সোমবার, ১৯ই জানুয়ারী, ২০২৬ ইং
০৩:৪৮ পি.এম
গাইবান্ধা সদর উপজেলার সাহাপাড়া ইউনিয়নে ডাকাতির উদ্দেশ্যে পরিকল্পনা করতে গিয়ে তিনজন ডাকাতকে হাতেনাতে আটক করেছে স্থানীয় জনগণ। আটক হওয়া ব্যক্তিদের পরবর্তীতে গণপিটুনির মাধ্যমে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
এই ঘটনাটি ঘটে রবিবার (১৮ জানুয়ারি) রাত সাড়ে দেড়টার সময়, তুলসীঘাট পল্লীবিদ্যুৎ অফিসের পাশের কাশদহ এলাকার একটি ইটভাটার পাশের পাকা রাস্তায়।
আটককৃত ডাকাতদের নিকট একটি মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়েছে। আটক হওয়া ডাকাতদের মধ্যে রয়েছেন—
১) মোঃ নাজমুল হক, পিতার নাম— মৃত ভুট্টু মিয়া, যিনি গাইবান্ধা সদর থেকে।
২) মোঃ বাপ্পি ব্যাপারী, পিতার নাম— মোঃ আসাদুল ব্যাপারী, যিনি সাদুল্লাপুরের বাসিন্দা।
৩) মোঃ এরশাদ মিয়া, পিতার নাম— মোঃ গাবুর আলী, বর্তমানে পলাশবাড়ী এলাকার বাসিন্দা।
ঘটনার পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে আহত অবস্থায় আটক তিনজনকে উদ্ধার করে তাদের হেফাজতে নিয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ভোলা-৪ চরফ্যাশন এবং মনপুরায় ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী প্রফেসর এম এম কামাল উদ্দিনের উদ্যোগে সভার আয়োজন করা হয়েছে।
গতকাল ১৮ জানুয়ারি রবিবার বিকালে চরফ্যাশন শরীফ পাড়ায় দলীয় কার্যালয়ে ভোলা জেলা দক্ষিণের সাধারণ সম্পাদক মাওঃ মোঃ আব্বাস উদ্দিনের সঞ্চালনায় সংবাদ সম্মেলনটি অনুষ্ঠিত হয়।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য উপস্থাপনকালে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের ভোলা-৪ আসনের প্রার্থী প্রফেসর এম এম কামাল উদ্দিন বলেন, "আপনারা নিশ্চয়ই অবগত আছেন ২৪ পরবর্তী বাংলাদেশ একটি পরিবর্তন চায়। পুরনো রাজনৈতিক বন্দোবস্ত ফেলে দিয়ে নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্ত চায়।" তিনি আরও বলেন, এ লক্ষ্য সামনে রেখে ইসলাম, দেশ ও মানবতার কল্যাণে ইসলামপন্থীদের শক্তি একীভূত করার জন্য এক দলের নীতি বাস্তবায়নের জন্য রাজনৈতিক শক্তি নিয়ে মাঠে নামছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ।
তিনি উল্লেখ করেন, "আমরা মনে করি বর্তমান রাজনৈতিক সংকটে ইসলামী শক্তির ঐক্যই ছিল জাতির একমাত্র আশার জায়গা।" এই উপলব্ধি থেকেই ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমীর হযরত পীর সাহেব চরমোনাই আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে সবাইকে নিয়ে পথচলা শুরু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ভারতের উত্তরপ্রদেশের প্রয়াগরাজে অনুষ্ঠিত মাঘমেলা ২০২৬ এর পবিত্র প্রাঙ্গণে ঘটেছে এক অত্যন্ত নিন্দনীয় ও ভীতিকর ঘটনা। মাঘ মেলায় অংশগ্রহণকারী এক হিন্দু সাধুর মুখে দাড়ি থাকার ভিত্তিতে তাঁকে ‘মুসলিম’ সন্দেহে আটক করা হয় এবং একদল উগ্র হিন্দুত্ববাদী সন্ত্রাসী তাঁকে প্রকাশ্যে উলঙ্গ করে তাঁর ধর্মীয় পরিচয় নির্ধারণের চেষ্টা চালায়।
প্রধান স্নানের দিনে লক্ষ লক্ষ পূণ্যার্থীর ভিড়ের মধ্যে ঘটে এই ভয়াবহ ঘটনা। স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ওই সাধুর দীর্ঘ দাড়ি ও বাহ্যিক চেহারার কারণে কয়েকজন উত্তেজিত ব্যক্তি তাঁকে সন্দেহভাজন হিসেবে বিবেচনা করে। পরিচয়পত্র দেখানোর পরও জনতা শান্ত হয়নি; বরং তারা ক্রমশ ক্রুদ্ধ হয়ে ওঠে।
মেলা প্রাঙ্গণে পরিস্থিতি চরম আকার ধারণ করে এবং জনতার চাপের কারণে ঐ সাধুকে নিজের হিন্দু ধর্মীয় পরিচয় প্রমাণ করার জন্য জনসম্মুখে ধুতি খুলতে বাধ্য করা হয়। এ সময় তিনি ভীত ও অপমানিত হয়ে পড়েন, এবং আধ্যাত্মিকতার নামে ঘটনাটি এক নগ্ন ধর্মীয় সন্ত্রাসে রূপ নেয়।
ঘটনার পর মেলা প্রাঙ্গণে ব্যাপক ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। সাধুসমাজ এবং মানবাধিকার সংগঠনগুলি অভিযোগ তুলেছে যে, এটি কোনও বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং উগ্র হিন্দুত্ববাদী মনোভাবের প্রকাশ।
এমন পরিস্থিতিতে যেখানে সন্দেহের ভিত্তিতে কাউকে প্রকাশ্যে উলঙ্গ করা হচ্ছে তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তাঁদের মতে, দাড়ি, পোশাক বা চেহারা এখন ধর্ম নির্ধারণের হাতিয়ার হয়ে দাঁড়িয়েছে।
জেলা প্রশাসন এবং মেলা কর্তৃপক্ষ ঘটনার গুরুত্ব কমিয়ে দেখানোর চেষ্টা করেছে। পুলিশের দাবি, নিরাপত্তার জন্য পরিচয় যাচাই করা একটি নিয়মিত প্রক্রিয়া। তবে প্রশ্ন হচ্ছে, পরিচয় যাচাইয়ের নামে একজন সাধুকে প্রকাশ্যে উলঙ্গ করার অনুমতি কে দিল?
এই ঘটনা আবার একবার প্রমাণ করে যে, ঘৃণার রাজনীতি এখন শুধু ক্ষমতার করিডোরে নয়, বরং এটি জনগণের হাতে প্রবাহিত হয়ে এসেছে। আজ একজন সাধু, আগামীকাল কে?
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
খাঁন বাহাদুর আহ্ছানউল্লা (র.) এর ৬২তম বার্ষিকী ওরছ শরীফ উপলক্ষে নলতা আহছানিয়া মিশনের পরিবেশনায় একটি পরামর্শ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (১৯ শে জানুয়ারী) সকাল ১০ টায় নলতার পাক রওজা শরীফ প্রাঙ্গনে এই সভাটি অনুষ্ঠিত হয়।
নলতা কেন্দ্রীয় আহ্ছানিয়া মিশনের নবনির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক ড. নজরুল ইসলামের পরিচালনায় সভাপতির বক্তব্য দেন নলতা কেন্দ্রীয় আহছানিয়া মিশনের নবনির্বাচিত সভাপতি, বিশিষ্ট দানবীর ও সমাজ সেবক আলহাজ্ব মাহফুজুল হক।
এছাড়াও, সভায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন আলিপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, সাতক্ষীরা-২ আসনের বিএনপি মনোনীত সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী আলহাজ্ব আব্দুর রউফ, এনামুল হক, আলহাজ্ব আব্দুল মালেক প্রমুখ।
অনুষ্ঠানে বক্তারা খান বাহাদুর আহছানউল্লা (র.) -এর জীবন ও কর্ম নিয়ে আলোচনা করেন এবং তাঁকে একজন মহান মনিষী হিসেবে বর্ণনা করেন। বক্তাদের মতে, তিনি শিক্ষক থেকে শিক্ষা বিভাগের সর্বোচ্চ পদে গিয়ে কর্মজীবন শেষ করেন। বাহাদুর আহছানউল্লা (র.) জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত মানব সেবায় নিয়োজিত ছিলেন। তিনি নিজের সম্পত্তি বিক্রি করে মানবকল্যাণে উল্লেখযোগ্য উন্নয়ন সাধন করেন এবং আধুনিক শিক্ষা ব্যবস্থার প্রচারক ছিলেন। তিনি ‘স্রষ্টার এবাদত ও সৃষ্টের সেবা’ উদ্দেশ্য নিয়ে মিশন প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।
অনুষ্ঠানের শেষে দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করেন নলতা শরীফ শাহী জামে মসজিদের খতিব মাওলানা গোলাম কিবরিয়া। অনুষ্ঠানটির উপস্থিতিতে বিভিন্ন শাখা মিশনের নেতৃবৃন্দ, সাংবাদিক ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জাতিসত্তা রক্ষার স্বার্থে গুমের বিচার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মন্তব্য করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম। সোমবার (১৯ জানুয়ারি) দুপুরে ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণে आयोजित প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এই মন্তব্যটি করেন। জয়েন্ট ইন্টারোগেশন সেন্টার বা জেআইসিতে গুম-নির্যাতনের ঘটনার মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আজ প্রথম দিনের সাক্ষ্যগ্রহণ হচ্ছে।
চিফ প্রসিকিউটর বলেন, এই মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ আজ বাংলাদেশে ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ মামলার সূচনা হয়েছে। অর্থাৎ গুমের বিচার। তিনি উল্লেখ করেন, গত ১৭ বছরে শেখ হাসিনার আমলে গুমকে একটি সংস্কৃতিতে পরিণত করা হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে যেকোনো মানুষকে নিখোঁজ করা সম্ভব হয়েছিল এবং সরকারের বিভিন্ন সংস্থা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে এসব কাজে ব্যবহার করেছে। কিন্তু কখনোই এই বিষয়ের জন্য কোন জবাবদিহি করা হয়নি।
তিনি আরও বলেন, গুমের সংস্কৃতি দূর করার জন্য এ বিচার অত্যন্ত জরুরি। বাংলাদেশের মাটিতে যদি এমন ভয়াবহ অপরাধের বিচার না হয়, তাহলে গুমের সংস্কৃতি পুনরায় ফিরে আসবে। দেশের স্বাধীনতা, বৈষম্যহীন সমাজ বা বাকস্বাধীনতার জন্য গুম হওয়া মানুষের আত্মা চিরকাল কাঁদবে। এ মামলার সূচনা বক্তব্যের সময় এসব কথাগুলো আদালতকে মনে করিয়ে দিয়েছি যে, গুমের বিচার আমাদের জাতিসত্তার রক্ষার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তাজুল ইসলাম বলেন, গোপন বন্দিশালায় আট বছরের জন্য বন্দিদের আটক রাখা হয়েছে। তার পাশাপাশি আরও অনেক নিখোঁজ মানুষের ব্যাপারে আলোচনা চলছে। গুমের এই মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণ হচ্ছে এবং বিএনপি নেতা হুম্মাম কাদের চৌধুরী প্রথম সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি প্রদান করছেন। এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আমরা জাতির কাছে একটি স্পষ্ট বার্তা দিতে চাই, যে বাংলাদেশকে বিচারহীনতার সংস্কৃতি থেকে মুক্ত করার প্রতিশ্রুতি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রয়েছে, ১৭ বছরের অন্ধকার রাজত্বের অবসান ঘটানোর জন্য আসামিদের বিচার নিশ্চিত করা হচ্ছে।
এছাড়া, তিনি আরও উল্লেখ করেন, যে কোনো বড় অফিসার বা ইউনিফর্মধারী যদি অপরাধ করে তাহলে তাকে অবশ্যই বিচারের মুখোমুখি হতে হবে এবং আইনের কাছে তাকে জবাবদিহি করতে হবে। এসব নিশ্চিত করতে এই বিচার কার্যক্রম শুরু হয়েছে ইনশা আল্লাহ। সাক্ষীর জবানবন্দি নিয়ে তিনি বলেন, কিভাবে লোকজনকে তুলে নেওয়া হতো, কিভাবে প্রথমে অস্বীকার করা হতো বা নির্যাতন করা হতো তা সম্পর্কে সাক্ষী বর্ণনা দিচ্ছেন। গোপন বন্দিশালায় দিনের পার্থক্য বোঝা যেত না। এছাড়া, কি ধরনের খাবার দেওয়া হয়েছে বা অসুস্থ হলে কেমন চিকিৎসা দেয়া হত, ওষুধের মধ্যে কি লেখা থাকতো, এসব বিষয়ও জানিয়েছেন তিনি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ