ঢাকা শনিবার, ০৭ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ২২শে কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২৬শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শনিবার, ০৭ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ২২শে কার্তিক, ১৪৩২বাং

শেরপুর সীমান্তে মাদকের চোরাচালান বৃদ্ধি, উদ্বিগ্ন সমাজকর্মীরা


শেরপুর সীমান্তে মাদকের চোরাচালান বৃদ্ধি, উদ্বিগ্ন সমাজকর্মীরা

শেরপুরের ভারতঘেঁষা সীমান্ত বর্তমানে মাদক ও চোরাচালানের অঘোষিত বাজারে পরিণত হয়েছে। জেলার শ্রীবরদী, ঝিনাইগাতী ও নালিতাবাড়ী উপজেলার সীমান্তবর্তী বিভিন্ন পয়েন্টের মাধ্যমে প্রতিদিন দেশে প্রবেশ করছে মাদক, ভারতীয় কসমেটিকস, গরুসহ বিভিন্ন অবৈধ পণ্য। অভিযোগ রয়েছে, প্রভাবশালী মহলের ছত্রচ্ছায়ায় গড়ে ওঠা একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট এসব চোরাচালান নিয়ন্ত্রণ করছে। আর অর্থের প্রলোভনে কর্মহীন দরিদ্র মানুষকে মাদক পরিবহনের কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে।

বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, বিলপাড়, নকশি, রাংটিয়া, লোহার ব্রিজ, গোমড়া, সন্ধ্যাকুড়া, হালচাটি, তাওয়াকুচা, বালিজুড়ি, কর্ণজোড়া, রাবার বাগান, বারোমারি, খলচান্দা, নাকুগাঁও, বরুয়াজানী, রাধার বাঁধ, পানিহাটা ও শালবাগানসহ অন্তত ১৫টি পয়েন্ট চোরাচালানের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। সীমান্ত দিয়ে আসা মাদক পাহাড়ি এলাকায় মজুত করে পরে ট্রাক, বাস, পিকআপ, কাভার্ডভ্যান, অটোরিকশা, ইজিবাইক ও মোটরসাইকেলে দেশের বিভিন্ন স্থানে পাচার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

বিজিবির সূত্র জানাচ্ছে, ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে নভেম্বর পর্যন্ত ১১ মাসে ময়মনসিংহ সেক্টর এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৬০ কোটি ৫৮ লাখ টাকা মূল্যের চোরাচালানি পণ্য ও মাদক জব্দ করা হয়েছে। এ সময় ১১৪ জন কারবারিকে আটক করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: শেরপুরে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের ৫ কর্মী মিছিল বের করার চেষ্টা, গ্রেফতার

স্থানীয় সমাজকর্মী ছাইফুল ইসলাম মানিক মন্তব্য করেন, বর্তমানে হাত বাড়ালেই মাদক পাওয়া যাচ্ছে। স্কুলশিক্ষার্থী থেকে শুরু করে বিভিন্ন বয়স ও শ্রেণিপেশার মানুষ মাদকের নেশায় জড়িয়ে পড়ছে। ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে রক্ষা করতে এখনই মাদকের বিস্তার রোধ করা জরুরি।

ঝিনাইগাতীর বাকাকুড়া গ্রামের সমাজকর্মী রবিউল ইসলাম রোমান অভিযোগ করেন, এলাকায় প্রভাবশালীদের আশ্রয়ে মাদক কারবারিরা সক্রিয় রয়েছে। মাদকের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করায় তিনি হামলার শিকার হয়েছেন এবং তাঁর মোটরসাইকেল ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করেন। তাঁর অভিযোগ, পর্যাপ্ত সাক্ষ্য-প্রমাণ থাকার পরও মামলাটি অগ্রসর হয়নি।

স্থানীয়রা জানান, কর্মহীন মানুষকে মাদক পরিবহনে ব্যবহার করা হচ্ছে। এ অবস্থা থেকে উত্তরণে জনসচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।

শেরপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান ভূঁইয়া বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে জেলা পুলিশের অবস্থান জিরো টলারেন্স। চোরাচালান প্রতিরোধে বিজিবির সঙ্গে সমন্বয় করে পুলিশ কাজ করছে।

আরও পড়ুন: শেরপুরে ঝিনাইগাতীতে মসজিদ কমিটি নিয়ে বিরোধ, হয়ার কারনে প্রতিপক্ষের হামলায় বিএনপি নেতা নিহত,

বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির অন্যতম সদস্য ও সংবিধান সংশোধন কমিটির সদস্য, শেরপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মাহমুদুল হক রুবেল দৈনিক ইনকিলাবকে বলেন, সীমান্তবর্তী এলাকায় দরিদ্র মানুষের কর্মসংস্থানের অভাব ও দারিদ্র্যের সুযোগ নিয়ে মাদক কারবারিরা অসহায় মানুষকে ব্যবহার করছে। এ চক্রের সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তিনি।

৩৯ বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্নেল নুরুল আজিম বায়েজীদ জানান, সীমান্ত দিয়ে মাদক, চোরাচালান ও অবৈধ অনুপ্রবেশ প্রতিরোধে বিজিবি সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। এ বিষয়ে কঠোর নজরদারি ও অভিযান অব্যাহত থাকবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কুয়েতে ভিসা বাণিজ্য ও জালিয়াতির অভিযোগে দুই মিশরীয়র ৫ বছর, এক বাংলাদেশির ৪ বছর কারাদণ্ড

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ৬ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৩:৫৯ পি.এম


কুয়েতে ভিসা বাণিজ্য ও জালিয়াতির অভিযোগে দুই মিশরীয়র ৫ বছর, এক বাংলাদেশির ৪ বছর কারাদণ্ড

কুয়েতে অবৈধভাবে আবাসিক ভিসা কেনাবেচা, সরকারি নথি জালিয়াতি ও ঘুসের ঘটনায় দেশটির ফৌজদারি আদালত দুই মিশরীয় নাগরিককে পাঁচ বছর করে এবং এক বাংলাদেশি প্রবাসীকে চার বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন। একই ঘটনায় সংশ্লিষ্ট একটি পরিবহন কোম্পানিকে ২০ হাজার কুয়েতি দিনার জরিমানা এবং কোম্পানির লাইসেন্স বাতিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

কুয়েতের আবাসন-বিষয়ক তদন্ত বিভাগের অনুসন্ধানের মাধ্যমে একটি কোম্পানির মাধ্যমে অবৈধভাবে আবাসিক পারমিট কেনাবেচা, সরকারি লেনদেনের নথি জালিয়াতি ও ঘুস দেয়ার বিষয়টি উন্মোচিত হয়। আদালতের রায়ে প্রথম মিশরীয় আসামিকে দুজন শ্রমিকের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ঘটনায় পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং ১০ হাজার দিনার জরিমানা করা হয়েছে। দ্বিতীয় মিশরীয়কে আবাসিক পারমিট নবায়নের নথি জালিয়াতি ও ঘুসের ঘটনায় পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং ৫০ দিনার জরিমানা দেওয়া হয়েছে।

একই মামলায় পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে কর্মরত এক বাংলাদেশিকে ঘুসের ঘটনায় চার বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং ৫০ দিনার জরিমানা করা হয়েছে। এছাড়া সংশ্লিষ্ট পরিবহন কোম্পানিকে প্রত্যেক শ্রমিকের জন্য ১০ হাজার দিনার করে মোট ২০ হাজার দিনার জরিমানা এবং কোম্পানির লাইসেন্স বাতিলের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

কুয়েতে বিদেশিদের আবাসন নিয়ন্ত্রণে ২০২৪ সালের ২৮ নভেম্বর নতুন আবাসন আইন অনুমোদিত হয়। এই আইনটি ১৯৫৯ সালের পুরোনো আবাসন আইনকে প্রতিস্থাপন করে। নতুন আইনে আবাসিক অনুমতি নিয়ে প্রতারণা, অবৈধভাবে শ্রমিক নিয়োগ এবং অর্থের বিনিময়ে স্পনসরশিপ বা আবাসনের সুযোগ বিক্রির বিরুদ্ধে কঠোর বিধান রাখা হয়েছে।

আইন অনুযায়ী, কোনো স্পন্সর বা নিয়োগকর্তা বিদেশি শ্রমিককে প্রকৃত চাকরি দেওয়ার পরিবর্তে শুধু আবাসিক অনুমতি বা ভিসা দেওয়ার বিনিময়ে অর্থ গ্রহণ করতে পারেন না। একইভাবে যে প্রতিষ্ঠানের নামে শ্রমিক নিয়োগ করা হয়েছে, সেই প্রতিষ্ঠানের বাইরে অনুমোদন ছাড়া অন্যত্র কাজ করানোও আইনবিরোধী।

কুয়েতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, আবাসিক অনুমতি বাণিজ্য বা এ ধরনের প্রতারণার ঘটনায় তিন থেকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড এবং ৫ হাজার থেকে ১০ হাজার কুয়েতি দিনার পর্যন্ত জরিমানার বিধান রয়েছে। অপরাধের সঙ্গে জড়িত শ্রমিকের সংখ্যা অনুযায়ী জরিমানার পরিমাণ বাড়তে পারে। সরকারি কর্মকর্তা নিজ পদ ব্যবহার করে অপরাধ করলে শাস্তি আরও কঠোর হতে পারে। এ ছাড়া জাল কাগজপত্র তৈরি, সরকারি নথি জালিয়াতি, ঘুস এবং মানবপাচারের উপাদান থাকলে সংশ্লিষ্ট অপরাধের পৃথক আইনেও বিচার হতে পারে। ফলে একটি ভিসা কেনাবেচার ঘটনা একাধিক ফৌজদারি অপরাধে রূপ নিতে পারে। কুয়েতে অনেক প্রবাসী শ্রমিক বৈধ চাকরির নিশ্চয়তা ছাড়াই দালাল বা মধ্যস্বত্বভোগীর মাধ্যমে বিপুল অর্থ দিয়ে ভিসা নেন। কেউ কেউ দেশে জমি বিক্রি করেন, কেউ ঋণ নেন, আবার কেউ পরিবারের সঞ্চয় শেষ করে বিদেশে আসেন।

কিন্তু কুয়েতে পৌঁছানোর পর দেখা যায়, যে প্রতিষ্ঠানের নামে ভিসা দেওয়া হয়েছে সেখানে প্রকৃত চাকরি নেই। অনেক ক্ষেত্রে বেতন, কাজের পরিবেশ কিংবা থাকার ব্যবস্থার প্রতিশ্রুতির সঙ্গে বাস্তবতার মিল থাকে না। কেউ অন্য প্রতিষ্ঠানে কাজ করতে বাধ্য হন, আবার কেউ কাজ না পেয়েও স্পন্সরের কাছে নিয়মিত অর্থ দিতে বাধ্য হন। এ ধরনের পরিস্থিতিতে শ্রমিক যেমন আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন, তেমনি আবাসন আইন লঙ্ঘনের মামলায় জড়িয়ে পড়ার ঝুঁকিও তৈরি হয়।

অপরাধের ধরন ও প্রমাণ অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট শ্রমিক, দালাল, স্পন্সর, কোম্পানির মালিক এবং মধ্যস্থতাকারী—সবার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। তবে প্রতিটি শ্রমিককে অপরাধী হিসেবে বিবেচনা করা উচিত নয়। কেউ প্রতারণার শিকার হলে তার অভিযোগ, ভূমিকা ও প্রমাণ আলাদাভাবে তদন্ত করা জরুরি।

বাংলাদেশের অর্থনীতিতে প্রবাসীদের পাঠানো অর্থ বা রেমিট্যান্স অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর মধ্যে কুয়েত বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শ্রমবাজার। হাজার হাজার বাংলাদেশি শ্রমিক কুয়েতের বিভিন্ন নির্মাণপ্রতিষ্ঠান, পরিচ্ছন্নতা, পরিবহন, হাসপাতাল, হোটেল, শিল্প ও সেবা খাতে কাজ করে দেশে অর্থ পাঠাচ্ছেন। বাংলাদেশ ব্যাংকের ২০২৪-২৫ অর্থবছরের দেশভিত্তিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, কুয়েত থেকে বাংলাদেশে প্রায় ১ দশমিক ৬২৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স এসেছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রাথমিক হিসাবে এ পরিমাণ বেড়ে প্রায় ১ দশমিক ৭৬৪ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। অর্থাৎ কুয়েতের শ্রমবাজার বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখছে।

কিন্তু ভিসা বাণিজ্য, জালিয়াতি ও অবৈধ নিয়োগের কারণে শ্রমিকদের কারাদণ্ড, গ্রেপ্তার, কর্মসংস্থান হারানো কিংবা দেশে ফেরত পাঠানোর মতো ঘটনা বাড়লে এর অর্থনৈতিক প্রভাবও পড়তে পারে। কোনো শ্রমিক কারাগারে গেলে বা চাকরি হারালে তার নিয়মিত আয় বন্ধ হয়ে যায়। ফলে পরিবারের কাছে অর্থ পাঠানোও বন্ধ হতে পারে। ভিসা কেনার জন্য অনেক শ্রমিক উচ্চ সুদে ঋণ নেন কিংবা জমিজমা বিক্রি করেন। বিদেশে এসে কাজ হারালে বা দেশে ফিরে যেতে বাধ্য হলে সেই ঋণ পরিশোধ করা কঠিন হয়ে পড়ে। বিপুলসংখ্যক শ্রমিকের কর্মসংস্থান অনিশ্চিত হলে দীর্ঘমেয়াদে বাংলাদেশের বৈধ রেমিট্যান্স প্রবাহ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। কিছু অসাধু ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ভিসা বাণিজ্য এবং জালিয়াতির কারণে পুরো বাংলাদেশি শ্রমিকগোষ্ঠী সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা তৈরি হতে পারে। এতে ভবিষ্যতে নতুন শ্রমিক নিয়োগের ক্ষেত্রে জটিলতা দেখা দেওয়ার আশঙ্কা থাকে।

সুতরাং, ভিসা কেনাবেচা বন্ধ করা কেবল কুয়েতের আইনশৃঙ্খলার বিষয় নয়, এটি বাংলাদেশের শ্রমবাজার, প্রবাসীদের নিরাপত্তা এবং জাতীয় অর্থনীতির স্বার্থের সঙ্গেও গভীরভাবে জড়িত।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ইরানে হামলার আশঙ্কার মধ্যে কাতারের আমিরকে ট্রাম্পের ফোনালাপ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শুক্রবার, ৬ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৪:০০ পি.এম


ইরানে হামলার আশঙ্কার মধ্যে কাতারের আমিরকে ট্রাম্পের ফোনালাপ

মধ্যবর্তী নির্বাচনে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ হারানোর পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ইরানে নতুন করে হামলার হুমকি দিয়েছেন। এই পরিস্থিতিতে কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানির সঙ্গে তিনি টেলিফোনে আলোচনা করেছেন।

শুক্রবার (৬ নভেম্বর) কাতারের আমিরের কার্যালয় (আমিরি দিওয়ান) থেকে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, দুই নেতার মধ্যে আঞ্চলিক পরিস্থিতি এবং উত্তেজনা কমাতে কূটনৈতিক প্রচেষ্টার বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

গালফ নিউজের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, মধ্যবর্তী নির্বাচনে বড় ধরনের পরাজয়ের পরেও ট্রাম্প ইরানে সামরিক হামলা পুনরায় শুরু করার আশঙ্কার মধ্যে এই উচ্চপর্যায়ের কথোপকথন অনুষ্ঠিত হয়। এর আগে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি উপসাগরীয় অঞ্চলের বিভিন্ন দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেন।

কাতারের আমিরের কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প কাতারের আমিরকে ফোন করে মধ্যস্থতাকারী দেশ হিসেবে কাতারের কূটনৈতিক প্রচেষ্টার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেন।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘কাতারের আমির দুই পক্ষের বিরোধ নিষ্পত্তি এবং পরিস্থিতির আরও অবনতি যাতে না হয়, সেই জন্য সংলাপ অব্যাহত রাখার ও কূটনৈতিক উপায়ে সমাধানের ওপর জোর দিয়েছেন।’

এদিকে, বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) ওভাল অফিসে ইরান প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, যুদ্ধ আরও তীব্র করার সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় প্রায় ঘনিয়ে এসেছে।

তিনি উল্লেখ করেন, ‘সম্ভব হলে আমি দেশটির বাকি অংশ ধ্বংস করতে চাই না, তবে হয়তো আমাকে তা করতে হতে পারে। আপনারা খুব দ্রুতই তা জানতে পারবেন।’

এই বিকল্পকে একটি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হিসেবে তুলে ধরে ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা একটি সিদ্ধান্ত নেব যে, আমরা কি আরও এগিয়ে গিয়ে বিষয়টিকে এমনভাবে নিশ্চিত (সার্টিফাই) করতে চাই, যাতে এটি আর কখনোই না ঘটে?’

ট্রাম্প আরও বলেন, ‘আমার মনে হয়, দেশটি পুনর্নির্মাণ করতে তাদের (ইরান) ২৫ বছর সময় লাগবে।’

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

শ্রীপুর-মাগুরা সড়কের ১৭ বছর পর সংস্কার কাজ শুরু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ৬ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৪:০০ পি.এম


শ্রীপুর-মাগুরা সড়কের ১৭ বছর পর সংস্কার কাজ শুরু

মাগুরা-শ্রীপুর আঞ্চলিক মহাসড়কের সংস্কারকাজের শুভ উদ্বোধন করা হয়েছে, যা দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে সংস্কারহীন অবস্থায় ছিল। শুক্রবার (৬ নভেম্বর) শ্রীপুর এলাকায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এই সংস্কারকাজের উদ্বোধন করেন মাগুরা-১ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব মনোয়ার হোসেন খান।

এই গুরুত্বপূর্ণ সড়কটির দৈর্ঘ্য ১৪ কিলোমিটার এবং সংস্কারের জন্য ১৩ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে খানাখন্দ ও বেহাল অবস্থার কারণে স্থানীয়দের যাতায়াতে দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে। তবে, সংস্কার কাজ সম্পন্ন হলে মাগুরা ও শ্রীপুরের হাজার হাজার মানুষের দীর্ঘদিনের যাতায়াতের সমস্যা লাঘব হবে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মাগুরা সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. কায়সার হামিদ, জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আখতার হোসেন, খান হাসান ইমাম সুজা এবং স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী ও এলাকাবাসী উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ঝিনাইদহে চিকিৎসক সংকটে গর্ভবতী নারীদের দূরের হাসপাতালে ছুটতে হচ্ছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ৬ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৪:০১ পি.এম


ঝিনাইদহে চিকিৎসক সংকটে গর্ভবতী নারীদের দূরের হাসপাতালে ছুটতে হচ্ছে

একটি তিনতলা ভবন দাঁড়িয়ে রয়েছে। কক্ষে কক্ষে চিকিৎসা সরঞ্জাম সাজানো, শয্যা প্রস্তুত এবং চিকিৎসক ও কর্মীদের থাকার জন্য ডরমিটরি রয়েছে। বিদ্যুৎ চলে গেলে বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে জেনারেটরও প্রস্তুত রাখা হয়েছে। তবে চিকিৎসক নেই। ঝিনাইদহ জেলার চারটি মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রের এই অবস্থা। অভিযোগ রয়েছে, উদ্বোধনের আট বছর পরও চিকিৎসক সংকটের কারণে এসব কেন্দ্রে পূর্ণাঙ্গ স্বাস্থ্যসেবা চালু করা সম্ভব হয়নি। ফলে প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন প্রত্যন্ত গ্রামের গর্ভবতী নারীরা। কাছের এসব কেন্দ্রে চিকিৎসা না পেয়ে তাদের দূরে দূরে বিভিন্ন হাসপাতালে ছুটতে হচ্ছে। এতে বাড়ছে ভোগান্তি ও জীবনের ঝুঁকি। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, চিকিৎসক নিয়োগের সুপারিশ সংশ্লিষ্ট বিভাগে পাঠানো হয়েছে।

স্বাস্থ্যসেবা ঝিনাইদহের মানুষের কাছে পৌঁছানোর লক্ষ্যে প্রায় ২১ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা হয়েছে এসব হাসপাতাল। ২০১৮ সালে উদ্বোধনের পর স্থানীয়দের প্রত্যাশা ছিল, গ্রামের নারীরা নিরাপদ মাতৃত্বসেবা পাবেন, জটিলতা দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসার ব্যবস্থা হবে এবং নবজাতকের প্রয়োজনীয় সেবাও মিলবে। কিন্তু আট বছরেও সেই প্রত্যাশার পূর্ণ বাস্তবায়ন হয়নি। ভবন ও অবকাঠামো প্রস্তুত থাকলেও প্রয়োজনীয় চিকিৎসক না থাকায় সরকারি এসব স্বাস্থ্যকেন্দ্রের একটি বড় অংশ অব্যবহৃত রয়ে গেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত চিকিৎসক নিয়োগ দিয়ে হাসপাতালগুলো পূর্ণাঙ্গভাবে চালুর দাবি জানিয়েছেন।

সরেজমিনে দেখা গেছে, জেলার শৈলকুপা উপজেলার প্রত্যন্ত গ্রাম দুধসর। আশপাশের বিভিন্ন গ্রামের মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে এখানে নির্মাণ করা হয়েছে ১০ শয্যাবিশিষ্ট মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র। পরিকল্পনা ছিল, এ কেন্দ্র থেকেই গর্ভবতী নারীদের প্রসবপূর্ব ও প্রসব-পরবর্তী সেবা, প্রসূতি ব্যবস্থাপনা এবং শিশুদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হবে। কিন্তু চিকিৎসক সংকটের কারণে এত দিনেও প্রতিষ্ঠানটি পূর্ণাঙ্গ সেবাকেন্দ্র হিসেবে কার্যকর হয়ে উঠতে পারেনি।

একই চিত্র ঝিনাইদহ সদর উপজেলার দক্ষিণ কাষ্টসাগরা, কালীগঞ্জ পৌরসভা এলাকা এবং শৈলকুপার কাঁচেরকোল গ্রামে নির্মিত অন্য তিনটি মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রেও দেখা যাচ্ছে। তিনতলা ভবন, শয্যা, চিকিৎসা সরঞ্জাম ও অন্যান্য অবকাঠামো থাকা সত্ত্বেও প্রয়োজনীয় জনবলের অভাবে প্রতিষ্ঠানগুলো নির্ধারিত সক্ষমতা অনুযায়ী সেবা দিতে পারছে না।

স্থানীয়দের অভিযোগ, হাসপাতালগুলো নির্মাণের সময় যে আশার কথা বলা হয়েছিল, বাস্তবে তার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না। চিকিৎসার জন্য দূরের হাসপাতালে যেতে গিয়ে রোগীদের বাড়তি খরচ হচ্ছে। বিশেষ করে প্রসববেদনা ওঠা নারী কিংবা অসুস্থ নবজাতককে নিয়ে এক হাসপাতাল থেকে অন্য হাসপাতালে ছুটতে হলে পরিবারের সদস্যদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, প্রতিটি মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র নির্মাণে ব্যয় হয়েছে ৫ কোটি ২৫ লাখ টাকা। সে হিসাবে চারটি প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামো নির্মাণে মোট ব্যয় হয়েছে ২১ কোটি টাকা। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে নির্মিত এসব হাসপাতালের বাস্তবায়ন করেছে স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর। প্রতিটি হাসপাতাল তিনতলাবিশিষ্ট। চিকিৎসা কার্যক্রম পরিচালনার উপযোগী করে তৈরি করা হয়েছে বিভিন্ন কক্ষ।

দক্ষিণ কাষ্টসাগরা এলাকার বাসিন্দা বসির আহম্মেদ বলেন, "হাসপাতাল আছে, ভবন আছে। কিন্তু প্রয়োজনীয় চিকিৎসক না থাকলে মানুষ কীভাবে সেবা পাবে? গর্ভবতী নারী কিংবা শিশুর অসুস্থতার সময় দূরের হাসপাতালে যেতে হয়। এতে সময় ও টাকা দুটোই বেশি লাগে।"

ঝিনাইদহ পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ের উপপরিচালক মোহা. মোজাম্মেল করিম বলেন, "হাসপাতালগুলো চালু থাকলেও চিকিৎসক না থাকায় পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসাসেবা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। প্রতিটি কেন্দ্রে দুজন করে চিকিৎসক নিয়োগের সুপারিশ করা হয়েছে। চিকিৎসক নিয়োগ দেওয়া হলে সেবার পরিধি বাড়ানো সম্ভব হবে।"

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২৬শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৫০
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪০
মাগরিব ০৫:১৬
ইশা ০৬:২৯
সূর্যোদয় : ০৬:০৮ সূর্যাস্ত : ০৫:১৬
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%