০৪:৩০ পি.এম
বিএনপিকে উদ্দেশ্য করে জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, যে পথে আপা হাঁটছিলেন, আপনারাও সেভাবেই এখন হাঁটছেন। আপা যাওয়ার আগে বলতেন, আমি পালাই না, অমুকের মেয়ে পালায় না। তবে এখন কী হয়েছে? শেষ পর্যন্ত তিনিও পালিয়ে গেছেন।
তিনি বলেন, বাচ্চারা স্লোগান দিয়েছিল, পালাইছে রে পালাইছে। এই পথে যাঁরা হাঁটবেন, তাঁদের পালাতে হবে। এই পথ হলো পালানোর পথ। এই পথে হাঁটলে আপনি মক্কা পৌঁছাতে পারবেন না, আপনার গন্তব্য হবে দিল্লি। এই পথের শেষ ঠিকানা হলো দিল্লি। আমাদের দেশের জনগণ দিল্লির খবরদারি বাংলাদেশে চায় না। আমরা কাউকে আধিপত্যবাদ মানি না।
সোমবার (১০ আগস্ট) দুপুরে গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার বোনারপাড়ায় কাজী আজহার আলী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে এক জনসমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় জামায়াতের আমির তার এই কথা বলেন। শিবির নেতা সাইফুল্লাহ বারী ও জামায়াত কর্মী সালাউদ্দিন হত্যার বিচার এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির প্রতিবাদে এই জনসমাবেশের আয়োজন করা হয়।
আরও পড়ুন: জুলাই আন্দোলনে গুলিবিদ্ধ নার্স রীপা গোমেজের পাশে ‘আমরা বিএনপি পরিবার’
শফিকুর রহমান উল্লেখ করেন, আমরা কোনো অপশক্তির কাছে মাথা নিই না। ইনশাআল্লাহ, আমরা মজবুতভাবে মাথা উঁচু করে যতদিন বেঁচে থাকবো, মানুষ হিসেবে বেঁচে থাকতে চাই। বিড়াল হিসেবে বাঁচতে চাই না। বেড়ালের জীবন আমাদের জীবন হবে না ইনশাআল্লাহ। আপনাদের প্রস্তুত থাকতে হবে। লড়াই চলছে, লড়াই চলবে। ইনশাআল্লাহ, হকের বিজয় হবে, ইনশাআল্লাহ ১৮ কোটি মানুষের বিজয় হবে।
গণভোট প্রসঙ্গে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, গণভোটে আপনারা রায় দিয়েছেন। সরকারে এখন যারা আছেন তারাও বলছিলেন, রায় দিন। আমি স্পষ্ট বলছি, গণভোট না মানলে শুধু না হবেন না, একসময় নাই হয়ে যাবেন। জনতার রায়কে অগ্রাহ্য, অপমান করে অতীতে কেউ টিকে থাকেনি, শান্তি পায়নি, সম্মান পায়নি, ক্ষমতা পাকাপোক্ত করতে পারেনি। আপনারা মজলুম ছিলেন, আমরা চাই আপনারা সঠিক পথে ফিরে আসুন। জনগণের সংস্কার সাধন করুন, ফ্যাসিবাদের রাস্তা বন্ধ করুন, মানবিক ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের রাস্তা খুলে দিন। যদি খুলে দেন, আমরা বিরোধী দল হিসেবে আপনাদের সর্বাত্মক সহযোগিতা করবো।
ক্ষমতার লোভ নিয়ে তিনি সতর্ক বার্তা দেন, ক্ষমতা কারও কোমরের নিচে চিরস্থায়ী নয়। আল্লাহ যাকে পছন্দ করেন, তাকে ক্ষমতায় বসান, আর যখন উঠিয়ে নিতে চান, তখন উঠিয়ে নেন।
ফ্যাসিবাদকে ভাইরাসের সঙ্গে তুলনা করে শফিকুর রহমান বলেন, ফ্যাসিবাদ একটি রোগ। এটি নির্দিষ্ট কোনো দলের সঙ্গে থাকে না, এটি একটি ভাইরাস। এটি যেখানেই ভর করে, তারা ফ্যাসিবাদী। এক ফ্যাসিবাদীকে তাড়িয়ে, বাংলাদেশের জনগণ আরেক ফ্যাসিবাদী চায় না।
আরও পড়ুন: বিরোধীদল ‘বেহেশতের লোভ দেখিয়ে’ দায়িত্বহীন আচরণ করছে: প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম
২০২৪ সালের আন্দোলনের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, ভাই-বোনেরা রাস্তায় নেমে এসেছিলেন, মায়েরা ১০ মাসের শিশুসন্তান নিয়ে রাস্তায় নেমে এসেছিলেন। হয়তো আমাদের আবার রাস্তায় নামতে হতে পারে। যাদের জন্য প্রয়োজন হলে একবার নয়, শতবার নামবো ইনশাআল্লাহ। যত সময় আল্লাহ জীবন দিয়ে রেখেছেন, যত সময় নামার শক্তি আল্লাহ রাখবেন, তত সময় জাতির প্রয়োজনে অবশ্যই নামবো। আমরা কাপুরুষ নই, আমরা দুর্বল নই। কাপুরুষ হচ্ছে তারা যারা অপরাধ করে, যারা দখল বাণিজ্য করে, যারা নিরীহ মানুষের কাছ থেকে চাঁদা তোলে, যারা মা-বোনদের ইজ্জত লুণ্ঠন করে। সে যে হোক, আমার সন্তানও হলে, সেটাও কাপুরুষ।
সবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়ে জামায়াতের আমির বলেন, আমরা দেখতে চাই আমাদের শিশু নিরাপদ, আমাদের মেয়ে নিরাপদ, আমাদের মা নিরাপদ, আমাদের যুবক নিরাপদ, আমাদের বয়স্ক মানুষের নিরাপদ। সকল ধর্মের মানুষ নিরাপদ, সকল বর্ণের মানুষ নিরাপদ, এই দেশের সকল ভাষার মানুষ নিরাপদ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন