বৃহস্পতিবার, ২২শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং
১০:৪৪ এম
অস্ট্রেলিয়ায় বন্যার সংবাদ সংগ্রহের সময় এক টেলিভিশন সাংবাদিক অসাধারণ সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছেন। কুইন্সল্যান্ড রাজ্যে বন্যার পানিতে একটি গাড়ি সম্পূর্ণরূপে তলিয়ে যাওয়ার ঠিক আগে, এক পথচারীকে সঙ্গে নিয়ে তিনি এক চালককে জীবিত উদ্ধার করেছেন।
রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, অস্ট্রেলিয়ার সম্প্রচার সংস্থা ‘এবিসি’-এর সাংবাদিক উইল মারে এই সাহসিকতার জন্য পরিচিত। দুর্ঘটনার সময় চালকের উদ্ধার অভিযানের দৃশ্য সিসিটিভি ও ক্যামেরা ফুটেজে স্পষ্টভাবে ধরা পড়েছে। বৃহস্পতিবার (২১ অক্টোবর) কুইন্সল্যান্ডের ব্রিসবেন শহরের উত্তরাঞ্চলীয় মোরেফিল্ড এলাকায় ভারি বর্ষণ ও প্লাবনের খবর সংগ্রহ করছিলেন এবিসির প্রতিবেদক উইল মারে। এ সময় এক চালক তার ফোর-হুইল ড্রাইভ গাড়িটি প্রবল পানির প্রবাহের মধ্য দিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। কিছু দূর যাওয়ার পর গাড়িটির ইঞ্জিন বন্ধ হয়ে যায় এবং তা দ্রুত তলিয়ে যেতে শুরু করে।
গাড়িটি সম্পূর্ণরূপে পানিতে তলিয়ে যাওয়ার সময় চালক ভেতরে আটকা পড়েছিলেন। বিপদের সংকেত পেয়ে মারে এবং কাছাকাছি থাকা এক সাধারণ পথচারী দ্রুত সাঁতরে গাড়ির কাছে পৌঁছান। গাড়িটি সম্পূর্ণরূপে ডুবে যাওয়ার মুহূর্তে তারা দক্ষতার সঙ্গে চালককে টেনে বের করেন।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী এবং এবিসির ক্যামেরা অপারেটর লিজ পিকারিং বলেন, ‘পরিস্থিতি মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ ছিল। কোনো সময় নষ্ট না করে ওরা যেভাবে পানির মধ্যে নেমে পড়েছিল—ওরা দুজন মিলে নিশ্চিতভাবেই লোকটির জীবন বাঁচিয়েছে।’
সম্প্রচারকারী সংস্থা এবিসি জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার মোরেফিল্ড শহরে রেকর্ড প্রায় ১৭০ মিলিমিটার (৬.৭ ইঞ্চি) বৃষ্টিপাত হয়েছিল। হঠাৎ করে এ ভারি বৃষ্টিপাতের কারণে অঞ্চলটিতে আকস্মিক প্লাবন ও তীব্র জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়, যার ফলে সড়কটিতে এ বিপজ্জনক পরিস্থিতি তৈরি হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
আজ সকাল ৯টায় উপজেলা আমীর মাওলানা সিরাজুল ইসলাম ফিরোজের সভাপতিত্বে এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলার সাবেক আমীর ও চট্টগ্রাম অঞ্চল টিমের সদস্য জনাব জাফর সাদেক।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী চট্টগ্রাম উত্তর জেলা শিল্প ও বাণিজ্য বিভাগের সেক্রেটারি ইঞ্জিনিয়ার বোরহান উদ্দিন এবং জেলা অফিস ও প্রচার বিভাগের সেক্রেটারি এজাহারুল ইসলাম। এ ছাড়া সন্দ্বীপ উপজেলা জামায়াতের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে জাফর সাদেক বলেন, সদস্য (রুকন) হিসেবে প্রত্যেক দায়িত্বশীলকে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের লক্ষ্যে নিজেদের ব্যক্তিগত, পারিবারিক ও সামাজিক জীবন ইসলামের আদর্শে গড়ে তুলতে হবে। সংগঠনের আদর্শ, শৃঙ্খলা ও দায়িত্বশীলতার প্রতি অবিচল থেকে নিজেদের যোগ্যতা ও নৈতিক মানোন্নয়নে সচেষ্ট থাকতে হবে।
তিনি আরও বলেন, “জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করতে হবে। অন্যথায় জনগণ রাস্তায় নামতে বাধ্য হবে। জামায়াতে ইসলামী সংবিধান সংশোধন নয়, বরং সংবিধান সংস্কার চায়।”
তিনি সংগঠনকে তৃণমূল পর্যায়ে আরও শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, পাড়ায় পাড়ায় ইউনিট প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে সংগঠনকে মজবুত করতে হবে। এ ক্ষেত্রে রুকনদের অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে এবং সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনার আলোকে সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে। পাশাপাশি সমাজের মানুষের সুখে-দুঃখে পাশে দাঁড়িয়ে জনকল্যাণমূলক কাজের মাধ্যমে মানুষের আস্থা অর্জন করতে হবে।
প্রধান অতিথি সদস্যদের নিয়মিত পবিত্র কুরআন অধ্যয়ন, ইসলামী জ্ঞান অর্জন, আত্মগঠন এবং সাংগঠনিক কার্যক্রমে সক্রিয় ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।
সভাপতির বক্তব্যে উপজেলা আমীর মাওলানা সিরাজুল ইসলাম ফিরোজ সদস্যদের ওপর অর্পিত সাংগঠনিক দায়িত্ব যথাযথভাবে পালনের আহ্বান জানান। তিনি দ্বীন প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টা জোরদার করা, জনসেবামূলক কার্যক্রম সম্প্রসারণ এবং নৈতিক মূল্যবোধসম্পন্ন সমাজ গঠনে সবাইকে আরও আন্তরিক ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।
সম্মেলনে সংগঠনের আদর্শ ও লক্ষ্য বাস্তবায়নে সদস্যদের ব্যক্তিগত মানোন্নয়ন, সাংগঠনিক দক্ষতা বৃদ্ধি এবং তৃণমূল পর্যায়ে কার্যক্রম জোরদার করার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
লিওনেল মেসি প্রথমবারের মত প্রিন্সেস অব আস্তুরিয়াস অ্যাওয়ার্ড গ্রহণের জন্য স্পেন সফরে যাচ্ছেন। এই আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি, যা স্পেনের রাজপরিবারের পক্ষ থেকে দেওয়া হয়, ক্রীড়া বিভাগে ২০২৬ সালের বিজয়ী আর্জেন্টাইন মহাতারকার জন্য। আগামী ২৩ অক্টোবর, স্পেনের রাজা ষষ্ঠ ফেলিপে ও রানী লেতিসিয়ার উপস্থিতিতে তিনি ওভিয়েদোর তেয়াত্রো কাম্পোয়ামোরে এই পুরস্কার গ্রহণ করবেন। এটি এককভাবে কোনো ফুটবলার হিসেবে প্রথমবারের মত দেওয়া হচ্ছে।
লিওনেল মেসির অর্জনের তালিকা বিশ্বকাপ জয়, আটটি ব্যালন ডি'অর এবং বিভিন্ন শিরোপা নিয়ে গঠিত। এবার নতুন একটি পালক যুক্ত হতে যাচ্ছে তার এই তালিকায়। তিনি স্পেনের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি 'প্রিন্সেস অব আস্তুরিয়াস অ্যাওয়ার্ড' ২০২৬ সালের ক্রীড়া বিভাগে অর্জন করেছেন।
১৯৮১ সালে এই পুরস্কারের যাত্রা শুরু হয়। বিজ্ঞান, সাহিত্য, শিল্পকলা, সামাজিক বিজ্ঞান, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা এবং খেলাধুলা—মোট আটটি বিভাগে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে অবদান রাখা ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে সম্মানিত করে প্রিন্সেস অব আস্তুরিয়াস ফাউন্ডেশন। পুরস্কারের সঙ্গে রয়েছে হুয়ান মিরোর নকশা করা ভাস্কর্য, সনদ, ব্যাজ এবং ৫০ হাজার ইউরো অর্থমূল্য।
গত ৩ জুন, স্পেনের ওভিয়েদোতে জুরির আনুষ্ঠানিক ঘোষণায় মেসিকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়। তার ধারাবাহিকতা, বিনয় এবং অর্জনের পাশাপাশি সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবায় তার দাতব্য কাজও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। ২৭ জন মনোনীতের মধ্যে মেসিকেই বেছে নেয় প্রিন্সেস অব আস্তুরিয়াস ফাউন্ডেশন।
এর আগে সেরেনা উইলিয়ামস এবং রাফায়েল নাদালের মত তারকারা এই পুরস্কার পেয়েছেন। তবে ফুটবলে এই পুরস্কার এসেছে তিনবার। ২০০২ সালে দলগতভাবে বিশ্বকাপ জয়ী ব্রাজিল এবং ২০১০ সালে স্পেন এই পুরস্কার লাভ করে। এছাড়া ২০১২ সালে যৌথভাবে দুই স্প্যানিশ ফুটবলার ইকার ক্যাসিয়াস ও জাবি হার্নান্দেজ এই স্বীকৃতি পান। ফলে, মেসি প্রথমবারের মত এককভাবে এই পুরস্কার গ্রহণ করতে যাচ্ছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুরে আম্বর আলী শাহ মাজারের মূল ফটকের তালা ভেঙে দানবাক্সের টাকা ও বিভিন্ন মালামাল চুরির অভিযোগ উঠেছে। মাজার পরিচালনা কমিটির দাবি, চুরি হওয়া টাকা ও মালামালের আনুমানিক মূল্য ১ লাখ ৪৫ হাজার টাকা।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) রাত ৮টা থেকে বুধবার (২১ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৬টার মধ্যে উপজেলার ছয়ফুল্লাকান্দি ইউনিয়নের মধ্যনগর এলাকায় অবস্থিত মাজারটিতে এ ঘটনা ঘটে।
মাজার পরিচালনা কমিটির সহসভাপতি এটিএম বাক্কী থানায় দেওয়া লিখিত অভিযোগে জানান, মঙ্গলবার রাতে মাজারের ভেতর ও আশপাশের এলাকা ঘুরে দেখে মূল ফটকে তালা লাগিয়ে তিনি চলে যান। বুধবার সকালে মাজারে গিয়ে ফটকের তালা ভাঙা ও সামনের দরজা খোলা দেখতে পান। পরে খোঁজ নিয়ে দানবাক্সের টাকা ও বিভিন্ন মালামাল চুরির বিষয়টি জানতে পারেন।
লিখিত অভিযোগ অনুযায়ী, মাজারের দানবাক্স থেকে আনুমানিক এক লাখ টাকা, প্রায় ২০ হাজার টাকা মূল্যের আটটি কাঁসার পাতিল এবং প্রায় ২৫ হাজার টাকা মূল্যের বিভিন্ন আসবাবপত্র চুরি হয়েছে। সব মিলিয়ে চুরি হওয়া অর্থ ও মালামালের মূল্য প্রায় ১ লাখ ৪৫ হাজার টাকা।
ঘটনার পর আশপাশের এলাকায় খোঁজখবর নিয়েও চুরির সঙ্গে জড়িত কাউকে শনাক্ত করতে পারেনি মাজার পরিচালনা কমিটি। পরে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে বাঞ্ছারামপুর মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়।
বাঞ্ছারামপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইয়াছিন জানান, মাজারে চুরির ঘটনায় একটি অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে পুলিশ কাজ করছে।
এ ঘটনায় এলাকায় উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। মাজার পরিচালনা কমিটি চুরির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কক্সবাজারের মেরিন ড্রাইভ সড়কের রামু উপজেলার পেঁচারদ্বীপে সাগরে গোসল করতে নেমে জোয়ারের পানিতে চার পর্যটকের মৃত্যু ঘটেছে। এ ঘটনায় আরও একজন নিখোঁজ রয়েছে। স্থানীয়রা তিনজনকে জীবিত উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠিয়েছেন। গত বুধবার (২১ অক্টোবর) বিকেলে হিমছড়ির পেঁচারদ্বীপ জাদুঘর-সংলগ্ন রেজুখাল ও সমুদ্রের মধ্যবর্তী চরে এই দুর্ঘটনা ঘটে। নিখোঁজ পর্যটকদের মধ্যে একজনের মরদেহ বৃহস্পতিবার সকালে উদ্ধার করা হয়।
নিহতদের মধ্যে দুজন ঢাকার এবং দুজন চট্টগ্রামের বাসিন্দা। নিখোঁজ পর্যটক ঢাকার বাসিন্দা। রামু উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জিল্লুর রহমান দুর্ঘটনা ও হতাহতের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
নিহত ঢাকার দুই পর্যটক হলেন উত্তরা দিয়াবাড়ি এলাকার মোকারম হোসেনের ছেলে আল মাহিবুল ইবনে মোকারম ওরফে রোহান (২৩) এবং দক্ষিণখান এলাকার মাহবুবুল হকের ছেলে সাইফুল হক জিসান (২৩)। নিখোঁজ ঢাকার পর্যটক হলেন উত্তরা আজমপুর এলাকার লাবিবর রহমানের ছেলে এস এম নাফিজুর রহমান নিবিড় (২৩)।
নিহত চট্টগ্রামের দুই পর্যটক হলেন বায়েজিদ শেরশাহ জামতলা এলাকার মো. এরশাদের ছেলে মো. আকাশ (২০) এবং একই এলাকার মো. কবিরের ছেলে মো. হারুন (২০)। হারুনের মরদেহ গতকাল বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সকাল ৮টার দিকে দুর্ঘটনাস্থলের কাছাকাছি সাগর বিলাস এলাকা থেকে উদ্ধার করা হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে ইউএনও মো. জিল্লুর রহমান জানান, পর্যটকদের দুটি দল পেঁচারদ্বীপ জাদুঘর-সংলগ্ন রেজুখাল পেরিয়ে খাল ও সমুদ্রের মধ্যবর্তী জেগে ওঠা চরে ঘুরতে যায়। বিকেলের দিকে সাগরে জোয়ার শুরু হলে পানি বাড়তে থাকে। একপর্যায়ে জোয়ারের পানিতে চরটি তলিয়ে গেলেও পর্যটকেরা বিষয়টি বুঝতে পারেননি। পরে তাঁরা পানিতে তলিয়ে যান।
এ সময় স্থানীয় লোকজন চট্টগ্রাম থেকে আসা পর্যটক দলের তিন সদস্যকে জীবিত উদ্ধার করেন। পরে ঘটনাস্থল থেকে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিখোঁজ ছিলেন আরও দুই পর্যটক। বৃহস্পতিবার সকালে তাঁদের একজন হারুনের মরদেহ উদ্ধারের মধ্য দিয়ে এ ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে চারজনে দাঁড়িয়েছে।
জীবিত উদ্ধার হওয়া তিনজন হলেন চট্টগ্রামের বায়েজিদ এলাকার মৃত আবুল কালামের ছেলে রাকিব হাসান (১৯), একই এলাকার মৃত ছগিরের ছেলে মো. সানী (২০) এবং বায়েজিদে বসবাসকারী নোয়াখালীর মো. হেলালের ছেলে মো. আকাশ। তাঁদের কক্সবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন মো. সানী ও মো. আকাশ জানান, তাঁরা বুধবার দুপুর ১২টার দিকে ট্রেনে কক্সবাজার পৌঁছান। আগে থেকে বুকিং করা পেঁচারদ্বীপের একটি রিসোর্টে ওঠার পর বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে সমুদ্রে গোসল করতে নামেন। পরে রেজুখাল পেরিয়ে চরে চলে যান। সেখানে অন্য একটি পর্যটক দলের সদস্যদেরও একইভাবে খাল পেরিয়ে চরে যেতে দেখেন তাঁরা।
অন্যদিকে, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাত শিক্ষার্থীর একটি দল ১৮ অক্টোবর রাতে ঢাকা থেকে ভ্রমণের উদ্দেশ্যে রওনা হন। পরদিন তাঁরা বান্দরবানে পৌঁছে বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্র ঘুরে দেখেন। বুধবার দুপুরে কক্সবাজারের হিমছড়ি এলাকার ‘শোর নেস্ট বিচ ক্যাম্প’ রিসোর্টে ওঠেন। পরে বিকেলে সাত বন্ধু পেঁচারদ্বীপ জাদুঘর-সংলগ্ন সৈকতে গোসল করতে নেমে দুর্ঘটনার শিকার হন।
ইউএনও মো. জিল্লুর রহমান জানান, আইনগত প্রক্রিয়া শেষে বুধবার রাতেই উদ্ধার হওয়া তিনজনের মরদেহ কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। নিখোঁজ পর্যটকদের সন্ধানে সাগরে তল্লাশি চালানো হচ্ছিল। বৃহস্পতিবার সকালে হারুনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। অপর নিখোঁজ পর্যটক এস এম নাফিজুর রহমান নিবিড়ের সন্ধানে তল্লাশির সর্বশেষ অবস্থা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।
কক্সবাজারের পর্যটনশিল্পে একের পর এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। গত ১৭ অক্টোবর সকালে মেরিন ড্রাইভের ইনানীর পাটুয়ারটেক এলাকায় টুপটুপ রেস্তোরাঁ অ্যান্ড রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডে ১০ জনের প্রাণহানির শোক কাটতে না কাটতেই পেঁচারদ্বীপে সাগরে ডুবে পর্যটকদের মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, সমুদ্রসৈকত ও উপকূলীয় পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে ঝুঁকিপূর্ণ স্থান চিহ্নিত করা, জোয়ার-ভাটার বিষয়ে পর্যটকদের সতর্ক করা, বিপৎসংকেত ও সতর্কতামূলক নির্দেশনা দৃশ্যমান স্থানে স্থাপন এবং উদ্ধার তৎপরতা জোরদার করা জরুরি। বিশেষ করে রেজুখালের মতো জোয়ারে প্লাবিত হতে পারে-এমন চর ও বিচ্ছিন্ন স্থানে পর্যটকদের যাতায়াত নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
পর্যটকদেরও স্থানীয় প্রশাসন ও উদ্ধারকর্মীদের নির্দেশনা মেনে চলা এবং জোয়ারের সময় খাল পেরিয়ে বিচ্ছিন্ন চরে না যাওয়ার বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে। পর্যটননগরী কক্সবাজারে প্রাণহানি রোধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সমন্বিত উদ্যোগ এখন সময়ের দাবি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ