০৮:৫৩ পি.এম
সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলার ফলে দুই বাংলাদেশিসহ মোট ১২ জনের মৃত্যু এবং অনেকের আহত হওয়ার ঘটনায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন। এই শোকের বার্তা রোববার গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়।
জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার এক বিবৃতিতে উল্লেখ করেন, "এ ঘটনায় যারা প্রাণ হারিয়েছেন, আমি তাঁদের রূহের মাগফিরাত কামনা করছি এবং তাদের শোকসন্তপ্ত পরিবার-পরিজনদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি।" তিনি আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন।
তিনি আরও বলেন, "বেসামরিক নাগরিক ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় এ ধরনের হামলা অত্যন্ত নিন্দনীয়।" নিরপরাধ মানুষের জীবনহানি কাম্য নয় বলেও তিনি মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, "এ ধরনের সহিংসতা আঞ্চলিক শান্তি, নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতাকে হুমকির মুখে ফেলে।" তিনি আন্তর্জাতিক আইন ও মানবিক মূল্যবোধের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শনের মাধ্যমে বেসামরিক নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের দায়িত্ব পালন করার আহ্বান জানান।
আরও পড়ুন: তেলের দাম কমবে কবে: রুশ উপপ্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য
তিনি আরো বলেন, "সৌদি আরবে বসবাসরত ও কর্মরত বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি প্রবাসী দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন। তাঁদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি।" তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান, আহতদের যথাযথ চিকিৎসা নিশ্চিত করা এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর প্রয়োজনীয় সহায়তায় কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা উচিত।
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মাওলানা জালালুদ্দীন আহমদ তার শোক বিবৃতিতে বলেন, "পবিত্র ওমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে সফররত ব্যক্তিসহ নিরীহ মানুষের হতাহত হওয়ার ঘটনা অত্যন্ত বেদনাদায়ক।" তিনি বলেন, "বেসামরিক মানুষের জীবন ও নিরাপত্তা রক্ষায় সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে সর্বোচ্চ সংবেদনশীলতা ও দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিতে হবে।"
তিনি সৌদি আরব ও ইয়েমেনের হুথি কর্তৃপক্ষের প্রতি প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন যে, তাঁরা যেন পবিত্র ওমরাহ পালন করতে যাওয়া যাত্রীসহ সব বেসামরিক মানুষের নিরাপত্তার বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করেন। সংঘাতের কারণে নিরীহ মানুষের জীবনহানি রোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের প্রয়োজনীয়তা তিনি তুলে ধরেন।
আরও পড়ুন: অরেগনের স্কুলে গুলিতে নিহত ৪, আহত ২; শোকে স্তব্ধ শহর
খেলাফত মজলিস
খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা আব্দুল বাছিত আজাদ এবং মহাসচিব ড. আহমদ আবদুল কাদের নিহতদের মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোক সন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। তারা বাংলাদেশ সরকারের কাছে প্রবাসী বাংলাদেশীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের দাবি জানান। নেতারা মুসলিম বিশ্বের নেতৃবৃন্দকে চলমান সংঘাত বন্ধে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
ইসলামী আন্দোলন
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমান তার শোক বাণীতে বলেন, "বেসামরিক জীবন বিপন্ন করা এবং বেসামরিক অবকাঠামোকে লক্ষ্য করে এ ধরনের হামলা বরদাশতযোগ্য নয় এবং তা অবিলম্বে বন্ধ হওয়া উচিত।"
আরও পড়ুন: লালমনিরহাটে বিএসএফের পুশইন চেষ্টা ব্যর্থ, বিজিবির বাধা
তিনি আঞ্চলিক শান্তি, নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার স্বার্থে শত্রুতা বন্ধের পাশাপাশি বেসামরিক নাগরিক ও অবকাঠামোর সুরক্ষা নিশ্চিত করার ওপর জোর দেন। তিনি বলেন, "সংলাপ ও কূটনীতির মাধ্যমে চলমান সংকটের শান্তিপূর্ণ সমাধানের পথ উন্মুক্ত করতে হবে।"
জমিয়তে উলামা
জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের সভাপতি শাইখুল হাদিস মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুক এবং মহাসচিব মাওলানা মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দী বিবৃতিতে বলেন, "পবিত্র ভূমি সৌদি আরবে এ ধরনের হামলা অত্যন্ত উদ্বেগজনক ও নিন্দনীয়।" তারা বলেন, "নিরীহ মানুষের প্রাণহানি কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।" এ ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
খেলাফত আন্দোলন
আরও পড়ুন: পিএমও ফেসবুক পেজটি দেখলে নাগরিকরা প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে গর্বিত হবে
বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের আমীর মাওলানা হাবিবুল্লাহ মিয়াজী তার বিবৃতিতে বলেন, "মুসলমানদের পবিত্র নগরী মক্বা-মদীনাকে শত্রুদের আক্রমণ ও ষড়যন্ত্র থেকে রক্ষা করার জন্য মুসলিম বিশ্বের শাসকসহ শান্তিকামি বিশ্ব নেতাদের জোরালো হস্তক্ষেপ কামনা করছি।" তিনি সৌদি ও বাংলাদেশ সরকারকে রাষ্ট্রীয়ভাবে এই ন্যক্কারজনক সন্ত্রাসী হামলার নিন্দা জানাতে এবং শহীদ পরিবারের খোঁজখবর নেওয়ার পাশাপাশি আহতদের সুচিকিৎসার ব্যবস্থা করার দাবি জানান।
নেজামে ইসলাম পার্টি
বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির আমীর (ভারপ্রাপ্ত) মাওলানা আবদুল কাইয়ুম সুবহানী এবং মহাসচিব মাওলানা মুসা বিন ইযহার বিবৃতিতে বলেন, "বেসামরিক বিমানবন্দর ও নিরপরাধ মানুষকে লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।" তারা বলেন, "এ ধরনের হামলা আন্তর্জাতিক আইন ও মানবিক মূল্যবোধের পরিপন্থী এবং মধ্যপ্রাচ্যের বিদ্যমান অস্থিতিশীলতাকে আরও বিপজ্জনক করে তুলতে পারে।"
তারা আরও বলেন, "রিয়াদ বিমানবন্দরে হামলা শুধু সৌদি আরবের নিরাপত্তার ওপর আঘাত নয়; এটি আঞ্চলিক শান্তি, স্থিতিশীলতা ও বেসামরিক মানুষের নিরাপত্তার জন্যও গুরুতর হুমকি।" তারা এ হামলার তীব্র নিন্দা জানান।
আরও পড়ুন: নেত্রকোণায় সাংবাদিক আলিফ হত্যায় অপূর্ব নামে যুবক আটক
খেলাফত আন্দোলন
বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের (একাংশ) আমির আল্লামা আবু জাফর কাসেমী এবং মহাসচিব মুফতি ফখরুল ইসলাম বিবৃতিতে বলেন, "সৌদি আরবের রিয়াদ বিমানবন্দরে ওমরা যাত্রীদের বহনকারী বিমানের ওপর হুতীতের হামলা অত্যন্ত নেককার জনক ও হৃদয়বিদারক ঘটনা, এটা কোনক্রমেই গ্রহণ করা যায় না।" তারা বলেন, "সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও বিমানবন্দরের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার মতো যেকোনো হামলা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।" তারা এ ধরনের হামলা আঞ্চলিক শান্তি, স্থিতিশীলতা ও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তার জন্য হুমকি স্বরূপ বলেও মন্তব্য করেন। তারা এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন