার সীমান্তবর্তী বিভিন্ন পয়েন্টের মাধ্যমে প্রতিদিন দেশে প্রবেশ করছে মাদক, ভারতীয় কসমেটিকস, গরুসহ বিভিন্ন অবৈধ পণ্য। অভিযোগ রয়েছে, প্রভাবশালী মহলের ছত্রচ্ছায়ায় গড়ে ওঠা একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট এসব চোরাচালান নিয়ন্ত্রণ করছে। আর অর্থের প্রলোভনে কর্মহীন দরিদ্র মানুষকে মাদক পরিবহনের কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে।

বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, বিলপাড়, নকশি, রাংটিয়া, লোহার ব্রিজ, গোমড়া, সন্ধ্যাকুড়া, হালচাটি, তাওয়াকুচা, বালিজুড়ি, কর্ণজোড়া, রাবার বাগান, বারোমারি, খলচান্দা, নাকুগাঁও, বরুয়াজানী, রাধার বাঁধ, পানিহাটা ও শালবাগানসহ অন্তত ১৫টি পয়েন্ট চোরাচালানের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। সীমান্ত দিয়ে আসা মাদক পাহাড়ি এলাকায় মজুত করে পরে ট্রাক, বাস, পিকআপ, কাভার্ডভ্যান, অটোরিকশা, ইজিবাইক ও মোটরসাইকেলে দেশের বিভিন্ন স্থানে পাচার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

বিজিবির সূত্র জানাচ্ছে, ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে নভেম্বর পর্যন্ত ১১ মাসে ময়মনসিংহ সেক্টর এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৬০ কোটি ৫৮ লাখ টাকা মূল্যের চোরাচালানি পণ্য ও মাদক জব্দ করা হয়েছে। এ সময় ১১৪ জন কারবারিকে আটক করা হয়েছে।

স্থানীয় সমাজকর্মী ছাইফুল ইসলাম মানিক মন্তব্য করেন, বর্তমানে হাত বাড়ালেই মাদক পাওয়া যাচ্ছে। স্কুলশিক্ষার্থী থেকে শুরু করে বিভিন্ন বয়স ও শ্রেণিপেশার মানুষ মাদকের নেশায় জড়িয়ে পড়ছে। ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে রক্ষা করতে এখনই মাদকের বিস্তার রোধ করা জরুরি।

ঝিনাইগাতীর বাকাকুড়া গ্রামের সমাজকর্মী রবিউল ইসলাম রোমান অভিযোগ করেন, এলাকায় প্রভাবশালীদের আশ্রয়ে মাদক কারবারিরা সক্রিয় রয়েছে। মাদকের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করায় তিনি হামলার শিকার হয়েছেন এবং তাঁর মোটরসাইকেল ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করেন। তাঁর অভিযোগ, পর্যাপ্ত সাক্ষ্য-প্রমাণ থাকার পরও মামলাটি অগ্রসর হয়নি।

স্থানীয়রা জানান, কর্মহীন মানুষকে মাদক পরিবহনে ব্যবহার করা হচ্ছে। এ অবস্থা থেকে উত্তরণে জনসচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।

শেরপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান ভূঁইয়া বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে জেলা পুলিশের অবস্থান জিরো টলারেন্স। চোরাচালান প্রতিরোধে বিজিবির সঙ্গে সমন্বয় করে পুলিশ কাজ করছে।

বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির অন্যতম সদস্য ও সংবিধান সংশোধন কমিটির সদস্য, শেরপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মাহমুদুল হক রুবেল দৈনিক ইনকিলাবকে বলেন, সীমান্তবর্তী এলাকায় দরিদ্র মানুষের কর্মসংস্থানের অভাব ও দারিদ্র্যের সুযোগ নিয়ে মাদক কারবারিরা অসহায় মানুষকে ব্যবহার করছে। এ চক্রের সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তিনি।

৩৯ বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্নেল নুরুল আজিম বায়েজীদ জানান, সীমান্ত দিয়ে মাদক, চোরাচালান ও অবৈধ অনুপ্রবেশ প্রতিরোধে বিজিবি সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। এ বিষয়ে কঠোর নজরদারি ও অভিযান অব্যাহত থাকবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২৬শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৫০
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪০
মাগরিব ০৫:১৬
ইশা ০৬:২৯
সূর্যোদয় : ০৬:০৮ সূর্যাস্ত : ০৫:১৬
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%