সোমবার, ২৮শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
১০:৫৮ পি.এম
ভারতের পাঞ্জাবের লাভলি প্রফেশনাল ইউনিভার্সিটিতে (এলপিইউ) রবিবার এক ছাত্রীকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগের প্রেক্ষিতে বিক্ষোভ সহিংস রূপ ধারণ করেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একাধিক ভিডিওতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শপিং মলে দোকানপাট ভাঙচুর ও লুটপাটের দৃশ্য দেখা যায়।
ভিডিওগুলোতে ক্যাম্পাসের মল থেকে মানুষকে খাবার, ইলেকট্রনিক্স পণ্য ও অন্যান্য সামগ্রী নিয়ে যেতে দেখা যায়। একটি ভিডিওতে একজনকে বলতে শোনা যায়, "ভাই, পিএস৫ নিয়ে এসেছি," অন্য একটি ভিডিওতে শোনা যায়, "ফ্রি-তে শপিং, শপিং ডান।" তবে ভিডিওতে উপস্থিত সবাই এলপিইউ-এর শিক্ষার্থী কি না, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
অনলাইনে প্রকাশিত অন্যান্য ভিডিওতে ক্যাম্পাসের দোকানপাট, এটিএম বুথ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য সম্পত্তির ক্ষয়ক্ষতির চিত্রও দেখা গেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দাবি করা হয়েছে, ক্যাম্পাসে এক নির্মাণ শ্রমিক দ্বারা এক ছাত্রী ধর্ষণের শিকার হন এবং পরে তিনি আত্মহত্যা করেন। এই ঘটনার প্রতিবাদেই শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভে অংশ নেন।
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এই অভিযোগ সম্পূর্ণ প্রত্যাখ্যান করে এটিকে "মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও মনগড়া" বলে দাবি করেছে।
এদিকে, পুলিশ অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে ৭ সদস্যের একটি বিশেষ তদন্ত দল (সিট) গঠন করেছে। তদন্তকারীরা সিসিটিভি ফুটেজ, ফরেনসিক আলামত, কল রেকর্ড ও অন্যান্য ডিজিটাল প্রমাণ খতিয়ে দেখছেন।
জলন্ধর রেঞ্জের ডিআইজি নবীন সিংলা জানান, গার্লস হোস্টেল ৩-এর ৫০৪ নম্বর রুমে ঠিক কী ঘটেছিল এবং অভিযোগ অনুযায়ী এমন কোনো ঘটনা আদৌ ঘটেছে কি না, তা তদন্তে বের হয়ে আসবে।
সোমবার এই বিতর্ক নতুন মোড় নেয়, যখন এলপিইউ-এর পক্ষ থেকে প্রকাশ করা একটি ভিডিওতে থাকা তিন ছাত্রী সেই রেকর্ডিং ব্যবহারের ধরণ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাদের রেজিস্ট্রার ড. মনিকা গুলাটি ও ওই তিন ছাত্রীকে নিয়ে একটি ভিডিও প্রকাশ করেছিল, যেখানে তারা বলেছিলেন যে ৫০৪ নম্বর রুমে এ ধরনের কোনো ঘটনা ঘটেনি।
কিন্তু এর একদিন পর, ওই ছাত্রীরা অন্য একটি ভিডিওতে এসে দাবি করেন যে, তাদের আগে থেকেই শিখিয়ে দেওয়া হয়েছিল কী বলতে হবে। তাদের আরও অভিযোগ, সম্মতি ছাড়াই মূল রেকর্ডিংটি কাটছাঁট (এডিট) করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আপলোড করা হয়েছে।
ভিডিওতে এক ছাত্রী বলেন, "আমাদের ভিডিওটি কেটে ছোট করে ইনস্টাগ্রামে পোস্ট করা হয়েছে। এ বিষয়ে আমরা কিছুই জানতাম না এবং আমাদের কোনো সম্মতি নেওয়া হয়নি। এখন অহেতুক আমাদের গালিগালাজ করা হচ্ছে।"
তবে এই ভিডিওটির সত্যতা এবং শিক্ষার্থীদের অভিযোগের বিষয়টি স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাদের আগের অবস্থানে অনড় থেকে জানিয়েছে যে, তারা যাচাইকৃত তথ্যের ওপর নির্ভর করছে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বিষয়টি তদন্ত করছে।
ক্যাম্পাসের গণ্ডি পেরিয়ে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে বাইরের ৪৪ নম্বর জাতীয় সড়কে। পুলিশ জানিয়েছে, অবরোধ সরানোর চেষ্টা করা হলে বিক্ষোভকারীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে পাথর নিক্ষেপ করে। সংঘর্ষে একাধিক পুলিশ সদস্য আহত হন এবং পুলিশের গাড়িসহ বেশ কয়েকটি যানবাহন ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়।
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও শিক্ষার্থী—উভয় পক্ষই আলাদাভাবে দাবি করেছে যে, বিশৃঙ্খলা চলাকালীন বহিরাগতরা ক্যাম্পাসে প্রবেশ করেছিল। এই বিষয়টিও পুলিশের তদন্তের আওতায় রয়েছে। সোমবার পাঞ্জাবের ডিজিপি গৌরব যাদব ক্যাম্পাস পরিদর্শন করেন। তিনি জানান পুলিশ সর্বোচ্চ ধৈর্য ধরে পরিস্থিতি সামাল দিয়েছে, তবে সহিংসতার সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ২৮ সেপ্টেম্বর থেকে পরবর্তী ১০ দিনের জন্য সব ধরনের নিয়মিত ক্লাস বন্ধ ঘোষণা করেছে এলপিইউ কর্তৃপক্ষ। এছাড়া সাময়িক পরীক্ষাসমূহ পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত স্থগিত করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের সাথে পরামর্শ করে নিজ নিজ বাড়িতে ফিরে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছে। পাশাপাশি যারা ক্যাম্পাসে অবস্থান করছেন, তাদের হোস্টেলের ভেতরে থাকতে এবং কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলায় না জড়াতে সতর্ক করা হয়েছে।
সোমবার পুরো ক্যাম্পাস জুড়ে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়। সহিংসতার ঘটনায় আতঙ্কিত অনেক শিক্ষার্থীকে ব্যাগপত্র গুটিয়ে ক্যাম্পাস ছেড়ে যেতে দেখা গেছে। এদিকে পাঞ্জাব রাজ্য মহিলা কমিশনও এই ঘটনার বিষয়ে কাপুরথালার ডেপুটি কমিশনার ও এসএসপির কাছে বিস্তারিত প্রতিবেদন তলব করেছে। কমিশন এফআইআর, এসআইটি তদন্তের অগ্রগতি এবং নারী শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ব্যবস্থার বিস্তারিত তথ্য চেয়েছে। যৌন নির্যাতনের অভিযোগ, বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিডিও কেন্দ্র করে সৃষ্টি হওয়া বিতর্ক এবং ক্যাম্পাসে ছড়িয়ে পড়া সহিংসতা—সবকিছুরই এখন তদন্ত চলছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশের মেডিকেল শিক্ষার্থী ও চিকিৎসকদের বিভিন্ন দাবি নিয়ে উত্থাপিত ৬ দফা এবং ডক্টর’স মুভমেন্ট ফর জাস্টিসের নতুন ৫ দফাসহ মোট ১১ দফা দাবির সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থী ও চিকিৎসকদের পক্ষ থেকে কলেজ অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. খন্দকার মো. ফয়সল আলমের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করা হয়েছে। রাজশাহী মেডিকেল কলেজের সরকারি ওয়েবসাইটেও অধ্যাপক ডা. খন্দকার মো. ফয়সল আলমকে প্রতিষ্ঠানটির বর্তমান অধ্যক্ষ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) দেওয়া স্মারকলিপিতে ১১ দফা দাবি দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কার্যকর ও দৃশ্যমান উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান শিক্ষার্থী ও চিকিৎসকরা।
স্মারকলিপি প্রদানকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, দেশের মেডিকেল শিক্ষার্থী ও চিকিৎসকদের পেশাগত অধিকার, মর্যাদা এবং চিকিৎসা শিক্ষা ও স্বাস্থ্যব্যবস্থার বিভিন্ন বিষয়কে সামনে রেখে এসব দাবি উত্থাপন করা হয়েছে। তারা দাবিগুলো দ্রুততম সময়ের মধ্যে বাস্তবায়নের আহ্বান জানান।
দাবি বাস্তবায়নে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হলে পরবর্তী সময়ে ক্লাস বর্জন, ইন্টার্ন চিকিৎসকদের কর্মবিরতিসহ আরও কঠোর কর্মসূচি গ্রহণ করা হতে পারে বলে স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
আন্দোলনকারীরা জানান, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তাদের কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে। একই সঙ্গে ১১ দফা দাবি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে দেশের মেডিকেল শিক্ষার্থী ও চিকিৎসকদের ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানানো হয়।
‘দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত সংগ্রাম চলবে’—এই প্রত্যয় ব্যক্ত করেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থী ও চিকিৎসকরা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সুন্দরবনের খুলনা রেঞ্জের নলিয়ান স্টেশনের অধীন মারকি খাল এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে বন বিভাগ বিষ প্রয়োগের মাধ্যমে মাছ শিকারের অভিযোগে ৪ জন জেলেকে আটক করেছে। অভিযানের সময় তাদের কাছ থেকে ২টি নৌকা, অবৈধ ভেশাল জাল ও নিষিদ্ধ কীটনাশক সহ চিংড়ি মাছ উদ্ধার করা হয়েছে।
সূত্রে জানা গেছে, সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯ টার দিকে খুলনা রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক ও রেঞ্জ কর্মকর্তা মোঃ সাজমিনুল ইসলামের নেতৃত্বে অভিযান চালানো হয় এবং এ সময় নলিয়ান স্টেশনের বন রক্ষীরা উপস্থিত ছিলেন। আটককৃতদের মধ্যে রয়েছেন রফিকুল ইসলাম (৫২), আয়ুব আলী গাজী (৫৫), দিদারুল গাজী (৩০), হামিদ গাজী এবং আবুল হাসান (৩০)।
সুন্দরবন পশ্চিম বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) এজেডএম হাছানুর রহমান জানিয়েছেন, এই ঘটনায় বন আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। আটক জেলেদেরকে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কুষ্টিয়ার দৌলতপুর সীমান্তে সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ২৮ সেপ্টেম্বর কুষ্টিয়া ব্যাটালিয়ন (৪৭ বিজিবি)-এর অধীনস্থ রামকৃষ্ণপুর বিওপির দায়িত্বপূর্ণ এলাকার মদনের ঘাট নামক স্থানে একটি চৌকস বিজিবি টহল দল বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে।
উক্ত অভিযানে মালিকবিহীন অবস্থায় ০১টি এক নলা দেশীয় পিস্তল এবং ০২ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত অস্ত্র ও গুলির আনুমানিক সিজার মূল্য (দশ হাজার চারশত) টাকা।
সীমান্ত এলাকায় অবৈধ অস্ত্রের চোরাচালান ও অনুপ্রবেশ প্রতিরোধ, সীমান্ত সুরক্ষা নিশ্চিতকরণ এবং সীমান্তবর্তী জনসাধারণের নিরাপত্তা বজায় রাখতে কুষ্টিয়া ব্যাটালিয়ন (৪৭ বিজিবি) নিয়মিতভাবে গোয়েন্দা তৎপরতা ও বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে আসছে।
বিজিবির এ ধরনের অভিযান ও কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে সীমান্তে অবৈধ অস্ত্র, মাদকদ্রব্য ও অন্যান্য চোরাচালান প্রতিরোধে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কক্সবাজারের বিমান যোগাযোগ ব্যবস্থায় নতুন দিগন্তের সূচনা ঘটেছে। দীর্ঘ অপেক্ষার পর কক্সবাজার বিমানবন্দরে নবনির্মিত আন্তর্জাতিক টার্মিনালের পরীক্ষামূলক কার্যক্রম শুরু হয়েছে। যাত্রীরা নতুন টার্মিনাল থেকে নির্ধারিত রুটে বিভিন্ন সেবা গ্রহণ করছেন। আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন এ টার্মিনালের কার্যক্রম শুরু হওয়ায় দেশের অন্যতম প্রধান পর্যটনকেন্দ্র কক্সবাজারের সঙ্গে আন্তর্জাতিক আকাশ যোগাযোগ সম্প্রসারণের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, আন্তর্জাতিক টার্মিনালের পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রম চালু হলে বিদেশি পর্যটকদের সরাসরি কক্সবাজারে আসার সুযোগ বৃদ্ধি পাবে। এর ফলে পর্যটন ব্যবসা, হোটেল-মোটেল, পরিবহন, রেস্তোরাঁসহ পর্যটননির্ভর বিভিন্ন খাতে কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বৃদ্ধি পেতে পারে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কক্সবাজারের পর্যটন সম্ভাবনা তুলে ধরার ক্ষেত্রেও এ বিমানবন্দর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে।
বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের সূত্রে জানা গেছে, নতুন টার্মিনালে আন্তর্জাতিক বহির্গমনের জন্য চারটি এবং আগমনের জন্য ছয়টি ইমিগ্রেশন কাউন্টার স্থাপন করা হয়েছে। যাত্রীদের সুবিধার্থে রয়েছে দুটি লাগেজ বেল্ট, সিসিটিভি, ফ্লাইট ইনফরমেশন ডিসপ্লে ও আধুনিক স্ক্যানিং ব্যবস্থা। এছাড়া ডিউটি-ফ্রি শপ, বোর্ডিং ব্রিজ, লিফট, এসকেলেটর, কনভেয়ার বেল্ট এবং একাধিক চেক-ইন কাউন্টারও সেখানে রয়েছে।
নতুন টার্মিনালের পরীক্ষামূলক কার্যক্রমের প্রথম দিনেই যাত্রীরা এর সেবা নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, কক্সবাজারের মতো আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত পর্যটনকেন্দ্রের জন্য আধুনিক বিমানবন্দর অবকাঠামো সময়ের দাবি। আন্তর্জাতিক যোগাযোগ বৃদ্ধি পেলে বিদেশি পর্যটক আগমনের পাশাপাশি স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্যেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
একজন যাত্রী মন্তব্য করেছেন, কক্সবাজারের মতো পর্যটননির্ভর শহরের জন্য এ ধরনের আধুনিক বিমানবন্দর অত্যন্ত প্রয়োজনীয় ছিল। আন্তর্জাতিক যোগাযোগ বাড়লে পর্যটন খাতের পাশাপাশি স্থানীয় অর্থনীতিও লাভবান হবে। আরেক যাত্রী জানিয়েছেন, নতুন টার্মিনাল চালুর ফলে কক্সবাজার বিমানবন্দর আধুনিক যোগাযোগ ব্যবস্থায় আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল। আন্তর্জাতিক যাত্রীদের সরাসরি কক্সবাজারে আসার সুযোগ তৈরি হলে পর্যটন খাত আরও সম্প্রসারিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
প্রথম দিনের যাত্রীদের একজন বলেছেন, নতুন টার্মিনাল দিয়ে প্রথম যাত্রী হিসেবে সেবা নিতে পেরে তিনি আনন্দিত। দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণ হওয়ায় এটি কক্সবাজারবাসীর জন্যও আনন্দের বিষয়। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, নতুন টার্মিনাল চালুর ফলে বিমানবন্দরের বার্ষিক যাত্রীসেবা সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে। আগে যেখানে বছরে প্রায় ৭ লাখ ২৫ হাজার যাত্রীকে সেবা দেওয়ার সক্ষমতা ছিল, নতুন টার্মিনাল চালুর পর তা প্রায় ২০ লাখে উন্নীত হওয়ার কথা রয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কক্সবাজারে পর্যটকের সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দ্রুত ও স্বাচ্ছন্দ্যময় যোগাযোগের প্রয়োজনীয়তাও বাড়ছে। সড়ক ও রেল যোগাযোগের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বিমান যোগাযোগ সম্প্রসারিত হলে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল এবং বিদেশ থেকে পর্যটকদের কক্সবাজারে আসা আরও সহজ হতে পারে। এতে পর্যটনকেন্দ্রিক বিনিয়োগ, হোটেল-মোটেল ব্যবসা, পরিবহন ও সেবা খাতের সম্প্রসারণের সুযোগ তৈরি হবে।
তবে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, শুধু অবকাঠামো নির্মাণ করলেই এর সুফল পুরোপুরি পাওয়া যাবে না। আন্তর্জাতিক রুট চালু, যাত্রীসেবার মান বজায় রাখা, নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার এবং নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্ব দিতে হবে। এসব বিষয় নিশ্চিত করা গেলে নতুন আন্তর্জাতিক টার্মিনাল কক্সবাজারের পর্যটন, যোগাযোগ ও স্থানীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে সক্ষম হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ