ঢাকা শুক্রবার, ১৬ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ৩১শে আশ্বিন, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ০৫ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শুক্রবার, ১৬ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ৩১শে আশ্বিন, ১৪৩২বাং

যে পথে ‘আপা’ হেঁটেছিলেন, আপনারাও সেই পথেই হাঁটছেন: ডা. শফিকুর রহমান


যে পথে ‘আপা’ হেঁটেছিলেন, আপনারাও সেই পথেই হাঁটছেন: ডা. শফিকুর রহমান

বিএনপিকে উদ্দেশ্য করে জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, যে পথে আপা হাঁটছিলেন, আপনারাও সেভাবেই এখন হাঁটছেন। আপা যাওয়ার আগে বলতেন, আমি পালাই না, অমুকের মেয়ে পালায় না। তবে এখন কী হয়েছে? শেষ পর্যন্ত তিনিও পালিয়ে গেছেন।

তিনি বলেন, বাচ্চারা স্লোগান দিয়েছিল, পালাইছে রে পালাইছে। এই পথে যাঁরা হাঁটবেন, তাঁদের পালাতে হবে। এই পথ হলো পালানোর পথ। এই পথে হাঁটলে আপনি মক্কা পৌঁছাতে পারবেন না, আপনার গন্তব্য হবে দিল্লি। এই পথের শেষ ঠিকানা হলো দিল্লি। আমাদের দেশের জনগণ দিল্লির খবরদারি বাংলাদেশে চায় না। আমরা কাউকে আধিপত্যবাদ মানি না।

সোমবার (১০ আগস্ট) দুপুরে গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার বোনারপাড়ায় কাজী আজহার আলী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে এক জনসমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় জামায়াতের আমির তার এই কথা বলেন। শিবির নেতা সাইফুল্লাহ বারী ও জামায়াত কর্মী সালাউদ্দিন হত্যার বিচার এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির প্রতিবাদে এই জনসমাবেশের আয়োজন করা হয়।

আরও পড়ুন: জুলাই আন্দোলনে গুলিবিদ্ধ নার্স রীপা গোমেজের পাশে ‘আমরা বিএনপি পরিবার’

শফিকুর রহমান উল্লেখ করেন, আমরা কোনো অপশক্তির কাছে মাথা নিই না। ইনশাআল্লাহ, আমরা মজবুতভাবে মাথা উঁচু করে যতদিন বেঁচে থাকবো, মানুষ হিসেবে বেঁচে থাকতে চাই। বিড়াল হিসেবে বাঁচতে চাই না। বেড়ালের জীবন আমাদের জীবন হবে না ইনশাআল্লাহ। আপনাদের প্রস্তুত থাকতে হবে। লড়াই চলছে, লড়াই চলবে। ইনশাআল্লাহ, হকের বিজয় হবে, ইনশাআল্লাহ ১৮ কোটি মানুষের বিজয় হবে।

গণভোট প্রসঙ্গে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, গণভোটে আপনারা রায় দিয়েছেন। সরকারে এখন যারা আছেন তারাও বলছিলেন, রায় দিন। আমি স্পষ্ট বলছি, গণভোট না মানলে শুধু না হবেন না, একসময় নাই হয়ে যাবেন। জনতার রায়কে অগ্রাহ্য, অপমান করে অতীতে কেউ টিকে থাকেনি, শান্তি পায়নি, সম্মান পায়নি, ক্ষমতা পাকাপোক্ত করতে পারেনি। আপনারা মজলুম ছিলেন, আমরা চাই আপনারা সঠিক পথে ফিরে আসুন। জনগণের সংস্কার সাধন করুন, ফ্যাসিবাদের রাস্তা বন্ধ করুন, মানবিক ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের রাস্তা খুলে দিন। যদি খুলে দেন, আমরা বিরোধী দল হিসেবে আপনাদের সর্বাত্মক সহযোগিতা করবো।

ক্ষমতার লোভ নিয়ে তিনি সতর্ক বার্তা দেন, ক্ষমতা কারও কোমরের নিচে চিরস্থায়ী নয়। আল্লাহ যাকে পছন্দ করেন, তাকে ক্ষমতায় বসান, আর যখন উঠিয়ে নিতে চান, তখন উঠিয়ে নেন।

ফ্যাসিবাদকে ভাইরাসের সঙ্গে তুলনা করে শফিকুর রহমান বলেন, ফ্যাসিবাদ একটি রোগ। এটি নির্দিষ্ট কোনো দলের সঙ্গে থাকে না, এটি একটি ভাইরাস। এটি যেখানেই ভর করে, তারা ফ্যাসিবাদী। এক ফ্যাসিবাদীকে তাড়িয়ে, বাংলাদেশের জনগণ আরেক ফ্যাসিবাদী চায় না।

আরও পড়ুন: বিরোধীদল ‘বেহেশতের লোভ দেখিয়ে’ দায়িত্বহীন আচরণ করছে: প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম

২০২৪ সালের আন্দোলনের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, ভাই-বোনেরা রাস্তায় নেমে এসেছিলেন, মায়েরা ১০ মাসের শিশুসন্তান নিয়ে রাস্তায় নেমে এসেছিলেন। হয়তো আমাদের আবার রাস্তায় নামতে হতে পারে। যাদের জন্য প্রয়োজন হলে একবার নয়, শতবার নামবো ইনশাআল্লাহ। যত সময় আল্লাহ জীবন দিয়ে রেখেছেন, যত সময় নামার শক্তি আল্লাহ রাখবেন, তত সময় জাতির প্রয়োজনে অবশ্যই নামবো। আমরা কাপুরুষ নই, আমরা দুর্বল নই। কাপুরুষ হচ্ছে তারা যারা অপরাধ করে, যারা দখল বাণিজ্য করে, যারা নিরীহ মানুষের কাছ থেকে চাঁদা তোলে, যারা মা-বোনদের ইজ্জত লুণ্ঠন করে। সে যে হোক, আমার সন্তানও হলে, সেটাও কাপুরুষ।

সবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়ে জামায়াতের আমির বলেন, আমরা দেখতে চাই আমাদের শিশু নিরাপদ, আমাদের মেয়ে নিরাপদ, আমাদের মা নিরাপদ, আমাদের যুবক নিরাপদ, আমাদের বয়স্ক মানুষের নিরাপদ। সকল ধর্মের মানুষ নিরাপদ, সকল বর্ণের মানুষ নিরাপদ, এই দেশের সকল ভাষার মানুষ নিরাপদ।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সরকার নির্ধারিত দামে সার না পেয়ে মহাসড়ক অবরোধ, কৃষকদের বিক্ষোভ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ১০ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৪:৩১ পি.এম


সরকার নির্ধারিত দামে সার না পেয়ে মহাসড়ক অবরোধ, কৃষকদের বিক্ষোভ

আমন মৌসুমে সরকার নির্ধারিত দামে সার না পাওয়ার অভিযোগ দুটির নিয়ে লালমনিরহাটের কালীগঞ্জে মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন স্থানীয় কৃষকেরা। তাদের তরফ থেকে জানানো হয়েছে যে পর্যাপ্ত ও সময়মতো সার না পাওয়ার কারণে আমন উৎপাদনে ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

সোমবার সকালে কালীগঞ্জ বাজার এলাকায় লালমনিরহাট-বুড়িমারী মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে কয়েক হাজার কৃষক এ বিক্ষোভ আন্দোলন করেন। এর ফলে মহাসড়কের উভয় পাশে প্রায় এক কিলোমিটার এলাকাজুড়ে যানজট সৃষ্টি হয়। পাথর ও পণ্যবাহী ট্রাকসহ দূরপাল্লার অনেক যানবাহন আটকা পড়ে, যার ফলে যাত্রী ও চালকদের মধ্যে ভোগান্তি ঘটে।

আন্দোলনকারী কৃষকদের অভিযোগ, আমন চাষের ভরা মৌসুমে এলাকায় সারের সংকট তৈরি হয়েছে, যা অসাধু ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেটের কারণে হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে যে তাদের সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে সার কিনতে হচ্ছে।

কৃষকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সরকার নির্ধারিত প্রতি বস্তা টিএসপি সারের দাম ১ হাজার ৩৫০ টাকা, কিন্তু বাজারে সেটা ২ হাজার ২০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। একইভাবে, ১ হাজার ৫০ টাকার ডিএপি সার ১ হাজার ৭০০ থেকে ১ হাজার ৮০০ টাকা এবং ১ হাজার ৩৫০ টাকার ইউরিয়া সার ১ হাজার ৮০০ টাকা পর্যন্ত দামে বিক্রি হচ্ছে।

কৃষকদের দাবি, বাড়তি দামে সার কিনতে গিয়ে আমন চাষের উৎপাদন খরচ বেড়ে যাচ্ছে। অর্থাভাবে অনেক কৃষক জমিতে প্রয়োজনীয় পরিমাণ সার দিতে পারছেন না। তারা হুঁশিয়ারি দেন, যদি দ্রুত সরকার নির্ধারিত দামে পর্যাপ্ত সার সরবরাহ নিশ্চিত না করা হয়, তাহলে তারা আরও কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবেন।

খবর পেয়ে কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. সাইফুল ইসলাম এবং পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে কৃষকদের সঙ্গে কথা বলেন। পরে ইউএনও কৃষকদের চাহিদা অনুযায়ী আগামী দুই দিনের মধ্যে ন্যায্যমূল্যে সার বিতরণের আশ্বাস দেন।

প্রশাসনের আশ্বাস পাওয়ার পর প্রায় দুই ঘণ্টা পর কৃষকেরা মহাসড়ক থেকে অবরোধ তুলে নেন। এর ফলে মহাসড়কে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক হয়ে ওঠে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পঞ্চগড়ের বোদায় দুই স্কুলের ৪ পরীক্ষার্থী, পাস করেনি কেউ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ১০ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৪:৩২ পি.এম


পঞ্চগড়ের বোদায় দুই স্কুলের ৪ পরীক্ষার্থী, পাস করেনি কেউ

পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলায় এবার এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কোনো পরীক্ষার্থীই পাস করতে পারেনি। এই দুটি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে মাত্র চারজন এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছিলেন।

প্রতিষ্ঠান দুটি হলো চন্দনবাড়ি ইউনিয়নের বলরামহাট মডেল বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় এবং বোদা সর্দারপাড়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বলরামহাট মডেল বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এবারের এসএসসি পরীক্ষায় একজন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে এবং সে অকৃতকার্য হয়েছে। অন্যদিকে, বোদা সর্দারপাড়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে তিনজন পরীক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন, কিন্তু তাদের কেউ পাস করেনি।

সোমবার বিদ্যালয় দুটি পরিদর্শন করা হয়। বলরামহাট মডেল বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণির জন্য শিক্ষার্থীর উপস্থিতির দাবি ১০০ জন, কিন্তু বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, মাত্র ১০ জন শিক্ষার্থী উপস্থিত রয়েছে। এই সময়ে তিনজন শিক্ষক বিদ্যালয়ে ছিলেন, কিন্তু প্রধান শিক্ষকসহ অন্যান্য শিক্ষকরা উপস্থিত ছিলেন না। বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকসহ ১০ জন শিক্ষক এবং পাঁচজন কর্মচারী কর্মরত আছেন। তবে বিদ্যালয়ে কোথাও কোনো সাইনবোর্ড দেখা যায়নি। ১৯৯৮ সালে প্রতিষ্ঠিত বিদ্যালয়টি এখনও এমপিওভুক্ত হয়নি।

স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা অভিযোগ করেছেন, বিদ্যালয়ে নিয়মিত পাঠদান হয় না এবং শিক্ষকরা স্কুলে এসে আবার চলে যান। শিক্ষার্থীর উপস্থিতিও অনেক কম। তাদের দাবি, এমপিওভুক্তির আশায় এই প্রতিষ্ঠানটি কোনোভাবে চালু রাখা হয়েছে। তাদের মতে, আগের বছরগুলোতেও এই বিদ্যালয়ের ফলাফল ভালো ছিল না।

বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ললিতা রাণী বলেছেন, "আমাদের স্কুল থেকে এবার একজন পরীক্ষা দিয়েছে। সে ফেল করেছে। সে পড়ালেখায় দুর্বল ছিল।"

অন্যদিকে, বোদা সর্দারপাড়া বিদ্যালয়ে কোনো সাইনবোর্ড নেই, এবং টিনের চালার একটি কক্ষ তালাবদ্ধ। টিনের ছাউনি দেওয়া আরেকটি বড় ঘরের দরজা-জানালা এবং বেড়া নেই। বিদ্যালয়ের কার্যক্রম সম্পর্কে উপজেলা শিক্ষা কার্যালয়েও পর্যাপ্ত তথ্য পাওয়া যায়নি।

বোদা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আইবুর ইসলাম বলেছেন, "এসএসসি পরীক্ষার প্রকাশিত ফলাফলের তথ্য অনুযায়ী, বোদা উপজেলায় দুটি নন-এমপিও প্রতিষ্ঠানের কোনো পরীক্ষার্থীই পাস করতে পারেনি। বলরামহাট মডেল বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে একজন পরীক্ষার্থী ছিল, সে ফেল করেছে। আর বোদা সর্দারপাড়া বালিকা বিদ্যালয় থেকে তিনজন পরীক্ষার্থী ছিল, তিনজনই ফেল করেছে।"

তিনি আরও বলেন, "এই দুটি প্রতিষ্ঠানই নন-এমপিও। এখানে পাঠদানের ধারাবাহিকতা কখনোই ছিল না। এমন বিষয়টি আমরা খতিয়ে দেখবো। প্রতিষ্ঠান দুটিকে মূলধারায় ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজনীয় ফিডব্যাক এবং লজিস্টিক সাপোর্ট দেওয়ার চেষ্টা করা হবে।"

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নীলফামারীর হাজীমুলের বাঁশের তৈরি পণ্য যাচ্ছে বিদেশে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ১০ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৪:৩৫ পি.এম


নীলফামারীর হাজীমুলের বাঁশের তৈরি পণ্য যাচ্ছে বিদেশে

নীলফামারী, ১০ আগস্ট, ২০২৬ : এক সময় গ্রাম-গঞ্জ ও শহরের প্রতিটি বাড়িতে বাঁশের তৈরি ডালা, চালুনি-কুলাসহ বিভিন্ন গৃহস্থালি পণ্যের ব্যাপক ব্যবহার ছিল। এখন আর আগের মতো ওইসব পণ্যের কদর নেই বললেই চলে। প্রযুক্তির কল্যাণে এর বাজার দখল করে নিয়েছে প্লাস্টিকের পণ্য।

ওইসব পণ্যের কদর না থাকলেও বাঁশের সিলিংয়ের ব্যবহার এবং গুরুত্ব রয়েছে সর্বত্র। বাঁশের তৈরি পণ্যে কদর কমতে থাকায় কষ্টে জীবন চলতো নীলফামারীর হাজীমুল ইসলামের।

ইতোমধ্যে তিনি বাঁশের তৈরি সিলিংসহ বিভিন্ন ধরনের নান্দনিক পণ্য তৈরি করে জীবনের মোড় ঘুরিয়ে ফেলেছেন। বলা যেতে পারে এখন তিনি বাঁশজাত হস্তশিল্পের একজন সফল উদ্যোক্তা।

হাজীমুলের কারখানায় তৈরি হচ্ছে বিভিন্ন ধরনের নান্দনিক বাঁশের পণ্য। পরিবেশবান্ধব এসব পণ্য এখন স্থানীয় বাজারের গণ্ডি পেরিয়ে যাচ্ছে দেশের বাইরেও। তার এ উদ্যোগে শুধু নিজের ভাগ্যই বদলায়নি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে স্থানীয় অন্তত ২০ নারী-পুরুষের।

নীলফামারীর সৈয়দপুর উপজেলার উত্তর সোনাখুলি ডাঙ্গাপাড়া গ্রামের হাজীমুল ইসলামের উদ্যোক্তা হয়ে ওঠার গল্পটিও বেশ সংগ্রামের। বাঁশের সিলিং (টিনসেড ঘরের রুমের সিংলিং) তৈরির মিস্ত্রি থেকে তার এ সংগ্রামের পথ শুরু। উপায় খুঁজতে থাকেন বাঁশের কাজের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগানোর। সেই স্বপ্নে স্থাপন করেন ছোট পরিসরে বাঁশের পণ্য তৈরির কারখানা।

এরপর কারখানায় তৈরি পণ্যের বাজার ও কাঁচামাল সংগ্রহে পড়তে হয়েছে নানা বিরম্বনায়। কিন্তু থেমে যায়নি স্বপ্ন, ধীরে ধীরে বিভিন্ন মাধ্যমে পণ্যের প্রচার, স্থানীয় ক্রেতাদের আস্থায় বাড়তে থাকে তার ব্যবসার প্রসার। এতে করে টিকে থাকে তার স্বপ্ন। এখন নজরকাড়া ডিজাইনে বিভিন্ন বায়ারের মাধ্যমে এসব পণ্য রপ্তানি হচ্ছে দেশের বাইরে।

সরেজমিনে সৈয়দপুর উপজেলার উত্তর সোনাখুলি ডাঙ্গাপাড়া গ্রামে তার নিজ বাড়িতে গড়ে তোলা কারখানায় গিয়ে দেখা মেলে বাঁশের তৈরি করা নজরকাড়া পণ্য। প্রতিদিন সকাল থেকে শুরু হয় কর্মব্যস্ততা। কর্মচারীরা যেমন ব্যস্ত বিভিন্ন পণ্য তৈরির কাজে। তেমনি হাজীমুল ব্যস্ত পণ্যের নকশা ফুটিয়ে তুলতে। সকলের দক্ষ হাতের নিপুণ কারুকাজে সাধারণ বাঁশ হয়ে উঠছে দৃষ্টিনন্দন সামগ্রী হিসেবে।

হাজীমুল ইসলাম বাসসকে বলেন, তার ওই কারখানায় বাঁশ দিয়ে তৈরি হচ্ছে ১২০ প্রকার পণ্য। এসবের মধ্যে ঝুড়ি, ট্রে, টেবিল ল্যাম্প স্ট্যান্ড, সাবানদানি, কলমদানি, ফুলদানি, টিস্যুবক্স, সোফা সেট, একতারা ও ম্যাগাজিন ফাইল হোল্ডারসহ ঘর সাজানোর বিভিন্ন উপকরণ উল্লেখযোগ্য। তৈরি পণ্যের একটি অংশ স্থানীয় বাজারে বিক্রি হলেও বিভিন্ন বায়ারের মাধ্যমে যাচ্ছে বিদেশে।

হাজীমুল ইসলামের কারখানায় বর্তমানে স্থানীয় নারী ও পুরুষ মিলে প্রায় ২০ জন শ্রমিক কাজ করছেন। তাদের শ্রম, দক্ষতা ও সৃজনশীলতায় তৈরি হচ্ছে এসব পণ্য। শ্রমিকের মজুরি, বাঁশ, বেত ও কাঁচামালসহ বিভিন্ন পণ্য ক্রয় খরচ বাদে বিক্রি ও রপ্তানি থেকে মাসে গড় আয় ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকা বলে জানান তিনি। এ আয় দিয়ে বর্তমানে স্বাচ্ছন্দ্যে চলছে তার সংসারসহ ৩ সন্তানের লেখাপড়া।

কাঁচামাল হিসেবে পঞ্চগড় জেলার তেঁতুলিয়া থেকে ‘ভুতুম’ জাতের বাঁশ (লম্বা ও মোটা আকৃতির) সংগ্রহ করেন। প্রতিটি বাঁশে পরিবহনসহ গড়ে খরচ হয় ৭শ’ টাকা। এসব বাঁশ প্রক্রিয়াজাত করে তৈরি করা হয় বিভিন্ন পণ্য।

তিনি কাঁচামালের উচ্চমূল্য ও সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তার কথা জানান। একই সঙ্গে পর্যাপ্ত মূলধন ও আধুনিক যন্ত্রপাতির অভাব ব্যবসা সম্প্রসারণে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

হাজীমুল ইসলাম চায় তার এ উদ্যোগকে আধুনিক উৎপাদন কেন্দ্রে পরিণত করতে। এজন্য কারখানায় সংযোজন করতে চান আধুনিক যন্ত্রপাতি। নিত্য নতুন ডিজাইনের পণ্য তৈরি করে কারখানায় কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে চান আরো অধিক মানুষের। কিন্তু এসবের বড় বাধা পুঁজির যোগান।

তিনি বলেন, ‘সহজ শর্তে ঋণ পেলে আমার এ ছোট উদ্যোগকে অনেক বড় করা সম্ভব হবে। দেশের যুবকদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে একাজে সম্পৃক্ত করা হলে কমবে বেকারত্ব, বাড়বে কর্মসংস্থানের সুযোগ। এজন্য আন্তর্জাতিক বাজারে বাঁশের পণ্যের পরিচিতি বাড়াতে সরকারি এবং বেসরকারি পর্যায়ে উদ্যোগ নেয়া হলে দেশের জন্য এটি একটি সম্ভাবনাময় শিল্প হবে’।

নীলফামারী বিসিকের উপ-ব্যবস্থাপক মো.নূরেল হক বাসসকে বলেন, ‘হাজীমুলের বাঁশদিয়ে তৈরি ১২০ প্রকার পণ্য এখন শুধু একটি কুটির শিল্প উৎপাদন কেন্দ্র নয়, এটি এক জীবন্ত স্বপ্নের নাম। বাঁশের প্রতিটি বুননে লেখা হচ্ছে তার আত্মনির্ভরতার গল্প। জানিয়ে দিচ্ছে গ্রামীণ বাংলার বাঁশজাত শিল্পের সম্ভাবনার কথা। এখানে শুধু পণ্য তৈরি হচ্ছে না, তৈরি হচ্ছে আত্মনির্ভরতার স্বপ্ন। সেই স্বপ্নের পরিধি পেরিয়ে যাচ্ছে দেশের সীমানা’।

বিশ্ববাজারে পরিবেশবান্ধব পণ্যের চাহিদা বাড়ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘প্লাস্টিকের বিকল্প হিসেবে বাঁশ, বেত ও অন্যান্য প্রাকৃতিক উপকরণ দিয়ে তৈরি পণ্যের বাজার সম্প্রসারিত হচ্ছে। ফলে নীলফামারীর মতো অঞ্চলে বাঁশভিত্তিক কুটির শিল্পের জন্য তৈরি হয়েছে নতুন সম্ভাবনা’।

হাজীমুল ইসলামের উদ্যোগকে সফল করতে বিসিকের পক্ষ থেকে বিনা সুদে এক লাখ টাকা ঋণ প্রদান করা হয়েছে। পাশাপাশি তাকে এগিয়ে নিতে বিসিক সার্বিকভাবে সহযোগিতা করছে বলেও জনান তিনি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

যুক্তরাষ্ট্রে কর্মসংস্থান কমায় সুদ বাড়ার আশঙ্কা কমেছে, ঊর্ধ্বমুখী এশিয়ার শেয়ারবাজার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সোমবার, ১০ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৪:৩৬ পি.এম


যুক্তরাষ্ট্রে কর্মসংস্থান কমায় সুদ বাড়ার আশঙ্কা কমেছে, ঊর্ধ্বমুখী এশিয়ার শেয়ারবাজার

ঢাকা, ১০ আগস্ট, ২০২৬ : জুলাই মাসে যুক্তরাষ্ট্রে হাজার হাজার কর্মসংস্থান কমার তথ্য প্রকাশের পর দেশটিতে সুদের হার বাড়ার আশঙ্কা কমে গেছে। এর ফলস্বরূপ, সোমবার এশিয়ার শেয়ারবাজারগুলোতে ঊর্ধ্বগতি দেখা গেছে।

তবে মধ্যপ্রাচ্য সংকটের দ্রুত সমাধানের আশা কমে যাওয়ায় তেলের দাম আবারও বেড়ে যাওয়ার কারণে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে কিছুটা উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।

সাম্প্রতিক কয়েক সপ্তাহে বেশ অস্থিরতার পর প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর শেয়ারে আবারও বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বেড়ে গেছে। বিশেষ করে জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার চিপ নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর শেয়ারে ছিল সবচেয়ে বেশি চাহিদা।

যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম পরিসংখ্যান ব্যুরোর প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, গত মাসে দেশটিতে ২৩ হাজার কর্মসংস্থান কমেছে। একই সঙ্গে মে ও জুন মাসের কর্মসংস্থান বৃদ্ধির হিসাবও সংশোধন করে কমিয়ে দেওয়া হয়েছে।

এই তথ্য থেকে বোঝা যাচ্ছে, বিশ্বের বৃহত্তম অর্থনীতিতে ধীরগতি দেখা দিচ্ছে। তবে বিনিয়োগকারীরা এটিকে আপাতত ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার বাড়ানো থেকে বিরত থাকার সম্ভাবনা হিসেবে ইতিবাচকভাবে দেখছেন।

ব্লুমবার্গের তথ্য অনুযায়ী, সেপ্টেম্বরে সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনা এক সপ্তাহ আগে ৬৪ শতাংশ থেকে কমে প্রায় ৪৩ শতাংশে নেমে এসেছে।

চলতি সপ্তাহের শেষ দিকে প্রকাশিতব্য মূল্যস্ফীতির তথ্য বিনিয়োগকারীদের জন্য পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশক হবে।

কর্মসংস্থানের এই তথ্যের পর যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজারও ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে। এসঅ্যান্ডপি ৫০০ নতুন রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে। কম সুদের হারে তুলনামূলকভাবে বেশি সুবিধা পাওয়া প্রযুক্তি কোম্পানির শেয়ারের চাহিদায় নাসডাক সূচকও ১ শতাংশের বেশি বেড়ে গেছে।

এর প্রভাব এশিয়ার বাজারেও পড়েছে। জাপানের টোকিও শেয়ারবাজার ২ শতাংশের বেশি বেড়ে গেছে। কিওক্সিয়া, টোকিও ইলেকট্রন ও অ্যাডভানটেস্টের শেয়ারগুলোতে উল্লেখযোগ্য দরপতনের বদলে শক্তিশালী দর বৃদ্ধি দেখা গিয়েছে। দক্ষিণ কোরিয়ার বাজারও ঊর্ধ্বমুখী ছিল; দেশটির চিপ নির্মাতা এসকে হাইনিক্স ও স্যামসাংয়ের শেয়ারের দাম বেড়েছে।

হংকং, তাইপে, সাংহাই, ওয়েলিংটন ও জাকার্তার শেয়ারবাজারও ঊর্ধ্বমুখী ছিল।

ন্যাশনাল অস্ট্রেলিয়া ব্যাংকের অর্থনীতিবিদ রদ্রিগো ক্যাট্রিল জানিয়েছেন, ‘বাজারগুলো এই প্রতিবেদনকে স্বল্পমেয়াদে ফেডের সুদের হার বাড়ানোর প্রত্যাশার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছে। এই কারণে কার্যত মনে করা হচ্ছে, ফেডের হাতে সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য আরও সময় রয়েছে।’

তবে তিনি আরও বলেন, ‘এই প্রতিবেদন শ্রমবাজারের কারণে মূল্যস্ফীতির চাপ বাড়ার সম্ভাবনা কমিয়েছে, কিন্তু এর মাধ্যমে ফেডের নীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের জন্য পুরোপুরি সবুজ সংকেত পাওয়া যাচ্ছে না।’

তিনি পর্যবেক্ষণ করেন, ‘শুধু এই প্রতিবেদন সেপ্টেম্বরে সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনা ঠেকানোর জন্য যথেষ্ট নয়। মূল্যস্ফীতি এখনো ফেডের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। সেপ্টেম্বরের বৈঠকের আগে জুলাই ও আগস্টের ভোক্তা মূল্যসূচকের (সিপিআই) তথ্যই সবচেয়ে নজর রাখার মতো বিষয়।’

শুক্রবার কর্মসংস্থানের তথ্য প্রকাশের পর যে দরপতন হয়েছিল, সোমবার মার্কিন ডলার তার কিছুটা পুষিয়ে নেয়। জাপানি ইয়েনের বিপরীতেও ডলারের দর বাড়তে থাকে। চলতি মাসের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্র ও জাপানের কর্তৃপক্ষ জাপানি মুদ্রাকে শক্তিশালী করতে নজিরবিহীন যৌথ হস্তক্ষেপ শুরু করলে ডলারের বিপরীতে ইয়েনের দর বড় ধরনের পতনের মুখে পড়েছিল।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৫ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪১
জোহর ১১:৪৫
আসর ০৩:৫৪
মাগরিব ০৫:৩২
ইশা ০৬:৪৩
সূর্যোদয় : ০৫:৫৬ সূর্যাস্ত : ০৫:৩২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%