১২:০৮ পি.এম
নেপালের কর্তৃপক্ষ পরিচয়হীন ও দাবিদারহীন মরদেহগুলো দাফন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যা আকস্মিক বন্যায় উদ্ধার করা হয়েছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি তাদের প্রতিবেদনে এ তথ্য প্রকাশ করেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, মরদেহগুলো দ্রুত পচে দুর্গন্ধ ছড়াতে শুরু করেছে এবং এতে সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ছে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।
এনডিটিভি জানাচ্ছে, চিতওয়ানে হাসপাতালগুলোতে মরদেহ সংরক্ষণের জন্য পর্যাপ্ত জায়গা ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না থাকায় পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠেছে।
আরও পড়ুন: বন্যার পানিতে তলিয়ে যাওয়া গাড়ির চালককে উদ্ধার করলেন সাংবাদিক উইল মারে
এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, লাশের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় একটি বাড়িকে অস্থায়ীভাবে লাশ রাখার স্থান হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছিল। কিন্তু সেখানে জায়গা শেষ হয়ে যাওয়ায় দাফন ছাড়া অন্য কোনো বিকল্প ছিল না। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে, অস্থায়ীভাবে রাখা লাশগুলো পচে যাওয়ার ফলে দুর্গন্ধ ও সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ছে।
তবে স্বজনদের ভবিষ্যতে লাশ শনাক্ত করার সুযোগ রাখার জন্য বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। দাফনের পূর্বে প্রতিটি লাশের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করছে কর্তৃপক্ষ। প্রতিটি লাশকে একটি স্বতন্ত্র শনাক্তকরণ নম্বর দেওয়া হচ্ছে এবং কোথায় দাফন করা হয়েছে, সেই তথ্যও সংরক্ষণ করা হবে। পরে ডিএনএ পরীক্ষায় পরিচয় নিশ্চিত হলে স্বজনরা লাশটি কবর থেকে তুলে নিতে পারবেন।
শনিবার বিকেল পর্যন্ত ১০০টির বেশি লাশের ডিএনএ পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে এবং সেগুলো দাফনের জন্য প্রস্তুত ছিল। লাশগুলো প্রায় ১.৫ মিটার গভীর কবরে দাফন করা হচ্ছে, যাতে প্রয়োজন হলে পরে সহজে তুলে আনা যায়। প্রতিটি কবরের মধ্যে প্রায় ৪০ সেন্টিমিটার দূরত্ব রাখা হচ্ছে, যাতে ডিএনএ মিললে নির্দিষ্ট মরদেহটি সহজে শনাক্ত করে উত্তোলন করা যায়।
এছাড়া প্রতিটি মরদেহ নম্বরযুক্ত ব্যাগে রাখা হচ্ছে। কবরের পাশে একটি কংক্রিটের প্ল্যাটফর্ম ও পরিচয়ফলক বসানো হচ্ছে, যেখানে মরদেহের শনাক্তকরণ নম্বর থাকবে।
আরও পড়ুন: মায়ের জন্মদিনের উপহার বন্দুক দিয়ে ৪ জনকে হত্যা কিশোরের
এছাড়া পুরো দাফন প্রক্রিয়া ছবি ও ভিডিওতে নথিভুক্ত করার পাশাপাশি কবরের অবস্থান জিও-ট্যাগ করে রাখার পরিকল্পনাও রয়েছে।
ডিএনএ মিললেই স্বজনদের কাছে হস্তান্তর:
নিখোঁজ স্বজনদের খুঁজছেন এমন ব্যক্তিদের দেশের বিভিন্ন হাসপাতাল ও নির্ধারিত কেন্দ্রে গিয়ে নিজেদের ডিএনএ নমুনা দিতে হবে। পরে স্বাস্থ্য বিভাগ স্বজনদের ডিএনএ নমুনার সঙ্গে মরদেহের ডিএনএ মিলিয়ে পরিচয় নিশ্চিত করবে।
পরিচয় নিশ্চিত হলে সংশ্লিষ্ট লাশের নম্বর দেখে পুলিশ তার কবরের সঠিক অবস্থান শনাক্ত করবে। এরপর লাশটি কবর থেকে তুলে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
আরও পড়ুন: সিইসির পদত্যাগের দাবিতে বিরোধীদের নতুন আন্দোলনের ঘোষণা
পরিচয়হীন ও দাবিদারহীন লাশগুলোর তথ্য পুলিশ একটি ওয়েবসাইটেও প্রকাশ করেছে।
গত বুধবার (২৬ আগস্ট) নেপাল ও চীনের সীমান্তবর্তী অঞ্চলে ভয়াবহ হিমবাহ ধসের ঘটনা ঘটে। এতে পানি, কাদা ও ধ্বংসাবশেষের ভয়াবহ স্রোতে নেপালের বিভিন্ন গ্রাম ও শহর ভেসে যায়। রবিবার সংবাদমাধ্যম কাঠমুন্ডু পোস্ট ও নেপাল নিউজ জানিয়েছে, নেপালে আকস্মিক বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৭৩৪ জনে পৌঁছেছে এবং উদ্ধার করা হয়েছে ৭৩৪টি মরদেহ।
এছাড়া ত্রাণ কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। ৩৭টি ট্রাক ও ৭টি হেলিকপ্টারের মাধ্যমে খাদ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী সরবরাহ করা হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় বিশেষায়িত সার্জিক্যাল মেডিকেল টিম মোতায়েন করা হয়েছে এবং স্থানীয় সরকারগুলোর মাধ্যমে নগদ সহায়তাও বিতরণ শুরু হয়েছে।
এদিকে এখনো নিখোঁজ আছেন প্রায় তিন হাজার মানুষ। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন তাদের এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে।
আরও পড়ুন: যুক্তরাষ্ট্র থেকে বাংলাদেশে পৌঁছেছে ১ লাখ ৭৫ হাজার টন গম
নিখোঁজদের তালিকায় সরকারি ও নিরাপত্তা বাহিনীর কিছু সদস্যও রয়েছেন বলেও জানিয়েছে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গণমাধ্যম।
সূত্র:
আরও পড়ুন: সিরিয়ার জামলা গ্রামে ইসরাইলি গুলিতে প্রতিবন্ধী ব্যক্তি নিহত
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন