০৮:০৮ এম
সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালেদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুতি সশস্ত্র গোষ্ঠীর হামলায় নিহত দুই বাংলাদেশির পরিচয় প্রকাশিত হয়েছে। নিহতদের মধ্যে একজন হচ্ছেন বগুড়ার মো. শাহেদ আহম্মদ এবং অন্যজন হলেন কুমিল্লার মো. নাসরুল্লাহ বদরপুরি। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ২৪ বাংলাদেশি, যাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর। আহতদের চিকিৎসা রিয়াদের বিভিন্ন হাসপাতালে চলছে।
এ তথ্য পররাষ্ট্র ও প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সূত্রে জানা গেছে। নিহত শাহেদ আহম্মদের বাড়ি বগুড়ার শাহজাহানপুর উপজেলার মাদলা গ্রামে। তার বাবা মো. রফিকুল ইসলাম এবং মা শাহেরা বেগম। তিনি সৌদি আরবের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের জেদ্দা প্রকল্পে প্লাম্বার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। ছুটি কাটিয়ে দেশে থেকে রিয়াদ হয়ে কর্মস্থলে ফেরার পথে হামলার শিকার হন তিনি।
অন্যদিকে, নিহত নাসরুল্লাহ বদরপুরির বাড়ি কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলার বদপুর গ্রামে। তাঁর বাবা মোহাম্মদ উল্লাহ এবং মা জাহানারা বেগম। তিনি ওমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে সৌদি আরবে গিয়েছিলেন এবং রিয়াদ থেকে জেদ্দায় যাওয়ার জন্য বিমানবন্দরে অপেক্ষা করছিলেন।
আরও পড়ুন: রংপুরে আইনশৃঙ্খলা ও মাদক নিয়ন্ত্রণে এমপি বেলালের গুরুত্বারোপ
রিয়াদে বাংলাদেশ দূতাবাসের তথ্য অনুযায়ী, আহত ২৪ বাংলাদেশির মধ্যে ১১ জন সৌদি আরবে কর্মরত এবং ১৩ জন ওমরাহ ভিসায় দেশটিতে গিয়েছিলেন। দূতাবাস আহতদের চিকিৎসা ও পরিচয় নিশ্চিত করতে সৌদি আরবের হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে।
কিং আবদুল্লাহ হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন তিন বাংলাদেশি হলেন হাফেজ হাসান, কাজী নুরুল্লাহ এবং মো. ওমর ফারুক। তাঁদের অবস্থা স্থিতিশীল বলে জানানো হয়েছে। হাফেজ হাসানের বাড়ি ঢাকার কামরাঙ্গীরচরে এবং কাজী নুরুল্লাহর বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সদর উপজেলার ঘাটুরা গ্রামে। ওমর ফারুক সৌদি আরবে কর্মরত।
রিয়াদ ন্যাশনাল গার্ড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন সাফফাত রহমান ও মো. দাউদুল ইসলাম। তাদের মধ্যে সাফফাত অচেতন অবস্থায় রয়েছেন। দুজনই ওমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে সৌদি আরবে গিয়েছিলেন।
এছাড়া, রিয়াদ মেডিকেল হাসপাতালে মো. সাইদুল ইসলাম সৌরভ ও আবুল মনসুর মো. রিয়াজ উদ্দীন, প্রিন্স সুলতান মিলিটারি হাসপাতালে মো. আবদুল্লাহ এবং সুলাইমান আল হাবিব হাসপাতালের তাখাসসুসি শাখায় আরমান হোসেন, মোহাম্মদ ও ফয়সাল আহমদ আবদুল হক চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
আরও পড়ুন: ফরিদপুর জেলা পরিষদ নিজেদের চাহিদা মিটিয়ে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ দেবে
কিংডম হাসপাতালে মো. রফিক মিয়া, কিং ফাহাদ মেডিকেল সিটিতে ইসমাইল হোসেন, মো. মিসবাহ উদ্দীন হীরা ও মো. রায়হানুল ইসলাম চিকিৎসা নিচ্ছেন। এ ছাড়া প্রিন্স মোহাম্মদ বিন আবদুল আজিজ হাসপাতালে পাঁচজন, এস্টার সনদ হাসপাতালে দুজন, সুলাইমান ফকিহ হাসপাতালে একজন এবং সুলাইমান আল হাবিব হাসপাতালের আলসাহাফা শাখায় দুজন বাংলাদেশি চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
হামলার পর ফ্লাইট চলাচল ব্যাহত হওয়ায় রিয়াদ বিমানবন্দরে প্রায় ৫০০ বাংলাদেশি যাত্রী আটকা পড়েছেন। তাঁদের মধ্যে ওমরাহযাত্রী ও সৌদি আরবে কর্মরত বাংলাদেশিরাও ছিলেন।
দূতাবাসের উদ্যোগে আটকে পড়া যাত্রীদের আবাসন, খাবার ও বিকল্প যাত্রার ব্যবস্থা করা হয়েছে। বিমানবন্দরের ৩ নম্বর টার্মিনালে থাকা প্রায় ১০০ যাত্রীর জন্য হোটেল ও আবাসিক হলে থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এ ছাড়া ইহরামের পোশাক পরা ৬৭ জন ওমরাহযাত্রীকে বিশেষ বাসে জেদ্দায় পাঠানো হয়েছে।
রিয়াদ থেকে ঢাকাগামী সৌদিয়া এয়ারলাইনসের বাতিল হওয়া এসভি৮০৪ ফ্লাইটের প্রায় ৪০০ বাংলাদেশি যাত্রীকে দাম্মামের কিং ফাহাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দিয়ে দেশে ফেরানোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন: দুর্বৃত্তদের ছোড়া গুলিতে নেত্রকোনার দুর্গাপুরে সাংবাদিক নিহত
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন