ঢাকা শনিবার, ১৭ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০১ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৬ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শনিবার, ১৭ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০১ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

সিনেটর গ্রাহামের সম্মানে মার্কিন পতাকা অর্ধনমিত রাখার নির্দেশ ট্রাম্পের


সিনেটর গ্রাহামের সম্মানে মার্কিন পতাকা অর্ধনমিত রাখার নির্দেশ ট্রাম্পের

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রয়াত মার্কিন সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহামের সম্মানে পুরো যুক্তরাষ্ট্র জুড়ে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। আগামী শনিবার (১৮ জুলাই) সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত দেশের সব জায়গায় পতাকা অর্ধনমিত থাকবে।

শনিবার (১১ জুলাই) সন্ধ্যায় সাউথ ক্যারোলাইনা রাজ্যের এই প্রভাবশালী রিপাবলিকান সিনেটর মারা গেছেন।

ট্রাম্প তার নিজস্ব সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ এই পতাকা অর্ধনমিত রাখার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন। প্রয়াত সিনেটরকে নিজের ‘প্রিয় বন্ধু’ এবং ‘প্রকৃত আমেরিকান দেশপ্রেমিক’ হিসেবে উল্লেখ করে ট্রাম্প বলেন, গ্রাহামের অসাধারণ জীবন এবং দেশের প্রতি তার সেবার সম্মানার্থে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন: শ্রম আদালতের মামলাজট নিরসনে কার্যকর রোডম্যাপের আহ্বান শ্রমমন্ত্রীর

লিন্ডসে গ্রাহামের এই আকস্মিক মৃত্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক অঙ্গনসহ বিশ্বনেতাদের মাঝে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। ইউক্রেনের প্রতি তার সমর্থন এবং মার্কিন-ইসরায়েল জোটের প্রতি অটল প্রতিশ্রুতির কথা স্মরণ করে অনেকেই শোকবার্তা পাঠিয়েছেন।

মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ও ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্টও এই মহান রাজনীতিবিদের প্রয়াণে গভীর শ্রদ্ধা জানিয়েছেন। এই কঠিন সময়ে লিন্ডসে গ্রাহামের পরিবার সকলের কাছে প্রার্থনা চেয়েছেন এবং একান্ত ব্যক্তিগত সময় কাটানোর জন্য গোপনীয়তা বজায় রাখার অনুরোধ করেছেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

৩ বছরে ইহুদি নিরাপত্তায় ২৫০ মিলিয়ন পাউন্ড ব্যয় করবে ব্রিটেন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সোমবার, ১৩ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৯:৫৪ এম


৩ বছরে ইহুদি নিরাপত্তায় ২৫০ মিলিয়ন পাউন্ড ব্যয় করবে ব্রিটেন

সাম্প্রতিক সময়ে একের পর এক ইহুদিবিদ্বেষী হামলার ঘটনা ঘটার পর ব্রিটেন সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে, ইহুদি সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা আরো জোরদার করা হবে। এ সিদ্ধান্তের অংশ হিসেবে আগামী তিন বছরে ২৫০ মিলিয়ন পাউন্ডের বেশি অর্থ ব্যয় হবে, যা প্রায় ৩৩৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।

সোমবার এই তথ্য প্রকাশ করেছে ব্রিটিশ সরকার।

সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, নতুন এই অর্থের একটি বড় অংশ অতিরিক্ত পুলিশ নিয়োগে ব্যয় করা হবে। ইংল্যান্ড এবং ওয়েলসে ৫০০ জনের বেশি নতুন পুলিশ কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হবে। তারা নিয়মিত টহল দেবেন ইহুদি অধ্যুষিত এলাকা, ইহুদি স্কুল, উপাসনালয় এবং কমিউনিটি সেন্টারের আশেপাশে।

এ পদক্ষেপের ফলে এসব এলাকার নিরাপত্তা আরো জোরদার হবে বলে সরকারের প্রত্যাশা রয়েছে। গত কয়েক মাসে ব্রিটেনে ইহুদিদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন স্থানে একাধিক হামলার ঘটনা ঘটেছে। চলতি বছরের মার্চ মাসে ইহুদি কমিউনিটির ব্যবহৃত চারটি অ্যাম্বুলেন্সে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়েছিল। এরপর এপ্রিলে উত্তর লন্ডনে এক ইহুদিবিদ্বেষী ছুরিকাঘাতের ঘটনা ঘটে।

এই ঘটনার পর দেশটির জাতীয় সন্ত্রাসবাদ হুমকির মাত্রা ‘উল্লেখযোগ্য’ থেকে বাড়িয়ে ‘গুরুতর’ করা হয়।

সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এপ্রিলে ছুরিকাঘাতের ঘটনার পর ২৫ মিলিয়ন পাউন্ডের একটি তহবিল ঘোষণা করা হয়েছিল। নতুন এই অর্থ সেই তহবিলের অতিরিক্ত হিসেবে বরাদ্দ করা হচ্ছে। নতুন পরিকল্পনার আওতায় লন্ডনে প্রায় ৩০০ জন অতিরিক্ত পুলিশ কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হবে এবং গ্রেটার ম্যানচেস্টারে প্রায় ৮০ জন অতিরিক্ত পুলিশ কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হবে। গত বছর গ্রেটার ম্যানচেস্টারে একটি ইহুদি উপাসনালয়ে হামলার ঘটনা ঘটেছিল।

এছাড়া যেসব এলাকায় উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ইহুদি বসবাস করেন, সেই সব এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জন্য আরো ৪৩ মিলিয়ন পাউন্ড বরাদ্দ রাখা হয়েছে। বিদায়ী প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার এক বিবৃতিতে বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেশে ইহুদিবিদ্বেষ বেড়ে যাওয়া ব্রিটেনের মূল্যবোধের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তিনি বলেন, এই ধরনের বিদ্বেষ ও হামলা মোকাবিলা করা তার নেতৃত্বের শুরু থেকেই অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার ছিল।

সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, নতুন তহবিল থেকে লন্ডনের মেট্রোপলিটন পুলিশ ৮৬ মিলিয়ন পাউন্ড পাবে। এছাড়াও সন্ত্রাসবাদবিরোধী পুলিশি কার্যক্রম পরিচালনার জন্য আরো ৫৯ মিলিয়ন পাউন্ড বরাদ্দ রাখা হয়েছে। সরকার আরো জানিয়েছে, যেসব সময়ে হামলার ঝুঁকি বেশি থাকে, সেসব সময় পুলিশি টহল বাড়ানো হবে। এর মাধ্যমে সাধারণ মানুষের মধ্যে নিরাপত্তার অনুভূতি বৃদ্ধি পাবে। একই সঙ্গে বিদ্বেষমূলক অপরাধ ও ইহুদিবিদ্বেষী হামলা প্রতিরোধের ক্ষেত্রেও এটি সহায়ক হবে বলে সরকারের আশাবাদ। উল্লেখ্য যে, বর্তমান বিনিময় হার অনুযায়ী ১ মার্কিন ডলারের মূল্য ০.৭৪৬০ পাউন্ড।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

উপসাগরে ইরানের হামলা তীব্র, ক্ষেপণাস্ত্র ও নৌযানে যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টা হামলা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সোমবার, ১৩ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৯:৫৭ এম


উপসাগরে ইরানের হামলা তীব্র, ক্ষেপণাস্ত্র ও নৌযানে যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টা হামলা

হরমুজ প্রণালির আশপাশে ইরানের সামরিক স্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে হামলা চালিয়েছে। রবিবারের এই হামলার ফলে দুই দেশের মধ্যে চলমান সংঘাতের তীব্রতা আরো বৃদ্ধি পেয়েছে।

একই সময়ে, ইরান উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্র-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সামরিক স্থাপনার লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা gerçekleştir করে। এর ফলে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী হরমুজ প্রণালির আশপাশে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা, আকাশ প্রতিরক্ষা ঘাঁটি এবং ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) পরিচালিত ছোট দ্রুত গতির নৌযানগুলোর ওপর হামলা চালিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, এটি হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য করা হয়েছে।

হামলার কিছুক্ষণের মধ্যেই ইরানের দক্ষিণাঞ্চলের বন্দর নগরী বন্দর আব্বাস থেকে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। ইরানি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কাছের কেশম দ্বীপেও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা হয়েছে। কেশমের গভর্নর হোসেইন আমির তেইমুরি বলেছেন, ১০ থেকে ১১টি ক্ষেপণাস্ত্র দ্বীপটিতে আঘাত হেনেছে। তার দাবী, সব হামলাই সামরিক স্থাপনাকে লক্ষ্য করে চালানো হয়েছে এবং এতে কোনো বেসামরিক হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।

তবে ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ইরনার তথ্য অনুসারে, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মাহশাহর শহরের একটি পানি পাম্পিং স্টেশনে যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় একজন নিহত এবং চারজন আহত হয়েছেন। এছাড়া, হরমোজগান প্রদেশে আরেকটি হামলায় দায়িত্বরত একজন রক্ষণাবেক্ষণ কর্মী নিহত হয়েছে এবং আরো দুইজন আহত হয়েছে। এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের মুখপাত্র টিম হকিন্স সিএনএনকে জানান, মার্কিন যুদ্ধবিমান ইরানের একটি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং হামলার উদ্দেশ্যে পাঠানো একটি ড্রোনকে ভূপাতিত করেছে। রয়টার্সকে দেওয়া এক সংক্ষিপ্ত ফোন সাক্ষাৎকারে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, 'আমরা তাদের কঠোরভাবে আঘাত করছি।'

অন্যদিকে, ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যুক্তরাষ্ট্রের সর্বশেষ হামলাকে 'আগ্রাসী' বলে তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। মন্ত্রণালয় জানায়, হরমুজ প্রণালি নিয়ে শনিবার মাসকাটে ইরান ও ওমানের মধ্যে যে আলোচনা হয়েছিল, তা কোনো সমঝোতায় পৌঁছায়নি। তাদের অভিযোগ, ওমানের ওপর ওয়াশিংটনের প্রকাশ্য ও গোপন চাপের কারণেই আলোচনা ব্যর্থ হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, ইরানের বিরুদ্ধে নতুন দফার সামরিক অভিযান শুরু হয়েছে।

মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে, হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য যে হুমকি তৈরি হয়েছে, তা কমানোর লক্ষ্যেই এই অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। ট্রাম্প প্রশাসন আরও জানিয়েছে, সেখানকার নিরাপদ নৌ চলাচল নিশ্চিত করার জন্য তারা কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে এখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মুখোমুখি অবস্থান তৈরি হয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসনের মতে, এই জলপথে নিয়ন্ত্রণ আরো শক্ত করার ইরানের চেষ্টা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য একটি বড় হুমকি। মার্কিন কর্মকর্তারা বলছেন, বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ত এই নৌপথে কোনো ধরনের বাধা সৃষ্টি হলে বৈশ্বিক বাণিজ্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এর প্রভাব এশিয়া থেকে ইউরোপ পর্যন্ত অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ নৌপথেও পড়তে পারে। অন্যদিকে, ইরান জানিয়ে দিয়েছে, তারা তাদের অবস্থান থেকে সরে আসবে না। চলতি বছরের শুরুতে, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল তদারকির দায়িত্বে থাকা ইরানের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ঘোষণা দেয়, অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক তৎপরতা চলতে থাকলে কোনো জাহাজকে প্রণালি ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হবে না। তারা জানায়, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে পুনরায় আবেদন বিবেচনা করা হবে। তবে ওয়াশিংটন এই দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড বলছে, হরমুজ প্রণালি ইরানের নিয়ন্ত্রণে নয় এবং সেখানে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের হামলার জবাবে ইরান উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্র-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সামরিক স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে। ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর জানিয়েছে, তারা জর্ডানে কমান্ড ও নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র এবং ড্রোন ঘাঁটি, কুয়েতে একটি মার্কিন রাডার কেন্দ্র ও হামলার উদ্দেশ্যে পাঠানো হিমার্স ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ ব্যবস্থা, ওমানে বিমানবাহী রণতরির সহায়তা ও জ্বালানি সরবরাহ প্ল্যাটফর্ম এবং কাতারে একটি যুদ্ধবিমান রক্ষণাবেক্ষণ কেন্দ্র হামলা চালিয়েছে। ইরানের ফার্স বার্তা সংস্থা দাবি করেছে, কুয়েতে হামলার মূল লক্ষ্য ছিল মার্কিন হিমার্স ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা ও গোলাবারুদ সংরক্ষণাগার। অন্যদিকে, কুয়েত জানিয়েছে, হামলায় তাদের উত্তরাঞ্চলের তিনটি সীমান্তকেন্দ্র এবং সমুদ্রের একটি তেল উত্তোলন প্ল্যাটফর্ম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে একজন কর্মী আহত হয়েছে। দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ঘটনাটিকে 'অপরাধমূলক হামলা' বলে উল্লেখ করেছে। কাতার জানিয়েছে, ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ পড়ে এক শিশুসহ তিনজন আহত হয়েছেন এবং তারা এই হামলার জন্য ইরানকে সম্পূর্ণভাবে দায়ী করেছে। এছাড়া, সংযুক্ত আরব আমিরাত জানিয়েছে, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দেশের সীমান্তের বাইরে কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ভূপাতিত করেছে। বাহরাইনও জানিয়েছে, তারা আকাশপথে আসা হুমকি প্রতিহত করেছে। জর্ডান ক্ষেপণাস্ত্র হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। ওমান জানিয়েছে, তাদের কয়েকটি এলাকায় ড্রোন হামলা হয়েছে।

নতুনভাবে শুরু হওয়া এই হামলা-পাল্টা হামলার কারণে কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনা আরো দুর্বল হয়ে পড়েছে। বৃহত্তর শান্তি চুক্তির লক্ষ্যে ৬০ দিনের অন্তর্বর্তী চুক্তির মাঝে আবার দুই দেশের মধ্যে সংঘাত শুরু হয়। পরে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, তার মতে যুদ্ধবিরতি কার্যত শেষ হয়ে গেছে। তবে তিনি ভবিষ্যতে আলোচনার পথ খলার ব্যাপারে তথ্য দেন। সংঘাত শুরুর এক দিন আগে মাসকাটে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি ও ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আলবুসাইদি হরমুজ প্রণালি নিয়ে বৈঠক করেন। ইরান জানায়, গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথের ভবিষ্যৎ ব্যবস্থাপনা নিয়ে সমন্বয় করাই ছিল ওই বৈঠকের একমাত্র উদ্দেশ্য। পরে কাতারকে যুক্ত করে আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার কথাও জানানো হয়।

এছাড়া আরাঘচি পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দারের সঙ্গে ফোনে কথা বলেন। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পাকিস্তান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। তবে এসব কূটনৈতিক যোগাযোগের পরও ইরানের অবস্থান কঠোরই রয়েছে। দেশটির প্রধান আলোচক মোহাম্মদ বাকের কালিবাফ এক্সে লিখেছেন, 'একমুখী চুক্তির যুগ শেষ। আমরা আগেই বলেছিলাম, কথা রাখুন, না হলে মূল্য দিতে হবে।' দুই পক্ষই সামরিক অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে এবং কেউই আপাতত পিছু হটার কোনো ইঙ্গিত দেখাচ্ছে না। ফলে নতুন করে আলোচনায় ফেরার সম্ভাবনা ক্রমেই ক্ষীণ হয়ে পড়ছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ঢাকায় হঠাৎ এত বৃষ্টির কারণ কী?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ১৩ই জুলাই, ২০২৬ ইং

১০:০১ এম


ঢাকায় হঠাৎ এত বৃষ্টির কারণ কী?

ঢাকায় টানা বৃষ্টির কারণে গতকাল রবিবার অনেক সড়ক তলিয়ে গেছে। 

রাজধানী ঢাকায় মাত্র ৯ ঘণ্টায় বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ছিল ৯৫ মিলিমিটার। এর আগের ২৪ ঘণ্টায় আরও ৯৭ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে।

অর্থাৎ, ঢাকা শহরে শুধুমাত্র ৩৩ ঘণ্টায় ১৯২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে, যা পুরো জুলাই মাসের স্বাভাবিক বৃষ্টিপাতের অর্ধেকেরও বেশি।

বাংলাদেশ প্রতিদিনের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আবহাওয়াবিদদের বরাতে এই বৃষ্টিপাত স্বাভাবিক মৌসুমি বৃষ্টিপাত নয়; বরং এটি সক্রিয় মৌসুমি বায়ু এবং পশ্চিমা লঘুচাপের বিরল সমন্বয়ের কারণে তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতির ফলে দেশে অস্বাভাবিক বৃষ্টিপাত, উজান থেকে পাহাড়ি ঢল, এবং নদীর পানির স্তরের ত্বরিত বৃদ্ধি দেখা যাচ্ছে। ফলস্বরূপ, আগামী ২৪ ঘণ্টায় উত্তর, উত্তর-পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকা নতুন করে বন্যাকবলিত হওয়ার আশঙ্কা বৃদ্ধি পেয়েছে।

এছাড়াও, ভূমি ধসের ঝুঁকি বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে, আবহাওয়া অধিদপ্তর আশা প্রকাশ করেছে যে সপ্তাহের শেষের দিকে বৃষ্টির তীব্রতা কিছুটা কমতে পারে।

এমন অস্বাভাবিক বৃষ্টি হওয়ার কারণ নিয়ে আবহাওয়াবিদ এ কে এম নাজমুল হক বর্ণনা করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, বর্তমানে মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশের ওপর অত্যন্ত সক্রিয় এবং একই সময়ে পশ্চিমা লঘুচাপও প্রভাব বিস্তার করছে। পূর্ব দিক থেকে আসা আর্দ্র মৌসুমি বায়ু এবং পশ্চিম দিক থেকে আসা লঘুচাপজনিত বায়ু প্রবাহের সংঘর্ষে বিশাল মেঘমালা সৃষ্টি হচ্ছে। এর ফলস্বরূপ দেশজুড়ে দীর্ঘস্থায়ী ভারী বৃষ্টিপাত শুরু হয়েছে। সিলেট এবং চট্টগ্রামের পাহাড়ে আর্দ্র বাতাসের কারণে সেখানে অতিরিক্ত বৃষ্টিপাত হচ্ছে এবং পাহাড়ি ঢল সৃষ্টি হচ্ছে।

আবহাওয়াবিদ খন্দকার হাফিজুর রহমান জানিয়েছেন, আগামী দুই থেকে তিন দিন পর বৃষ্টিপাতের তীব্রতা কমতে পারে। সপ্তাহের শেষ দিকে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে, পুরো জুলাই মাসেই থেমে থেমে বৃষ্টির প্রবণতা থাকতে পারে। চলতি বছরে কেন বৃষ্টিপাত স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি হচ্ছে তার বিষয়ে নিশ্চিত হতে আরো কিছুদিন পর্যবেক্ষণ প্রয়োজন।

তিনি বলেছেন, ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে বন্যা এবং পাহাড়ি এলাকায় ভূমি ধসের আশঙ্কা রয়েছে। তাই, প্রস্তুতির জন্য বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রকে আগাম সতর্ক করা হয়েছে।

এদিকে, টানা বৃষ্টি এবং পাহাড়ি ঢলের ফলে চট্টগ্রাম, বান্দরবান, কক্সবাজার, সিলেট এবং পার্বত্য অঞ্চলে ভূমি ধসের ঝুঁকি বেড়েছে। পাশাপাশি, রাজধানীসহ বিভিন্ন শহরে জলাবদ্ধতা, যানজট, সড়ক যোগাযোগে বিঘ্ন এবং নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কাও বৃদ্ধি পাচ্ছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে ভাঙ্গায় বিএনপি নেতাকর্মীদের ব্যাপক উপস্থিতি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ১৩ই জুলাই, ২০২৬ ইং

১০:১০ এম


প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে ভাঙ্গায় বিএনপি নেতাকর্মীদের ব্যাপক উপস্থিতি

বরিশাল সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রধানমন্ত্রীর সফরকে কেন্দ্র করে সোমবার (১৩ জুলাই) সকালে ভাঙ্গার বাসস্ট্যান্ডে বিএনপির নেতাকর্মীরা এক নজর দেখতে ছুটে আসেন।

প্রধানমন্ত্রীর গাড়িবহর সকাল ৭ টায় ৪৫ মিনিটে ভাঙ্গা অতিক্রম করার সময় তাকে স্বাগত জানিয়ে বিভিন্ন স্লোগান দেন নেতাকর্মীরা। এই অবস্থায় প্রধানমন্ত্রী সৌজন্য কথা বলে আবার বরিশালের উদ্দেশে রওনা দেন।

ফরিদপুর জেলা বিএনপি আহ্বায়ক সৈয়দ মুদারেস আলী ইসা স্বাগত জানাতে আসা নেতাকর্মীদের অনুষ্ঠান সফল করার জন্য ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান।

 

ভাঙ্গা উপজেলায় বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আইয়ুব মোল্লা সাংবাদিকদের জানান, ‘অনুষ্ঠান সফল হয়েছে। আমরা দীর্ঘদিন পর প্রধানমন্ত্রীকে ভাঙ্গায় স্বাগত জানাতে পেরে খুশি হয়েছি। আমরা আমাদের মাননীয় সংসদ সদস্য মো. শহিদুল ইসলাম বাবুলকে মন্ত্রী হিসেবে দেখতে চাই।’

ভাঙ্গা উপজেলা বিএনপির সভাপতি খন্দকার ইকবাল হোসেন সেলিম বলেন, ‘আমরা ফরিদপুর-৪ আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য শহিদুল ইসলাম বাবুলকে মন্ত্রী হিসেবে দেখতে চাই। এ সময় তিনি উপস্থিত নেতাকর্মীদের অনুষ্ঠান সফল করার জন্য ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান।’

প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় বিপুল সংখ্যক পুলিশ, এপিবিএন ও অন্যান্য আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৬ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪১
জোহর ১১:৪৫
আসর ০৩:৫৩
মাগরিব ০৫:৩১
ইশা ০৬:৪২
সূর্যোদয় : ০৫:৫৬ সূর্যাস্ত : ০৫:৩১
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%