শুক্রবার, ১৮ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৪:১৩ পি.এম
ফরিদপুরে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে আরও এক রোগী, রেখা বেগম (৪৫), মৃত্যুবরণ করেছেন। এ ছাড়া, গত ২৪ ঘণ্টায় জেলার বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে ডেঙ্গুর উপসর্গ নিয়ে নতুন ২৫ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। বর্তমানে ফরিদপুরের বিভিন্ন হাসপাতালে ৮১ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ কর্তৃক প্রেরিত এক প্রেস নোটে এই তথ্য প্রকাশ করা হয়।
প্রেস নোটে উল্লেখ করা হয়েছে, ১৭ সেপ্টেম্বর রাতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রেখা বেগমের মৃত্যু ঘটে। তিনি গোপালগঞ্জ জেলার মোকসেদপুর উপজেলার বাসিন্দা ছিলেন। ১৪ সেপ্টেম্বর ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হন তিনি।
জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে ফরিদপুরে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে মোট ৫২০ জন হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। এর মধ্যে ৪৪১ জন চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। এই ঘটনায় জেলায় ডেঙ্গুতে মৃত্যুর সংখ্যা পাঁচজনে পৌঁছেছে।
স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, ডেঙ্গুর উপসর্গ দেখা দিলে অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। জ্বর হলে পর্যাপ্ত পানি ও তরল খাবার গ্রহণের পাশাপাশি চিকিৎসকের নির্দেশ অনুযায়ী পরীক্ষা ও চিকিৎসা গ্রহণ করা প্রয়োজন।
এদিকে, জেলা প্রশাসক (ডিসি) মো. মাজহারুল ইসলাম জানিয়েছেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতা সৃষ্টির জন্য জেলার বিভিন্ন প্রচারণা চালানো হচ্ছে। জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ, স্থানীয় প্রশাসন ও পৌরসভা যৌথভাবে মশার প্রজননস্থল ধ্বংসে সমন্বিত কার্যক্রমকে আরও জোরদার করেছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নেত্রকোনার খালিয়াজুরী উপজেলায় পূর্ববিরোধ ও বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। বুধবার ও বৃহস্পতিবার টানা দুই দিনের সংঘর্ষে অন্তত ২৮ জন আহত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে গুরুতর আহত শাহ আলমগীর (২৩) নামে এক যুবক ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন।
আজ শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) সকাল নয়টার দিকে ঢাকার কুর্মিটোলা এলাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শাহ আলমগীরের মৃত্যু হয়। তিনি খালিয়াজুরী উপজেলার চাকুয়া ইউনিয়নের রানীচাপুর গ্রামের নুরুল হক মিয়ার ছেলে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি গঠন ও পূর্ববিরোধকে কেন্দ্র করে বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় রানীচাপুর গ্রামে দুই পক্ষের মধ্যে প্রথম দফায় উত্তেজনা ও সংঘর্ষ হয়। এর জেরে বৃহস্পতিবার সকালে উভয় পক্ষ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে আবারও মুখোমুখি হয়। পরে থেমে থেমে পাল্টাপাল্টি হামলা ও সংঘর্ষে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
সংঘর্ষে দুই পক্ষের অন্তত ২৮ জন আহত হন। তাঁদের অনেকে খালিয়াজুরী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা নেন। গুরুতর আহত শাহ আলমগীরসহ চারজনকে পরে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
শাহ আলমগীরের প্রতিবেশী ও আত্মীয় সানোয়ার ফকির বলেন, ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আলমগীরের অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শুক্রবার সকালে তাঁর মৃত্যু হয়।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সংঘর্ষে জড়ানো দুই পক্ষের নেতৃত্বদানকারীদের রাজনৈতিক পরিচয় রয়েছে। নিহত শাহ আলমগীর স্থানীয় লিগেল মিয়া ও জালাল মিয়া পক্ষের সমর্থক ছিলেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। অপর পক্ষের নেতৃত্বে ছিলেন আব্দুর রহমানের অনুসারীরা।
খালিয়াজুরী উপজেলা শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক মো. সাইফুল ইসলামের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, লিগেল মিয়া চাকুয়া ইউনিয়ন শ্রমিক দলের ১ নম্বর যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। তাঁর বাবা মো. জালাল মিয়া উপজেলা কৃষক দলের সদস্য।
অন্যদিকে স্থানীয় বিএনপির নেতাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, আব্দুর রহমান চাকুয়া ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি। উপজেলা বিএনপির বর্তমান কমিটিতে তাঁর পদ নিয়ে ভিন্ন তথ্য পাওয়া গেছে। স্বজনদের দাবি, তিনি উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি। আবার একটি তালিকায় তাঁর নামের পাশে ‘সম্মানিত সদস্য’ উল্লেখ রয়েছে।
সংঘর্ষের পর দুই পক্ষই পরস্পরকে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগ তুলেছে। তবে স্থানীয়ভাবে এ অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করা যায়নি।
শাহ আলমগীরের মৃত্যুর পর রানীচাপুর গ্রামে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। খবর পেয়ে খালিয়াজুরী থানা-পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।
খালিয়াজুরী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নাসিরুদ্দিন বলেন, সংঘর্ষের ঘটনা নিয়ে বিভিন্ন মাধ্যম থেকে নানা ধরনের তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটনে পুলিশ তদন্ত করছে। এ ঘটনায় দুই পক্ষই থানায় অভিযোগ দিয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে দুটি মামলা এফআইআর হিসেবে নথিভুক্ত হয়েছে।
ওসি আরও বলেন, ঘটনার বিষয়ে তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সুনামগঞ্জের দিরাইয়ের ইতিহাস শুধু হাওর, নদী ও লোকসংস্কৃতির ইতিহাস নয়; এই জনপদ থেকে উঠে এসেছেন এমন অনেক মানুষ, যারা বৃহত্তর উপমহাদেশের রাজনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। তাঁদের মধ্যে অক্ষয় কুমার দাস অন্যতম উল্লেখযোগ্য রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব।
স্থানীয় ইতিহাসভিত্তিক সূত্রে তাঁকে দিরাই উপজেলার চিতলিয়া গ্রামের সন্তান হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। ১৯০৩ সালে জন্ম নেওয়া অক্ষয় কুমার দাস কঠোর পরিশ্রম ও মেধার মাধ্যমে গ্রামের পরিবেশ থেকে উঠে এসে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করেন এবং পরবর্তীতে আইন পেশায় প্রবেশ করেন।
শিক্ষাজীবন ও আইন পেশা
অক্ষয় কুমার দাস শিক্ষাজীবনে অত্যন্ত মেধাবী ছিলেন। স্থানীয় জীবনীভিত্তিক লেখায় বলা হয়েছে, তিনি সিলেটের ঐতিহ্যবাহী মুরারিচাঁদ কলেজে পড়াশোনা করেন। ১৯২২ সালে ইন্টারমিডিয়েট এবং ১৯২৫ সালে গ্র্যাজুয়েশন সম্পন্ন করেন। এরপর ১৯২৬ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগে ভর্তি হয়ে ১৯২৯ সালে আইন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। পরে আইনজীবী হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন।
আইন পেশার পাশাপাশি তি
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীতে সরকারি বরাদ্দের সার না পাওয়াকে কেন্দ্র করে ক্ষুব্ধ কৃষকরা এক উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তাকে (বিএস) প্রায় ৬ ঘণ্টা গোডাউনে অবরুদ্ধ করে রাখেন। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) হস্তক্ষেপে তাকে উদ্ধার করা হয়।
শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) সকাল ৭টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত উপজেলার বল্লভেরখাস ইউনিয়নের গাবতলা বাজারে সড়ক অবরোধ ও বিক্ষোভ করেন কৃষকরা।
স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, গোডাউনে পর্যাপ্ত সার মজুত থাকার পরও তাদের সার দেওয়া হচ্ছিল না। এতে এলাকায় কৃত্রিম সংকট তৈরি ও সরকারি সার কালোবাজারিতে বিক্রির অভিযোগ ওঠে। একপর্যায়ে ক্ষুব্ধ কৃষকরা সার গোডাউনে দায়িত্বরত বিএসকে অবরুদ্ধ করে গোডাউনে তালা ঝুলিয়ে দেন।
খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন এবং অবরুদ্ধ বিএসকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যান। পরে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) উপস্থিতিতে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।
জিজ্ঞাসাবাদে সংশ্লিষ্ট বিএস দাবি করেন, ‘ভাই ভাই মেশিনারিজ’ নামের প্রতিষ্ঠানের নামে সার বরাদ্দ হলেও মূল ডিলার অনেক আগেই মারা গেছেন। তার দাবি, খায়রুল আলম নামে এক ব্যক্তি সার উত্তোলন করতেন এবং ‘বাবু’ নামে একজন সাব-ডিলার তা নিয়ন্ত্রণ করতেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে মৃত ডিলারের নাম ব্যবহার করে একটি চক্র সারের ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করে আসছে।
নাগেশ্বরী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জানান, ওই এলাকার জন্য ১৬০ বস্তা সার বরাদ্দ ছিল। ‘ভাই ভাই মেশিনারিজ’-এর ক্ষেত্রে অবৈধ সাব-ডিলার প্রথা ও সার বিতরণ সংক্রান্ত অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জানান, দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে সংশ্লিষ্ট বিএসের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কুড়িগ্রাম পৌরসভার হরিকেশ মোড়ে ছুরিকাঘাতে মো. রোস্তম আলী তোতা (৮০) নামে এক বৃদ্ধ নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় মো. জলিল (৪০) নামে এক ব্যক্তিকে আটক করেছে পুলিশ। শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত রোস্তম আলী তোতা হরিকেশ কানিপাড়া এলাকার মৃত মো. আলী মুন্সির ছেলে। আটক জলিল পার্শ্ববর্তী চর হরিকেশ এলাকার হাসান আলীর ছেলে।
স্থানীয়দের দাবি, ঘটনার সময় রোস্তম আলী হরিকেশ মোড়ে চা পান করছিলেন। এ সময় জলিল রিকশা থেকে ছুরি এনে তার পেটে আঘাত করেন। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
পরে স্থানীয়রা জলিলকে আটক করে বেঁধে রাখেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।
এদিকে নিহতের লাশ কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতালের মর্গে নেওয়ার পর স্বজন ও এলাকাবাসী ময়নাতদন্ত না করার দাবি জানান। একপর্যায়ে লাশ নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা ও মর্গের তালা ভাঙার চেষ্টা করা হলে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।
খবর পেয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মিমতানুর রহমান পিপিএম, সদর থানার ওসি মো. কামাল হোসেনসহ পুলিশের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে যান। পরে পুলিশ ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। আইনগত প্রক্রিয়া অনুযায়ী লাশ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মিমতানুর রহমান বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে এবং লাশ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। স্থানীয়রা জলিলকে আটক করার পর পুলিশ তাকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে এসেছে। তদন্ত ও আইনগত প্রক্রিয়া শেষে ঘটনার প্রকৃত কারণ জানা যাবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ