ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

মুন্সীগঞ্জে ভোক্তা অধিদপ্তরের অভিযান, জরিমানা তিন প্রতিষ্ঠানকে


মুন্সীগঞ্জে ভোক্তা অধিদপ্তরের অভিযান, জরিমানা তিন প্রতিষ্ঠানকে

মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখানে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে একটি অভিযান পরিচালনা করা হয়।

এই অভিযানে তিনটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানকে জরিমানা করা হয়েছে। সোমবার দুপুর সাড়ে ১২টা থেকে বিকাল ২টা পর্যন্ত উপজেলার শেখরনগর বাজারে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়।

অভিযানের ফলস্বরূপ, শেখ ট্রেডার্সে পণ্যসামগ্রীর মূল্য তালিকা প্রদর্শন না করার কারণে প্রতিষ্ঠানের মালিক মোহাম্মদ সাইদকে ১ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

আরও পড়ুন: রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করলেন মাভাবিপ্রবি উপাচার্য

এছাড়া, জ্যোসনা ট্রেডার্সে উৎপাদনের তারিখ এবং মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখবিহীন মোড়কজাত খাদ্যপণ্য বিক্রির প্রমাণ পাওয়ার কারণে প্রতিষ্ঠানটির মালিক বিপদ দাসকে ৩ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

অপূর্ব মিষ্টান্ন ভান্ডারে দই তৈরির ক্ষেত্রে নন-ফুডগ্রেড রং ব্যবহারের অপরাধে প্রতিষ্ঠানটির মালিক শ্যাম বর্মনকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর মুন্সীগঞ্জ জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক আসিফ আল আজাদের নেতৃত্বে এই অভিযান পরিচালিত হয়েছে। অভিযানে সিরাজদিখান উপজেলা স্যানিটারি ইন্সপেক্টর শাহ আলম মিয়া ও সিরাজদিখান থানা পুলিশের একটি দল সহযোগিতা করেন।

ভোক্তাদের স্বার্থ রক্ষা করার জন্য বাজারে নিয়মিত মনিটরিং ও অভিযান অব্যাহত থাকবে, এটি সংশ্লিষ্ট সূত্রের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

আরও পড়ুন: নওগাঁয় ভাড়া বাসায় জাল টাকার কারবার, ডিবির হাতে গ্রেপ্তার জব্বার

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বরিশাল বাফার গোডাউনে দুর্নীতির মহাসাম্রাজ্য: ফায়ারম্যান থেকে শতকোটি টাকার মালিক শাহ আলম গাজী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্টাফ রিপোর্টার, বরিশাল

সোমবার, ১০ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৩:০৮ পি.এম


বরিশাল বাফার গোডাউনে দুর্নীতির মহাসাম্রাজ্য: ফায়ারম্যান থেকে শতকোটি টাকার মালিক শাহ আলম গাজী

বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ কর্পোরেশনের (বিসিআইসি) বরিশাল বাফার গোডাউনের ইনচার্জ শাহ আলম গাজীর বিরুদ্ধে উঠেছে অনিয়ম ও দুর্নীতির পাহাড়সম অভিযোগ। একসময় সাধারণ ‘ফায়ারম্যান’ হিসেবে কর্মজীবন শুরু করা এই কর্মকর্তা বর্তমানে শতকোটি টাকার সম্পদের মালিক বনে গেছেন। অভিযোগ রয়েছে, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করে নিয়মবহির্ভূতভাবে তিনি বাফার গোডাউনের ইনচার্জ পদটি বাগিয়ে নিয়েছেন এবং দীর্ঘ বছর এক জায়গাতেই বহাল আছেন।
সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী, জাহাজ থেকে সার লেবার দিয়ে খালাস করে সরাসরি বাফার গোডাউনের ডিপোতে নেওয়ার নিয়ম থাকলেও শাহ আলম গাজী সেই নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে জাহাজ থেকে কার্গো বা বলগেট সার আনলোড করে মাঝনদীতে সার বলগেটে চড়া দামে বিক্রি করে দেন। এছাড়া প্রতি বস্তা সার মাঝনদীতে খালাস করার কারণে ৩ টাকা বেঁচে যায়। সেই সরকারি অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। স্থানীয় ডিলার ও ঘাট শ্রমিকরা জানান, এই জালিয়াতির মাধ্যমে তিনি প্রতিদিন হাজার হাজার টাকা আত্মসাৎ করছেন।

রক্ষক যখন ভক্ষক
চট্টগ্রাম থেকে বিআরটিসি ট্রাকে বরিশালে আসা সারের আনলোডিং কাজ ঠিকাদার নিয়োগের মাধ্যমে করার নিয়ম থাকলেও সরকারি নিয়ম ভেঙে শাহ আলম গাজী ঠিকাদারি কাজ নিজেই পরিচালনা করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

এ বিষয়ে চট্টগ্রাম ইউরিয়া ফার্টিলাইজার লিমিটেড (সিইউএফএল)-এর জিএম কামরুল সাহেব তালাশ বিডিকে জানান, সরকারি পদে বহাল থাকা অবস্থায় কোনোভাবেই সার আনলোড করার ঠিকাদারি কাজ করা সম্পূর্ণ আইনবহির্ভূত। এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য থাকলে প্রমাণসহ চেয়ারম্যান বা ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) বরাবর অভিযোগ দিলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
২০২৪ সালের মে মাসে ঘূর্ণিঝড় ‘রেমাল’-এর প্রভাবে গোডাউনের কিছু সার ভিজে যায়। অভিযোগ রয়েছে, জালিয়াতির উদ্দেশ্যে অর্থের বিনিময়ে স্থানীয় এক সাংবাদিককে ম্যানেজ করে অসত্য সংবাদ প্রচার করা হয় যে পুরো গোডাউনই পানিতে তলিয়ে গেছে। পরবর্তীতে চট্টগ্রাম থেকে অডিট টিম পরিদর্শনে এলে তাদের অর্থের বিনিময়ে ‘ম্যানেজ’ করে নষ্ট সার ভালো সারের সঙ্গে মিশিয়ে বিক্রি করা হয় এবং বিপুল পরিমাণ অর্থ লোপাট করেন ইনচার্জ শাহ আলম গাজী।
অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে শাহ আলম গাজী বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন। সরকারি দায়িত্বের প্রভাব কাজে লাগিয়ে তিনি গড়ে তুলেছেন সম্পদের বিশাল সাম্রাজ্য—এমন অভিযোগের পক্ষে প্রতিবেদকের হাতে রয়েছে একাধিক তথ্য-প্রমাণ। বরিশাল নগরীর ১১ নম্বর ওয়ার্ডের মাদ্রাসা সড়কে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে পাঁচতলা বিলাসবহুল ভবন—‘গাজী ম্যানশন’। পাশাপাশি রয়েছে প্রায় ৬০ লাখ টাকা মূল্যের ‘নিসান’ ব্র্যান্ডের ব্যক্তিগত গাড়ি।
অনুসন্ধানে আরও গুরুতর অভিযোগের তথ্য পাওয়া গেছে। অভিযোগ রয়েছে, শাহ আলম গাজী তাঁর ব্যক্তিগত গাড়ির চালককে বাফার গোডাউনের মাস্টাররোল কর্মচারী হিসেবে দেখিয়ে সরকারি কোষাগার থেকে নিয়মিত বেতন উত্তোলন করছেন। সরকারি অর্থে ব্যক্তিগত কর্মচারীর বেতন দেওয়ার এমন অভিযোগে সংশ্লিষ্ট মহলে দেখা দিয়েছে নানা প্রশ্ন।
এতেই শেষ নয়—শাহ আলম গাজীর মালিকানায় রয়েছে দুটি কার্গো জাহাজ। পাশাপাশি, তাঁর স্ত্রীর নামে নেওয়া প্রথম শ্রেণির ঠিকাদারি লাইসেন্সের মাধ্যমে প্রতিবছর কোটি কোটি টাকার সরকারি কাজের ঠিকাদারি করার তথ্যও পাওয়া গেছে। এছাড়া গ্রামের বাড়িতে নির্মাণ করেছেন একটি আলিশান ডুপ্লেক্স ভবন এবং গড়ে তুলেছেন একটি মাদ্রাসা।

নগরীর ১০ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক এক কাউন্সিলর ক্ষোভ প্রকাশ করে তালাশ বিডিকে বলেন, শাহ আলম গাজী একসময় গোলপাতার ঘরে ভাড়া থাকতেন। একজন সাধারণ ফায়ারম্যান হিসেবে কর্মজীবন শুরু করে সরকারি চাকরি থেকে তিনি কতটুকু বেতন-ভাতা পেয়েছেন, সেটি সংশ্লিষ্ট নথিতেই থাকার কথা। কিন্তু সেই সীমিত সরকারি বেতন থেকে কীভাবে অল্প সময়ের ব্যবধানে কোটি কোটি টাকার বাড়ি-গাড়ি, কার্গো জাহাজসহ বিপুল সম্পদের মালিক হলেন—এ প্রশ্নের উত্তর অবশ্যই খুঁজে বের করা দরকার। একজন সরকারি কর্মচারীর বৈধ আয় ও অর্জিত সম্পদের মধ্যে যদি এত বড় ধরনের অসামঞ্জস্য থাকে, তাহলে সেই সম্পদের উৎস কী, কার মাধ্যমে এবং কীভাবে তা অর্জিত হয়েছে—তা নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন ওঠে।
তিনি আরও বলেন, শাহ আলম গাজীর নামে ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের নামে থাকা বিপুল পরিমাণ সম্পদ, ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান, বাড়ি-গাড়ি ও অন্যান্য সম্পদের উৎস এবং এসব সম্পদ অর্জনে সরকারি ক্ষমতা বা প্রভাবের অপব্যবহার হয়েছে কি না, তা নিরপেক্ষভাবে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) উচিত বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে অনুসন্ধান করে সম্পদের প্রকৃত উৎস ও আয়-ব্যয়ের সামঞ্জস্য যাচাই করা এবং অনিয়ম বা দুর্নীতির প্রমাণ পাওয়া গেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে গোডাউনের কয়েকজন শ্রমিক অভিযোগ করে বলেন, “আমরা ঠিকাদারের মাধ্যমে কাজ করি। নিয়ম অনুযায়ী নদীপথে আসা জাহাজ থেকে সার গোডাউনে আনলোড করার কথা থাকলেও তা করা হয় না। অভিযোগ রয়েছে, জাহাজ থেকে নদীর মধ্যেই বাল্ক গেটে সার হস্তান্তর করা হয়। এর ফলে প্রতি বস্তা সারে শ্রমিকদের প্রাপ্য পারিশ্রমিক থেকে ৩ টাকা কম দেওয়া হয়। অথচ সরকারি কাগজপত্রে সার গোডাউনে আনলোড দেখানো হচ্ছে। শ্রমিকদের অভিযোগ, এই হিসাবে বরাদ্দ থাকা প্রতি বস্তার ৩ টাকা ইনচার্জ নিজেই আত্মসাৎ করছেন।”
শ্রমিকরা আরও বলেন, “আমরা দিন-রাত পরিশ্রম করেও কাজের ন্যায্য পারিশ্রমিক পাই না। দীর্ঘদিন ধরে এভাবে চললেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না।

স্থানীয় ডিলার ও শ্রমিকদের অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিয়মিত নজরদারি না থাকায় শাহ আলম গাজী দীর্ঘদিন একই স্থানে দায়িত্ব পালন করে প্রভাবশালী হয়ে উঠেছেন। তাঁদের দাবি, সার খালাসের প্রকৃত প্রক্রিয়া, সরকারি নথিতে দেখানো হিসাব, শ্রমিকদের পারিশ্রমিক এবং প্রতি বস্তায় ৩ টাকা করে কম দেওয়ার অভিযোগ—সবকিছু নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা হলে অনিয়মের প্রকৃত চিত্র বেরিয়ে আসতে পারে। একই সঙ্গে দীর্ঘদিন একই কর্মস্থলে দায়িত্ব পালনের বিষয়টিও প্রশাসনিকভাবে খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
বরিশাল কেডিসিতে অবস্থিত বাফার গোডাউনে অনিয়মের বিষয়ে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম ইউরিয়া ফার্টিলাইজার লিমিটেডের (সিইউএফএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মিজানুর রহমান বলেন, অভিযোগের বিষয়ে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়ার সুযোগ নেই। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হবে।
অভিযোগগুলো গুরুতর হওয়া সত্ত্বেও অভিযুক্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না কেন—তালাশ বিডির এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বিষয়টি যথাযথভাবে তদন্ত করা হবে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে প্রশাসনিক বিধি ও প্রচলিত আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় এবং সর্বোচ্চ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
সিইউএফএল সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত কর্মকর্তা শাহ আলম গাজীর চাকরির মেয়াদ ২০২৮ সাল পর্যন্ত রয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে শাহ আলম গাজীর বক্তব্য জানতে তাঁর মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। পরে তাঁর হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে খুদে বার্তা পাঠিয়ে বক্তব্য জানতে চাওয়া হলেও এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তিনি কোনো জবাব দেননি।
এ বিষয়ে বরিশাল দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) এক কর্মকর্তার সঙ্গে শাহ আলম গাজীর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ ও সংশ্লিষ্ট তথ্য নিয়ে কথা হয়। দুদকের বরিশাল জেলা কার্যালয়ের ওই কর্মকর্তা বলেন, “সাংবাদিক হিসেবে দুর্নীতি ও অনিয়মের তথ্য তুলে ধরা আপনাদের দায়িত্ব। পাশাপাশি একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে আপনারা আমাদের কাছে লিখিত অভিযোগ দিতে পারেন। অভিযোগ পাওয়ার পর বিষয়টি যথাযথভাবে যাচাই ও তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এ ক্ষেত্রে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ভারতে ফের ছাত্র আন্দোলন, ব্যারিকেড ভেঙে বিধানসভা অভিমুখে শিক্ষার্থীরা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

সোমবার, ১০ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৩:১২ পি.এম


ভারতে ফের ছাত্র আন্দোলন, ব্যারিকেড ভেঙে বিধানসভা অভিমুখে শিক্ষার্থীরা

ভারত আবারও ছাত্র আন্দোলনে উত্তাল হয়ে উঠেছে। প্রশ্নফাঁস এবং নিয়োগ পরীক্ষায় দুর্নীতির প্রতিবাদে শিক্ষার্থীরা ঝাড়খণ্ডে টানা ১৭ দিন ধরে আন্দোলন করে যাচ্ছেন। সোমবার যখন আন্দোলনকারীরা রাজ্য বিধানসভা ঘেরাও করতে যাবেন, তখন রাঁচিতে পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙে ফেলে তারা।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ জলকামান ব্যবহার করে। তবে জলকামানের সামনেও অবস্থান নেন বিক্ষোভকারীরা। সেসময় তাদের নাচতে দেখা যায়।

এই আন্দোলনের কারণ কী?

ঝাড়খণ্ড পাবলিক সার্ভিস কমিশন এবং ঝাড়খণ্ড স্টাফ সিলেকশন কমিশনের বিভিন্ন নিয়োগ পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ রয়েছে বলে শিক্ষার্থীরা ক্ষুব্ধ। এ কারণে তারা নিয়োগ পরীক্ষার নিয়মে সংস্কারসহ নানা দাবিতে আন্দোলন করে চলেছেন। আন্দোলনরত পরীক্ষার্থীরা দুই সপ্তাহের বেশি সময় ধরে নিজেদের দাবিতে অনড় রয়েছেন।

রাঁচিতে হাজার হাজার শিক্ষার্থীর সমাবেশ

সোমবার সকালে রাজ্যের বিভিন্ন জেলা থেকে ট্রেন, বাস ও ব্যক্তিগত গাড়িতে হাজারো শিক্ষার্থী রাঁচিতে জড়ো হন। এরপর তারা মিছিল নিয়ে ঝাড়খণ্ড বিধানসভা অভিমুখে এগিয়ে যান। ছাত্রনেতা দেবেন্দ্র মাহতো আন্দোলনকারীদের শান্তিপূর্ণভাবে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান। তিনি জানান, দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যেতে হবে শিক্ষার্থীদের।

ব্যারিকেড দিয়ে শিক্ষার্থীদের ঠেকানোর চেষ্টা

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে রাঁচির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে ব্যারিকেড স্থাপন করে প্রশাসন। বিপুলসংখ্যক পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়। রাঁচির বেশিরভাগ স্কুলও সোমবার বন্ধ রাখা হয়েছে। পুলিশের পক্ষ থেকে শহরে প্রবেশের বিভিন্ন পথে বাস ও ব্যক্তিগত গাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে শিক্ষার্থীদের আটকে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়।

এদিকে মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেনের বাসভবনের বাইরেও প্রধান বিরোধী দল বিজেপি বিক্ষোভ করেছে।

সরকারের সঙ্গে আলোচনা ব্যর্থ

আন্দোলনকারীদের শান্ত করতে সরকার একাধিক বৈঠক করলেও এখনও সমাধানে পৌঁছাতে পারেনি। সরকারের দাবি, তারা শিক্ষার্থীদের ৯৮ শতাংশ দাবি মেনে নিয়েছে। তবে শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, ১৩টি পরীক্ষার মধ্যে মাত্র তিনটি বাতিল করতে চেয়েছে সরকার। সিবিআই তদন্তের দাবিতে জেসিএসসি ও জেপিএসসির দুর্নীতির অভিযোগ নিয়েও তারা অনঢ় রয়েছেন।

আন্দোলনকারীদের পক্ষে রবীন্দ্র পাসওয়ান জানান, দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে। বর্তমানে ছয়জন আন্দোলনকারী অনশনে রয়েছেন।

জেপিএসসিতে রদবদল

দুর্নীতির অভিযোগের মধ্যে গত রবিবার ঝাড়খণ্ড পাবলিক সার্ভিস কমিশনের তিন সদস্য পদত্যাগ করেছেন। সিআইডির সমন জারির পরে তাদের পদত্যাগের ঘটনা ঘটে। এর আগে ২২ জুলাই জেপিএসসির চেয়ারম্যান এল খিয়াংতে পদত্যাগ করেন। মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেন অনিয়মে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

৬টি বিষয়কে গুরুত্ব দিয়ে সমাজকে রক্ষা করার আহবান - এমপি জাহান্দার আলী মিয়া'র

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মাদারীপুর প্রতিনিধি

সোমবার, ১০ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৩:১৭ পি.এম


৬টি বিষয়কে গুরুত্ব দিয়ে সমাজকে রক্ষা করার আহবান - এমপি জাহান্দার আলী মিয়া

মাদারীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য জাহান্দার আলী মিয়া,মাদক,মানবপাচার,কিশোরগ্যাং,ভূমিদস্যু, চাঁদাবাজি,বাল্য বিবাহ এই ছয়টি বিষয়ে গুরুত্ব দিয়ে নৈতিক দায়িত্ব হিসেবে সমাজকে রক্ষা করার আহবান জানান তিনি। সোমবার (১০ আগস্ট) দুপুরে জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ওয়াদিয়া শাবাবের আয়োজনে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের ১৮০ দিনের বাস্তবায়ন কর্মসূচির অংশ হিসেবে নবনির্বাচিত ব্যবস্থাপনা কমিটি ও মাদার্স কমিটির সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।

এসময় জেলা প্রশাসক মর্জিনা আক্তারের সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা শিক্ষা অফিসার মুহাম্মদ ফজলে এলাহী। অনুষ্ঠানে সদর উপজেলার নবনির্বাচিত বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি, মাদার্স কমিটির সদস্য এবং বিভিন্ন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকবৃন্দ উপস্থিত থেকে নিজ নিজ মতামত ও পরিকল্পনা তুলে ধরেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বেরোবিতে বাংলা বিভাগে শিক্ষক নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ, অতিরিক্ত নিয়োগ বাতিলের সুপারিশ ইউজিসির

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বেরোবি প্রতিনিধি

সোমবার, ১০ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৩:২১ পি.এম


বেরোবিতে বাংলা বিভাগে শিক্ষক নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ, অতিরিক্ত নিয়োগ বাতিলের সুপারিশ ইউজিসির

রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) বাংলা বিভাগে একটি প্রভাষক পদের বিপরীতে দুজনকে নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) বাজেট অ্যাসেসমেন্ট দলের পর্যবেক্ষণে উঠে এসেছে। নিয়মবহির্ভূত অতিরিক্ত নিয়োগ বাতিলের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট শিক্ষককে এ পর্যন্ত দেওয়া বেতন-ভাতা রাষ্ট্রীয় কোষাগারে ফেরত নেওয়ার সুপারিশ করেছে কমিশন।

ইউজিসির নথি সূত্রে জানা যায়, গত ১৬ ও ১৭ নভেম্বর ২০২৫ তারিখে কমিশনের একটি দল বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সংশোধিত এবং ২০২৬-২৭ অর্থবছরের মূল বাজেট অ্যাসেসমেন্ট কার্যক্রম পরিচালনা করে। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় মোট ২৯টি গুরুতর পর্যবেক্ষণ ও অনিয়ম চিহ্নিত করা হয়। এর মধ্যে প্রথম ক্রমিকেই বাংলা বিভাগের শিক্ষক নিয়োগসংক্রান্ত বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ২৩ অক্টোবর ২০২৪ তারিখে প্রকাশিত নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে বাংলা বিভাগের জন্য মাত্র একটি স্থায়ী প্রভাষক পদের কথা উল্লেখ করা হয়েছিল। তবে পরবর্তীতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন দুটি স্থায়ী প্রভাষক পদে নিয়োগ দেয় বলে ইউজিসির পর্যবেক্ষণে উল্লেখ করা হয়েছে। নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষক হিসেবে গোলাম রব্বানী ও মনির হোসেনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।

ইউজিসির হিসাবে, অতিরিক্ত নিয়োগের কারণে বছরে প্রায় ২ লাখ ৭৭ হাজার টাকার অননুমোদিত আর্থিক দায় তৈরি হয়েছে। নিয়মবহির্ভূত হওয়ায় এ খাতে কমিশনের পক্ষ থেকে কোনো বাজেট বরাদ্দ রাখা হয়নি বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

ইউজিসির অ্যাসেসমেন্ট দলের চূড়ান্ত সুপারিশে নিয়মবহির্ভূত অতিরিক্ত শিক্ষক নিয়োগ অবিলম্বে বাতিলের কথা বলা হয়েছে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট শিক্ষককে বিশ্ববিদ্যালয়ের তহবিল থেকে এ পর্যন্ত দেওয়া বেতন-ভাতাসহ যাবতীয় অর্থ রাষ্ট্রীয় কোষাগারে ফেরত নেওয়ার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে গৃহীত ব্যবস্থা দ্রুত কমিশনকে অবহিত করতেও বলা হয়েছে।

ইউজিসির প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, বাজেট অ্যাসেসমেন্টে চিহ্নিত ২৯টি পর্যবেক্ষণ নিষ্পত্তির জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে একাধিকবার তাগাদা দেওয়া হলেও দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। পরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কমিশনের কাছে বক্তব্য পাঠানো হলেও বিষয়টি পুনরায় তুলে ধরা হয়।

কমিশনের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, এসব অনিয়ম দ্রুত নিষ্পত্তি না হলে ভবিষ্যতে বিশ্ববিদ্যালয়ের চাহিদার বিপরীতে বরাদ্দের ক্ষেত্রে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।


বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. নিতাই কুমার ঘোষ বলেন, “আমার কাছে এই বিষয়ে কোনো এভিডেন্স নেই। তাই আমি এখন কোনো মন্তব্য করতে চাচ্ছি না।”

অন্যদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মো. ফেরদৌস রহমান দাবি করেন, বিষয়টি ইউজিসির পর্যবেক্ষণে যেভাবে এসেছে, বাস্তবতা তেমন নয়। তিনি বলেন, “বিষয়টা এমন ছিল না। দুইটা বিজ্ঞপ্তিতে দুইটা নিয়োগ হয়েছে। আমরা ইউজিসিকে উত্তর দিয়েছি। বিষয়টি সময় নিয়ে আমরা তোমাদের উত্তর দেব। দুইটা বিজ্ঞপ্তি দুটো ভিন্ন সময়ে হয়েছিল।”

দুটি ভিন্ন বিজ্ঞপ্তিতে নিয়োগ হয়ে থাকলে ইউজিসি কেন বিষয়টিকে অনিয়ম হিসেবে উল্লেখ করেছে—এ বিষয়ে জানতে চাইলে রেজিস্ট্রার বলেন, “আমরা ইউজিসি থেকে যে টিম এসেছিল, তারা হয়তো বিষয়টি জানত না।”

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. শওকাত আলীর বক্তব্য জানতে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৫
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%