০৯:৪৯ এম
যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসি অঙ্গরাজ্যে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার প্রচেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর তীব্র বিতর্কের মধ্যে পদত্যাগ করতে যাচ্ছেন কারা বিভাগের প্রধান ফ্র্যাঙ্ক স্ট্রাডা। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ক্রিস্টা পাইকের ওপর প্রয়োগ করা প্রাণঘাতী ইনজেকশন সত্ত্বেও তিনি বেঁচে আছেন এবং বর্তমানে সংকটজনক অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
শনিবার (৩ অক্টোবর) টেনেসির গভর্নর বিল লি জানিয়েছেন, কারা বিভাগের কমিশনার ফ্র্যাঙ্ক স্ট্রাডা পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এবং চলতি মাসের মধ্যে তিনি দায়িত্ব হস্তান্তর করবেন। গভর্নর পাইকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ব্যর্থ প্রচেষ্টা নিয়ে একটি স্বাধীন তদন্তের নির্দেশও দিয়েছেন। এছাড়াও, ২০২৬ সালের বাকি সময়ে টেনেসিতে আর কোনো মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হবে না বলেও জানানো হয়েছে।
স্ট্রাডা বলেছেন, চলমান তদন্তকে সঠিকভাবে পরিচালনা করা এবং টেনেসির জনগণের স্বার্থে তাঁর পদত্যাগ করা সবচেয়ে উপযুক্ত সিদ্ধান্ত। গভর্নর বিল লি তাঁর দীর্ঘদিনের দায়িত্ব পালনের জন্য স্ট্রাডাকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, এই কঠিন সময়ে অঙ্গরাজ্যের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়ার জন্য তিনি স্ট্রাডার প্রতি কৃতজ্ঞ।
আরও পড়ুন: ইরান যুদ্ধের পক্ষ, হুথিদের অস্ত্রদাতারা মধ্যস্থতাকারী হতে পারে না: ইয়েমেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী
বুধবার ন্যাশভিলের রিভারবেন্ড ম্যাক্সিমাম সিকিউরিটি ইনস্টিটিউশনে ৫০ বছর বয়সী ক্রিস্টা পাইকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার চেষ্টা করা হয়। তাঁকে প্রাণঘাতী ওষুধ পেন্টোবারবিটালের দুটি ডোজ দেওয়া হলেও তিনি মারা যাননি। পরে তাঁকে অ্যাম্বুলেন্সে করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।
আদালতের নথি অনুযায়ী, পাইক বর্তমানে অচেতন অবস্থায় কৃত্রিম শ্বাসপ্রশ্বাসের সহায়তায় আছেন। চিকিৎসকেরা তাঁর শরীরে ব্যবহৃত ওষুধের প্রভাব কমানোর চেষ্টা করছেন। পাইকের আইনজীবীরা জানিয়েছেন, মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সময় তাঁকে কাঁদতে, কাতরাতে এবং ভারী শ্বাস নিতে শোনা গিয়েছিল।
পাইকের আইনজীবীরা পূর্বে সতর্ক করেছিলেন যে, তাঁর শারীরিক অবস্থার কারণে প্রাণঘাতী ইনজেকশন প্রয়োগে জটিলতার ঝুঁকি রয়েছে। তাঁদের দাবি, পাইকের থ্রম্বোসাইটোসিস নামক রক্তজনিত সমস্যা এবং ছোট শিরা থাকার কারণে ইনজেকশন দেওয়ার প্রক্রিয়াটি কঠিন হতে পারে। তবে টেনেসির কারা বিভাগ জানিয়েছে, মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সময় নির্ধারিত নিয়ম ও প্রোটোকল অনুসরণ করা হয়েছে।
কেন দুটি ডোজ প্রয়োগের পরও পাইক বেঁচে গেলেন, সে বিষয়ে কর্তৃপক্ষ এখনো কোনো ব্যাখ্যা দেয়নি। পাইকের আইনজীবীরা ব্যর্থ মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব প্রমাণ সংরক্ষণের জন্য আদালতে জরুরি আবেদন করেছেন। তাঁরা ঘটনাটিকে শুধুমাত্র একজন কর্মকর্তার ব্যর্থতা নয়, বরং টেনেসির সম্পূর্ণ মৃত্যুদণ্ড ব্যবস্থার কাঠামোগত সমস্যার প্রতিফলন হিসেবে দাবি করেছেন।
আরও পড়ুন: ট্রাম্পকে নিয়ে উদ্বেগ-হতাশায় ৭১% মার্কিন নাগরিক: জরিপ
পাইক ১৯৯৫ সালে ১৯ বছর বয়সী কলিন স্লেমারকে হত্যা ও নির্যাতনের জন্য দোষী সাব্যস্ত হন। ওই সময় পাইকের বয়স ছিল ১৮ বছর। পরবর্তী বছর তাঁকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার আগে পাইকের আইনজীবীরা একাধিক আইনি চ্যালেঞ্জ জানান। তবে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট মৃত্যুদণ্ড স্থগিতের দুটি আবেদন নাকচ করে দেয়। টেনেসির গভর্নরও তাঁর ক্ষমার আবেদন প্রত্যাখ্যান করেন।
পাইক টেনেসির মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত একমাত্র নারী। তাঁর ব্যর্থ মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পর অঙ্গরাজ্যে মৃত্যুদণ্ডের পদ্ধতি ও নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। স্বাধীন তদন্তে ঘটনার প্রকৃত কারণ ও দায় নির্ধারণের বিষয়টি এখন গুরুত্ব পাচ্ছে। তথ্যসূত্র: বিবিসি, রয়টার্স
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন