ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

আমি এখন পীরগঞ্জের বিএনপি নেতাদের একজন':ঠাকুরগাঁওয়ে ইউএনওর বিতর্কিত বক্তব্য


আমি এখন পীরগঞ্জের বিএনপি নেতাদের একজন

ঠাকুরগাঁও-৩ আসনের সংসদ সদস্য জাহিদুর রহমানের রাজনৈতিক বক্তব্যের সময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) গোলাম রব্বানী সরদারের হাততালি দেওয়ার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে ওই ইউএনও বলেন, ‘ইউএনও হচ্ছে নাউ ওয়ান অব দ্য বিএনপি লিডারস অব পীরগঞ্জ।’

সম্প্রতি ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ উপজেলার ৯ নম্বর সেনগাঁও ইউনিয়নের একটি পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে যান সংসদ সদস্য জাহিদুর রহমান। সেখানে বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘আমাকে আপনারা ধানের শীষে ভোট দিয়ে এমপি নির্বাচিত করেছেন। আগামী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে বিএনপি থেকে আবারও বর্তমান ইউনিয়ন চেয়ারম্যান সাইদুর রহমান প্রার্থী হিসেবে থাকবেন। আপনারা সবাই তাকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করবেন।’

এমপির দুই মিনিটের বেশি সময়ের ওই বক্তব্যের সময় পাশে বসা পীরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা গোলাম রব্বানী সরদারকে সবার আগে হাততালি দিতে দেখা যায়। পুরো বক্তব্যজুড়েই তাকে করতালি দিয়ে সমর্থন জানাতে দেখা গেছে। একজন সরকারি কর্মকর্তা হয়ে রাজনৈতিক ও নির্বাচনি বক্তব্যে এভাবে প্রকাশ্যে করতালি দেওয়ার ভিডিওটি ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে সমালোচনা ও প্রশ্নের সৃষ্টি হয়।
 
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে চাইলে পীরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা গোলাম রব্বানী সরদার বলেন, ‘তাহলে লিখে দেন, এমপির সাথে ইউএনও নির্বাচনি প্রচারণায়। আপনি শোনেন, এভাবে বলেন যে, ইউএনও হচ্ছে নাউ ওয়ান অব দ্য বিএনপি লিডারস অব পীরগঞ্জ, ঠিক আছে?’
 
নিজের অবস্থানের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘যে সরকার থাকত, যে দলের সরকার থাকত, আমি সেই দলেরই নেতা। বোঝা গেছে মেসেজটা? আমার দল আছে। আমার দল কী? সরকারি দল। আমার আদর্শ সরকারি দলের আদর্শ। তাহলে আপনার ওই অংশটুকুই খালি ক্লিপে বের করেন আর লিখে দেন, যাতে করে আমি একটু ভাইরাল হই সারা দেশে। আই ওয়ান্ট টু বি ভাইরাল, ওকে?’
 
ইউএনও আরও বলেন, ‘এগুলোর বাইরে যাওয়ার ক্ষমতা আমার কেন, আমার সেক্রেটারিরই নাই, আমার ডিসি স্যারের নাই, আমার কমিশনার স্যারের নাই। পরিষদের আমি প্রশাসনিক কর্মকর্তা। সব কাজ সংসদ সদস্যকে জিজ্ঞেস করে করতে হবে। চিঠি আছে আমার কাছে, দেখবেন আপনি?’
 
সরকারি কর্মকর্তার এমন আচরণের তীব্র সমালোচনা করেছেন রাজনৈতিক নেতারা। বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) ঠাকুরগাঁও জেলার সাধারণ সম্পাদক আবু সায়েম বলেন, ‘একজন সরকারি কর্মকর্তা কীভাবে একজন এমপির রাজনৈতিক বক্তব্যে হাততালি দিতে পারেন? যেখানে এমপি আগামী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে একজনকে বিএনপির চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা দিচ্ছেন, সেখানে ইউএনও অতিউৎসাহী হয়ে সবার আগে হাততালি দিয়ে সমর্থন জানাচ্ছেন, যা কোনোভাবেই কাম্য নয়।’
ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর থেকে নেটিজেনদের তীব্র প্রতিক্রিয়া ও সমালোচনার মুখে পড়েছেন ওই কর্মকর্তা।

আরও পড়ুন: উখিয়ায় ১৫ ঘণ্টা পরও জ্বলছে গ্যাসের আগুন, ১৫ কিলোমিটার এলাকায় বিদ্যুৎ বন্ধ

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

প্রতিষ্ঠার দেড় যুগ পেরোলেও পাবিপ্রবিতে নেই অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ২৪শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০২:৩৭ পি.এম


প্রতিষ্ঠার দেড় যুগ পেরোলেও পাবিপ্রবিতে নেই অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন

প্রতিষ্ঠার পর ১৮ বছর অতিক্রম করার পরও পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (পাবিপ্রবি) কেন্দ্রীয় অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন গঠিত হয়নি।

এ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থীদের মধ্যে অনেকেই দেশের ও বিদেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করছেন, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করছেন এবং গবেষণায় অবদান রাখছেন। এমনকি বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন সাবেক শিক্ষার্থী বিশ্বের শীর্ষ ২ শতাংশ বিজ্ঞানীর তালিকাতেও স্থান করে নিয়েছেন। শিক্ষার্থীদের এই সাফল্যের বিপরীতে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে একটি কেন্দ্রীয় অ্যালামনাই নেটওয়ার্কের অভাব রয়েছে, যা সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থীদের মধ্যে সমন্বিত যোগাযোগ, অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং পেশাগত সহযোগিতার সুযোগকে কতটা কাজে লাগানো যাচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

২০০৮ সালে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর থেকে বিশ্ববিদ্যালয়টি উচ্চশিক্ষা, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিনির্ভর জ্ঞানচর্চা এবং গবেষণায় ক্রমাগত এগিয়ে যাচ্ছে।

সাবেক শিক্ষার্থীরা বর্তমানে দেশের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, গবেষণা প্রতিষ্ঠান এবং বিভিন্ন পেশাগত ক্ষেত্রে কাজ করছেন। তাদের অনেকেই দেশ-বিদেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে নিজেদের দক্ষতা ও যোগ্যতার স্বাক্ষর রাখছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকতা, গবেষণা এবং পেশাগত অঙ্গনে সাবেক শিক্ষার্থীদের এই অগ্রযাত্রা বর্তমান শিক্ষার্থীদের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, একটি কার্যকর কেন্দ্রীয় অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন গড়ে উঠলে প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের মধ্যে যোগাযোগ ও পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধি পাবে। পাশাপাশি বর্তমান শিক্ষার্থীদের ক্যারিয়ার গঠন, উচ্চশিক্ষা, গবেষণা এবং পেশাগত দক্ষতা উন্নয়নে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে। অভিজ্ঞ প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা মেন্টরশিপ, ক্যারিয়ারবিষয়ক পরামর্শ, ইন্টার্নশিপের সুযোগ এবং কর্মক্ষেত্রের বাস্তব অভিজ্ঞতা ভাগাভাগির মাধ্যমে নবীনদের এগিয়ে যেতে সহায়তা করতে পারবেন। এর ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা, শিক্ষা ও সামগ্রিক উন্নয়নেও তাদের সম্পৃক্ততা বাড়বে। এইভাবে প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষার্থীদের মধ্যে একটি স্থায়ী সেতুবন্ধন তৈরি হবে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের অগ্রযাত্রা আরও বেগবান হবে।

বর্তমান শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, শিক্ষক, সাবেক শিক্ষার্থী এবং শিক্ষার্থীদের সমন্বিত উদ্যোগে একটি কার্যকর কেন্দ্রীয় অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন গড়ে তোলা হবে। এর মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের সব বিভাগ ও ব্যাচের সাবেক শিক্ষার্থীদের একটি অভিন্ন নেটওয়ার্কে যুক্ত করা, তাদের কর্মক্ষেত্র ও গবেষণার অভিজ্ঞতা ভাগাভাগি করা এবং বর্তমান শিক্ষার্থীদের জন্য নিয়মিত ক্যারিয়ারবিষয়ক কার্যক্রম আয়োজন করা সম্ভব হবে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ব্যাচের ইইই বিভাগের শিক্ষার্থী এবং ইইই অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের আহ্বায়ক অহিদুল ইসলাম, বর্তমানে সিটিগ্রুপের ইউকে বাংলা সিমেন্ট লিমিটেডে ডেপুটি ম্যানেজার ও ইন-চার্জ (ইলেকট্রিক্যাল) হিসেবে কর্মরত।

তিনি বলেন, "প্রায় ১৮ বছর পার হলেও পাবিপ্রবিতে একটি কার্যকর কেন্দ্রীয় অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন গড়ে না ওঠা হতাশাজনক। একটি অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন নবীন শিক্ষার্থীদের ক্যারিয়ার গাইডলাইন, চাকরির প্রস্তুতি, ইন্টার্নশিপ, উচ্চশিক্ষা ও গবেষণায় সহযোগিতার পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সম্পর্ক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বিশেষ করে, Outcome-Based Education (OBE) বাস্তবায়ন ও শিক্ষার মানোন্নয়নে প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের অভিজ্ঞতা ও মতামত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমরা চাই, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের সম্মিলিত উদ্যোগে দ্রুত একটি স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক কেন্দ্রীয় অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন গড়ে উঠুক, যা সব ব্যাচের প্রাক্তন শিক্ষার্থীর অভিন্ন প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করবে।"

বিশ্ববিদ্যালয়ের চতুর্থ ব্যাচের ইইসিই বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী জি এম মেহেদী হাসান বর্তমানে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি অধিদপ্তরের ‘কানেক্টেড বাংলাদেশ’ প্রকল্পে সহকারী নেটওয়ার্ক ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে কর্মরত রয়েছেন।

তিনি বলেন, "একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাফল্য শুধু অবকাঠামো, শিক্ষাক্রম কিংবা ডিগ্রি প্রদানের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং এর প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা সমাজ, রাষ্ট্র ও কর্মক্ষেত্রে কতটা অবদান রাখছেন, সেটিও সাফল্যের গুরুত্বপূর্ণ মানদণ্ড। পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৮ বছরের পথচলায় বিভিন্ন বিভাগের অসংখ্য শিক্ষার্থী কর্মক্ষেত্র, শিক্ষকতা, গবেষণা ও উচ্চশিক্ষায় নিজেদের অবস্থান তৈরি করেছেন। তাদের অর্জন, অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য অত্যন্ত মূল্যবান সম্পদ। কিন্তু এসব প্রাক্তন শিক্ষার্থীকে একটি সুসংগঠিত প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর আওতায় আনার উদ্যোগ এখনও দৃশ্যমান নয়, যা হতাশাজনক।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

তেজগাঁওয়ে কনকর্ডের নতুন বাণিজ্যিক ভবন ‘কনকর্ড হরাইজন টাওয়ার’ নির্মাণ শুরু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ২৪শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০২:৩৯ পি.এম


তেজগাঁওয়ে কনকর্ডের নতুন বাণিজ্যিক ভবন ‘কনকর্ড হরাইজন টাওয়ার’ নির্মাণ শুরু

ঢাকার তেজগাঁও শিল্প এলাকায় বহুতল বাণিজ্যিক ভবন 'কনকর্ড হরাইজন টাওয়ার'-এর আনুষ্ঠানিক ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন (গ্রাউন্ডব্রেকিং) সম্পন্ন করেছে দেশের শীর্ষস্থানীয় আবাসন ও নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান কনকর্ড গ্রুপ।

এই দৃষ্টিনন্দন বহুতল ভবনটি প্রায় ৪০ কাঠা জমির ওপর নির্মিত হতে যাচ্ছে, যেখানে ৪টি বেজমেন্ট ও গ্রাউন্ড ফ্লোরসহ মোট ১১টি সুপরিসর ফ্লোর স্পেস থাকবে। আধুনিক ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রয়োজনীয়তা এবং রাজধানীর কেন্দ্রস্থলে সহজ যোগাযোগ সুবিধা নিশ্চিত করতে 'কনকর্ড হরাইজন টাওয়ার'-এর নকশা ও পরিকল্পনা করা হয়েছে। প্রকল্পটিতে আধুনিক স্থাপত্যশৈলী, সুপরিকল্পিত ফ্লোর স্পেস এবং সর্বাধুনিক বিল্ডিং সিস্টেমের অনন্য সমন্বয় ঘটানো হবে।

টাওয়ারটিতে ৪টি প্যাসেঞ্জার লিফট এবং সুপরিসর পার্কিং সুবিধা থাকবে। বিভিন্ন ফ্লোরে প্রয়োজন অনুযায়ী বৈচিত্র্যময় স্পেস থাকবে, যার মধ্যে বেশ কয়েকটি ফ্লোরে ১২ হাজার বর্গফুটেরও বেশি আয়তনের বিশাল অফিস স্পেস রাখা হয়েছে।

অত্যাধুনিক সুযোগ-সুবিধাসম্বলিত এ ভবনে সর্বোচ্চ মানের অগ্নিনির্বাপণ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা, বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড অটোমেশন সিস্টেম, পরিবেশবান্ধব ও শক্তি সাশ্রয়ী প্রযুক্তি এবং স্মার্ট অ্যাক্সেস কন্ট্রোলসহ অফিস অটোমেশন ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হচ্ছে। এ ছাড়া উন্নত কর্মপরিবেশ গড়ে তুলতে ভবনে আধুনিক ক্যাফে, জিমনেশিয়াম ও সুইমিং পুলের মতো কমন অ্যামেনিটিজ থাকবে।

তেজগাঁও শিল্প এলাকায় অবস্থিত হওয়ায় 'কনকর্ড হরাইজন টাওয়ার' থেকে ঢাকার অন্যান্য প্রধান বাণিজ্যিক কেন্দ্র ও গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় যাতায়াত অত্যন্ত সহজ হবে। ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের মধ্য দিয়ে ভবনটির নির্মাণকাজের আনুষ্ঠানিক সূচনা হলো, যা কনকর্ডের পোর্টফোলিওতে নতুন এক মাইলফলক যুক্ত করল।

বিগত কয়েক দশক ধরে কনকর্ড বাংলাদেশের আবাসিক, বাণিজ্যিক ও অবকাঠামোগত উন্নয়নে অনন্য ভূমিকা রেখে চলেছে। নতুন এ বাণিজ্যিক ভবনটির মাধ্যমে আধুনিক ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের জন্য একটি মর্যাদাপূর্ণ ঠিকানা তৈরির পাশাপাশি ঢাকার দ্রুত রূপান্তরশীল বাণিজ্যিক প্রেক্ষাপটে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে প্রতিষ্ঠানটি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

লঞ্চের রোটেশন প্রথায় ব্যাহত যাতায়াত, যাত্রীরা ভোগান্তিতে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ২৪শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০২:৩৯ পি.এম


লঞ্চের রোটেশন প্রথায় ব্যাহত যাতায়াত, যাত্রীরা ভোগান্তিতে

দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের জন্য রাজধানী ঢাকা এবং দেশের অন্যান্য স্থানে যাতায়াতের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হলো নৌপথ। বিশেষ করে ভোলার চরফ্যাশনসহ উপকূলীয় এলাকার মানুষের যাতায়াত, ব্যবসা-বাণিজ্য ও কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে বেতুয়া–ঢাকা নৌপথের গুরুত্ব অপরিসীম।

তবে, এই নৌপথে লঞ্চ চলাচলে মালিকপক্ষ কর্তৃক চালু করা রোটেশন পদ্ধতির কারণে স্বাভাবিক যাত্রীসেবা ব্যাহত হচ্ছে। নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী লঞ্চ চলাচল না করায় যাত্রীদের কেবিন সংকট, টিকিট পেতে ভোগান্তি এবং সময়মতো গন্তব্যে পৌঁছাতে না পারার মতো বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে।

এ পরিস্থিতিতে ভুক্তভোগীরা রোটেশন পদ্ধতির আইনি ভিত্তি জনসম্মুখে প্রকাশের দাবি জানাচ্ছেন। তারা এ পদ্ধতি বাতিল করে স্বাভাবিক ও প্রতিযোগিতামূলক যাত্রীসেবা নিশ্চিত করার আহ্বানও জানিয়েছেন।

জানা গেছে, বেতুয়া–ঢাকা নৌপথে দৈনিক তিনটি কোম্পানির এমভি কর্ণফুলী, এমভি টিপু ও এমভি তাসরিফ লঞ্চ চলাচলের জন্য বিআইডব্লিউটিএর নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী রুট পারমিট গ্রহণ করা হয়েছে। শুরুতে কয়েক মাস নির্ধারিত সময়সূচি মেনে লঞ্চ চলাচল করলেও পরে মালিকপক্ষের পারস্পরিক সমঝোতায় রোটেশন পদ্ধতি চালু হয়।

অভিযোগ রয়েছে, বিআইডব্লিউটিএর নির্ধারিত দৈনিক লঞ্চ চলাচলের সময়সূচি উপেক্ষা করে মালিকপক্ষ নিজেদের সুবিধামতো এই রোটেশন পদ্ধতি চালু করেছে। এর ফলে একেক দিন একটি কোম্পানির লঞ্চ চলাচল বন্ধ রেখে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করা হচ্ছে। এতে যাত্রীদের নির্বিঘ্নে যাতায়াতের অধিকার ব্যাহত হচ্ছে এবং ভোগান্তি বাড়ছে।

ভুক্তভোগীদের দাবি, দেশের প্রচলিত কোনো আইন, বিধিমালা বা সরকারি আদেশের ভিত্তিতে এ পদ্ধতি চালু করা হয়ে থাকলে তা জনসম্মুখে প্রকাশ করতে হবে। অন্যথায়, অবিলম্বে এ ব্যবস্থা বাতিল করতে হবে। লঞ্চমালিকদের ব্যবসা করার অধিকার থাকলেও সাধারণ যাত্রীদের জিম্মি করে রাখার অধিকার কারো নেই। নদীপথে যাতায়াত সাধারণ মানুষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হলেও সংশ্লিষ্টদের অবহেলা ও অনিয়মের কারণে এ রুটে কাঙ্ক্ষিত যাত্রীসেবা নিশ্চিত হচ্ছে না।

চরফ্যাশন পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মো. কামাল হোসেন বলেন, প্রতিদিনের সিডিউলে তিন কোম্পানির লঞ্চ আসা-যাওয়ার কথা থাকলেও তারা তা মানছেন না। তিনি প্রশ্ন করেন, রোটেশন পদ্ধতি কি যাত্রীসেবা নিশ্চিত করার জন্য, নাকি যাত্রীদের জিম্মি করে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের সুযোগ তৈরির জন্য? তার অভিযোগ, নির্ধারিত কেবিনের বরাদ্দ শেষ হয়ে গেলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মুঠোফোন নম্বর বন্ধ পাওয়া যায়। পরে বাধ্য হয়ে লঞ্চের স্টাফদের জন্য নির্ধারিত ছোট কেবিন অতিরিক্ত টাকা দিয়ে বুকিং করতে হয়।

আছলামপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা জাহিদুল ইসলাম বলেন, বিভিন্নভাবে চেষ্টা করেও কেবিন বুকিং করতে না পারায় চলমান দীর্ঘ সরকারি ছুটিতেও পরিবার নিয়ে বাড়ি ফিরতে পারেননি তিনি। এ ধরনের ভোগান্তি বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট অনিয়মের জবাবদিহি নিশ্চিত করার দাবি জানান তিনি।

অন্যদিকে, লঞ্চমালিকপক্ষের দাবি, পদ্মা সেতু চালু হওয়ার পর ভোলা–বরিশাল হয়ে সড়কপথে ঢাকায় যাতায়াতকারী যাত্রীর সংখ্যা বেড়েছে। এতে নৌপথে যাত্রী কমেছে প্রায় ৩০ শতাংশ। ফলে লঞ্চ পরিচালনায় লোকসানের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এ লোকসান এড়াতেই রোটেশন পদ্ধতি চালু রাখা হয়েছে বলে তারা জানিয়েছেন।

রোটেশন পদ্ধতি বাতিলের দাবি জানিয়ে এর আগে জনস্বার্থে আইনি নোটিশ পাঠিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট আব্দুল বাছেদ। নোটিশে এ পদ্ধতির কারণে প্রতিযোগিতামূলক যাত্রীসেবা বাধাগ্রস্ত হওয়া, যাত্রী ও ব্যবসায়ীদের ভোগান্তি এবং নৌযান চলাচলে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির বিষয়গুলো তুলে ধরা হয়েছে। একই সঙ্গে অবিলম্বে এ ব্যবস্থা বাতিলের আহ্বান জানানো হয়েছে।

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের অতিরিক্ত পরিচালক মো. কবির হোসেন বলেন, যাত্রীদের ভোগান্তির বিষয়টি চিন্তা করে লঞ্চ মালিকদের রোটেশন পদ্ধতি বাতিল করা প্রয়োজন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

দুর্নীতি প্রতিরোধে কার্যকর উদ্যোগ হিসেবে লটারি পদ্ধতির প্রস্তাব

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ২৪শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০২:৪০ পি.এম


দুর্নীতি প্রতিরোধে কার্যকর উদ্যোগ হিসেবে লটারি পদ্ধতির প্রস্তাব

বাংলাদেশে নিয়োগ এবং বদলি বাণিজ্য দুর্নীতির অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। একটি সংগঠিত দালাল ও মধ্যস্বত্বভোগী চক্র সরকারি চাকরির পদোন্নতি এবং বদলিতে তদবির করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। বিভিন্ন সরকারের সময়কালেও এরা প্রশাসনের অন্দরমহলে প্রবেশ করে তদবির চালিয়ে যাচ্ছে।

যখন যে রাজনৈতিক দল ক্ষমতায় আসে, তখন এই দালালরা সেই দলের লোক হয়ে যায়। তারা সহজেই নিজেদের রং পরিবর্তন করতে সক্ষম। এদের কারণেই প্রশাসনে দুর্নীতি ছড়িয়ে পড়ে এবং সরকারের বদনাম হয়।

যে চাকরিজীবী কোটি টাকা ঘুষ দিয়ে কাঙ্ক্ষিত পদে নিয়োগ পান, তার প্রধান কাজ হয়ে যায় ঘুষের টাকা উদ্ধার করা। ফলে নতুন পদে আসীন হয়ে তিনি জনগণের সেবা না করে দুর্নীতির সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন। যেহেতু তিনি ঘুষ দিয়ে চেয়ারে বসেছেন, তাই ওই সরকারি কর্মচারী জবাবদিহিতার উর্ধ্বে থাকেন। এভাবেই সরকারি অফিসে দুর্নীতি বিস্তৃত হয়।

তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই দুর্নীতি দমনে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছে। প্রধানমন্ত্রী দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করেছেন। দুর্নীতি প্রতিরোধে তারেক রহমান বহুমাত্রিক উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন।

এতে তিনি নিজে যেমন কৃচ্ছতার নীতি অনুসরণ করছেন, তেমনি সরকারের প্রতিটি স্তরে অপচয় বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করেছেন। তবে দুর্নীতি দমনে প্রধানমন্ত্রীর সবচেয়ে কার্যকর পদক্ষেপগুলোর মধ্যে একটি হলো সরকারি অফিসে বদলি ও পদায়নে লটারি পদ্ধতি চালু করা।

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে ইতিমধ্যে কয়েকটি পদে লটারির মাধ্যমে বদলি পদ্ধতি কার্যকর করা হয়েছে। সম্প্রতি দেশে প্রথমবারের মতো লটারির মাধ্যমে সাব রেজিস্ট্রার বদলি করা হয়েছে। আইন মন্ত্রণালয় বদলি প্রক্রিয়ায় ‘স্বচ্ছতা নিশ্চিত’ করতে সাব-রেজিস্ট্রারদের লটারির মাধ্যমে বদলি করছে। এর ফলে দুর্নীতিগ্রস্ত হিসেবে পরিচিত এই পদে দুর্নীতি উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে। এটি যে দুর্নীতি প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ, তা প্রমাণিত হয়েছে।

অতীতে ভূমি অফিসের পদায়ন ছিল ঘুষের খনি। সাব-রেজিস্ট্রার পদ ঘিরে এখানে ঘুষ লেনদেন হতো। এই সাব-রেজিস্ট্রাররাই হলেন এই খাতের কালেক্টর, যারা জনগণের কাছ থেকে সরাসরি অর্থ আদায় করেন। এই টাকা পদ অনুযায়ী বণ্টন হতো সর্বোচ্চ পর্যায় পর্যন্ত। সাব-রেজিস্ট্রারের কিছু নির্দিষ্ট পদ ছিল, যেগুলো বিক্রি হতো নিলামে।

গুলশান, গাজীপুর, রূপগঞ্জ, কেরানীগঞ্জের মতো স্থানে সাব-রেজিস্ট্রার হিসেবে পদায়নের জন্য কয়েক কোটি টাকা লাগতো। এই বদলি লটারির মাধ্যমে সরকার দুর্নীতি বন্ধে একটি কার্যকর ব্যবস্থা নিয়েছে।

তবে সাব-রেজিস্ট্রার পদায়নে দুর্নীতি হ্রাস পেলেও অন্যান্য সরকারি কর্মচারীদের বদলি ও পদায়ন বানিজ্য এখনো অব্যাহত রয়েছে। দালাল ও মধ্যস্বত্বভোগীরা বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে এখনো সক্রিয়।

শুধু সাব রেজিস্ট্রার নয়, সরকারি ব্যাংকের এমডি থেকে চিকিৎসক—সব সরকারি কর্মচারীদের বদলির ক্ষেত্রে তদবির এবং ঘুষ লেনদেনের প্রবণতা এখনো লক্ষ্য করা যায়। বাংলাদেশে সরকারি চাকরিতে সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে শুরু করে নিম্ন পর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের পছন্দের স্থানে বদলি হতে হলে দালালদের মাধ্যমে লেনদেনের রেওয়াজ অনেক পুরনো। কিছু লাভজনক পদ বিক্রি হয় কোটি কোটি টাকায়।

যে কর্মকর্তা বিপুল অঙ্কের অর্থ দিয়ে বদলি হন, তার প্রথম কাজ হয় বিনিয়োগের টাকা তোলা। এরপর তিনি ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে নিজের আখের গোছাতে ব্যস্ত হন। সচিব থেকে শুরু করে নিম্ন স্তরের কর্মকর্তাদের লাভজনক পদ পেতে ঘুষ দিতে হয়। কর্মচারীদেরও লোভনীয় পদে যেতে উৎকোচ দিতে হয়। সরকারি চাকরিতে কিছু চিহ্নিত পদ রয়েছে, যেসব পদে টাকা ছাড়া পদায়ন অসম্ভব। আবার এলাকা ভেদে পদের দাম বাড়ে-কমে।

অনুসন্ধানে দেখা গেছে, এরকম অন্তত ২৫টি পদ আছে, যেখানে টাকা ছাড়া বদলি হওয়া সম্ভব নয়। দেশের অন্যতম দুর্নীতিগ্রস্ত খাত হলো আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এখানে দুর্নীতি হয় প্রধানত থানাকেন্দ্রিক। অতীতে গুলশান, বনানী, ধানমন্ডির মতো অভিজাত এলাকার থানায় ওসি পদে আসতে ১০ থেকে ১৫ কোটি টাকা খরচ করতে হতো। এখনো পরিস্থিতির খুব একটা পরিবর্তন হয়নি, বলছেন সংশ্লিষ্টরা। শুধুমাত্র ওসি নয়, এসব থানার কনস্টেবল পদে আসতেও গুনতে হয় লাখ টাকা।

একজন পুলিশ সদস্য যখন ঘুষ দিয়ে একটি পদে আসেন, তখন তিনি সৎ থাকবেন কিভাবে?

নিম্ন আদালতের বিচারকদের পদায়নেও হয় ঘুষ লেনদেন। সাবেক আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল বিচারকদের বদলিতে ঘুষ নেওয়ার অতীতের সব রেকর্ড ভেঙে দিয়েছিলেন। এই সময় নিম্ন আদালতের বিচারক বদলিতে কোটি টাকার লেনদেন হয়। সবচেয়ে বেশি ঘুষ লাগে ঢাকা এবং তার আশপাশের এলাকায় পদায়নের জন্য।

ইউনূস আমলে সচিব পর্যায়ে পদায়ন ও পদোন্নতির জন্য ঘুষ লেনদেনের ঘটনা ঘটেছে প্রকাশ্যে। ডিসি নিয়োগে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে জনপ্রশাসন সচিব বদলি হন। এই সময় বেশ কিছু চাঞ্চল্যকর পদায়ন বাণিজ্যের খবর গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছিল।

রাষ্ট্রায়ত্ত্ব ব্যাংক, বীমা কোম্পানির এমডি হবার জন্য কোটি টাকার ঘুষ লেনদেনের অভিযোগ রয়েছে। সম্প্রতি কয়েকটি ব্যাংকের এমডি নিয়োগ নিয়ে কিছু মধ্যস্বত্বভোগী দালালের খবর পাওয়া যাচ্ছে।

বন বিভাগ, গণপূর্ত অধিদপ্তর, সড়ক ও জনপদ বিভাগ, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগ ইত্যাদি বিভাগে নিম্ন পদের চেয়ে উচ্চ পদ অনেক ব্যয়বহুল। ২০২৩ সালে একটি প্রধান প্রকৌশলীর পদ শতকোটি টাকার বিনিময়ে বিক্রি হয়েছিল। এসব সরকারি দপ্তরে কিছু চিহ্নিত জেলা ও পদ আছে, যেসব পদে বদলি হওয়ার জন্য রীতিমতো নিলাম হয়।

চিকিৎসকদের পদায়নেও বাণিজ্য হয়। একজন চিকিৎসককে ঢাকায় বদলি হতে লাখ টাকা গুনতে হয়। ঢাকার বাইরে কোনো চিকিৎসক থাকতে চান না। কারণ সবকিছু ঢাকামুখী, ঢাকা কেন্দ্রিক। ইউনূস আমলে ৩ হাজার মেডিক্যাল অফিসার ও ৫০০ কর্মচারীর চেয়ার রদবদল করা হয়েছে। এত স্বল্প সময়ে অতীতে এমন বদলি হয়নি অধিদপ্তরে। বদলি হওয়া অনেক চিকিৎসক জেলা-উপজেলা পর্যায়ের কর্মস্থলে যোগ দেননি। তদবির করে ঢাকা এবং তার আশপাশে বদলি হয়েছেন। ফলে গ্রামে চিকিৎসক নেই।

ফলে বদলি ও পদায়ন বানিজ্যের কারণে, একদিকে যেমন একটি দুর্নীতিবাজ দালাল গোষ্ঠী তৈরি হয়েছে, যারা গোটা সরকার পদ্ধতিকে কুলষিত এবং দুর্নীতিগ্রস্ত করছে, অন্যদিকে জনগণ সঠিক সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

আশার কথা, তারেক রহমানের সরকার দুর্নীতির এই উৎসমুখ বন্ধ করার উদ্যোগ নিয়েছে। এই অবস্থা পরিবর্তনের জন্য সাব রেজিস্ট্রার বদলিতে প্রথমবারের মতো লটারি পদ্ধতি চালু করেছে। এটি একটি অসাধারণ উদ্যোগ। এর ফলে দেশের অন্যতম দুর্নীতিগ্রস্ত এই সেক্টরে দুর্নীতি অনেক কমে যেতে শুরু করেছে। যারা ঘুষ ছাড়া লটারির মাধ্যমে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এবং লাভজনক এলাকায় সাব-রেজিস্ট্রার হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন, তারা আগের মতো বুভুক্ষের মতো দুর্নীতিতে নিমজ্জিত নন। জনগণের প্রতি দায়বদ্ধ থাকছেন এবং জনগণের সেবায় মনোযোগী হয়েছেন।

লটারির মাধ্যমে সাব রেজিস্ট্রার বদলি মাধ্যমে দুর্নীতি বন্ধে যে প্রশংসনীয় উদ্যোগ সরকার নিয়েছে, তা অন্যান্য মন্ত্রণালয়ও অনুসরণ করতে পারে। ইতিমধ্যে আমরা দেখেছি কয়েকটি মন্ত্রণালয় লটারির মাধ্যমে পদায়নের উদ্যোগ নিয়েছে। লটারির মাধ্যমে গণপূর্ত অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলীদের বদলি ও পদায়ন করা হচ্ছে বলে মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়েছে।

বদলি বাণিজ্য বন্ধ, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত এবং যোগ্য ব্যক্তিকে যোগ্য স্থানে পদায়নের লক্ষ্যেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে মন্ত্রণালয়।

রাষ্ট্রায়ত্ত্ব ব্যাংক, বীমার প্রধান নির্বাহী পদায়নের ক্ষেত্রেও যোগ্যদের ফিট লিস্ট করে লটারির ব্যবস্থা করা যেতে পারে। এতে কেবল দুর্নীতি কমবে না, ব্যাংকিং খাতে স্বচ্ছতা ও শৃঙ্খলা ফিরে আসবে।

সরকারের সেবামূলক সব প্রতিষ্ঠান এ পদ্ধতি অনুসরণ করে বদলি ও পদায়ন করতে পারে। যেমন ধরা যাক, জেলা প্রশাসক পদায়ন নিয়ে প্রায়ই বিতর্ক সৃষ্টি হয়। কিন্তু জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় যদি ফিট লিস্টে থাকা যোগ্য প্রার্থীদের মধ্যে লটারির মাধ্যমে নির্ধারণ করে যে, কোন জেলায় কে ডিসি পদে নিয়োগ পাবেন, তাহলে সহজেই বিতর্ক এড়ানো সম্ভব। একইভাবে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কিংবা চিকিৎসক পদে বদলির ক্ষেত্রে এ পদ্ধতি একটি সহজ সমাধান।

একজন সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারী যদি ঘুষ না দিয়ে একটি পদে বসেন, তাহলে একদিকে যেমন তিনি দুর্নীতিগ্রস্ত হবেন না, অন্যদিকে তিনি জবাবদিহির আওতায় আসবেন। ভালো কাজ করে জনগণের আস্থা অর্জন করার চেষ্টা করবেন। এতে দুর্নীতির বিরুদ্ধে একটি শক্তিশালী আবহ সৃষ্টি হবে।

তাহলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দুর্নীতির বিরুদ্ধে যুদ্ধে অন্যতম হাতিয়ার হতে পারে লটারির মাধ্যমে পদায়ন ও বদলি। শুধু কয়েকটি সরকারি বিভাগে নয়, সব সরকারি প্রতিষ্ঠানে বদলি ও পদায়ন বানিজ্য বন্ধ করতে পর্যায়ক্রমে লটারি পদ্ধতি চালু করা যেতে পারে। এটি বর্তমান সরকারের দুর্নীতি বিরোধী অভিযানকে অনেকখানি সফল করতে পারে।

অদিতি করিম

লেখক ও নাট্যকার

ইমেইল : [email protected]

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%