বৃহস্পতিবার, ৫ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং
০৩:৩৩ এম
কক্সবাজারে গ্রেফতার হওয়া চীন-তাইওয়ানের ৬ নাগরিকের জামিন মঞ্জুর করেছে আদালত। এরা বিপুল পরিমাণ আইফোন ও ল্যাপটপসহ অনলাইন প্রতারণার অভিযোগে সাইবার মামলায় আটক হয়েছিলেন।
বুধবার (৪ নভেম্বর) বিকেলে কক্সবাজারের জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মদ আব্দুর রহিম জামিন মঞ্জুরের এই আদেশ প্রদান করেন। আসামি পক্ষের আইনজীবী ও জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি এম. আবদুল মন্নান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি উল্লেখ করেন, যে আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে সেটি পর্যালোচনা করে চায়না দূতাবাসের জিম্মায় ৬ আসামিকে জামিন দেয়া হয়েছে।
এর আগে, গত ৩ সেপ্টেম্বর শহরের সী প্যালেসের সামনে থেকে পুলিশ চীনা ৬ নাগরিককে গ্রেফতার করে। তাদের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, ইনানী ও হিমছড়ির বিভিন্ন রিসোর্ট থেকে ১ হাজার ৯৩৮ টি আইফোন ও আনুমানিক ৪০ টি কম্পিউটারসহ বিভিন্ন সরঞ্জামাদি উদ্ধার করা হয়।
এদিকে, কক্সবাজার জেলা কারাগারের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, বুধবার বিকেল ৫ টা পর্যন্ত বিদেশি ৬ নাগরিকের জামিন আদেশের কপি আদালতে পৌঁছায়নি। জামিন আদেশ হাতে পেলে আইনের বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেয়া হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মানুষের স্বভাব হলো ভুল করা। কখনো প্রবৃত্তির প্রভাবে, কখনো শয়তানের প্ররোচনায়, আবার কখনো অসতর্কতার কারণে মানুষ পাপের দিকে প্রবাহিত হয়। তবে পাপ হয়ে যাওয়ার মানে এই নয় যে আল্লাহর রহমতের দরজা বন্ধ হয়ে গেছে। বরং, যখন বান্দা নিজের ভুল বুঝতে পেরে অনুতপ্ত হৃদয়ে আল্লাহর কাছে ফিরে আসে, তখন আল্লাহ তাকে ক্ষমা করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। ইসলামে এই ফিরে আসার প্রক্রিয়াকে তওবা বলা হয়।
তওবা মুখে ক্ষমা চাওয়ার একটি প্রক্রিয়া নয়; বরং এটি পাপ থেকে বিরত থাকা, নিজের ভুলের জন্য অনুতপ্ত হওয়া এবং ভবিষ্যতে পাপ থেকে দূরে থাকার দৃঢ় সংকল্প করার নাম। পবিত্র কুরআন ও হাদিসে তওবার গুরুত্ব, সঠিক পদ্ধতি এবং ক্ষমা প্রার্থনার বিভিন্ন দোয়া উল্লেখ করা হয়েছে। তাই প্রত্যেক মুসলমানের উচিত খাঁটি তওবার নিয়ম জানা এবং জীবনের প্রতিটি পর্যায়ে ইস্তিগফার ও তওবার অভ্যাস গড়ে তোলা।
তওবা কী এবং কেন এত গুরুত্বপূর্ণ?
‘তওবা’ শব্দটি আরবি। এর শাব্দিক অর্থ হলো ফিরে আসা বা প্রত্যাবর্তন করা। ইসলামি পরিভাষায়, পাপের পথ পরিত্যাগ করে অনুতপ্ত হৃদয়ে মহান আল্লাহর আনুগত্যের পথে ফিরে আসাকে তওবা বলা হয়।
মানুষের জীবনে তওবার গুরুত্ব অপরিসীম। কারণ, তওবার মাধ্যমে বান্দা নিজের পাপের জন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করে এবং তার নৈকট্য লাভের সুযোগ পায়। আল্লাহ তাআলা পবিত্র কুরআনে মুমিনদের খাঁটি তওবা করার নির্দেশ দিয়েছেন। আল্লাহ তাআলা বলেন—
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا تُوبُوا إِلَى اللَّهِ تَوْبَةً نَّصُوحًا
‘হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহর কাছে খাঁটি তওবা কর।’ (সুরা আত-তাহরিম: আয়াত ৮)
অন্য আয়াতে আল্লাহ তাআলা বলেন—
إِنَّ اللَّهَ يُحِبُّ التَّوَّابِينَ وَيُحِبُّ الْمُتَطَهِّرِينَ
‘নিশ্চয়ই আল্লাহ তওবাকারীদের ভালোবাসেন এবং পবিত্রতা অর্জনকারীদের ভালোবাসেন।’ (সুরা আল-বাকারা: আয়াত ২২২)
এই আয়াত থেকে বোঝা যায়, তওবা শুধু গুনাহ মাফের উপায় নয়; বরং এটি আল্লাহর ভালোবাসা অর্জনেরও মাধ্যম।
তাহলে, কোনো পাপ হয়ে গেলে হতাশ না হয়ে দ্রুত আল্লাহর কাছে ফিরে আসা উচিত। তওবা করার জন্য বার্ধক্য কিংবা জীবনের শেষ সময়ের অপেক্ষা করা উচিত নয়। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন—
إِنَّ اللَّهَ يَقْبَلُ تَوْبَةَ الْعَبْدِ مَا لَمْ يُغَرْغِرْ
‘নিশ্চয়ই আল্লাহ তার বান্দার তওবা কবুল করেন, যতক্ষণ না তার প্রাণ কণ্ঠাগত হয়।’ (তিরমিজি ৩৫৩৭)
অর্থাৎ মৃত্যুর যন্ত্রণার শুরু হওয়ার আগে তওবা করতে হবে। তাই তওবাকে ভবিষ্যতের জন্য ফেলে না রেখে এখনই শুরু করা উচিত।
খাঁটি তওবার জন্য যেসব শর্ত পূরণ করতে হবে
তওবা কবুল হওয়ার জন্য শুধু মুখে ‘আস্তাগফিরুল্লাহ’ বলাই যথেষ্ট নয়। বরং তওবার সঙ্গে অন্তরের অনুশোচনা এবং বাস্তব জীবনে পরিবর্তনের অঙ্গীকার থাকতে হবে। ইসলামি শরিয়তের আলোকে খাঁটি তওবার কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত রয়েছে।
১. পাপের জন্য অনুতপ্ত হওয়া
অতীতে যে পাপ বা অন্যায় করা হয়েছে, তা স্মরণ করে অন্তরে লজ্জিত ও অনুতপ্ত হতে হবে। নিজের ভুলের জন্য আল্লাহর কাছে আন্তরিকভাবে ক্ষমা চাইতে হবে।
২. পাপ কাজ অবিলম্বে ছেড়ে দেওয়া
যে পাপের জন্য তওবা করা হচ্ছে, সেই পাপ থেকে সঙ্গে সঙ্গে বিরত হতে হবে। পাপের কাজ চালিয়ে গিয়ে শুধু মুখে ক্ষমা চাওয়া প্রকৃত তওবা নয়।
৩. ভবিষ্যতে পাপ না করার দৃঢ় সংকল্প করা
জীবনে আর কখনো ওই পাপের কাছে ফিরে না যাওয়ার বিষয়ে আন্তরিক সিদ্ধান্ত নিতে হবে। তওবার সময় এই সংকল্প সত্য হতে হবে।
৪. মানুষের অধিকার ফিরিয়ে দেওয়া
কারও সম্পদ আত্মসাৎ, প্রতারণা, ঋণ পরিশোধে অন্যায় কিংবা কারও প্রতি জুলুম করে থাকলে যথাসম্ভব তার অধিকার ফিরিয়ে দিতে হবে। প্রয়োজন হলে ক্ষমা চাইতে হবে। শুধু আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাইলেই বান্দার অধিকার আদায় হয়ে যায় না।
৫. পাপ পুনরায় হয়ে গেলে আবার তওবা করা
কেউ আন্তরিকভাবে তওবা করার পর দুর্বলতার কারণে আবার একই পাপে জড়িয়ে পড়লে হতাশ হওয়া যাবে না। নতুন করে অনুতপ্ত হয়ে তওবা করতে হবে। তবে তওবার সময় পাপ চালিয়ে যাওয়ার ইচ্ছা রাখা যাবে না।
তওবা করার সুন্নতসম্মত পদ্ধতি
তওবা করার জন্য নির্দিষ্ট কোনো কঠিন আনুষ্ঠানিকতা নেই। যেকোনো সময়, যেকোনো অবস্থায় বান্দা আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাইতে পারেন। তবে তওবার জন্য অজু করে দুই রাকাত নফল নামাজ আদায় করা এবং এরপর ক্ষমা প্রার্থনা করা একটি উত্তম আমল। এ বিষয়ে হজরত আবু বকর সিদ্দিক (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন—
مَا مِنْ عَبْدٍ يُذْنِبُ ذَنْبًا فَيُحْسِنُ الطُّهُورَ، ثُمَّ يَقُومُ فَيُصَلِّي رَكْعَتَيْنِ، ثُمَّ يَسْتَغْفِرُ اللَّهَ، إِلَّا غَفَرَ اللَّهُ لَهُ
‘কোনো বান্দা গুনাহ করার পর উত্তমরূপে অজু করে, এরপর দুই রাকাত নামাজ আদায় করে আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করলে আল্লাহ তাকে ক্ষমা করে দেন।’ (আবু দাউদ ১৫২১, তিরমিজি ৪০৬)
এই হাদিসের আলোকে তওবার জন্য দুই রাকাত নফল নামাজ আদায় করা যায়। তবে এ নামাজ তওবার অপরিহার্য শর্ত নয়। নামাজ পড়ার সুযোগ না থাকলেও আন্তরিকভাবে তওবা ও ইস্তিগফার করা যায়। তওবার ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো অন্তরের অনুশোচনা, পাপ পরিত্যাগ এবং ভবিষ্যতে পাপ থেকে বেঁচে থাকার আন্তরিক সংকল্প।
তওবা ও ইস্তিগফারের গুরুত্বপূর্ণ দোয়া
রাসুলুল্লাহ (সা.) বিভিন্ন সময়ে আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করতেন। হাদিসে বর্ণিত কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্তিগফারের দোয়া রয়েছে। সেগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য দুটি হলো—
দোয়া ১: মহান আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনার বিশেষ দোয়া
أَسْتَغْفِرُ اللَّهَ الْعَظِيمَ الَّذِي لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ الْحَيُّ الْقَيُّومُ وَأَتُوبُ إِلَيْهِ
উচ্চারণ: ‘আসতাগফিরুল্লাহাল আজিম আল্লাজি লা ইলাহা ইল্লা হুয়াল হাইয়্যুল কাইয়্যুমু ওয়া আতুবু ইলাইহি।’
অর্থ: আমি মহান আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি, যিনি ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই। তিনি চিরঞ্জীব, চিরস্থায়ী ও সবকিছুর ধারক। আর আমি তার কাছেই তওবা করছি।
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি এই দোয়া পড়বে, তাকে ক্ষমা করে দেওয়া হবে, যদিও সে যুদ্ধক্ষেত্র থেকে পলায়ন করে থাকে। (তিরমিজি ৩৫৭৭)
দোয়া ২: নিয়মিত পড়ার সহজ ইস্তিগফার
أَسْتَغْفِرُ اللَّهَ وَأَتُوبُ إِلَيْهِ
উচ্চারণ: ‘আসতাগফিরুল্লাহা ওয়া আতুবু ইলাইহি।’
অর্থ: আমি আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি এবং তার কাছেই তওবা করছি।
হজরত আবু হুরায়রা (রা.) বলেন, তিনি রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর চেয়ে বেশি কাউকে এই দোয়া পড়তে দেখেননি। (ইবনে হিব্বান ৯২৮)
এই ছোট্ট দোয়াটি মুখস্থ করা সহজ। তাই চলাফেরা, কাজকর্ম কিংবা অবসর সময়ে বেশি বেশি পড়া যেতে পারে।
নবীজি (সা.) প্রতিদিন শতবার তওবা করতেন
তওবা ও ইস্তিগফারের গুরুত্ব বোঝার জন্য রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর আমলই যথেষ্ট। তিনি নিষ্পাপ হওয়া সত্ত্বেও নিয়মিত আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করতেন এবং উম্মতকেও তওবার নির্দেশ দিয়েছেন। হজরত আল-আঘার আল-মুযানি (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন—
يَا أَيُّهَا النَّاسُ تُوبُوا إِلَى اللَّهِ فَإِنِّي أَتُوبُ فِي الْيَوْمِ إِلَيْهِ مِائَةَ مَرَّةٍ
‘হে মানবজাতি! তোমরা আল্লাহর কাছে তওবা করো। নিশ্চয়ই আমি দিনে তার কাছে একশবার তওবা করি।’ (মুসলিম ২৭০২)
রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর এই আমল থেকে বোঝা যায়, তওবা শুধু পাপী মানুষের জন্য নয়; বরং প্রত্যেক মুমিনের নিয়মিত আমল হওয়া উচিত। প্রতিদিনের জীবনে ইস্তিগফার ও তওবার অভ্যাস গড়ে তোলা প্রয়োজন।
মানুষের জীবনে পাপের চেয়ে বড় বিপদ হলো পাপ করার পরও অনুতপ্ত না হওয়া এবং আল্লাহর কাছে ফিরে আসার চেষ্টা না করা। কারণ, শয়তান মানুষকে পাপে জড়ানোর পাশাপাশি আল্লাহর রহমত থেকেও নিরাশ করতে চায়। অথচ আল্লাহ তাআলা তার বান্দাদের জন্য তওবার দরজা খোলা রেখেছেন।
তাহলে, জীবনে যত ভুলই হয়ে থাকুক, কখনো আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হওয়া যাবে না। অতীতের পাপের জন্য অনুতপ্ত হতে হবে, অন্যায় কাজ পরিত্যাগ করতে হবে এবং ভবিষ্যতে পাপ থেকে বেঁচে থাকার দৃঢ় অঙ্গীকার করতে হবে। পাশাপাশি নিয়মিত ইস্তিগফার, নফল নামাজ ও নেক আমলের মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের চেষ্টা করতে হবে।
মনে রাখতে হবে, তওবার জন্য নির্দিষ্ট বয়স কিংবা বিশেষ সময়ের প্রয়োজন নেই। জীবনের প্রতিটি মুহূর্তই আল্লাহর কাছে ফিরে আসার সুযোগ। আজ যে মানুষটি আন্তরিকভাবে তওবা করছে, আল্লাহর রহমতে তার অতীতের পাপও ক্ষমা হয়ে যেতে পারে।
অতএব, তওবাকে আগামী দিনের জন্য ফেলে না রেখে আজ থেকেই শুরু করা উচিত। পাপের পথ ছেড়ে আল্লাহর পথে ফিরে আসা প্রয়োজন। কারণ, প্রকৃত সফলতা শুধু পাপমুক্ত জীবন গড়ার মধ্যে নয়, বরং আল্লাহর সন্তুষ্টি নিয়ে তার কাছে ফিরে যাওয়ার মধ্যেই নিহিত।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
যশোর শহরের বকুলতলায় অবস্থিত জুলাই শহীদ স্মৃতিস্তম্ভে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় অজ্ঞাত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
মামলাটি বুধবার কোতোয়ালি থানায় দায়ের করেন কেশবপুরের আলতাপোল গ্রামের বিশ্বাসপাড়ার মৃত রাজালী বিশ্বাসের ছেলে আব্দুল হালিম।
এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো ব্যক্তিকে শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। পুলিশও কাউকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়নি।
জানা গেছে, গত ২ নভেম্বর ভোর আনুমানিক ৪টা ৩৫ মিনিটে যশোর শহরের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বকুলতলা এলাকায় গরিব শাহ মাজারসংলগ্ন তিন রাস্তার মোড়ে অবস্থিত জুলাই শহীদ স্মৃতিস্তম্ভে অগ্নিসংযোগ করা হয়। মোটরসাইকেলে তিন ব্যক্তি ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়। তাদের মধ্যে দুজন মোটরসাইকেল থেকে নেমে একটি পাত্র থেকে দাহ্য পদার্থ বের করে স্মৃতিস্তম্ভের মাঝামাঝি অংশে ছড়িয়ে আগুন লাগিয়ে দেয়। পরে তারা দ্রুত মোটরসাইকেলে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। এতে স্মৃতিস্তম্ভের মাঝামাঝি অংশে আগুনের কারণে কালো দাগ পড়ে যায়।
পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও গণমাধ্যমের মাধ্যমে এ বিষয়ে জানতে পারেন কেশবপুরের বাসিন্দা ও গেজেটভুক্ত জুলাইযোদ্ধা আব্দুল হালিম। তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে কয়েকজনকে নিয়ে আশপাশের সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ পর্যালোচনা করেন। ফুটেজে তিন ব্যক্তির মোটরসাইকেলে ঘটনাস্থলে আসা এবং দুজনের নেমে অগ্নিসংযোগের দৃশ্য দেখা যায় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে কোতোয়ালি থানার ওসি কবির হোসেন জানান, অজ্ঞাত আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে পুলিশ তৎপর রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা দাবি করেছে যে, তারা সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের দিকে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে।
কাতারভিত্তিক সংবাদ মাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনে বুধবার (৪ নভেম্বর) এই তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।
হুথিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি জানিয়েছেন, ক্ষেপণাস্ত্রটি বিমানবন্দরে সরাসরি আঘাত হেনেছে এবং এতে ‘ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি’ হয়েছে।
তিনি বিমান সংস্থা, কর্মী ও যাত্রীদের জন্য আগের সতর্কবার্তাটি পুনর্ব্যক্ত করেছেন, যাতে তারা সৌদি আরবের আকাশসীমা এড়িয়ে চলে। তবে তিনি উল্লেখ করেছেন যে, মক্কা ও মদিনার আকাশসীমা এই সতর্কতার আওতামুক্ত থাকবে।
সৌদি কর্তৃপক্ষ হুথিদের এই দাবির বিষয়ে এখনও কোনো মন্তব্য করেনি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার গাজীরদরগাহ ফিলিং স্টেশনসংলগ্ন এলাকা থেকে জয়কৃষ্ণপুর গ্রামে যাওয়ার জন্য স্থানীয়রা রেললাইনের উপর লেভেল ক্রসিং তৈরি করেছেন। তবে রেলওয়ে বিভাগের অনুমোদন না থাকায় সেখানে গেটম্যান কিংবা ব্যারিয়ার নেই। ফলে স্থানীয়দের নিজ দায়িত্বে পার হতে হচ্ছে।
বুধবার বেলা সাড়ে ১১টার সময় ওই রেলক্রসিং পার হওয়ার সময় বেনাপোল থেকে ছেড়ে আসা বেতনা এক্সপ্রেসের ধাক্কায় একটি কভার্ডভ্যান দুমড়ে-মুচড়ে যায়। গুরুতর আহত হন কভার্ডভ্যানচালক আতিয়ার রহমান (৫৫)। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। নিহত আতিয়ার রহমান ঝিকরগাছার কাটাখাল কলোনিপাড়ার বাসিন্দা ছিলেন।
গত ২৬ সেপ্টেম্বর যশোর সদরের কৃষ্ণবাটি রেলক্রসিং পার হওয়ার সময় একটি ইজিবাইককে চাপা দেয় ট্রেন। ঘটনাস্থলেই মারা যান ইজিবাইকচালক আজিজুর রহমান ও যাত্রী এরশাদ আলী। শুধু এই দুটি ঘটনা নয়, গত এক দশকে এ অঞ্চলে অরক্ষিত লেভেল ক্রসিংয়ে অন্তত অর্ধশত দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ৮০ জন।
বাংলাদেশ রেলওয়ে পাকশী বিভাগের পশ্চিমাঞ্চলের তথ্যমতে, যশোর রেলওয়ে স্টেশন থেকে যশোর-বেনাপোল, যশোর-কোটচাঁদপুর ও যশোর-খুলনা রুটের যশোর অংশে মোট ১৮৩টি রেলক্রসিং রয়েছে; এর মধ্যে ১০১টি অবৈধ। বৈধ যে ৮২টি রয়েছে, সেগুলোর ৩৮টির গেটম্যান নেই।
রেল কর্তৃপক্ষের দাবি, যেখানে-সেখানে রাস্তা নির্মাণের ফলে বাড়ছে অনুমোদনহীন রেলক্রসিং। স্থানীয়দের পাশাপাশি সড়ক নির্মাণ প্রতিষ্ঠান এলজিইডি ও পৌরসভাও এর জন্য দায়ী।
সরেজমিনে দেখা গেছে, রেল বিভাগের হিসাবের বাইরেও অসংখ্য অবৈধ রেলক্রসিং রয়েছে, যা স্থানীয় বাসিন্দারা নিজেদের পছন্দমতো তৈরি করে নিয়েছেন। নাগরিকরা ঝুঁকি নিয়ে প্রতিনিয়ত যাতায়াত করছেন। কোথাও কোথাও দুর্ঘটনার ঝুঁকি এড়াতে সতর্কতা সাইনবোর্ড বসানো হলেও বেশিরভাগ বোর্ডের লেখা অস্পষ্ট এবং নাজুক। অরক্ষিত ক্রসিংয়ে গেটম্যান না থাকায় মাঝেমধ্যেই দুর্ঘটনা ঘটছে এবং স্থানীয়দের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে।
যশোর-বেনাপোল রেললাইনে ২৮টি রেলক্রসিং রয়েছে। এর মধ্যে চারটি বাদে বাকি ২৪টি রেলক্রসিংয়ে গেটবার নেই। যশোর-কোটচাঁদপুর রুটে খড়কিতে আধা কিলোমিটারের ভেতরে সাতটি লেভেল ক্রসিং রয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো যশোর পৌরসভার দক্ষিণ অংশের অনেক মানুষের শহরে প্রবেশদ্বার খড়কি ধোপাপাড়ার সড়কটি। এই সড়কের মাঝ দিয়ে যশোর-কোটচাঁদপুর রেলপথ চলে গেছে। অথচ এই ক্রসিংয়ে গেটম্যান নেই। সতর্কতা সাইনবোর্ড থাকলেও বোর্ডের লেখা অস্পষ্ট এবং নাজুক। ঝুঁকি নিয়ে মানুষ পারাপার হচ্ছেন।
খড়কি এলাকার বাসিন্দা জাকির হোসেন পলাশ বলেন, "এই এলাকাটি খুবই জনবহুল। এলাকার মানুষের প্রয়োজনেই লেভেল ক্রসিং তৈরি হয়েছে কিন্তু কোনো গেটম্যান কিংবা ব্যারিয়ার নেই। মানুষ ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হচ্ছেন। প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারি নেই। যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। এ বিষয়ে রেল বিভাগের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।"
স্থানীয় বাসিন্দা সাহেব আলী জানান, ঝুঁকিপূর্ণ রেলক্রসিংয়ের ওপারে প্রাইমারি স্কুল রয়েছে। প্রতিদিন বাচ্চারা রেলক্রসিং পার হয়ে স্কুলে যায়। ট্রেনের শব্দ শুনে আমরা সতর্ক হই, যা খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। এখানে গেটম্যান খুবই জরুরি।
এদিকে যশোর-বেনাপোল রেললাইনের খড়কি এলাকায় অরক্ষিত লেভেল ক্রসিং পেরিয়ে একটু এগিয়ে গেলেই মহাসড়ক। এখানে অনুমোদিত লেভেল ক্রসিং রয়েছে। দায়িত্বপ্রাপ্ত দুজন গেটম্যান বলেন, "মহাসড়কের এই লেভেল ক্রসিং খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। আমরা ঠিক সময়ে ব্যারিয়ার নামিয়ে দিই। পথচারীরা নিয়ম মানতে চায় না। তারা আমাদের গালিগালাজ করে। আমরা নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত থাকি।"
এ বিষয়ে বৃহত্তর যশোর রেল যোগাযোগ উন্নয়ন সংগ্রাম কমিটির আহ্বায়ক রুহুল আমিন বলেন, "অনুমোদিত লেভেল ক্রসিংয়ের পাশাপাশি স্থানীয়দের প্রয়োজনের তাগিদেই ভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তি উদ্যোগে অসংখ্য রেলক্রসিং তৈরি হয়েছে। সেই লেভেল ক্রসিংগুলোর বৈধতা দেয়নি রেলওয়ে। ফলে অবৈধ রেলক্রসিং বাড়ছে। মূলত সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর সমন্বয়ের অভাবে স্থানীয়দের তৈরি অবৈধ রেলক্রসিং মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। রেল যোগাযোগ নিরাপদ করতে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষকেই উদ্যোগ নিতে হবে।"
এ বিষয়ে বাংলাদেশ রেলওয়ে যশোর অঞ্চলের সহকারী নির্বাহী প্রকৌশলী চাঁদ আহমেদ বলেন, "অবৈধ রেলক্রসিংগুলো তৈরি করেছেন স্থানীয় বাসিন্দা কিংবা সরকারি সড়ক নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান। আমরা অবৈধ গেটের দুই পাশে সাবধান বোর্ড স্থাপন করে দিয়েছি এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে চিঠি দিয়ে জানিয়ে দিই। আমাদের চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে তারা গেটের বৈধতা চাইলে পদক্ষেপ নেওয়া হয়।"
তিনি আরও বলেন, "প্রতিনিয়ত আমরা রেললাইন পরিদর্শন করি, যাতে কেউ অবৈধ রেলক্রসিং তৈরি করতে না পারে। কেউ অবৈধ রেলক্রসিং তৈরির চেষ্টা করলে আমরা প্রতিরোধ করছি। এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে দুর্ঘটনা এড়াতে স্থানীয়দের সচেতনতা বৃদ্ধি করছি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ