মঙ্গলবার, ১৩ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং
১০:৪৫ এম
নবনির্মিত মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্ট ট্রেনিং স্কুলের (ম্যাটস) অবস্থান টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলার কাইতকাই মৌজায়। চার বছর আগে ভবন নির্মাণের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। কিন্তু, প্রতিষ্ঠানটি এখনও চালু হয়নি। কবে চালু হবে, সে বিষয়ে কেউ কিছু জানাতে পারছেন না। ফলে, বিপুল অর্থ ব্যয়ে নির্মিত এই প্রতিষ্ঠানটি চার বছর ধরে অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে আছে। এই পরিত্যক্ত অবস্থার কারণে নেশাখোররা ধীরে ধীরে এখানে আস্তানা গড়ে তুলতে শুরু করেছে। ম্যাটসের একাডেমিক ভবনসহ অন্যান্য অবকাঠামো বছরের পর বছর ধরে অব্যবহৃত অবস্থায় রয়েছে।
জানা গেছে, স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর গত পাঁচ বছরে সারা দেশে ১২টি মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্ট ট্রেনিং স্কুল (ম্যাটস) নির্মাণ করেছে। এর মধ্যে একটি হলো টাঙ্গাইলের মধুপুর ম্যাটস। পৌরশহরের টাঙ্গাইল-জামালপুর আঞ্চলিক মহাসড়কের উত্তর পাশে কাইতকাই এলাকায় পাঁচ একর জমির ওপর নির্মিত এই প্রতিষ্ঠানে ব্যয় হয়েছে ৩৩ কোটি ৭৫ লাখ টাকা। প্রাতিষ্ঠানিক অবকাঠামো নির্মাণ কাজ ২০২১ সালের এপ্রিল মাসে শেষ হয়। এখানে ছয়টি পৃথক ভবন রয়েছে, যার মধ্যে একাডেমিক ভবন, অধ্যক্ষের বাসস্থান, ছাত্র হোস্টেল, ছাত্রী হোস্টেল, শিক্ষক কোয়ার্টার এবং চতুর্থ শ্রেণির কোয়ার্টার অন্তর্ভুক্ত। এগুলো চার, পাঁচ ও ছয়তলাবিশিষ্ট।
স্বাস্থ্যশিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে ঢাকার মোহাম্মদপুরের নূরানী কনস্ট্রাকশন প্রায় পাঁচ বছর আগে অবকাঠামোগত নির্মাণকাজ শেষ করে। তবে, আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর থেকে স্বাস্থ্যশিক্ষা অধিদপ্তরে হস্তান্তরে সময় লাগে দুই বছর।
এ বিষয়ে টাঙ্গাইলের সিভিল সার্জন ডা. ফরাজী মুহাম্মদ মাহবুবুল আলম মঞ্জু জানান, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের সঙ্গে আলোচনা করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, মধুপুরের মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্ট ট্রেনিং স্কুলটি চালু করার জন্য সরকারের কোনো পরিকল্পনা নেই। কারণ এখান থেকে পাস করা শিক্ষার্থীদের জন্য পর্যাপ্ত সরকারি কর্মসংস্থানের সুযোগ নেই।
টাঙ্গাইলে সরকারি ও বেসরকারি মিলিয়ে চারটি ম্যাটস রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্ট পদে সরকারিভাবে নিয়োগ বন্ধ রয়েছে। এই অবস্থায় আরেকটি সরকারি ম্যাটস টাঙ্গাইলে স্থাপনের প্রয়োজনীয়তা নেই বলে মনে হচ্ছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী মুখরোচক খাবার হিসেবে পান অন্যতম। শহরের তুলনায় গ্রামে আপ্যায়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবে কাজ করে এই পান। ভোজন রসিকদের ভোজন শেষে তৃপ্তির ঢেকুর তোলার জন্য পানের বিকল্প নেই। আপ্যায়নে অন্যান্য খাবারের সঙ্গে খাবার শেষে পান থাকা চাই। পানের প্রধান আকর্ষণ হলো সুপারি ও চুন। চুন সাধারণত দুই ধরনের উৎপাদন হয়ে থাকে- পাথরের চুন ও ঝিনুকের চুন। তবে পানের সঙ্গে ঝিনুকের খোলস থেকে তৈরি চুনের স্বাদ অনেক বেশি; তাই এই চুনের কদর অনেক বেশি।
এক সময় নদী, নালা, খাল, বিল ও জলাশয় ছিল প্রচুর। তখন জলাশয়ে ব্যাপকহারে ঝিনুক পাওয়া যেত। তখন চুনের চাহিদার সঙ্গে উৎপাদনও ছিল যথেষ্ট। স্বল্প মজুরি ও সহজলভ্য কাঁচামালের কারণে চুন উৎপাদন করে কারিগররা ভালোভাবে সংসার চালাতে পারতেন।
কিন্তু কালের বিবর্তনে দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে ঝিনুকের চুন উৎপাদনের কুটিরশিল্প হারিয়ে যেতে বসেছে। জলাশয়ের সংখ্যা কমে যাওয়ার কারণে ঝিনুকের সংকট দেখা দিয়েছে, পাশাপাশি জ্বালানি ও মজুরির দাম বৃদ্ধির ফলে অনেকে এই পেশা ছেড়ে অন্য পেশায় যুক্ত হয়েছেন। যে কয়েকটি পরিবার এখনও এই পেশায় রয়েছেন, তাদের অবস্থাও খুবই করুণ। তাদের মতে, আগুনে পুড়ে ঝিনুক থেকে চুন তৈরি হলেও সংসারে অভাবের আগুন নিভতে চায় না।
দিনাজপুরের ফুলবাড়ী উপজেলার ৭ নম্বর শিবনগর ইউনিয়নের রাজারামপুর চুনিয়াপাড়া (যুগিপাড়া) গ্রামে এখনও টিকে আছে ঝিনুক পুড়িয়ে চুন তৈরির ঐতিহ্যবাহী পদ্ধতি। যদিও অনেকেই এ পেশা ছেড়ে দিয়েছেন, বংশ পরম্পরায় শতবছর ধরে চলে আসা এই পেশাকে এখনও আঁকড়ে ধরে রেখেছেন ওই গ্রামের ৮টি পরিবার। তাদের কাছে এই পেশা শুধুমাত্র জীবিকার অবলম্বন নয়, বরং চুনিয়াপাড়ার পরিচয়ের একটি অংশও। তাদের পরিচয়ের মাধ্যমেই এই গ্রামের নাম চুনিয়াপাড়া হয়েছে। এই পাড়ার নারী-পুরুষের জীবনযাত্রা এখনো ঝিনুক থেকে চুন তৈরির ওপর নির্ভরশীল।
সরেজমিনে রাজারামপুর চুনিয়াপাড়ায় গিয়ে দেখা যায়, চুনিয়া পরিবারের নারী-পুরুষরা সবাই ঝিনুক থেকে চুন তৈরির কাজে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। কেউ ঝিনুক সংগ্রহ করছেন, কেউ সেগুলো রোদে শুকাচ্ছেন, আবার কেউ মাটির চুল্লিতে ঝিনুক সাজিয়ে আগুন জ্বালাচ্ছেন। এরপর দীর্ঘ সময়ের উত্তাপে ঝিনুক সাদা ছাইয়ে পরিণত হচ্ছে। সেই ছাই থেকে বিশেষ প্রক্রিয়ায় চুন তৈরি করছেন তারা। এভাবেই বাপ-দাদার পেশা ধরে রেখে শত বছরের ঐতিহ্য রক্ষা করছেন তারা।
কারিগররা জানান, ফুলবাড়ীসহ আশপাশের বিভিন্ন উপজেলার নদী-নালা ও খাল-বিল থেকে ঝিনুক সংগ্রহ করা হয়। সংগ্রহের পর ঝিনুকগুলো প্রথমে রোদে শুকানো হয়। পরে বিশেষভাবে তৈরি মাটির চুল্লিতে সাজিয়ে উচ্চ তাপে দীর্ঘ সময় পোড়ানো হয়। পোড়ানোর পর ঝিনুক সাদা ছাইয়ের মতো হয়ে গেলে তা থেকে বিশেষ প্রক্রিয়ায় চুন তৈরি করা হয়। একজন কারিগর প্রতিদিন গড়ে ৭ থেকে ৮ কেজি চুন তৈরি করেন। পরে এসব চুন পাইকারি ও খুচরা দরে স্থানীয় হাট-বাজারসহ জেলার বিভিন্ন এলাকায় বিক্রি করা হয়। এই পদ্ধতিতে তৈরি চুনের স্থানীয় হাট-বাজারে ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। বিশেষ করে পান খাওয়ার জন্য ‘ঝিনুক চুন’ খুবই জনপ্রিয়।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, রাজারামপুর চুনিয়াপাড়া গ্রামে শতাধিক পরিবারের বসবাস। একসময় অনেক পরিবার এই পেশার সঙ্গে যুক্ত ছিল। কিন্তু নানা প্রতিকূলতার কারণে অনেকে পেশা পরিবর্তন করে অন্য পেশায় চলে গেছেন। বর্তমানে মাত্র ৮টি পরিবার এই ঐতিহ্যবাহী পেশা ধরে রেখেছেন। এসব পরিবারের প্রায় অর্ধশত নারী-পুরুষ ঝিনুক সংগ্রহ, চুল্লিতে পোড়ানো, চুন তৈরিসহ বিক্রির কাজে যুক্ত রয়েছেন।
চুন তৈরির কারিগর বিমল চন্দ্র দেবনাথ ও তার স্ত্রী গীতা রানী দেবনাথ বলেন, ‘আমাদের বাপ-দাদারা এই কাজ করে গেছেন।আমরাও অনেক কষ্ট করে এটি ধরে রেখেছি। ঝিনুক সংগ্রহ করতে আগের চেয়ে বেশি কষ্ট হলেও এই চুনই আমাদের জীবন-জীবিকার অবলম্বন।’
স্থানীয় চুন কারিগর নেপাল চন্দ্র দেবনাথ বলেন, ‘বর্তমানে খাল-বিল ভরাট হয়ে যাওয়ায় আগের মতো সহজে ঝিনুক পাওয়া যায় না। এর সঙ্গে জ্বালানির দামও বেড়েছে। ফলে চুন তৈরির খরচ অনেক বেড়ে গেছে।’ সরকারি বা বেসরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে এই ক্ষুদ্র কুটিরশিল্পকে আরও বড় পরিসরে সম্প্রসারণ করা সম্ভব বলে তিনি মনে করেন। এতে কারিগরদের জীবনযাত্রার মানও উন্নত হতে পারে।
শিবনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ছামেদুল ইসলাম বলেন, ‘বংশপরম্পরায় চুনিয়াপাড়ার চুন কারিগররা ঝিনুক পুড়িয়ে চুন তৈরি করে জীবিকা নির্বাহ করে আসছেন। চুন কারিগররা যাতে উন্নত প্রশিক্ষণ ও সহজ শর্তে ক্ষুদ্র ঋণ পান, সে বিষয়ে উপজেলা পরিষদের সভায় আলোচনা করা হবে।’
শত বছরের পুরোনো এই ঐতিহ্য এখন বিলুপ্তির পথে। প্রয়োজনীয় পৃষ্ঠপোষকতা, প্রশিক্ষণ, কাঁচামালের সহজ লভ্যতা ও আর্থিক সহায়তা পেলে রাজারামপুর চুনিয়াপাড়ার ঝিনুক পুড়িয়ে চুন তৈরির এই কুটিরশিল্প টিকে থাকতে পারে বলে স্থানীয় সচেতন মহল মনে করেন।
এমএইচ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সাবেক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ও রাজশাহী-৬ (বাঘা-চারঘাট) আসনের সাবেক এমপি শাহরিয়ার আলম ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট খুব ভোরে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি সম্পর্কে ধারণা লাভ করেন। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে তিনি রাজশাহী ছেড়ে সড়কপথে গেদে সীমান্তে পৌঁছান। এরপর তিনি ভারতে প্রবেশ করেন এবং সেখান থেকে থাইল্যান্ড হয়ে রাশিয়ায় চলে যান।
বর্তমানে শাহরিয়ার কলকাতার নিউটাউনে সাড়ে তিন হাজার স্কয়ার ফুটের একটি আলিশান ফ্ল্যাটে তার দ্বিতীয় স্ত্রী সিলভিয়া পারভীন লেনির সঙ্গে বিলাসী জীবনযাপন করছেন। সেখানে তিনি স্থায়ী নিবাস গড়েছেন এবং তার জন্য দেশে থেকে হুন্ডির মাধ্যমে টাকা পাঠানো হচ্ছে। তার বিশাল ফ্ল্যাটে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাবেক মন্ত্রী, এমপি, কেন্দ্র এবং রাজশাহী অঞ্চলের নির্বাসিত নেতারা নিয়মিত আসা-যাওয়া করছেন। দেশের রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির জন্য বিভিন্ন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হচ্ছে। বাংলাদেশি পাসপোর্ট ব্যবহার করে শাহরিয়ার চীন, রাশিয়া ও ব্রাজিল সফর করছেন।
রাজশাহীতে শাহরিয়ারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। আওয়ামী লীগ ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর রাজশাহীর তিনটি থানায় শাহরিয়ার আলমের বিরুদ্ধে চারটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে গত বছরের ২৪ এপ্রিল দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) মামলাটি দায়ের করে। এছাড়া শাহরিয়ার আলমের ছয়টি ব্যাংক হিসাবে ২৬০ কোটি ৯৪ লাখ ৯৬ হাজার ৩৭০ টাকার সন্দেহজনক লেনদেনের প্রমাণ পাওয়া গেছে।
শাহরিয়ার বাঘার পার্শ্ববর্তী নাটোরের লালপুর উপজেলার আওয়ামী লীগ নেতা গোলাম মর্ত্তুজা বাবুর মেয়ে সিলভিয়া পারভীন লেনিকে ২০১৯ সালের দিকে বিয়ে করেন। এটি ছিল তার দ্বিতীয় বিয়ে। মন্ত্রিত্বের প্রভাব এবং দলীয় ক্ষমতা ব্যবহার করে লেনির মা রোকসানা মর্ত্তুজাকে ২০২১ সালে লালপুরের গোপালপুর পৌরসভার মেয়র বানান শাহরিয়ার। লেনিকে লালপুরে কোটি টাকা ব্যয়ে বাড়ি করে দেন। এছাড়া ঢাকার গুলশানে তাকে ৩৬০০ স্কয়ার ফুটের একটি রাজকীয় ফ্ল্যাট উপহার দেন।
বর্তমানে শাহরিয়ার ব্যবসার বিশাল সাম্রাজ্য ও আর্থিক বিষয়গুলো দেখভাল করছেন তার আপন ভাই সাইফুল ইসলাম বাদল, বিএনপিপন্থি ব্যবসায়ী নাঈমুল বাশার চৌধুরী, মুহাম্মদ সাঈদ, রাজশাহীর ছাত্রলীগ নেতা হাসানুর সজল, বাঘা উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান ফাতেমা খাতুন লতার ছেলে তানজিম এবং চারঘাটের তসিকুল নামের এক ব্যক্তিসহ একটি শক্তিশালী চক্র।
যুগান্তরের নিজস্ব অনুসন্ধান এবং সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে এসব চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া গেছে।
শাহরিয়ারের গার্মেন্ট ব্যবসা দেখছেন শক্তিশালী চক্র। ২০০৮ সালের নির্বাচনে এমপি নির্বাচিত হওয়ার পর শাহরিয়ারকে আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। কৌশলী শাহরিয়ার রাজনৈতিক ক্ষমতা ব্যবহার শুরু করেন এবং তার অর্থনৈতিক উত্থান ঘটে। দ্রুত তার গার্মেন্ট ব্যবসা ফুলেফেঁপে ওঠে এবং তিনি বাংলাদেশের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় তৈরি পোশাক প্রতিষ্ঠান রেনেসাঁ গ্রুপ প্রতিষ্ঠা করেন। তবে বর্তমানে গ্রুপটির মূল পরিচালনা পর্ষদ এবং ব্যবস্থাপনার নেতৃত্বে কিছুটা পরিবর্তন হয়েছে। গ্রুপটির বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) বিএনপিপন্থি ব্যবসায়ী নাঈমুল বাশার চৌধুরী এবং পরিচালকদের মধ্যে অন্যতম মুহাম্মদ সাঈদ। এই প্রতিষ্ঠানে শাহরিয়ারের ব্যবসা দেখভাল করছেন এমডি বাশার এবং পরিচালক মুহাম্মদ সাঈদ।
ইন্টারস্টফ অ্যাপারেলস লিমিটেড দেশের আরেকটি শীর্ষস্থানীয় রপ্তানিমুখী তৈরি পোশাক প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানটির মূল মালিক চারজন। এ প্রতিষ্ঠানের এমডি শাহরিয়ার আলম। এই প্রতিষ্ঠানটিতেও শাহরিয়ারের অনুপস্থিতিতে তার প্রতিনিধিত্ব করছেন নাঈমুল বাশার চৌধুরী।
ইন্টারস্টফ অ্যাপারেলস লিমিটেডের সহযোগী প্রতিষ্ঠান সাউথইস্ট টেক্সটাইলস লিমিটেড। এই ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে সাবেক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ারের রয়েছে বড় অঙ্কের বিনিয়োগ। এখানে তার পক্ষে আর্থিক বিষয় দেখভাল করেন নাঈমুল বাশার চৌধুরী। এ ব্যাপারে বক্তব্যের জন্য তার (নাঈমুল) দুটি নম্বরে ফোন দেওয়া হলেও তিনি ধরেননি। তবে রেনেসাঁ গ্রুপের পরিচালনা পর্ষদের অন্যতম পরিচালক মুহাম্মদ সাঈদ বলেন, ‘শাহরিয়ার আলম শেয়ারহোল্ডার। উনি এখন নেই। ব্যবসা চলছে। লোকজন কাজ করছেন।’ শাহরিয়ারের ব্যবসা দেখার ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন, ‘তিনি ব্যবসাতে অনেকদিন থেকেই নেই। ব্যবসা আমরা চালাচ্ছি। এখন মিটিংয়ে আছি। পরে কথা বলব।’
শাহরিয়ারের ব্যক্তিগত ব্যবসা ও সম্পদ দেখছেন তার বাবা, ভাই ও রাজনৈতিক সহযোগীরা। আওয়ামী লীগ শাসনমালে অংশীদারত্বে ব্যবসা ছাড়াও শাহরিয়ার ব্যক্তিগতভাবে গড়ে তোলেন নানা ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান। এসব প্রতিষ্ঠান দেখভাল করছেন শাহরিয়ার আলমের বাবা মো. শামসুদ্দিন, তার আপন ভাই সাইফুল ইসলাম বাদল, ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সাবেক সদস্য ও রাজশাহী জেলার সাবেক যুগ্ম সম্পাদক হাসানুর সজল, বাঘা উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান ফাতেমা খাতুন লতার ছেলে তানজিম এবং চারঘাটের তসিকুল নামের এক ব্যক্তিসহ একটি শক্তিশালী চক্র।
আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকাকালে রাজশাহী মহানগরীর অভিজাত এলাকায় দুইশ কোটি টাকা ব্যয়ে শাহরিয়ার গড়ে তোলেন বারিন্দ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল। এ চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানটির পরিচালনা পর্ষদের এমডি শাহরিয়ারের বাবা হলেও বর্তমানে বিএনপিপন্থি সংগঠন ড্যাবের চিকিৎসকরা এটি নিয়ন্ত্রণ করছেন। চাউর রয়েছে, গত ফেব্রুয়ারির সংসদ নির্বাচনে রাজশাহীতে শীর্ষ দুটি রাজনৈতিক দলের ফান্ডে মোটা অঙ্কের অর্থ দেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে কোনো ঝামেলা ছাড়া নির্বিঘ্নে ব্যবসা করছেন শাহরিয়ার।
রাজশাহীর বাঘার ব্যবসায়ী গোলাম হোসেন ব্যাংকের ঋণ পরিশোধ করতে পারছিলেন না। ২০২০ সালে গোলাম হোসেনের শতকোটি টাকা মূল্যের প্রায় ৪০ বিঘা জমি ক্ষমতা আর প্রতারণার মাধ্যমে নামমাত্র মূল্যে জোরপূর্বক নিয়ে নেন শাহরিয়ার। এরপর সেখানে গড়ে তোলেন বরেন্দ্র এগ্রো ফার্ম। গোলাম হোসেন সে সময় আওয়ামী লীগ নেতাদের দ্বারে দ্বারে ঘুরেও জমি উদ্ধার করতে পারেননি।
শাহরিয়ার বাবা শামসুদ্দিন এবং ভাই সাইফুল ইসলাম বাদলসহ তার রাজনৈতিক সহযোগীরা ঢাকা ও রাজশাহীতে এসব সম্পদ দেখভাল করছেন। এ ব্যাপারে শামসুদ্দিন ও তার ছেলে বাদলকে একাধিকবার ফোন দিলেও তারা সাড়া দেননি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বরিশাল মহানগরীর সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ ও অপরাধ দমনে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেছে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ (বিএমপি)। গত ১২ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে মহানগর পুলিশের চারটি থানা ও গোয়েন্দা শাখার পৃথক অভিযানে বিভিন্ন অভিযোগ ও মামলায় মোট ২০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) বিএমপি মিডিয়া সেলের প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তির তথ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত চারজন, নিয়মিত মামলায় ১৪ জন, অন্যান্য আইনে একজন এবং বরিশাল মহানগর অধ্যাদেশে একজন রয়েছেন।
বিএমপির চারটি থানা ও গোয়েন্দা শাখার বিশেষ আভিযানিক দল মহানগরীর বিভিন্ন স্থানে এসব অভিযান পরিচালনা করে। অপরাধ দমন এবং নগরীর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এ ধরনের অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
মাদকসংক্রান্ত তথ্য দেওয়ার আহ্বান:
এদিকে, মাদকসংক্রান্ত অপরাধের তথ্য দিয়ে পুলিশকে সহযোগিতা করার জন্য নগরবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছে বিএমপি। এ ক্ষেত্রে তথ্যদাতার পরিচয় গোপন রাখা হবে বলে জানানো হয়েছে।
মাদকসংক্রান্ত তথ্য জানাতে যোগাযোগের নম্বর দুটি হলো—০১৩২০-০৬৪০০০এবং ০১৩২০-০৬৪০৪৪:
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বরিশাল সদর উপজেলার ০৯ নম্বর টুংগীবাড়িয়া এবং ০৮ নম্বর চাঁদপুরা ইউনিয়নে একই পরিবারের দুই ভাইয়ের বিসিআইসি সার ডিলারশিপ লাভ করা নিয়ে স্থানীয় কৃষক, ব্যবসায়ী ও সচেতন মহলের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। রাজনৈতিক প্রভাব ও মিথ্যা তথ্য প্রদানের মাধ্যমে আইন ও নীতিমালা অমান্য করে এই নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বলে গুরুতর অভিযোগ উঠে এসেছে।
অভিযোগে জানা যায়, বরিশাল সদর উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক বাবুল খন্দকারের ছোট দুই ভাই সিরাজ খন্দকার ও শাহ আলম খন্দকার পৃথক দুটি ইউনিয়নে সরকারি সার ডিলারশিপ লাভ করেছেন। প্রশাসনিক কড়াকড়ি ও সরকারি নীতিমালা বহাল থাকা সত্ত্বেও একই পরিবারের দুই সদস্য কীভাবে এই সুযোগ পেলেন এবং ডিলার নিয়োগে স্বজনপ্রীতি ও রাজনৈতিক পরিচয় ভূমিকা রেখেছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
স্থানীয় একাধিক সূত্রে জানা গেছে, খন্দকার পরিবারের মূল বাড়ি ভোলা জেলায়। বাবার চাকরি সূত্রে পরিবারটি বহুকাল আগে বরিশাল সদর উপজেলার টুংগীবাড়িয়া ইউনিয়নে স্থায়ীভাবে বসতি স্থাপন করে। সেখানে বড় ভাই বাবুল খন্দকারের রাজনৈতিক অবস্থান ও প্রভাবকে কাজে লাগিয়ে ছোট ভাই সিরাজ খন্দকার টুংগীবাড়িয়া ইউনিয়নের জন্য সরকারি সার ডিলারশিপ বাগিয়ে নেন।
অন্যদিকে, মেজ ভাই শাহ আলম খন্দকার সংলগ্ন ০৮ নম্বর চাঁদপুরা ইউনিয়নের কুন্দিয়ালপাড়া গ্রামের বাসিন্দা হিসেবে নিজের পরিচয় পত্র ও কাগজপত্র তৈরি করেন। সেখানে তিনি ‘খন্দকার স্টোর’ নামে একটি প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে চাঁদপুরা ইউনিয়নের সার ডিলারশিপ বাগিয়ে নেন বলে অভিযোগ। স্থানীয়দের দাবি, মূল ঠিকানা গোপন ও ভুয়া তথ্য উপস্থাপনের মাধ্যমে দুই ইউনিয়নে ডিলারশিপ ভাগিয়ে নেওয়া হয়েছে।
কৃষি মন্ত্রণালয় কর্তৃক প্রণীত ‘সার ডিলার নিয়োগ ও সার বিতরণ সংক্রান্ত সমন্বিত নীতিমালা-২০২৫’ এবং পরবর্তী হালনাগাদ নির্দেশনায় ডিলার নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা ও ডিলার সিন্ডিকেট ভাঙার তাগিদ দেওয়া হয়েছে। এই নীতিমালায় স্পষ্ট উল্লেখ রয়েছে যে, একই পরিবারের একাধিক সদস্য কোনোভাবেই সার ডিলারশিপ বা বিক্রয় প্রতিনিধি হতে পারবেন না।
নীতিমালার এই শর্ত চ্যালেঞ্জ করে পূর্বে হাইকোর্টে রিট করা হলে স্থিতাবস্থা (স্ট্যাটাসকো) জারি করা হয়েছিল। কিন্তু ২০২৬ সালের ৭ অক্টোবর সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত হাইকোর্টের নির্দেশ স্থগিত করে সরকারি নীতিমালাই বহাল রাখেন। ফলে একই পরিবারের একাধিক সদস্যের সার ডিলারশিপ পাওয়ার সুযোগ পুরোপুরি আইনিভাবে বন্ধ রয়েছে।
আইনজ্ঞদের মতে, বর্তমান আইনি বাস্তবতায় একই পরিবারের দুই ভাইয়ের নামে পৃথক দুই ইউনিয়নে ডিলারশিপ বহাল থাকা পুরোপুরি নীতিমালার পরিপন্থী।
এ বিষয়ে স্থানীয় কৃষকরা আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, সরকার-নির্ধারিত মূল্যে প্রান্তিক কৃষকের দোরগোড়ায় সার পৌঁছানো একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সেবা। কিন্তু এক পরিবারের হাতে দুটি ইউনিয়নের সার সরবরাহ ও বিক্রির দায়িত্ব চলে গেলে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি বা সিন্ডিকেটের আশঙ্কা থেকে যায়।
স্থানীদের প্রশ্ন— ১. একই পরিবারের দুই ভাই দুটি পৃথক ইউনিয়নে ডিলারশিপের জন্য আবেদন করার পর যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়ায় তাঁদের পারিবারিক সম্পর্ক কেন আড়াল হলো? ২. আবেদনকারীদের স্থায়ী ঠিকানা, ব্যবসায়িক অভিজ্ঞতা, নিজস্ব গুদামঘর ও ব্যাংকিং যোগ্যতার শর্তসমূহ সরজমিনে কীভাবে অনুমোদন পেল? ৩. নিয়োগ প্রক্রিয়ায় কোনো অনৈতিক লেনদেন বা রাজনৈতিক প্রভাব কাজ করেছে কি না?
সচেতন মহল দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করে এই নিয়োগ বাতিল এবং যোগ্য ও বঞ্চিত আবেদনকারীদের মধ্য থেকে নিয়ম মেনে নতুন ডিলার নিয়োগের জোর দাবি জানিয়েছেন।
সকল অভিযোগ অস্বীকার করে ডিলারশিপ পাওয়া খন্দকার শাহ আলম এবং খন্দকার সিরাজ যৌথভাবে জানান, “আমাদের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগ সত্য নয়। আমরা সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে আহ্বান করা দরপত্রে অংশ নিয়ে সমস্ত নিয়ম-নীতি, কাগজপত্র ও আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই ডিলারশিপ পেয়েছি। এখানে কোনো অনিয়ম বা ভুয়া তথ্য দেওয়ার সুযোগ নেই।”
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ