বৃহস্পতিবার, ৮ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০৯:২৭ এম
বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম আবারও বৃদ্ধি পেয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে সরবরাহ নিয়ে নতুন উদ্বেগ সৃষ্টি হওয়ায় আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০১ ডলার ছাড়িয়ে গেছে।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) গ্রিনিচ মান সময় রাত ১টা ১৬ মিনিটে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ১.৩৩ ডলার বা ১.৩৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ১০১.৫৩ ডলারে পৌঁছেছে।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ব্যবহৃত ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই)-এর দামও বৃদ্ধি পেয়েছে। এ সময় ডব্লিউটিআইয়ের দাম ১.১১ ডলার বা ১.২৬ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৮৯.৩৯ ডলারে লেনদেন হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ তেল উৎপাদনকারী অঞ্চল থেকে সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কাই বাজারে দাম বৃদ্ধির চাপ সৃষ্টি করছে। বিশেষ করে উপসাগরীয় অঞ্চল ও হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের ওপর হামলা বেড়ে যাওয়ায় তেল সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ আরও তীব্র হয়ে উঠেছে।
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহণপথ হরমুজ প্রণালিতে পরিস্থিতির অবনতি হলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের সরবরাহে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে। এই আশঙ্কার কারণে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উদ্বেগ বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং তেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী হচ্ছে।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান চলতি মাসে নিউইয়র্কে পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে পরোক্ষ আলোচনা সম্পন্ন করেছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম এনবিসি নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র, মধ্যপ্রাচ্য এবং ইরানের তিন কর্মকর্তার উদ্ধৃতি দিয়ে এই তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের সঙ্গে যেকোনো চুক্তিতে দেশটির পরমাণু কর্মসূচি সহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ও অমীমাংসিত বিষয় অন্তর্ভুক্ত করতে চায়।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্র আপাতত হরমুজ প্রণালি নিয়ে একটি অন্তর্বর্তী সমঝোতা করতে আগ্রহী নয়। ওয়াশিংটন চায়, হরমুজ প্রণালির বিষয়টির পাশাপাশি ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়েও আলোচনা এগিয়ে নিতে।
অন্যদিকে, ইরান সাত দিনের একটি সমঝোতার প্রস্তাব দিয়েছে। উক্ত প্রস্তাব অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং দেশটির আটকে থাকা অর্থ ছাড় করার প্রক্রিয়া শুরু করবে। তবে পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা পরবর্তী সময়ে আলাদাভাবে করা হবে।
তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন। ফলে হরমুজ প্রণালি, নিষেধাজ্ঞা ও ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে দুই দেশের মধ্যে আলোচনায় এখনও মতপার্থক্য রয়ে গেছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রুশ বাহিনী ইউক্রেনের উত্তরাঞ্চলীয় প্রদেশ চেরনিহিভসহ বিভিন্ন স্থানে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। এই হামলায় ইউক্রেনে অন্তত ২৮ জন নিহত হয়েছেন, যার মধ্যে পাঁচটি শিশু রয়েছে।
বুধবার (৭ অক্টোবর) ভোরে ইউক্রেনের উত্তরাঞ্চলীয় প্রদেশ চেরনিহিভের প্রিলুকি জেলায় একটি অ্যাপার্টমেন্ট ব্লকে রুশ ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানলে ঘুমন্ত অবস্থায় প্রাণ হারায় শিশুরা।
শক্তিশালী বিস্ফোরণের ফলে ওই অ্যাপার্টমেন্ট ভবনের জানালার কাঁচ ভেঙে যায় এবং পাঁচতলা ভবনটির অর্ধেক অংশ পুড়ে যাওয়া কংক্রিট ও দুমড়েমুচড়ে যাওয়া ধাতব কাঠামোর স্তূপে পরিণত হয়।
প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এক বিবৃতিতে জানান, নিহতদের মধ্যে তিনজনের বয়স ছিল মাত্র ১২ মাস এবং আরেকজনের বয়স আট বছর।
ইউক্রেনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সন্ধ্যায় ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে আরেকটি শিশুর লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্টের দপ্তর থেকে প্রকাশিত পৃথক এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, রুশ হামলায় প্রিলুকির ওই অ্যাপার্টমেন্ট ভবনে হামলায় ২০ জন নিহত হয়েছেন।
নিহতদের পাশাপাশি আহত হয়েছেন বহু মানুষ। প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি জানিয়েছেন, আহতদের মধ্যে আরও সাতটি শিশু রয়েছে। তিনি রাশিয়াকে ইচ্ছাকৃতভাবে ‘বেসামরিক সাধারণ শহর ও বেসামরিক জীবনযাত্রাকে’ লক্ষ্য করে হামলা চালানোর জন্য অভিযুক্ত করেছেন।
জেলেনস্কি বলেন, ইউক্রেন তথা আমাদের জনগণ ও শিশুদের বিরুদ্ধে ক্ষেপণাস্ত্রের অব্যাহত ব্যবহার হলো সন্ত্রাস সৃষ্টির এক সুপরিকল্পিত পদক্ষেপ।
ইউক্রেনের নাগরিক ও ম্যাসাজ থেরাপিস্ট ৪০ বছর বয়সি ওলেনা সায়ুন এএফপি-কে বলেন, "আমরা বাড়িতে ঘুমাচ্ছিলাম। হঠাৎ বিস্ফোরণে আমাদের জানালার কাঁচ উড়ে যায়। সৃষ্টিকর্তাকে ধন্যবাদ যে, আমরা নিজেদের শরীর দিয়ে আমাদের শিশু সন্তানকে আগলে রেখেছিলাম। আমার স্বামীর পিঠে এবং আমার শরীরেও কিছু কাটাছেঁড়া হয়েছে।"
তিনি আরও বলেন, হামলার সময় আমাদের সন্তানের প্রচণ্ড মানসিক আঘাত বা ‘নার্ভাস ব্রেকডাউন’ হয়েছিল এবং সে খুব ভয় পেয়ে গিয়েছিল। আমরা দ্রুত বাথরুমের দিকে ছুটে গিয়েছিলাম এবং অ্যাপার্টমেন্টের সবকিছু যখন তছনছ হয়ে যাচ্ছিল, সে সময় আমরা সেখানেই ছিলাম।
প্রিলুকির স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, ৭ অক্টোবর বুধবার স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ৬টার দিকে রুশ বাহিনী প্রিলুকিতে আঘাত হানা শুরু করে। এর আগে মঙ্গলবার জেলেনস্কি রাশিয়ার তরফ থেকে একটি ‘ব্যাপক’ হামলার বিষয়ে সতর্কবার্তা দিয়েছিলেন। সেই বার্তায় জ্বালানি অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করার কথা বিশেষভাবে বলা হয়েছিল।
শীতকাল ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে রাজধানীতে হামলার মাত্রা বেড়ে গেছে এবং প্রায় অবিরাম বিমান হামলার সতর্ক সংকেত (সাইরেন) বেজে চলেছে।
উদ্বিগ্ন বাসিন্দারা ব্যাগ, শোয়ার মাদুর ও কম্বল নিয়ে রাতের জন্য সাবওয়ে স্টেশনগুলোতে আশ্রয় নেন।
ব্যাংক কর্মকর্তা ইরিনা রিবালচেঙ্কো প্ল্যাটফর্মে গাঢ় রঙের হুডি পরে এবং চারপাশে ব্যাগ নিয়ে বসে থাকা অবস্থায় এএফপি-কে বলেন, "আমরা আমাদের জিনিসপত্র নিয়ে এখানে চলে এসেছি।"
তিনি বলেন, "পুরো কিয়েভ শহর এখন আতঙ্কের মধ্যে রয়েছে। আজ আমরা কর্মস্থলে আটকা পড়েছিলাম এবং সবাই—আমাদের গ্রুপের চ্যাট বা বসরা—আমাদের সতর্ক থাকার বার্তা পাঠাচ্ছিলেন।"
ইউক্রেনের বিমান বাহিনী জানিয়েছে, বুধবার রাশিয়া দিনিপ্রোপেত্রোভস্ক, কিয়েভ, খারকিভ ও পোলতাভাসহ বিভিন্ন অঞ্চলে অন্তত ৫০টি ক্ষেপণাস্ত্র ও ১৩০টি ড্রোন দিয়ে হামলা করেছে রুশ বাহিনী।
প্রায় পাঁচ বছর ধরে চলা এই সংঘাতের অন্যতম ‘ঘৃণ্য হামলা’ উল্লেখ করে জেলেনস্কি বলেছেন, কিছু ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ভূপাতিত করা সম্ভব হলেও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রগুলো ছিল ‘সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ’ এবং নতুন আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা অত্যন্ত জরুরি।
সূত্র: এএফপি
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মাদারীপুরের কালকিনিতে ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ব্যতিক্রমী সচেতনতামূলক কার্যক্রম শুরু করেছে কালকিনি ব্লাড ডোনেশন সোসাইটি (KBDS)।
বুধবার (৭ অক্টোবর) দিনব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবে কালকিনি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ডেঙ্গু সচেতনতামূলক ব্যানার প্রদর্শন করা হয়। পাশাপাশি হাসপাতাল প্রাঙ্গণে দুটি বৃক্ষরোপণ করা হয়।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. শাহতা জারাব সালেহীন, মেডিকেল অফিসার ও সংগঠনের উপদেষ্টা ডা. ওয়াহিদুজ্জামান, ডা. সাইদুল বাশার, সহকারী সার্জন ডা. সনক বৈদ্যসহ হাসপাতালের বিভিন্ন কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং KBDS-এর সদস্যরা।
কর্মসূচিতে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. শাহতা জারাব সালেহীন ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি সংগঠনের কার্যক্রম আরও গতিশীল করতে বিভিন্ন দিকনির্দেশনা দেন।
আয়োজকরা জানান, ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা, জমে থাকা পানি অপসারণ এবং সচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে সম্পৃক্ত করাই এ ধরনের কার্যক্রমের মূল উদ্দেশ্য। দিনব্যাপী এ ভিন্নধর্মী আয়োজনের মাধ্যমে স্থানীয়দের মধ্যে ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতা তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
স্পেসএক্সের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ইলন মাস্ক বলেছেন, ভারতে স্টারলিংকের স্যাটেলাইট বিম বন্ধ রয়েছে। এই কারণে, ‘উগ্রপন্থীরা’ স্টারলিংকের স্যাটেলাইট ইন্টারনেট ব্যবহার করেছে—এমন দাবি সঠিক নয়। বুধবার এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ কথা জানান।
স্টারলিংক একটি টেলিযোগাযোগ সেবা, যা স্পেসএক্সের অধীনে পরিচালিত হচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটি স্যাটেলাইটের মাধ্যমে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সেবা প্রদান করে। ভারতীয় সংবাদসংস্থা এএনআই নিউজের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, এক্সে ডজডিজাইনার নামের একটি অ্যাকাউন্টের পোস্টের জবাবে মাস্ক বলেন, ‘ভারতের ওপর স্টারলিংকের স্যাটেলাইট বিম বন্ধ রয়েছে। তাই যেকোনো ব্যক্তি, যেকোনো কারণে এটি ব্যবহার করেছে—এমন দাবি সম্পূর্ণ মিথ্যা।’
ডজডিজাইনারের পোস্টে দাবি করা হয়েছিল, মিয়ানমার সীমান্তের কাছে ভারতের মণিপুরে বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোর কাছ থেকে নিরাপত্তা বাহিনী স্টারলিংকের টার্মিনাল উদ্ধার করেছে। মাস্ক বলেন, ভারতে উগ্রপন্থীরা স্টারলিংক ব্যবহার করেছে—এমন দাবি যুক্তিসংগত নয়। কারণ, ভারতে স্টারলিংকের স্যাটেলাইট বিম বন্ধ রয়েছে। ফলে কোনো স্টারলিংক যন্ত্রই সেখানে সংযোগ পাওয়ার কথা নয়।
বর্তমানে ভারতে বাণিজ্যিক স্যাটেলাইট ইন্টারনেট সেবা চালুর চেষ্টা করছে স্টারলিংক। মাস্কের এই মন্তব্যের মধ্যে দিয়ে তার আগের বক্তব্যের প্রতিধ্বনি শোনা যায়, যেখানে তিনি ভারত নিয়ে স্টারলিংকের পরিকল্পনা সম্পর্কে আলোচনা করেছিলেন। এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি অভিযোগ করেন, ‘কয়েকজন অলিগার্ক’ ভারতে স্টারলিংকের সেবা চালু হতে বাধা দিচ্ছেন।
ডজডিজাইনারের পোস্টের জবাবে মাস্ক বলেন, ‘ভারতীয় জনগণের ওপর একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে কিছু অলিগার্ক আমাদের (স্টারলিংক) আটকে দিচ্ছেন। তারা কারা, তা আপনারা অনুমান করতে পারেন... এটি ভারতের জনগণের বিরুদ্ধে অপরাধ।’
ডজডিজাইনারের পোস্টে উল্লেখ করা হয়, ভারতের প্রত্যন্ত অনেক এলাকায় এখনো পর্যাপ্ত ইন্টারনেট সেবা নেই। এসব এলাকায় ফাইবার বা মোবাইল নেটওয়ার্ক পৌঁছানো কঠিন। তাই স্টারলিংক সেখানে উচ্চগতির ইন্টারনেট দিতে পারে। পোস্টে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের মে পর্যন্ত ভারতের ১১ হাজার ২৫৬টি তালিকাভুক্ত গ্রামে চতুর্থ প্রজন্মের (৪জি) মোবাইল নেটওয়ার্ক ছিল না।
এতে আরো বলা হয়, ২০২৬ সালের মার্চে ভারতে মোট ইন্টারনেট সংযোগ ছিল ১০৯ কোটি ৩০ লাখ। এর মধ্যে গ্রামাঞ্চলে ছিল ৪৪ কোটি ৮ লাখ ৭০ হাজার সংযোগ। গ্রামাঞ্চলে প্রতি ১০০ জনের বিপরীতে ইন্টারনেট সংযোগের সংখ্যা ছিল ৪৮ দশমিক ৩১। শহরাঞ্চলে এই সংখ্যা ছিল ১২৬ দশমিক ৮০।
ওই সময় ভারতের মোট ইন্টারনেট সংযোগের মাত্র ৪ দশমিক ২৬ শতাংশ ছিল তারযুক্ত সংযোগ। তাই পর্যাপ্ত সেবা নেই—এমন এলাকায় স্টারলিংক উচ্চগতির ব্রডব্যান্ড পৌঁছানোর আরেকটি সুযোগ তৈরি করতে পারে বলে পোস্টে উল্লেখ করা হয়।
স্টারলিংকের স্যাটেলাইট নেটওয়ার্কের মাধ্যমে প্রত্যন্ত গ্রাম, পাহাড় ও দ্বীপ এলাকায় ইন্টারনেট দেওয়া সম্ভব। এসব জায়গায় ফাইবার বা মোবাইল নেটওয়ার্ক পৌঁছানো কঠিন। ভালো ইন্টারনেট সংযোগ থাকলে গ্রামাঞ্চলের স্কুলগুলো অনলাইন শিক্ষা কার্যক্রম চালাতে পারবে। ক্লিনিকগুলো দূর থেকে চিকিৎসা পরামর্শ দিতে পারবে। ছোট ব্যবসাগুলোও আরও বেশি মানুষের কাছে পৌঁছাতে পারবে।
দুর্যোগের সময়েও স্টারলিংকের সেবা কাজে লাগতে পারে বলে পোস্টে বলা হয়। বন্যা, ভূমিকম্প বা ঝড়ে স্থলভিত্তিক যোগাযোগব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হলে বহনযোগ্য স্টারলিংক টার্মিনাল জরুরি সেবাদানকারী দলগুলোকে বিকল্প যোগাযোগব্যবস্থা দিতে পারে।
স্টারলিংকের সরাসরি মোবাইল সংযোগ প্রযুক্তির মাধ্যমে সাধারণ ৪জি ফোনও মোবাইল টাওয়ারের আওতার বাইরে সংযোগ পেতে পারে। তবে এ জন্য ভারতের অনুমোদন এবং মোবাইল অপারেটরদের সঙ্গে অংশীদারত্ব প্রয়োজন। ভারত সরকারও দুর্গম এলাকা, কম বাণিজ্যিক সম্ভাবনা ও অবকাঠামোর সীমাবদ্ধতাকে ইন্টারনেট সংযোগের ঘাটতির কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে বলে পোস্টে উল্লেখ করা হয়।
বাণিজ্যিক সেবা চালু করতে স্টারলিংকের প্রয়োজনীয় অনুমোদন ও স্পেকট্রাম বরাদ্দের প্রক্রিয়া শেষ করার আহ্বানও জানানো হয়।
এতে বলা হয়, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ১০০ শতাংশ সংযোগ নিশ্চিত করার লক্ষ্য বাস্তবায়নে স্টারলিংক সহায়তা করতে প্রস্তুত। ভারতের সবচেয়ে দুর্গম এলাকার মানুষও নির্ভরযোগ্য ইন্টারনেট পাওয়ার অধিকার রাখে।
৭ অক্টোবর ভারতের মোবাইল কংগ্রেস ২০২৬-এ বক্তব্য দেন স্টারলিংকের ব্যবসায়িক কার্যক্রমের ভাইস প্রেসিডেন্ট লরেন ড্রেয়ার। তিনি বলেন, ভারতের নিরাপত্তা ও অন্যান্য নিয়মকানুন মেনে স্টারলিংক দেশটির জন্য বিশেষ নিরাপত্তাব্যবস্থা তৈরি করেছে। ভারতে ২০টি গেটওয়ে সাইটও তৈরি করেছে প্রতিষ্ঠানটি।
ড্রেয়ার বলেন, ‘ভারতের নিরাপত্তার প্রয়োজনীয়তা এবং অন্যান্য নিয়মকানুন বিবেচনায় নিয়ে আমরা ভারতের জন্য বিশেষভাবে আমাদের স্টারলিংক কার্যক্রম তৈরি করেছি। প্রতিটি স্তরেই ভারতের জন্য নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। ভারতীয় ব্যবহারকারীদের তথ্যও ভারতের মধ্যেই রাখা হচ্ছে।’
তিনি বলেন, ‘আমরা ইতোমধ্যে বিনিয়োগ করেছি এবং প্রয়োজনীয় স্থলভিত্তিক অবকাঠামো তৈরি করেছি। ২০টি গেটওয়ে সাইটে শত শত অ্যান্টেনা রয়েছে। ভারতকে সেবা দেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় কার্যক্রমও আমরা প্রস্তুত করেছি।’
ভারতের ডিজিটাল খাতে অগ্রগতির প্রশংসা করে ড্রেয়ার বলেন, ‘ডিজিটাল ক্ষেত্রে ভারত যা অর্জন করেছে, তা অসাধারণ।’ তিনি জানান, গত পাঁচ বছর ধরে ভারতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা, শিল্প খাতের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও মোবাইল অপারেটরদের সঙ্গে কাজ করছে স্টারলিংক। ভারতের প্রয়োজন অনুযায়ী নিজেদের কার্যক্রম সাজাতেই তারা এভাবে কাজ করছে।
ড্রেয়ার বলেন, পুরো ভারতে ১০০ শতাংশ সংযোগ নিশ্চিত করতে প্রধানমন্ত্রী মোদির লক্ষ্য বাস্তবায়নে সহায়তা করতে স্টারলিংক প্রস্তুত। প্রত্যন্ত এলাকার শ্রেণিকক্ষকে ইন্টারনেটের আওতায় আনা, টেলিমেডিসিন সেবায় সহায়তা এবং দুর্যোগের পর যোগাযোগব্যবস্থা ফিরিয়ে আনতে স্টারলিংকের সম্ভাবনার কথাও তুলে ধরেন তিনি।
ড্রেয়ার বলেন, ‘স্টারলিংকের মাধ্যমে মানুষ কয়েক বছরের মধ্যে নয়, কয়েক মিনিটের মধ্যেই সংযুক্ত হতে পারে।’ এ বছরের জুনে ভূ-রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা উদ্বেগের কারণে ভারত স্টারলিংকের অনুমোদন প্রক্রিয়া স্থগিত করেছে—এমন খবরও নাকচ করেন ড্রেয়ার। তিনি বলেন, বাণিজ্যিক স্যাটেলাইট ইন্টারনেট সেবা চালুর বিষয়ে স্টারলিংক এখনো ভারত সরকারের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে আলোচনা করছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ